Main menu

(বই থেকে) বাংলার মধ্যবিত্তের আত্মপ্রকাশ – কামরুদ্দীন আহমদ (এক) Featured

[কামরুদ্দীন আহমদ (৮ সেপ্টেম্বর ১৯১২ – ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২) তিন পার্টে উনার অটোবায়োগ্রাফি লেখছেন – ‘বাংলার মধ্যবিত্তের আত্মপ্রকাশ’ (১ম ও ২য় খন্ড) এবং ‘বাংলার এক মধ্যবিত্তের আত্মকাহিনী… আইডিওলজিকালি উনি ‘বাঙালি জাতিয়তাবাদের’ লোক ছিলেন এবং অই জায়গা থিকাই ঘটনাগুলারে দেখছেন, এবং নানান সময়ে নানান হিসি্ট্রকাল ফিগার ও ইভেন্ট নিয়া কমেন্ট করছেন, যেইগুলারে হিসি্ট্রকাল ট্রুথ হিসাবে কন্সিডার না কইরা উনার নিজস্ব পারসপেক্টিভ হিসাবে রিড করতে পারাটাই বেটার…

নিচের অংশগুলা উনার বাংলার মধ্যবিত্তের আত্মপ্রকাশ (১ম খন্ড) বইয়ের আশ্বিন, ১৩৮২ এডিশন থিকা নেয়া হইছে…]

 

আবুল হুসেন

আবুল হুসেন

খাজা সাহেবরাই ঢাকার মুসলমানদের নেতৃত্ব করতেন। বুদ্ধি বা বিদ্যার জন্য নয় – বৃটিশরাজ তাদের সুনজরে দেখতেন বলে। খাজা সাহেবদের মস্ত বড় জমিদারী ছিল কিন্তু ঢাকার রইস বাসিন্দাদের জন্য শিক্ষা-দীক্ষার কোন ব্যবস্থাই তারা করেননি। এর কারণ জানা গেল যখন ১৯২১-২২ সনে আবুল হুসেন এম.এ., এল.এল. খাজা আহসানউল্লাহকে লিখিত তাঁর পিতা নবাব আবদুল গনি সাহেবের একখানা পত্র তার খবরের কাগজে প্রকাশ করেন। এ পত্রখানা তার হাতে পড়ে যখন ঢাকার আবদুল গনি চৌধুরী বঙ্গীয় পরিষদে ওয়াকফ্ আইনের উপর একটি বিল উপস্থিত করার জন্য আবুল হুসেন সাহেবের সাহায্য চান। আবুল হুসেন সাহেব নওয়াব ষ্টেটের ওয়াকফ্ফ জমিদারীগুলোর কাগজপত্র পরীক্ষা করছিলেন, নবাব সাহেব তার পুত্রকে লিখেছিলেন যে, তিনি যেন মনে রাখেন যে ঢাকার কুট্টিরা তাদের প্রজা নয় – অথচ তাদের প্রজার মত ব্যবহার করতে হবে – খানদানের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য। এ সব লোক যদি লেখাপড়া শিখে বাস্তব অবস্থা জানতে পারে তবে খানদানের নেতৃত্বের পরিকল্পনা ছাড়তে হবে। তাদের অন্যভাবে টাকা-পয়সা দিয়ে সময় সময় সাহায্য করতে-কিন্তু স্কুলের ব্যবস্থা না করতে। ঐ চিঠি প্রকাশ হবার পর আবুল হুসেন সাহেবের প্রতি নবাবেরা কেবল বিরূপই হননি তাকে বিপদে ফেলার চেষ্টাও করেছেন। কেবলমাত্র শহরের বাইরে থেকে আসা ছাত্রদের জন্য অনেকটা বেঁচে গেছেন। 

(পেইজ ৩৪) 

 

সুফিয়া কামাল

আমার আজ যার কথা বেশী মনে পড়ছে তিনি হচ্ছেন শায়েস্তাবাদের নবাবজাদা সৈয়দ মোহাম্মদ হুসেন সাহেব। তিনি ছিলেন এক অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ। তিনি যখনই বিকেলে সান্ধ্য ভ্রমণে (Evening walk) বেরুতেন তখন তার পরনে থাকত খাকী হাফ-প্যান্ট, সাদা হাফ-সার্ট, মাথায় সোলার হ্যাট, হাতে বেড়াবার লাঠি, সঙ্গে একটি বিলেতি কুকুর। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ডিগ্রী তার ছিল না – কিন্তু সে যুগে এমন কোন ইংরেজী সাহিত্যের বই ছিল না যা তিনি পড়েননি, অবশ্যই ওল্ড-ইংলিশ থেকে চসার-ল্যাংল্যান্ড পর্যন্ত ইংরেজী সাহিত্যের যুগটাকে বাদ দিয়ে। প্রত্যেক বইয়েরই নানা ধরনের সংস্করণ তার পাঠাগারে (Library) পাওয়া যেত – বিশেষ করে মরক্কো লেদারের ‘কভার” পাতলা (thin) ইংরেজী কাগজের সংস্করণ তিনি বেশী পছন্দ করতেন। বিকেল বেলা নদীর তীরে বেড়ানো ছাড়া প্রায় সমস্ত দিনই বইয়ের মধ্যে ডুবে থাকতেন। ডিকেন্স ও থেকারের অনেক সুন্দর মরক্কো বাইন্ডিং বই তিনি আমাকে পড়তে দিয়েছিলেন-সঙ্গে কেমব্রিজ হিস্টরী অব ইংলিস লিটারেচার। শেকস্পিয়ারের পকেট এডিশন আজো অনেকগুলি আমার কাছে আছে।… 

নবাবজাদা সাহেবের নিজের সংসার ছিল না, তাই তার ভাই সৈয়দ নেহাল হুসেনকে বিয়ে দিয়ে সংসার সৃষ্টি করলেন – আমার যতদূর মনে পড়ে নেহাল হুসেন তখন আইন পড়ছিল – তার স্ত্রী হয়ে এলেন সুন্দরী, শিক্ষিতা সুফিয়া বেগম – যিনি প্রথম জীবনে কেবল লাজুক বন্ধু, পরে সুফিয়া নেহাল হুসেন হলেন কবি।

সুফিয়া কামাল তার স্বামী কামালউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে (১৯৩৯)

 

নেহাল হুসেন অত্যন্ত অল্প বয়সে পরলোকগমন করেন – যতদূর মনে পড়ে তাকে যক্ষা রোগে ধরেছিল – আর সেই যুগে এ রোগের কোন চিকিৎসা ছিল না। কবি সুফিয়া নেহাল হুসেন এর বেশ কিছুকাল পরে আবার বিবাহ করেন – এখন তিনি সুফিয়া কামাল নামে প্রচুর খ্যাতি অর্জন করেছেন। নেহাল হুসেনের মৃত্যুর পর আমরা ঢাকায় চলে আসি – বহুকাল সে বাড়ীর খোঁজ-খবর আর নেইনি। 

১৯৬২ সনে যখন আমার সঙ্গে বেগম সুফিয়া কামালের আবার দেখা তখন তিনি সেই ছোট “নতুন বউ”টি নন – প্রথিতযশা কবি, দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ। পুরাতন দিনের কথা তার আর মনে নেই। 

(পেইজ ৫২-৫৪)

 

“মক্কা ইউনিভার্সিটি”

মুসলমান অধ্যাপকের সংখ্যা ছিল নগণ্য বোধহয় শতকরা দশজন তাও আরবী, পার্সী, ইসলামিক ষ্টাডিজ এদের নিয়ে। আরবীর হেড অব দি ডিপার্টমেন্ট ছিলেন ডক্টর ফুইক – জাতিতে জার্মান। এতদসত্তেও কলকাতার কাগজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে “মক্কা ইউনিভার্সিটি” বলা হ’ত। আমাদের শিক্ষকরা আমার জানামতে আমাদের ছাত্রদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ করতেন না। তবে ফাঁক একটা ছিল। হিন্দুদের নিকট মুসলমানরা ছিল অনেকটা অস্পৃশ্য, অদ্ভুত, তাই হিন্দুদের মত মুসলমান ছেলেরা প্রফেসরদের বাড়ীতে বড় একটা যেত না যেমন যেত হিন্দু ছেলেরা। অনেক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষকরাও মুসলমান ছেলেরা খুব কাছাকাছি দাঁড়ালে ঘরে প্রবেশ করার পূর্বে কাপড় ছেড়ে স্নান করে ঘরের ভিতর ঢুকতেন। এর ফলে হিন্দু শিক্ষক ও মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে একটা দূরত্ব অনুভূত হত।

(পেইজ ৬৯ – ৭০)

 

নবাব সলিমউল্লাহ

নবাব সলিমউল্লাহ

ঢাকার মধ্যবিত্ত মুসলমানদের মধ্যে তখনো রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটেনি। যদিও কিছু কিছু মুসলমান ছেলে সন্ত্রাসবাদী দলে অথবা কম্যুনিস্ট পার্টিতে যোগ দিয়েছিল। বাকি রাজনীতি আইসান মঞ্জিলের চৌহদ্দির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ওখান থেকেই পরিষদ সদস্য, জেলা বোর্ড সদস্য, মিউনিসিপ্যালিটি নির্বাচন প্রার্থী ঠিক করা হত। এক কথায় সিপাহী বিদ্রোহ দমনে সাহায্য করার জন্য নবাব উপাধিতে ভূষিত নবাব আবদুল গনি সাহেব এবং তার পুত্র নবাব খাজা আহসানউল্লাহ বৃটিশকে সাহায্য করে যাচ্ছিল। 

লর্ড কার্জন যখন খাজা আহসানউল্লাহর পুত্র নবাব সলিমুল্লাহকে বঙ্গ-ভঙ্গ সমর্থন করতে বলেন তখন তিনি রাজী হলেন এই শর্তে যে তার চৌদ্দ লক্ষ টাকা ঋণ বৃটিশ সরকার পরিশোধ করবে। সেই থেকে বৃটিশ রাজের অনুগ্রহে বাংলার মুসলমান সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব আহসান মঞ্জিলের চার দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রইল বহুকাল। 

১৯১১ সনে বঙ্গ-ভঙ্গের প্রথম প্রস্তাব রহিত করে যখন বাংলাকে ভাষা-ভিত্তিক করা হল-যার ফলে ঢাকা আর রাজধানী থাকল না। তখন আহসান মঞ্জিলের নেতৃত্বে প্রথম ফাটল ধরল। স্যার সলিমুল্লাহ অভিমান করে রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ভাঙ্গা হৃদয় নিয়ে ১৯১৫ সনে মৃত্যুমুখে পতিত হন। বৃটিশ সরকারের অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি তখন আর রাজনীতিতে ফিরলেন না-তখন বৃটিশরাজের পক্ষে নবাবদের বাদ দিয়ে কন্যাপক্ষের সন্তানদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে মনস্থ করলেন।

(পেইজ ৭৩-৭৪)

স্যার সলিমুল্লাহ এতিমখানা করেছিলেন বলিয়াদীর সিদ্দীকি পরিবারের খান সাহেব ফরিদউদ্দীন আহমদ সিদ্দীকি ১৯২৩ সনে-নবাব সলিমুল্লাহর মৃত্যুর আট বছর পরে। এর মধ্যে খানদানের কোন আর্থিক দান ছিল না। ফরিদউদ্দীন সাহেব কমিশনার অফিসে চাকুরী নিয়েছিলেন-পরে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে নিজেকে সমাজ সেবায় উৎসর্গ করেন-স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম অরফানেজ তার একক প্রচেষ্টার ফল। তবে নবাবদের নাম ব্যবহার করতেন চাঁদা ভারতের অন্যান্য প্রদেশ থেকে তোলার সুবিধার জন্যে খানবাহাদুর কাজেমুদ্দীন সিদ্দিকি সাহেব ফরিদউদ্দীন সাহেবকে “ফরিদ মাস্কান” বলে একটা বাড়ী ঢাকায় মৌলভিবাজার এলাকায় এবং বোরহানউদ্দীন সিদ্দিকী সাহেবকে মাহুতটুলীতে এক নম্বর কাজেমুদ্দীন সিদ্দীকি লেনের বাড়ীটি জমিদারী অংশবাবদ দিয়েছিলেন। বোরহানউদ্দীন সিন্দীকি সাহেব সাবরেজিষ্ট্রার ছিলেন। এমনি ঘটনা আমাদের সমাজে বিরল ছিল না। মন্ত্রী ফজলুর রহমান সাহেব ও তার ভ্রাতা মুজিবুর রহমান সাহেবদ্ধয় তাদের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার নিকট হতে একই ব্যবহার পেয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার উদঘাটন হয়েছিল ১৯২১ সনে আর স্যার সলিমুল্লাহ হল তৈরী হয়েছিল ১৯৩১ সনে-স্যার সলিমুল্লাহর মৃত্যুর ষোল বছর পরে। মিটফোর্ড হাসপাতালের আহসানুল্লাহ্ ওয়ার্ড তৈরীতে “খানদানের” কোন দান ছিল না।

(পেইজ ৭৯)

 

খাজা শাহাবুদ্দীন

খাজা শাহাবুদ্দীন

শহর বানুর ছেলে নাজিমুদ্দীন ও শাহাবুদ্দীনের নেতৃত্বের দুয়ার খুলে গেল। স্যার সলিমুল্লাহর বৈবাহিক নবাব ইউসুফজানের মৃত্যুর পর খাজা নাজিমুদ্দীন ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যান হলেন। স্যার – সলি-মূল্লাহর ছেলে খাজা হাবিবুল্লাহ তখন জীবনকে সর্বতোভাবে উপভোগ করতে ব্যস্ত। ঐ সুযোগে খাজা শাহাবুদ্দীন তার সেক্রেটারী হয়ে নবাবের কাজগুলো যেমন ঢাকার বাইশ পঞ্চায়েতের সর্দারদের পাগড়ী পরানো, পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে আপীল শোনা এবং জেলাবোর্ডের ও লোকাল বোর্ডের রাজনীতি দেখাশোনা প্রভৃতি তিনিই করতে লাগলেন।

