Main menu

চলেন আমের কোলে উঠি

হিন্দি আর উর্দু বুলিতে পয়লা টকি সিনেমা কিন্তু একটাই, দুইটা না! আরো মজার ব্যাপার হইলো ‘আলম আরা’ নামের সেই সিনেমা কোন হিন্দু বা মোসলমান বানায় নাই, বানাইছে একজন জরথুস্ট্রিয়ান–আর্দেশির ইরানি, পারসি একটা ফোক গপ্পো লইয়া! ধনী-গরিবের পিরিত লইয়া মিউজিক্যেল টাইপ সিনেমা–মিউজিক পারসি/মোঘল ঘরানার–সুফিয়ানা টাইপের পপের মিশেল, এখনকার হিন্দি-উর্দু-বাংলার পপ ঘরানার সিনেমাগুলি যেমন হয়, তেমনই একখান সিনেমা ‘আলম আরা’! আরেকটা ব্যাপার হইলো, সিনেমাটা ফিমেল লিড!

তার আগে ভারতে যেইসব বোবা সিনেমা হইছে সেইগুলা প্রায় সব হিন্দু মিথোলজি লইয়া; পয়লা টকি ওই হিন্দি/উর্দু সিনেমা এই রিজিয়নের পরের সিনেমারে ডিটারমাইন কইরা দেয়। সিনেমা আর গান হিট, ক্রাউড সামলাইতে পুলিশ দরকার হইছিল! এই সিনেমার বুলি এমন মাত্রায় ডেমোক্রেটিক আছিল যে তা এমনকি হিন্দি-উর্দু, এই দুইটা বুলির ইন্টারসেকশন হিসাবে প্লে করতে পারছে; এই দুইটা বুলির ব্যাপারে খেয়াল করার ব্যাপার হইলো, দুইটার গ্রামার সেম, স্রেফ ভোকাবুলারি লইয়া কিছু কম্যুনাল ফারাক আছে।

ইরানি সাহেব জরথুস্ট্রিয়ান হওয়ায় মে বি হিন্দু-মোসলমানের কম্যুনাল চিপাটা এড়াইতে পারছিলেন!পরের হিন্দি সিনেমারে উনি বাঁচাইয়া দিছেন, থিম/সাবজেক্ট যেইটাই হৌক পরের হিন্দি সিনেমা বুলির ব্যাপারে ইরানি সাহেবের ওই বেসিক রুলটা ভায়োলেট করে নাই। নাইলে ‘আদমী’ নামে ১৯৩৯/১৯৬৮/১৯৯৩ সালের তিনটা হিন্দি সিনেমার নাম হইতো মে বি ‘মনুষ্য’! কিন্তু আরো বড়ো ব্যাপার আছে একটা; আদমী আর মনুষ্যের ফারাক আসলে ততো কম্যুনাল ফারাক না, যতো ক্লাসের ফারাক–হিন্দুত্বের কনটেক্সটে কাস্ট বা বর্ণের ফারাক কইলেই আরেকটু ঠিক হয়। Continue reading

জেমস টেইটের কবিতা

[pullquote][AWD_comments][/pullquote]যদিও কান্ট্রি এটমোসম্ফিয়ারের কবিতা উনি লিখছেন, তারপরও জেমস টেইটের (১৯৪৩ – ২০১৫) কবিতার টোনটা আসলে পল্লীকবি রবার্ট ফ্রস্টের মতো না। ফ্রস্টের পল্লীকবিতার মধ্যে ব্রিটিশরা যেই মেডিভেল ইংল্যান্ডের আনন্দ খুঁইজা পায়, আম্রিকান লিটারেচারের হিস্ট্রিতে সেইটা বেশ দূরের একটা জিনিসই হওয়ার কথা। জেমস টেইটের কবিতাতে সারফেইসগুলি খালি এক একটা ইল্যুশন না যা ডিপ থটের দিকে নাইমা গেছে; বরং সারফেইসগুলিই আছে, ডিপ বইলা যদি কিছু থাকে সেইটা ভিজিবল হইতেছে এইখানেই; ব্যাপারটা একইসাথে খুবই কমিক্যাল এবং স্যাড।   

এইখানে ঠিক বাইছা বাইছা উনার বেস্ট কবিতাগুলিই রাখা হয় নাই, বরং বিভিন্ন সময়ের লেখা কবিতা আছে, যেইটা পইড়া উনার কবিতা  সম্পর্কে কিছু ধারণা করা যাইতে পারে।

 

———————————————————————————————————-

মিথ্যার বই।। কেন আমি বিছানা থিকা উঠবো না।। আয়না।। লেইট হারভেস্ট।। সঞ্জারী।। শ্যাডো বক্সিং।। দ্য ট্রাপ।। যদি তুমি সাগরে হারায়া যাও।। বধির মেয়েটা গান বাজাইতেছে।। উল্লুকরে কেমনে কবিতা লেখা শিখাইবেন।। কঠিন একটা চইলা-যাওয়া।। আমর্হাস্ট থিকা ইস্ট হ্যাম্পটন।। কবিতা ।। গুডটাইম জিসাস।। ওদেরকে বলো  ছিলো এইখানে।। নেইবারস ।। এইটা এমনেই ঘটে ।। নাশকতার ষড়যন্ত্র ।। গরম গরম কথা ।। নাথিং সেইটাই, এইটারে যা মনে হয়।। ঝিঁঝিঁ পোকা ঝিঁঝিঁ পোকা ।। পুরান সোলজাররা ।।

———————————————————————————————————-

 

মিথ্যার বই

তোমারে বলতে চাই আমি
একটা কথা। এক মিনিটের লাইগা
তুমি কি একলা হইতে পারবা? এখন পর্যন্ত আমি
মিথ্যা কথাই বলছি। তুমি কি বিশ্বাস করো

আমি যে বিশ্বাস করি নিজেরে? তুমি কি বিশ্বাস করো
তোমারে, যখন তুমি বিশ্বাস করো আমারে? মিথ্যা বলাটা
ন্যাচারাল। আমারে মাফ কইরা দাও। সারজীবনের লাইগা
আমরা কি একলা হইতে পারবো? আমাদের সবাইরে মাফ কইরা দাও। শব্দগুলি

আমার দুশমন। কখনোই একলা ছিলাম না আমি;
উপরিগুলা, বেঈমানিগুলা ছিলোই। এমনকি এখনো আমি
মিথ্যা বলতেছি। বিশ্বাস করো তুমি
এইটা? আমি সত্যি কথা বলতেছি তো।

[দ্য লস্ট পাইলট, ১৯৬৭।]

 

কেন আমি বিছানা থিকা উঠবো না

রিবনের পাঁকগুলির মতো
আমার পেশীগুলি খুলে আসে:
একটা ছায়াও নাই

বেদনার। এইরকম ভঙ্গিতে
বিকালের বাকি সময়টা
শুইয়া থাকবো আমি,

পুরা দুপুরের কথা
মনে কইরা। বৃষ্টি
বানাইতেছে একটা খাঁড়ি

আমার মলিন আদলগুলির।
আলবেনিয়াতে আছি আমি,
আছি আমি রাইনে।

এখন হেমন্ত,
বৃষ্টির গন্ধ আমি পাই,
বাচ্চাগুলি খেলতেছে, আমি দেখি

ঝুলগুলির ভিতর দিয়া।
মধু আমি,
আমি বিভিন্ন বাতাস।

আমার নার্ভগুলি গলে যায়,
হাত-পাগুলি শুকাইয়া আসে –
তোমারে আমি ভালোবাসি না।

তোমারে আমি ভালোবাসি না।

[দ্য লস্ট পাইলট, ১৯৬৭।]

  Continue reading

শাহেদ আলীর গল্প – ঐ যে নীল আকাশ

This entry is part 10 of 20 in the series বাংলাদেশি ফিকশন

[pullquote][AWD_comments][/pullquote] যদিও ১৯৫৩ সালে  (জিব্রাইলের ডানা বইটাতে) ছাপা হইছিল গল্পটা, তারপরও শাহেদ আলীর গল্প পড়লে আপনার এখনকার কাসেম বিন আবুবকর-এর উপন্যাসের কথা মনে হইতে পারবে; কারণ এই গল্পে নায়িকা নামাজ পড়ে এবং পড়ার আগে ও পরে দেবরের লগে ফ্লার্ট করে। নায়কও খুশি হইলে  ভাবীরে পায়ে ধইরা সালাম করার কথা ভাবে। আমাদের বাংলা-গল্পের যে সাহিত্যিক রিয়ালিটি সেইখানে এইটা একদিক দিয়া ত ‘সাম্প্রদায়িক’, আরেকদিক দিয়া খুবই ফানি এবং নৈতিকভাবে খুবই ‘অসৎ’ একটা জিনিস যে, যে নামাজ পড়ে সে/শে আবার কেমনে ফ্লার্ট করে!

তারপরও ভাবীরে মরা-ই লাগে কারণ তিনি সুন্দরী অনেক এবং বুদ্ধিও খারাপ না, ফিউচার প্রেডিক্ট করতে পারেন। এইটা তারে লোনলি কইরা রাখে, সিজোফ্রেনিয়াক বানায়া ফেলে; কারণ আমাদের অ্যাভারেজ পোয়েটিক মেন্টালিটি কখনোই জাগতিক বিউটিরে নিতে রাজি হইতে পারে না; তারে মরা লাগেই। তবে নষ্টনীড়ের বৌদি’র চাইতে ভাবী’র মরাটা  মেবি একদিক দিয়া বেটার। বাঁইচা  থাকা বা মইরা যাওয়ার লাইগা জামাই বা দেবরের প্রেমের উপ্রে তারে ডিপেন্ড করতে হয় নাই।

আর ভাষা  তো একটা  পলিটিক্যাল জিনিস। অনেক অনেক ‘ইসলামী’ শব্দ থাকার পরেও শাহেদ আলীর ‘জিব্রাইলের ডানা’রে বাংলাভাষায় নেয়া গেছিলো গরিব-টাইপ ব্যাপার ছিলো বইলা, যেইটারে সমাজতন্ত্রের ড্রিমে কনভার্ট কইরা পড়া যাইতো। এখন এই খামাখা রোমাণ্টিকতারেও প্রগতি প্রকাশনের চেঙ্গিস আইতমাকভের ‘জমিলা’র সতীন ভাইবা পড়তে পারেন, কিন্তু ‘বর্তন’ ‘কু’কাফ’ ‘মউৎ’ ‘পুশিদা’ শব্দগুলা একরকম ডির্স্টাবই করবো আপনারে।

——————

ইস্কুল ছিলো ফুফুদের গাঁয়- আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় দেড় মাইল দূরে। হেমন্তে আমরা ইস্কুলে যাই হেঁটে- বন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে। আঁকা-বাঁকা পথ বেয়ে ছোটাছুটি করে ইস্কুলে যেতে কী ভালই না লাগতো। বর্ষায় মাঠ-ঘাট ডুবে যেতো, বড় বড় ঢেউ উঠতো দু-গায়েঁর মাঝে। ঢেউ-এ আছাড় খেতে খেতে এগোতে আমাদের ছোট নৌকায় ক্লাস শেষে প্রাইয় ফুফুদের বাড়ি হয়ে আসি। মাঝে মাঝে ফুফুর কাছে থেকে যাই।

একদিন ফুফুদের বাড়ি গিয়ে আটকা পড়ে গেলাম, ফুফু কিছুতেই ছাড়লেন না। শেলেট পেন্সিল আর বর্ণবোধের বইখানি যত্ন করে তাকের উপর রেখে দিলেন, তারপর চীনামাটির বর্তনে দুধ-দই দিয়ে আমাকে খেতে দিলেন।

রাতটা ছিল ভারী চমৎকার-পুঞ্জ পুঞ্জ মোলায়েম জোছনায় ঝলোমলো ! বাইরে অনেকক্ষণ ছুটাছুটি করে শুতে গেছি- হঠাাৎ নীল রঙ্গের শাড়ী আর নীল রেশমী চুড়ি পরা একটি মেয়ে এসে আমার কাছে দাঁড়ালো। ওর মুখের দিকে চেয়েই আমি শরমে চোখ ফিরিয়ে নিলাম- অতো সুন্দর অথচ অতো অপরিচিত!

মেয়েটি একবার ফুফুকে বলল- চাচী আম্মা, ও আজ আমার কাছেই থাকবে! তারপর একটু নুয়ে সে আমার হাত দুটি ধরে টানতে শুরু করে। ভয়ে বুক আমার দুরু দুরু করে উঠলো আমি আরো সেঁধিয়ে যেতে থাকি ফুফুকে বুকের ভেতর।

ফুফু মৃদু হেসে বললেন- না গো বউ, সিদু আমার ভীতু। ও তোমার কাছে যাবে না। মেয়েটি কেমন এক ধরনের মিষ্টি হাসিতে কলকল করে উঠলো-মনে হলো, পাথরের উপর দিয়ে ঝরনার পানি যেন ঝরে পড়ল ঝর ঝর করে। বলল- আমি কি রাক্ষস- খোক্ষস যে আমাকে ভয় পাবে?- বলে সে নীল শাড়ীর ভেতর থেকে শুভ্র গোলগাল হাত দুটি বার করে টেনে আমাকে বিছানায় বসিয়ে দেয়।

ফুফুও হেসে ফেললেন এবার – যা না সিদু, ভয়ের কি আছে? ও তো তোর ভাবী!

আমার লজ্জা ভয় ও সংকোচ খানিকটা কেটে গেছে এরিমধ্যে। মেয়েটি তাহলে পর নয়- আমার ভাবী; আর ভাবীই যখন, লজ্জা- সংকোচ কিসের? ভাবী তার হাত দুটি এগিয়ে দিয়েছিলো আমাকে কোলে নেবার জন্যে। আমি কিন্তু হেঁটেই চল্লাম। রোজ দেড় মাইল হেঁটে এসে ইস্কুলে পড়ি- আমার কি কোলে ওঠা সাজে? ভাবী আমাকে হাত ধরে তার ঘরে নিয়ে গেল।

ঝকঝকে তকতকে একখানি ঘর। দামি দামি আসবাবপত্র সাজানো- গোছানো। একদিক একটা পালঙ্কের উপর বিছানা পাতা- তাতে দুটি বালিশ। ভাবী বলল- যাও ঘুমাও গিয়ে- আমি নামাজটা সেরে নিই।

দ’চোখ ঘুমে এমনিতেই ভরে আসছিল। ভাবীর নির্দেশ পেয়ে যেন বেঁচে গেলাম। কুচিমুচি হয়ে শুয়ে পড়লাম পালঙ্কের উপর।

হঠাৎ একবার ঘুম ভেঙ্গে গেল। মাথার কাছে লন্ঠনটা তখনো জ্বলছে। দেখলাম, অদ্ভুত চোখ দুটি চেয়ে মেলে আছে আমার দিকে- ঠোঁটে অর্ধস্ফুট হাসির কচি কচি কুঁড়ি। আমার চোখ মুখে ভাবি হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, কী মধুর মেলায়েত তার পাশে! সেই স্পর্শের ভেতর দিয়ে তার অগাধ মমতা যেন গলে পড়েছে আমার সর্বাঙ্গে।

আমাকে চোখ খুলতে দেখেই ভাবী হেসে ফেলে- কী গো সিধু ভাইয়া, তোমার ভাই নেই বাড়িতে- তোমাকে আনলাম পাহারা দেবে বলে! আর তুমি কিনা পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছ- ভাবী একটু মৃদু ধাক্কা দেয় আমাকে- উঠে বসোতো সিধু ভাইয়া; দোরে বসে বসে দুটো আম খাও, আর ওই লাঠি নিয়ে আমাকে পাহারা দাও। ভাবী বেড়ার সাথে দাঁড় করানো বাঁশের লাঠিটা দেখিয়ে দেয়। কিন্তু ভাবী তো একটা জ্যান্ত মানুষ। আম খেতে খেতে ভাবীকে পাহারা দেবো এ কেমন কথা? তবু আমাকে উঠে বসতে হলো। সাহস সঞ্চয় করে বেশ গম্ভীর ভাবেই একবার জিজ্ঞেস করে বসলাম- চোর বুঝি আপনাকে চুরি করতে আসে ভাবী?

হাসতে হাসতে ভাবী এবার ভেঙ্গে পড়ে- আমার মুখ টিপে দিয়ে বলে- আপনি না গো সিদু ভাইয়া, ‘আপনি’ না! আমাকে ‘তুমি’ করেই বলবে। তারপর একটু প্রেমে রসিকতায় মুগ্ধ হয়ে উঠে- যা হোক তোমার সোনা- মুখের কথাতো একটা শুনলাম! চোর এলেও আর ভয় নেই। চলো ঘুমাই গিয়ে- তোমার গন্ধ পেলেই ওরা জান নিয়ে পালাবে। Continue reading

যারা নির্যাতিত মানুষের মুক্তির কথা বলেন, তারাও মিলিট্যান্সির কথা বলেন

[pullquote][AWD_comments][/pullquote]আমার বাপে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নন-কমিশণ্ড অফিসার ছিলেন। কমিশণ্ড অফিসার বলে যে একটা বিষয় আছে, সেটা আমি প্রথম বুঝতে পারি কিছুটা আজগুবি একটা যায়গায়। সেইটা হচ্ছে হাসপাতাল।

তখন আমরা কুর্মিটোলার বিমান বাহিনীর কলোনীতে থাকি। আমাদের সকল স্বাস্থ্যের সমস্যার জন্যে যাইতে হইত বিমান বাহিনীর হাসপাতালে। সেইটাকে আমরা ডাকতাম “এম আই রুম” হিসেবে। এর পুরা অর্থ এখনও জানি না।

এম আই রুমের নিয়ম ছিল মহিলাদের আর পুরুষদের আলাদা যায়গায় ডাক্তারের সাথে সাক্ষাতের জন্যে নাম লেখাইতে হইত। বাচ্চা ছিলাম বিধায় সবসময় আম্মার সাথে হাসপাতালে যাইতাম। এই কারনে মহিলাদের নাম লেখানো হয় যেখানে, সেখানকার ওয়েটিং রুম এর তৎসংলগ্ন করিডরে ডাক্তারের সাথে সাক্ষাতের জন্যে অপেক্ষা করতাম।

কুর্মিটোলার ঐখানটাতে বিমান বাহিনীর কলোনী অনেকগুলো। মানুষ বেশী হওয়াতে হাসপাতালে প্রচণ্ড ভীড় হইত। আমার মনে আছে পানি খাওয়ার জন্যে একটা নীল রঙের যন্ত্র ছিল সেইখানে। সেইখানকার পানির কলটা নিয়ে আমার খুব আগ্রহ ছিল। আমাদের বাসায় দেখতাম, পানির কল খোলার জন্যে ঘোরাইতে হয়। কিন্তু সেই নীল রঙ্গা মেশিনে উপর থেকে নীচে চেপে ধরলে পানি পরত। এই অদ্ভুত কলটা নিয়া আমার বিপুল কৌতুহল ছিল। সুযোগ পাইলে হুদাই কল চেপে ধরতাম। আম্মুর ধমকের কারণে অবশ্য সুযোগ অনেক কম আসত। তবে এই পানির কল ছাড়া সেই অপেক্ষমান যায়গায় ভালো লাগার আর কিছুই ছিল না। প্রথম বিষয়টা ছিল দীর্ঘ অপেক্ষা। আমার জীবন তখনও ঘড়ি ধরে চলা শুরু হয়নি। তাই ঠিক কতক্ষণ বসে থাকতে হত, তা বলতে পারব না। কিন্তু বসে থাকতে থাকতে যে বিরক্তির চরম সীমায় পৌছে যেতাম সেটি বেশ ভালৌ মনে আছে।

হাসপাতালের আয়ারা বেসুরো গলায় একেকটা নাম ডাকতেন। ওখানকার রীতি ছিল নাম লেখাতে হত বিমান বাহিনীতে কর্মরত স্বামীর নাম। লেখার সময় সামনে একটা মিসেস লাগানো হলেও, আয়ারা ডাকার সময় শুধু স্বামীর নামটাই ডাকতেন। অপরিসর একটা যায়গায় গাদাগাদি করে অপেক্ষা করা এতগুলো মহিলার নিজেদের নাম নেই, সেটি নিয়ে আজকে যারা সমাজে লুকানো জেণ্ডার সাপ্রেশন খোঁজেন বিদেশী পয়সায়, তারা একটু গবেষণা করে দেখতে পারেন। Continue reading

সিজার পাভিজি’র কবিতা: মরণ আসবে আর নিয়া যাবে চোখগুলি তোমার

সিজার পাভিজি (১৯০৮ – ১৯৫০) ইতালিয়ান ভাষায় লিখতেন, ইংলিশেও লিখছেন কয়েকটা কবিতা। উনি আম্রিকান সাহিত্য ইতালিয়ান ভাষায় অনুবাদ করছেন, গল্প, উপন্যাস লিখছেন, সমালোচনাও করছেন আর লেখালেখির শুরুতে আর শেষদিকে কবিতা লিখছেন। উনার কবিতাগুলি ডিজঅ্যাফেকশনস নামে ২০০২ সালে ইংরেজি অনুবাদ করছিলেন জিওফ্রি ব্রুক। সেই বই থিকা উনার লাস্ট কবিতার বইটা বাংলায় অনুবাদ করা হইলো। ধারণা করা হয়, হলিউডের এক নায়িকার প্রেমে পইড়া এই কবিতাগুলি উনি লিখছিলেন। দশটা কবিতা আছে বইটাতে। উনি আত্মহত্যা করার পরে এই পাণ্ডুলিপিটা পাওয়া যায়।

এমনিতে এখনকার বাংলা-কবিতার একটা চালু টেকনিক তো আছে যে, একটা কইয়া আপনে আরেকটা বা আরো দশটা জিনিস বুঝাইয়া ফেলতে পারেন। পাভিজি’র টেকনিকটা একটু উল্টা; ঘুইরা ফিরা কয়েকটা ইমেজ উনার, আর সবগুলা ইমেজ খালি কইতে চায়, কি রকম ধরাটা উনি খাইছিলেন। লাইফ এমন একটা লিনিয়ারিটি যা উনি এড়াইতেই পারতেছেন না।

অনুবাদ করা ব্যাপারটা ঠিক একটা চিন্তা/অনুভূতিরে একটা ভাষা থিকা আরকেটা ভাষাতে ট্রান্সফার করা না, বরং একটা চিন্তা/অনভূতিরে আরেকটা নতুন জায়গা থিকা রি-ক্রিয়েট করা। আর এইরকম রি-ক্রিয়েশনের ভিতর দিয়া চিন্তা/অনুভূতিটাই না খালি ভাষাটার চেইঞ্জ হওয়ার রাস্তাগুলিও তৈরি হওয়ার কথা।   

ই.হা.।

—————————————————————————————————–

মরণ আসবে আর
নিয়া যাবে চোখগুলি তোমার              

——————————————————————————————————-

সি.কে লেখা সি.’র চিঠি।। সকালবেলায় সবসময় ফিরা আসো তুমি।। একটা রক্ত আছে তোমার, একটা শ্বাস।। মরণ আসবে আর নিয়া যাবে চোখগুলি তোমার।। তুমি, মার্চের বাতাস।। পিজা ডি স্প্যানিয়া পার হয়া যাবো আমি।। সকালটা পার হয়।। যেই রাতে ঘুমাও তুমি।। বিলাইগুলি জানবে।। লাস্ট ব্লুজ।।

———————————————————————————————————

 

সি. কে  লেখা সি.’র চিঠি

তুমি,
আলো-ছায়ার মৃদুহাসি
জমে থাকা বরফে-
মার্চের বাতাস,
ডালগুলির ব্যালে
ছড়ায় বরফের উপরে,
গোঙানি আর দ্যুতি
তোমার ছোট্ট “ওহ্” গুলির-
শাদা-পায়ের হরিণী,
চোখ-ধাঁধানো,
যদি আমি জানতাম
তখনো
সরে-যাওয়া মাধুর্য
তোমার সমস্ত দিনগুলির,
ফোমের-মতোন ছড়ানো জরি
তোমার পথগুলির-
প্রতিটা-পরেরদিন জমাট
নুয়ে আছে মাঠে-
তুমি আলো-ছায়ার মৃদুহাসি
তুমি চকমকি হাসির ফোয়ারা।

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →