Main menu

গোলাম মুস্তাফার কবিত্ব

সম্প্রতি একটা বড় খবর আমরা পাইয়াছি, যাঁহারা বাংলাসাহিত্যের গৌরব করেন, তাঁহারা এ খবর পাইলে আহ্লাদে আটখানা হইবেন। খবরটি এই, বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি খাজা গোলাম মুস্তাফা নূরউল মুল্ক মহোদয়কে তাঁহার অসামান্য কাব্যকীর্ত্তির জন্য, হিন্দু ও মুসলমান বাঙ্গালীর পক্ষ হইতে একটি সম্মান-পত্র দিবার আয়োজন হইতেছে। অনেকে তাহার সংবাদ রাখেন না জানি, কিন্তু যাঁহারা বাংলাসাহিত্যের জোত-জমি অধিকার করিয়া আছেন, তাঁহারা জানেন ইহাতে আয়বৃদ্ধির সম্ভাবনা কতখানি। তাই রায় বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রের সভাপতিত্বে এই সম্বর্দ্ধনা কার্য্য সম্পন্ন হইবে শুনিয়া আমরা বাংলাসাহিত্যের কৃষিবিভাগের উন্নতির আশায় উৎফুল্ল হইয়াছি। Continue reading

সহমরণ হতে সতীদাহ

১৮১৮—১৯, রামমোহন রায় দুটি বই পাবলিশ করেন: ক. সহমরণ বিষয় ।। প্রবর্ত্তক ও নিবর্ত্তকের সম্বাদ এবং খ. সহমরণ বিষয়ে ।। প্রবর্ত্তক ও নিবর্ত্তকের দ্বিতীয় সম্বাদ। দশ বছর পরে, ১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক (লর্ড: ১৮২৮–৩৫) বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে সতীদাহ নিষিদ্ধ করেন। এর আগে রামমোহন একটি আবেদন করছিলেন; সেই আবেদনে সাঁড়া দিয়েই সতীদাহ নিষিদ্ধ করা হয়; ফলে পরবর্তীকালের ইতিহাস সমাজসংস্কারে রামমোহনের কৃতিত্ব হিসাবেই হাজির করে এটিকে।

[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

কিন্তু ঘটনা এমন সরল ছিলো না; সতীদাহ আগে থেকেই নিষিদ্ধ ছিলো; ১৮১৩ সালের ২০ এপ্রিল সতীদাহ নিষিদ্ধ করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। একই সাথে সহমরণকে আইনীভাবে রিকগনাইজ করে। নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়, ১৬ বছরের নিচে বিধবা হলে, গর্ভবতী অবস্থায় হলে বা দুগ্ধপোষ্য শিশুর মা বিধবা–এনারা সহমরণে যেতে পারবে না; এবং নেশাদ্রব্য সেবন বা জোরারোপের মাধ্যমে স্বামীর চিতায় বিধবাকে পোড়ানো যাবে না; সহমরণের একমাত্র বৈধ উপায় বিধবার উইল; বিধবার ইচ্ছা ভিন্ন কোন উপায় নাই আর। Continue reading

শব্দের বৃত্তে

[soundcloud id=’100673196′]

 

 

 

১৯৩৭ সালে বিবিসি বেতারে ‘শব্দেরা আমায় ছেড়ে যায়’ (Words Fail Me) নামে একটা সিরিজ সম্প্রচারিত হয়েছিল। তারই অংশ হিসেবে ভার্জিনিয়া উলফ কিছু কথা বলেন Craftsmanship অথবা কারুনৈপুণ্য শিরোনামে। তার বয়ানটুকু সম্প্রচারিত হয়েছিল সেই বছরের এপ্রিলের ২৯ তারিখে। জানামতে এটাই তাঁর কণ্ঠস্বরের একমাত্র রেকর্ড। পরবর্তীতে ১৯৪২ সালে তাঁর রচনা সংগ্রহ The Death of Moths and Other Essays বইটিতে এই বয়ানের একটা লিখিতরূপ ছাপা হয়েছিল Craftsmanship নামে। এই শিরোনাম বিষয়ে ভার্জিনিয়ার আপত্তি ছিল। তাঁর মতে লেখাটার নাম A Ramble Round Words হলে বেশি মানানসই হতো। যেহেতু শব্দদের নিয়েই কথা আমার অনুবাদে আমি তাঁর পছন্দের নামটাই রাখলাম।

প্রথমবার কথাগুলো শুনতে শুনতে খুব অবাক লাগছিল। ইংরেজি ভাষার বেলায় যে সময়টার কথা ভার্জিনিয়া বলছিলেন আমার বারেবারেই মনে হচ্ছে বাংলা ভাষায় সেরকম একটা সময় পার করছি আমরা এখন। অনেক রকম তর্ক-বিতর্ক দেখি ভাষার শুদ্ধ-অশুদ্ধ, শ্লীল-অশ্লীল, কেন্দ্র-বিকেন্দ্র, ঢাকা-কলকাতা ইত্যাদি বিষয়ে। আমার কাছে এ ক্ষেত্রে ভার্জিনিয়া উলফের বক্তব্যটুকু খুব সত্যি মনে হচ্ছে আর তাই বাংলায় অনুবাদ করতে ইচ্ছা করলো।-

-লুনা রুশদী ।। ১১ জুলাই, ২০১৩ ।। মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া

———-
শব্দ… ইংরেজি শব্দেরা, প্রতিধ্বনি, স্মৃতি আর অনুষঙ্গে জমজমাট। এরা বহু শতাব্দী ধরে মানুষের ঠোঁটে, বাড়িতে, রাস্তায় অথবা মাঠে মাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আজকের দিনে এই শব্দগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটাই সবচাইতে বড় সমস্যা – এদের ভেতর সংরক্ষিত আছে শব্দের সীমার বাইরেও ভিন্ন অর্থ, ভিন্ন স্মৃতি, অতীতের বহু বিখ্যাত যোগাযোগ শব্দের মাধ্যমেই সাধিত হয়েছে। ধরা যাক ‘Incarnadine’ i এর মতন অপূর্ব শব্দটার কথা, এর আভিধানিক অর্থ গোলাপী, রক্তিম বা রক্তাভ, কিন্তু এই শব্দের সাথে আমরা কি ‘Multitudinous Seas’ ii

না ভেবে থাকতে পারবো? Continue reading →

  1. ‘Incarnadine’ ছিল ষোড়শ শতাব্দির একটা বিশেষণ, যার অর্থ গোলাপী। এর উৎপত্তি লাতিন শব্দ ‘Carn’ থেকে যার অর্থ মাংস বা দেহ, যে কারণে রক্তমাংসের রঙ হিসাবেও বোঝানো যায়। তাই যদি বলা হয় ‘To Incarnadine’ তার মানে হবে কোনকিছু গোলাপী বা রক্তিম করে তোলা।  (back)
  2. এই বিশেষণটাই পরবর্তীতে ম্যাকবেথ নাটকে শেক্সপিয়ার প্রয়োগ করেছিলেন ক্রিয়া হিসেবে –

    “Whence is that knocking?
    How is’t with me, when every noise appalls me?
    What hands are here? Hah! They pluck out mine eyes.
    Will all great Neptune’s ocean wash this blood
    Clean from my hand? No; this my hand will rather
    The multitudinous seas incarnadine,
    Making the green one red.”

    এখানে ম্যাকবেথ বলছে তার রক্তাক্ত হাতে নেপচুনের সবুজ সমুদ্রও লাল হয়ে যাবে তবু তার অপরাধ ধুয়ে ফেলা যাবে না। তার অপরাধবোধ বিষাক্ত করবে তার পারিপার্শ্বিক যা সে তুলনা করছে সমুদ্রের সাথে।  (back)

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →