Main menu

‘সুভাষ দত্ত কৌন হ্যায়?’

[সুভাষ দত্ত’র অটোবায়োগ্রাফির একটা অংশ]

‘৭১-এ আমি লারমনি স্ট্রীটে থাকতাম। ২৫ মার্চের রাতে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। সকাল বেলায় জানা গেল ওটা ছিল পাকিস্তানিদের হামলা। তারা বহু লোকজন মেরেছে। ভার্সিটিতে হামলা চালিয়েছে, হত্যা করেছে ড. জি সি দেবকে। তখন আমার মনে পড়ল এই গোবিন্দ দেব আমাদের প্রিন্সিপাল ছিলেন। তখন আমি দিনাজপুর কলেজে পড়তাম। ইউনিভার্সিটিতে, তার বাড়িতে আমার দেখাও হয়েছিল ডঃ জি সি দেবের সঙ্গে। উনি আমাকে দেখে বলেছিলেন, ‘কি সুভাষ? তোমার নাকি এখন খুব নামটাম হয়ে গেছে?’

আমি বলেছিলাম, হ্যাঁ, স্যার। আপনার আশীর্বাদে চলচ্চিত্র জগতে মোটামুটি পরিচিতি লাভ করেছি।

যাহোক, যুদ্ধ তো শুরু হয়ে গেল। আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ল হিংসা। বিহারীরা পাকিস্তানিদের পক্ষ নিল। খুঁজে খুঁজে বের করতে লাগল কোথায় হিন্দুরা থাকে। কে কি করে। আমার বাসা ছিল ৪নং লারমনি স্ট্রীটে। পাড়ার ছেলেরা অবস্থার ভয়াবহতা টের পেয়ে একদিন বলল, ‘দাদা, আপনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান। মিরপুর থেকে বিহারীরা আসছে আপনার বাসার দিকে। আমরা খবর পেয়েছি।

তখন পরিবারের সবাইকে নিয়ে আমি তাড়াতাড়ি চলে আসলাম ৩নং ওয়ারী স্ট্রীটে। কিছুক্ষণ পরে খবর এল আমার বাসায় লুটপাট শুরু হয়ে গেছে। বিহারীরা যা কিছু পাচ্ছে সব নিয়ে যাচ্ছে। আমি ভাবলাম, যাক, নিচ্ছে নিক। আমি প্রতিবাদ করি নি, প্রতিরোধও করি নি।

এভাবে কেটে গেল কয়েকটা দিন। তারপর ১ এপ্রিলের দুপুর বেলা একটি খবর এল। সেদিন ঘরে শুয়ে রেডিওতে কম ভল্যুমে শুনছি কোথায় কি হচ্ছে না হচ্ছে সে খবর। হঠাৎ দরজায় ধাক্কা। শুনলাম বুটের শব্দ। তারপরই প্রবল লাথি মেরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকল পাকিস্তানি মিলিটারি। দ্রুত আমাদের বাড়িটাকে ঘেরাও করে ফেলল ওরা। তারপর আমাকে, আমার ভাইকে এবং অরুণা গোস্বামী বলে একটি ছেলে ছিল, তবলা বাজাত, এই তিনজনকে নিয়ে বাসার সামনের উঠোনে দাঁড় করাল। আমার পরিবারের সবাই ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করে দিল। ছোট ছেলেটা প্রাচীর টপকে পালিয়ে গিয়েছিল। আমাকে প্রাচীরের সামনে দাঁড় করাল। হাত উঠিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি। ছয়জন মিলিটারি তাদের বন্দুক উঁচিয়ে রেডি হয়ে থাকল। ক্যাপ্টেনের অর্ডারের অপেক্ষায়। গোটা এলাকা ফাঁকা। বিহারীরা মিলিটারির সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নেই। হঠাৎ এক ক্যাপ্টেন এসে আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘ক্যায়া নাম হ্যায় তোমারা।’ আমি বললাম, ‘সুভাষ দত্ত।’

ক্যাপ্টেন বলল, ‘তুম সুভাষ দত্ত। তুম ফিলিম মে কাম করতা হ‍্যায়?’

আমি বললাম, ‘জি!’

তখন ওদের মধ্যে যারা বন্দুক উঁচিয়ে ছিল তাদেরকে ইশারা করল। ওরা বন্দুক নামিয়ে ফেলল। তারপর একটি গাড়ি ডাকল। গাড়িটিতে আমাদের উঠতে বলল, ‘আমরা উঠলাম। সবাই ভাবল বাইরে নিয়ে গিয়ে আমাদের মেরে ফেলবে।

তখন এই গাড়িটি বনগ্রাম, নবাবপুর, টিপু সুলতান রোড হয়ে গভর্নর হাউজে ঢুকল। গভর্নর হাউজে একটি বিশেষ কক্ষে আমাদেরকে রাখা হলো। এ রকম বহু লোককে এনে এখানে রাখা হয়েছে। এদের সবার ধারণা সন্ধ্যার পরে সবাইকে মেরে ফেলা হবে। তখন একজন এসে ডাকল, ‘সুভাষ দত্ত কৌন হ্যায়? ও বাহার নিকালো। আমি তখন সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বের হয়ে এলাম। আমি ভাবলাম কোথায় নিয়ে যায়। কিন্তু না দেখলাম ওখানেই একটা রুমে টেবিলের সামনে এনে দাঁড় করাল। তখন একজন আমাকে বলছে, ‘তোমহারা মালুম হ্যায় ইহাছে কোন মন্দির মে ইন্ডিয়ামে খবর যাতা?’
আমি বললাম, নেহি।
‘তুম তো হিন্দু হ্যায়?’
আমি বললাম, জ্বি।’
‘মন্দির মে মে নেহি যাতা হ্যায়?’
‘নেহি। হাম মন্দির মে নেহি যাতা হ্যায়।’
‘ত তুম ক্যায়সা হিন্দু হ্যায়?’
আমি বললাম, ‘হাম রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবকা ফলোয়ার হ্যায়। হামরা মন্দির মে নেহি জানা। হামরা ঘরমে কাম হো যায়।’
তখন ওরা বলে ঠিক হ্যায়। তুম উধার যাও।

এদিকে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পরে বলছে সুভাষ দত্তের সাথে যত লোক সবাইকে বাইরে বের কর। তখন আমরা কান্না শুরু করে দিলাম। কারণ আমরা বাইরে গুলির আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। এর মধ্যে পরিচিত লোক যারা আছে তাদেরকে বললাম, ভাই আসি। হয়তো এই শেষ দেখা। বাইরে যখন বের হলাম, আগের সেই ক্যাপ্টেনটা দাঁড়িয়ে আছে। তখন সে আমাকে বলল-শুন ইধার আও। তখন আমাকে যে সুন্দর কথাটা বলল- সেই কথাটিই পরবর্তীতে আমি ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ ছবিতে লাগিয়েছিলাম। আনোয়ার হোসেন অভিনয় করেছিল। Continue reading

আমার দোস্ত, আমার দুশমন – ইসমত চুগতাই

অ্যাডোলফি চেম্বারের সিঁড়ি বাইয়া উঠার সময় আমার একটু প্যারা লাগতেসিল। পরীক্ষার হলে যাওয়ার সময় যেমন প্যারা লাগে, ওইরকম। নতুন কারো সাথে দেখা হওয়ার সময় আমার এমনিতেই নার্ভাস লাগে, কিন্তু এইবার সেই ‘নতুন মানুষ’টা ছিল মান্টো। যার সাথে আমার প্রথমবার দেখা হবে। তাই প্যারাটা বাইড়া বিরক্তির পর্যায়ে চইলা যাইতেসিল। আমি শহিদরে কইলাম, “চলো ফিইরা যাই, মান্টো মনে হয় বাসায় নাই।” কিন্তু শহিদ আমার সব আশায় পানি ঢাইলা দিল।

“সন্ধ্যাবেলা মান্টো বাসায়ই থাকে, এই সময়ে সে বইসা বইসা মদ খায়।”

এক মুহূর্তের জন্য আমার মনে হইলো, আমি মনে হয় ভূত দেখসি। মান্টো তো মান্টো, এরপর আবার মাতাল মান্টো! কিন্তু ভয় পাওয়ারই বা কী আছে? সে কি আমারে খায়া ফেলবে নাকি। যত ত্যাড়াব্যাঁকা কথাই উঠুক, বিষয় না। আমিও তো হালকা কোনো বুদবুদ না যে ফুঁ দিলেই উইড়া যাব। তো এইসব ভাবতে ভাবতে, ধুপধাপ ধুলা উড়াইতে উড়াইতে আমরা সেই ভাঙাচোড়া সিঁড়িটা দিয়া উপরে উঠলাম। মান্টোর বাসায়। দরজা হালকা কইরা খোলা ছিল। ঢোকার সময় ঘরটা দেইখা মনে হইলো অনেকটা ড্রয়িং রুমের মতো। একটা কোণে সোফা, আর অন্য কোণে একটা খাট রাখা। ধবধবে সাদা-পরিষ্কার একটা চাদর বিছানো। জানালার পাশে একটা টেবিল ভর্তি বই। টেবিলের সামনেই একটা লোক বইসা আছে, যারে প্রথম নজরে দেইখা মনে হবে বড়সড় একটা পোকা! বা ওইরকমই কিছু।

আমাদেরকে দেইখা অবশ্য মান্টোরে খুবই উৎফুল্ল মনে হইলো, “আরে আসেন আসেন।” ও বেশ আপ্যায়নের ভঙ্গিতে উইঠা দাঁড়াইলো। চেয়ারে বইসা থাকলে যেমন ছোটখাটো লাগে, পুরাপুরি উইঠা দাঁড়াইলে ভুলটা ভাঙে। বুঝা যায়, ও এমনিতে বেশ লম্বা। আর যখন ও একটু বেশিই সোজা হয়ে দাঁড়ায়, ওরে দেইখা খুব ভয়ংকর কেউ মনে হয়। একটা খসখসে সুতি কুর্তা-পাজামার সঙ্গে জওহর-কাটের কোটি পরা মান্টো।

ও দাঁত দেখায়া হাইসা বললো, “আরে আমি তো ভাবসিলাম আপনে মনে হয় কালো আর রোগা কেউ হবেন।”

আমিও জবাব না দিয়া পারলাম না, “আর আমি ভাবসিলাম আপনে চিল্লাফাল্লা করা অসহ্য একটা পাঞ্জাবি লোক।”

এরপরই আমরা দুইজন এমন সব আলাপে মইজা গেলাম যে দুইজনেরই মনে হইতে থাকলো, আমাদের আগে দেখা না হয়া বহুত বড় ‘লস’ হয়া গেছে। তাই যত কম সময়ে যত বেশি আলাপ কইরা ক্ষতি পুষানো যায়, তারই চেষ্টা করতেসিলাম মনে হয়। এক মুহূর্তও দেরি সইতেসিল না আমাদের। এক-দুইবার আমাদের মাঝে ঝামেলা লাগসে, কিন্তু তখনো যেহেতু একটু রাখঢাক আছে তাই পরেরবার দেখা হওনের জন্য ওই বিষয়গুলা আমরা একটু সাইডে সরায়া রাখলাম। কয়েক ঘণ্টা ধইরা আমাদের চোয়ালগুলা বোধহয় এক মিনিটের জন্যও থামে নাই। মেশিনের মতো দ্রুতগতিতে একেকটা বাক্য জন্ম নিতেসিলো। আর কিছুক্ষণ আলাপের পর আমি বুঝতে পারলাম, মান্টোরও সবকিছু না শুইনা মাঝখানে কথা কয়া ফালানোর অভ্যাস আছে। এইটা বুঝার পর আমার দিক থিকা আর কোনো ভদ্রতা বাকি থাকলো না। এরপরে আলাপটা তর্কের পর্যায়ে পৌঁছায়া গেল, এরপর বাদ-বিবাদ। অবাক হয়া দেখলাম, আলাপের কিছুক্ষণের মাথায়ই আমরা একজন আরেকজনরে অতি সাহিত্যিক ভাষায় ‘স্টুপিড’, ‘ইডিয়ট’ আর ‘অযৌক্তিক’ ইত্যাদি নামে ডাকাডাকি করতেসিলাম। Continue reading

মব নিয়া আলাপ – পার্ট ১ (জুন ২৪, ২০২৫)

পার্ট ১: বাংলাদেশের বা পূর্ব পাকিস্তানের এই জনপদের মানুষ কখনোই প্রো-ইন্ডিয়ান ছিল না

প্রশ্ন: ভাই, মব ও জনরোষটা দেখতেছিলাম, এবং আমি শুরুতে কিছু ডেফিনিশন দেখলাম কেমব্রিজ ডিকশনারি বা ব্রিটান্নিকার, তারপর আমি চ্যাটজিপিটির কাছে একটু গেলাম। জিপিটির কাছে জিগ্যেস করলাম, মব ও জনরোষের মূল পার্থক্যটা কী? ও আমাকে যেটা এট-আ-গেলন্স বলল, যে মব সবসময় সহিংস হয় এবং একটা ক্রাউড বা যে ক্রাউডটা ভায়োলেন্স সৃষ্টি করে, বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আর জনরোষ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সহিংস হয় না, কিন্তু সহিংস হতে পারে। সে আমাকে বলল আরকি…

আরেকজনের প্রশ্ন: মব যে নেগেটিভ, এর কনটেক্সটা নিয়া যদি বলি… ১৯৭১ সালে আমরা ধরে নিচ্ছি ৯০% মানুষ প্রো-ইন্ডিয়ান। মানে ইন্ডিয়াকে ট্রাস্ট করতাম এবং এজ এ কান্ট্রি ইনডিয়া আমাদের কাছে ট্রাস্ট-অর্দি ছিল বাট ধীরে ধীরে আমাদের ভেতর যে ইনডিয়ার বিরুদ্ধে একটা নেগেটিভিটি তৈরি হচ্ছে, ইন্ডিয়া সেন্টিমেন্টের এগেইনেসে্ট, এইটার যে কনটেক্সচুয়াল ব্যাকগ্রাউন্ড, কখন থেকে এটা তৈরি হচ্ছে? বা কীভাবে এটা তৈরি হচ্ছে?

রক মনু: একটু মাঝখান থেকে বলি… এই যে ধরে নিলেন না? আপনি কি সার্চ করছেন যে, ৭০ এর ইলেকশনে আওমি লিগ কত পার্সেন্ট (%) ভোট পাইছে? পূর্ব পাকিস্তানে আওমি লিগ কত পার্সেন্ট ভোট পাইছে? মানে, সবগুলা সিটে হয়তো জিতছে… কিনতু এমপি হওয়ার জন্য তো ৫০% ভোট লাগে না! শুরুতে যা করতে হবে, কত পার্সেন্ট কাস্ট হইলো ভোট, সেই কাস্ট ভোটের ৩০% ভোট একজন পাইলে সে এমপি হয়া যাইতে পারে! তাই না? আপনি যদি এইটা ভাবেন যে, অন্য কোনো ফ্যাক্টর বাদে, একদমই এন্টি-পাকিস্তান একটা মাইন্ডসেট থেকে আওমি লিগরে ভোট দিছে, এইটা যদি আমরা ধইরা নেই, আরও কিন্তু অনেক ফ্যাক্টর থাকে।

রিজিওনাল ফ্যাক্টর থাকে, ধরেন, আমি ওর প্রজা সেই কারণে ওর কথা আমার শুনতে হচ্ছে। আবার প্রার্থীকে আমার পছন্দ, বহুবিধ ফ্যাক্টর থাকে… যদি ধইরাও নেই যে, সবাই আওমি লিগের যেই ইশতেহার তা এন্টি-পাঞ্জাবি, নট এন্টি-পাকিস্তানি, খেয়াল করেন, ৭০’র ইলেকশন কিন্তু এন্টি পাকিস্তানি এটিচ্যুড না। আসলে যে সেন্টিমেন্ট ছিল তা এন্টি-পাঞ্জাবি। কারণ হচ্ছে পাকিস্তানের সব জায়গায় পাঞ্জাবিদের আধিপত্য। আর্মি থেকে আমলাতন্ত্র সব জায়গায়। ফলে এইটা কিন্তু আসলে পাকিস্তানের ভিতরে তার যে অনেকগুলা স্টেট আছে সেই স্টেটগুলার রেশারেশির ইলেকশন। নট এন্টি–পাকিস্তানি ইলেকশন। আওমি লিগের ইশতেহারে, ইভেন ৬ দফার ভিতরে কোনো ধরণের এন্টি-পাকিস্তান কোন কিছু কিন্তু ছিল না। এইটা একটু খেয়াল কইরেন যে, ৭০ এর ইলেকশনে বা তার আগে এন্টি-পাকিস্তানি কোনো ধরণের এজেন্ডা, এইটা আসলে ছিল না।

বেসিক্যালি যেইটা জিনিসটা আটার্ড করা হইতো, একটা হইতেছে যে মনের ভিতর কী আছে! ধরেন যে অনেকে তো বাংলাদেশ অনেক আগে বানাইতে চাচ্ছে, সেটা অন্য মামলা। কিনতু যেইটা আটার্ড করা হচ্ছে, সেইটা হচ্ছে, পাকিস্তানের ভেতর যে অনেকগুলা স্টেট সেই স্টেটগুলার ভেতর যে ঝামেলা, রেষারেষি — সেইটা। এবং সেইটার মূল এক্সপ্রেশন পূর্ব পাকিস্তানে ছিল এন্টি-পাঞ্জাব। কারণ পাকিস্তানের সব জায়গায় পাঞ্জাবি।

তো, তারপরে যদি আমরা ধইরা নেই যে, এই এন্টি-পাঞ্জাব মানেই হচ্ছে এন্টি-পাকিস্তানের কাছাকাছি একটা মিনিং যদি হয়ও, সেটা হচ্ছে যদি আমরা স্বীকার করি আওমি লিগের সকল ভোটার ওইটা দ্বারা মোটিভেটেড, এইটা বিলিফ করে, তারপরেও আসলে তারা কাস্ট ভোটের কত পার্সেন্ট? ৪০%, ৫০%? এখন ভোট কাস্ট হইছিল মনে করেন যে হয়তো ৬৭%, দেখেন তাইলে কি হইলো? ১০০ জনের ভেতরে এই ৪০% আসলে কতজন হয়? বুঝছেন? ফলে আমরা যখন ওই জেনারালাইজেশন করি, সেটা অনেক ধরনের ঝামেলা হয়ে যায়। ৯৫%, এটা রং।

এরপরে হচ্ছে যে আপনি বাংলাদেশে ৭১-কে ২টা প্রায়শই আলোচনায় দেখবেন – একটা হচ্ছে ধরেন, বাংলাদেশবাদী বাঙালি জাতীয়তাবাদী একটা, এন্টি পাকিস্তান একটা; আরেকটা হচ্ছে ধরেন এন্টি-ইন্ডিয়ান, প্রো-পাকিস্তান একটা। কিন্তু বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে ঘুইরা স্পেশালি বয়স্ক লোকদের লগে আলাপ করবেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়া আলাপ করবেন না, অন্যান্য বিষয় লইয়া আলাপ করবেন — ওই টাইমটা নিয়া। প্রায়শই যেইটা দেখা যায় মানুষের সাথে যেই বিষয়ে আলাপ করেন, তখন ওই বিষয়ে তার রিয়াল ভাবনা আপনি সবচে কম বুঝবেন। যদি এই বিষয়ে আলাপ করেন। রিয়াল-ভাবনা বুঝবেন ওই বিষয়ে যদি আলাপ না করেন, তখন যদি ওইটা ইস্যু হিসাবে আসে, তার কথায়। তখন তার রিয়াল ভাবনা বেশি বুঝবেন। আপনারে যদি জিগাই উনি কেমন লোক? কিছুই উত্তর আমি তখন পাব না। এইযে আমি কালকে একটা ইয়ে দিলাম আপনারা লাভ ইমো দিলেন। ইমোতে আসলে কী বুঝি নাই।

আপনি যখন অন্য ইস্যুতে মিনি আলাপ করবেন আমার সাথেই, আপনি যখন আলাপ করবেন তখন হয়তো ওইটার কোনো রেফারেন্স আসলে তখন আপনি তার ভাবনাটা বুঝে যাবেন। যখন আপনি জানতে চান। ওইটাই যদি জানতে চান, তাইলে আপনি সবচে কম জানবেন, কারণ মানুষ চ্যাটজিপিটি না। এইটা একটা ইম্পরট্যান্ট ব্যাপার।

তো, যে কারণে বললাম এই যে মানুষের সাথে যখন আলাপ করবেন, প্রায়শই যেইটা পাবেন, অমুক হইছে গণ্ডগোলের ৩ বছর পরে। এখন, হোয়াট ইজ গন্ডগোল? খেয়াল করেন, একটা হচ্ছে যে নট প্রো-পাকিস্তানি নট প্রো-বাঙালি বা প্রো-বাংলাদেশ বা প্রো-বাঙালিজাতীয়তাবাদী — গণ্ডগোল এমন একটা ওয়ার্ড যেটার কোনোটাতেই সিচুয়েট করা যায় না। তাইলে গণ্ডগোল কী? এইটা এক নাম্বার। দুই নাম্বার হচ্ছে যে গণ্ডগোল এইটা আপনি ভাবেন, এইদিকেও না, ওইদিকেও না। তারপরেও তিনি মুক্তিযুদ্ধে জয়েন করতে পারেন কিনা, মুক্তিযোদ্ধা হইতে পারেন কিনা? পারেন। Continue reading

তানিম আমিনের কবিতা

রোবোটিক হয়া গেলে পরে
*

তুমি হারাবা তোমার
বিস্মিত হওয়ার পাওয়ার
চাঁদের লাইট হাল্কা
অথবা ডিপ ব্লু হয়া গেলেও
তোমার চোখ বড় হয়া যাবে না আর

এক টানা থার্টি সেভেন আওয়ার
ঘুমানোর পর,
তোমার আবার ঘুম আসবে
তুমি বুঝবা না পৃথিবীর কাপজাপ

তুমি যারে চোদো নাই কোনদিন
সে আইসা বলবে তুমি তার বাচ্চার বাপ
তর্ক এড়াইতে যায়া
তুমি স্বীকার করবা অভিযোগ

আর, মনে মনে ভাববা
কার না কার বাচ্চার হইলাম বাপ— না চুদেও পাপ

(২০২১)

 

রিপ্লেস হয়া যাবা তুমিও
*

জগতে কেউ কোথাও ছিল না
আর, তুমি ছিলা আমার মতো একা

তারপর, তুমি আইসা, নাই হয়া গেলা পুনরায়
সৌরজগত থিকা বাইর হয়া গেলা যেন
আর, একা হয়া গেল
কেওসের এই গ্রহটা আবার

তুমি তো আসতেছো না— বুঝতেছি
একা লাগতেছে; জানতেছি তবু
একই ইম্পটিনেসে দীর্ঘদিন একা লাগে না

সব কিছুই রিপ্লেস হয়া যায়
রিপ্লেস হয়া যাবা তুমিও

(২০২১)

Continue reading

চাষার ঋণ ও কোঅপারেটিব ক্রেডিট্ – আবুল হুসেন (১৯২৫)

[বাংলা ১৩৩২ সালে ঢাকার ফুলবাড়িয়ায় ইসলামিয়া প্রেসে ছাপানো “বাংলার বলশী” বই থিকা লেখাটা নেয়া হইছে…]

ঋণের দায়ে চাষা ভেঙ্গে পড়ছে। অতিরিক্ত হারে সুদ দিয়ে দিয়ে চাষা ঋণ কিছুতেই পরিশোধ ক’রে উঠতে পারে না। ১ টাকা ধার করে একজন চাষা সারা জীবন মহাজনের ঘরে উসুল ক’রে শোধ করতে পারেনি – তার ছেলে সেই জের টানতে শুরু করেছে। বাংলার পল্লী সমাজে এই চাষার ঋণ একটা দানবের খেলা বলে বোধ হয়। মহাজনের আসন পল্লী সমাজের মাথায় তোলা আছে। মহাজন টাকা না দিলে চাষার মরতে চব্বিশ ঘণ্টাও লাগে না। সে মহাজনের গোলা হ’তে ধান আনছে খাচ্ছে আর চষে খুঁড়ে যা পাচ্ছে তা পিঠে ক’রে নিয়ে মহাজনের গোলা ভরছে। এইরূপে চাষার দুনিয়াটা সত্য সত্য ঘুরছে। বৎসরে এক একবার ঘুরে এসে অমনি মহাজনের প্রাঙ্গণে তার এক আবর্তন পূর্ণ করে। চাষা মহাজনের বাড়ী হ’তে যাত্রা আরম্ভ করে আর মাঠ ঘুরে এসে মহাজনের গোলার মুখে ‘তুচ্ছ দিনের ক্লান্তি মানি’ নিমেষে দূর করে। চাষার সঙ্গে এই মহাজনের এমনি সম্বন্ধ হ’য়েছে যে, কেহই কাহাকেও ছাড়তে পারছে না। চাষা ক্রমেই মহাজনের বাড়ীতে ব’সে যাচ্ছে। মহাজনও সুযোগ বুঝে তার স্কন্ধে চেপে বসছে খুব ভাল ক’রে। চাষা ফিরে বাড়ী যেতে পারছে না। এখন চায়াকে বাড়ী নিতে হ’লে, তার মাঠের ধান নিজের গোলায় উঠাতে হ’বে, মহাজনের গোলার খুঁটি হ’তে তার পায়ের শৃঙ্খল মুক্ত করতে হবে। সে যে নানা উপায়ে সেখানে বাধা পড়েছে। তার জমি ক্ষেতগুলিও মহাজনের বাক্সের মধ্যে আটকান। সে গুলিও বের করে দিতে হবে। মহাজনের সঙ্গে চাষার কোন সম্পর্কই যাতে ক’রে না থাকতে পারে তার একটা ব্যবস্থা করতে হবে।

ভারত গভর্ণমেন্ট এ যে ‘করতে হবে, অনেক দিন পূর্ব্বে বুঝে কো-অপারেটিভ ক্রেডিটের জারি করলেন। অমনি হাজার হাজার কর্মচারী নিযুক্ত হ’য়ে গেল। দেশে দেশে সোসাইটী গঠিত হ’ল। বাংলাদেশে শ্রমন শত শত সোসাইটী হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে চাষার ঋণ কমিয়ে দিয়ে তাকে ঋণযুক্ত কর – তাকে মহাজনের গ্রীবা (কবল) হ’তে নিষ্কৃতি ক’রে দেওয়া। আজ প্রায় একুশ বৎসর হ’তে এই অনুষ্ঠান বাংলা দেশের জেলা মহকুমায় বৎসর বৎসর সম্পন্ন হচ্ছে। ব্যাঙ্ক খোলা হয়েছে চাষাকে টাকা দেওয়ার জন্য। ব্যাঙ্কের ডিরেক্টর সেক্রেটারী বড় বড় শিক্ষিত উকিল মোক্তার ইত্যাদি। তাঁরা চাষাকে ঋণ মুক্ত করবার জন্য ব্যবস্থা করতে লেগেছেন। কো-অপারেটিভ ক্রেডিট কাকে বলে সে সম্বন্ধে আমি বলব না। তবে এই চাষার ‘ঋণগ্রস্ত হওয়া’ রোগটাকে সারবার জন্য অল্প সুদে ঋণের যে ব্যবস্থা খোলা হয়েছে তাতে চাষা র রোগ সারছে কি বাড়ছে সে সম্বন্ধে সংক্ষেপে একটু বলে এই প্রবন্ধের উপসংহার করতে চাই। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →