নুসরাত ফতেহ আলী খান নিয়া কিছু বলার জরুরত, মানে চিন পরিচয় করানোর কোনো হাউশ আমার নাই। নুসরাত আপন গুণেই মশহুর আছেন দুনিয়াজোড়া। তার গায়কির বিশেষ ধরন সকলের মনেই গুনগুনায় উঠে- দোস্ত বন্ধুরা এমনটাই জানাইছেন। দোস্ত-বন্ধুদের কথায় ইমান আমার ষোলআনা। ফলে, সেইদিকে আর গেলাম না। তার চাইতে কিছু না বইলা লেখায় ঢুকে পড়াই বেহতর।
১৯৮৮-তে নেয়া নুসনাত ফতেহ আলী খানের এই সাক্ষাতকার পয়লা ছাপা হয় ২০০৭-এ। সাক্ষাতকারগ্রহীতা আছিলেন আদম নায়ার। পড়তে পড়তে ভাবলাম তর্জমা হউক বরং। ফলে, তর্জমা হইলো। ভুল বোঝাবুঝির তো শেষ নাই দুনিয়ায়। এই তর্জমাতেও হয়তো সেই ভুল বোঝাবুঝির কিছু নমুনা বর্তমান রইলো।–জামিল আহমেদ
—————
::আপনার পরিবারের সাংস্কৃতিক আবহের বিষয়ে কিছু বলুন।
প্রথমেই আমার শ্রোতাদের জানাতে চাই যে, কাওয়াল ‘বাচো কা ঘরানা’ থেকে এসেছি আমি। বহু প্রজন্ম ধরে এই ঘরানা আমাদের সাথেই আছে। অন্যান্য ঘরানার সাথে যদি তুলনা করি তো বলা ভালো টেকসই দীর্ঘমেয়াদী ঘরানাগুলোর অন্যতম এই ঘরানা। আপনি শুনলে মুগ্ধ হয়ে যাবেন যে, বহু অসাধারণ সঙ্গীতকার বেরিয়েছেন এই ঘরানা থেকে। একে একে নাম করলে বেরিয়ে আসে ওস্তাদ ফতেহ আহমেদ খান, ওস্তাদ বড় মুহম্মদ খান, ওস্তাদ বড় মুবারক আলী খানের নাম।এর বাইরে, কাওয়াল ঘরানাতে তনারস খানের মতো সঙ্গীতকার রয়েছেন যিনি কিনা খুদ কাওয়ালেরই প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি নিজেই একটি একক সংহত অনন্য ঘরানা। এর পরপরই চলে আসেন আগা খান, খান সাহেব বৈরম খানের মতো কাওয়ালের নাম। গোয়ালিয়র ঘরানায় রয়েছেন হাদ্দু হাসু খানের মতো সঙ্গীতকার।::অন্যান্য কাওয়ালেরাও কি আপনার মতোই রাগপ্রধান সঙ্গীতের কাজে উৎসাহী?
ধ্রুপদী সঙ্গীতের গুরুত্ব আমাদের কাছে অপরিসীম। আমরা সঙ্গীত সাধনার শুরুতেই প্রচুর পরিমাণে ধ্রুপদী সঙ্গীতের চর্চার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাই বলে আমাদের ঘরানার প্রায় সকলেই এই ধরনের কাজ করে থাকেন, অনায়াসেই। আমাদের মুরুব্বিরা কাওয়ালীতে ধ্রুপদী সঙ্গীতের বুনিয়াদ পত্তন করেছিলেন। উনারা পুরোপুরি নিখাদ রাগ সঙ্গীত পরিবেশন করতে পারতেন আর এটাকে কাওয়ালীতে বাধতেও ছিলেন সিদ্ধহস্ত।
::আপনার সঙ্গীত শিক্ষার শুরুটা কবে থেকে?
আমার তখন ১৩ বছর।
::এর আগে কিছুই শেখেন নাই?
ছোটবেলা থেকেই আমি বাবার কাছে তবলায় তালিম নিতাম। বিশেষ করে, আমাদের ঘরানায় ব্যবহৃত স্থায়ী আর অন্তরার বিষয়টা খেয়াল করতাম। ছোটবেলাতেই আমাদেরকে খেয়াল বিশেষ করে তারানা গাইবার জন্য উতশাহিত করা হতো। রাগদারিটা বাবা আমাকে রীতিমাফিকই শিখিয়েছিলেন। আমার বয়স যখন ১৩ চলে, বাবা মারা যান। লাহোরে, ১৯৬৪ ইসায়ী সালে। আমি তখন স্কুলের দশম শ্রেনীর ছাত্র আর আমার চাচা তখন আমাকে কাওয়ালীতে নিয়ে আসেন। এবং রীতি ধরে ধরে কাওয়ালী শেখাতে থাকেন। ১৯৬৫সালে বাবার পহেলা মৃত্যুবার্ষিকীতে, বহু সঙ্গীতকারের মুখোমুখি আমার জীবনে প্রথম পারফর্ম করি আমি। সেই ৬৫তেই ‘রেডিও পাকিস্তান, লাহোর’-এর আমন্ত্রণে ‘জাশন-এ-বাহার’ নামের বসন্তকালীন সঙ্গীত উৎসবে যোগ দিই। এভাবেই আমার জীবনে কাওয়ালীর শুরু। বলে শেষ করা যাবে না যে কতো অসাধারণ সব সঙ্গীতকার সেদিন তাদের সুরের লহরী পরিবেশন করেছিলেন। ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খান, ওস্তাদ উমিদ আলী খান, রওশন আরা বেগম, ওস্তাদ আমানত আলী খান, ফতেহ আলী খান, সালামত আলী খান-নাজাকত আলী খান জুটি, ওস্তাদ গোলাম হাসান শাগানসহ অনেকে। তারা সকলেই আমার বাবার পরিচিত ছিলেন আর বাবাকে ভালোও বাসতেন। ফলে, সবাই আমাকে উৎসাহিত করেছিলেন। আমি বলবো, এ ছিলো এক অসাধারণ কনসার্ট। বসন্তের আমেজে রেডিও স্টেশনের সামনের খোলা ময়দানে পরিবেশিত হয়েছিলো এ কনসার্ট। সেখানে আমি ৫০০ রুপি সম্মানী পেয়েছিলাম। ঐ সময়ের হিসেবে এটা বেশ বড়ো অংকের রোজগারই বলতে হবে। আমি প্রথমেই শুরু করি ‘আমির খসরু’র গজল ‘মান বান্দা এ আর রুহ এ কে দিদান’ দিয়ে। এটা ফার্সিতে লিখা। এরপর থেকে আমি প্রায় নিয়মিত পারফর্ম করতে থাকি। Continue reading →