বিচারপতির স্কাইপি কনভারসেশন (২০১২): পার্ট ১ – ‘গভর্নমেন্ট গেছে পাগল হইয়া, তারা একটা রায় চায়’
[মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক (নাসিম) বিচারের নানাদিক নিয়া আহমদ জিয়াউদ্দিন এবং রায়হান রশিদের সাথে স্কাইপিতে কথা বলেন। ২০১২ সালের আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে বিভিন্ন দিনে মোট ১৭ ঘণ্টার কথা-বলার রেকর্ড থিকা কিছু অংশ দা ইকনোমিস্ট ও আমার দেশ পত্রিকায় ছাপা হয়।
ড. আহমদ জিয়াউদ্দিন হইতেছেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ল’ইয়ার এবং ‘সেন্টার ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড স্টাডিজ ইন বেলজিয়াম’-এর ল’ইয়ার এবং ‘সেন্টার ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড স্টাডিজ ইন বেলজিয়াম’-এর ডিরেক্টর। উনি ব্রাসেলস ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষকতাও করতেন। রায়হান রশিদ যুক্তরাজ্যে থাকেন। বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম প্রায় নিয়মিতই সন্ধ্যার পর স্কাইপিতে আলোচনা করেন তাদের সঙ্গে। ড. আহমদ জিয়াউদ্দিন এবং রায়হান রশিদের সঙ্গে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তাদের স্কাইপি আলোচনা থেকেও এটা স্পষ্ট।
বিচারপতি নিজমুল হক নাসিম প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে স্কাইপি আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করে দা ইকোনমিস্টের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন ২০১২ সালের ৬ই ডিসেম্বর। আমার দেশ পত্রিকায় এই কনভারসেনের অংশ ছাপানো শুরু করে ২০১২ সালের ৯ই ডিসেম্বর; ১১ই ডিসেম্বর বিচারপতি নিজামুল হক পদত্যাগ করেন। ডিসেম্বর ১৩, ২০১২ তারিখে আদালতের আদেশে এই কনভারসেশন ছাপানো নিষিদ্ধ করা হইলেও ২৬শে ডিসেম্বর সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়, কিনতু আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোন মিডিয়া-আউটলেটে এই কনভারসেশন ছাপানো হয় নাই, যেইটা ছিল বাংলাদেশের বিচারবিভাগরে মেনিপুলেট করার সবচে ক্রুশিয়াল একটা এভিডেন্স।
এইরকম একটা ঘটনারে বাকশালি-মিডিয়া নানানভাবে ওভার-লুক করে গেছে এবং এখন ‘ভুলে গেছে’ 🙂 যেইটা বাংলাদেশি নিউজ-মিডিয়ায় একটা ট্যাবু ঘটনা। এমনকি, এই বিচার-কাজ নিয়া ঘটা অন্যায় ও গাফিলতির ঘটনায় কোন ইনভেসটিগেশন, বিচার ও শাস্তির ঘটনাও ঘটে নাই।…
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় ছাপানো সেই ৫০ হাজার শব্দের ডকুমেন্টস থিকা সিলেক্টিভ কিছু অংশ এইখানে রাখতেছি আমরা।]
১৪ অক্টোবর ২০১২
নিজামুল হক নাসিম : হ্যালো…।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : কেমন আছেন, কেমন?
নাসিম : আছি ভালোই, আপনে কেমন আছেন?
জিয়াউদ্দিন : আছি ভালোই, আজকে আমরা তো একটু গণতন্ত্র চর্চা করে এলাম আর কি।
নাসিম : কী চর্চা…?
জিয়াউদ্দিন : গণতন্ত্রের চর্চা আর কি।
নাসিম : ও গণতন্ত্র!
জিয়াউদ্দিন : আজকে আমাদের এই লোকাল, স্থানীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকারের ইয়ে ছিল আরকি।
নাসিম : আচ্ছা…।
জিয়াউদ্দিন : ভোট ছিল।
নাসিম : ভোট ছিল, ভোট?
জিয়াউদ্দিন : হ্যাঁ, ভোট।
নাসিম : বা… বা… বা খুব ভালো।
জিয়াউদ্দিন: কিন্তু এগুলো তো হচ্ছে, পানসা ভোট আসলে।
নাসিম : এ্যা…
জিয়াউদ্দিন : এগুলো পানসা-টানসা টাইপের ভোট আরকি।
নাসিম : তা তো বটে, ভোট হয় বাংলাদেশে। ওইসব ভোটে কোনো আরাম আছে—কেনো আরাম নাই।
জিয়াউদ্দিন : মানুষ যাচ্ছে ভোটিং সেন্টারে যার যার। একটা, দুইটা, তিনটা কইরা মানুষ যাইতেছে, চাইরটা কইরা যাইতেছে, আস্তে কইরা গাড়ি থেকে নাইমা চইলা গেল। আবার আস্তে… কোনো মানুষ নাই, কেউ রিসিভ করতেছে না, কেউ জিন্দাবাদ নাই… কোনো কিছু নাই।
নাসিম : ভালো…।
জিয়াউদ্দিন : এইবারে আরেকটু নতুন জিনিস করেছে আরকি। এর আগের বারে ইলেকট্রোনিক ভোটিংই ছিল, কিন্তু এইবার টাচ্ ইলেকট্রোনিক ভোটিংয়ের আরেকটা, সেফটি মেজার এইবার ইনট্রিডিউস করছে আরকি। তাতে হচ্ছে যে, এটা আরও সিকিউরড হইছে যে, আপনার ভোটটা ওরা আইডেনটিফাই করতে পারবে।
নাসিম : ও জাগায় তো ভোট দেয়া কম্পালসারি, না?
জিয়াউদ্দিন : হ্যাঁ কম্পালসারি দেইখাইতে যাইতে হয়, না হইলে তো মানুষ বোধহয় যাইতও না। এইবার একটু বেশি মনে হচ্ছে আমার কাছে, স্থানীয় নির্বাচনে একটু ইন্টারেস্ট থাকে মানুষের। কারণ এটা এই, এই লোকাল গভর্নমেন্টের তো, এখানে রাস্তাঘাটের প্ল্যানিং-ট্যানিং থেকে শুরু করে সার্ভিস-টার্ভিস সবই তো লোকাল গভর্নমেন্ট প্রভাইড করে। সেই জন্য একটা ইন্টারেস্ট আছে আর কি। বাট এ্যাঁ, এটা হচ্ছে যে, বাসায় বাসায় চিঠি পাঠাচ্ছে যে, চিঠি দিয়ে যাচ্ছে দুই-চারটা কেনডিডেট দেখি, দু-একটা পার্টির কেনডিডেট আসছেও আর কি। মানে চিঠি দিতে আসছে আর কি। সব কেনডিডেটই আসে আর কি। নিজে আইসা বাসায় বাসায় চিঠি দিয়া যায় আর কি। কিন্তু এতটুকুই আর কি, এর বেশি কিছু না। দুই-একজন বইলা গেছে, আমরা কিন্তু তোমার প্রতিবেশী।
নাসিম : হে, এ্যাঁ…।
জিয়াউদ্দিন : তা ঠিক আছে। আপনার আজকের দিন কেমন ছিল? আমি তো দেখলাম কয়েকটা নিউজ আজকে।
নাসিম : ভালোই, আর খবর-টবর কী?
জিয়াউদ্দিন : এ্যাঁ…, খবর তো আমরা কালকে নিজেরা কথা বলছি। সো… একটা চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে এগুলোর। আপনার সাথে কালকে যেটা কথা হইছে। কাল মালুম ভাইর সাথে কথা হয় নাই। কাজেই… আজকে ওই গোলাম আযমেরটা কতদূর আগাইছে?
নাসিম : গোলাম আযম ফার্স্ট হাফ হইছে। সেকেন্ড হাফে আবার সাঈদী ধরছিলাম। আগাচ্ছে আর কি। সাঈদীর তো ওই ডকুমেন্ট জমা হচ্ছে। ১৩ নম্বর সাক্ষী এখনও চলতেছে, চলবে…।
জিয়াউদ্দিন: উনাদের কারো সঙ্গে কালকে কথা হয় নাই অবশ্য। কালকে বোধহয় ছুটির দিন ছিল দেইখ্যা উনারা ব্যস্ত ছিলেন বোধহয়, এইজন্য স্কাইপি আসতে পারে নাই।
নাসিম : আইজকে তো… আচ্ছা দেখা যাক, সাঈদী এবং গোলাম আযম কেসই তো আগাচ্ছি।
জিয়াউদ্দিন: হ্যাঁ, ওই যে দুই নাম্বারের চক্করটা। এটা বুঝার জন্য আলোচনা কালকে রাত্রে হওয়ার কথা ছিল। আমি ধারণা করছিলাম হয়তোবা আজকে হবে। দেখা যাক, আমি মনে করি এইটা যে, দুই-তিনটা স্ট্র্যাটিজি হতে হবে। একটা হচ্ছে যে, একটা অলরেডি মেসেজ দেওয়া হইছে আর কি…। আইনমন্ত্রীকে দেয়া হইছে। মানে দেওয়ার কথা আজকে মেসেজ পৌঁছানোর কথা আছে।
নাসিম : মেসেজ দেলে কি কাজ হইবে…, মেসেজে? Continue reading