বই টই নিয়ে অনেকদিন কিছু লেখি না। ফিকশন এমনি এখন খুব কম পড়ি। মেইনলি নন ফিকশনই পড়ি। ব্যাস্ততায় বই পড়ার টাইম বের করা মুশকিল। একসময় যা পাইছি, তাই পড়ছি। ভাল বই পিক করতে না পারলে, টাইমটা ওয়েস্ট হয় শুধু। যারা বই পড়েন, তাদের জন্য ছোট একটা সাজেশান লিস্ট। প্রত্যেকটা বই জনরা, চিন্তায় বা স্টাইলে আলাদা। ভাল বই আসলে বিভিন্ন ফর্মে বা স্টাইলে হইতে পারে। যেকোন জনরাতেই হইতে পারে।

১. দা ইনভেনশন অফ মোরেল- (১৯৪০) এডলফো বিয়ো কাসারেস

২. ফ্লাওয়ারস অফ আলজারনন
(১৯৫৯)- ডেনিয়েল কিজ

৩. দা ফিল্ড (২০১৮) -রবার্ট সিথহেলার

৪. এক্সেলেশান – (২০১৯)- টেড চিয়াঙ

৫. আই হু হ্যাভ নেভার নোন মেন
(১৯৯৫)- জ্যাকলিন হার্পম্যান

৬. রিপোর্ট টু গ্রেকো (১৯৬১)- নিকোস কাজান্তজাকিস

৭. এন্টকাইন্ড (২০২০) – চার্লি কুফম্যান

৮. ইনফিনিট জেস্ট (১৯৯৬)- ডেভিড ফস্টার ওয়ালেস

৯. দা ম্যান উইদাউট কোয়ালিটিজ (১৯৩০)- রবার্ট মুসিল

১০. মানি (১৯৮৪) মার্টিন এমিস

ইনভেনশন অফ মোরেল ছোট বই। নভেলা। বেশ রেডিকাল প্লট। অন্তত ওই সময়ের হিসাবে। বোর্হেস এইটার খুব প্রশংসা করছিল। পেল্লিসারের মালায়লাম সিনেমা ‘চুরুলি’। এরন মুরহেড ও জাস্টিন বেনসেনের ‘এন্ডলেস’। আরো বিভিন্ন মিস্ট্রি বা সাইফাই জনরায় মনে হবে এই নভেলার ইন্সপিরেশন আছে। এডভেঞ্চারাস জার্নি।

ডেনিয়েল কিজের ফ্লাওয়ারস অফ আলজারনন ল্যাঙ্গুয়েজ রিলেটিভিটিরে বেজ করলেও মানুষের খুবই গভীর সাবজেক্টিভ বোঝাপড়ার জার্নি। একজন মানুষের থট কিভাবে চেঞ্জ হইতে থাকে। সাথে তার দুনিয়া। চমৎকার বই।

দা ফিল্ড উপন্যাস আসলে অনেকগুলা ছোটগল্পের মত। মানুষ মারা যাওয়ার পর যদি তার গল্প বলে আর আমরা তা শুনতে পাই, তাইলে আমরা তাদের কাছে কতরকম করে তাদের গল্প শুনতাম!উপন্যাসটা খুব সিম্পল। কিন্তু প্রত্যেকটা মানুষের গল্প খুবই টাচ করে যায়। এইটা ঠিক পড়ে ভুলে যাবেন, এইরকম বই না।

‘আই হু হ্যাভ নেভার নোন মেন’ সায়েন্স ফিকশন। থ্রিলার। এইটা পড়তে গেলে খানিকটা আগামবেন টের পাইবেন। সোশাল আইডেন্টিটি আর ইমোশনাল ক্যাপাসিটির যে দ্বৈরথ, তা অদ্ভুত এক জিনিস।

টেড চিয়াঙের ‘এক্সহেলেশন’ ছোট গল্পের কালেকশন। সাই ফাই। দুর্দান্ত। যারা টেড চিয়াঙরে চেনেন না, তাদের বলি, সাইফাই সিনেমা ‘এরাইভাল’ উনার নভেলা থেকে করা হইছিল। গল্পগুলা যেমন দারুণ, তেমনি থট প্রভোকিং।

রিপোর্ট টু গ্রেকো অটোবায়োগ্রাফির মত করে লেখা। নিকোস কাজান্তজাকিস। জোরবা দা গ্রিকের রাইটার। ওনার একই নামের বই থেকেই স্করসাজি ‘দা লাস্ট টেম্পটেশন অফ ক্রাইস্ট’ সিনেমাটা বানাইছিলেন। যেইটার ওপরে পরে জিজেক আবার আরেকটা বই লেখছিলেন। কেউ যদি ফিলোসফিকালি লস্ট ফিল করেন, এইটা আপনার জন্য ভাল রিডিং।

চার্লি কুফম্যান এই প্রথম উপন্যাস লিখছেন। এই কারণে পড়ছি। সে আমার খুবই প্রিয় স্ক্রিনরাইটার। তারে যারা চেনেন না, তিনি হইতেছেন ‘ইটারনাল সানসাইন অফ দা স্পটলেস মাইন্ড’, সিনিকডোকি নিউইয়র্ক, আই এম থিংকিং অফ এন্ডিং থিংস -এই কোয়ালিটির সিনেমার স্ক্রিনরাইটার। উপন্যাসটা তার স্টাইলেরই -এবসার্ড। খুবই এনজয়েবল। বড় উপন্যাস। পড়তে ধরলে থামা কঠিন।

ডেভিড ফস্টার ওয়ালেসের ইনফিনিট জেস্ট হইতেছে এমন লেখা, যা এক পিসই। মানে, এই রকম আর কোন উপন্যাস আছে বলে আমার জানা বা পড়া নাই। তবে, যার ভাল লাগবে, লাগবে। যার ভাল লাগবে না, সে পড়তে পারবেন না। আসলে উনি রাইটার হিসাবেই এইরকম।

দা ম্যান উইদাউট কোয়ালিটিজ দুই খন্ডের উপন্যাস। বিরাট। অসম্পূর্ণ। শেষ করার আগেই জার্মান রাইটার রবার্ট মুশিল মারা গেছেন। অসম্পূর্ণ হইলেও এইটা একটা গ্র‍্যান্ড স্কেলের লেখা। গত শতকের গুরুত্বপূর্ণ বইগুলার একটা। স্পেশালি যারা লেখালেখি করেন বা করতে চান, তাদের জন্য ভাল রিডিং হইতে পারে। লেখা জিনিসটা কত রকম এক্সপ্লোরেশন হইতে পারে, তার একটা ভাল এক্সাম্পল।

মার্টিন এমিসের ‘মানি’ কারো কারো কাছে কেওটিক লাগবে। লেখার মধ্যে কোন ‘ভদ্রতা’ নাই। র। কিন্তু একটা ক্যাপিটালিস্ট সোসাইটি এইরকম কেওটিকই। ওই সেন্সটা এইরকম কেওস ছাড়া ফিল করা ডিফিকাল্ট। এইটা আমার কাইন্ড অফ ফেবারিট।

The following two tabs change content below.
Avatar photo

কবির আহমেদ

জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।