কি করে যে মুন্সি খাজা শাহাবুদ্দীন রাজনীতিতে প্রবেশ করলেন তাও এক উপন্যাস। নবাব আবদুল গনি ও খাজা আহসানুল্লাহ যে হীরা-জহরৎ, মনি-মুক্তা সংগ্রহ করেছিলেন এবং যে বাক্সটি নবাব খাজা আহসানুল্লাহ কখনো কাছ ছাড়া করেননি। কারণ তিনি বলতেন যে, নবাবের জমিদারীর চেয়ে বেশী মূল্যবান তার ঐ বাক্সটি সেই বাক্সটি স্বাভাবিকভাবেই তার মৃত্যুর পর নতুন নবাব খাজা আতিকুল্লাহর হাতে আসে। নবাব সলিমুল্লাহ তখন ময়মনসিংহের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। চাকুরীতে ইস্তফা দিয়ে যখন তিনি ঢাকা এসে জেষ্ঠ্য ভ্রাতা হিসেবে নবাবের গদী দখল করলেন তখন তিনি পেলেন নবাবের জমিদারী আর খাজা আতিকুল্লাহর হস্তগত হয়ে রইল সেই অমূল্য বাক্সটি। এরপর থেকে খাজা আতিকুল্লাহ কোকেনভক্ত হয়ে উঠলেন একদিন সুযোগ বুঝে খাজা আতিকুল্লাহর কন্যা ফরহাদ বানু ঐ বাক্স সরিয়ে ফেলে স্বামী খাজা শাহাবুদ্দীনকে নিয়ে বিলেত চলে গেল। শাহাবুদ্দীনের এক ভাই খাজা সালাহউদ্দীনের কাছে। তারপর কয়েক বছর পরে যখন শাহাবুদ্দীন দেশে ফিরে এলেন তখন মৌলভী শাহাবুদ্দীন পুরোপুরি সুট্-প্যান্ট পরা দাড়ি কামানো পুরোদস্তুর সাহেব। 

ফিরে এসেই নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ’র সেক্রেটারীর পদে অধিষ্ঠিত হলেন। তার কাজ হ’ল নবাব খাজা হাবি-বুল্লাহকে পাপের প্রলোভনে তুষ্ট ক’রে ঢাকা শহর ও ঢাকা জেলার নেতৃত্বে সমাসীন হওয়া-নিজেকে যতটা সম্ভব অন্তরালে রেখে। আমিনা বেগমের ছেলেদের বিশেষ করে সৈয়দ আবদুল হাফেজ ও আবদুস সলিমকে টেনে আনলেন রাজনীতিতে কারণ তাদের পিতা সৈয়দ আজিজুল্লাহ্ ছিলেন মানিকগঞ্জের শরীফ ঘরের ছেলে যদিও সে এত বোকা ছিল যে তাকে নবাব বাড়ীর লোকেরা ঘরে ঢুকতে দিত না। তার মুখ থেকে সদাই লালা পড়ত। 

কিন্তু খাজা নাজিমুদ্দীন যখন মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যানগিরি ছেড়ে শিক্ষামন্ত্রী হয়ে কলকাতা চলে গেলেন এবং বৃটিশ ও অবাঙ্গালী ব্যবসায়ী মহলের প্রচেষ্টায় একজিকিউটিভ কাউন্সিলর হলেন তখন শাহাবুদ্দীন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে ঢাকার উকিল ও মোক্তারদের মধ্যে কাউকে কাউকে বেছে নিলেন আহসান মঞ্জিলসহ মুসলিম লীগের মধ্যে। আর তার জন্য প্রয়োজন ছিল সৈয়দ আবদুল হাফিজের সাহায্য।

খাজা শাহাবুদ্দীনের রাজনীতি ছিল তার ক্ষুরধার বুদ্ধির উপর প্রতিষ্ঠিত, ব্যক্তিত্বের উপর নয় বা কেবলমাত্র বৃটিশের সাহায্যের উপর নয় যদিও খেতাব পেয়েছিলেন বৃটিশ রাজের নিকট থেকে, অথবা নবাবীর উপরেও নয়। তাই মধ্যবিত্তের উপর তাকে ভরসা করতে হল। মধ্যবিত্তের মধ্যে যারা আহসান মঞ্জিলের রাজনীতিতে স্থান পেলেন তাদের বিরুদ্ধে একটা মধ্যবিত্ত দল গড়ে উঠল। খাজা আহসানউল্লাহর ও নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ধারণা ছিল যে মেয়েদের অশিক্ষিত ও বোকা লোকের সঙ্গে বিয়ে দিলে তারা জমিদারীর ভাগ চাইবে না এবং ঘরজামাই হয়ে দুটো খেয়ে-পরে খুশী থাকবে। কিন্তু কালের চক্রে খাজা হাবিবুল্লাহকে পিছে ঠেলে ফেলে সেই বোকাদের ছেলেরাই অর্থাৎ শহরবানু ও আমিনা বিবির পুত্ররা রাজনৈতিক আঙ্গিনায় নেতা হয়ে বসলেন। অর্থাৎ নাজিমুদ্দীনকে বাংলার নেতৃত্বে সমাসীন রেখে খাজা শাহাবুদ্দীন ঢাকা শহর ও ঢাকা জেলাকে করতলে রাখার ব্যবস্থা করলেন। 

নাজিমুদ্দীন, শাহাবুদ্দীনের ব্যক্তিত্ব বৃদ্ধি করার জন্য তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার এবং তিনি হজে গেলে গভর্নরকে বলে খাজা শাহাবুদ্দীনকে তার হলে একজিকিউটিভকাউন্সিলর করে গেলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর পদেও তিনি কিছুদিন কাজ করলেন অর্থাৎ প্রবেশিকা পরীক্ষা পাশ না করেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হলেন। ক্ষুরধার বুদ্ধি প্রয়োগ করে বিরোধী দলের লোকের উপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করে মধ্যবিত্তদের মনে ভয় সৃষ্টি করেছিলেন খুবই তার উপর এখন যোগ হ’ল ব্যক্তিত্ব। তার বিচক্ষণতা ক্রমাগত প্রকাশ পেতে লাগল। 

(পেইজ ৭৬-৭৮) 

সে যুগে ঈদের দিনে বিকেল বেলা অভিজাত মুসলমান নাগরিকরা “আহসান মঞ্জিলে” মিলিত হ’ত। বাইশ পঞ্চায়েতের সর্দারদের দাওয়াত করা হ’ত সে সুধি মজলিশে। সাধারণ মুসলমান অর্থাৎ যাদের কুটি বলা এ ব্যবস্থা বহুকাল প্রচলিত হ’ত তাদের সেখানে কোন স্থান ছিল না। ছিল। খাজা শাহাবুদ্দীন জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, মুসলিম লীগের স্থায়ী সভাপতি এমনকি খাজা নাজিমুদ্দীন যখন হজে গিয়েছিলেন গভর্নর তখন শাহাবুদ্দীনকেই তার স্থলে একজিকিউটিভ কাউন্সিলর নিযুক্ত করেন। মিলাদ মাহফিলের মুন্সি শাহাবুদ্দীন নিজের বুদ্ধিবলে নেতৃত্বে সমাসীন হলেন। নেতৃত্ব সম্বন্ধে যখন তিনি নিঃসন্দেহ হলেন তখন তার মনের অহংকার দেখা দিল যদিও বাইরের ভদ্রতা তিনি তার শত্রুর সঙ্গেও বজায় রেখেছেন চিরকাল। ১৯৩৪ সনে ঈদের মিলন উপলক্ষে যখন সকল অভিজাত মুসলমান নাগরিকরা আহসান মঞ্জিলে সমবেত হয়েছেন তখন দেখা গেল যে খাজা সাহেব ও তাদের আত্মীয়দের জন্য খাবারের পর গোল্ড ফোক সিগারেট আর অতিথিদের জন্য ব্যবস্থা হয়েছে পাসিংশো ও ট্যটলার সিগারেট-অর্থাৎ তারা খাবে বেশী দামী সিগারেট আর অন্যেরা কম দামের সিগারেট। নিমন্ত্রিত আধা সামন্তবাদী বুর্জোয়া মুসলমান ভদ্রলোকেরা এটাকে চরম অপমান বলে মনে করে সেখান থেকে চলে এলেন এবং ঐদিনই আহসান মঞ্জিলে ঐ ধরনের ঈদের মিলন শেষ হ’ল। এর পরের বছর থেকে স্থির হ’ল যে প্রথম দিনে পুবের মুসলমানরা পশ্চিমের মুসলমানদের বাড়ী যাবে তার পরদিন পশ্চিমের মুসলমানরা পুবের মুসলমানদের বাড়ী যাবে। এর কারণ খাজা সাহেবারা নিজেদের স্বার্থে কোন টাউন হল হতে দেয় নি। এখান থেকেই শুরু হ’ল শাহাবুদ্দীনের বিরুদ্ধে মধ্যবিত্ত মুসলমানদের মতদ্বৈধতা।

(পেইজ ৭৯-৮০)

 

