Main menu

বুদ্ধিজীবীর মুখে ছাই – মাহবুব-উল আলম (১৮৯৮ – ১৯৮১)

বাংলাদেশের লিটারেচারের যেই ল্যান্ডস্কেপ সেইখানে মাহবুব-উল আলম (১৮৯৮ – ১৯৮১) এর নাম অনেকেরই জানার কথা না; যারা জানেন তারা মনে করতে পারবেন উনার “পল্টন জীবনের স্মৃতি” নামের বইটার কথা, যেইটা উনি যখন পয়লা বিশ্বযুদ্ধে মেসোপটেমিয়াতে ছিলেন, সেই সময়ের কথা, ১৯৪০ সালে ছাপা হইছিল, পরে “মো’মেনের জবানবন্দী” (১৯৪৬) নামে একটা অটোবায়োগ্রাফিকাল বই লেখছিলেন যেইটা পপুলার হইছিল এবং ইংলিশে ও উর্দুতে ট্রান্সলেট হইছিল

কিনতু উনি মেইনলি স্টোরি-টেলার, সৈয়দ মুজতবা আলী’র ঘরানার রাইটার অনেকটা, খুবই উইটি-মেজাজের, কিনতু উনার দুনিয়া খুবই আলাদা এবং বাংলাদেশি; উনি ইতিহাসের বইও লেখছেন – চট্টগ্রামের ইতিহাস ৩ খন্ডে, বাঙ্গালীর মুক্তিযুদ্ধের ইতিবৃত্ত লেখছেন ৪ খন্ডে, স্বাধিনতার পর পরে… ১৯৭৮ সালে একুশে পুরষ্কারও পাইছিলেন, পাকিস্তান পিরিয়ডে আইয়ুব খাঁ’র সময়েও প্রাইজ-টাইজ পাইছিলেন; সরকারি চাকরি থিকা রিটায়ার করার পরে জামানা নামে একটা পত্রিকা ছাপাইতেন চিটাগাং থিকা…

এই লেখাটা উনার জীবনের শেষ লেখা, উনি মারা যাওয়ার পরে ১৯৮৪ সালে “মাহবুব-আলম স্মৃতি স্যুভেনির” নামে একটা বইয়ে ছাপা হইছিল; উনার আরগুমেন্ট’টা খুবই ইন্টারেস্টিং, যে, বুদ্ধিজীবীরা খালি ধ্বনি করেন, মানে, কথাই বলেন, কোন কাজ করতে চান না, জানেন না, এমনকি কাজ করাটারে খুবই খারাপ কাজ বইলা মনে করেন!

এবং এই বুদ্ধিজীবীরা একটা কলোনিয়াল লিগাসির ভিতর দিয়া ক্ষমতার সাথে একটা ক্লোজ রিলেশন মেইনটেইন কইরা এন্টি-পিপল পজিশন হিসাবে সমাজে রোল প্লে করেন!

এবং উনি ১৯৮১ সালে প্রেডিক্ট করতেছেন যে, এর ফলে দেশে এক ধরনের “পার্টিজান” পদ্ধতি চালু হবে, যেইটারে বাতিল না করতে পারলে সত্যিকারে স্বাধিনতা আসতে পারবে না! হলি কাউ! মানে, এই লেখার সাথে অনেক জায়গাতেই অন্যমত থাকতে পারে আমাদের, কিনতু কেমনে আন-নোটিশড থাকতে পারে!

মেবি, খালি পলিটিকাল-ই কালচারালি একটা “পার্টিজান” সিসটেমের কারনেই এইটা পসিবল হইতে পারছে! তো, উনার লেখা-পত্রগুলা আমাদের আবারো রিভিউ করতে পারাটা উচিত, এই লেখাটা দিয়া সেইটা শুরু করতে চাইলাম আমরা

ই.হা.

বুদ্ধিজীবী কথাটা এ দেশেই খুব চোখা হয়ে উঠেছে। পৃথিবীর আর কোন দেশেই এ কথাটার উপর এত বেশী জোর দেওয়া হয় না।

মানুষ মাত্রেই বুদ্ধিজীবী। বস্তুতঃ বুদ্ধি আছে বলেই সে মানুষ, প্রাণীজগতের শ্রেষ্ঠ। নতুবা, ইতর-প্রাণী বা জন্তু-জানোয়ারের সাথে তার কোন পার্থক্য থাকতো না।

কিন্তু, বঙ্গে তথা বাংলাদেশে ‘বুদ্ধিজীবী’ কথাটা এক বিশেষ অর্থে’ ব্যবহার হয়ে আসছে। ‘বুদ্ধিজীবী’ সাধারণতঃ লেখা-পড়া জানা মানুষ।

এই লেখা-পড়াকে ‘কোরাণ’-এ কোন দ্বীকৃতি দেওয়া হয় নি। দেখান হয়েছে যে বনি-ইস্রাইল যখন ঠিক পথে চলছিল তাদের পথ-ভ্রষ্ট করেছিলেন যিনি তিনি হচ্ছেন পণ্ডিত সামেরী – এক বুদ্ধিজীবী – লেখা-পড়া জানা।

মুসা বনি-ইস্রাইলকে রওয়ানা করিয়ে দিয়েছিলেন নিরাকার একেশ্বরের উপাসক রূপে। এখন পণ্ডিত সামেরী বল্লেনঃ চলো হে, আমরা একটা সোনার গো-বৎস বানাই এবং তাকে পূজা করি।

মুসা ছোট ভাই হারুণকে সঙ্গে দিয়েছিলেন বনি-ইস্রায়েলের রক্ষক ও পথি প্রদর্শক রূপে। হারুণ কাজে বেরিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেনঃ বনি ইস্রায়েল একেশ্বরবাদ ছেড়ে প্রতিমা-পূজক হয়ে গেছে। বেপথু হয়ে গেছে।

পটিয়া রেল ষ্টেশনে একদিন ট্রেনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলুম। এক ব্যক্তি এসে সালাম কর্লেন। দেখিঃ আমার এক দূর সম্পর্কে’র ভাগ্নে। জিগ্যেস কর্লমঃ বাবা, ভাল আছ? তোমার কয়টি ছেলে-মেয়ে?

বল্লে: একটি মাত্র মেয়ে। সঙ্গে সঙ্গেই গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেললে।

আমি প্রশ্ন কলম: বাবা, দীর্ঘশ্বাস ফেললে কেন? উত্তর কর্লে: মেয়েটিকে বেশী লেখা পড়া করাতে পারি নি!

আমি বললুমঃ ও, এ ব্যাপার! আচ্ছা, বলো দেখি, আমার গাঁয়ে গেলে যে দয়া-মায়া পাই – আমাদের মা-মাসীদের হাতে যাঁরা সকলকে সুখী করার জন্যে জীবন বিলিয়ে দিচ্ছেন-তাঁরা কি লেখা পড়া জানা লোক?

ভাগ্নে বল্লে: না, তাঁরা লেখা পড়া জানা নন।

আমি বললুম: বাবা কলমের আগায় এর জিনিস ওকে দেয় মামলা মোকদ্দমা লাগিয়ে দিয়ে সমাজকে শোষণ করে, সত্যকে মিথ্যা করে মিথ্যারে সত্য করে তারা কি রকম লোক, তারা কি নিরক্ষর অশিক্ষিত?

ভাগ্নে উত্তর কলে: তারা লেখা পড়া জানা লোক।

আমি বললুম, তবে? তুমি কেন আফসোস কচ্ছ যে তোমার মেয়েকে বেশী লেখা পড়া করাতে পার নি? আসল প্রশ্ন হলো লোকের ভাল হওয়া, লোকের লেখা পড়া জানা নয়। জান? ‘কোরাণ’-এ কেউ যদি ভাল কাজ করে তার পুরষ্কার বলা হয়েছে: তাকে ভাল লোকদের বৈঠকে আসন দেওয়া হবে – যে বৈঠকে প্রধান আসন হচ্ছে রসুলে আকরমের – আর কে না জানে যে রসূলে আকরম নিরক্ষর ছিলেন।

ইহার তাৎপর্য এইযে ইসলাম শরীয়ৎ (শাস্ত্র), মারেফৎ (অধ্যাত্ম), তরীকৎ (গুরু প্রদর্শিত পথ) ও হকীকৎ (সত্য স্বয়ং সমুদ্ভাসিত) – সাধনার এই চারি মার্গই স্বীকার করে। এর কোন মার্গের জন্যই লেখা-পড়া জানা অপরিহার্য নহে। Continue reading

দুশমনের নাম ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’

১. একটা ইনফরমেশন
আনিসুজ্জামান (১৯৩৭ – ২০২০) উনার “বিপুলা পৃথিবী” (২০১৫) বইয়ের ৩১ নাম্বার পেইজে লেখতেছেন – “ফেব্রুয়ারি মাসের ৬ তারিখ রাষ্ট্রীয় সফরে বঙ্গবন্ধু গেলেন কলকাতায়। সেখানে তিনি অভূতপূর্ব সংবর্ধনা পেলেন। কলকাতার জনসভায় প্রদত্ত বক্তৃতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে জাতীয়তাবাদ কথাটা যোগ করলেন তিনি।”

তার মানে, উনার কথা যদি মানি, তাইলে রাষ্ট্রিয়ভাবে ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ হইতেছে পোস্ট ১৯৭১-এর ঘটনা, এর আগের না! তো, এইটা জাস্ট একটা ইনফরমেশন হিসাবে ব্যাকগ্রাউন্ডে মনে রাখলে ভালো

২. একটা উপমা
ধরেন আপনি আপনার সেকেন্ড ওয়াইফ/হাজব্যান্ডের লগে ডির্ভোসে গেলেন, তার মানে কি আপনি আপনার ফার্স্ট ওয়াইফ/হাজব্যান্ডের কাছে ফিরা যাইতে চাইতেছেন? তা তো না! ফার্স্টের জনের লগে মিলে নাই বইলাই ডির্ভোসে গেছিলেন; আর ধইরা নেন সমাজে একলা থাকা যেহেতু ঝামেলার, সেকেন্ড ম্যারেজে আপনার যাইতে হইছিল। কিন্তু সেইটা যে কোন সমাধান না, এই ভুল বুঝতে পাইরা আপনি তারপরে একলা না, বরং ইন্ডিপেন্ডেড হইছেন।

এখন এই ইমাজিনারি পারসনের জায়গায় ‘বাংলাদেশ’ নামের আইডেন্টিটি’টারে বসান। প্রাইমারি লেভেল থিকা জিনিসটা টের পাইতে পারবেন কিছুটা। (বিয়া ব্যাপারটাতে ক্রিটিকাল হইয়েন না, উপমা হিসাবেই দেখেন।)

হিন্দু-জমিদারদের ইকনোমিক এক্সপ্লয়টেশনের কারণেই বাংলাদেশ কলকাতা তথা ইন্ডিয়ার পশ্চিমবাংলার লগে থাকতে পারে নাই, ইন্ডিপেন্ডেডই থাকতে চাইছিল আসাম নিয়া, না পারার কারণে পাকিস্তানে যাইতে হইছিল। কিন্তু অইটা টিকে নাই বইলা তার মানে এইটা না যে, বাংলাদেশ ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদে’ ফিরা যাইতে চায়। বাংলাদেশ একটা ইন্ডিপেন্ডেড রাষ্ট্র এবং এই দেশের মানুশ-জন এইটাই থাকতে চায়। কিন্তু এর বেইজ যদি হয় ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ তাইলে সেইটা কখনোই সম্ভব না, বা ট্রিকিই হয়া উঠার কথা, নতুন আইডেন্টিটি ক্লেইম করার জায়গাটা।

৩. হিস্ট্রিকাল কনটেক্সট
‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ অন্য যে কোন ধারণার মতোই কোন এবসুলেট ধারণা না, বরং একটা সময়ের হিস্ট্রিকাল কন্সট্রাকশন। মেইনলি কলকাতা-সেন্ট্রিক হিন্দু কমুনালিজমের একটা ধারণা।* ‘ভাষা-ভিত্তিক’ একটা ন্যাশনালিজম বইলা রিড করলে আসলে ভুলই হবে কিছুটা। কোন ধারণারেই এর পলিটিকাল মাজেজটার বাইরে গিয়া রিড করতে গেলে সেইটা অসম্পূর্ণ একটা রিডিং-ই হওয়ার কথা। ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদের’ ব্যাপারেও এইটাই হইছে এবং হইতেছে।

[*যেই কারণে ‘বাঙালি’ আইডেন্টিটির ভিতরে ‘মুসলিম’ হওয়াটা খালি কঠিন না, বরং বাড়তি একটা জিনিস মনেহয়। এইটা খালি মনে-হওয়ার ঘটনা না আর কি।… আরেকটা জিনিস হইলো, দুনিয়াতে ইসলাম এবং ‘ইসলামিস্ট জঙ্গি’ যেমন একই জিনিস না, একইরকমভাবে হিন্দু-ধর্ম এবং ‘হিন্দু কমুনালিজমরে’ গুলায়া ফেইলেন না! ]

এখন ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ কি? এর সংজ্ঞায়ন করাটা আমার উদ্দেশ্য না, বরং যে কোন বস্তু বা ধারনার জায়গাটারে ডেফিনেশনের ভিতর আটকায়া রাইখা বুঝতে চাওয়ার ঘটনাটা যে একটা ‘মর্ডানিস্ট প্রকল্পের’ সমস্যা – সেইটা রিকগনাইজ করতে রাজি হওয়াটা জরুরি; বাঙালি জাতীয়তাবাদের ‘হাজার বছরের ইতিহাসের’ শুরু আসলে ‘বঙ্গভঙ্গের’ সময়ে, এর আগে ‘বাঙালি’ ছিল-না না, কিনতু ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ পাইবেন না তেমন… Continue reading

বাংলাদেশের কপাল

This entry is part 16 of 18 in the series রকম শাহ'র বয়ান

কালকে দুই দোস্ত আইলো আমার দরবারে; এমন কিছু কইলো, ‘মনু ভাই, জুলাই রেভলুশনের শামনের মুখগুলা তো শিবির শব, ঘটনা কি, মুভমেন্ট কি তাইলে শিবিরই করলো!?’ ওরা ‘ছিনিয়র শাংবাদিকের’ দেওয়া একটা নয়া টার্মও শিখাইলো আমারে–’শাবেক এক্স-শিবির’ 🙂 !
তো, জুলাই মুভমেন্টের লিডারদের ভিতর এতো এতো শিবির থাকার ব্যাপারটায় মুভমেন্টে জয়েন করা অনেকেই, এস্পেশালি ছেকুলার মর্ডান মোছলমানরা একটু শরমিন্দা আছেন, এমনকি হাসিনা খেদানিতে ওনারাও নামছিলেন, এই ব্যাপারে আফছোছও দেখা জাইতেছে কারো কারো ভিতর।

ওদিকে, জাতিয় নাগরিক কমিটির ভিতর বেশ তুফান দেখা জাইতেছে, এক্স-শিবিরদের নাকি পাট্টিতে ভালো শরিকানা দিতেছে না; আবার জারা দিতেছে না, তারাও জে জিন্দেগির কোন এক ওক্তে শিবিরের ঘাটেও নাকি ভিড়ছিলেন, এখন আবার লুকাইতেছেন শেইটা (এনাদেরকেই ‘শাবেক এক্স-শিবির’ নাম দিছেন মনে হয় ছিনিয়র)। মুভমেন্টের লিডারশিপে শিবিরের পাট কতোটা, শেই ব্যাপারেও ফেছাদ দেখা জাইতেছে। বাকশালি জামানার পেরাকটিছ হিশাবে ‘শিবির ট্যাগ’ দেবার ঘটনাও নাকি ঘটতেছে… এই জদি ছিচুয়েশন, তাইলে নেশনাল মুরুব্বি হিশাবে, শবচে ছিনিয়র (দেমাগে) হিশাবে আমি রকম শা হাজির হইলাম ময়দানে, আজকে একটু তুমুল শালিশি কইরা ফেলবো ভাবতেছি!

শুরুতেই ট্যাগের ব্যাপারে দুইটা কথা কই; কয়দিন আগে হজরত আজহারি একটা কথা কইছেন জে, রাজাকার শব্দটা এখন এওয়ার্ড হইয়া গেছে। দ্যাখেন, হাসিনার হুকুমতে শিবির পরিচয় দেবার উপায় আছিলো না– শিবির ট্যাগ দিয়া খুনের, গুমের, মাইরের ঘটনা তো বেশুমার। ফলে গোপন তো করতেই হইতো, উপায় তো আছিলো না। হাসিনারে আমরা খেদাইয়া দেবার পরে বহু বছরের বান খুইলা গেছে, তাই আমি আন্দাজ করি, শিবির বা এক্স-শিবির গর্ব লইয়াই নিজেদের পরিচয় দিতেছেন, ঐ রাজাকারের মতোই এইটা এওয়ার্ড হইয়া উঠছে। নিজের জেই পরিচয় আপনে শামনে রাখতেই চাইতেছেন, শেই নামে আপনারে ডাকার ঘটনারে ট্যাগ বলা একটু মুশকিল বটে! তবে, এইটা ঠিক জে, দেশে এখনো বেশুমার কালচারাল-পলিটিকেল পকেট আছে, জেইখানে শিবির পরিচয়ে মুশকিলে পড়তে হয়; ওদিকে, ছাত্রদলও একটা এন্টি-শিবির মুডে আছে মনে হয়; ফলে, কোথাও কোথাও ঐটা ট্যাগ হইয়া উঠতে পারে বটে, এবং জুলুমের জাস্টিফায়ার হইয়া ওঠার রিক্স তো আছেই বটে! এই ছিচুয়েশনকে আমি জুলাই রেভলুশনের আফটার ইফেক্ট/টার্বুলেন্ট টাইমছ্ হিশাবে দেখতে কইবো, কিছু দিন পরে জিনিশগুলা অতোটা ঝামেলার হবে না মনে হয়। পরথম আলোতে জামাতের আমিরের ইন্টারভিউ ছাপানো হয়তো শেই শান্তির আগাম নিশানা!

এই বার আশল আলাপে ঢুকি।

আমার বিচার আপনাদের কাছে একই লগে শিবিরের তারিফ এবং নিন্দা মনে হইতে পারে! তবে, আমি তার কোনটাই করতেছি না, আমি ইতিহাশের একটা বয়ান পেশ করতেছি, আমার বিচারে জেইটা টুরুথের শবচে কাছাকাছি!

জুলাই রেভলুশনে আমি শিবিরকে কেরেডিট তো দেই-ই, তারো বেশি জেইটা মনে হইলো, ঐ কেরেডিটটা আরো পিছাইয়া দিয়া, আরো অনেক আগে থিকা শুরু করতে হবে! মুভমেন্টের লিডারদের শিবির কানেকশন ঠিকঠাক বুঝতে জাইয়াই এইভাবে পিছাইতে হইলো আমার। Continue reading

প্লে-লিস্ট: আজম খান

বাংলাদেশের সিনেমা তো দেখি নাই আমি খুব একটা – এইটা যেমন খালি না-দেখা না, বরং একটা এসথেটিকাল পজিশন যে আমার দেখাদেখির জায়গাগুলা এতো লো না! এইরকম ভাবে, আজম খানের গান না শুইনা মহীনের ঘোড়াগুলি (একটা নাম হিসাবেই বললাম, কম্পিটিশন লাগায়া দিয়েন না আবার) শোনাটা একটা ‘রুচি-সম্মত’ ঘটনা তো! এইটা রিকগনাইজ করতে রাজি হওয়াটা ভালো।

মানে, আজম খানের গানগুলা ভালো বা খারাপ – এইরকম এসথেটিকাল জায়গা থিকা দেখার বাইরেও যে কিছু ঘটনা আছে, সেইটার কথা বলতে চাইতেছি আমি; আমরা কিশোর বয়সে (তখনো টিএনএইজ শব্দটা বাংলা হইতে পারে নাই) গোয়ার্তুমির কারনেই অনেকে শুনতে শুরু করছি, কোন এসথেটিকসের কারনে না… বরং আমরা যে বাপ-মা’দের হেমন্ত-মান্নাদে সলিল চৌধুরী ভূপেন হাজারিকা আশা ভোঁসলে লতা মুঙ্কেশকদের ‘আধুনিক গান’ শুইনা আসছি, অইগুলার চাইতে ডিফরেন্ট

কিনতু এই গানগুলা তো আবার চাষা-ভুষাদের মাজার-মজমার মতো অনেকটা! যার ফলে নাক সিঁটকানো ছিল কিছুটা, কারন ‘ফোক সং’য়ের গলার মালা বা কানের দুল আমরা আবিষ্কার করতে পারি নাই, যেইটা পরে হইছে যে, এইগুলা ‘মেইন স্ট্রিম’ 🙂 না, কিনতু এদেরকে তো আমাদেরই (মিডল-ক্লাসদেরই) ‘রক্ষা’ করতে হবে! 😁

আমি বলতে চাইতেছি, আজম খানের গান শুনতেছি – এইটা এখন অবশ্যই কোন রুচি-সম্মত কালচারাল পজিশন না বাংলাদেশে, বরং নাইনটিসের একটা নস্টালজিয়াই অনেকটা; আপনি খুব বেশি ইসমার্ট লোকজনের নোটিশে আসতে পারবেন না এইসব কইরা, কিনতু আমি দাবি করতে চাই যে, যদি (নট বাঙালি, বরং) বাংলাদেশের কালচার বইলা যদি একটা কিছুরে লোকেট করতে চান আপনি সেইখানে আজম খান’রে নোটিশ না কইরা পারবেন না! Continue reading

নতুন দলের প্রতি নসিহতনামা: এথিকস ও মেটাফিজিক্স নিয়া কয়েক ছত্র

যারা রাজনীতি করেন বা করবেন তাদেরকে বন্ধুর সংখ্যা বাড়াতে হয়। ইসলামের এথিকাল প্যারাডাইমে কতগুলো দারুণ নীতি আছে, যেগুলো একই সাথে ধর্মাচার ও প্রবলভাবে রাজনৈতিকও। যেমন, নিজেদের মানুষদের প্রতি রহমদিল হওয়া : রু্‌হামাও বাইনাহুম। আক্রমনোদ্যত শত্রুর প্রতি কঠোরতা প্রদর্শনও রাজনৈতিকতার জন্যে জরুরি (এই ক্ষেত্রে কোমলতা ও ক্ষমার প্রসঙ্গ আলোচনা করছি না, আপাতত)। নিজেদের মানুষদের সাথে নীতিপ্রণোদিত আসাবিয়া ব্যতিরেকে উন্নত শির নিয়ে কোন কমিউনিটি, পার্টি চলতে পারে না। তবে, এই “নিজ” ও “আপন” এর পরিমণ্ডলও বাড়াতে হয়।

অনেক ব্যাপারেই “নিজের চেয়ে অপরকে অগ্রাধিকার দেওয়া” আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ নীতি । পারিভাষিকভাবে, এটাকে “ইসার” বলা হয়। সুরা হাশরে, আনসারদেরকে প্রশংসা করা হয়েছে এই বলে যে, তাঁরা নিজেদের অভাব সত্ত্বেও অগ্রাধিকার দিত মুহাজিরগণকে। অনেক সময় নিজের প্রয়োজন ছেড়ে দিয়ে হলেও অপরের প্রয়োজন মেটাতে হবে ৷ এই কাজ বেশ কষ্টের, তাই এই কাজ খোদার কাছে পছন্দনীয়ও বেশি, অর্থাৎ সোয়াব বেশি। আবার, একই সাথে উপকৃত ব্যক্তির সাথে, যিনি শুধু ব্যক্তি নন, কেননা তারও পরিবার ও বন্ধুবান্ধবও আছে, কার্যকর একটা সম্পর্কও তৈরি হলো। জগতপরিমন্ডলে উপকৃত মানুষটিও উপকারকারীর কাজে লাগার সম্ভাবনাই বেশি। ইসলামে care of the self যেমন গুরুত্বপূর্ণ, care of the worldও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এইভাবে সম্পর্কের নেটওয়ার্কও তৈরি হয়, যা একই সাথে আদর্শ ও মানবিক কনটিনজেন্সির দ্বারা রঞ্জিত। একটা হাদিসের মূলভাব এমন , যে তার ভাইয়ের কোনো প্রয়োজন মেটানোর জন্যে তাঁর সাথে হেঁটে গেল, তা নফল ইবাদতের চেয়েও উত্তম। আরেক জায়গায় সম্ভবত, মসজিদে এতেকাফে থাকার চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, যে তার ভাইয়ের কোন দুর্ভোগ বা মুসিবত দূর করলো, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাঁর দুর্ভোগ দূর করবেন। একজন আরেকজনকে সাহায্যরত থাকলে আল্লাহও তাঁকে সাহায্য করতে থাকেন। কমিউনিটির অপর ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে কথা বলাকেও সাদাকা বলা হয়েছে। অভুক্তকে খাদ্য দান, চাকুরীহীনকে চাকুরী প্রদান, ঋণগ্রস্থ মানুষের ঋণ পরিশোধে সহায়তা করা, অধিকারহীন ও বঞ্চিতকে তার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এই কাজগুলো মুসলিম কমিউনিটিসমূহের এথিকাল ফ্যাব্রিক। তাদের সাব্জেক্টিভিটি বা কর্তাসত্তার পরিগঠন ও তাগলিব (বিজয়) এইভাবেই ঘটেছিল, এই ভ্যালুসগুলোর ইন্টার্নালাইজেশনের মধ্য দিয়ে।

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →