ট্র্যাজেক্টরি অফ আর্ট অন লাইফ এন্ড থিংস Featured
লাইফে এক এক জনের এক রকম রিয়েলিটিতে বার বার শিফট করতে হয়। লাইফের প্রগ্রেস হইতেছে নেগেশন, মানে নেগেট করতে করতে আগাইবেন। তারমধ্যেই আবার এই প্লেইন বা তল বদলাইতে হয়৷ সেইখানে ডুব দিতে হয়। হাবুডুবু খাইতে খাইতে শ্বাস নিতে হয়। পানির ওপরে মাথা তুলে রাখতে হয়, যতক্ষণ পারা যায়।
মানুষ জেনারেলি সিঙ্গুলার পয়েন্ট বা ত্রৈধবিন্দু দেখে। কন্ট্রাডিকশনটা দেখা কঠিন কাজ। মানে, কোন একজ্যাক্ট মোমেন্টে পানি বরফ হয় কিংবা সোসাইটি রাষ্ট্র হয়।
মানুষের লাইফ মডার্ন সিস্টেমে আসলে রিগ্রেসিভ। অর্থাৎ আপনি বুঝতে বুঝতে আগাইবেন না। না বুঝতে বুঝতে আগাইবেন। খালি কনজিউম করবেন। যদি বুঝতে পারেন, তাইলে সেইটাই আপনার রিভিলেশন।
রিভিলেশন আসলে এক্ট না। লোকজনের পপুলার মিসআন্ডাস্ট্যান্ডিং। যেই রিভিলেশনে প্রোপারলি এক্ট করা যায়, সেইটা আর রিভিলেশন থাকে না।
যেইটা বলতেছিলাম যে, রিভিলেশনের ট্রাজেক্টরি খুঁজে পাওয়া কঠিন। আর্টের কাজ এই ট্রাজেক্টরি ধরার চেষ্টা করা। ট্রাজেক্টরির একটা আইডিয়া গ্রো করার চেষ্টা করা। এই কারণে সাকসেসফুল আর্ট আসলে সবাই ফিল করে। কানেক্টেড ফিল করে। নিঁখুত বা সঠিকতার প্রশ্ন না। খেলার মাঠে গোল করতে পারা না।
কুরোসাওয়ার ইকিরু আমার প্রিয় সিনেমার একটা। স্পেশালি শুরু এবং শেষ। ওপেনিং শট (অরিজিনালটা) হইতেছে একটা এক্সরে ফিল্ম, যাতে দেখা যাইতেছে যে,প্রোটাগনিস্টের পাকস্থলীর ক্যান্সার ধরা পড়ছে।

খেয়াল করেন। মানুষ না। মানুষের সিস্টেমেটিক ডকুমেন্টস। প্রোটাগনিস্ট একজন সরকারি চাকুরিজীবী, যিনি বছরের পর বছর নয়টা পাঁচটা কাজ করে গেছেন পরিশ্রমের সাথে। সিস্টেমের পারপাসে। যার সাথে তার নিজের পারপাসের কম সম্পর্কই আছে।
যদিও কুরোসাওয়া এই ডায়ালেক্টিসে শেষ করছেন যে, ফিজিকালি তার জীবন সমাপ্ত হইতে যাইতেছে। কিন্তু মরার আগে তার একবার বাঁচার সুযোগ হইছে।
ব্রেকিং ব্যাডের কথা মনে করেন। ব্রেকিং ব্যাড একই জিনিস। কিন্তু নিহিলিস্টিক পোস্টমডার্ন কেওস।

চার্লি চ্যাপলিনের মডার্ন টাইমস আসলে একটা স্যাটায়ার হইতে পারছে, কারণ চার্লি চ্যাপলিন নিজেরে সিস্টেমের বাইরে রাইখা সিস্টেমে বারবার ইন্টারভেন করছেন।

কিন্তু সিস্টেমের বাইরে যাওয়া বা বিগ আদারের বাইরে যাওয়ার সুযোগ আমাদের নাই। ফলে আমরা মূলত ট্র্যাজিক ক্যারেক্টার। হ্যামলেটের মত, নাইলে ম্যাকবেথের মত। নাইলে কিং লিয়ারের মত। শেকসপিয়ারের ট্র্যাজেডি।
কিং লিয়ারে আসলে কি বলছে? তুমি কি ভালোবাসা চাও, না ভালোবাসার পারফর্মেন্স বা সোসাইটাল এক্সপেক্টেশন চাও? দুইটাই একসাথে কি পাওয়া যায়? আবার চাইবা যে, তুমি ফাউস্টের মত আত্মা বিক্রি করলেও কি যা চাও তা পাবা?
মানে, জীবনের যাত্রা কোন ‘এক’ গন্তব্যে। যেইখানে যাত্রাপথের যে বাঁধা বিপত্তি, রাস্তার কাঁটা-সেগুলাই গন্তব্য ঠিক করে।
আমাদের পীড়ন হইতেছে এই যে-আমাদের এই রিভিলেশনই রিডিম্পশন,আবার পানিশমেন্টও।
দস্তোয়ভস্কির রাসকলনিকভের মত। ইকিরুর মত।
মইরা গিয়া বাঁচার মত। অথবা বাঁচতে গিয়া মরার মত।
চার্লি চ্যাপলিন কেবল আমাদের ইউটোপিয়া দেখার আনন্দ আর আফসোস।
কবির আহমেদ
Latest posts by কবির আহমেদ (see all)
- ট্র্যাজেক্টরি অফ আর্ট অন লাইফ এন্ড থিংস - মার্চ 13, 2026
- আমরা কি ক্ষমতার নতুন সিনেমাটিক রিয়েলিটিতে প্রবেশ করতেছি কিনা? - এপ্রিল 13, 2025
- পোস্ট পলিটিকাল ক্রাইসিস - মার্চ 29, 2025