আমার জীবন দর্শন – আমাদের শক্তির উৎসঃ কোরান ও রসূল (মাহবুব-উল আলম) Featured

[মাহবুব-উল আলম এর ‘রঙবেরঙ’ বই থিকা লেখাটা নেয়া হইছে]
ইতিমধ্যে আমাকে অনুরোধ করা হয়েছে আমার জীবন দর্শন ব্যক্ত কর্তে।
সত্য দৃষ্টি
কোরানে তিন রকমের দৃষ্টির কথা বলা হয়েছে: জড়-দৃষ্টি, বৈজ্ঞানিক-দৃষ্টি ও সত্য-দৃষ্টি (আয়নুল এক্কিন, এলমুল এক্কিন ও হক্কুল এক্কিন)। এর মধ্যে জড়-দৃষ্টি ও বৈজ্ঞানিক, দৃষ্টি বিষয়টিকে অংশতঃ প্রকাশ করে, একমাত্র সত্য দৃষ্টিই উহাকে সর্বতোভাবে প্রকাশ করে।
জড়-দৃষ্টি দেহের জন্ম-কালেই প্রকৃতির দান স্বরূপ উহার সাথে যুক্ত থাকে, বৈজ্ঞানিক-দৃষ্টি দেহী লেখা-পড়া ও গবেষণা দ্বারা লাভ করে। সত্য-দৃষ্টি লাভ হয় আত্মিক সাধনা দ্বারা এবং আল্লাহতা’লার রহমতের ফলে। সত্য-দৃষ্টি দ্বারা শুধু যে সত্য দর্শন হয় তাহা নহে, চিত্তও স্থিরতা লাভ করে।
কোরানের ডাইমেনশন ফিলজফি
এই ফিলজফি মতে আল্লাহতা’লা মানুষকে সব সময় ডেকে জিগ্যেস কচ্ছেন। ১. কোথায় আছ? ২. কোন সময়ে আছ? ৩. কার সাথে আছ? ৪. কোন উদ্দেশ্য নিয়ে আছ? আমরা এটাকে সহজে ‘স্থান-কাল-পাত্র ও উদ্দেশ্যের ফিলজফি’ বলে বর্ণনা করতে পারি। এগুলোকে একটু বিশদ ভাবে আলোচনা কচ্ছি।
স্থানের ডাইমেনশন
কেয়ামতের প্রথমেই স্থান ধ্বংস হবে। এর অর্থ স্থানই মনুষ্য-জীবনের প্রথম ও প্রধান নিয়ামক।
দুইটি ভিন্ন দেশকে এক ভাবার চেষ্টা ইতিহাসে সব সময়েই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তার সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত পাকিস্তান।
পাকিস্তানে দুইটা অংশের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার মাইল ব্যবধান ছিল। আয়ুব খাঁ ‘প্যারিটী’ বা সংখ্যা-সাম্যের সাহায্যে এই ব্যবধান মুছে দিয়ে দুই দেশকে এক কর্তে চেষ্টা করেন। কিন্তু, অসাম্য দিন দিন আরও বাড়তে থাকে।
আমি তাঁকে বলি: আপনি বরং এক কাজ করুন ছয় মাস পূর্ব পাকিস্তানে রাজধানী করুন, ছয় মাস পশ্চিম পাকিস্তানে রাজধানী করুন। আর ঢাকাকে ২য় রাজধানী বা ‘সাবসিডিয়ারী’ রাজধানী না বলে উভয় রাজধানীর নাম দেন: পূর্বের রাজধানী ও পশ্চিমের রাজধানী অথবা শীতকালীন রাজধানী ও গ্রীষ্মকালীন রাজধানী।
পরে স্থান-অনৈক্যের দরুণই পাকিস্তান ভেঙ্গে যায়।
স্থানের ডাইমেনশন জন্মভূমির মাটির প্রতি মানুষকে অনুগত থাকতে বলে। এরই নাম দেশপ্রেম।
অন্নদাশঙ্কর রায় আমাকে সাহিত্যিক হিসেবে কলিকাতার মঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে চান এবং ব্যবস্থা করে দিতে চান যে আমি হুমায়ূন কবিরের ‘চতুরঙ্গ’ পত্রিকায় লিখি।
আমি তাঁর প্রস্তাব গ্রহণ করিনি। আমার মাটি-মাকে আমি সেবা করে যাব, আমার দেশ তাকে মূল্য দিতে পারুক, আর না-ই পারুক।
১৯৭১ সালের এপ্রিলে পাঞ্জাবীদের আক্রমণ থেকে বাঁচবার জন্যে আমার পরিবারের লোকেরা চট্টগ্রাম শহরের বাড়ী ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র সরে যায়।
কিন্তু, আমি আমার মাটিকে ছাড়তে অস্বীকার করি, একা পড়ে থাকি।
দেশের প্রতি ভালবাসার জন্যে যে মূল্যই চাওয়া যাক, সেটা আমাদের দিতে হবে। Continue reading