স্যার এ.এফ. রহমান

স্যার এ.এফ. রহমান

আমরা যখন ছাত্র তখন ল্যাংলী সাহেব আমাদের ভাইস-চ্যান্সেলর-আমরা যখন এম. এ. পড়ছিলাম তখন স্যার এ. এফ. রহমান তার হলে ভাইস-চ্যান্সেলর হয়েছিলেন। স্যার এ. এফ. রহমান ছিলেন ইতিহাসের ছাত্র-ইংরেজী বলতেন অক্সফোর্ড একসেন্টে। ঘুম থেকে উঠেই বাথরুমে ঢুকতেন এবং স্নান করে সাহেবি সুট পরে ব্রেকফাষ্ট করতেন, তার মত মার্জিত রুচি-সম্পন্ন ভাল মানুষ আমার জীবনে খুব কমই চোখে পড়েছে। ছাত্রদের ভাল-বাসতেন পুত্রের মত তাছাড়া ছাত্রদের আর্থিক সাহায্যও করতেন নানাভাবে। আমরা অন্যায় করলে অনেক সময় জরিমানা করতেন আমাদের প্রভোষ্ট-বেশীর ভাগ জরিমানা তিনিই দিয়ে দিতেন। কোন ছাত্র বিপদে পড়ে তার কাছে গেলে বিমুখ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে বলে আমার জানা নেই। জাকির হুসেন (পরবর্তীকালে আই. জি. পুলিশ, পূর্ব-বাংলার গভর্ণর, কেন্দ্রীয় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পরে আয়ুব খানের মন্ত্রীসভার সদস্য) সাব-রেজিষ্ট্রার চাকুরীর জন্য দরখাস্ত করেন এবং স্যার এ. এফ. রহমানের নিকট থেকে “রিকমেন্ডেশন সার্টিফিকেট” সেই দরখাস্তের সঙ্গে জুড়ে দেন। কিন্তু তবু তার চাকুরী না হওয়ায় ভাইস-চ্যান্সেলর ক্ষেপে যান এবং এ প্রসঙ্গ দার্জিলিং-এ গভর্ণর গ্রীষ্মকালে এলে তার নিকট উত্থাপন করেন। গভর্ণর ইনন্সেক্টর অব রেজিষ্ট্রেশনের নিকট কারণ জানতে চান। আই. জি. আর. গভর্ণরকে জানান যে জাকির হুসেনের দরখাস্তে তার নাম ও ঠিকানা ছিল না তাই তাকে ডাকা সম্ভব হয়নি। গভর্ণর এই উত্তর সন্তোষজনক মনে করেননি এবং কেন এ. এফ. রহমানকে সেটা জানানো হয়নি তার কারণ জানতে চান। চাকুরী যাবার উপক্রম দেখে আই. জি. আর. স্যার এ. এফ. রহ-মানকে ধরেন ফলে তিনিই আবার গভর্ণরকে বলে তার চাকুরী রক্ষা করেন এবং জাকির হুসেনকে এসিস্ট্যান্ট পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট নিযুক্ত করে দেন। স্যার এ. এফ. রহমান যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরী ছেড়ে ভারতীয় পাবলিক সার্ভিস কমিশনে যোগ দেন তখন অনেক হিন্দু, মুসলমান ছাত্ররাই তার জন্য চোখের জল ফেলেছিল। 

(পেইজ ৮৪-৮৫)

 

১৯৩৭ সালের ইলেকশন

সো‍র্স: উইকিপিডিয়া

 

১৯৩৭ সনে মুসলিম লীগ মন্ত্রীসভা হবার পূর্বে মুসলমান ছেলেদের পক্ষে চাকুরী পাওয়া ছিল দুঃসাধ্য ব্যাপার। সুতরাং ১৯৩৭ সনের প্রথম দিকে সাধারণ নির্বাচনের সাফল্যের উপর আমাদের মত মধ্যবিত্ত মুসলিম সম্প্রদায়ের মুক্তি এ ধারণা থেকে মুসলিম লীগে যোগ দিই এবং নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়ি।

কিছুদিন আগেই বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছি সুতরাং ছাত্রদের সঙ্গে বরিশাল রওয়ানা হলাম। এ. কে. ফজলুল হক সাহেব সব মুসলমান নেতাদের সঙ্গে মিশে জিন্নাহ সাহেবের নেতৃত্বে এক পার্টি হিসেবে প্রার্থী মনোনয়ন করবেন এটা আমরা আশা করেছিলাম কিন্তু ফজলুল হক সাহেব আলোচনার মাঝখানে মাদারীপুরে এক মামলা উপলক্ষে চলে যান এবং সেখান থেকেই বিবৃতি দেন যে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেবেন না – প্রজা পার্টীর মনোনয়ন দেবেন। মুসলিম লীগের নেতারা দুই কারণে বিপদে পড়লেন। প্রথমে ফজলুল হক সাহেব ঘোষণা করলেন যে মুসলিম লীগ নেতা খাজা নাজিমুদ্দীন যেখানে প্রার্থী হবেন তিনিও সেখানে দাঁড়াবেন। সুতরাং নাজিমুদ্দীনের জন্যে এমন একটি আসন চাই যেখানে নবাবদের প্রভাব বিস্তর – অর্থাৎ তাদের জমিদারীর মধ্যে। ঠিক হ’ল তাকে পটুয়াখালী আসন থেকে প্রার্থী মনোনয়ন করা হবে। আর একটি হ’ল ফজলুল হক সাহেব ১৯২৪ সনে মন্ত্রিত্ব ছেড়েছিলেন – হিন্দু কংগ্রেসের চাপে সেই থেকে তিনি বাংলার মুসলমানদের কাছে “আমাদের হক সাহেব” হয়ে রইলেন। উপরন্ত নাজিমুদ্দীন বাংলা জানতেন না – তার উ‍র্দু বক্তৃতা বাংলার জনসাধারণের পক্ষে বোঝা অসম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রদল বরিশালের দশমুনিয়ার আবদুল হাদী তালুকদারের নেতৃত্বে পটুয়াখালী পাঠান হ’ল। পিরোজপুরে আমাদের প্রার্থী ছিলেন একজন রিটায়ার্ড ডেপুটী ম্যাজিস্ট্রেট লেহাজুদ্দীন সাহেব – তার পক্ষে ফজলুল হককে হারান সম্ভব ছিল না – তবু ফজলুল হককে বিব্রত রাখতে পারলে নাজিমুদ্দীনের উপর চাপ কমে যাবে এ ধারণা নিয়ে সেখানেও ছাত্রদের পাঠান হ’ল। এদিকে নবাব বাড়ীর খানদানে অনেকগুলো মনোনয়ন দেয়ায় ফজলুল হকের সুবিধা হ’ল – তিনি ব’লে বেড়াতে লাগলেন এবারকার নির্বাচনে স্থির হবে বাংলার পরিষদে বাঙ্গালী থাকবে না অবাঙ্গালীর রাজত্ব তৈরী হবে। নবাব বাড়ী থেকে যারা মনোনয়ন পেলেন তারা হলেন:-

১। নওয়াব খাজা হাবিবুল্লাহ
২। নওয়াবজাদা খাজা নছরুল্লাহ,
৩। খাজা নাজিমুদ্দীন,
৪। খাজা শাহাবুদ্দীন,
৫। ফরহাত শাহাবুদ্দীন,
৬। সৈয়দ আবদুল হাফিজ,
৭। সৈয়দ আবদুস সলিম,
৮। সৈয়দ সাহেবে আলম,
৯। খাজা নূরুদ্দীন,
১০। খাজা ইসমাইল।

বাংলার মধ্যবিত্ত শিক্ষিত মুসলমানরা দেখতে পেল যে যতদিন খাজা সাহেবদের হাতে নেতৃত্ব থাকবে ততদিন শিক্ষিত মুসলমানদের রাজনীতিতে স্থান হবে না। ফলে একদিকে মুসলিম সংহতি অন্যদিকে একদল অশিক্ষিত খাজার নেতৃত্বে বাংলার মুসলমানের অন্ধকার ভবিষ্যৎ-এ দু’য়ের মানসিক সংঘাতে মুসলমান ভোটাররা কোন কিছু মনস্থির করতে না পেরে আবোল তাবোল ভোটিং হয়ে গেল – ফলে কোন পার্টিই জিতলো না। নাজিমুদ্দীন সাহেব পরাজিত হলেন। প্রবাসী লিখল যে, “বাঙ্গালী ফজলুল হকের নিকট অবাঙ্গালী নাজিমুদ্দীনের পরাজয় স্বাভাবিকই হয়েছে।”

(পেইজ ১০৮-১১০)

 

এম.এ. জিন্নাহ

 

জিন্নাহ সাহেব কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাননি। বড় কারণ ছিল অর্থাভাব। মুসলমান নেতাদের মধ্যে জিন্নাহই সবচেয়ে নীচের স্তরে অর্থাৎ বিত্তহীন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পরিচয় দেবার মত তার কিছুই ছিল না। তার পিতামহ রাস্তার ফেরিওয়ালা, পিতা মুসলমান ধর্মে দীক্ষিত হয়ে কিছু ব্যবসা করেছিলেন জিন্নাহ পুঞ্জাই প্রথম মুসলিম প্রথা অনুসারে তার ছেলের নাম রেখেছিলেন মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ আলীর চেহারা ছিল সুন্দর-রাজপুত্রের মত-সুন্দর মুখই তাকে সৌভা-গ্যের পথে এগিয়ে দিয়েছিল। স্কুলে যখন পড়ছিলেন তখন এক ধনী ব্যব-সায়ী তার কন্যাকে তার কাছে বিয়ে দিয়ে তাকে বিলেতে ব্যারিষ্টার হবার জন্যে পাঠানোর ব্যবস্হা করেছিলেন। জিন্নাহ বিলেতে যাবার কিছুকাল পরেই তার বালিকা স্ত্রীর মৃত্যু হয় কিন্তু তা সত্ত্বেও ব্যারিষ্টার হবার খরচ তার শ্বশুরই বহন করেছিলেন।

বিলেতে গিয়ে জিন্নাহ দেখলেন যে ভারত থেকে যারা তখন বিলেতে যেতেন তারা সবাই অভিজাত সম্প্রদায়ের সন্তান। তাদের গল্পে, কথায়, চলা-ফেরায় আভিজাত্যের ছাপ জিন্নাহ সেখানে বেমানান। জিন্নাহ নিজেকে ভুলতে চাইলেন। প্রথম প্রচেষ্টা চালালেন নিখুঁত সাহেব হবার জন্যে-পা থেকে মাথা পর্যন্ত ময় “মনোকল” পর্যন্ত “অষ্টিন চেম্বারলেন”। নামটিও ইংরেজী করে ফেললেন-মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ হয়ে গেলেন এম. এ. জিন্নাহ। শেষোক্ত পদবীটা পিতার প্রথম নাম। তার জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি এম. এ. জিন্নাই রয়ে গেছেন-মোহাম্মদ আলী নামটা আর উল্লেখ করেন নি এমনকি যখন তিনি ভারতের মুসলমান সম্প্রদায়ের একমাত্র নেতা এবং ইসলামিক রাষ্ট্র পাকিস্তানের স্রষ্টা। অন্যেরা অনেকে শেষের দিকে তাকে কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ লিখলেও তিনি সই করতেন এম. এ. জিন্নাহ। সে যুগে ব্যারিষ্টার হবার জন্যে কোন আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল না সুতরাং অবসর ছিল বিস্তর। সে অবসর তিনি কাটিয়েছেন থিয়েটার দেখে এবং অংশ নিয়ে, বিলিয়ার্ড’ খেলে, বল ডান্সে যোগ দিয়ে, শেকস্পিয়ার পড়ে আর পার্লামেন্টের বিতর্ক’ দেখে। সবকটি তার পরবর্তী জীবনে কাজে লেগেছিল। কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার অভাবকে ঢেকে রেখেছিলেন ইংরেজী বলা-কওয়ার মধ্য দিয়ে। তার জীবন-দর্শন বলে কিছু ছিল না বলেই তিনি ছিলেন “প্র্যাকটিক্যাল” রাজনীতিবিদ। পরিষদের বিতর্কে খোঁচা থাকত যথেষ্ট কিন্তু পান্ডিত্য থাকত না। উদাহরণ যেমন,

“What then does the Government want me to do now? What does Mr. James want me to do? Mr. James has compared me to a film star. Mr. James threatened me with dire consequences when the resolution termina-ting the Ottowa Agreement was passed. Mr. James has said that Japan is ready with its knife, and that Great Britain would be too glad to put an end to the agree-ment. I can only compare him with Marlene Dietrich (laughter). He can only play tragic part, and that is Today what song is a tragedy. I do not follow him. an enormous is he singing? He says that this is The Government are also improvement on Ottowa. beckoning me. Cinderella is to be taken to the ball-room, to have her round with the pruice and then be sent to the kitchen. Greta Garbo is not going to be Cinderella. She is going to be a star artiste (more laughter). You cannot go on like that and ask me to walk into your parlour.

জিন্নাহ সাহেবের অন্তরে সাহিত্য বা সাহিত্যিক সম্বন্ধে কোন কিছু জানবার বাসনা কখনো তেমন জাগ্রত হ’ত না, তার সম্পূর্ণ দৃষ্টি ছিল ভারতীয় রাজনীতির দিকে অথবা ওকালতির দিকে। শেকস্পিয়ার তিনি পড়েছেন কিন্তু সেটা অভিনয় করার প্রয়োজনে-সাহিত্য হিসেবে নয়। তার জীবনের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল অভিনেতা হওয়া কিন্তু কিছুতেই ভাল “পার্ট” না পাওয়াতে তার ধারণা হ’ল যে, যেহেতু সে ভারতীয় তাই তাকে তাচ্ছিল্য করা হচ্ছে এরই প্রতিক্রিয়া হ’ল তার ইংরেজ বিদ্বেষ যার ফলে দাদাভাই নওরোজীর শিষ্যত্ব গ্রহণ। তিনি আন্তর্জাতিকতাবাদে বিশ্বাস করতেন না। শেষের দিকে আর কোর্টে যেতেন না। বিখ্যাত ব্যবসায়ীদের এবং দেশীয় রাজ্যের নরপতি-দের আইনের পরামর্শ দিয়ে বিস্তর টাকা উপার্জন করতেন। বাংলাদেশে এক “টেগোর” ছাড়া আর কোন কবি ছিলেন এটা তার জানা ছিল না ১৯৪৮ সনের মার্চ মাস পর্যন্ত। বাঙ্গালী বলতে তিনি হিন্দুদেরই বুঝতেন, আর কল-কাতার বাইরে গ্রাম বাংলায় মুসলমান বলে যারা পরিচয় দিতেন তাদের সম্বন্ধে ধারণা ছিল যে তারা হিন্দু ধর্মই পালন করতেন মুসলমান নামে। এ ধারণা অবশ্যই স্যার ফিরোজ খান নুনেরও ছিল।

 

(টু বি কন্টিনিউ…)

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →