বাংলার ‘মব’ জনগোষ্ঠী Featured
ইন্টেরিমে ফরিদপুরে বা, এখন ফিলিপনগরে যা হইছে, বা আরও আরও অন্য জায়গায় মাজার ভাঙ্গায় বা নারি হেনস্তায় একটা সর্বদলীয় যোগাযোগ করা হইছে ঘটনাগুলি ঘটাইতে। বিএনপি নেতা, ছাত্রদল নেতা, জামাত-শিবির শকলের সরব উপস্থিতি এইসব জায়গায় ছিলো। এগুলা ঠিক একক দলীয় পরিচয়ে যেমন হয়নাই, তেমন পরিচয়হীন ‘মব’ও না তা। এই সর্বদলীয় যোগাযোগের কারনে কিরমিনালদের ওইভাবে ঘাটাইতে পারেনাই ইন্টেরিম। বিগ ফেইলিওর। তবে যেইখানে রিয়েলি ধরতে চাইছে, সেইখানে কিরমিনালদের ধরা গেছে কিন্তু। যেমন পরথম আলোর হিরোসিমাকান্ড, ভালুকার দীপুচন্দ্র দাস, ঢাবির তোফাজ্জল খুনের পর আসামী ধরা গেছিলো যদ্দুর জানা যায়। সেইখানে একটা পরিকল্পনার আভাস পাওয়া গেছিলো।
পরিকল্পনা থাকলেই যে তারে ‘মব’ বলা যাবেনা তা না। কিন্তু এইখানে ‘মব’ নেরেটিভটা মরালি কম্প্রোমাইজড একটা নেরেটিভ; ব্যাড ফেইথে তোলা একটা আলাপ, রাইট ফ্রম দা বিগিনিং। ‘মব’ এর ভেতরে সর্বদলীয় যোগাযোগ ছিল, তারে মাইনা নিলে এখন যে একটা নির্দিষ্ট দলরে সমস্ত মবের ভোমরা হিসাবে সাব্যস্ত করা হইতেছে তা আর করা যায় না কিন্তু। আবার ‘মব’ বয়ানের মুখ ও মাথা যারা তারা পরিষ্কার যে একটা নির্দিষ্ট দলরে যেহেতু অবজেক্টিভলি দায়ী করা যাইতেছে না এইসব আকামের জন্য, সেহেতু এমন একটা তাত্ত্বিক কাঠামো কোঅপ্ট করতে হবে যেটার ভেতর বিল্ট-ইন শেইপশিফটিং পটেনশিয়াল থাকে; যাতে ওই বয়ানে ওই নির্দিষ্ট দলটার নাম না নিয়াই, ওই দলটারে পলিটিকালি প্রপারলি গেরেফতার রাখা যায় ওইসব আকামের জন্য।
কেন ‘মব’ বয়ান এর মাথা ও মুখেরা এইভাবে আগাইতে চাইলেন? কারণ অধুনা মব বয়ানের উদ্গাতা ও প্রচারকেরা বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবেই ভার্চু সিগনালিংরে তাদের রাজনৈতিক চর্চার ভেতর নেচারালাইজ করে ফেলছে। ফলে তারা যখন কাউরে ফাসাইতে চায় , কিন্তু জানে ফাসাইলে সেইটা রঙ্লি ফাসানো হবে, তখন তারা থিওরেটিকাল কমপ্লিকেশনস অ্যাড কইরা এমন একটা ট্র্যাজেক্টরি লক করে, যাতে এখন নাম না নিলেও ভবিষ্যতে একটা কনস্ট্রাক্টেড রিয়েলিটিতে রেফারেন্স হিসাবে ওই নামটাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে উইঠা আসে। ‘মব’ বয়ান ঠিক এই পারপাসটাই সার্ভ করে, বিশেশ কইরা জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে।
জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন বত্রিশ ভাঙ্গা হইলো, জুলাইয়ের ইনস্পিরিশন নিয়া, তখন প্রো-বত্রিশ পক্ষ একটা নালা কাটতে চাইলেন, যেইটা তাৎক্ষনিকভাবে জুলাইকে এবং জুলাইয়ের পলিটিকাল এনেবলারদের গায়ে ব্লেইমের জল না পড়তে দিলেও(কারণ এনেবলারদের অনেকেই তাদের কাজে লাগবে), আল্টিমেটলি জল তাদের প্রেফার্ড পথেই গড়াবে। সেই সুবাদেই ‘মব’ বয়ানরে সজ্জিত করা হইলো।
কালান্তরে, এই মব বয়ান জুলাইকেও একটা ‘ইছলামি বিপ্লব’ হিশাবে চিহ্নিত করাইতে পারছে কারো কারো মুখ দিয়া। এবং ‘মব’ ইটসেলফ হইয়া উঠছে ‘জামাতি’ ঘটনা। দেখেন, সর্বদলীয় পরিকল্পনা হিসাবেও কিন্তু আসেনাই; জাস্ট জামাত-এনসিপি। যদি জাস্ট ‘জামাত-এনসিপি’র ঘটনাই হবে, তাইলে এইটারে মব বলার দরকার কি ছিলো? এইখানে অবভিয়াস একটা কন্ট্রাডিকশন সারফেস করতেছে।
‘মব’ নেরেটিভ এই কন্ট্রাডিকশনরে হজম করতেছে এইভাবে যে, ১)এখানকার লার্জার কম্যুনিটিকে জামাত-এনসিপি স্টোক করে সহিংসতার জন্য। ফলে এইখানে একটা বিজেপি-আরএসএস প্যারালালও টানা যাচ্ছে। ২) একটা আমব্রেলা টার্ম বাঙলাদেশি বাস্তবতায় প্রিজুলাই কন্ডিশনের তৌহিদি জনতারেও ইন্ডিকেট করতে পারে। এবং ৩) এই সবই জুলাই অভ্যুত্থানের ভেতরকার ঘটনাবলীরে মনে করায়ে দেয়ার এলিমেন্টগুলিরে প্রিজার্ভ করে- কারণ জুলাই পরবর্তী ফেইজে ‘মব’ বয়ানটা কেইস বাই কেইস ইউজ করা হয়নাই বরং ওয়ান সাইজ ফিট ফর অল ডিজাইন করা হইছে।
এই কন্ট্রাডিকশন যখন একবার হজম হয়ে যাচ্ছে, তখন বাঙলাদেশের পলিটিকাল ল্যান্ডস্কেপে নতুন কোন হরাইজন উন্মোচিত হইতেছে? আমি এইটারে একটা প্রস্তুতিকালীন প্রাক-তের দশা হিশাবে দেখতে চাই। যেই দশায়, শকল দোষের জন্য বিরোধিদলরে সহজে দায় দেয়া যায়; এবং শরকারের দায় ততটুকুই, যতটুকু সে বিরোধিদলরে শামলাইতে পারতেছেনা; শক্ত হাতে! এবং একটা ফলস রেফারেন্স সিস্টেম সাজানো হয়ে গেছে যেইখানে গবমেন্টের যেকোন ব্রুটালিটিরে বিরোধি পক্ষের অপকর্মের অবশ্যম্ভাবি ফলাফল হিশাবে দেখানো যায়।
এখন এইখানে একটা ফানি ঘটনা ঘটতেছে। এই সময়ে বিরোধি পক্ষ ‘মব’ বয়ানের ইনহেরেন্ট কোয়ালিটিগুলি মিস কইরা যাইতেছে। তারা মনে করতেছে, ওয়েল, মব বয়ান আমাদের বিরুদ্ধে ছাড়ছে, এবার আমরা ওদের বিরুদ্ধে ছাড়বো! এইটা সিমপ্লি ওইভাবে কাজ করেনা। ওইটা স্পেসিফিকালি একটা পক্ষকে ঘায়েল করার জন্যই কাস্টম মেইড। আপনি জাস্ট এইটা দেখেন মব বয়ান কোথা থেকে শুরু হইতেছে; এটার বিগ ব্যাং মোমেন্ট কোনটা। দেখবেন ইন্টেরিমের আগে এদেশে কোন ‘মব’ ছিলোই না! ফলে ‘মব’ এর আলাপটা এইখানে ডিপলি পার্টিজান। এখন আপনি উলটা ‘মব’ ডিস্কোর্স ইউজ করতে চাইলে রেকর্ডেড হিস্ট্রিতে উলটা সরকারি দলের আকামগুলি হইতে শরকাররে রিলিজ দিতে থাকবে এবং একটা জেনারেলাইজড মব ফেনোমেনন হিশাবে ঘটনাগুলি রিড করা হবে, যেটা আবার জামাত-এনসিপি ক্রিয়েটেড নুইসেন্স হিশাবে রেজিস্টার্ড অলরেডি! মানে একই আলাপ দুই পক্ষকে দুইভাবে প্রভাবিত করতে পারে; এক পক্ষকে স্টিগমেটাইজ কইরা, আরেক পক্ষকে এক্সোনারেট কইরা।
ইব্রাকর ঝিল্লী
Latest posts by ইব্রাকর ঝিল্লী (see all)
- বাংলার ‘মব’ জনগোষ্ঠী - এপ্রিল 26, 2026
- নট ইওর টিপিকাল মুক্তিজুদ্ধের গোসাঁই - মার্চ 22, 2025
- এডিটোরিয়াল: গনতন্ত্র হারাইয়া কি পাইলাম: ফেসিবাদ নাকি বাকশাল? - মার্চ 27, 2024