Main menu

বাংলার ‘মব’ জনগোষ্ঠী Featured

ইন্টেরিমে ফরিদপুরে বা, এখন ফিলিপনগরে যা হইছে, বা আরও আরও অন্য জায়গায় মাজার ভাঙ্গায় বা নারি হেনস্তায় একটা সর্বদলীয় যোগাযোগ করা হইছে ঘটনাগুলি ঘটাইতে। বিএনপি নেতা, ছাত্রদল নেতা, জামাত-শিবির শকলের সরব উপস্থিতি এইসব জায়গায় ছিলো। এগুলা ঠিক একক দলীয় পরিচয়ে যেমন হয়নাই, তেমন পরিচয়হীন ‘মব’ও না তা। এই সর্বদলীয় যোগাযোগের কারনে কিরমিনালদের ওইভাবে ঘাটাইতে পারেনাই ইন্টেরিম। বিগ ফেইলিওর। তবে যেইখানে রিয়েলি ধরতে চাইছে, সেইখানে কিরমিনালদের ধরা গেছে কিন্তু। যেমন পরথম আলোর হিরোসিমাকান্ড, ভালুকার দীপুচন্দ্র দাস, ঢাবির তোফাজ্জল খুনের পর আসামী ধরা গেছিলো যদ্দুর জানা যায়। সেইখানে একটা পরিকল্পনার আভাস পাওয়া গেছিলো।

পরিকল্পনা থাকলেই যে তারে ‘মব’ বলা যাবেনা তা না। কিন্তু এইখানে ‘মব’ নেরেটিভটা মরালি কম্প্রোমাইজড একটা নেরেটিভ; ব্যাড ফেইথে তোলা একটা আলাপ, রাইট ফ্রম দা বিগিনিং। ‘মব’ এর ভেতরে সর্বদলীয় যোগাযোগ ছিল, তারে মাইনা নিলে এখন যে একটা নির্দিষ্ট দলরে সমস্ত মবের ভোমরা হিসাবে সাব্যস্ত করা হইতেছে তা আর করা যায় না কিন্তু। আবার ‘মব’ বয়ানের মুখ ও মাথা যারা তারা পরিষ্কার যে একটা নির্দিষ্ট দলরে যেহেতু অবজেক্টিভলি দায়ী করা যাইতেছে না এইসব আকামের জন্য, সেহেতু এমন একটা তাত্ত্বিক কাঠামো কোঅপ্ট করতে হবে যেটার ভেতর বিল্ট-ইন শেইপশিফটিং পটেনশিয়াল থাকে; যাতে ওই বয়ানে ওই নির্দিষ্ট দলটার নাম না নিয়াই, ওই দলটারে পলিটিকালি প্রপারলি গেরেফতার রাখা যায় ওইসব আকামের জন্য।

কেন ‘মব’ বয়ান এর মাথা ও মুখেরা এইভাবে আগাইতে চাইলেন? কারণ অধুনা মব বয়ানের উদ্গাতা ও প্রচারকেরা বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবেই ভার্চু সিগনালিংরে তাদের রাজনৈতিক চর্চার ভেতর নেচারালাইজ করে ফেলছে। ফলে তারা যখন কাউরে ফাসাইতে চায় , কিন্তু জানে ফাসাইলে সেইটা রঙ্লি ফাসানো হবে, তখন তারা থিওরেটিকাল কমপ্লিকেশনস অ্যাড কইরা এমন একটা ট্র্যাজেক্টরি লক করে, যাতে এখন নাম না নিলেও ভবিষ্যতে একটা কনস্ট্রাক্টেড রিয়েলিটিতে রেফারেন্স হিসাবে ওই নামটাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে উইঠা আসে। ‘মব’ বয়ান ঠিক এই পারপাসটাই সার্ভ করে, বিশেশ কইরা জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে। Continue reading

