Main menu

দ্য টাইমলি মরণ অব আহমদ ছফা

ফাউস্টের ভালো একটা ট্রান্সলেশন করতে ছফা এখন ভাইবার ইউজ করতে পারতেন; জার্মান বান্ধবীর লগে ভাইবারে গ্যেটে বুঝে নিতে পারতেন আরো ক্লিয়ারলি। প্রাইভেট ব্যাংকের এটিএম ইউজ করতেও আরাম পাইতেন মে বি; বেনামে তারে টাকা দিতে পারতেন অগুণতি ওয়েলউইশার; নিজের গ্রামের বাড়িতে ভালো একটা ঘর বানাইয়া, ভালো চেয়ারে ফরহাদ আর জিল্লুরকে বসাইয়া মস্ত শরম থেকে ডেফিনিটলি বাঁচতে পারতেন। বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভিতে ‘এ্য ডেট উইথ ছফা’ও অনেক মজার, হট একটা টক শো হইতে পারতো। বাট তবু, প্রাইভেট ব্যাংক আর টেলিকম আর অ্যাড এজেন্সি এবং প্রাইভেট টেলিভিশনের এমন হাই-টাইমে ছফার জিন্দা থাকাটা ঠিক হইতো না।

কেননা, লাস্ট সেঞ্চুরির লেট এইটিজ থেকে প্রায় পুরা নাইন্টিজ ছফার যেই পরানগুলি আজিজ মার্কেট বা শাহবাগের রাস্তায় ঘুরতো তাগো খাইয়া ফেলছিল ব্যাংক-টেলিকম-টেলিভিশন; আরো একটা মাল আস্তে আস্তে ছফার পরানগুলিরে খাওয়া শুরু করছিল–কম্পিউটার। এমএসএন আর ইয়াহু মেসেঞ্জারে ঠিক কইরা নেওয়া যাইতেছিল ডেটিং শিডিউল, সিডিতে ছিল গান-মুভি, ছফার চাইতে ডিএক্স বলের চেহারাটা বেশি মিঠা হইয়া উঠছিল। Continue reading

সাধকের গানে আপন ঘরে আপনারে চেনার আহ্বানে উপনিবেশ-বিরোধী চেতনা

[pullquote][AWD_comments][/pullquote] “সারা জীবন কলোনির ভিতর থাইকাও এইখানে কলোনাইজেশন বইলা কিছু একটা হিস্ট্রিক্যাল ওলটপালট ঘটাইয়া দিছে সেইটা লালন পইড়া বোঝার উপায় নাই প্রায়।” লালনকে নিয়ে তির্যক বুদ্ধিজীবী এস এম রেজাউল করিমের বাক্যটি লালনের গানে কলোনাইজেশন প্রসঙ্গে আক্ষরিক কিছু থাকা না থাকাকে চ্যালেঞ্জ করে না। লালনের ভাব থেকে কলোনাইজেশন সম্পর্কে একটা সিদ্ধান্ত আসে কি না তা নিয়েই বরং চালেঞ্জটা আসরে আসে, একাধিক কারণে। এক, “লালন পইড়া বোঝার” বলার মাধ্যমে তিনি ইন্টারপ্রেটেশকেও তার চ্যালেঞ্জের আওতায় রেখেছেন। দুই, এ প্রসঙ্গে লালন কতটুকু কী দিয়েছেন তাও তিনি জুড়ে দিয়েছেন এই বলে,“এই লালন, জাতপাত-আশরাফ-আতরাফ লইয়া গান গাইয়া গাইয়া হিন্দু-মোসলমানরে মিশনারিতে পাঠাইছেন খ্রিস্টান বানাইতে, ওনার অসমতাবিরোধী গান খ্রিস্টান বানাবার চাইতে বেশি কিছু দিতে পারে নাই”। তিন,বি-উপনিবেশীকরণ প্রক্রিয়ায় লালনের স্মরণ নেয়ার প্রস্তাব এবং চর্চা আছে বাংলাদেশে। আবার, সেই প্রস্তাবের সঙ্গে নিম্নবর্গের রাজনৈতিক দর্শনকে যারা যুথবদ্ধ করেন, তাদের প্রতি রেজাউল করিমের ক্রিটিক, তারা “রায়তি গ্রাম বানাইয়া জমি পত্তনী দিয়া কৃষকদের থেকে খাজনা লওয়া ফিউডাল লর্ড লালনরে ভাবেন নিম্নবর্গের বুদ্ধিজীবী” অথচ, “[…] সামাজিক মানুষের বেকুবি ইনভেন্ট কইরা করুণায় ভিজা হামবড়া লালনেরা গুরুর চরণের সুড়ঙ্গ দিয়া পরম নিখিলে যাইতে বিজি, শরীল তাগো সাধনার ময়দান।”

লালনের পর্যালোচনা বাংলাদেশে বেশ একপেশে- এ পর্যন্ত যা দেখেছি। সে বাবদে, রেজাউল করিমের অই ক্রিটিকে একটি বাহাসের আহ্বান আছে। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে কোন লেখা হয়েছে কি না আমার জানা নেই। লালন বিশেষজ্ঞদের মধ্য থেকে এর একটি যথার্থ উত্তর আশা করা যেতে পারে। আমি, লালন অনুরাগী হিসেবে, বি-উপনিবেশায়নের একজন সক্রিয় সমর্থক হিসেবে, নিম্নবর্গের রাজনীতিক দর্শনের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে, এবং রেজাউল করিমের একজন নিয়মিত পাঠক হিসেবে আসন্ন সেই বাহাসের অভিমুখটুকু তৈরি করার চেষ্টা করেছি আমার এই লেখায়। লালন পড়ে রেজাউল করিমের যে বোঝাপড়া তার সঙ্গে আমার বোঝাপড়ার কিছু তফাত তুলে ধরব এখানে।

আমার প্রস্তাব হচ্ছে, উপনিবেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আত্মকে, আপনাকে চেনার সাধক লালনকে দার্শনিক গুরু হিসেবে নেয়া ঠিক আছে। লালন বলছেন,আপনাকে চিনতে পারলে অন্যান্যকে জানা যাবে। এ কথার এক্সটেনশন বলে, অন্যান্য জানার ভেতর দিয়ে নিয়ে জানা হয়ে ওঠে না। এই কথাকে প্রামান্য রেখে, উপনিবেশের কথায় আসা যাক। উপনিবেশকে উপড়াতে হতে উপনিবেশকে জানতে হবে। এখন, উপনিবেশকে জানব কি করে? লালন মতে, এর উত্তর হল, আপনাকে জেনে। এ বাবদে আপনাকে জানার ভেতর দিয়েই বি-উপনিবেশীকরণ কার্যত শুরু হয়। এটা নিঃসন্দেহে পুনরাবৃত্তি হল, এই কথা অনেকেই বলেছেন, এবং রেজাউল করিমও তা জানেন। কিন্তু তাতে রেজাউলের বক্তব্যের ফয়সালা হয় না। কারণ রেজাউল করিমের প্রস্তাবটি এম্পেরিকাল ভুমিতে খাড়া;সেখানে ইন্টারপ্রেটশনের সঙ্গে এম্পেরিকাল এভিডেন্স উত্থাপন এবং এ দুয়ের তাত্ত্বিক সম্পর্ক নিরূপণের দাবী আছে। সেই বিষয়ে আমার বাকী কথা। Continue reading

দ্য ফিলোসফি অফ অ্যান্ডি ওয়ারহল (২)

পার্ট ১

————————————————————

আর্ট খালি পয়দা হওয়ার জিনিস না, বানানোও পসিবল; ইন ফ্যাক্ট কেমনে বানাইবেন সেইটা নিয়া অ্যান্ডি ওয়ারহল কিছু সাজেশন দিছেন। অবভিয়াসলি ইন হিজ অউন ওয়ে। আর কোন ইন্ডিভিজ্যুয়াল আর্ট-ই সারভাইব করতে পারবে না আনটিল এইটা নিজেই একটা ইন্সটিটিউশন হয়া উঠতে পারে। এইসব জিনিস ট্রাই কইরা গেছেন ওয়ারহল। নাথিংসনেস ইজ নট সামথিং। নাথিং মানে এমন না যে, একটা কিছু আছে বা নাই; নাথিং মানে হইলো কিছুই না। কিছুই না সর্ম্পকে কিছু আলাপ, এই চ্যাপ্টারটা।

—————————————————————

১২
আর্ট

এ: কিছু চকলেট নেন আপনি… আর তারপরে দুই পিস ব্রেড নেন… আর মাঝখানটাতে আপনি ক্যান্ডি রাখেন, তাইলে এইভাবে আপনি একটা স্যান্ডুউইচ বানাইতে পারলেন। আর এইটা হইলো একটা কেক।

 

মন্টি-কার্লো’তে হোটেল মেরাবোঁ’র একটা সুইটে আমরা থাকতেছিলাম। এর পাশের হোটেল ডি প্যারিস আমাদেরকে ছাইড়া দিতে বলার পরে বন্ধুরা এইটা ভাড়া করছিলো। কারণ বিশাল গ্রান্ড পিক্স উইকএন্ডের আগে বি আমরার রির্জাভেশনের সময় আগে থিকা বাড়াইতে ভুইলা গেছিলো। আমার রুম থিকা রেস ট্র্যাকের একটা হেয়ারপিন কার্ভ দেখা যাইতো। দেখতে তো পাইতাম-ই – আর আমি ডেফিনেটলি শুনতেও পাইতাম সব গ্রান্ড পিক্স প্রিলিমিনারিগুলা যখন তারা প্রতিদিন সকাল পাঁচটা ত্রিশে শুরু করতো আর সারাদিন ধইরা চলতো।

আমি কিছু ট্রান্সক্রিপ্ট তৈরি করতেছিলাম যখন বি আর ডেমিয়েন আমার দরজায় নক করলো দেখার লাইগা যে আমি লাঞ্চে যাওয়ার লাইগা রেডি আছি কিনা। একটা নেভি-ব্লু ডিয়র-এ ডেমিয়েনরে সুন্দর দেখাইতেছিল। যখন আপনি ওরে বাইরে যাওয়ার লাইগা কইবেন আপনি আগে থিকা জানতেই পারবেন না ওরে লাখটাকার দেখাইবো নাকি দুইপয়সার। আর শে যেমনে ঠিক করে তারে কিরকম দেখাইবো সেইটার সাথে শে কই যাইতেছে তার কোন মিল নাই – শে একটা রক কনসার্টের লাইগা একটা ভ্যালেনটিনো পড়তে পারে আর একটা হ্যালিসটোন পার্টির লাইগা জিন্স। ইন ফ্যাক্ট, শে দুইটার লাইগাই সম্ভবত এই জিনিসই পড়তে পারে।

যখন তারা বিকট আওয়াজ শুনতে পাইলো, ডেমিয়েন আর বি দুইজনেই হাত দিয়া কান  চাপা দিলো। “আমি রেসিংয়ের কথা ভাবতেছিলাম” বি কইতেছিলো, যখন বিশটা ছোট গাড়ির ইঞ্জিন আওয়াজ কইরা উঠলো। “যে কোন সময় গাড়িগুলা উইঠা আসতে পারে।”

“আমার মনেহয় এরা দেখে যে কে কার চাইতে বেশি আওয়াজ করতে পারে,” আমি কইলাম।

“আপনার কি মনেহয় ড্রাইভারগুলা মরতে চায়?”

আমি কইলাম, “আমার জাস্ট মনেহয় ওরা একটা বড় ঝাটকা দিতে চায়। ধরেন আন্দ্রে ‘হুইপস’ ফিডম্যান যখন জানালা দিয়া লাফ দিছিলো আর শে কইছিলো যে ‘বড় একটাকিছু’র লাইগা যাইতেছি: বেহেশতে।’ আমার মনেহয় না ওরা মরা’র কথা ভাবে – এইটা একটা বড় ধরণের আইডিয়াটাই।”

“তাইলে ওরা মুভি স্টার হওয়ার ট্রাই করে না কেন?”

“এইটা একটা মেন্দা-মারা ব্যাপার হইবো।” আমি ব্যাখ্যা করলাম, “কারণ সব মুভি স্টাররা রেস-কারের ড্রাইভার হওয়ার ট্রাই করে। আর তাছাড়া, সব নতুন মুভি স্টাররা হইলো গিয়া খেলাধূলার লোক – তারা আসলেই সুন্দর-চেহারার লোকজন, একসাইটিং লোকজন – আর তারা সবচে বেশি টাকা কামাইতেছে।”

যখন গাড়িগুলা শহরের আরেকদিকে চইলা গেলো আওয়াজটা কইমা গেলো। এখন শব্দটা অ্যাপলোর লিফট অফ হওয়ার চাইতে বরং অনেকটা একটা ৭০৭ এর মতো। এক মিনিটের লাইগা আমি এই তুলনামূলক নিরবতাটা উপভোগ করতে চাইলাম, কারণ পরের মিনিটেই ওরা ব্যাক করবে – এইরকম একটা টাইমই লাগে কোর্সটা শেষ করতে। বি মনে করতে পারলো যে তার একটা ফোন কল করা দরকার আর সে তার রুমে ফেরত গেলো কথা বলার লাইগা, যেইখানে আওয়াজটা কম।

ডেমিয়েন আর আমি রুমটাতে একলা এখন আর যদি আমার বউও এইখানে না থাকতো আমি প্যানিকড হয়া যাইতাম। আমি সাধারণত প্যানিকড হয়া যাই যখন আমি লোকজনের সাথে একলা থাকি – মানে, একজন বি ছাড়া – যতক্ষণ না আমি আমার বউরে পাই।

হাঁইটা জানালার ধারে গেলো ডেমিয়েন আর বাইরে তাকাইলো। “আমার ধারণা, কোন একটা ক্ষেত্রে বিখ্যাত হইতে হইলে আপনারে প্রচুর রিস্ক নিতে হয়” শে কইলো, আর তারপর, ঘুইরা শে আমার দিকে তাকাইলো, শে যোগ করলো: “উদাহারণ হিসাবে, একজন আর্টিস্ট হইতে হইলে।”

আরো সিরিয়াস হইতে থাকতেছিলো শে, কিন্তু এইটা জাস্ট একটা বাজে মুভির মতো আছিলো। বাজে মুভিগুলা আমি পছন্দ করি। আমি মনে করতে পারতেছিলাম কেন আমি সবসময় ডেমিয়েনরে পছন্দ করতাম।

Salami-Hard-12ozআমার প্যান অ্যাম ফ্লাইটের ব্যাগ থিকা বাইর হয়া আসা গিফট-র‌্যাপার দিয়া মুড়ানো সালামি’র দিকে আমি দেখতেছিলাম আর কইলাম, “যে কোন সময় আপনি একটা সালামির স্লাইস কাটেন, আপনি একটা রিস্ক নেন।”

“না, আমি মিন করতেছি একজন আর্টিস্টের লাইগা – ”

“একজন আর্টিস্ট!” আমি ইন্টারাপ্ট করলাম। “আপনি কি মিন করেন, একজন ‘আর্টিস্ট’? একজন আর্টিস্ট একটা সালামিও কাটতে পারে! লোকজন কেন মনে করে আর্টিস্টরা স্পেশাল? এইটা জাস্ট আরেকটা কাজ।” Continue reading

বিনোদিনী দাসী’র কয়েকটি কবিতা

 

বিনোদিনী দাসী (১৮৬২/৩ – ১৯৪১) থিয়েটারের অভিনেত্রী হিসাবেই পরিচিত। ১৮৭৪ থেকে ১৮৮৬ এই ১২ বছর তিনি কলকাতার বিভিন্ন থিয়েটারে অভিনয় করেন। উনার আত্মজীবনী ‘আমার কথা’ (১৯২০) এখনো রিলিভেন্ট একটা টেক্সট, অনেকগুলি কারণেই। কিন্তু উনার দুইটা কবিতার বই – বাসনা এবং কনক ও নলিনী ছাপা হইলেও ‘বঙ্গের মহিলা কবি’তে শ্রীযোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত ৩৩ জন বিশিষ্ট এবং ১৭ জন নন-বিশিষ্ট কবিদের মধ্যে উনার নাম নিতে পারেন নাই। সোসাইটিতে, কবিতা যে ক্লাস সুপরিয়রিটির একটা ব্যাপার এই ঘটনা থিকা এইটা স্পষ্ট হওয়ার কথা।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

বিনোদিনী দাসী’র কোন সোশ্যাল ক্লাশ ছিলো না। সমাজ’রে উনি ঘৃণা করতেন এই কথাও জানা যায়। উনি এমন একটা টাইমে জন্মাইছিলেন যখন পেশা হিসাবে বাঈজী আর এগজিস্ট করে না এবং বেশ্যা হওয়াটাও পুরাপুরি ডিফাইনড হয় নাই; বরং এর মাঝখান থিকা থিয়েটার করা বাজে মেয়েমানুষ হিসাবেই উনি পরিচিত হইতে পারছিলেন। যেই কারণে জগদীশ গুপ্তের উপন্যাসে ‘বেশ্যাবিবাহ’ রবীন্দ্রনাথ মানতে পারেন নাই একই কারণে  বিনোদিনী দাসী যে কবিতা লিখেন এইটাই বিশ্বাসযোগ্য কোন ঘটনা হইতে পারে নাই। স্টিল নাউ ঘটনাটা এইরকমই।

নিজের খায়েশ মোতাবেক চলা বা করা–ইন্ডিপেন্ডেন্স যারে কয় আর কি–বিনোদিনী’র কাছে সেইটা বিশেষ কিছু পাইয়া ফেলা না; কেননা, বিনোদিনীর ক্লাসে খায়েশ একটা হরদম ঘটনা, খায়েশ পূরণও। ফলে স্বর্ণকুমারী বা কামিনী রায়ের কাছে যেগুলি সাকসেস বিনোদিনীর সেইটা ইনহেরিটেন্স! সো, এই বিনোদিনী স্বর্ণকুমারী-কামিনীর ক্লাসে এন্ট্রি চাইলেন ঠিকই, নিউ ক্লাসের দরজার বাইরে বহু কিছুই রাইখা যাইতে রাজি হইলেও সাকসেসের ডেফিনিশনটা ফালাইয়া যাইতে রাজি হন নাই। মালিক হইতে চাইলেন বিনোদিনী, স্বর্ণকুমারীরা তখনো নিজের নড়াচড়ার জন্য একটু স্পেস–কেবল নিজের মালিক হবার লড়াইটাই পুরা করতে পারেন নাই, আগে থেকেই নিজের মালিক বিনোদিনী তখন প্রোপার্টির মালিক হইতে চাইছেন, নিজের প্রোপার্টি দিয়া আর্টের ব্যবসা কইরা খাইতে চাইতাছেন।

পোলাদের কানগুলি তাগো কথাও একটু শুনুক, কেননা দুইটা কথা তাগোও আছে–স্বর্ণকুমারীরা কবিতায় যখন অতটুকু স্রেফ চাইতাছেন, ভিক্টোরিয়ান এথিকস্ মাইনা পাপের শরীল লুকাইয়া স্রেফ মনের কথা কইতাছেন বিনোদিনী তখন শরীলে ঢেউ তুইলা পোলাগো লগে নেগোসিয়েট করতাছেন, ওয়াদা না রাখা পোলাগো অভিযোগ আর গালি দিয়া মেসমার কইরা দিতাছেন।

বিনোদিনী তাই স্বর্ণকুমারীদের ক্লাসের কবি হইতে চাইলেও এমন কিছু করতে পারতাছেন যা স্বর্ণকুমারীদের পারতে আরো ১০০ বছর লাগবে; ইভেন ১০০ বছর পরেও রোকেয়াদের দেখানো রাস্তায় বড়জোর তসলিমাদের পাইবো আমরা, কেননা বিনোদিনী আমদানি করা চিন্তায় পয়দা হন নাই, এইখানকার ইতিহাসে পয়দা হইছেন–আমদানি করা চিন্তার লগে ডায়ালেক্টিক্সের ভিতর দিয়া। বিনোদিনী একটা প্যারালাল, বিনোদিনী মরণ সেই প্যারালালেরও মরণ। তবু, আজকের আমরাদের ডি-কম্পোজ যদি করতে চাই, রি-ক্রিয়েট যদি করতে চাই, তুমুল ডি-কন্সট্রাকশনের ভিতর দিয়া যাইতে যদি রাজি হইতে পারি কখনো–বিনোদিনীরে আমাদের কামে লাগবে।

—————————————————————–

কি কথাটি তার ।। আবার চাঁদ ।। একটি গোলাপ ।। সোহাগ ।। শিখাও আমায় ।। কেন যে এমন হল।। কোথা গেলি ।। অবসাদ।।

—————————————————————–

 

কি কথাটি তার।

কি যেন প্রাণের কথা বলে গেল কে?
যেন কোন দূর দেশে, কি যেন প্রাণের আশে
কিসের তরে কোথায় যেন গিয়েছিল সে
কি যেন প্রাণের কথা বলে গেল কে?

যেন সে চাঁদের কোলে তারার সনে
খেলতো দিবা নিশি।
যেন সে ফুলের সনে হেলে দুলে
নাচতো সুখে ভাসি।

যেন সে মধুর আলো গায়ে মেখে
চলতো বাতাস ভরে
যেন সে শূন্যে মিশে
যেতো ভেসে দেশে দেশান্তরে।

যেন সে প্রাণের ভিতর ধরত কত
সোহাগের ফুল
আপন মনে থাকতো সদা
ঘুমে ঢুলু ঢুলু।

জানতো যেন আকাশেতে
বাড়ী ঘর তার
আর কি কোথায় আছে কিনা
জানতো নাকো আর।।

যেন সে ভেসে ভেসে দেশে দেশে
ধরতো ফুলের হাসি।
কত সাধ করে আপন গলায়
পরতো প্রেমের ফাঁসি।।

যেন সে চাঁদের চুমোয় বিভোর হয়ে
হতো আপন হারা
মলয়ানিলে কোলে করে
ভাবতো পাগল পারা।।

যেন সে ঘুমের ঘোরে চমকে উঠে
চাইতো চারি ধার।
দেখতো কাছে সদা আছে
মুখখানি কার।।
এখন যেন সেখান হতে যাচ্ছে চলে সে।
কি যেন প্রাণের কথা বলে গেল কে।।

Continue reading

English Translation of Bangla Poems

This entry is part 3 of 3 in the series English Translation of Bangla Poems

[pullquote][AWD_comments] [/pullquote]The intention is to represent Bangla poems in English, but this is very partial; the translator has chosen the poets and poems, we just pick the living poets up. Therefore, these poems are not the sole representation of Bangla poetry, but obviously are few examples. The thing is not that to be translated in another language, poems have to be very important in the original language; the idea of the importance as well as the purpose of the translation can vary widely; but above all, we can’t deny that the selection itself imposes some sort of importance on the text. By publishing these translations of Bangla poems we just desire to spread the possibility to influence the poetry of other languages.

——————————————–

 

Muzib Mehdy

Schizophrenia

Schizophrenia, Let us sit over the tender clouds
Let us lay with absolute delight
Oh! I can’t sleep since eternity

Let us talk about atmosphere
before we sleep, On whose back
the velvet fair beds ride place to place

Schizophrenia, My hunky-dory darling
Let me touch your cheeks
Let me kiss your lovesome finger
Let us adore
Let us incite the bed
Let us be rain on the earth
shattering those cotton clouds

Schizophrenia, let us surge to the heart of ocean
Let us play with the tides
Under the heat of the sun
We will start our voyage again
Let us fly in the abyss
By wings of the wind-bird

Schizophrenia, let us perch a little
On the nest of cloud. Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →