[ অনুবাদকের নোটঃ
প্রিয় রিডার, ভূমিকা সাধারণত বোরিং হয়। বোরড হওয়ার ভয়ে থাকলে এইটা স্কিপ করে সরাসরি জোকে চলে যান।
জিজেকের চিন্তার সাথে একমত না এমন লোক পাওয়া যাবে প্রচুর। অথচ জিজেকের আলাপ বোরিং এমন দাবী করার লোক খুঁজে পাওয়াই কঠিন। কারণ জিজেক আইডিওলজি, লাকার সাইকোএনালিসিস, হেগেলিয়ান ডায়লেক্টিক্স থেকে শুরু করে যাবতীয় দুর্বোধ্য জিনিস ইলাস্ট্রেইট করে হয় পপ কালচারের অনুসঙ্গ নাহয় জোকের সাহায্যে। ফলে জিজেক কমেডিয়ান না হইলেও চিন্তক হিসাবে তার কথাবার্তা ইন্ট্রেস্টিং। [pullquote][AWD_comments][/pullquote]
এমআইটি প্রেস জিজেকের রচনায় প্রাপ্ত সমস্ত জোক একত্রে ‘জিজেক’স জোকস: ডিড ইউ হিয়ার দি ওয়ান এবাউট হেগেল এন্ড নেগেশন?’ নামে বই প্রকাশ করে। রাজনৈতিক, দার্শনিক দিক ইলাস্ট্রেইট করে এমন জোকের একটা সংকলন। জোকগুলার বেশিরভাগই স্বভাবে ভালগার আর অফেন্সিভ।
এইখানে বইটা থেকে ২০ টা জোক বাছাই করে অনুবাদ করা হইছে। বাছাই করছেন ইমরুল হাসান।
(যদি এই জোকগুলার কোনোটার কারণে অফেন্ডেড হন, অফেন্সিভ ও ভালগার জোক এইখানে আছে, ইমরুল হাসানকে ধরেন! অবশ্য তারেও দোষ পুরাপুরি দেওয়া যায় না। নাটের গুরু জিজেক। আর অফেন্ডেড হওয়ার আগে মনে করায়ে দিতে চাই দুনিয়ার বেশির ভাগ জোকই ভালগার ও ট্যাবুকেদ্রিক। স্পেশালী মজার জোকসকল।)
উনি অনুবাদক খুঁজতেছিলেন। বইটা আমার আগেই পড়া ছিলো। তাছাড়া হিউমার জিনিসটায় আমার আগ্রহের মাত্রাটা অবসেশন পর্যায়ের। অরাজি হওয়ার কিছু নাই।
এই জোকগুলির অনুবাদ বিষয়ে কয়েকটা কথা বলে মুখবন্ধ করি।
হিউমার বা হাসি-তামাশা ব্যাপারটা এতই কালচার ওরিয়েন্টেড ও সাবজেক্টিভ জিনিস যে একদেশে যা ফানি লাগে অন্য দেশে তা বিরক্তিকর লাগা স্বাভাবিক ব্যাপার। এর ফলে সবচেয়ে কঠিন হয় জোক বা যেকোনো হিউমারাস লেখার অনুবাদের কাজ।
ধরেন, ‘অরণ্যে রোদন’ বাগধারাটা কোন বাক্যের মধ্যে ‘অরণ্যে চোদন’ বলে ইশারা করে গেলাম। এইটা হয়তো হালকা হিউমারাস লাগবে অনেকের কাছে। তো, কেউ যদি সেই বাংলা বাক্যটার ইংরেজি করতে চায়, ‘অরণ্যে চোদন’ এক্সপ্রেশনটার ভাষান্তর কঠিন কর্ম হবে। কারণ, বাংলাভাষীদের মতো ইংরেজিভাষীদের ‘অরণ্য রোদন’ কথাটার সাথে পরিচয় নাই, অর্থাৎ ব্যাকগ্রাউন্ড নলেজ নাই। অথচ যেকোনো হিউমারাস বা ফানি এক্সপ্রেশন অডিয়েন্স দ্বারা এক্সেপ্টেড হইতে ব্যাকগ্রাউন্ড নলেজ বা সেই জোকের শেয়ারড এ্যাজাম্পশন সম্পর্কে ধারণা না থাকলে জোকের মজা পাওয়া সম্ভব না।
এইকারণে আনিসুল হক বা কেকা ফেরদৌসীর নুডলস নিয়া জোকগুলা বিদেশীরা শ্রেফ মজাই পাবে না, যত ভালো অনুবাদক তার তর্জমা করুক না কেন। হুমায়ূন আহমেদের নাটক বা উপন্যাসের অনুবাদের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটবে। কাজের লোকের ‘আফা আমি বিবাহ করবো মনস্থ করেছি। ইজাজত দেন’। ধরণের বাক্যের অন্যভাষায় অনুবাদে কমিক ইফেক্ট হারায়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
তবে সব জোকের ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা একরকম না। যেগুলায় ভাষাগত সূক্ষ্মতা, কারিকুরি বেশি, যা পান (pun)-নির্ভর তার অনুবাদ প্রায় অসম্ভব। বাকিগুলা যা মূলত ক্ষুদ্র গল্প, যাদের কাঠামোগত কন্ট্রাডিকশন স্পষ্ট, সেইগুলার চলনসই অনুবাদ সম্ভব এবং অনূদিত জোকে মজা পাওয়াও সম্ভব।
কে এম রাকিব ]
………………………………………………
জিজেকেরই এক ওয়াজে এইরকমের একটা ঘটনা আছিলো যে, উনার যেই ক্রিটিক সে ফ্রাঞ্জ ফাঁনোরে মেনশন কইরা জিজেকের সমালোচনা করছে, তো, জিজেক চেইতা গিয়া কইতেছে, আরে ফাঁনো তো আমার হিরো, তুই ফাঁনোরে নিয়া কথা কওয়ার কেডা! তো, জোকসের ক্ষেত্রেও এইটা হয়, যেই জোক আপনি কইলেন, আপনিই সেইটার মালিক হইতে পারলেন! কিন্তু এইরকম না যে, জোকগুলির কোন মিনিং নাই, কিন্তু মিনিংগুলিরে ইউজ করা যায়, মোল্ড করা যায়, এক একটা কনটেক্সটে এক একরকমভাবে। তো, জিজেক যেই কনটেক্সটে ইউজ করছেন, সেইগুলি মোস্টলি মিসিংই, এইখানে। বরং উল্টাভাবে, উনার জোকস কম্পাইল করলে কোনকিছু স্পষ্ট হয় কিনা উনার টেক্সটের বা টেস্টের সেইটার একটা বিচার হইতে পারে হয়তো। কিন্তু এমনিতে জোকস হিসাবে পড়াটাই মেবি বেটার।
জোকস বাছাই করার সময় তেমন কোন প্রায়োরিটি ছিলো না, সাইজে ছোট হইলে ভালো, এইরকমটাই ভাবছি। রাকিব তার অনুবাদে যেহেতু এডিট করার পারমিশন দিছেন আমি এই সুযোগটা এনাফ নেয়ার ট্রাই করছি। মানে, এই অনুবাদ রাকিবই করছেন, আমি কিছু শব্দের জায়গায় উনারে আরো ফ্রিডম নেয়ার লাইগা ফুঁসলাইছি আর কিছু জায়গায় নিজেই করে দিছি। আর বইয়ে জোকগুলির আলাদা আলাদা কোন হেডলাইন নাই, এই নাম দেয়ার মাতবরিটাও আমি করছি। তো, অনুবাদ অনুবাদ-ই, এইখানে কোন অরজিনিলাটি খুঁজতে যাওয়াটা একটা আজাইরা জিনিস বইলাই মনেহয়, মোস্টলি।
ও, জিজেক বা যে কেউই যে খালি ইন্টারেস্টিং হইতে চান, এইটা একটা একস্ট্রিম মনোটনিই মনেহয় আমার কাছে। বি বোরিং অ্যান্ড রিড সাম জোকস! 🙂
ই.হা.
………………………………………………
মুর্গিটা কি জানে?
এক লোক ভাবতো সে একটা দানার ভিত্রের শাঁস। তো, মানসিক হাসপাতালে নিয়া গেলে ডাক্তার তারে বুঝাইলো যে, সে শস্যদানার শাঁস না, মানুষ। যা-ই হোক, সে ভালো হয়া গেলে (যখন বুঝলো সে শস্যদানার ভিত্রের শাঁস না, একজন মানুষ) তারে হাসপাতাল ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হইলো। কিন্তু বাইর হওয়ার সাথে সাথে ডরে সে কাঁপতে কাঁপতে ফিরা আইলো, দরজার বাইরে একটা মুর্গি খাড়ায়ে ছিলো, তার ভয় অইটা তারে খায়া ফেলবে। ডাক্তার কইলো, ‘দেখেন, আপনি ভালো কইরাই জানেন যে আপনি দানার ভিত্রের কোনো শাঁস না। আপনি তো একজন মানুষ’। লোকটা কইলো, ‘অবশ্যই আমি জানি। কিন্তু মুর্গিটা কি জানে?’
লাল কালি
আগের দিনের পূর্ব জার্মানিতে এই জোকটা চালু ছিলো। এক জার্মান সাইবেরিয়াতে একটা চাকরি পাইছে। সে জানতো তার সব চিঠি সেন্সরের লোকজন দেখবো। সে তার দোস্তরে কইলো, আসো আমরা একটা কোড ঠিক করি, যদি নীল কালিতে লেখি তাইলে সত্যি, আর যদি লাল কালিতে লেখি তাইলে বুঝবি মিথ্যা। ‘ এক মাস পরে তার দোস্ত চিঠি পাইলো, নীল কালিতে লেখা: এইখানে সবকিছু খুবই ভালো, দোকান সবসময় জিনিসপত্রে ভরা থাকে, অনেক খাবার-দাবার আছে, বিশাল বড় এপার্টমেন্ট আর হিটিং-এর ব্যবস্থা আছে, মুভি-থিয়েটারে ওয়েস্টার্ন সিনেমা দেখায়, অনেক সুন্দরী মেয়ে বইসা রইছে প্রেম করার লাইগা, খালি একটাই সমস্যা, লাল কালি কিনতে পাওয়া যায় না।
কথা ঘুরাইয়ো না
পুরানা একটা জোক আছে যেইখানে এক লোক নরমাল টাইমের একটু আগে বাসায় ফিরা দেখে তার ওয়াইফ অন্য এক লোকের সাথে ন্যাংটা হয়া শুইয়া আছে। ওয়াইফ তো পুরাই অবাক। সে হাসবেন্ডরে কইলো, ‘তুমি এতো আগে ফিরা আসছো ক্যান?’
লোকটা ক্ষেইপা গেলো, ‘তুমি আরেক ব্যাটার লগে বিছনায় করতেছোটা কী?’
‘আমি তোমারে আগে জিগাইছি, কথা অন্যদিকে ঘুরানের চেষ্টা কইরো না’।
আই অ্যাম নাথিং
পুরানা একটা ইহুদি জোক আছে, দেরিদার পছন্দের, যেইটায় সিনাগগে খোদার কাছে কয়েকজন ইহুদি নিজেদের তুচ্ছতা প্রকাশ্যে স্বীকার করতেছিলো।
প্রথমে একজন র্যাবাই দাড়ায়ে কইলো, ‘হে খোদা, জানি আমি অধমের অধম। আই এ্যাম নাথিং।’
র্যাবাইয়ের বলা শেষ হইলে একজন পয়সাওয়ালা ব্যবসায়ী দাঁড়ায়ে, বুক চাপড়ায়ে কাইন্দা কাইন্দা কইলো, হে খোদা আমি অপদার্থ, দুনিয়াবি ধনসম্পদের মোহে কাতর, আই এ্যাম নাথিং’।
সবশেষে একজন বেচারা সাধারণ ইহুদি খাড়ায়ে বললো, ‘আই এ্যাম নাথিং’।
তখন ব্যবসায়ীটা র্যাবাইরে ঠোনা মাইরা কইলো: মালটা কে যে বলে সেও নাথিং!
Continue reading →