অ্যা টেল অব টু আইল্যান্ডছ্ Featured

চিন্তার ছিলছিলা//

ডান আর বাম লইয়া জেই পলিটিকেল ডিছকোর্ছ আছে, আমি শেইটারে আরেকটু ভালোভাবে ডিফাইন করতে চাইছি, এবং করছি বইলা দাবি করি। মোদ্দা কথায় ব্যাপারটা এমন জে, ডান মানে হইলো ডিউটিপন্থা আর বাম মানে হকপন্থা। এইখানে বিস্তার করতে চাই না বেশি, ছেরেফ একটা ইশারা দিতেছি এমনে: ডান পজিশন মোতাবেক, শমাজের মেম্বাররা শকলে তার তার ডিউটি পালন করলে শমাজ বেস্ট পছিবল হালতে পৌছাবে। আর বামেরা মনে করে, শমাজের উচিত শকলের হক আদায় করা।

এই হিশাবে বামেরা বেক্তির উপর থিকা কনটোল শরাইতে চায়, ফিরিডমের কথা কয়। আর ডানেরা ফিরিডম দেওয়ারে মনে করে শমাজের বেক্তি মেম্বারদের ডিউটি এড়াবার মওকা বানাইয়া দেওয়া। কিন্তু ডান-বামের পলিটিকেল পজিশনের পিছে আরো গোড়ার ভাবনা আছে একটা: বামেরা আজাদ বেক্তি মানুশের উপর ডানের তুলনায় বেশি ভরশা রাখতে চায় এবং শেই কারনেই কমপ্লিট আজাদিরে ডানেরা রিস্কি ভাবলেও বামেরা খুব পজিটিভ ঘটনা হিশাবে দ্যাখে। মানে হইলো, দুই পক্ষের শাচ্চা ফারাক হইলো, ‘মানুশ’ নামের অর্গানিজমটারে কারা কেমনে ডিফাইন বা তারিফ করে।

ডিউটি আর হক ঘিরা এই জে মর্ডান পলিটিকেল ফালছাফার ডিছকোর্ছ, এইখানে মানুশের তারিফ বা ডেফিনিশনের ব্যাপারে আমাদের নজর দিতে হবে খিরিস্টানিটি আর ইছলামের ফারাকে। কেননা, ইউরোপের মস্ত দাবি থাকবার পরেও গেরেকো-রোমান ফালছাফার ছিলছিলার ভিতর আমরা ঐগুলা পাবো না, বরং মর্ডান ইউরোপের পলিটিকেল ফালছাফা ডিছকোর্ছের পাটাতন পয়দা হইছে ইছলাম মোকাবেলা করতে করতে!

মেছোপটেমিয়া, ইজিপ্ট আর ইরানের চিন্তার লগে পেলেটো-এরিস্টোটলের চিন্তার রিশতা আরেকটা আলাপ, এইখানে শেইটা করতে চাই না; কিন্তু এইটা একবার কইয়া রাখতে হইলো; কেননা, পেলেটো-এরিস্টোটলের চিন্তার রোশনাই আরবি তরজমার ভিতর দিয়া এস্পেনের আন্দালুছে ফুটছিলো খুব এবং তার লগে ইছলামের মাখামাখিতেই আন্দালুছে পয়দা হইতে পারছিলো ইবনে রুশ্দ (১১২৬-১১৯৮)। এবং এই ইবনে রুশ্দের মোকাবেলা করতে নাইমাই রোমে টমাছ একুইনাছ (১২২৫-১২৭৪) খিরিস্টানিটিরে থিওলজিকেলি ছেইভ করেন।

ইবনে রুশ্দের লগে ইবনে তোফায়েল (১১০৫-১১৮৫)

নামে আল আন্দালুছের আরেকজন ভাবুকের কথা কইয়া রাখি এখন, পরে লাগবে। এনারা দুইজন দোস্ত আছিলেন; ইবনে তোফায়েলই ইবনে রুশ্দের লগে খলিফার দিদার ঘটাইছিলেন এবং তাতেই এরিস্টোটলের চিন্তা লইয়া কামের মওকা পাইলেন হজরত রুশ্দ। তবে, এই দুইজনের আগের দুইজন ভাবুকও এই ব্যাপারে দরকারি, বাস্তবে শেই দুইজনেই এই আলাপের শুরু: ইবনে ছিনা আর হজরত গাজ্জালি। মানুশের আক্কেলের উপর ইবনে ছিনার মস্ত ভরশা আছিলো। শেইটারে কাউন্টার দিছেন গাজ্জালি। এই দুইজনের চিন্তারে একটা জোড়া বানাইয়া নাম দিলাম, আক্কেল বনাম একিনের ডায়ালেক্টিক্স। চিন্তার ঐ দুইটা লাইন বা ছিলছিলা হাজার বছর ধইরা চলতেছে। আক্কেলের লাইনটা এমন: ইবনে ছিনা-তোফায়েল/রুশ্দ-লক-বিটিশ পলিটিকেল ছিস্টেম(১৬৮৯)-আমেরিকা/জেফারছন-রুশো-মার্ক্স। আর একিনের লাইন: গাজ্জালি-একুইনাছ-হব্স-হালের ডান। এই লম্বা ছফরের ভিতর দিয়া আক্কেল আর একিনের ডায়ালেক্টিক্সটাই হালে হক আর ডিউটির বা বাম-ডানের ডায়ালেক্টিক্সের ছুরত পাইছে। Continue reading

কমেন্টস অন পলিটিকাল পা‍র্টিস: মা‍র্চ, ২০২৬

বিএনপি

‘বিএনপি’র কোন স্ট্রং আইডিওলজি নাই’ – এইটা কোন পজিটিভ জিনিস না আর কি! একইভাবে, আওমি-লিগের তুলনায় কিছুটা ‘বেকুব’ বইলা ‘ভালো’ – এইটাও প্রবলেমেটিক পজিশনই!

এইরকম একটা আলাপ বাজারে চালু আছে যে, বিএনপি’র তো আওমি-লিগের মতো স্ট্রং কোন আইডিওলজি নাই! বা বিএনপি’র লোকজনের খুব বেশি বাটপারি বুদ্ধি নাই বইলা কিছুটা ‘বেকুব’ – এই কারনে চাইলেও তারা বেশি বাজে হইতে পারবে না যেন! মানে, বিএনপি কেন ভালো? এর একটা উত্তর অনেকের কাছে এইরকম যে, তারা চুরি-ডাকাতির লাইনগুলা কম বুঝে বা জানে, এবং তাদের স্ট্রং কোন আইডিওলজিকাল পজিশনও নাই যেইটারে ডিফেন্ড করা লাগে… তো, এই দুইটা পয়েন্টই আমার কাছে ঝামেলার জিনিস মনেহয়!

পয়লা কথা হইতেছে, কেউ ‘বেকুব’ বইলা ‘ভালো মানুশ’ না! বরং তারা বাটপারি’র রিস্কের কাছে অনেক বেশি এক্সপোজড! আওমি-লিগ ছিল অতি-চালাক, এর এগেনেস্টে বিএনপি ‘বেকুব’ – এইটা মোটামুটি একই বেইজের একটা পজিশন! মানে, ‘ভালো হওয়া’ বেপার’টা ইনোসেন্সের সাথে জড়িত না, বরং মোর কনশাস হওয়ার সাথে রিলেটেড একটা ঘটনা! যে, আপনি জিনিসগুলারে খালি জানেন এবং বুঝেন-ই না, এর বাইরে যেইটা ঠিক-কাজ বইলা মনে করেন, সেইদিকে ডিসিশানও মেইক করতে পারেন! কেউ ইনফিরিয়র হইয়া ‘ভালো’ আসলে হইতে পারে না! বাটপারির এগেনেস্টে, ইভিলের এগেনেস্টে ভালো হওয়াটা সবসময় সুপিরিয়র কনশানসনেসের একটা পজিশন!

আর আইডিওলজি’র জায়গাটাতে যদি দেখেন, ম্যাস-পিপলের পলিটিকাল পার্টি হইতে হইলে আপনার কোন আইডিওলজিকাল বেইজ থাকতে পারবে না – এইটা খুবই ভুল একটা চিন্তা! আজকে থিকা ৫০ বছর আগের কনটেক্সটে জিয়াউর রহমানের ‘বাংলাদেশি জাতিয়তাবাদ’ মোটামুটি ভালো একটা আইডিওলজিকাল বেইজই ছিল, কিনতু মুশকিল হইতেছে, ৫০ বছর পরে আইডিওলজিকাল কনটেক্সট তো চেইঞ্জ হইছে, নেশনালিজম আর আগের মতো রেলিভেন্ট নাই! আর বিএনপি যে অই জায়গাটারে কোনভাবে আপগ্রেড করতে পারে নাই, সেইটা তো তাদের একটা ইন্টেলেকচুয়াল ফেইলওরই! মানে, আইডিওলকালি আপগ্রেডেড না হইতে পারাটারে ফেক্সিবল থাকা বইলা গ্লোরিফাই করার কিছু নাই আর কি!

তো, অল্প কথাতেই বললাম পয়েন্ট দুইটা, কিনতু ডিটেইল আরো আলাপ তো করা যাইতেই পারে… আমার কথা হইতেছে, লোকজন যখন ভুল-জায়গা নিয়া প্রশংসা করে তখন সাবধান হওয়াটা বেটার! এই প্রশংসাগুলা বিএনপি’র জন্য, আই গেইস, বেশ বিপদজনক ঘটনাই! 🥱 Continue reading

আমীর খুসরো’র ছাপ তিলাক

হজরত আমীর খুসরো রহ. এমন কিছু বিষয়ের প্রবক্তা, যেগুলোর যে কোনও একটির আবিষ্কার-ই যে কাউকে বিখ্যাত ও অমর করে রাখতে সক্ষম। তিনি যে যে বিষয়ের প্রবক্তা:

১. সেতারের বর্তমান রূপ।
২. তবলার বর্তমান রূপ।
৩. অনেক রাগের জনক।
৪. কাওয়ালি।

ফারসি ও হিন্দাভি উভয় ভাষায় তিনি বিপুল পরিমাণ কবিতা, গজল ও গান রেখে গেছেন।
যে গানটি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি সেটি হলো, ‘ছাপ তিলাক’। সুফি তত্ত্বে এই ধরনের গানকে বলা হয় ‘কালাম’।
কালামটি হজরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া রা. এর দরগাহের সামা মজলিস তথা কাওয়ালি বৈঠকের জন্য রচিত।
কালামটি রচিত হয়েছে ৭০০ বছর আগে।

বলা হয়ে থাকে যে, আমীর খুসরো প্রথমবার নিজামুদ্দীন আউলিয়ার মজলিসে এসে তাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে এতটাই অভিভূত হয়েছিলেন যে সেই রাতেই এই গানটি রচনা করেন। এই বর্ণনাটি মৌখিক ঐতিহ্যের অংশ।

যেখানে তিনি হজরত নিজামুদ্দীন আউলিয়াকে প্রিয়তম হিসেবে এবং নিজেকে তাঁর ভক্ত হিসেবে উপস্থাপন করেন।

কালামটির গভীর অর্থ নিয়ে ভাবতে গেলে মনে হয়, এটি মূলত একটি বিচ্ছেদ বা দূরত্বের প্রেক্ষাপটে লেখা। গুরু থেকে শিষ্যের আত্মিক দূরত্বের যন্ত্রণা এবং পুনর্মিলনের আকাঙ্ক্ষা-ই এখানে মূল বিষয়বস্তু। অর্থগুলো বোঝা গেলে আরও ভালোভাবে এর আবেগ ও আবেদনটা বোঝা যাবে।

অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করছি।

ছাপ তিলাক সাব ছিনি রে মোসে ন্যায়না মিলায়কে

তুমি একবার চোখ মিলিয়ে আমার সব কেড়ে নিয়েছো। ‘ছাপ’ হল সিলমোহর। যা সরকারি বা ধর্মীয় পরিচয়চিহ্ন। আবার মুসলমানের কপালে নামাজের চিহ্ন। আর, ‘তিলক’ হলো, কপালের টিপ, হিন্দু ধর্মীয় বা সামাজিক পরিচয়ের চিহ্ন। অর্থাৎ, শুধু দৃষ্টিসংযোগে আমার যাবতীয় পরিচয় বিলুপ্ত হয়ে গেল। যা আমি ছিলাম। আমার ধর্ম, আমার বর্ণ, আমার সামাজিক মর্যাদা, সব এক মুহূর্তে অর্থহীন হয়ে পড়ল। ছাপ ও তিলক, এই দু’টি ভিন্ন ধর্মের পরিচয়চিহ্ন একসাথে উল্লেখ করাটা ইন্টারেস্টিং। খুসরো বলছেন না যে শুধু হিন্দুর তিলক বা শুধু মুসলিমের ছাপ গেছে, দুটোই গেছে। অর্থাৎ ধর্মীয় বিভাজনের যে কাঠামো সমাজ তৈরি করে, প্রেমের সামনে সেই কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। সুফি দর্শনে ফানা হলো আত্মবিলোপ। যা, সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক অবস্থা। নিজের সত্তা বিসর্জন দিয়ে ঐশ্বরিক সত্তায় মিলিত হওয়া। এই লাইনে সেই ফানার মুহূর্তটি আছে। শুধু চোখের মিলনে, পরিচয়ের সমস্ত আবরণ খুলে পড়ে গেছে।

আমরা যাকে ‘আত্মপরিচয়’ বলি, সেটি মূলত একটি নির্মাণ। সমাজ, পরিবার, ধর্ম, শ্রেণী মিলিয়ে তৈরি। গভীর প্রেম বা তীব্র আবেগের মুখোমুখি হলে এই নির্মাণটি সাময়িকভাবে ভেঙে যায়। মনোবিশ্লেষণের ভাষায় এটি ‘ego dissolution’। যেখানে নিজের সীমারেখা আর থাকে না। যারা প্রেমে পড়েছেন সকলেই জানেন, কারো চোখের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ মনে হয় ‘আমি আর আমি নেই’। আমার পূর্বের সত্তার মৃত্যু ঘটেছে। এর মানে হলো, সেই মুহুর্তে এক নতুন আমি’র জন্ম হলো, এবং আমার পুরনো যে ‘আমি’, তাকে হত্যা করেছে আমার প্রেমিক বা প্রেমিকা। সেই মুহুর্তে নতুন আমার জন্ম। এজন্যই হিন্দাভি বা উর্দু সাহিত্যে প্রেমিক বা প্রেমিকাকে বলা হয় ‘ক্বাতিল’ বা হত্যাকারী। সেই মুহূর্তে সমস্ত পরিচয়, ইমেজ, আইডেন্টিটি, সব বিগলিত হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে এত বড় রূপান্তর ঘটানো, এটাই খুসরোর কবিত্বের শক্তি। গোটা একটি দার্শনিক সংকট তিনি একটি মাত্র দৃশ্যে তুলে ধরেছেন। কেবল দু’টো চোখের মিলন। Continue reading

(বই থেকে) বাংলার মধ্যবিত্তের আত্মপ্রকাশ – কামরুদ্দীন আহমদ (এক)

[কামরুদ্দীন আহমদ (৮ সেপ্টেম্বর ১৯১২ – ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২) তিন পার্টে উনার অটোবায়োগ্রাফি লেখছেন – ‘বাংলার মধ্যবিত্তের আত্মপ্রকাশ’ (১ম ও ২য় খন্ড) এবং ‘বাংলার এক মধ্যবিত্তের আত্মকাহিনী… আইডিওলজিকালি উনি ‘বাঙালি জাতিয়তাবাদের’ লোক ছিলেন এবং অই জায়গা থিকাই ঘটনাগুলারে দেখছেন, এবং নানান সময়ে নানান হিসি্ট্রকাল ফিগার ও ইভেন্ট নিয়া কমেন্ট করছেন, যেইগুলারে হিসি্ট্রকাল ট্রুথ হিসাবে কন্সিডার না কইরা উনার নিজস্ব পারসপেক্টিভ হিসাবে রিড করতে পারাটাই বেটার…

নিচের অংশগুলা উনার বাংলার মধ্যবিত্তের আত্মপ্রকাশ (১ম খন্ড) বইয়ের আশ্বিন, ১৩৮২ এডিশন থিকা নেয়া হইছে…]

 

আবুল হুসেন

আবুল হুসেন

খাজা সাহেবরাই ঢাকার মুসলমানদের নেতৃত্ব করতেন। বুদ্ধি বা বিদ্যার জন্য নয় – বৃটিশরাজ তাদের সুনজরে দেখতেন বলে। খাজা সাহেবদের মস্ত বড় জমিদারী ছিল কিন্তু ঢাকার রইস বাসিন্দাদের জন্য শিক্ষা-দীক্ষার কোন ব্যবস্থাই তারা করেননি। এর কারণ জানা গেল যখন ১৯২১-২২ সনে আবুল হুসেন এম.এ., এল.এল. খাজা আহসানউল্লাহকে লিখিত তাঁর পিতা নবাব আবদুল গনি সাহেবের একখানা পত্র তার খবরের কাগজে প্রকাশ করেন। এ পত্রখানা তার হাতে পড়ে যখন ঢাকার আবদুল গনি চৌধুরী বঙ্গীয় পরিষদে ওয়াকফ্ আইনের উপর একটি বিল উপস্থিত করার জন্য আবুল হুসেন সাহেবের সাহায্য চান। আবুল হুসেন সাহেব নওয়াব ষ্টেটের ওয়াকফ্ফ জমিদারীগুলোর কাগজপত্র পরীক্ষা করছিলেন, নবাব সাহেব তার পুত্রকে লিখেছিলেন যে, তিনি যেন মনে রাখেন যে ঢাকার কুট্টিরা তাদের প্রজা নয় – অথচ তাদের প্রজার মত ব্যবহার করতে হবে – খানদানের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য। এ সব লোক যদি লেখাপড়া শিখে বাস্তব অবস্থা জানতে পারে তবে খানদানের নেতৃত্বের পরিকল্পনা ছাড়তে হবে। তাদের অন্যভাবে টাকা-পয়সা দিয়ে সময় সময় সাহায্য করতে-কিন্তু স্কুলের ব্যবস্থা না করতে। ঐ চিঠি প্রকাশ হবার পর আবুল হুসেন সাহেবের প্রতি নবাবেরা কেবল বিরূপই হননি তাকে বিপদে ফেলার চেষ্টাও করেছেন। কেবলমাত্র শহরের বাইরে থেকে আসা ছাত্রদের জন্য অনেকটা বেঁচে গেছেন। 

(পেইজ ৩৪) 

 

সুফিয়া কামাল

আমার আজ যার কথা বেশী মনে পড়ছে তিনি হচ্ছেন শায়েস্তাবাদের নবাবজাদা সৈয়দ মোহাম্মদ হুসেন সাহেব। তিনি ছিলেন এক অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ। তিনি যখনই বিকেলে সান্ধ্য ভ্রমণে (Evening walk) বেরুতেন তখন তার পরনে থাকত খাকী হাফ-প্যান্ট, সাদা হাফ-সার্ট, মাথায় সোলার হ্যাট, হাতে বেড়াবার লাঠি, সঙ্গে একটি বিলেতি কুকুর। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ডিগ্রী তার ছিল না – কিন্তু সে যুগে এমন কোন ইংরেজী সাহিত্যের বই ছিল না যা তিনি পড়েননি, অবশ্যই ওল্ড-ইংলিশ থেকে চসার-ল্যাংল্যান্ড পর্যন্ত ইংরেজী সাহিত্যের যুগটাকে বাদ দিয়ে। প্রত্যেক বইয়েরই নানা ধরনের সংস্করণ তার পাঠাগারে (Library) পাওয়া যেত – বিশেষ করে মরক্কো লেদারের ‘কভার” পাতলা (thin) ইংরেজী কাগজের সংস্করণ তিনি বেশী পছন্দ করতেন। বিকেল বেলা নদীর তীরে বেড়ানো ছাড়া প্রায় সমস্ত দিনই বইয়ের মধ্যে ডুবে থাকতেন। ডিকেন্স ও থেকারের অনেক সুন্দর মরক্কো বাইন্ডিং বই তিনি আমাকে পড়তে দিয়েছিলেন-সঙ্গে কেমব্রিজ হিস্টরী অব ইংলিস লিটারেচার। শেকস্পিয়ারের পকেট এডিশন আজো অনেকগুলি আমার কাছে আছে।… 

নবাবজাদা সাহেবের নিজের সংসার ছিল না, তাই তার ভাই সৈয়দ নেহাল হুসেনকে বিয়ে দিয়ে সংসার সৃষ্টি করলেন – আমার যতদূর মনে পড়ে নেহাল হুসেন তখন আইন পড়ছিল – তার স্ত্রী হয়ে এলেন সুন্দরী, শিক্ষিতা সুফিয়া বেগম – যিনি প্রথম জীবনে কেবল লাজুক বন্ধু, পরে সুফিয়া নেহাল হুসেন হলেন কবি। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →