প্রলয়ঙ্করী ষষ্ঠী।। জগদীশ গুপ্ত
গ্যাংগস অফ ওয়াসিপুররে আমরা গডফাদার-এর ইন্ডিয়ান আর্টিকুলেশন বইলা ভাবতে পারলেও প্রলয়ঙ্করী ষষ্ঠী’রে ট্রয়ের ঘটনার বেঙ্গলি অ্যাডাপশন বইলা যে প্রায় ভাবতেই পারি না এর কারণ মে বি খালি একটা টাইম গ্যাপ না, বরং আমরা যেইভাবে আর্ট-কালচারের এক্সচেইঞ্জরে ভাবতে পারি সেইখানে এই সিমিলারিটিগুলি একটা ফ্রেমের মধ্যে দিয়াই অপারেট করে যে, যিনি বিশ্বকবি তিনি আইরিশ সং থিকা নিতে পারবেন কিন্তু যিনি লোকাল ছোটগল্প রাইটার তিনি মহাভারত, রামায়ণ জানতে পারেন কিন্তু গ্রীক লিটারেচার তক যাইতে পারবেন না বা গেলেও উনার ইনফিরিয়রিটি (যেইটা উনার থাকুক বা না-থাকুক, আমাদের এক্সপেক্টশন যে থাকতেই হবে) থিকাই লিখতে পারাটা দরকার যে, ‘বিদেশী গল্পের অনুকরণে’; যেমনে ফোক লিটারেচারে ‘লেখক’ বইলা ইন্ডিভিজ্যুয়াল আইডেন্টিটি’রে আমরা (আরবান মিডল ক্লাশ এবং বাংলা-সাহিত্যের রিডার) বাতিল কইরা দিতে পারি। মানে, এইসবকিছু আছে এইখানে, এই গল্পের রিডিংটাতে।
ট্রয়ের কাহিনিতে হেলেন তো ডেফিনেটলি ‘ভালোবাসেন’ প্যারিসরে, তার লগে পালাইয়া আসেন। আর এইখানে যে হেলেন, তার কোন নাম-ই নাই (বা একটা নাম দিয়াই তারে মানুষের মর্যাদা দিতে পারার ঘটনাটা নাই), তিনি জসিমের বউ। প্যারিস সদু খাঁ হইতেছেন ব্যবসায়ী, বোন ডাইকা তারে বাড়িতে নিয়া আসেন অ্যান্ড তারপরের ঘটনা খুবই গোপন, অলমোস্ট ইনভিজিবল টাইপের ব্যাপার (মায়া-টায়া যেমনে রিভিল করা যায়, এইরকম), কিছু অনুমান করা যায় খালি। এইটা ভাবতে পারাটা খুবই পসিবল যে, জসিমের বউ সদু খাঁ’র প্রেমে পইড়াই জামাইয়ের বাড়িতে ফিরতে চান না (মানে, প্রেমে ত বিশ্বাস রাখতে হবে আপনারে); আর প্রেমে না পড়লেও উনি যদি ফিরতেই চাইতেন জসিমের বাড়িতে, তাইলে ঘটনাটা কি রকম হইতে পারতো সেইটাও ইমাজিন করাটা তো ইম্পসিবল না। মানে, জসিমের বউ-এর কোন নাম না থাকলেও, উনি হেলেন না হইলেও শেষে যে ডিসিশান নিতে পারেন; খুবই অবাক করার মতো ব্যাপার একটা!
আবার, রিলিজিয়াস পারসপেক্টিভে দেখতে গেলে, ‘বাটপার’ মুসলমানের কাছ থিকা নিজের ‘নিরীহ’ বউরে উদ্ধার করার লাইগা ‘গরিব’ মুসলমানের ‘সৎ’ হিন্দু যোদ্ধাদের হেল্প নিয়া ‘ধর্ম’ উদ্ধারে নামার ঘটনা হিসাবে এইটা পড়তে সমস্যাই হওয়ার কথা; কারণ হিন্দু-লেখকের অসাম্প্রদায়িক মুসলমান ক্রিয়েট করার কোন এজেন্ডা এইখানে নাই। সোসাইটিতে (মানে গল্পটাতে) মানুষজন আছে মোস্টলি কোনরকম হিন্দু-মুসলমান কনশাসনেস ছাড়াই; কি রকমের অসভ্য , বর্বর এঁরা।
– ই.হা.।
মাইয়াটা মে বি বুইঝা ফেলছিলেন ইগো আর পীরিতের তফাত, বা অসতী বউ ভাবনার চাপে কতটা মরতে পারে পীরিত; মানে, ছিনাইয়া লওয়া বউরে ফেরত আনতে পারার পরে সেই বউরে আর কতটা দরকার! যতটা ধুইলে এই অসতী বউ’র মাই আর ভোদায় লাইগা থাকা সদু খাঁর জিভের রস, আঙুলের দাগ উইঠা যাবে ততটা ধোয়া কি পসিবল, ততটা মোক্ষম পানি আছে জগতে! সো, ডরাইতে কি পারে না সে? সো, জসিমে পীরিত মনে লইয়াও তো জসিমে না ফিরতেই পারে সে! বা ধনী সদু’র বাড়ির লাইফস্টাইল অদরকারি কইরা তুলছিলো নাকি জসিম বা সদু’র পীরিত! হায়, এমন সাইকো এনালিসিস তো আমরা পাইতেই পারতাম এখনকার ঢাকাই আর কোলকাতাই স্টোরি রাইটারদের তলে ঘাপটি মাইরা থাকা মনগুলির কোন একটা যদি জগদীশে ইনজেক্ট করা যাইতো! বা শেষের কবিতার রাইটারের পাতলা সাইকি-লোটা আর দরিয়ার পানির কম্প্যারিজন করা নোবেল মন! হায়, মরা জগদীশের ভেইন কি আর ইনজেক্টেবল…!
– রক মনু।
_________________________
চোখ দুটা তার গোল আর লাল; আড়ে দীঘে সে প্রকাণ্ড;কিন্তু আকার আর চেহারার চেয়ে ভয়ঙ্কর তার কথা।
সদু খাঁ কথা কয় খুব আস্তে আস্তে, চাপা গলায় ; তার কথায় আর চেহারায় এমনি গরমিল যে তাহার কথা শুনিলেই ধাঁ করিয়া মনে হয়, – আগুন ধোঁয়াইতেছে।
বাস্তবিক কথাগুলো তার ধোঁয়ার মতই-যেন হালকা ; কিন্তু ভিতর হইতে কখন যে আগুনের জিব বাহির হইয়া আসিবে তাহারই দিশা না পাইয়া লোকে তাহার সামনে একেবারে কুঁচকিয়া যায়। যে কয়জন পেয়ারের মানুষ তার আছে, সদুর লোক বলিয়া তাহাদের দাপটও কম নয়, অথচ তাহারাই আবার তার সামনে শীতের ব্যাঙের মতো গুটাইয়া থাকে। …
[pullquote][AWD_comments][/pullquote]
সদু খাঁ আগে গাঁওয়াল করিত-
মানে, কোমরের ঘুনসী, তামার তাবিজ, সুতোর গুলি, সুচ, টিনের আয়না, চিরুনি, কাঠের কৌটা, খেলনা-এইসব মনিহারী জিনিস মাথায় করিয়া গাঁয়ে গাঁয়ে ফেরি করিয়া বেড়াইত।…
তারপর সে শুরু করিল ফড়ের কাজ-
পাট, তিসি, সর্ষে, রাই, ধান, ধনে, গম, তিল, কলাই-এইসব যখনকার যা ফসল, গাঁয়ে গাঁয়ে ঘুরিয়া দশ বিশ সের সংগ্রহ করিয়া আড়তে আনিয়া দিত। …
তারপর হইলসে ব্যাপারী-
মানে মহাজনের নৌকা পাট কি ধান বোঝাই হইয়া যায় মোকামে, সদু খাঁ সেই নৌকার আর মালের ভার লইয়া কর্তা হইয়া নৌকায় যাওয়া-আসা করে। …
অতঃপর হাজার-মণে এক পালোয়ারী নৌকা কিনিয়া সে নিজেই মহাজন হইয়া গদিতে বসিল। …
পয়মন্ত লোক, দেখিতে দেখিতে পড়তা ফিরিয়া গেল। অনর্গল পয়সা হাতে আসিতে লাগিল।
কিন্তু লোকটার বজ্জাতি গেল না।
… সে হাটে যায়, বাজারের সেরা মাছটার চোয়াল ধরিয়া তুলিয়া অনর্থক জিজ্ঞাসা করে,-কত?
জেলে বলে,-আড়াই টাকা।
সদু বলে, আড়াই টাকা? বেশ সস্তা তো! বলিয়া চাকরের হাতে মাছটা দেয়।
-বিদেশী যদি কেহ সেখানে থাকে, সে ভাবে, বুঝি সত্যই সস্তা সদুর কাছে ; কিন্তু যে চেনে সদুকে সে মনে মনে হাসে; জেলে কাঁপিয়া ওঠে। …
সদু যাবার বেলা আটগন্ডা পয়সা জেলের চুপড়ির ভিতর ফেলিয়া দিয়া চলিয়া যায়। যথা-লাভ মনে করিয়া জেলে তা-ই ট্যাঁকে রাখে। Continue reading