পার্ট ১: বাংলাদেশের বা পূর্ব পাকিস্তানের এই জনপদের মানুষ কখনোই প্রো-ইন্ডিয়ান ছিল না
প্রশ্ন: ভাই, মব ও জনরোষটা দেখতেছিলাম, এবং আমি শুরুতে কিছু ডেফিনিশন দেখলাম কেমব্রিজ ডিকশনারি বা ব্রিটান্নিকার, তারপর আমি চ্যাটজিপিটির কাছে একটু গেলাম। জিপিটির কাছে জিগ্যেস করলাম, মব ও জনরোষের মূল পার্থক্যটা কী? ও আমাকে যেটা এট-আ-গেলন্স বলল, যে মব সবসময় সহিংস হয় এবং একটা ক্রাউড বা যে ক্রাউডটা ভায়োলেন্স সৃষ্টি করে, বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আর জনরোষ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সহিংস হয় না, কিন্তু সহিংস হতে পারে। সে আমাকে বলল আরকি…
আরেকজনের প্রশ্ন: মব যে নেগেটিভ, এর কনটেক্সটা নিয়া যদি বলি… ১৯৭১ সালে আমরা ধরে নিচ্ছি ৯০% মানুষ প্রো-ইন্ডিয়ান। মানে ইন্ডিয়াকে ট্রাস্ট করতাম এবং এজ এ কান্ট্রি ইনডিয়া আমাদের কাছে ট্রাস্ট-অর্দি ছিল বাট ধীরে ধীরে আমাদের ভেতর যে ইনডিয়ার বিরুদ্ধে একটা নেগেটিভিটি তৈরি হচ্ছে, ইন্ডিয়া সেন্টিমেন্টের এগেইনেসে্ট, এইটার যে কনটেক্সচুয়াল ব্যাকগ্রাউন্ড, কখন থেকে এটা তৈরি হচ্ছে? বা কীভাবে এটা তৈরি হচ্ছে?
রক মনু: একটু মাঝখান থেকে বলি… এই যে ধরে নিলেন না? আপনি কি সার্চ করছেন যে, ৭০ এর ইলেকশনে আওমি লিগ কত পার্সেন্ট (%) ভোট পাইছে? পূর্ব পাকিস্তানে আওমি লিগ কত পার্সেন্ট ভোট পাইছে? মানে, সবগুলা সিটে হয়তো জিতছে… কিনতু এমপি হওয়ার জন্য তো ৫০% ভোট লাগে না! শুরুতে যা করতে হবে, কত পার্সেন্ট কাস্ট হইলো ভোট, সেই কাস্ট ভোটের ৩০% ভোট একজন পাইলে সে এমপি হয়া যাইতে পারে! তাই না? আপনি যদি এইটা ভাবেন যে, অন্য কোনো ফ্যাক্টর বাদে, একদমই এন্টি-পাকিস্তান একটা মাইন্ডসেট থেকে আওমি লিগরে ভোট দিছে, এইটা যদি আমরা ধইরা নেই, আরও কিন্তু অনেক ফ্যাক্টর থাকে।
রিজিওনাল ফ্যাক্টর থাকে, ধরেন, আমি ওর প্রজা সেই কারণে ওর কথা আমার শুনতে হচ্ছে। আবার প্রার্থীকে আমার পছন্দ, বহুবিধ ফ্যাক্টর থাকে… যদি ধইরাও নেই যে, সবাই আওমি লিগের যেই ইশতেহার তা এন্টি-পাঞ্জাবি, নট এন্টি-পাকিস্তানি, খেয়াল করেন, ৭০’র ইলেকশন কিন্তু এন্টি পাকিস্তানি এটিচ্যুড না। আসলে যে সেন্টিমেন্ট ছিল তা এন্টি-পাঞ্জাবি। কারণ হচ্ছে পাকিস্তানের সব জায়গায় পাঞ্জাবিদের আধিপত্য। আর্মি থেকে আমলাতন্ত্র সব জায়গায়। ফলে এইটা কিন্তু আসলে পাকিস্তানের ভিতরে তার যে অনেকগুলা স্টেট আছে সেই স্টেটগুলার রেশারেশির ইলেকশন। নট এন্টি–পাকিস্তানি ইলেকশন। আওমি লিগের ইশতেহারে, ইভেন ৬ দফার ভিতরে কোনো ধরণের এন্টি-পাকিস্তান কোন কিছু কিন্তু ছিল না। এইটা একটু খেয়াল কইরেন যে, ৭০ এর ইলেকশনে বা তার আগে এন্টি-পাকিস্তানি কোনো ধরণের এজেন্ডা, এইটা আসলে ছিল না।
বেসিক্যালি যেইটা জিনিসটা আটার্ড করা হইতো, একটা হইতেছে যে মনের ভিতর কী আছে! ধরেন যে অনেকে তো বাংলাদেশ অনেক আগে বানাইতে চাচ্ছে, সেটা অন্য মামলা। কিনতু যেইটা আটার্ড করা হচ্ছে, সেইটা হচ্ছে, পাকিস্তানের ভেতর যে অনেকগুলা স্টেট সেই স্টেটগুলার ভেতর যে ঝামেলা, রেষারেষি — সেইটা। এবং সেইটার মূল এক্সপ্রেশন পূর্ব পাকিস্তানে ছিল এন্টি-পাঞ্জাব। কারণ পাকিস্তানের সব জায়গায় পাঞ্জাবি।
তো, তারপরে যদি আমরা ধইরা নেই যে, এই এন্টি-পাঞ্জাব মানেই হচ্ছে এন্টি-পাকিস্তানের কাছাকাছি একটা মিনিং যদি হয়ও, সেটা হচ্ছে যদি আমরা স্বীকার করি আওমি লিগের সকল ভোটার ওইটা দ্বারা মোটিভেটেড, এইটা বিলিফ করে, তারপরেও আসলে তারা কাস্ট ভোটের কত পার্সেন্ট? ৪০%, ৫০%? এখন ভোট কাস্ট হইছিল মনে করেন যে হয়তো ৬৭%, দেখেন তাইলে কি হইলো? ১০০ জনের ভেতরে এই ৪০% আসলে কতজন হয়? বুঝছেন? ফলে আমরা যখন ওই জেনারালাইজেশন করি, সেটা অনেক ধরনের ঝামেলা হয়ে যায়। ৯৫%, এটা রং।
এরপরে হচ্ছে যে আপনি বাংলাদেশে ৭১-কে ২টা প্রায়শই আলোচনায় দেখবেন – একটা হচ্ছে ধরেন, বাংলাদেশবাদী বাঙালি জাতীয়তাবাদী একটা, এন্টি পাকিস্তান একটা; আরেকটা হচ্ছে ধরেন এন্টি-ইন্ডিয়ান, প্রো-পাকিস্তান একটা। কিন্তু বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে ঘুইরা স্পেশালি বয়স্ক লোকদের লগে আলাপ করবেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়া আলাপ করবেন না, অন্যান্য বিষয় লইয়া আলাপ করবেন — ওই টাইমটা নিয়া। প্রায়শই যেইটা দেখা যায় মানুষের সাথে যেই বিষয়ে আলাপ করেন, তখন ওই বিষয়ে তার রিয়াল ভাবনা আপনি সবচে কম বুঝবেন। যদি এই বিষয়ে আলাপ করেন। রিয়াল-ভাবনা বুঝবেন ওই বিষয়ে যদি আলাপ না করেন, তখন যদি ওইটা ইস্যু হিসাবে আসে, তার কথায়। তখন তার রিয়াল ভাবনা বেশি বুঝবেন। আপনারে যদি জিগাই উনি কেমন লোক? কিছুই উত্তর আমি তখন পাব না। এইযে আমি কালকে একটা ইয়ে দিলাম আপনারা লাভ ইমো দিলেন। ইমোতে আসলে কী বুঝি নাই।
আপনি যখন অন্য ইস্যুতে মিনি আলাপ করবেন আমার সাথেই, আপনি যখন আলাপ করবেন তখন হয়তো ওইটার কোনো রেফারেন্স আসলে তখন আপনি তার ভাবনাটা বুঝে যাবেন। যখন আপনি জানতে চান। ওইটাই যদি জানতে চান, তাইলে আপনি সবচে কম জানবেন, কারণ মানুষ চ্যাটজিপিটি না। এইটা একটা ইম্পরট্যান্ট ব্যাপার।
তো, যে কারণে বললাম এই যে মানুষের সাথে যখন আলাপ করবেন, প্রায়শই যেইটা পাবেন, অমুক হইছে গণ্ডগোলের ৩ বছর পরে। এখন, হোয়াট ইজ গন্ডগোল? খেয়াল করেন, একটা হচ্ছে যে নট প্রো-পাকিস্তানি নট প্রো-বাঙালি বা প্রো-বাংলাদেশ বা প্রো-বাঙালিজাতীয়তাবাদী — গণ্ডগোল এমন একটা ওয়ার্ড যেটার কোনোটাতেই সিচুয়েট করা যায় না। তাইলে গণ্ডগোল কী? এইটা এক নাম্বার। দুই নাম্বার হচ্ছে যে গণ্ডগোল এইটা আপনি ভাবেন, এইদিকেও না, ওইদিকেও না। তারপরেও তিনি মুক্তিযুদ্ধে জয়েন করতে পারেন কিনা, মুক্তিযোদ্ধা হইতে পারেন কিনা? পারেন। Continue reading →