Main menu

কথা বলার স্মৃতি: ইচক দুয়েন্দে (২০২৪) Featured

[এইটা একটা যৌথ-লেখা হওয়ার কথা ছিল, কিছু অংশ ইচক দুয়েন্দে কন্ট্রিবিউট করতে পারছিলেন, অই জায়গাগুলা ব্লু-মার্ক করা, যে, ফাইনাল… কিনতু যোগাযোগের সমস্যার কারনে কাজ’টা আটকায়া ছিল, এখন যেহেতু তিনি মারা গেছেন, আন-ফিনিশড অবস্থায় লেখাটা পাবলিশ করা হইলো…

যেই জিনিসটা রিডারদেরকে মাথায় রাখার জন্য আমি বলবো, সেইটা হইতেছে, ইচক দুয়েন্দের লেখা এবং কথা-বলা, আমার লেখা ও কথা-বলার চাইতে অনেক দূরবর্তি ঘটনা! আমি আমার মতো কইরা উনার কথাগুলারে বলছি, যার ফলে, উনার ‘সফিটিকেশন’ আমার ‘র-নেস’ দিয়া অনেক বেশি রিপ্লেইসড হয়া গেছে আসলে! কথা, আমার ধারনা, তেমন বদলায় নাই, মানে, কম-বেশি যেমন আমরা বলি, মনে রাখি, অই জিনিসগুলা কাছাকাছি রকমেরই আছে, কিনতু সুর’টা অনেক-বেশি সইরা গেছে… যেইটা ইচক দুয়েন্দে হয়তো সুন্দর-ভাবে syncronized করতে পারতেন! যেই জিনিসটা এইখানে মিসিং!

তো, অই ইনকমপ্লিটনেসের জায়গাটা মাথায় রাইখা পড়লে ভালো, মানে, এই রিকোয়েস্ট আমার থাকলো…

মে, ২০২৬]

নাম নামাংকন নাম ভেদ নিরূপণ জ্ঞান নহে
জ্ঞান নিরঞ্জন বোধ

name naming
to differentiate names
not knowledge
knowledge is pure feeling

টিয়াদুর, অধ্যায় ৪১,
পৃষ্ঠা ৩১৮, ২০২১ সংস্করণ

ভূমিকা

অক্টোবর ২০-২৪, ২০২৪– এই ৫ দিন রাজশাহী শহরে থাকা হইছিল আমার, তখন ইচক দুয়েন্দে’র একটা ইন্টারভিউ নিতে চাই আমি; উনি সাজেস্ট করলেন যে, অডিও থিকা ট্রান্সস্ক্রাইব না কইরা বরং ফ্রিলি কথা-বার্তা বলি আমরা, তারপর যা কিছু আমার মনে থাকে, সেইটা লেখলাম… সামনে যন্ত্র থাকলে বা রেকর্ড হইতেছে– এইরকম একটা কনশাসনেস থাকলে কথা তো কিছু চেইঞ্জ হয় আসলে…

তো, উনার এই সাজেশন একসেপ্টেবল মনে হয় আমার কাছে… আমি এখন একটা ভার্সন লিখতেছি, পরে সেকেন্ড একটা কিস্তি হয়তো লিখতে পারি, আবার

চিন্তায় কি আমাদের কোন অধিকার নাই?

টিয়াদুরে এই কাহিনিটা আছে, একটা চিঁয়ার একবার একটা ঘরে ঢুকে পড়লো, তো, অই ঘরে কয়েকজন জ্ঞানী-মানুশ কথা বলতেছিল, চিঁয়ারটাকে দেখে তাদের কথা বন্ধ হয়ে গেল, সবাই চুপ করে গেলো, তার দিকে তাকায়া থাকলো

চিঁয়ারটা বললো, আপনারা চুপ করে আছেন কেন, আপনারা কথা বলুন, আমি শুনি, কিছু জ্ঞান আহরন করি; কিনতু মানুশেরা সবাই চুপ করেই থাকলো, আর চোখ বড় বড় করে তাকে দেখতে লাগলো

চিঁয়ার’টা তখন মন-খারাপ করে চলে যাইতে থাকলো, বললো, জ্ঞানে কি আমাদের কোন অধিকার নেই!

তারপর চিঁয়ার’টা চলে যাওয়ার পরে মানুশেরা আবার তাদের কথা-বলা শুরু করলো…

ছবিঃ আসমা ঊষা


চোখ

এস এম সুলতানের কাছে একবার আমার ফ্রেন্ড এনামুল কবির নির্ঝর গেছিল, ও তখন ‘সন্ধানী’-তে ছিল, ‘চক্ষু দান কমর্সূচি’তে মরার পরে উনার চোখ দুইটা দান করার জন্য বলছিল, উনি বলছিলেন, না, এই চোখ দুইটা তো অনেক দামি, আমি দিব না!

(প্রশ্ন ছিল লেখালেখি কবে থিকা শুরু করলেন?)

লেখালেখি তো একটা ফিক্সড টাইমের ঘটনা না, লেখতে লেখতেই হয় একভাবে

ইন্টারভিউ

আমার ইন্টারভিউ আসলে নিতে চাইছিল এনামুল করিম নির্ঝর; ও মাঝে-মধ্যে বলে, কোন এক শুক্রবারে চলে আসবো রাজশাহীতে, সারাদিন বসে কথা বলবো

ওর সাথে তো আমার অনেকদিনের বন্ধুত্ব, অনেক ফ্রিলি কথা বলতে পারি আমরা, তো, ও এই কথা বললে আমার ভালো-লাগে, কারন জানি যে, অইটা কোনদিনও ঘটবে না (হাহাহা)

 

রমানাথ

ইমরুল: আপনি কি কখনো কলকাতায় থাকছেন? রমানাথ গল্পের প্লটটা তো কলকাতার…

ইচক: অইটা আসলে প্রশান্তদার কাছ থেকে পাওয়া গল্প। গল্পটা বাস্তবভাবে প্রশান্তদার বইয়ে আছে, উনি আমার প্রথম সাহিত্য গুরু; উনার একটা বই আছে ‘এক বাঙালি মায়ের গল্প’, অই বইতে কাহিনিটা আরো বিস্তারিত বলা আছে।

বইটা যখন উনি ছাপাতে চাইলেন, তখন আমি এডিট করে দিয়েছিলাম; তো, এডিটেড কপি’টা অনেক জনপ্রিয় হয়েছিল ভালো-বই হিসাবে, কিন্তু সেইটা মনে হয় উনি খুব বেশি পছন্দ করেন নাই, এডিট করাটা…

 

রেলপথে মুক্তিযুদ্ধ

আমি যখন ফ্রি-ল্যান্স পাবলিশিংয়ের কাজ করা শুরু করলাম তখন রেলওয়েতে বড় পদে চাকরি করতেন এরকম একজন ভদ্রলোকের একটা বই ছাপিয়ে দেয়ার কাজটা করে দিই আমি। যিনি আমার কাছে কাজটা নিয়ে এসেছিলেন, অই ভদ্রলোক সম্পর্কে তার খালু হতেন; তো, এডিটিংয়ের পরে বইটা এতো বেশি চেইঞ্জ হয়ে গিয়েছিল যে, উনি খুবই খেপে গিয়েছিলেন, তো, উনি খুব বকা-ঝকা করছিলেন, আমি তো চুপ করে গিয়েছিলাম, ভাবছিলাম, টাকাটা হয়তো পাবো না; কিন্তু উনি টাকাটা দিয়েছিলেন।

 

এডিটিং

ইমরুল: যে কোন বইয়েরই এডিটিং তো জরুরি একটা জিনিস, আমাদের এইখানে তো প্রুফ রিডিং হয়, বানান ঠিক করা হয়, এডিটিং তো হয় না আসলে অইভাবে, অনেক বই পড়তে গেলেই মনে হয়, একটু বেটার এডিট হইলে ভালো একটা বই হইতে পারতো… এডিটিং জিনিসটারে কেমনে দেখেন আপনি?

ইচক: একটা বই আসলে অনেক মানুশের অনেকদিনের কাজ।

আসমা ঊষা: কিন্তু এইরকম লেখককে না জানিয়ে এডিট করাটা কি ঠিক?

ইমরুল: এডিটিং বলতে আমি বুঝি যে, একটা পারসপেক্টিভ থিকা লেখাটারে দেখা, কিছু সাজেশন মেইক করা, যেইটা রাইটার চাইলে কন্সিডার করতে পারেন… এডিটিংটা তো জরুরি, আমি তো মনে করি, একজন রাইটাররে একজন ভালো এডিটর হইতে হয়, তা নাইলে কোন ভালো এডিটর খুঁইজা নিতে হয়…

ইচক: যদি এডিটরের দরকার না থাকে, তাহলে রাইটাররা লিখুক নিজেদের মতো, নিজেদের মতো বই ছাপান উনারা, কেউ তো বাধা দিচ্ছে না!


খোঁয়ারি

২১ বছর বয়সে, ১৯৮২ সালে, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোঁয়ারি গল্পগ্রন্থ আমি প্রকাশ করি, অই বইটা পরে মফিদুল হকের জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী প্রায় পুরোটা বিক্রি করেছিল, ডিস্ট্রিবিউট করেছিল। ১,২৫০ কপি ছাপা হয়েছিল। শেষের দিকে বইটার কিছু পাতা কম ছিল। সেই পৃষ্ঠাগুলি ফটোকপি করে বই বাঁধাই করে দেযা হয়েছিল। সেসবও বিক্রি হয়ে গিয়েছিল।

ইলিয়াসভাই খোঁয়ারি’র জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন। সব বই বিক্রি হওয়ার পরে, একদিন একটা কেরুর রামের বোতল কিনে ইলিয়াস ভাইএর বাসায় গেছিলাম। উনি বললেন, রাম আনলে, এইটা আমার সহ্য হয় না…


আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের গদ্য

তবে দেখেন, লেখার সাথে এক ধরনের শারীরিক যোগাযোগের একটা বিষয় আছে, মাথায় একটা জিনিস আসলো, তারপরে সেটাকে আপনি হাত দিয়ে লেখছেন, এইখানে শরীরবৃত্তীয় একটা বেপার আছে; তো, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম দিকের লেখক যিনি বাংলা মুনিরঅপটিমা টাইপ-রাইটারে লিখতেন; তো, অই টাইপ-রাইটারে লেখাটা তাঁর জন্য একটা প্রবলেমের ঘটনা হয়ে থাকতে পারে…


মুখের কথা, লেখার ভাষা

ইচক: খেয়াল করলে দেখবেন, সব মানুশেরই মুখের কথা আর লেখার ভাষা একই না; যখন মাথায় একটা কিছু আসে, তারপরে সেইটা যখন হাতে লেখা হয়, মাথা থেকে হাতের ভিতর দিয়ে আসে, সেইখানে কিছু জিনিস তো বদলে যায়; কথাটা লেখার সময়ে আরেকটা রূপ ধারণ করে।

ইমরুল: আপনার বেপারে এই ডিফরেন্সের জায়গাটা কিন্তু কমই…


কথক ও লেখক

ইমরুল: আপনি তো সুন্দর করে গল্প বলেন; অনেক লেখক তো অইভাবে কথা বলতে পারেন না, বা অনেকে আছেন খুব ভালো বলতে পারেন, কিন্তু লেখার জায়গাটাতে স্ট্রাগল করেন, দুইটার মধ্যে কি কোন বিরোধ আছে, যে একটা পারলে আরেকটা পারা যায় না? বা একটা কি আরেকটারে সাপ্লিমেন্ট করে নাকি?

ইচক: দুটো জিনিসই খেয়াল করার বিষয়…


সাত ভাই চম্পা

তারুণ্যে আমার সাথে যারা ছিল তারা সবাই ছিল কবি, আমি একা গল্প লিখতাম; আমার কবি-বন্ধু ছিল অসীম কুমার দাস (‘ঝঞ্ঝা ও পুনরুত্থান’), সরকার মাসুদ, মোহাম্মদ কামাল (এখানে অরণ্য ভয়), বিষ্ণু বিশ্বাস (ভোরের মন্দির), এনায়েত কবীর… তো, ওরা সবাই কবিতা লিখতো, একমাত্র আমি লিখতাম গল্প।


পেঁচা

ছোটোকাগজ পেঁচা শুরু করেছিলাম আমরা কয়েকজন: অসীম কুমার দাস, বিষ্ণু বিশ্বাস, এনায়েত কবীর।

পরে আমি যখন প্রকাশনা শুরু করলাম তখন পেঁচা নামটি নেই। পেঁচা থেকে ১৯৯১ খৃষ্টাব্দে হাসান আজিজুল হকের ‘বৃত্তায়ন’, কবির-এর গল্প ‘সখা’, খুরশিদ-উজ-জামানের ‘রেলপথে মুক্তিযুদ্ধ’ এবং জন মিলিংটন সিঙের ‘রাইডার্স টু দ্য সি’ আহমেদ আহসানুজ্জামান সাকলায়েনের অনুবাদে প্রকাশিত হয়েছিল।


কবিতা

স্বভাব-কবি ব্যাপারটা আমার মধ্যে ছিল না, কবিতা, ছন্দ– এই জিনিসগুলি আমি সচেতনভাবে শিখেছি, এখন ছন্দ-ছাড়াও লিখতে পারি, সেটা অক্ষরবৃত্তের কাছাকাছি একটা কিছু…

টিয়াদুরের কবির লড়াইয়ের কবিতাগুলি লেখার পরে ছন্দ ঠিকঠাক করেছি।


বই-পড়া

আজকাল ততো বই আমি পড়ি না। যৌবনে বিপুল পড়েছি। পড়েছি বাংলা ধ্রুপদি উপন্যাস, ছোটগল্প ও কবিতা। অনুবাদে রুশ সাহিত্য, মার্কিন সাহিত্য। অনুবাদে শেকসপিয়র, গ্রিক ট্রাজেডি। পড়েছি দস্যু বাহরাম, দস্যু রাণী, দস্যু মোহন, দস্যু বনহুর, মাসুদ রানা, কুয়াশা সিরিজ। হুমায়ূন আহমেদও পড়েছি অনেক।

 

মার্কেজ ও দস্তয়েভস্কি

মার্কেজের ‘সলিচিউড’এর প্রথম দুইটা অধ্যায় আমি বারবার পড়েছি। অই দুইটা অধ্যায় পড়তে পড়তে লেখালেখির বহু সূক্ষ্ম কারিগরি দিক বা কৌশল রপ্ত করেছি।

যৌবনে দস্তয়েভস্কি আমার অনেক পছন্দের ছিলেন। সাম্প্রতিক কালেও তাঁর লেখা পড়েছি।

 

লালঘর

আপনি বোধহয় জানেন, লালঘর সত্য-কাহিনি-নির্ভর লেখা। আমরা কয়েকজন ২০০৬ এর ডিসেম্বর মাসে পদ্মার চরে পিকনিক করতে গিয়েছিলাম। তখন পুলিশ আমাদেরকে ধরে এবং একদিন থানা-হাজতে আটক রাখে।

তো, পরে আমার বন্ধু পায়েল ও এনায়েত কবীর ঘটনাটা শুনে চমৎকৃত হয় ও লিখতে অনুরোধ করে ও অনুপ্রেরণা দেয়। তারপর লালঘর লেখা হয়। রাজশাহী বেড়াতে এসে কবি জুয়েল মাজহার হাতে লেখা ‘লালঘর’ ঢাকা নিয়ে যান ও ব্রাত্য রাইসু’র হাতে তুলে দেন। রাইসু তখন bdnews24.com এর সাহিত্য সম্পাদক। তিনি সেখানে এটি প্রকাশ করেন। পরে বাঙলায়নের সাথে কথা বলে রাইসু লালঘর প্রকাশের বন্দোবস্ত করেন। রাইসু বইটির প্রচ্ছদ আঁকতে চেয়েছিলেন। লালঘরের ভেতরে তাঁর নাম প্রচ্ছদশিল্পী হিসেবে ছাপা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি প্রচ্ছদ আঁকেন নাই। প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন শিবু কুমার শীল। ২০০৭-২০০৮ সালের ঘটনা।

 

We are not Lovers

‘লাভার্স’ লিখেছিলাম যখন রাজশাহীতে অবস্থিত সিন্ডারেলা ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারে বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি কথোপকথন শেখাতাম। সহজ ইংরেজিতে লেখা।

 

আমাদের পূর্ববর্তী সাক্ষাৎ

ইচক: আপনার সাথে আমার আগেও একবার দেখা হয়েছিল।

ইমরুল: আমার ঠিক মনে পড়তেছে না, ২০০৮ সালের দিকে আমি একবার রাজশাহীতে আসছিলাম, তখন সেলিম রেজা নিউটনের বাসায় গেছিলাম। উনি আপনার কথা বলতেছিলেন, যে আপনি শহরে একটা কোচিং সেন্টার চালু করে ইংরেজি শেখান, কিন্তু সিন্ডারেলাতে গেছিলাম কিনা, শিওর না…

ইচক: আমার মনে পড়ছে, আপনি এসেছিলেন নিউটনের সাথে… খুব বেশি কথা হয় নি তখন।

 

ফররুখ আহমদ, শাহেদ আলী, কাজী ইমদাদুল হক

ইচক: কবি ফররুখ আহমেদকে আপনি কিভাবে পেলেন?

ইমরুল: আবদুল মান্নান সৈয়দ থিকা পাইছি, উনি ১৯৭৪-৭৫ সালে ফররুখ আহমেদের শ্রেষ্ঠ কবিতা সম্পাদনা করছিলেন। অইখানে উনারে খেয়াল করছিলাম… আপনি কি শাহেদ আলীর গল্প পড়ছেন? উনার গল্প কিন্তু ভালো…

ইচক: আমি কাজী ইমদাদুল হকের উপন্যাস ‘আবদুল্লাহ’ পড়েছি, সেটা ভালো। তারপরে আবু ইসহাকের সূর্য দীঘল বাড়ি, সেটা নিয়ে তো সিনেমাও হল, বিখ্যাত হল…

 

আপনার সাথে কথা বলাটা আমার বাবা পছন্দ করছেন না

গ্রেট রাইসু, উনি ইমেইল করতেন আমাকে, তো, একদিন উনাকে আমি বলে দিলাম, যে, দেখেন, আপনার সাথে কথা বলাটা আমার বাবা পছন্দ করছেন না

উঠতি-বয়সের মেয়েরা যেইরকম তাদের প্রেমিক’কে বলে, তোমার সাথে কথা বললে আমার মা বকা দিবে, অইরকম আর কি

শহিদুল জহির

শহিদুল জহিরের লেখা আমি পড়ি নাই, তবে উনার পূর্নিমা, যেই রাতে পূর্নিমা ছিল বইটার প্রুফ-রিডিং করেছিলাম আমি, তখন তিনবার পড়তে হয়েছিল, তখন মনে হয়েছিল কাহিনিতে কোন ঘটনা ঘটছে না, ঘটতে পারতেছে না…

তো, সবসময় ঘটনা ঘটতে হবে – এইটা তো জরুরি না, কিনতু অইটা মনে আছে

টিয়াদুর

টিয়াদুর লিখছি আমি বর্ষাকালে, এক বর্ষা থিকা আরেক বর্ষায়; মানে, বৃষ্টি তো এখন এক্সটেন্ডেড একটা ঘটনা, আষাঢ়-শ্রাবনের পরেও থাকে… অইরকম দুইমাসে লেখা, পরে আরেক বর্ষাকালে এডিট করছি

.
টিয়াদুর লিখছি আমি আসলে পরোটা খাইতে খাইতে, আমার একজন গৃহকর্মী ছিলেন – তাতান উনার নাম, খুব ভালো পরোটা বানাতে পারতেন, প্রতিদিন খুব সকালে চলে আসতেন উনি, একদম টাইমলি আসতেন, আজানের আওয়াজ শোনে রওনা দিতেন বাসা থেকে; কখনোই মিস করতেন না, হয়তো দুইমাসে ১ দিন, এইরকম… তো, খুব ভালো পরোটা বানাতেন

.
টিয়াদুরের সেকেন্ড এডিশন’টা ছাপানোর আগ পর্যন্ত কেউ দেখে নাই, প্রথম ভার্সনটা অনেকেই দেখছে

.
টিয়াদুরের লেখা কিছু জিনিস সুব্রত (অগাস্টিন গোমেজ) তার ‘কালকেতু ও ফুল্লরা’তে রেখেছেন, ছেপেছেন, অইগুলা আমি আর টিয়াদুরে রাখি নাই

.
আপনি যে একটা অংশ বাছবিচারে ছেপেছেন, অইটা আমার ভাল্লাগেছে, অই অংশটা যে আপনি চুজ করলেন –

.
টিয়াদুরে রাখা সবচে আগের লাইন’টা ১৯৮৩ সালের লেখা

নৈঃশব্দই শ্রেয়
তুমি হবে মৃত্যুহীন

.
টিয়াদুর লেখার পরে অনেকগুলা অংশ আমি বিভিন্ন ভাবে জোড়া দিয়েছি, বাতিল করেছি, এইভাবে সাজাতে গিয়ে কিছু জিনিস তৈরি হয়েছে

.
টিয়াদুরের প্রতিটা নাম খুব ভেবে-চিন্তে দেয়া; একেকটা নাম ভাবতে ২-৩দিন লেগেছে, অনেক নাম আবার ফ্ল্যাশের মতো চলে এসছে লেখার সময়ে

এখন নাম তো একটা ঘটনা; টিয়াদুরের বলেছি আমি নামের জায়গাটা নিয়ে –

নাম নামাংকন নাম ভেদ নিরূপণ জ্ঞান নহে
জ্ঞান নিরঞ্জন বোধ

নাম জিনিসটা তো অনেক কিছু…

.
টিয়াদুরটা আমি লিখেছি অনেকগুলা বইয়ের একটা সামারি হিসাবে, যে, ফিউচারে অনেক বই তো পড়া হবে না, দুই-একটা বই-ই পড়া হবে, তখন এই বইটাকে বেছে নেয়া হতে পারে যে, এই একটা বই পড়লেই হবে, এইখানে সবকিছুই আছে… তো, এইটা সবকিছু নিয়ে লেখা একটা বই

.
টিয়াদুর’টা ইউপিএল থেকে ছাপানোর কথা ছিল, ওরা ইলাসট্রেশনের জন্য রাজীব দত্তকে দায়িত্ব দিছিল, ওর স্কেচগুলা খুব একটা পছন্দ হয় নাই আমার, ঠিক অইটাও ঘটনা না, ইউপিএল’র বড় বড় লগো বসবে – অই জিনিসটাতে মন আর সায় দিতেছিল না; এমনিতে মাহরুখ আর ফিরোজ ওরা তো খুব পছন্দ করে আমার লেখা, অন্য বইগুলাও ছাপাইতে চাইছিল…

.
টিয়াদুরে অনেক কাহিনি রেখেছি আমি, অনেক দিক থেকে অনেকগুলা ঘটনা ঘটতেছে, অনেকদিক থেকে তারা একটা জায়গায় আসতেছে

.
যদি বেঁচে থাকেন, টিয়াদুর’টা আরো ৪-৫ বার পড়বেন

কমলকুমার মজুমদার

কমলকুমার মজুমদার আমি পরে পড়ে দেখেছি, উনার কাহিনি কিনতু তেমন জটিল নয়, মতিলাল পাদরি নামে যেই গল্প, সেইটা পড়ছিলাম, কাহিনি কিনতু খুবই সহজ সরল

লেখা

আমি দিনের আলো’তেই লিখি; রাত জেগে লেখালেখি কখনো হয়নি

কম্পিউটারে লিখি, প্রতিদিনের তারিখ দিয়ে একটা ওয়ার্ড ফাইল বানাই, সেইখানে লিখি

কখনো বেশি লেখা হলে, একটা তারিখে ২-৩টা ফাইল বানাই

টিয়াদুরের ফার্স্ট ড্রাফট হাতে লিখেছিলাম, শাদা কাগজে ৮০ পেইজের মতো হয়েছিল; তারপরে কম্পিউটারে টাইপ করেছি, এডিটের কাজ পুরোটাই কম্পিউটারে করা

নভেল থেকে রাজন্যবর্গকে, বড়লোকদেরকে বিতাড়িত করা হয়েছে

দেয়াল’টা পড়ছেন তো হুমায়ূন আহমেদের? অইখানে অনেক হিস্ট্রিকাল কারেক্টার আছে, কিনতু শেখ মুজিবুর রহমান নাই, জিয়াউর রহমান নাই, উনাদের ছায়া আছে, আশে-পাশের লোকজন আছেন; তলস্তয়ের ওয়ার এন্ড পিসে অবশ্য নেপোলিয়ন আছেন একটু; কিনতু পুরাণগুলির পরে আধুনিক উপন্যাসে রাজাদেরকে, বড় বড় লিডারদেরকে জায়গা দেয়া হয় নাই আর… সাধারন মধ্যবিত্ত সমাজ বা নিচু-শ্রেনির মানুশের কথা বলা হয়েছে

একজন লেখক’কে প্রতিদিনকার পলিটিকাল জায়গাগুলা নিয়া কি ভোকাল হইতেই হবে?

ইচক: আপনি কি সবসময় পলিটিকাল জায়গাগুলা নিয়ে এইরকম ভোকাল ছিলেন?

ইমরুল: না, ২০২১ সাল থিকা অনেকটা শুরু, যখন মোদি আসলো বাংলাদেশে, স্বাধিনতার ৫০ বছর উপলক্ষে, তখন কয়েকজন মাদরাসার ছাত্রকে মারলো পুলিশ গুলি কইরা… অই ঘটনা’টা আমাকে খুব ট্রিগার করছিল, এর পর থিকা সরাসরি পলিটিকাল কথা-বার্তা বলাটা বাড়ছে আমার

ইচক: কিনতু এইটা কি ঠিক? একজন লেখক’কে কি প্রতিদিনকার পলিটিকাল জায়গাগুলা নিয়া ভোকাল হতেই হবে?

সমন্বয়ক

ইচক: এই জিনিসগুলো কিনতু ছড়াচ্ছে, একটা নিউজে দেখলাম হেডলাইন “৩ জন সমন্বয়ক গ্রেফতার”… পরে দেখা গেলো এরা বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ক!

ইমরুল: এইরকম সেনসেশন ক্রিয়েট করতে চাওয়াটা আসলে মিডিয়ার কারসাজি, এইরকম কি-ওয়ার্ড দিয়া অরা ভিউ-বিজনেস করে; সোশাল-মিডিয়ার অ্যাডের এফিশিয়েন্সি নিয়া কাজ করে, এইরকম একজন বলছিল আমারে যে, সার্টেন কি-ওয়ার্ড ইউজ করলে দেখা যাক, ক্লিক করার চান্স অনেক গুন বাইড়া যায়, তো, সমন্বয় হইতেছে এখনকার সময় এইরকম একটা কি-ওয়ার্ড, যেইটা দিয়া মিডিয়া ডিসটরশরনটা তৈরি করতে পারে…

ইচক: আচ্ছা, হতেও পারে, আমি খেয়াল করে দেখবো…

মিডিয়া বলে কি কিছু আছে?

রফিক জিবরান: নিউজগুলো দেখছেন, পরিস্থিতি তো এখনো নরমাল হচ্ছে না…

ইমরুল: মিডিয়া আসলে আমাদের চারপাশে একটা রিয়ালিটি তৈরি কইরা রাখতেছে, যেইটা সবসময় ট্রু না…

ইচক: মিডিয়া বলে কি কিছু আছে? পত্রিকা আর কয়জন পড়ে, টিভি আর কয়জন দেখে এখন?

ইমরুল: কিনতু ফেইসবুকের নিউজফিডে দেখবেন টিভি-পত্রিকার নিউজই শেয়ার দিতেছে লোকজন, ইউটিউবেও টিভি-নিউজের ক্লিপই বেশি আসে সাজেশন হিসাবে, মানে, সোশাল-মিডিয়াতেও ট্রেডিশনাল মিডিয়ারই প্রেজেন্স বেশি আসলে

৫ই অগাস্ট

আর একটু হলে ৫ই অগাস্টে মারা যেতে পারতাম আমি। আমার ভাগ্নে রাজশাহী আওমি-লিগেে সিটি-কমিটিতে বড় পজিশনেই ছিল, ও যে রাজনীতি করতো সবসময় তা না, গ্রামীন ফোনে চাকরি করতো, পরে এসে রাজনীতিতে চলে আসলো, রাজনীতি করে কোনকিছু যে বানিয়েছে – তা না, পোস্ট-পজিশনে ছিল… তো, ৫ই অগাস্টের পরে যখন লোকজন আগুন দিতে আসছে বাড়ি-ঘরে, তখন একজন বলছে, এটা আওমি-লিগের নেতার বাড়ি, এটাতে আগুন দিতে হবে, বাসায় তখন আমি আর আমার বড় বোন, দোতালায়, দরজা-জানালা বন্ধ করে বসে আছি, চিন্তা করেন বেপারটা…

আমাদের বাসার উল্টো পাশে বিএনপি’র এক নেত্রির বাড়ি, শে তখন বাইরে এসে বললো, না, এই পাড়াতে আগুন দেয়া যাবে না, এই বাসাতে আগুন দেয়া যাবে না, আগুন দিতে চাইলে মেইন রোডে আওমি-লিগের একটা অফিসে গিয়ে দাও, তখন ওরা চলে গেলো

আরেকটু হলে মারা পড়তে পারতাম আমরা, তখন হয়তো খবরের কাগজে আমার মৃত্যুর সংবাদ পেতেন আপনারা

সর্ব-সাধারনের বিজয়ও সবার হয় না

১৯৭১ সালে যখন দেশ স্বাধিন হলো, তখনো একটা পরিবারের কথা আমি জানি যারা খুশি হতে পারে নি, তখন খুব অবাক হইছিলাম, এইটা কিভাবে সম্ভব! ওরা কেন খুশি হইতে পারতেছে না! তো, ২০২৪-এ এসে জিনিসটা আমি বুঝতে পারি এখন।

শাহ আবদুল করিম

শাহ আবদুল করিমের সাথে একবার কালিকাপ্রসাদের কথা হইতেছিল, করিম জিজ্ঞেস করতেছিলেন, কালিকাপ্রসাদ’কে, আপনার সামনে যদি একজন মাত্র মানুশ থাকে গান শোনানোর জন্য, আপনি কি গান গাইতে পারবেন? কালিকাপ্রসাদ বললেন, না, তা কি করে হয়, একটা পোগরামে একজন মানুশকে কিভাবে গান শুনাবো আমি! কয়েকজন মানুশ যদি না থাকে… করিম বললেন, আমি কিনতু পারবো; একজন মানুশকেও গান শুনাইতে চাই আমি, একজন দুইজন করেই তো মানুশের কাছে আমার গান পৌঁছাবে, কেউ না কেউ তো শুনলো আমার কথা…

হাগে, কিনতু ছোঁচে না
পাদ দিয়া গোসল করে

ইচক: আমরা কি গানটা বন্ধ করবো? সন্ধ্যার আজান হচ্ছে যেহেতু…

ঊষা: কিনতু এই জায়গা থেকে যদি দেখেন – গান শোনাটা কি জায়েজ আছে?

ইমরুল: আমার কাছে এই প্রশ্নগুলা খুব একটা ইনোসেন্ট লাগে না, বরং একটা সময়ে ইসলাম-বিরোধিতা করতে পারাটা যেইরকম আধুনিক বা লিবারাল হওয়ার একটা ঘটনা ছিল, এখন ইসলাম-বিষয়ে দুই-একটা প্রশ্ন করতে পারাটা একইরকমের জায়গাতে অপারেট করে; কারন এইটারে একটা পারফেকশনের জায়গা থিকা থ্রো করা হয়; যে, আসলে কি করবো আমরা? সত্যি কোন জিনিসটা? অথচ এইগুলা তো অনেক বেশি প্রাকটিসের ঘটনা…

ইচক: একটা ভালগার জিনিস মনে হলো; বলেই ফেলি – “হাগে কিন্তু ছোঁচে না/পাদ দিয়া গোসল করে”…

আমি আলগা বলে?

এই মশা কামড়ানো নিয়ে একটা ঘটনা আছে; একবার এক মিস্ত্রি, এই বাড়িটা রিনোভেট করার সময় বাথরুম, টয়লেটের কাজ করতে আসলো; তো, দুই-একদিন কাজ করার পরে, একদিন বাইরে চায়ের দোকানে দেখা, তখন বললো, আপনাদের বাড়িতে অনেক মশা! আমি বললাম, কই, আমাদেরকে তো কামড়ায় না! তখন মিস্ত্রি লোকটা বললো, আমাকে কেন কামড়ায়, আমি আলগা বলে?

বিশ্বাস ও অবিশ্বাস

তাজ: একজন লোক তার আশেপাশের লোকজন – আত্মীয়-স্বজনকে বিশ্বাস করতে পারে না, কিনতু আবার ঈশ্বরে বিশ্বাস করে – এইটা কিভাবে সম্ভব? যা কিছু দেখা যাইতেছে তাতে বিশ্বাস নাই, কিনতু যা দেখা যাইতেছে তাতে বিশ্বাস করে…

ইচক: আপনারা এই বিষয়ে কি বলেন?

অরুন: যেমন বাতাস, সেইটা তো দেখতে পাই না আমরা, তারপরও আমরা শ্বাস নিতেছি, এইটার উপরেই আমরা বেঁচে থাকতেছি; তো, কোন কিছু দেখা যায় না বলে তা নাই – তা তো না…

ইমরুল: আমি যেইভাবে দেখি, দুইটা তো দুই রকমের বিশ্বাস, দেবভাষা আর লোকভাষা বইলা যেই জিনিসটা আছে, উমবের্তো একো এইরকম বলতেছিলেন, ঈশ্বরের সাথে যখন আমরা কথা বলি তখন সেইটা ইউনিভার্সাল ল্যাঙ্গুয়েজ, কিনতু যখন একজন আরেকজনের সাথে কথা বলি তখন লোকাল ল্যাঙ্গুয়েজে বলি; তো, বিশ্বাসের বেপারেও, এইখানে দুইটা লেভেলের ঘটনা; মানুশের ইউনিভার্সালিটি বা খোদার উপরে বিশ্বাস করা আর সিচুয়েশগুলাতে বিশ্বাস করা – দুইটা দুই লেভেলের বিশ্বাস, তবে যে কোন একটা লেভেলে বিশ্বাস থাকলে সেইটা আরেকটা লেভেলের বিশ্বাসের জায়গাতে পজিটিভলি কনট্রিবউট করতে পারে…

ঊষা: বিশ্বাস তো আসলে একটা সেন্ট্রাল জিনিস, যা কিছু দেখছি, তার সাথে তো বিশ্বাসের একটা কানেকশন থাকতে হবে…

অরুন: (ইচক দুয়েন্দেকে) এবার আপনি কিছু বলুন…

ইচক: আমার তো সভাপতি ভাব চলে আসছে, আমি আর কিছু বলবো না

আইডল

ইচক: আপনার আইডল কে?

ইমরুল: আমি তো অইভাবে আইডল নিয়া ভাবি নাই, অই তো, কবিতাতে তো এক সময় জীবনানন্দ দিয়া খুব আচ্ছন্ন ছিলাম, কিছুদিন আগে শাহ আবদুল করিম নিয়া খুব অবসেসড হইলাম… উনি যা-ই বলতেছেন খুব ফিল করতে পারতেছি আমি, কেউ একজন যদি ট্রুথের দেখা পান, তাইলে তার সবকিছুই ঠিকঠাক হইতে থাকে যেন…

কিনতু আপনার কি কোন আইডল ছিল? লেখা’তে অইরকম মনে হয় না…

ইচক: মহাভারত
মহাভারত তো একটা দীর্ঘ সময় ধরে অনেকে লিখেছেন আসলে

মায়া

আমাদের বাড়িতে একবার এক মিস্ত্রি কাজ করে গেলেন, তারপরে অনেকদিন আর দেখা-সাক্ষাত নাই, যেহেতু কাজ শেষ তার; তো, ১৫-২০ বছর পরে একদিন অসীমের বাসার সামনে তার সাথে দেখা, অই যে পদ্মার পাড়ে, আপনাকে দেখালাম…

কথায় কথায় প্রসঙ্গ আসাতে বললাম, মা তো মারা গেছেন… শুনে, উনি হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দিলেন, সে কি কান্না!

তো, দুনিয়াতে তো মানুশের প্রতি মানুশের দয়া, মায়া, ভালোবাসা, এইসব আছে, ক্রোধ, ঘৃনা, আরো অন্য সবকিছুরই পাশাপাশি

নতুন কিছু

ইমরুল: তো, নতুন কিছু লিখতেছেন না? বা লেখার কথা ভাবতেছেন না?
ইচক: নতুন একটা ভাব আসছে…

অসীমের বাড়ি

পদ্মার পাড়ে, এইটা অসীমের বাড়ি; অসীম কুমার দাস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এখন; এই দালানটা আগে একটা বেড়ার ঘর ছিল, আমরা ঘরের বাইরে এসে অসীমের নাম ধরে ডাকতাম, তারপর অসীম বের হয়ে আসলে আমরা আড্ডা দিতাম… আমাদের অনেকটা সময় একসাথে কেটেছে

রাজশাহী

রাজশাহীতে আমি আসি ১৯৭৫ সালে। আমার জন্ম চাপাই নবাবগঞ্জে, অইখানে ৬০ দিন ছিলাম। তারপরে বগুড়া, সৈয়দপুর, রংপুরে… ছিলাম, আমার বাবা রেভেনিউ ডিপার্টমেন্টে চাকরি করতেন, তখন ঘন ঘন বদলি হত; অই সময়ে আমার বড় ভাইয়ের উচ্চশিক্ষার দরকার পড়লো, তখন তিনি পরিবারকে রাজশাহীতে রেখে একা একা অন্য জায়গায় চাকরি করতে লাগলেন, আমরা রাজশাহীতে থেকে গেলাম।

ঢাকায় আমি থেকেছি ১৯৮৮-৯০, ইউপিএলে চাকরি করতাম; তারপর ফ্রি-ল্যান্স কাজ করেছি, ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ছিলাম, এরপর থেকে রাজশাহীতে আছি

অস্ট্রেলিয়াতে আমার বড় ভাই থাকেন, অইখানে গিয়ে একবার দুইমাস ছিলাম

কলকাতাতে গিয়া ২৩ দিন ছিলাম, আমার এক ভাগনি চিকিৎসার প্রয়োজনে গিয়েছিল, ওর হাজব্যান্ড ছিল সাথে, কিনতু পরে ও অসুস্থ হয়ে পড়ায় উদ্ধারকারী দল হিসাবে আমাকে পাঠানো হয়; ওরা আমাকে অনেক কিছু ঘুরে দেখিয়েছিল, গড়ের মাঠ দেখতে চেয়েছিলাম আমি, বেলুড় মঠ, গেছি…

নিজের চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ে গিয়েছিলাম

সিন্ডেরেলা

সিন্ডেরেলা আমি ১৮ বছরের মতো চালিয়েছিলাম; ঢাকা থেকে ফিরে আসার পরে, ১৯৯৪ সালে, তখন আমার বন্ধুরা হাসানুল বান্না ও আরো কয়েকজন একটা ইংরেজি শেখানোর কোচিং সেন্টার চালাচ্ছিল, আমাকে ওটার এডমেনেস্ট্রেটিভ জিনিসগুলি দেখার জন্য বলল; আমি এক বছরের জন্য কাজটা করতে রাজি হলাম…

হোমিওপ্যাথি

হোমিওপ্যাথির চিকিৎসা’টা আমি নিজে নিজেই শিখেছি; যখন চোখের সমস্যাটা হলো, হোমিওপ্যাথের আদি যে ১০৯টা অষুধ, তার সবগুলোই মোটামুটি বাংলাদেশে পাওয়া যায় এখনো, নিজের ছোট-খাট চিকিৎসাগুলো আমি নিজেই করেছি, এখনো করি

বাইরের রোগি দেখি না, পরিচিত দুই-একজন আসলে, তাদেরকে অষুধ দিই

নির্বিবাদী

আপনার সাথে তো আমার পলিটিকাল মতের মিল হলো না, কিনতু একটা জিনিস মনে রাখবেন, যে কোন মতবাদে বা ধর্মে তিন ধরনের লোক থাকে – একদল থাকে চরমপন্থী, তাদের মত-ই সবকিছু, এইটাই মানতে হবে; দ্বিতীয় হচ্ছে মধ্যম-পন্থী, যারা সবকিছুর সাথে মানিয়ে চলতে চায়; আর তৃতীয় হচ্ছে নির্বিবাদী মানুশ-জন, যারা মনে করেন ও ওতো মানুশ, আমিও তো মানুশ, আমাদেরকে তো একসাথে বেঁচে থাকতে হবে, মত-টত যা-ই হোক; তো, থার্ড-কাইন্ডের লোকজনই সমাজকে, দুনিয়াকে বাঁচায়া রাখে…

এক Jew-ও এই কথা বলেছিল আমার বড়ভাই’কে, অস্ট্রেলিয়াতে

৪০ মন ও ৬০ মন পালোয়ানের যুদ্ধ

ইচক: এই গল্পটা কি শুনছেন? ৪০ মন ও ৬০ মন পালোয়ানের যুদ্ধের কথা…

ইমরুল: না, শুনি নাই তো, বলেন…

ইচক: একবার এক বিশাল মাঠে বিশাল দুইটা হাতির পিঠে চড়ে দুইজন পালোয়ানের যুদ্ধ হচ্ছে, একজনের ওজন ৪০ মন, আরেকজনের ওজন ৬০ মন; সে কি ভীষন যুদ্ধ! তখন একটা চিল আকাশ থেকে উড়ে এসে হাতি দুইটাকে ঠোঁটে তুলে নিল; নিয়ে উড়তে থাকলো, উড়তে থাকলো…

উড়তে উড়তে রাজপ্রাসাদের উপর দিয়ে যাচ্ছিলো, তো, হাতি দুইটা এবং তার উপরের পালোয়ান’রা তখনো যুদ্ধ করতেছিল… হঠাৎ করে তার ঠোঁট থেকে হাতি দুইটা পড়ে গেলো; নিচে গিয়ে পড়লো রাজকন্যার চোখের ভিতরে; যেহেতু ৪০মন ও ৬০মনের পালোয়ানরা তখনো যুদ্ধ করতেছিল, রাজকন্যার চোখে ভীষন ব্যথা করতে লাগলো, তখন রাজা ঘোষনা করলেন যেই লোক রাজকন্যার চোখের ব্যথা দূর করতে পারবে তাকে তিনি অর্ধেক রাজত্বসহ রাজকন্যার সাথে বিয়ে দেবেন…

অনেক লোক আসলো, কিনতু কেউ এর সুরাহা করতে পারলো না; শেষে এক বুড়া ধিবর, মানে জেলে বললো, সে এই ব্যথা দূর করতে পারবে; সে বিশাল এক জাল নিয়া আসলো, সমুদ্রে জাল ফেলার মতো করে রাজকন্যার চোখে জাল ফেলা হলো, দুইদিকে ২০ জন করে ৪০ জন লোক সেই জাল টানতে লাগলো হেইয়ো হেইয়ো করে…

কিছুক্ষন পরে দেখা গেল, জালে কিছু বাঁধতেছে, তখন টানতে টানতে পাড়ে নিয়া আসার পরে দেখা গেলো ৪০ মন ও ৬০ মনের পালোয়ান দুইজন তখনো হাতির পিঠে লড়াই করতেছে…

রাজাকে তো তার কথা রাখতে হবে, কিনতু বুড়া ধিবরের কাছে মেয়েকে কিভাবে বিয়ে দেবেন, একটু অস্বস্তিতেই পড়লেন উনি; ধিবর তখন রাজাকে বললেন যে, তিনি রাজকন্যা ও অর্ধেক রাজত্ব চান না, তিনি আরেকটা জিনিস চান, যে, ধিবরদের মাছ-ধরার কর যেন মুওকুফ করা হয়…

তো, এইগুলি তো অই জিনিসগুলারেই ইন্ডিকেট করে যে, রাজা, রাজকন্যা খেতে খেতে কতো বড় হয়ে গেছেন যে, ৪০ মন ও ৬০ মন ওজনের পালোয়ানরা তার চোখের একটা কোনায় গিয়ে পড়তে পারে…

আর পালোয়ান’রা তর্ক করতেই থাকতেছে, সিচুয়েশন যা-ই হোক, এখনকার অবস্থার মতো আর কি

বীরেন ঘোষের সিঙ্গারা

আমরা একসময় বলাবলি করতাম, বীরেন ঘোষের সিঙ্গারা খাইতে হইলে মানুশ খুন করতে হবে! বা কোন অপরাধ করতে হবে; সেইটা করার পরে মামলা হবে, বারবার কোর্টে হাজিরা দিতে আসতে হবে, অনেক সময় ধরে বসে থাকতে হবে কোর্টের বাইরে, তখন সিঙ্গারা খাওয়া শুরু হবে কারো… সে অই সিঙ্গারার প্রেমে পড়ে যাবে, তারপর মামলা শেষ হয়ে গেলেও সে সিঙ্গারার লোভে আরেকটা অপরাধ করে এইখানে ফিরে আসবে, সিঙ্গারা খাওয়ার জন্যে…

ইচক: দোকানটা বন্ধ কেন আজকে?

চায়ের দোকানদার: আজকে তো দুই মাস ধইরা বন্ধ… দোকান আর চালাবে না মনেহয়; বাপের দোকান ছিল, বীরেন ঘোষ তো মারা গেছে, তার ছেলে চালাইতো, এখন তো সে কোর্টে কাজ করে, এইজন্য দোকানের দেখা-শোনা করতে পারে না, আর চালাইবো না মনেহয়…

কেটাগরি

ইমরুল: এইরকম পপুলার গানগুলা হইতেছে আজাইরা, লিরিকস মিউজিক সব একইরকম, একটা থিকা আরেকটা আলাদা করা যায় না, সবই একইরকমের

রফিক: হাঁ, একইরকমের সব…

ইচক: না, একটু খেয়াল করলে দেখবেন, এদের মধ্যেও কেটাগরি আছে, কোনটা বেশি পপুলার, কোনটা কোন ক্লাসের লোকজন বেশি শুনছে… এইরকম আলাদা করা যাচ্ছে; সব আর্টেই থাকে এইরকম…

ইমরুল: তা ঠিক… অনেক সময় অনেক আর্ট ধারে না কাটলেও ভারে কাটে, কোন একটা জিনিস হাজার হাজার লাখ লাখ মানুশ দেখতেছে, শুনতেছে সেইটার একটা ইমপ্যাক্ট থাকে

তাজ: একেকটা জেনারেশনের কিছু গান থাকে, যেইগুলি শুধু অই জেনারেশনের লোকজনই শুনে, কানেক্ট করতে পারে; মিউজিকের ভিতর দিয়ে আসলে নিজেদের সময়টার কথা মনে করে

ইমরুল: হাঁ, এইরকম জিনিস কিনতু আছে… মিউজিকের সাথে আমাদের মেমোরি কানেক্ট করে

বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে
আসি আসি বলে জোসনা ফাঁকি দিয়েছে

রফিক: (ইমরুলকে) জানেন, বেদের মেয়ে জোসনা সিনেমাটা আমি কখনোই পুরাটা দেখি নাই, গানটাও মনেহয় কোনদিন পুরাটা শুনি নাই, কিনতু এই দুইটা লাইন এখন মনে হইতেছে, অনেকবারই গাইছি আমি… আমার ধারনা, এইখানে ডুয়ালিটির একটা বেপার থাকতে পারে, যে, কথা দিল, কিনতু আর আসলো না – এই ডুয়ালিটি’টা মেবি মানুশকে এট্রাক্ট করে… সুরগুলাও অনেক পুরানো, মানুশ সহজে কানেক্ট করতে পারে

ইচক: অনেকবার শুনতে শুনতে এইরকম হয়, পরিচিত মনে হতে থাকে….

আমি যে আগে থেকে এইসব লিখে রেখেছি, ওরা জানলে তো আমাকে ধরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতো

অনেক কিছুর ইঙ্গিত আমি দিয়ে রেখেছি টিয়াদুরে, এসব কিছু যে ঘটবে, গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন যদি টের পেতো আমি এসব লিখে রেখেছি, তারা তো ধরে নিয়ে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করে দিতো, অনেক আগেই…

হিলিয়াম

ইচক: আমরা এখানে মাঝে-মধ্যে আসি খেতে… আপনি গতকালকে কোথায় ডিনার করলেন?

ইমরুল: হোটেলের পাশেই ফুডপান্ডাতে দেখলাম লুনা’স কিচেন বলে একটা রেস্টুরেন্ট আছে, রেটিং ভালো, অইখানে গিয়াই খেয়ে নিছিলাম, ভালোই…

ইচক: এদের খাবারও ভালো

কুইন্স

ইচক: আজকে অনেক শব্দ হচ্ছে, নরমালি এইরকম থাকে না, আজকে গান বাজাচ্ছে ওরা

ইমরুল: আচ্ছা, এই বেকারিটা তো ভালো, আমি গতকালকে রুমে যাওয়ার সময় কিছু স্ন্যাকস কিনে নিয়া গেছি, অদের নাটোরেও ব্রাঞ্চ আছে

ঊষা: ওদের চিজ-কেকটা ভালো

ইচক: কিনতু এখানে আমাদেন তিনজনের ডায়াবেটিস আছে, সেটা মাথায় রাখতে হবে আমরা এক কাজ করি, ৩টে নিয়ে ৫জন ভাগ করে খাই

রহমানিয়া

ইচক: খাবার ঠিক আছে?

ইমরুল: হাঁ, অনেক তৃপ্তি নিয়া খাইলাম

ইচক: আমরা এসব রেস্টুরেন্টেই বসতাম খাওয়ার জন্য, এটা আমার বাসা থেকে একটু দূরে, আরেকটা রেস্টুরেন্ট আছে বিদ্যুত রেস্টুরেন্ট, ওটাও নাশতার জন্য ভালো… হিলিয়ামের মতো রেস্টুরেন্টগুলো নতুন হয়েছে, অইসব জায়গায় অনেকক্ষন বসে থাকার সুযোগ ওরা দেয়, কিছু অর্ডার করলে, এখানে তো বেশিক্ষন বসে থাকা সম্ভব হয় না

আহমেদাবাদ, অস্ট্রেলিয়া

আমার আত্মীয়-স্বজনরা তো ঢাকাতেই থাকেন, এক ভাই ও দুই বোন; বড় ভাই অস্ট্রেলিয়াতে থাকেন, রাজশাহীতে আমি আমার বড়বোনের বাসাতে থাকি, এক ভাগনি এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে, ওরা চলে যাবে; আহমেদাবাদে যাবে আগামিকালকে, যেটাকে ওরা বললো এহমেদাবাদ, অইখান থেকে অস্ট্রেলিয়ায়…

[সকালবেলা যখন রাজশাহী এয়ারপোর্টে, ঢাকায় ফিরতেছি, তখন কচি ভাই ফোন দিলেন, বললেন উনার আত্মীয়’রাও একই ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরতেছেন… এইটা ছিল ছিল উনার দিক থিকা একটা গুডবাই কল, ফোন রাখার আগে বললেন, ভালো থাকবেন!]

শারিক-স্মৃতি

বিশাল একটা ক্যাকটাস, সামনের বাগানে… বড় বড় কাঁটা ছোট ছোট সুন্দর ফুল, একতলা একটা দালান, চুপচাপ…

কিছুদিন পরে, এইখানে বড় কোন বিল্ডিং হবে, ডেভোলাপারের সাথে কথা-বার্তা চলছে, কয়েক বছর পরে আসলে হয়তো দেখবেন এই বাড়িটা আর নেই

“আমার সূর্য্যমুখী ঐ স্বর্গে আছে।
আমার কাছে নাই, কিন্তু সে আমার স্বর্গে আছে”

ইচক: স্বর্গ বলে কোনকিছুতে কি আপনি বিশ্বাস করেন?

ইমরুল: আফটার লাইফ বইলা কিছু আছে বইলা ভাবি, কিনতু সেইটা স্বর্গ বা বেহেশতের মতো কিছু কিনা, আমি শিওর না…

ইচক: আমি কি মনে করি, জানেন? আমি মনে করি, স্বর্গ হচ্ছে এমন একটা জায়গা যেইখানে আমাদের অফুরন্ত সময় আছে; জীবনে হয়তো কারো সাথে আমাদের ঠিক মতো কথা হয় নাই, স্বর্গে তাদের সাথে আমাদের দেখা হবে, অনেক সময় ধরে আমরা কথা বলতে পারবো; যেমন ধরেন, একটা চুল, একটা দাড়ি, যে ঝরে গেছে, দেখা-ই হয় নাই ঠিকমতো, তার সাথে লম্বা সময় ধরে কথা হবে আমাদের; স্বর্গ মানে যেইখানে অনেক, অফুরন্ত সময় আছে আমাদের…

ইমরুল হাসান
নভেম্বর – ডিসেম্বর, ২০২৪

[পোস্ট-স্ক্রিপ্ট

১৭/০৫/২০২৬

কথা-বলার স্মৃতি

২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে, ৫-৭ দিনের জন্য আমি রাজশাহী শহরে থাকতেছিলাম, তখন কচি ভাই-কে (ইচক দুয়েন্দে, শামসুল কবির) কল দিলাম, বললাম আপনার একটা ইন্টারভিউ নিতে চাই… অনেক কথা বললাম আমরা, যেইখান থিকা পরে কিছু জিনিস লেখছিলাম, উনি একটা অংশ এডিটও করে দিছিলেন, পুরা কাজ’টা আর শেষ হয় নাই…

তো, একদিন সারাদিন পদ্মার পাড়ে, রাজশাহী শহরে ঘুরা-ফিরা করার পরে বিকালের আগে আগে উনার বাসায় গিয়া বসলাম, বললাম আপনার একটা ছবি তুলে রাখি, তখন এই ছবিটা তুলছিলাম!

গত রবিবারে (মে ১০, ২০২৬) অফিস থিকা ফিরার পথে, সন্ধ্যাবেলায় উনারে কল করলাম মোবাইল ফোনে, জিগাইলাম, কেমন আছেন? বললেন, ভালো না; জিগাইলাম, কি শারীরিক সমস্যা? বললেন, প্রেশার, ঘুম হয় না… আমারে জিগাইলেন, বাছবিচার বুকস থিকা বই ছাপাইতেছি কিনা, বললাম, এখন একটু স্লো আছে, আবার নতুন কইরা শুরু করতে হবে… ইন্টারভিউ-লেখাটার কথা বললাম, সময় নিয়া শেষ করা দরকার… আমার কিছুটা মনে হইতেছিল, এইটা একটা গুডবাই কল, কিনতু তখনো জানতাম না যে, ইট ওয়াজ আ গুডবাই কল! 

adios!] 



The following two tabs change content below.
Avatar photo
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →