Main menu

নাউ প্লেয়িং: লিসা হ্যানিগান

This entry is part 2 of 7 in the series নাউ প্লেয়িং

লিসা হ্যানিগান আইরিশ মিউজিশিয়ান, সিংগার-সংরাইটার। গান মূলত ইন্ডি ফোক জঁরার। অ্যালবাম এখন পর্যন্ত দুইটা – সী সো [Sea Sew] (২০০৮), প্যাসেঞ্জার [Passenger] (২০১১)। [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

হ্যানিগানকেও একই সাথে হার্শ এবং স্মুদ বলা যায়। ইন ফ্যাক্ট, দুইটার মাঝের লাইনটা প্রায় মিলায়ে যায় ওর গানে। হ্যানিগান এক্সাইটিং, ইনক্লুসিভ, ভ্যারিড – একটা স্টাইলের ভিতর অন্য অনেকগুলা স্টাইল।এবং হ্যানিগান গ্রোজ স্লোলি কিন্তু গ্রোজ স্ট্রং। রাইসের সাথে মিউজিক করায় বারবার তুলনা চলে আসে, কিন্তু তাদের একসাথে করা গানের তুলনায় আমার হ্যানিগানের গানই বেশি ভালো লাগে, যদিও একসময় উল্টাটা ঘটত। এইটা আমার পার্শিয়ালটি হইতে পারে, কিন্তু রাইস শোনার সময় আমার হ্যানিগানের কথা মনে আসলেও হ্যানিগান শোনার সময় আমি রাইসের কথা ভাবি না।

হ্যানিগানও মেলাংকলিক [আইরিশ ফোক ট্র্যাডিশন হয়তো], কিন্তু ওর মেলাংকলিটা মোর এভরিডে কাইন্ড অভ মেলাংকলি। মানে, হ্যাপি আর স্যাডের পার্থক্যটা ব্লার হয়ে যাইতে থাকে। আছে তো আছে টাইপ। ওর প্রেমটাও আছে তো আছে টাইপ – আলাদা করে প্রেমের এসে সেইভ করে যাইতে হয় না, সবাই নিজেরা নিজেরাই সেইভ্‌ড্‌ হয়ে যাইতে পারে, সম্ভব সেইটা, কমপ্যাশন থাকলেই হয়ে যায়। হ্যানিগান মেটাফরিক্যল। ওর গানে ওর যেই স্টোরিগুলা আছে, সেইগুলার সাথে রিলেট করার জন্য মেটাফোর ও নিজেই দিয়ে দেয় – পার্সোনাল স্টোরির জন্য পার্সোনাল মেটাফর থাকলে ভালো তাই, অন্য-নতুন স্টোরির জন্য অন্য-নতুন মেটাফর থাকলে ভালো তাই।

 

Continue reading

আহসান হাবীবের কয়েকটা কবিতা

উপমারে কবিতা ভাবতে পারেন নাই আহসান হাবীব (১৯১৭ – ১৯৮৫), কাহিনি’রে যতোটা ভাবতে পারছেন। এই জিনিসটা ইনিশিয়াল স্টেইজে উনারে ফররুখ আহমেদের চাইতে ডিফরেন্ট করে নাই খালি পরে কলকাতা বেইজড বাংলা-কবিতার ধারণা থিকাও বাঁচাইয়া দিছে। কিন্তু শেষমেশ বাংলা-কবিতারে বুকশেলফে তুইলা রাখার মতো সফিশটিকেশনই দিতে চাইছেন আহসান হাবীব। কমন পিপলের কথাই কইছেন আন-কমন, শুদ্ধ/আপোষী বাংলায়। [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

সময়টারে নিছেন উনি, সময়ের ভিতরে নিজের কবিতারে ইনসার্ট করতে চাইছেন, বাট এইটা দিয়া সময়টারে ডিফাইন করার মতো সাহস উনি দেখাইতে চান নাই। যার ফলে বলার জিনিসগুলি খুবএকটা চেইঞ্জ না হইলেও বলার প্যার্টানটাতে কিছু সময় পরপরই চেইঞ্জ আনতে পারছেন। অলওয়েজ অ্যান আউটসাইডার বলছেন তার মিডল-ক্লাস রিডারদেরকে, আমি কোনো আগন্তুক নই! আগুন্তকরা মিইলা একটা আগুন্তুক লাঙ্গুয়েজ বানাইয়া ওইখানে আশ্রয় নিছেন, যেইখানে আগুন্তুক না হইয়া বাঁইচা থাকাই মুশকিল। এর লাইগাই কি আহসান হাবীব কিছুটা শরমিন্দা থাকতেন সবসময়?

 

——————————————————————-

কাশ্মিরী মেয়েটি ।। কোনো বাদশা’যাদীর প্রতি ।। তামসিক একটি মুর্হূত ।। যত দূরে যাই ।। গিলগামেশ কাহিনী ।। আমি তখন ।। আমি কোনো আগন্তুক নই ।। দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি ফ্ল্যাট ।। বসবাস নিবাস ।।

———————————————————————

 

কাশ্মিরী মেয়েটি

কাশ্মিরী মেয়েটির কালো চোখ।
ফরিদের ছোট ছেলে সে-চোখের কিছুটা আলো
চেয়েছিলো!

সাহস অসীম নয়
কেননা মেয়ের
অবিরাম হাতপাখা আঁখিজল ঢের
দেখেছে সে।

এমন কি মাঝে মাঝে দু’একটা ফুটো তামা
সেই হাতে রেখেছে সে।
কাশ্মিরী মেয়েটির ঘাগরাটি লাল,
কাশ্মিরী মেয়েটির তনু গোলগাল।
ফরিদের ছোট ছেলে নাম আমজাদ
তার ছিলো সাধ,
খেলবে ম্যাজিক সেই ঘাগরাটি নিয়ে
কাশ্মিরী মেয়েটিকে
পুরো এক পয়সার সিগারেট দিয়ে

কাশ্মিরী মেয়েটির চোখ দুটি সাপের মতন,
কাশ্মিরী মেয়েটির দাঁতগুলি ভীষণ ধারালো:
নখে তার বিষ –
মুখে বুলি নরম নরম:
বেইমান কুত্তা হায় তোম্।

পথের মোটর এক হোলো বানচাল!
ফিরে গেলো দিন;
কাশ্মিরী মেয়েটার ঘাগরা বিলীন,
হাসে তার চোখ।
আমজাদ চেয়েছিলো কিছুটা আলোক!

(রাত্রিশেষ, ১৯৪৭)

Continue reading

নাউ প্লেয়িং: ডেমিয়েন রাইস

This entry is part 1 of 7 in the series নাউ প্লেয়িং

ডেমিয়েন রাইস আইরিশ মিউজিশিয়ান, সিংগার-সংরাইটার, রেকর্ড প্রডিউসার। গান মূলত ফোক, ইন্ডি রক, ফোক রক জঁরার। এখন পর্যন্ত অ্যালবাম তিনটা – ও [O] (২০০২), ৯ [9] (২০০৬), মাই ফেভারিট ফেইডেড ফ্যান্টাসি [My Favourite Faded Fantasy] (২০১৪)। [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

রাইসের গান একই সাথে হার্শ এবং স্মুদ। অস্থির হইলেও শান্ত, শান্ত হইলেও অস্থির। এক ধরনের স্যাডনেস আছে, মেলাংকলি আছে, আমি আইরিশ ফোক লালাবাইগুলার সাথে সেইটার মিল পাই। রাইসের সাথে প্রথমদিকে লিসা হ্যানিগান গান গাইত। প্রথমদিকে বলতে রাইসের প্রথম দুইটা অ্যালবামের কাজ চলাকালীন সময়ে হ্যানিগান ওর ব্যান্ডের অংশ ছিল, পরে আলাদা হয়ে যায়। হয়তো ওদের একসাথে করা মিউজিকই ভালো ছিল, ওদের হারমনি-সমেত। অন্তত রাইসের জন্য বটেই, হ্যানিগান একটা এজ দিত ওকে। হ্যানিগানের জন্য হয়তো আলাদা হয়ে যাওয়াটাই ভালো ছিল। তবে প্রসঙ্গ আসলেও, হ্যানিগান এখানে না, সিন্স শী ডিমান্ডস হার ওউন প্রোফাইল।

রাইসের গানে প্রেম একটা ডমিনেটিং থীম। কিন্তু এই প্রেম হয়তো রোম্যান্টিক প্রেমের চাইতে ব্রড [মানে, এমন না যে শুধু রোম্যান্টিক প্রেম হইলেও সমস্যা ছিল – সেইটাও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণই, আমাদের অপ্রস্তুত-হয়ে-থাকা সত্ত্বেও]। একদিকে প্রেমকে রিয়ালিস্টিক্যলি দেখানোর চেষ্ট আছে – “রিয়াল” প্রেম, বা, দ্য “রিয়্যালিটি” অভ প্রেম; অন্যদিকে আইডিয়ালিস্টিক ভিউ-ও আছে – শেষপর্যন্ত প্রেমই আমাদের বাঁচায়ে দিবে, তুমি আমাকে বাঁচায়ে দিবা, বা, হয়তো আমিও তোমাকে।

Continue reading

বলিউডি কিছু কেস স্টাডি

১. হিন্দিতে ডাবিং করা স্পাইডারম্যান দেখলাম কিছুটা। নায়ক রেস্টুরেন্টে বিয়ার প্রোপোজাল দিতে চায় নায়িকারে; এনগেজমেন্ট রিং’টা দেয় রেস্টুরেন্ট ম্যানেজারকে, দুইজনে প্লান করে–নায়িকারে দেওয়া ড্রিংকের গ্লাসে থাকবে সেই রিং, তখন ভায়োলিনে বাজানো হবে নায়িকার ফেভারিট মিউজিক ট্র্যাক। হিন্দিতে কইতে থাকা নায়কেরে এমন দরকারি সার্ভিসটা যেই ম্যানেজার দিলেন সে কথা কয় বাংলায়। এই হিন্দি নায়কের নাম বিজয় মনে হইলো, আর একজন ভিলেনের নাম ইউসুফ। এমনতর ডাবিং-এ কোলকাতার স্পেশাল কোন ফিলিং হয় নাকি? ইন্ডিয়ার মোসলমান সিটিজেনদের? কী জানি! বাট, হিন্দি হিন্দুরা মোসলমান আর বাংলারে কোন কোন পজিশনে দেখতে পায় সেইটা ভিজ্যুয়ালি দেখাইয়া দেওয়া গেল এই ডাবিং দিয়াই। সো, ফিল্ম কিন্তু বানান লাগলো না মোটেই; হলিউডি ফিল্ম দিয়াই, সরাসরি কিছুই না বলে চাকর আর দুশমনরে চিনাইয়া দেওয়া গেল আরামসে…

[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

২. সমাজে ফিল্ম কেমনে কেমনে কাম করে সেইটা বোঝার জন্য বলিউডি কিছু কেস স্টাডি করা যায়; ইন্ডিয়ার আম আদমী পার্টি লইয়া বাংলাদেশে কিছু আলাপ আছে; আছে কিছু লোকের আশা দেখতে পাওয়া, দেখতে পাওয়া সাকসেসের সম্ভাবনাও। Continue reading

হরফ

১.
ইমেজ যে একটা টেক্সট – এইটা আমাদের কনশাসনেসের মধ্যে আসতে পারে নাই এখনো। কোন নিউজের লগে ফটো দেইখা ভাবতে পারি; আরে, এইটা তো একটা ছবি-ই, নিউজ তো আর না! দঈতের ছবিগুলা এই চিন্তাটারে খুব একটা স্বস্তি দিতে পারার কথা না।

একটা ফটোর ভিতরে আমরা হরফ ইনসার্ট করি না, বরং ফটোটাই কথাগুলার ফিলিংসটারে ডিটারমাইন্ড করতে থাকে। এই সিগন্যালটা রিড করতে পারার পরেও আমরা যখন বুঝতে চাই না, অস্বস্তিটা তখনই ক্রিয়েট হয়।

২.
অ্যালোন বইলা একটা জিনিস ফিল করতে শিখছি আমরা, সো এইটা আমরা দেখতেও পাই। দেখা যে যায়, এইটা মিথ্যা না, কোনমতেই। রুমির কবিতাতে একটা কাহিনির কথা আছে যেইখানে একটা গরু পুরা বাগদাদ শহর ঘুইরা বেড়াইলো আর খালি দেখলো যে, একটা মালের-গাড়ি থিকা কিছু খড় খইসা পড়তেছে…

অনেককিছু আছে বইলাই আসলে অ্যালোন হওয়া যাইতেছে। অ্যালোন হইলো উইথইন।

– এডিটর, বাছবিচার।

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →