পলিটিকেল বাশনার মায়ের নাম ইতিহাশ
দেশে হরেক পলিটিকেল ফ্যাছাদ হাজির আছে, তাতে বহু পক্ষের বহু লজিক হাজির হইতেছে; কিন্তু আমি আন্দাজ করি, আমরা একটা বুনিয়াদি মুশকিলে পড়ছি এখন–ইতিহাশের বয়ানের মুশকিল; এক কথায় আমি এই টপিকটার নাম দিতে চাই, ‘রেশনালাইজিং বাংলাদেশ’।
ইতিহাশের এমন একটা খনে হাজির হইছি আমরা জেইখানে রাশ্টো হিশাবে বাংলাদেশকে রেশনালাইজ করার আওমি/বাওমি বয়ানটা বাতিল হইয়া গেছে, ঐ বয়ানকে দেশের বেশিরভাগ মানুশ এখন ইনডিয়ার ইতিহাশের ছাব-ছেকশন হিশাবে চিনতে শুরু করছে, বহু মিথ আর মিছা কুয়াশা উতরাইয়া শত্ত/টুরুথ উকি দিতেছে ইতিহাশে; ফলে ‘রেশনালাইজিং বাংলাদেশ’ একটা খুব নয়া পোজেক্ট হইয়া উঠছে এখন, একটা খুব বুনিয়াদি পোশ্নের জবাব দিতে পারতে হবে আমাদের, ইতিহাশের এই নয়া জামানায়–কেন বাংলাদেশ?
ইতিহাশের মুশকিলটা আরো খোলাশা করা জায় এইভাবে: ইতিহাশের আওমি/বাওমি/ইনডিয়ান বয়ানে ‘দুই জাতি’ থিয়োরি একটা ফ্যালাছি, জিন্না হইলেন ঐ ইতিহাশে ভিলেন, ঐ বয়ানে পাকিস্তান একটা ইলেজিটিমেট রাশ্টো, দুই পাট ১২০০ কিলো দুর দুর বইলা অ্যাবনর্মাল রাশ্টোও বটে! বাংলাদেশ হইলো শেই ফ্যালাছির কারেকশন, ‘দেশভাগের বেদনা’ উতরাইয়া ‘অখন্ড ভারত’ হইয়া ওঠার রাস্তায় ইতিহাশের কয়েক কদম আগাইয়া জাওয়া। আজকে ‘অখন্ড ভারত’ আইডিয়া খুব বিজেপি-আরএছএছের মিথিতিহাশ মনে হইলেও ঐটা কংগেরেছি/গান্ধির ‘ভারত’ রাশ্টো-ভাবনাই, বিজেপিরা গান্ধির বহু নিন্দা এখন করলেও তারা আদতে গান্ধির ‘ভারত-রাশ্টো’ পোজেক্টটাই আগাইয়া নিতেছে ছেরেফ।
ইতিহাশের এই আওমি/বাওমি/ইনডিয়ান বয়ান জদি আমরা বাতিল কইরা দেই, এই বয়ানটারে আমরা জদি বাংলাদেশে বাকশালি ফেছিবাদের হিস্ট্রিকেল শর্ত হিশাবে দেখতে পাই, টুরুথের বেশুমার ঠেলায় জদি ঐ বয়ান বাতিল কইরা দিতে হয় আমাদের, তাইলে জিন্না হইয়া ওঠেন ইতিহাশের একজন নায়ক, জিনি বিটিশ ইনডিয়ায় মাইনোরিটির ছিকিউরিটি লইয়া চিন্তা করছেন, গান্ধি তারে ‘অখন্ড ভারতে’র পিএম বানাবার লোভ দেখাইলেও জেই জিন্না বেক্তির বাশনারে কালেকটিভের (বিটিশ ইনডিয়ার মাইনোরিটি) শার্থে কোরবানি দিছেন এবং ইতিহাশের দরকারেই, পাকিস্তান হাছিল করতেই ‘দুই জাতি’ থিয়োরি দিয়া পাকিস্তানকে লেজিট রাশ্টো (রেশনালাইজিং পাকিস্তান) হিশাবে এস্টাবলিশ করতে চাইছেন এবং কামিয়াব হইছেন।
এইখানে তাইলে রাশ্টো হিশাবে বাংলাদেশ মস্ত একটা মুছিবতে পইড়া জাইতেছে; পাকিস্তান জদি লেজিট রাশ্টো হয়, জিন্না জদি ইতিহাশের নায়ক হয়, তাইলে বাংলাদেশকে রেশনালাইজ করবো কেমনে আমরা, কেন পাকিস্তানই আমাদের মনজিলে মকছুদ না?!
ইতিহাশে আরো কিছু টুরুথ এমনভাবে হাজির হইছে জে, ঐগুলার দরকারি ফয়ছালা বাদে ‘রেশনালাইজিং বাংলাদেশ’ পোজেক্টের মুশকিল আছান হইতে পারবে না। জেমন:
ক. ১৯৭০ ইলেকশনে জেতার পরেও শেখ মুজিবের হাতে খমতা দেয় নাই ইয়াহিয়া খান, এইটা কি জেনারেল খানের আনজাস্ট কাম, বেইনছাফি? তা জদি পোরমান করা না জায়, তাইলে বাংলাদেশকে রেশনালাইজ করায় মুশকিলে পড়বো আমরা। শাদা চোখে এইটা আলবত বেইনছাফি, কিন্তু ইতিহাশের নয়া টুরুথ হইলো, শেখ মুজিব আগরতলা কন্সপিরেছি করছে, ইনডিয়ার ঘুটি হিশাবে পাকিস্তানের ভিতরে পলিটিকেল মোড়ল হইয়া উঠছে; মুজিব জদি ইনডিয়ার মান্চুরিয়ান কেন্ডিডেট হয়, তবু কি তার হাতে পাকিস্তানের খমতা না দেওয়া বেইনছাফি হিশাবে ভাবতে পারবো আমরা? ঐ ইনডিয়ান কন্সপিরেছিতে জদি ভাশানিও থাকে এবং ইনডিয়ার লগে কনফেডারেশন বানাবার খোয়াব লইয়া ভাশানি জদি ইন্দিরারে চিঠি দেয় এবং শেইটা হাছিল করতেই জদি মুজিবেরে ভাশানি ইলেকশনের ময়দান ছাইড়া দেয়, তবু কি ইয়াহিয়া আনজাস্ট? বাংলাদেশ পক্ষের লজিক কি, কেন ইয়াহিয়া আনজাস্ট, শেইটা দেখাইতে না পারলে খোদ বাংলাদেশই ইতিহাশে রাশ্টো হিশাবে রেশনাল থাকতে মুশকিলে পইড়া জাইতেছে!
এই জিনিশগুলা বোঝাবুঝির বেলায় খোদ ইতিহাশ বোঝার একটা তরিকা বাদ দিতে হবে আমাদের; ইতিহাশ এমন একটা জিনিশ জেইটা কোন একটা মোমেন্টের কয়েকজন এক্টরের বাশনা দিয়া ডিটারমাইন্ড হয় না ছেরেফ; ইতিহাশে বেক্তি জেমন ভেলু অ্যাড করে, তেমনি বেক্তির হইয়া ওঠা, এমনকি কোন একটা মোমেন্টে বেক্তির বাশনা/খায়েশ কি হবে, তাও অনেকখানি বানাইয়া দেয় ইতিহাশ। Continue reading