Main menu

প্রলয়ঙ্করী ষষ্ঠী।। জগদীশ গুপ্ত

This entry is part 4 of 20 in the series বাংলাদেশি ফিকশন

গ্যাংগস অফ ওয়াসিপুররে আমরা গডফাদার-এর ইন্ডিয়ান আর্টিকুলেশন বইলা ভাবতে পারলেও প্রলয়ঙ্করী ষষ্ঠী’রে ট্রয়ের ঘটনার বেঙ্গলি অ্যাডাপশন বইলা যে প্রায় ভাবতেই পারি না এর কারণ মে বি খালি একটা টাইম গ্যাপ না, বরং আমরা যেইভাবে আর্ট-কালচারের এক্সচেইঞ্জরে ভাবতে পারি সেইখানে এই সিমিলারিটিগুলি একটা ফ্রেমের মধ্যে দিয়াই অপারেট করে যে, যিনি বিশ্বকবি তিনি আইরিশ সং থিকা নিতে পারবেন কিন্তু যিনি লোকাল ছোটগল্প রাইটার তিনি মহাভারত, রামায়ণ জানতে পারেন কিন্তু গ্রীক লিটারেচার তক যাইতে পারবেন না বা গেলেও উনার ইনফিরিয়রিটি (যেইটা উনার থাকুক বা না-থাকুক, আমাদের এক্সপেক্টশন যে থাকতেই হবে) থিকাই লিখতে পারাটা দরকার যে, ‘বিদেশী গল্পের অনুকরণে’; যেমনে ফোক লিটারেচারে ‘লেখক’ বইলা ইন্ডিভিজ্যুয়াল আইডেন্টিটি’রে আমরা (আরবান মিডল ক্লাশ এবং বাংলা-সাহিত্যের রিডার) বাতিল কইরা দিতে পারি। মানে, এইসবকিছু আছে এইখানে, এই গল্পের রিডিংটাতে।

ট্রয়ের কাহিনিতে হেলেন তো ডেফিনেটলি ‘ভালোবাসেন’ প্যারিসরে, তার লগে পালাইয়া আসেন। আর এইখানে যে হেলেন, তার কোন নাম-ই নাই (বা একটা নাম দিয়াই তারে মানুষের মর্যাদা দিতে পারার ঘটনাটা নাই), তিনি জসিমের বউ। প্যারিস সদু খাঁ হইতেছেন ব্যবসায়ী, বোন ডাইকা তারে বাড়িতে নিয়া আসেন অ্যান্ড তারপরের ঘটনা খুবই গোপন, অলমোস্ট ইনভিজিবল টাইপের ব্যাপার (মায়া-টায়া  যেমনে  রিভিল করা যায়, এইরকম), কিছু অনুমান করা যায় খালি। এইটা ভাবতে পারাটা খুবই পসিবল যে, জসিমের বউ সদু খাঁ’র প্রেমে পইড়াই জামাইয়ের বাড়িতে ফিরতে চান না (মানে, প্রেমে ত বিশ্বাস রাখতে হবে আপনারে); আর প্রেমে না পড়লেও উনি যদি ফিরতেই চাইতেন জসিমের বাড়িতে, তাইলে ঘটনাটা কি রকম হইতে পারতো সেইটাও ইমাজিন করাটা তো ইম্পসিবল না। মানে, জসিমের বউ-এর কোন নাম না থাকলেও, উনি হেলেন না হইলেও  শেষে  যে ডিসিশান নিতে পারেন; খুবই অবাক করার মতো ব্যাপার একটা!

আবার, রিলিজিয়াস পারসপেক্টিভে দেখতে গেলে, ‘বাটপার’ মুসলমানের কাছ থিকা নিজের ‘নিরীহ’ বউরে উদ্ধার করার লাইগা ‘গরিব’ মুসলমানের ‘সৎ’ হিন্দু যোদ্ধাদের হেল্প নিয়া ‘ধর্ম’ উদ্ধারে নামার ঘটনা হিসাবে এইটা পড়তে সমস্যাই হওয়ার কথা; কারণ হিন্দু-লেখকের অসাম্প্রদায়িক মুসলমান ক্রিয়েট করার কোন এজেন্ডা এইখানে নাই।  সোসাইটিতে (মানে গল্পটাতে) মানুষজন আছে মোস্টলি কোনরকম হিন্দু-মুসলমান কনশাসনেস ছাড়াই; কি রকমের অসভ্য , বর্বর এঁরা।

– ই.হা.।

 

মাইয়াটা মে বি বুইঝা ফেলছিলেন ইগো আর পীরিতের তফাত, বা অসতী বউ ভাবনার চাপে কতটা মরতে পারে পীরিত; মানে, ছিনাইয়া লওয়া বউরে ফেরত আনতে পারার পরে সেই বউরে আর কতটা দরকার! যতটা ধুইলে এই অসতী বউ’র মাই আর ভোদায় লাইগা থাকা সদু খাঁর জিভের রস, আঙুলের দাগ উইঠা যাবে ততটা ধোয়া কি পসিবল, ততটা মোক্ষম পানি আছে জগতে! সো, ডরাইতে কি পারে না সে? সো, জসিমে পীরিত মনে লইয়াও তো জসিমে না ফিরতেই পারে সে! বা ধনী সদু’র বাড়ির লাইফস্টাইল অদরকারি কইরা তুলছিলো নাকি জসিম বা সদু’র পীরিত! হায়, এমন সাইকো এনালিসিস তো আমরা পাইতেই পারতাম এখনকার ঢাকাই আর কোলকাতাই স্টোরি রাইটারদের তলে ঘাপটি মাইরা থাকা মনগুলির কোন একটা যদি জগদীশে ইনজেক্ট করা যাইতো! বা শেষের কবিতার রাইটারের পাতলা সাইকি-লোটা আর দরিয়ার পানির কম্প্যারিজন করা নোবেল মন! হায়, মরা জগদীশের ভেইন কি আর ইনজেক্টেবল…!

– রক মনু।

_________________________

 

চোখ দুটা তার গোল আর লাল; আড়ে দীঘে সে প্রকাণ্ড;কিন্তু আকার আর চেহারার চেয়ে ভয়ঙ্কর তার কথা।
সদু খাঁ কথা কয় খুব আস্তে আস্তে, চাপা গলায় ; তার কথায় আর চেহারায় এমনি গরমিল যে তাহার কথা শুনিলেই ধাঁ করিয়া মনে হয়, – আগুন ধোঁয়াইতেছে।
বাস্তবিক কথাগুলো তার ধোঁয়ার মতই-যেন হালকা ; কিন্তু ভিতর হইতে কখন যে আগুনের জিব বাহির হইয়া আসিবে তাহারই দিশা না পাইয়া লোকে তাহার সামনে একেবারে কুঁচকিয়া যায়। যে কয়জন পেয়ারের মানুষ তার আছে, সদুর লোক বলিয়া তাহাদের দাপটও কম নয়, অথচ তাহারাই আবার তার সামনে শীতের ব্যাঙের মতো গুটাইয়া থাকে। …

[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

সদু খাঁ আগে গাঁওয়াল করিত-
মানে, কোমরের ঘুনসী, তামার তাবিজ, সুতোর গুলি, সুচ, টিনের আয়না, চিরুনি, কাঠের কৌটা, খেলনা-এইসব মনিহারী জিনিস মাথায় করিয়া গাঁয়ে গাঁয়ে ফেরি করিয়া বেড়াইত।…
তারপর সে শুরু করিল ফড়ের কাজ-
পাট, তিসি, সর্ষে, রাই, ধান, ধনে, গম, তিল, কলাই-এইসব যখনকার যা ফসল, গাঁয়ে গাঁয়ে ঘুরিয়া দশ বিশ সের সংগ্রহ করিয়া আড়তে আনিয়া দিত। …
তারপর হইলসে ব্যাপারী-
মানে মহাজনের নৌকা পাট কি ধান বোঝাই হইয়া যায় মোকামে, সদু খাঁ সেই নৌকার আর মালের ভার লইয়া কর্তা হইয়া নৌকায় যাওয়া-আসা করে। …
অতঃপর হাজার-মণে এক পালোয়ারী নৌকা কিনিয়া সে নিজেই মহাজন হইয়া গদিতে বসিল। …

পয়মন্ত লোক, দেখিতে দেখিতে পড়তা ফিরিয়া গেল। অনর্গল পয়সা হাতে আসিতে লাগিল।
কিন্তু লোকটার বজ্জাতি গেল না।
… সে হাটে যায়, বাজারের সেরা মাছটার চোয়াল ধরিয়া তুলিয়া অনর্থক জিজ্ঞাসা করে,-কত?
জেলে বলে,-আড়াই টাকা।
সদু বলে, আড়াই টাকা? বেশ সস্তা তো! বলিয়া চাকরের হাতে মাছটা দেয়।
-বিদেশী যদি কেহ সেখানে থাকে, সে ভাবে, বুঝি সত্যই সস্তা সদুর কাছে ; কিন্তু যে চেনে সদুকে সে মনে মনে হাসে; জেলে কাঁপিয়া ওঠে। …
সদু যাবার বেলা আটগন্ডা পয়সা জেলের চুপড়ির ভিতর ফেলিয়া দিয়া চলিয়া যায়। যথা-লাভ মনে করিয়া জেলে তা-ই ট্যাঁকে রাখে। Continue reading

বাংলা ভাষার আধুনিকায়ন: ভাষিক ঔপনিবেশিকতা অথবা উপনিবেশিত ভাষা

This entry is part 19 of 22 in the series লেখার ভাষা

২০০৩-০৪ সালে আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। নৃবিজ্ঞান বিভাগে। তৃতীয় বর্ষে ১০০ নম্বরের বাধ্যতামূলক গবেষণা ছিলো। আমার গবেষণার বিষয় ছিলো ‘বাংলা ভাষার আধুনিকায়ন’। বিষয় আমার-ই ঠিক করা। বিভাগ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। এবং গবেষণায় একজন সুপারভাইজর থাকেন। রেওয়াজ ছিলো পছন্দ মতো শিক্ষকের সাথে আলাপ কইরা বিভাগকে জানানো। আমি চিন্তা করলাম, বিভাগ আমারে শিক্ষক (সুপারভাইজর) দিতে বাধ্য; আমার দায় কেবল বিষয় জানানো। আমি দরখাস্তে বিষয় লিখে দিলাম। প্রস্তাবিত সুপারভাইজরের ঘর খালি। বিভাগীয় প্রধান (ফারজানা ইসলাম) আমারে ডাকলেন। বললেন, আমার সম্ভাব্য সুপারভাইজর মানস চৌধুরী; আমি যেন গিয়ে তাঁর সাথে আলাপ করি আমাকে তাঁর শিক্ষার্থী হিসাবে নেবে কিনা। তো আমি মানস চৌধুরীর রুমে গেলাম। বললাম, আমারে ম্যাডাম পাঠাইছে আপনার সম্ভাব্য শিক্ষার্থী হিসাবে, আপনি নেবেন কিনা জানতে। উনি বললেন নেবেন। ফলে আমি একজন সুপারভাইজর পাইয়া গেলাম।

আমার এই প্রাপ্তি ছিলো খুবই কাগুজে ঘটনা। আমি একদিন কি দুইদিন মানস চৌধুরীর কাছে গেছিলাম। ওনার আরো একজন শিক্ষার্থী ছিলো, আমার ক্লাসমেট সায়েমা চৌধুরী (হিমুও ছিলো সম্ভবতঃ)। ওর ডাক নাম অন্ত। অন্ত’রে আমি ত্যাজ্যবন্ধু করছিলাম তখন। হিমুর সাথেও কুসম্পর্ক আছিলো। এদিকে মানস চৌধুরী চাইছিলেন তাঁর শিক্ষার্থীদের মাঝে যেন সুসম্পর্ক থাকে। উনি তাঁর চাওয়ার কথা আমারে বলেন। আমার এইটা পছন্দ হয় নাই। আমি সেইটা বলি নাই ওনারে। আমি ওনার কাছে যাওয়া ছাইড়া দিলাম। বর্ষান্তে গবেষণাপত্র জমা দেবার এক/দুই দিন আগে মানস চৌধুরীর সাথে আমার ডেইরি ফার্ম গেটে দেখা হয়। উনি আমার গবেষণা’র বিষয়ে জিগান। আমি বলছিলাম যে, জমা দিয়া দিবো স্যার।

আমি জমা দিছিলাম সময় মতো। এর জন্য বিভাগের জুনিয়র ভাই রাহাতের কাছে কৃতজ্ঞ হইতে হয় আমার। বাংলা কম্পোজ করতে পারতাম না। জমা দেবার আগের রাতে আমি কাগজে লেইখা দেই, আর রাহাত কম্পোজ করে। রাহাতের কম্পোজ সঠিকের কাছাকাছি। সুজাতের কম্পিউটারে এই কর্ম কইরা দেয় রাহাত। আমার নামাজি বন্ধু অভি’র প্রিন্টারে ফজরের সময়ে প্রিন্ট নেই; আগেই বইলা রাখছিলাম। সাড়ে আট/নয়টার দিকে প্রিন্ট নিয়া যাই কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে। বাঁধাইয়ের পরে বিভাগে জমা দিয়া দেই।

ভাইভার সময় মানস চৌধুরী বোর্ডে ছিলেন (সুপারভাইজর উপস্থিত থাকেন)। সেইখানে আমার  সবিশেষ বেযোগাযোগ উনি বেমালুম চাইপা গেলেন। কী কী যেন ভুল বুঝাইলেন অন্য পরীক্ষকদের। সেই কারণেই সম্ভবতঃ আমি পাশ করতে পারছিলাম শেষ পর্যন্ত। এইটা নির্ঘাৎ ওনার একটা ট্রিক আছিলো, আমারে কৃতজ্ঞ করবার। সন্দেহ হওয়ায় আমার আর কৃতজ্ঞ হওয়া হয় নাই।

পরে অন্ত আর হিমুর সাথে আমি ‘খারাপ সম্পর্ক আর নাই’ দশায় পৌঁছাই। কিন্তু ততদিনে আমার গবেষণা শেষ। মানস চৌধুরীর সুপারভিসন না নেওয়ায় আমার গবেষণা যা হইতে পারতো তা হয় নাই। কিন্তু হয়তো যা হওয়া উচিত ছিলো তা-ই হইছে। অর্থাৎ এইটার মধ্যে একটা ‘আমার আমার’ বিষয় আছে; কিংবা খারাপির মধ্যে মানস চৌধুরীর দায় নাই কোন।

গবেষণাপত্রের কোন কপি আমার কাছে নাই। ২০০৬-০৭ সালে সাঈদ স্যার (সাঈদ ফেরদৌস) এই বিষয়ে একটা বক্তৃতা দিতে নৃবিজ্ঞান বিভাগে ডাকেন আমারে। তখন সম্ভবতঃ বিভাগীয় লাইব্রেরি থেকে ফটোকপি নিয়া প্রবন্ধ আকারে এইটা লিখি। এবং যদ্দূর মনে পড়ে, সাঈদ ফেরদৌসের শিক্ষার্থীদের দেই। প্রবন্ধ আকারে মানে হইলো ‘গবেষণা পদ্ধতি’ জাতীয় ভণিতা বাদ দিয়া লিখি। বিভিন্ন সময় প্রকাশের কথাও ভাবি, কিন্তু করা হয় নাই।

এই কাজের জন্য আমার বিশেষ কোন পড়া ছিলো না। কার যেন পরামর্শে মাহবুব মোর্শেদের কাছে গেছিলাম একদিন। এর আগে-পরে, দৈনিক সমকালে দেখা হবার আগে ওনার সাথে আমার কথা হয় নাই আর। ওনারে আমি বিশেষ অপছন্দ করতাম। সেলিম আল দীনের ঠিক দুই কদম পিছে উনি কেমনে হাঁটতেন ভাইবা অতি আশ্চর্য হইতাম। এইটা যে খুব দেইখা ভাবতাম তা হয়তো না। ভাবার জন্য দেখার দরকার হইতো না কখনোই আমার। তো মাহবুব মোর্শেদের কাছে গেলে উনি কইলেন যে বঙ্কিম খারাপ, বিদ্যাসাগর ভালো। এইগুলার উত্থাপন কেমনে হইলো সেইটা মনে নাই আর। ওনার এই বক্তব্যও অপছন্দ হয় আমার। ফলে কাইটা পড়ি। বন্ধু রাজন একবার ‘পূর্ববঙ্গের ভাষা’র কথা কইছিলেন। ব্রাত্য রাইসু’র কথাও বলছিলেন সম্ভবতঃ। পরিচয় না থাকা, আমার ঢাকা না আসা—মোটের উপর আলসেমির কারণে এইগুলা আর কিছুই খোঁজা হয় নাই আমার। জানতামও না কিছু। জাহাঙ্গীরনগরে ‘সাহিত্য’ বিষয়ক লোকজনের সাথে আমি কখনো যোগাযোগ করতাম/রাখতাম না, ফলে বাইরেও কোন লিংক আছিলো না। তাস, জুয়া, ক্যারম, দাবা, টিভি দেখার পরে আর সময় পাইতাম না।

যাই হোক, এইখানে লেখাটা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিলাম। এই বিষয়ে আরো লেখার ইচ্ছা আছে। এখন ‘ভাষা’ বিষয়ে চলমান বিভিন্ন আলাপের সাথে পরিচয় ঘইটা গেছে আমার। সেইগুলারও প্রতিক্রিয়া লেখার ইচ্ছা আছে। মনে হইলো এইটাই প্রকাশ করি আগে।

– মনু
——————————

Continue reading

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প – টোপ।

 

‘কাহিনি ইজ নট গল্প,’ কিন্তু গল্পের যে একটা কাহিনি থাকতেই পারে বা না-থাকাটাই যে গল্প না – এইটা নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের (১৯১৮ – ১৯৭০) গল্পটা পইড়া টের পাওয়া যাইতে পারে। লিটারারি ফর্মগুলা তো একটা মিডিয়ামই ফিলোজফিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট, পলিটিক্যাল বা আইডোলজিক্যাল এজেন্ডা, এমনকি পারসোনাল বেদনা বা রিভেঞ্জগুলি এক্সপ্রেস করার; গল্পে এই কাজগুলা অনেক রসাইয়া রসাইয়া করা যায়। রস এমনই এক জিনিস, সবকিছুরে পিছলা কইরা দেয়; আরামও পাওয়া যায় অনেক। এই গল্পেও রস আছে, কিন্তু মেইনলি একটা কাহিনিই এইটা। এই কাহিনির যে কোন ইথিক্যাল ইমপ্লিকেশন নাই বা থাকা যাইবো না সেইটা না; বরং এইসবকিছুরে খুব একটা পাত্তা না দিয়াই গল্প লেখা যাইতো বা মেবি এখনো যায়, এইটার একটা নমুনা হিসাবে দেখা যায়।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

এই নমুনাগুলি রেয়ার হয়া উঠাটা ব্রিটিশ উপনিবেশরে ন্যাশনালিস্টিক (এবং এখন ডেভলাপমেন্টাল এনজিওর) জায়গা থিকা ডিল করার একটা ঘটনা। ইউরোপিয়ান সেলফ যেইভাবে নিজরে চিইনা নিতে পারছে ইন্ডিয়ান আদার-এর ভিতর দিয়া, সেইখানে বাংলা-ভাষার পরের গল্পকাররা আর কোন আদার খুঁইজা না পাইয়া গ্রাম-বাংলারে আরশিনগর বানায়া নিজেদেরকে একটা সেলফ-এর টার্গেট দিয়া রাখছেন। আর যে আছে সে-ও তো আমি-ই আসলে, দেখি নাই আর কি; আর না দেখলেও ওইটা তো আমি-ই! এইরকম সেলফের বাউন্ডারির কারণেই মেবি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়রে টেনিদার লেখক ছাড়া কিছু ভাবা যায় না। এখন যা কিছু ভাবতে পারি না, তারে আর নাই বলতে চাইলাম না আমরা।

 

————————————

 

সকালে একটা পার্সেল এসে পৌঁছেছে। খুলে দেখি একজোড়া জুতো।

না, শত্রুপক্ষের কাজ নয়। একজোড়া পুরোনো ছেঁড়া জুতো পাঠিয়ে আমার সঙ্গে রসিকতার চেষ্টাও করেনি কেউ। চমৎকার ঝকঝকে বাঘের চামড়ার নতুন চটি। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়, পায়ে দিতে লজ্জা বোধহয় দস্তুরমতো। ইচ্ছে করে বিছানায় শুইয়ে রাখি।

কিন্তু জুতোজোড়া পাঠাল কে? কোথাও অর্ডার দিয়েছিলাম বলেও তো মনে পড়ছে না। আর বন্ধুদের সব কটাকেই তো চিনি, বিনামুল্যে এমন একজোড়া জুতো পাঠাবার মতো দরাজ মেজাজ এবং ট্যাঁক আছে বলেও জানি না। তাহলে ব্যাপারটা কি?

খুব আশ্চর্য হব কিনা ভাবছি, এমন সময়, একটা সবুজ রঙের কার্ড চোখে পড়ল। উইথ্‌ বেস্ট্‌ কমপ্লিমেন্টস্‌ অব রাজাবাহাদুর এন, আর চৌধুরী, রামগঙ্গা এস্টেট্‌।

আর তখনি মনে পড়ে গেল! মনে পড়ল আট মাস আগেকার এক আরণ্যক ইতিহাস, একটি বিচিত্র শিকারকাহিনী। Continue reading

নিকোলাই গোগলের গল্প – নাক।

লিটারালি, ল্যাটিন আম্রিকার লিটারেচারের ম্যাজিক রিয়ালিজমরেই আসল রিয়ালিজম বইলা ভাবতে পারি আমরা। মানে, একটা ট্রু রিয়ালিটি আছে যেইটা ম্যাজিক ছাড়া রিভিল করা যাইতেছে না। ইমাজিনেশন আসলে ইমাজিনেশন না, একটা ট্রু রিয়ালিটির রিফ্লেকশন; আর এই ট্রান্সফর্মেশনের জায়গাটাতে ম্যাজিকও পয়দা হয়। ওয়াও! রিয়েল ত একটা ম্যাজিক্যাল ব্যাপারই তখন।

গোগল যখন নাক লেখেন তখন এই রিয়েল হওয়ার কোন টেনশন উনার আছিলো না। কাফকারে যেমন ধইরা নিতে হইছে যে, গ্রেগর সামসা মানুষ আছিলো – এইটা নিয়া কোন কনফিউশনই নাই; কনফিউশন হইলো অন্য কোনকিছু হইতে থাকাটা নিয়া। যার ফলে, কাফকারে ম্যাজিক রিয়ালিজমের বাপ (মেইল ইগো-রই যন্ত্রণা) মনে হইলেও, গোগলরে আর কাফকার বাপ মনে হইতে পারে না। কারণ গোগলের রিয়ালিটি নিয়া তেমন কোন ঝামেলা নাই; এইটা থাকলে আছে, না-থাকলে নাই।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

কাফকা যখন রিয়ালিটিটারে (হোয়াটএভার ইট ইজ) ডিসটরট কইরা ফেলেন তখন ম্যাজিক পয়দা হয় আর সেই ম্যাজিকের রাস্তা দিয়া হাঁটতে হাঁটতে নতুন নতুন রিয়ালিটির কলাগাছ লাগাইতে থাকেন মার্কেজরা। যেই চেয়ারে বইসা টাইপরাইটারে লিখতে হয় উনাদের, সেই চেয়াররে আর চেয়ার কওয়া যায় না, কইতে হয় পঙ্খীরাজ নাইলে ছোট্ট-গাধা, তা নাইলে চেয়ার জিনিসটার থাকাটাই পসিবল না। আমরার রিয়ালিটি যেহেতু একটা লজিক্যাল ফেনোমেনা, ম্যাজিক রিয়ালিজমের লাইগা এইরকম ডিসটরশনগুলা খালি জরুরি না, এই ডিসটরশনগুলাই রিয়ালিটি ইটসেলফ।  

তবে লিটারেচারে, চেয়াররে যে চেয়ার বলা যাইতো একটা সময় বা মেবি এখনো যে বলা-ই যায় (অলটুগেদার ডিফরেন্ট কোন চেয়ারই, ১৮৩৫ সালের না), গোগলের নাক’টা এইটার একটা রিমাইন্ডার হিসাবে পড়া যাইতে পারে। যা কিছু আছে সেইটা যদি না থাকতে পারে, যা কিছু নাই সেইটাও থাকার কোন কথা না, সবসময়েই।

সো, লেটস হ্যাভ অ্যা রিয়ালিটি চেক উইথ গোগল উইথআউট ম্যাজিক রিয়ালিজম।
——————————————


মার্চ মাসের ২৫ তারিখে সেন্ট পিটার্সবুর্গে একটা অসাধারণ রকমের অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। ভজনেসেনস্কি এভিনিউয়ের অধিবাসী নাপিত ইভান ইয়াকভলেভিচ (পদবিটা তার হারিয়ে গেছে, এমনকি নেই তার দোকানের সাইনবোর্ডেও, যেখানে আকা আছে একগাল সাবানের ফেনা মাখা এক ভদ্র লোকের ছবি আর লেখা আছে ‘রক্ত মোক্ষণও করা হয়’), বেশ ভোরে ঘুম ভাঙতেই নাপিত ইভান ইয়াকভলেভিচ গরম রুটির গন্ধ পেল। খাটের উপর দেহটা সামান্য উঁচু করে তুলতেই সে দেখতে পেল যে কফির দারুন ভক্ত, পরম শ্রদ্ধেয়া মহিলা, তার সহধর্মিণীটি চুল্লী থেকে সদ্য-সেঁকা রুটি টেনে বার করছে।

‘প্রাসকোভিয়া ওসিপভনা, আজ আর আমি কফি খাবো না; ইভান ইয়াকভলেভিচ বলল,’তার বদলে পিঁয়াজ দিয়ে খানিকটা গরম রুটি খাবার ইচ্ছে হচ্ছে।’

(আসলে ইভান ইয়াকভলেভিচ মনে মনে কফি এবং রুটি দুটোই চাইছিল, কিন্তু সে জানত যে একবারে দুটি বস্তু চাওয়া হবে সম্পূর্ণ নিরর্থক, যেহেতু প্রাসকোভিয়া ওসিপভনা এ ধরনের আবদার মোটেও বরদাস্ত করতে পারত না।) ‘আহাম্মকটা রুটি খাকগে; আমারই ভালো, বাড়তি এক ভাগ কফি জুটবে, মনে মনে এই ভেবে তার স্ত্রী টেবিলের ওপর একটা রুটি ছুঁড়ে দিল।

ইভান ইয়াকভলেভিচ ভদ্রতার খাতিরে জামার ওপর কোট চাপাল, টেবিলের পাশে বসে পরে খানিকটা নুন ঢালল, দুটো পিঁয়াজ ছাড়াল, ছুড়ি হাতে নিল এবং গম্ভীর মুখভঙ্গি করে রুটি কাটতে প্রবৃত্ত হল। রুটিটা দুই আধখানা করে কাটার পরে মাঝখানটায় তার চোখ পড়ল, সে অবাক হয়ে গেল সাদা একটা কিছু দেখতে পেয়ে। ইভান ইয়াকভলেভিচ সন্তর্পণে সেটাকে ছুরি দিয়ে খোঁচালো, আঙ্গুল দিয়ে টিপে দেখল। ‘আঁটসাট গোছের দেখছি’। সে মনে মনে বলল, ‘কী হতে পারে এটা’?

সে আঙ্গুল পুরে  দিয়ে টেনে বার করল – নাক। ইভান ইয়াকভলেভিচ থ হয়ে গেল; চোখ রগড়াতে লাগল, জিনিসটা হাতড়ে দেখতে লাগল: নাক – নাক যে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই! শুধু ত-ই নয়, মনে হচ্ছিল যে কোন চেনা লোকের। ইভান ইয়াকভ্লেভিচের চোখে-মুখে ফুটে উঠল আতঙ্কের ভাব। কিন্তু যে ক্রোধ তার স্ত্রীরত্নটির ওপর এসে ভর করল সেটার তুলনায় এই আতঙ্ক নেহাৎই তুচ্ছ।

‘ওরে কসাই, কোথায় তুই কাটলি এই নাকটা, শুনি?’ রাগে চেঁচিয়ে বলল সে। ‘ঠগ! মাতাল! আমি নিজে তোর নামে পুলিশে রিপোর্ট করব! কী ডাকাত! আগে আমি তিন তিনজন লোকের কাছে শুনেছি, দাড়ি কামানোর সময় তুই লোকের নাক নিয়ে এমন টানাটানি করিস যে নাক কোন রকমের জায়গায় টিকে থাকে।’

কিন্তু ইভান ইয়াকভলেভিচের তখন জীবন্মৃত অবস্থা। সে চিনতে পারল যে এই নাকটা সরকারী কালেক্টর কভালিওভের ছাড়া আর কারও নয়। লোকটা প্রতি বুধবার ও রবিবার তার কাছে কামাতে আসে।

‘দাঁড়াও, প্রাসকোভিয়া ওসিপভনা! আমি ওটাকে একটা নেকড়ায় জড়িয়ে কোনায় রেখে দেই; ওখানে না হয় খানিকক্ষণ পড়ে থাক, পরে বাইরে নিয়ে যাবো।’

‘কোন কথা শুনতে চাই না! ভেবেছিস কাটা-নাক ঘরে পড়ে থাকবে, এটা আমি বরদাস্ত করব?… চালাকি! জানিস তো কেবল চামড়ার বেল্টের ওপর ক্ষুর ঘষতে, শিগগিরই নিজের কাজটা করার মতও অবস্থা তোর থাকবে না রে হতভাগা, পাজি, বদমাশ! তোর হয়ে পুলিশের কাছে আমি সাফাই গাইতে যাবো ভেবেছিস?… ওরে আমার বুদ্ধির ঢেঁকি, হতচ্ছাড়া নোংড়া কোথাকার! নিয়ে যা এখান থেকে বলছি। এক্ষুনি! যেখানে খুশি নিয়ে যা! ত্রিসীমানায় যেন ওটাকে দেখতে না পাই! Continue reading

কাজী নজরুল ইসলামের কয়েকটা কবিতা

‘ছন্দ’ কাজী নজরুল ইসলামের কবিতারে কিশোর বানায়া ফেলছে। অথবা উনার কিশোর-মন (মানে ধইরাই নিতেছি মন বইলা একটাকিছু আছে বা থাকতে পারে শরীরের ভিতরে) ছন্দের শরীরে যে কমর্ফোটটা পাইছে সেইটা ছাড়তে আর রাজি হইতে পারে নাই, কোনসময়েই। এইটা কনটেম্পরারি থাকতে চাওয়ার একটা ফ্যাসাদই মেবি। কনটেম্পরারি হইতে চাওয়ার সুবিধাও আছে আবার, কবিতা তখন সেলিব্রেশনের একটা ব্যাপার – মোহামেডান জিতছে একটা কবিতা লিইখা ফেলি, সত্যেন্দ্রনাথ মরছে, কবিতাই লিখি; খিদা লাগছে কবিতা লিখি, চেত উঠছে কবিতাই লিখি… এইভাবে একটা টোটাটিলির ভিতর কবিতা নিয়া অ্যাক্ট করা যায়, করছেনও উনি।

তবে মাঝে-মধ্যে উনি উদাসও হইছেন, পলাইতে চাইছেন। উর্দু-হিন্দি ওয়ার্ড (এইগুলা তো ঠিক ‘বাংলা’ না!) দিয়াই বাংলা-কবিতা লিইখা ফেলছেন, আরবী-ছন্দ, বাউল-ভাটিয়ালি সুর ট্রাই করছেন, মটরশুটি-অড়হর-অথি-বাবলাফুল হাবিজাবি জিনিস দেইখা হারিকুরি মার্কা কাম করছেন। ভাষার এই ইনশার্সনগুলি সিগনিফেন্ট। এইগুলির সাইড এফেক্ট হিসাবে একটা ‘বেদনা’ টাইপ জিনিস থাইকা গেছে উনার অনেক কবিতাতে, যেইটা অনেকসময় রিভোল্ট হিসাবে না আসতে পারলে টিজ হিসাবেও আসছে। কিন্তু উনার যে বেদনা-রিভোল্ট-টিজিং সেইটা খালি মেন্টাল প্রব্লেমই না, সবগুলারই যে একটা সোশ্যাল বা পারসোনাল কজ আছে সেইটাই মেইন। এই ‘কজ’-এর জায়গা থিকাই আসলে বাংলা-কবিতাতে জীবনানন্দ দাশ এর্মাজ করার একটা স্পেইস তৈরি হইছে।

তো, ইসলামি জাতীয়তাবাদ ছাড়াও, এই আইডেন্টিফিকেশনের নমুনা হিসাবে উনার কয়েকটা কবিতা পড়া যাইতে পারে।


ই. হা.

————————————

পথহারা ।। চৈতী হাওয়া ।। অ-কেজোর গান ।। শরাবন তহুরা ।। বাতায়ন-পাশে গবাক-তরুর সারি ।। তুমি মোরে ভুলিয়াছ ।। কুহেলিকা ।। কর্থ্যভাষা ।। আঁধারে ।। শেষ বাণী ।।

————————————

পথহারা

বেলা-শেষে উদাস পথিক ভাবে
সে যেন কোন্ অনেক দূরে যাবে –
উদাস পথিক ভাবে।

“ঘরে এসো” সন্ধ্যা সবায় ডাকে,
“নয় তোরে নয়” বলে একা তাকে;
পথের পথিক পথেই ব’সে থাকে,
জানে না সে কে তাহারে চাবে।
উদাস পথিক ভাবে।

বনের ছায়া গভীর ভালোবেসে
আঁধার মাখায় দিগবধূদের কেশে,
ডাকতে বুঝি শ্যামল মেঘের দেশে
শৈলমূলে শৈলবালা নাবে –
উদাস পথিক ভাবে।

বাতি আনে রাতি আনার প্রীতি,
বধূর বুকে গোপন সুখের ভীতি,
বিজন ঘরে এখন যে গায় গীতি,
একলা থাকার গানখানি সে গাবে –
উদাস পথিক ভাবে।

হঠাৎ তাহার পথের রেখা হারায়
গহন ধাঁধাঁর আঁধার বাঁধা কারায়,
পথ-চাওয়া তার কাঁদে তারায় তারায়
আর কি পুবের পথের দেখা পাবে –
উদাস পথিক ভাবে।

 

(বইয়ের নাম – দোলন-চাঁপা, অক্টোবর ১৯২৩ সালে ছাপানো হয়।)

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →