ভ্যালুগুলা না থাকলে আপনি আর্টিস্ট হইতে পারবেন না। আর্টিস্টরা কোনো শূন্য জায়গায় থাকে না। – অমৃতা প্রিতম
[অমৃতা প্রিতমের এই ইন্টারভিউটা রমা ঝা নিছিলেন ১৯৮১ সালে। ইনডিয়ান লিটারেচার পত্রিকায় ১৯৮২ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ইস্যুতে ছাপা হইছিল।]
…
রমা ঝা: অমৃতা, আপনার লেখালেখির শুরুটা কেমনে হইলো? আমি জানি যে এই প্রশ্ন আপনারে বহুবার করা হইসে, কিন্তু কোনো শিল্পীরে জানার জন্যে এইটাই মনে হয় সবচেয়ে ভালো প্রশ্ন। আমি পার্টিশনের আগের পাঞ্জাবে একজন কবি হিসাবে আপনার শুরুর কথাটা কইতেসি। আমার মনে হয়, ওই সময়ের পাঞ্জাবের কনজারভেটিভ কালচারে আপনিই একমাত্র নারী কবি? আপনারে কবিতা লিখতে উৎসাহ দিসে কোন বিষয়টা?
অমৃতা প্রিতম: লেখালেখিটা আমার কাছে নতুন কিছু ছিল না। আমি ছোটবেলাও লেখকদের মাঝেই বাইড়া উঠসি। আমার বাবা নিজেই একজন কবি। উনি সারা রাত ধইরা কবিতা লিখত আর সারাদিন ঘুমাইত। এইটাই উনার প্রতিদিনের লেখার রুটিন ছিল। আমার যখন মাত্র সাড়ে দশ বছর বয়স, তখন মা মারা যায়। তাই বাবা যখন সারাদিন ঘুমাইত, আর আমার কোনো ভাইবোনও ছিল না— আমার একলাই থাকতে হইত। একলা একলা কী আর করব, নিজেরে বইপুস্তকের মাঝে ডুবায়া রাখতাম। আমাদের বাসাভর্তি অনেক বই ছিল।
রমা: কীরকম বই?
অমৃতা: হয় ধর্মীয় বই, আর নয় ইন্ডিয়ান মিথের।
রমা: আপনার প্রথম পড়া বইগুলা কি পাঞ্জাবি, মানে গুরুমুখী ভাষায় ছিল?
অমৃতা: হ্যাঁ, এইরকমই…
রমা: ইংলিশ বইয়ের দেখা কবে পাইলেন?
অমৃতা: ওইটা অনেক পরে।
রমা: আপনার ছোটবেলায় পড়া লেখকদের কয়েকজনের নাম কইতে পারেন?
অমৃতা: যদ্দূর মনে পড়ে, ক্লাসিক্যাল পাঞ্জাবি কবিতার একটা কালেকশন ছিল। ওইটাতে শেখ ফরিদ, শাহ হুসেইন, ওয়ারিস শাহ, পিলু আর হাশেমের লেখাগুলাই সবার আগে পড়সিলাম। আর মিথোলজির বইগুলা সব সংস্কৃত থিকা পাঞ্জাবিতে অনুবাদ করা হইসিল। সবই হাতেলেখা। আমার বাবা বিভিন্ন পণ্ডিতের কাছ থিকা বইগুলা ধার করতেন, এরপর লোক রাইখা ওইগুলা কপি করাইতেন। আমার মনে আছে, বিকালবেলা আমাদের বাসায়…(উনি মনে করতেসিলেন)…এই লেখাগুলা নকল করার সময়, লাল-কালো রঙের কালিতে তখন দারুণ ক্যালিগ্রাফিও আঁকা হইত।
রমা: এইটা কই? গ্রামে? আপনার বাবা কি জমিদার ছিলেন?
অমৃতা: না না, এইটা গ্রামে না। এইটা লাহোর শহরের কথা। আমার বাবা বেশ ভালো বড়লোকই ছিল। জায়গিরদার পরিবার থিকা আসা। বেশ সামন্তবাদী ঘরানার। কিন্তু লাহোরে উনি বেশ বড় একটা বাড়ি বানাইসিলেন। তবে, (মনে হইলো, উনি উনার পরিবারের কোনো গোপন কথা কইতে যাইতেসেন) আমার বাবা কিন্তু চৌদ্দ বছর বয়সে ঘর ছাইড়া সন্ন্যাসী হইসিল— বালক সাধু আরকি। আর ওই সাধু থাকা অবস্থাতেই উনি আমার মায়ের প্রেমে পড়লেন। এইভাবেই কবি হয়ে উঠলেন। Continue reading