Main menu

ইন্ডিয়ান রাষ্ট্রবাদী প্রকল্প: একটা উদাহরণ Featured

‘ইন্ডিয়ান রাষ্ট্রবাদী প্রকল্প’ জিনিসটা কী? তার আগের প্রশ্ন রাষ্ট্রবাদী প্রকল্প জিনিসটা কী? রাষ্ট্র স্বয়ংসম্পূর্ণ কোনো এনটিটি না। একটা রাষ্ট্রের এক্সিস্টেন্স শুধু সেই রাষ্ট্রের উপর নির্ভর করে না। তাকে একটা শত্রু রাষ্ট্র নির্মাণ (মনোজগতে) করতে হয়৷ আম্রিকার যেমন একটা সোভিয়েত ইউনিয়ন বা একটা চীন লাগে, ভারতের একটা পাকিস্তান লাগে৷ এ ব্যতীত একটা ইউনিফায়েড রাষ্ট্র হিসেবে ফাংশান করা কঠিন।

অন্যসকল রাষ্ট্রের মতো শত্রু নির্মাণ করার পাশাপাশি ইন্ডিয়া আরেকটা কাজ করে: অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন লালন করে৷ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা ইন্ডিয়াকে ‘ভারতবর্ষ’ বলে। মানে ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট। পুরো উপমহাদেশকে দখল করতে চায়। অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে তো বটেই, ভবিষ্যতে কোনোদিন রাজনৈতিকভাবে সমস্ত ভূখণ্ডকে একীভূত করার বাসনাও খুবই স্পষ্ট৷ হায়দ্রাবাদকে যেভাবে গিলে নিয়েছিল; নেপাল, ভূটান, বাংলাদেশকেও তেমন গ্রাস করতে চায়৷ পাকিস্তানকেও চায় কিন্তু পারমাণবিক বোমা আছে জন্যে বলতে পারে না। অথচ ভারতবর্ষ বলে একক কোনো এনটিটি ছিল না বৃটিশরা আসার আগে।

এককথায়, শত্রুরাষ্ট্র নির্মাণ এবং তাকে গ্রাস করা— এই দুই মিলে তৈরি হয়: ইন্ডিয়ান রাষ্ট্রবাদী প্রকল্প।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, বিজেপির কথা না বলে কেন রাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করলাম। কারণ, বিষয়টা শুধু বিজেপির না৷ হায়দ্রাবাদ দখল করার সময় বিজেপি ক্ষমতায় ছিল না। অতো বেশি আগেও যাবার দরকার নেই, হাসিনার রেজিমের কথাই ভাবি। ২০০৯ সালে মসনদে বসার পরে প্রথমেই হাসিনা বিডিআর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করলো। ঘটনার সময় ভারতীয় প্যারাট্রুপাররা রেডি হয়ে ছিল, সংকেত পেলে বাংলাদেশে প্রবেশ করে হস্তক্ষেপের জন্য। তখন কিন্তু কংগ্রেস ক্ষমতায়। তারপর হাসিনা-মনমোহন একই বছরে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করে যেটাকে বদরুদ্দীন উমর ‘বাঙলাদেশের নিরাপত্তা বিপন্নকারী’ বলে অভিহিত করেন। Continue reading

মব নিয়া আলাপ – লাস্ট পার্ট (জুন ২৪, ২০২৫) Featured

পার্ট ১

 

পার্ট ৩: দুইটা জাস্টিস সিস্টেম

প্রশ্ন: ধরুন আমি নিজেও ডিফেন্ড করছি, এইসব পিপলরা নুরুল হুদারে জুতার মালা পরাইয়া ইয়ে টিয়ে করছে, দ্যাটস অল। আমরা এইটা মব বলতেছি না জনরোষ বলার চেষ্টা করছি। আরেক জায়গায়, সম্ভবত উত্তরবঙ্গে কোনো এক জেলায় মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে বলছে যে, তার নাম নেওয়ার পর দরুদ পড়ে নাই, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে নাই। ফলে তারে ধরে মারা হইছে, অনেক পিপলরা মারছে। এইটা জনরোষ হইতে পারে কিনা? এইটা মবের সংজ্ঞায় পড়ে কিনা। যদি এইটা মবের সংজ্ঞায় পড়ে, আমরা ক্লাসিফাই করব কেমনে আসলে? ধরেন, যারা সিইসি নুরুল হুদারে মারছে, এদেরকে আমরা ডিফেন্ড করলাম…

রক মনু: বুঝতে পারছি। এই জায়গায় যাব। এই বিষয়টা মাথায় থাকলো, এই বিষযটা বলার পরে অই জায়গাটায় যাচ্ছি। সেটা হচ্ছে যে, সিস্টেমটা হচ্ছে জাস্টিস সিস্টেমের, একজন আসামী সে, ধরেন… আরেকটা জায়গা থেকে শুরু করি, এই যে প্রেসিডেন্ট ও প্রাইম মিনিস্টার আছে না? এদের কিন্তু একটা ইনডেমনিটি দেওয়া হয়। এরা যে কাজকাম করছে, সেইটা হচ্ছে তারা এজ লং এজ, তারা ক্রাইম এগেইনস্ট হিউম্যানিটি করবে না, হাসিনার মতো, তার বাইরে… তারা যে কাজকাম করছে সেইটা, ধরেন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য, পুলিশ গুলি করতে বাধ্য হইলো, তারপর মানুষ মারা গেল। এরকম ঘটনা তো ঘটতে পারে, একটা আইডিয়াল স্টেটে। তারা যে কাজকাম করছে তার দায় তাদের উপরে যাবে না। ওইটার জন্য তার নামে আপনি খুনের মামলা করতে পারবেন না। খুনের মামলা করবার জন্য অন্য জিনিস লাগবে।

এই যেমন হাসিনার জন্য এইখানে এভিডেন্স, ওই যে অডিও টডিও, এভিডেন্স যে,ওরে খুন করো… তার মানে খুনটাই তার টার্গেট। নট যে, পরিস্থিতি বিশৃঙ্খলা হইতে এইটাকে নরমালাইজেশন করবে — এইটা তার উদ্দেশ্য না, খুনটাকেই সেইটা হচ্ছে বাইছা নিছে। এরকম যে তারপরেও বাড়াবাড়ি রকমের কিছু হয়, তার তো বিচারটা করা যাচ্ছে না। তাইলে তার বিচারটা কেমনে হয়? আসলে তার বিচারটা হবে য পলিটিক্যাল বিচার — জনতার আদালতে। নেক্সট ইলেকশনে তার বিচারটা হবে। ওই বিচারটা নেক্সট ইলেকশনে। সেই কারণেও ইলেকশন দরকার। উইথআউট ইলেকশন তার বিচারটা আমি করব কেমনে? আমি তো জনগণ। আমি তার বিচার করব। কারণ এটা কনভেনশনাল যে প্রতিষ্ঠান আমি বানাইছি আদালত নামে, সে কিন্তু এর বিচার করতে পারতেছে না। কেন? তাইলে তো আর স্টেটই চালানো যাবে না। সে যদি মনে করেন যেকোনো একটা শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য, পুলিশ লাঠি চার্জ করল, সবগুলাতেই যদি আপনি মামলা দিতে থাকেন, তাইলে হচ্ছে যে, প্রাইম মিনিস্টার বা প্রেসিডেন্ট কাজটা করবে কেমনে? এই কারণে এইসব বিষয়ে আদালতে তাকে বিচার করা যাচ্ছে না। কিন্তু সে তো বাড়াবাড়ি করতে পারে। একদম লিটারেলি খুনের প্রস্তাব বাদেও বাড়াবাড়ি করতে পারে। ধরেন, একটা মওকা পাইছে, ৩টা বাড়ি দিলে হয়া যাইতো, সেইখানে ১০টা দিল — এইটা বাড়াবাড়ি না? যে হচ্ছে থাইমা গেছে, তারপরও তাকে মারতেছে। তার বিচার কেমনে হবে?

এই কারণে এইটার বিচারের ওয়েটা হচ্ছে ইলেকশন। জনতার আদালতে তার বিচারটা হয়। তার মানে হচ্ছে যে অলওয়েজ বিচারের ২টা পথ থাকে। একটা হচ্ছে, আদালতের জাস্টিস সিস্টেম কনভেনশনাল ইন্সটিটিউশনাল জাস্টিস সিস্টেমে বিচার করে, আরেকটা হচ্ছে, হচ্ছে পিপল বিচার করে, পলিটিকা — থ্রু ইলেকশন। এবং তারা বিভিন্নভাবে টর্চার্ড হয়। এইটা একটা, এই যে দুইটাই থাকল, এইটা আসলে, এইটার একটা ফর্ম হচ্ছে জুরি সিস্টেম থাকা। জুরি সিস্টেম আদালত বা জাজ, সে হচ্ছে বিধিবদ্ধ যে আইন, এলেম দিয়া সে বিচার করতেছে। কিন্তু এই যে কোনো একটা দেশের আইন, সেইদেশের টোটাল পিপলের ভেতরে যে আইডিয়াল জাস্টিস সেইটারই একটা কো-ডিফাইড ফর্ম, রিটেন ফর্ম। Continue reading

সঠিক পথের ওসমান হাদি ভাই

[ওসমান হাদি শ্যুট হওয়ার পরে, আমার মইদ্যে কিছু কবিতা ভর করে। এইখানে এই কবিতাগুলা রাখলাম। অবশ্য, হাদি আহত হইবার আগে আমি একখান কবিতা লেখছিলাম। নাম, ‘সঠিক পথের ওসমান হাদি ভাই’। উনার উপর নৃশংস ঘটনা ঘটবার পরে, একই নামে আরেকখান কবিতা লেখি। এই দুইখানা কবিতারে, ‘সঠিক পথের ওসমান হাদি ভাই ০১’ ও ‘সঠিক পথের ওসমান হাদি ভাই ০২’ নামে এইখানে রাখলাম। কবিতাগুলা আমাদের বন্ধু হাদির নামের স্মরণ করতেছে।]

/হাদি হাদি কইয়া/

কি চমতকার বেপার দেখো
যে হাদিরে শুট করল
তার গুলির শব্দ আমরা
শুনলাম না

আর অই না হাদি
সে যে বেহেশতের কুন
দরজায় ঢুকছে
আমরা কেউ জানি না

তারপরেও হাদি হাদি কইয়া
কতগুলা পাখি কি
মধুর চিউ চিউ করতেছে!


/সময়/

মাঝে মাঝে মনে হয়
আমাদের গরুর ঘরে
সময় কাতরাইতেছে

গর্তে পইড়া লেজে-গোবরে
অবস্থা হইছে তার

আর চর্ম চউখে
দেখাও যায় তারে

কেউ যেন বা
সময়রে খাপ কইরা
ধইরা ফেলতেও পারে


/যারা জাইগা উঠে/

যারা জাইগা উঠে
তাদের জন্যও
নিদ্রা জরুরী
যাতে কইরা তারা
আবার জাগতে পারে Continue reading

‘সুভাষ দত্ত কৌন হ্যায়?’

[সুভাষ দত্ত’র অটোবায়োগ্রাফির একটা অংশ]

‘৭১-এ আমি লারমনি স্ট্রীটে থাকতাম। ২৫ মার্চের রাতে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। সকাল বেলায় জানা গেল ওটা ছিল পাকিস্তানিদের হামলা। তারা বহু লোকজন মেরেছে। ভার্সিটিতে হামলা চালিয়েছে, হত্যা করেছে ড. জি সি দেবকে। তখন আমার মনে পড়ল এই গোবিন্দ দেব আমাদের প্রিন্সিপাল ছিলেন। তখন আমি দিনাজপুর কলেজে পড়তাম। ইউনিভার্সিটিতে, তার বাড়িতে আমার দেখাও হয়েছিল ডঃ জি সি দেবের সঙ্গে। উনি আমাকে দেখে বলেছিলেন, ‘কি সুভাষ? তোমার নাকি এখন খুব নামটাম হয়ে গেছে?’

আমি বলেছিলাম, হ্যাঁ, স্যার। আপনার আশীর্বাদে চলচ্চিত্র জগতে মোটামুটি পরিচিতি লাভ করেছি।

যাহোক, যুদ্ধ তো শুরু হয়ে গেল। আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ল হিংসা। বিহারীরা পাকিস্তানিদের পক্ষ নিল। খুঁজে খুঁজে বের করতে লাগল কোথায় হিন্দুরা থাকে। কে কি করে। আমার বাসা ছিল ৪নং লারমনি স্ট্রীটে। পাড়ার ছেলেরা অবস্থার ভয়াবহতা টের পেয়ে একদিন বলল, ‘দাদা, আপনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান। মিরপুর থেকে বিহারীরা আসছে আপনার বাসার দিকে। আমরা খবর পেয়েছি।

তখন পরিবারের সবাইকে নিয়ে আমি তাড়াতাড়ি চলে আসলাম ৩নং ওয়ারী স্ট্রীটে। কিছুক্ষণ পরে খবর এল আমার বাসায় লুটপাট শুরু হয়ে গেছে। বিহারীরা যা কিছু পাচ্ছে সব নিয়ে যাচ্ছে। আমি ভাবলাম, যাক, নিচ্ছে নিক। আমি প্রতিবাদ করি নি, প্রতিরোধও করি নি।

এভাবে কেটে গেল কয়েকটা দিন। তারপর ১ এপ্রিলের দুপুর বেলা একটি খবর এল। সেদিন ঘরে শুয়ে রেডিওতে কম ভল্যুমে শুনছি কোথায় কি হচ্ছে না হচ্ছে সে খবর। হঠাৎ দরজায় ধাক্কা। শুনলাম বুটের শব্দ। তারপরই প্রবল লাথি মেরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকল পাকিস্তানি মিলিটারি। দ্রুত আমাদের বাড়িটাকে ঘেরাও করে ফেলল ওরা। তারপর আমাকে, আমার ভাইকে এবং অরুণা গোস্বামী বলে একটি ছেলে ছিল, তবলা বাজাত, এই তিনজনকে নিয়ে বাসার সামনের উঠোনে দাঁড় করাল। আমার পরিবারের সবাই ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করে দিল। ছোট ছেলেটা প্রাচীর টপকে পালিয়ে গিয়েছিল। আমাকে প্রাচীরের সামনে দাঁড় করাল। হাত উঠিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি। ছয়জন মিলিটারি তাদের বন্দুক উঁচিয়ে রেডি হয়ে থাকল। ক্যাপ্টেনের অর্ডারের অপেক্ষায়। গোটা এলাকা ফাঁকা। বিহারীরা মিলিটারির সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নেই। হঠাৎ এক ক্যাপ্টেন এসে আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘ক্যায়া নাম হ্যায় তোমারা।’ আমি বললাম, ‘সুভাষ দত্ত।’

ক্যাপ্টেন বলল, ‘তুম সুভাষ দত্ত। তুম ফিলিম মে কাম করতা হ‍্যায়?’

আমি বললাম, ‘জি!’

তখন ওদের মধ্যে যারা বন্দুক উঁচিয়ে ছিল তাদেরকে ইশারা করল। ওরা বন্দুক নামিয়ে ফেলল। তারপর একটি গাড়ি ডাকল। গাড়িটিতে আমাদের উঠতে বলল, ‘আমরা উঠলাম। সবাই ভাবল বাইরে নিয়ে গিয়ে আমাদের মেরে ফেলবে।

তখন এই গাড়িটি বনগ্রাম, নবাবপুর, টিপু সুলতান রোড হয়ে গভর্নর হাউজে ঢুকল। গভর্নর হাউজে একটি বিশেষ কক্ষে আমাদেরকে রাখা হলো। এ রকম বহু লোককে এনে এখানে রাখা হয়েছে। এদের সবার ধারণা সন্ধ্যার পরে সবাইকে মেরে ফেলা হবে। তখন একজন এসে ডাকল, ‘সুভাষ দত্ত কৌন হ্যায়? ও বাহার নিকালো। আমি তখন সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বের হয়ে এলাম। আমি ভাবলাম কোথায় নিয়ে যায়। কিন্তু না দেখলাম ওখানেই একটা রুমে টেবিলের সামনে এনে দাঁড় করাল। তখন একজন আমাকে বলছে, ‘তোমহারা মালুম হ্যায় ইহাছে কোন মন্দির মে ইন্ডিয়ামে খবর যাতা?’
আমি বললাম, নেহি।
‘তুম তো হিন্দু হ্যায়?’
আমি বললাম, জ্বি।’
‘মন্দির মে মে নেহি যাতা হ্যায়?’
‘নেহি। হাম মন্দির মে নেহি যাতা হ্যায়।’
‘ত তুম ক্যায়সা হিন্দু হ্যায়?’
আমি বললাম, ‘হাম রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবকা ফলোয়ার হ্যায়। হামরা মন্দির মে নেহি জানা। হামরা ঘরমে কাম হো যায়।’
তখন ওরা বলে ঠিক হ্যায়। তুম উধার যাও।

এদিকে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পরে বলছে সুভাষ দত্তের সাথে যত লোক সবাইকে বাইরে বের কর। তখন আমরা কান্না শুরু করে দিলাম। কারণ আমরা বাইরে গুলির আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। এর মধ্যে পরিচিত লোক যারা আছে তাদেরকে বললাম, ভাই আসি। হয়তো এই শেষ দেখা। বাইরে যখন বের হলাম, আগের সেই ক্যাপ্টেনটা দাঁড়িয়ে আছে। তখন সে আমাকে বলল-শুন ইধার আও। তখন আমাকে যে সুন্দর কথাটা বলল- সেই কথাটিই পরবর্তীতে আমি ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ ছবিতে লাগিয়েছিলাম। আনোয়ার হোসেন অভিনয় করেছিল। Continue reading

আমার দোস্ত, আমার দুশমন – ইসমত চুগতাই

অ্যাডোলফি চেম্বারের সিঁড়ি বাইয়া উঠার সময় আমার একটু প্যারা লাগতেসিল। পরীক্ষার হলে যাওয়ার সময় যেমন প্যারা লাগে, ওইরকম। নতুন কারো সাথে দেখা হওয়ার সময় আমার এমনিতেই নার্ভাস লাগে, কিন্তু এইবার সেই ‘নতুন মানুষ’টা ছিল মান্টো। যার সাথে আমার প্রথমবার দেখা হবে। তাই প্যারাটা বাইড়া বিরক্তির পর্যায়ে চইলা যাইতেসিল। আমি শহিদরে কইলাম, “চলো ফিইরা যাই, মান্টো মনে হয় বাসায় নাই।” কিন্তু শহিদ আমার সব আশায় পানি ঢাইলা দিল।

“সন্ধ্যাবেলা মান্টো বাসায়ই থাকে, এই সময়ে সে বইসা বইসা মদ খায়।”

এক মুহূর্তের জন্য আমার মনে হইলো, আমি মনে হয় ভূত দেখসি। মান্টো তো মান্টো, এরপর আবার মাতাল মান্টো! কিন্তু ভয় পাওয়ারই বা কী আছে? সে কি আমারে খায়া ফেলবে নাকি। যত ত্যাড়াব্যাঁকা কথাই উঠুক, বিষয় না। আমিও তো হালকা কোনো বুদবুদ না যে ফুঁ দিলেই উইড়া যাব। তো এইসব ভাবতে ভাবতে, ধুপধাপ ধুলা উড়াইতে উড়াইতে আমরা সেই ভাঙাচোড়া সিঁড়িটা দিয়া উপরে উঠলাম। মান্টোর বাসায়। দরজা হালকা কইরা খোলা ছিল। ঢোকার সময় ঘরটা দেইখা মনে হইলো অনেকটা ড্রয়িং রুমের মতো। একটা কোণে সোফা, আর অন্য কোণে একটা খাট রাখা। ধবধবে সাদা-পরিষ্কার একটা চাদর বিছানো। জানালার পাশে একটা টেবিল ভর্তি বই। টেবিলের সামনেই একটা লোক বইসা আছে, যারে প্রথম নজরে দেইখা মনে হবে বড়সড় একটা পোকা! বা ওইরকমই কিছু।

আমাদেরকে দেইখা অবশ্য মান্টোরে খুবই উৎফুল্ল মনে হইলো, “আরে আসেন আসেন।” ও বেশ আপ্যায়নের ভঙ্গিতে উইঠা দাঁড়াইলো। চেয়ারে বইসা থাকলে যেমন ছোটখাটো লাগে, পুরাপুরি উইঠা দাঁড়াইলে ভুলটা ভাঙে। বুঝা যায়, ও এমনিতে বেশ লম্বা। আর যখন ও একটু বেশিই সোজা হয়ে দাঁড়ায়, ওরে দেইখা খুব ভয়ংকর কেউ মনে হয়। একটা খসখসে সুতি কুর্তা-পাজামার সঙ্গে জওহর-কাটের কোটি পরা মান্টো।

ও দাঁত দেখায়া হাইসা বললো, “আরে আমি তো ভাবসিলাম আপনে মনে হয় কালো আর রোগা কেউ হবেন।”

আমিও জবাব না দিয়া পারলাম না, “আর আমি ভাবসিলাম আপনে চিল্লাফাল্লা করা অসহ্য একটা পাঞ্জাবি লোক।”

এরপরই আমরা দুইজন এমন সব আলাপে মইজা গেলাম যে দুইজনেরই মনে হইতে থাকলো, আমাদের আগে দেখা না হয়া বহুত বড় ‘লস’ হয়া গেছে। তাই যত কম সময়ে যত বেশি আলাপ কইরা ক্ষতি পুষানো যায়, তারই চেষ্টা করতেসিলাম মনে হয়। এক মুহূর্তও দেরি সইতেসিল না আমাদের। এক-দুইবার আমাদের মাঝে ঝামেলা লাগসে, কিন্তু তখনো যেহেতু একটু রাখঢাক আছে তাই পরেরবার দেখা হওনের জন্য ওই বিষয়গুলা আমরা একটু সাইডে সরায়া রাখলাম। কয়েক ঘণ্টা ধইরা আমাদের চোয়ালগুলা বোধহয় এক মিনিটের জন্যও থামে নাই। মেশিনের মতো দ্রুতগতিতে একেকটা বাক্য জন্ম নিতেসিলো। আর কিছুক্ষণ আলাপের পর আমি বুঝতে পারলাম, মান্টোরও সবকিছু না শুইনা মাঝখানে কথা কয়া ফালানোর অভ্যাস আছে। এইটা বুঝার পর আমার দিক থিকা আর কোনো ভদ্রতা বাকি থাকলো না। এরপরে আলাপটা তর্কের পর্যায়ে পৌঁছায়া গেল, এরপর বাদ-বিবাদ। অবাক হয়া দেখলাম, আলাপের কিছুক্ষণের মাথায়ই আমরা একজন আরেকজনরে অতি সাহিত্যিক ভাষায় ‘স্টুপিড’, ‘ইডিয়ট’ আর ‘অযৌক্তিক’ ইত্যাদি নামে ডাকাডাকি করতেসিলাম। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →