লিবারালরা বুঝিবা কনজার্ভেটিভদের চাইতে ভালো; লিবারালরা প্রগ্রেসিভ, নামের ভিত্রেই ওৎ পাইতা লুকাইয়া আছে মানুষের মুক্তি, তাবত মাকলুকাতের হক, দুনিয়াদারির ইনসাফ!
এখন তুলনা তো এক জটিল ব্যাপার! তুলনার জন্য একটা ‘জিরো ভ্যালু’ দরকার, কিন্তু চিন্তার দুনিয়ায় ‘জিরো ভ্যালু’ কই পাই! আবার, না পাইলে তো আমরা কোন বেসিসই পাইলাম না, তুলনাটা কেমনে করি তাইলে![pullquote][AWD_comments][/pullquote]
কিন্তু লিবারাল আর কনজার্ভেটিভদের তুলনার জন্য একটা ‘প্লান বি’ পাইছি আমি! প্লানটা হইলো, লিবারাল স্ট্যান্ডার্ডগুলারেই ‘জিরো ভ্যালু’ বা বেসিস ধইরা তুলনা করা! এমন তুলনায়ও যদি লিবারালদের ভালো কইতে কষ্ট হয়, যদি দেখা যায়, কনজার্ভেটিভদের যেইসব গালি হরদম দিয়া থাকে লিবারালরা সেইসব দোষ লিবারালদের আছে–প্রায় সমান বা আরো বেশি তাইলে মনে হয় সবাই মানবেন যে, যদি কোন ‘জিরো ভ্যালু’ পাইতাম তাইলেও লিবারালরা জিততে পারতো না!
তো, দেখা যাক!
লিবারাল স্ট্যান্ডার্ড হিসাবে শুরুতে ১৭৮৯ সালের ফ্রান্সে হওয়া ‘রেভল্যুশন’-এর শ্লোগানটারে লইলাম। শ্লোগানটা আছিল, ‘লিবার্টি, ইক্যুয়ালিটি এবং ফ্রেটার্নিটি’। রেভল্যুশন হইলো; মার্ক্সিজম কইবে, এই লিবার্টি এবং ইক্যুয়ালিটি পার্শিয়াল; কেননা, এই রেভল্যুশন কেবল সুপারস্ট্রাকচারের ঘটনা, ইকোনমি বা পয়সা বা মালিকানার ইনফ্রাস্ট্রাকচারের কিছুই বদলাইলো না তো! আমরা মার্ক্সিজমের স্ট্রাকচারালিজমের বাইরে থাইকাও দেখতে পারি, ইকোনমিক ভাগাভাগি বাদে কতটা পাইলাম আমরা।
১৭৭৬ সালে বৃটেন থিকা আমেরিকা স্বাধীন হইলো, ফ্রান্স আমেরিকারে স্ট্যাচু অব লিবার্টি গিফট পাঠাইলো। কিন্তু ফ্রেঞ্চ রেভল্যুশনের ঠিক ১০০ বছর পরে, ১৮৮৯ সালের প্যারিসে ইতিহাসের সবচে বড়ো ‘হিউম্যান জ্যু’ বা মানুষের চিড়িয়াখানা বানাইলো ফ্রান্সের লিবারালরা। এই চিড়িয়াখানায় ফ্রান্সের আফ্রিকান কলোনি থিকা কালা মানুষের আনা হইলো, একটা আর্টিফিশিয়াল আফ্রিকা বানাইয়া সেইখানে ল্যাংটা কইরা রাখা হইলো ঐ কালা আদমীদের। আরো রাখা হইলো বান্দর, ওরাংওটাং। ঐ কালা আদমীরা বান্দরদের লগে কাড়াকাড়ি কইরা খাইলো, হাগলো, মুতলো, সেক্স করলো, ঘুমাইলো, যুদ্ধ করলো। ‘লাইভ আফ্রিকা’ এক্সিবিশন করলো লিবারালরা, লাখ লাখ মানুষ আফ্রিকা দেইখা ফেলতে পারলো প্যারিসের সেই চিড়িয়াখানায়।
ফ্রান্স-বেলজিয়াম-জার্মানি, সারা ইউরোপেই এমন এক্সিবিশন চললো ১৯৫০ সালের পরেও। এই ঘটনা দিয়া তাইলে আমরা সাফ সাফ কইতে পারি কিনা যে, ঐ লিবার্টি এবং ইক্যুয়ালিটি আসলে সাদা আদমীদের মামলা, কালারা তো ইভেন আদমীই না! মানুষ হইলে না পরে লিবার্টি আর ইক্যুয়ালিটি লইয়া আলাপ!
আগের ইতিহাসের কোন কনজার্ভেটিভ কালাদের মানুষের পাটাতন থিকা নামাইয়া দেয় নাই, নামাইয়া দিল লিবারালরা! ইতিহাস কইতেছে, ঐ হিউম্যান জ্যু’কে হারাম বইলা ফরমান জারি করেন লিবারালদের কাছে সবচে বড় ডেভিল, কনজার্ভেটিভ হিটলার!
ইতিহাসে আগেও আমরা স্লেভারি/গোলামী পাইছি, আমাদের ঈশা খা’ও এক ইরানির কেনা গোলাম আছিল, কিন্তু তাঁর চাচা তাঁরে আজাদ করেন ১৫ বছর পরে। স্বাধীন বা গোলাম–মানুষেরই দুইটা দশা আছিল। সাদা বা কালা বা মঙ্গোলয়েড–যে কেউ গোলাম হইতে পারতো, মানুষ থাইকাই। কিন্তু ইউরোপের সো কল্ড রেনেসার পরে আমরা যেই মডার্ন গোলামী পাইলাম তাতে আফ্রিকার কালা মানুষেরা আর মানুষই থাকতে পারলো না, তারা আরেকটা মাকলুকাত/স্পেসিস/জাত–শিম্পাঞ্জির কাছের কেউ।
আগের কনজার্ভেটিভ চিন্তায় রেসিজম আছিল, গোলামী বা স্লেভারি জিনিসটা রেশিয়াল ঘটনা হইতে পারে নাই। কারণ, থিয়োরির অভাব আছিল, কোন একটা রেসকে অমানুষ বইলা ফরমান জারি করে নাই আগে কোন থিয়োরি। তখনকার লিবারালিজম এই ঘাটতি পূরণ করে :)। ইভোল্যুশনের আইডিয়া দিয়া ভাবা সম্ভব হইলো যে, কালারা এখনো মানুষ হয় নাই, বাকি আছে ইভোল্যুশনে; কালারা তাই গরু বা ঘোড়ার মতোই ক্যাটল ভাবা যায়, মানুষের সার্ভিসে এস্তেমাল করা যায়। তবে গরুর চাইতে কালাদের ইজ্জত একটু বেশি আছিল মনে হয়, বান্দরের সমান–বান্দর বা কালা মানুষের গোশত খাবার ঘটনা পাওয়া যায় না তেমন! তবে হইতে পারে, ট্রাই কইরা দেখা গেছে বান্দর বা কালাদের গোশত টেস্টি না তেমন! Continue reading →