Main menu

(বই থেকে) স্বাধীনতার ঘোষণা – বদরুদ্দীন উমর

[বদরুদ্দীন উমরের এই লেখাটা উনার “”বাংলাদেশের অভ্যুদয় (পূর্ব পাকিস্কানের ইতিহাস): দ্বিতীয় খন্ড (১৯৫৮-১৯৭১)” বইয়ের লাস্ট চ্যাপ্টার। মূল লেখা ইংরেজিতে, সেইটা বাংলায় ট্রান্সলেট করছেন মুঈদ্দীন আহমদ, সামিউল আলম রিচি। বইটা ছাপাইছেন বাতিঘর, ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সালে। বইয়ের ৪১১- ৪২৪ পেইজে এই লেখাটা আছে।]

স্বাধীনতার ঘোষণা

পূর্ব পাকিস্তানের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন আদায়ের সাংবিধানিক আন্দোলনকে শেখ মুজিবুর রহমান একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ যে ভাবে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের স্বপ্ন দেখেছিল এবং সে অনুযায়ী দাবী তুলেছিল, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে থেকে তা প্রকৃতপক্ষে অর্জন করা যেত না। আন্দোলন মার্চ মাস নাগাদ এমন একটা পর্যায়ে পৌছায় যে সাংবিধানিক পথে থেকে তা আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কোনো ক্রমেই সম্ভব ছিল না। কিংবা অন্য ভাবে বললে, আওয়ামী লীগের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বায়ত্তশাসনের সাংবিধানিক আন্দোলন অকার্যকর হয়ে ভেঙে পড়েছিল।

কিন্তু আন্দোলন আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণের বাইরে সমস্ত বাধা ভেঙে প্রবলভাবে এগিয়ে চলছিল। এই ঝোঁক আরও জোরালো হয়ে ওঠে যখন ইয়াহিয়া খান ১৯৭১-এর পয়লা মার্চ এক ঘোষণায় ৩ তারিখে অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন পিছিয়ে দিলেন।

৭ মার্চের পর আওয়ামী লীগ নিয়ম মাফিক প্রাদেশিক পরিষদের কোনো অধিবেশন আহ্বান করা ছাড়াই, পুলিশ, জেল প্রশাসনসহ, সমগ্র প্রাদেশিক প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। এ কাজ করা হয় গণতান্ত্রিক অধিকারের নামে এবং এমন ভাবে যে এর আর কোনো সাংবিধানিক চরিত্র থাকেনি। এই পদক্ষেপের ফলে সাংবিধানিক পথের এই আন্দোলন সাংবিধানিকতার সীমানার বাইরে সম্প্রসারিত হয় পড়ে। একটি সাংবিধানিক রাজনৈতিক দলের জন্য এ ছিল এক ব্যতিক্রমী অর্জন।

আওয়ামী লীগ কোনো সাংবিধানিক রাজনৈতিক দল না হলে এবং যার কর্মসূচি পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় স্বায়ত্তশাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকলে বিপুল জনসমর্থনের ন্যায্যতার ওপর দাঁড়িয়ে ৭ মার্চ তারা স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারত। সেই সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে সেনাবাহিনীতে বাঙালীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল এবং বাঙালি অফিসার আর জওয়ানরা পাকিস্তান রাষ্ট্র আর পশ্চিম পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে প্রস্তুত ছিল। তাদের শুধু প্রয়োজন ছিল আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবের কাছ থেকে একটি আহ্বান।

আওয়ামী লীগ সেই পথে যায়নি, কেননা সে রকম কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল না। বরং তারা অসহযোগ আন্দোলনের সাংবিধানিক পথেই চলছিল এমন একটা সময়ে, যখন পুরো দেশ পাকিস্তানী শাসকদের বিরুদ্ধে চরম ক্রোধে ফুঁসছিল এবং আওয়ামী লীগ স্বাধীন বাঙলাদেশ সরকার গঠনের ঘোষণা দিলে তাকে রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে উঠে দাঁড়াত। তবে আওয়ামী লীগ, বিশেষত শেখ মুজিবুর রহমান, হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছিলেন, সমস্ত বুলি ও বাগাড়ম্বর সত্ত্বেও একই জায়গায় আটকে ছিলেন এবং চূড়ান্ত পদক্ষেপটি গ্রহণে অসমর্থ ছিলেন।

পুরো পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক প্রশাসনের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকার পরও দৃঢ়তার এই সংকটের কারণে আওয়ামী লীগের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। জনগণের মধ্যে প্রবল অস্থিরতা, যার মধ্যে ছাত্ররাও ছিল, যারা খোলাখুলিভাবে স্বাধীনতার আওয়াজ তুলছিল, যা লক্ষ্য করছিল পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষ, রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান এবং ভুট্টোও। ফলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে আলোচনার ফাঁদে আটকে রেখে সময়ক্ষেপণ করা তাদের জন্য কঠিন হয়নি, যার সুযোগে তারা যত দ্রুত সম্ভব পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক শক্তি জোরদার করতে থাকে।

আলোচনার গতিপ্রকৃতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যতই দিন যাচ্ছিল আওয়ামী লীগের দর-কষাকষির ক্ষমতা কমে আসছিল এবং আলোচনায় সরকার পক্ষ আওয়ামী লীগকে ক্রমেই এঁটে ধরছিল। ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় আলোচনা ভেঙে পড়ে।

২৫ মার্চ রাতে সামরিক হামলা শুরু হয় যার জন্য কোনো রকম প্রস্তুতিই আওয়ামী লীগের ছিল না এবং সে কারণে, এর জন্য কোনো নতুন পরিকল্পনা তৈরি করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

পূর্ব বাঙলার জনগণের উপর যে যুদ্ধ পাকিস্তানী সরকার চাপিয়ে দিয়েছিল জনগণের দিক থেকে তার প্রতিরোধ শুরু হল। বস্তুত সেই অবস্থায় কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা বা স্বাধীনতার ঘোষণার প্রয়োজন ছিল না। ২৫ মার্চ রাতের আক্রমণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ও অনিবার্যভাবে জনগণকে এমন এক যুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে গেল যা স্বাধীনতা যুদ্ধের চেয়ে কম কিছু ছিল না।

যুদ্ধের শুরুতেই আওয়ামী লীগের প্রধান নেতা শেখ মুজিবর রহমান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁর দলের লোক ও অনুসারীদের এক অংশ ‘পড়িমড়ি করে’ ভারতে পালিয়ে যায়।

আওয়ামী লীগ নেতাদের এই কাপুরুষোচিত ভূমিকা স্পষ্টতই দেখায় যে আলোচনা ব্যর্থ হলে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধের ঘোষণা প্রদান বা তা সংগঠিত করার কোনো পরিকল্পনাই তাদের ছিল না। Continue reading

ফেছিজমের শম্ভাবনা: ডান-বামের পলিটিক্স আর পলিটিকেল বাশনায় ইছলাম

This entry is part 3 of 3 in the series রকম শাহের নছিহত

পলিটিকেল দুশমনি থাকবে এবং শেইটা চর্চাও কইরা জাইতেছে পাট্টিগুলা; কিন্তু এই ব্যাপারে পাট্টিগুলারে বেশ বেদিশা লাগে আমার, নিজেদের ইউএছপি’র ব্যাপারেও পাট্টিগুলার ভাবনা বেশ ঝাপশা! তাই দুয়েকটা টিপ্স দিতে চাই।

বাট শুরুতে ঐ ব্যাপারে পাট্টিগুলা বেদিশা থাকার দুয়েকটা কারন তালাশ করা উচিত। শবচে বড়ো কারনটা খুব শম্ভব এমন: পাট্টিগুলা আশলে হাসিনারে একজন ছাকছেছফুল পলিটিশিয়ান ভাবেন! ফলে হাসিনার পলিটিকেল ক্যালকুলেশনে ভরশা আছে ওনাদের, নিজেদের হেকমত ঠিক করতে হাসিনার মডেল এস্তেমাল করেন খুব শম্ভব!

কিন্তু হাসিনা কোন অর্থেই ছাকছেছফুল পলিটিশিয়ান না; বাংলাদেশ একটা ডেমোক্রেটিক রাশ্টো, এইখানে পলিটিক্সে কামিয়াব হইতে আপনার জদি খোদ ডেমোক্রেছিরেই মুলতবি করতে হয়, তারে তো কামিয়াবি বলবার উপায় থাকে না! হাসিনা ১০০% ফেলটুশ পলিটিশিয়ান, হাসিনার শকল ক্যালকুলেশন ভুল, জদি আপনে ডেমোক্রেটিক/ভোটের/ইলেকশনের পলিটিক্স করতে চান। খেয়াল করলে দেখবেন, খালেদা জখন ৫টা ছিটে জিতছিলেন, হাসিনা তখন ৩টায় ইলেকশন কইরা ২টায় হারছিলেন। অথচ এই হাসিনার ক্যালকুলেশনই ওনাদের বিচারে ঠিকাছে, আফছোছ! কিন্তু হাসিনার মডেল কোনটারে কইলাম? পড়েন নিচে।

ইলেকশন মুলতবি করবার পরেও হাসিনা এক কিছিমের পপুলারিটির দরকার বুঝতেন; তবে শেই পিপল মানে জেনারেল অর্থের ভোটার না, তার পিপল মানে পুচকে একটা গুশ্টি–বাংলা মিডিয়ামের, রঠাভক্ত–বাওয়ামি, চরম বাংগালি নেশনালিস্ট জাদের আখেরি মনজিল হইলো ‘অখন্ড ভারত’–বাংলাদেশের এই পুচকে গুশ্টিটাই হাসিনার পিপল। এই পপুলেশনের ছাইজ খুব শম্ভব ইমরান এইচ শরকারের লাইকার নাম্বারের শমান, ১৫ লাখ দেখলাম [এর লগে ৫/৭শ জোগ করবেন; এরা হইলো ধুরন্ধর আতেল-বয়াতি, জারা রিশতাটা রাখে তলে তলে, লাইকার লিস্টিতে নাম দেখাইয়া ব্যাপারটা পাবলিক না করার মতো চতুর আর কি 🙂 ]। এদের ভিতর পপুলার হইতে কি কি করতে হবে আপনার? কয়েকটা জিনিশ ভাবা জাইতে পারে:

ক. রাজকার বইলা গালি দিতে হবে। পাকিস্তানে চইলা জাইতে বলতে হবে, পাকিস্তান আইডিয়ারেই গালি দিতে হবে, ‘২ জাতি থিয়োরি’র নিন্দা জানাইয়া জিন্নারে গালি দিতে হবে।
খ. একটু পচ্চিমা এনজিও হইয়া ২ জন হিজড়ারে পোলা হিশাবে চাকরি দিয়া মিছা দাবি করতে হবে জে, ‘তিতিয় লিংগে’র মানুশকে চাকরি দিতেছেন। একটু ফেমিনিজম লাগবে; একটু পরিবেশ চিন্তা; একটু আট-কালচার। একটা ছেকুলার বাহানার ভিতর থাকতে হবে। তবে শুদখোর বইলা ইউনুসরে গালি দিলে পোবলেম নাই, বা খালেদার ভুরু বা শাড়ি কতো পাতলা, ঐ ব্যাপারে কিছু কইলে ঐ ফেমিনিজমের ঝামেলা হবে না, বরং বললেই আপনে ওনাদের ‘আশল ছেকুলার, ফেমিনিস্ট’ হইতে পারবেন।
গ. শোনার বাংলার গান গাইতে হবে, রঠারে বাংলার মার্ক্স ভাবতে হবে। নিখিল ভারতিয় কালচারের শরিকানা হাজির করতে হবে বাংগালি নেশনালিজমের ভিতর দিয়া।

তো, এইগুলা বলাবলি করলে কারা হাসিনারে ভোট দেবে না, শেইটা নিয়া হাসিনার কোন চিন্তা আছিলো না, কেননা, তারা তো হাসিনার পিপলের বাইরে, তাদের ভোটের কোন মামলাই নাই, ইলেকশন মুলতবি। Continue reading

(জুলাই রেকর্ডস) খুনিরা সব দেশেই আছে, টাকা খেয়ে পুলিশ ওদের ছেড়ে দিছে – শহিদ আব্দুল্লাহ আল মাহিনের বাবা

This entry is part 2 of 2 in the series জুলাই রেকর্ডস

[জুলাই রেকর্ডসের পক্ষ থিকা সারাদেশে জুলাই আপ-রাইজিংয়ে আহত ও নিহতদের আত্মীয়-স্বজনদের অডিও ও ভিডিও ইন্টারভিউ নিতেছেন কয়েকজন; উনাদের ইন্টারভিউ’র কয়েকটা আমরা বাছবিচারে ছাপাবো… এইখানে ১৬ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে নেয়া শহিদ আব্দুল্লাহ আল মাহিনের বাবার ইন্টারভিউ’র ট্রান্সক্রিপ্ট পাবলিশ করা হইলো, যিনি ঢাকার উত্তরায় ৪ই আগস্ট সকালে রাজউক কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সের সামনে আওয়ামী লীগ কর্মীদের গুলিতে মাহিন শহিদ হন …]

শহিদ আব্দুল্লাহ আল মাহিনের জন্ম ২০০৮ সালে। গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ, সদর। পরিবারের সাথে থাকতেন ঢাকার উত্তরায়। এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তি হইছিলেন তখন মাত্রই, এনআইইটিতে। উত্তরার আন্দোলনে জুলাইয়ের শুরু থেকেই যুক্ত ছিলেন। ৪ই আগস্ট সকালে রাজউক কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সের সামনে আওয়ামী লীগ কর্মীদের গুলিতে মাহিন শহিদ হন।

ছেলের আন্দোলনের ব্যাপারে মা সামিরা মনির দুইটা কথা কোট করা যায়, মাহিন নিজের ফ্রেন্ড সার্কেলের সাথে আন্দোলনে যাইত না, তারা তার মাকে বলে দিবে বলে। আন্দোলনের মধ্যখানে সামিরা মনি একদিন ফোন দেন, মাহিন জানান, ‘বন্ধুর বাসায় গেইম খেলতেছি আম্মু। শেষ হইলেই চলে আসব।’

জুলাই রেকর্ডসের পক্ষ থেকে মাহিনের বাবার এই ইন্টারভিউটা নেওয়া হয় ১৬ আগস্ট, ২০২৫ তারিখ সকাল ১২টায়, মাহিনের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। ছেলের মৃত্যুর পর মাহিনের বাবা মা ঢাকা ছেড়ে চলে আসছেন। ইন্টারভিউ নিছেন কাজী ওয়ালী উল্লাহ, আকরাম ফারুক এবং জুবাইর পারভেজ।

জামিল সোহেল: ৮-২০-২৪ তারিখে উত্তরা পূর্ব থানায় আমি যাই আমার ছেলে মাহিনের খুনের মামলা করতে। সাথে আমি সকল ডকুমেন্টস নিয়ে যাই। কাদের হাতে কাটা রাইফেল ছিলো, কাদের হাতে চাপাতি ছিলো সব ছবি নামসহ ভিডিও ডকুমেন্টস নিয়ে ওসিকে দেখাই।

ওসি জিজ্ঞেস করে, ঘটনাটা কোথায় ঘটছে?

আমি বলি, এটা উত্তরা আজমপুর রাজউক কমার্শিয়াল এলাকায় ঘটে।

তখন ওসি বলে, এটা তো আমার এরিয়ায় না। আমি একটু ডিসি সাহেবের সাথে কথা বলি।

পরে উনি ডিসিকে ফোন দিয়ে বলে আমার কথা, যে পশ্চিম থানায় একটা খুন হইছিলো ৪রা আগষ্ট, ওই নিহতের বাবা এখন আসছে মামলা করতে। আমরা কি করতে পারি স্যার।

পরে ডিসি বলে যে, উনাকে প্রটোকল দিয়ে আমার কাছে পাঠায় দাও, আমি দেখতেছি বিষয়টা।

তারপর ওসি আমাকে তিনজন পুলিশ সিকিউরিটি দিয়ে পাঠায় ডিসির কার্যালয়ে। পিছনে ওসিও যায় ডিসির কার্যালয়ে। আমি সেখানে পৌঁছলে ওসি রিসিভ করে বসতে বলে। এরপর ডিসি আমাকে জিজ্ঞেস করে সব। আমি আমার বাচ্চার সব ডকুমেন্টস ও আসামিদের তালিকা দেই। সেদিনই পশ্চিম থানায় নতুন একজন ওসি জয়েন করে।

ডিসি তার হাতে আমার মামলাটা দিয়ে বলে এটা আপনার প্রথম মামলা, ইমিডিয়েটলি এটা দেখবেন। এবং উনার সব ডকুমেন্টসগুলা জব্দ করবেন।

তারপর সিকিউরিটি দিয়ে আমাকে পশ্চিম থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অফিস ইনচার্জের কাছে সিকিউরিটিরা আমাকে দিয়ে আসে, বলে আসে যে ডিসি সাহেব পাঠাইছে উনাকে। তারপর সেই নতুন ওসি আসে।

এসে বলে, আজকে তো আমাদের সার্ভার সমস্যা করতেছে, আপনি কালকে ১০টার মধ্যে আসেন।

আর আগে পূর্ব থানা থেকেই আমার সব ডকুমেন্টস, মামলার এজাহার ঠিকঠাক করে দিছিলো পূর্ব থানার ওসি, এবং উনি বলছিলো পশ্চিম থানায় মামলা না নিলে আমি নিবো। Continue reading

ক্বারী আমির উদ্দিন ও মুর্শিদ-কাহিনী

আসরের নামাজ পইড়া, মুগরিবের নামাজের আগ পর্যন্ত, আমি গ্রামের রাস্তায় হাইটা হাইটা সময় পার করতাম। কোমরের পিছনে হাতরে রুজু কইরা, ধীরে ধীরে হাটতাম। গাছপালার দিকে চাইতাম। এইরকম একদিন, আমরার গ্রামের মুজিব ভাইছাব আমারে কইলেন- ‘এহ, তুই দেকি আমির উদ্দিনর লাখান ছাইরে। বাটে লাগের অনকু গান গান্ধিলিবে!’ মুজিব ভাইছাবে আরো কইলা, উনি যখন বগলা ধরতে আমির উদ্দিনের গ্রাম আলম পুরের দিকে যাইতেন, তখন আমির সাবরে মাঝে মাঝে ট্যারা চউখে এইভাবে চাইতে দেখতেন।

আমির সাবের বাড়ি আমাদের বাড়ির কাছেই। উনার গ্রাম হইতে বিয়া বইয়া আইছিলেন আমার এক দাদি। সেই দাদির এক ছেলেও বিয়া করছিলেন এই গ্রামে। ছোট থাকতে আমি একবার এই চাচীর বাড়িতে গেছলাম। খালারা আমারে এত আপন করছিলেন, কয়েক ঘন্টার লাইগা, এত মায়া করছিলেন, যে মনে পড়তেছে, আমার মাথার উকুন পর্যন্ত বাইছা দিছিলেন উনারা! আমার শরম করতেছিল পরে, এই ভাইবা যে, কি এক কারণে, খালাদের একজনরে এর আগে আমাদের বাড়িতে আমি একটা থাবা মাইরা ফেলছিলাম। উনি এই রাগ রাখেন নাই!

আলম পুর এইরকম একটা উর্বর জায়গা। যেইখানে মানুষের চাষ হয়। মনের চাষ হয়। উনাদের বাড়ি আমাদের এত কাছে, তবুও, কিছু দূরে বটে! কারণ, উনারা ‘ফ’ রে ‘হ’’ বলেন। যেমন, ফাইঞ্জাবীরে কন হাইঞ্জাবী। ফেখরে বলেন হেখ। (আমরা সিলেটিরা ‘প’রে নরমালি ফ কই। মানে, ফাইঞ্জাবী হইল পাঞ্জাবী।) উনাদের গ্রামীন স্বভাব আরেকটু ভিজা, আদ্র।

মাস্টারিকালে, আমার অনেক ছাত্র আছিল এই গ্রামের। ক্লাস সেভেনের মেয়েদের বাংলা পড়াইতাম আমি। পড়ানির পাশাপাশি, এই ক্লাসে গান-টান, আবৃত্তি-টাবৃত্তিও করাইতাম। আলম পুরের এক মেয়ে, ক্লাস সেভেনের, কি একটা উপলক্ষ্যে আমারে কইল, ‘খরিম বেটার গান’। এই কথাখান শুইনা আমার ধাতস্থ হইতে বেশ সময় লাগল। মেয়েটা বাউল আব্দুল করিমের গানের কথা কইতেছে। কিন্তুক, করিমরে ‘বেটা’ কইতেছে। বাংলাভাষীদেরকে বেপারটা বুঝানো খুবই কষ্টের হইবে। কারণ, আমরা সিলেটিরা অনেক সময় পরিচিত, আপন-প্রায় মানুষদেরকে ‘বেটা’ বলি। আর, অপরিচিত বুঝাইতেও বেটা কই! এই ছোট্র মেয়েটা আব্দুল করিমরে ‘খরিম বেটা’ কইতেছে। তার মানে, তাদের গ্রামে/পরিবেশে বাউল আব্দুল করিম একটা ঘরোয়া ঘটনা!

ফকির ক্বারী আমির উদ্দিন সাহেব এই গ্রামের সন্তান। উনার এক (নাকি দুই?) ছেলে মাদ্রাসায় পড়ত। আমির সাহেবের লগে রিকশায় চইড়া তারা মাদ্রাসায় যাইত। আমার চাচাত ভাইয়ের লগে, আমিও মাদরেসায় যাইতাম। উনি আমারে আংগুল দিয়া দেখাইয়া কইতেন, ‘অউ রিশকাত যাইরা আমির উদ্দিন..’

আমরার মাদরেসাত সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান হইত। আলম পুরেরই এক ছেলে, আমার ক্লাসমেইট। জসীম উদ্দিন নাম। একটা সংগীত গাইত। ‘আরে ও মদীনা যানে ওয়ালা…’ এই গান যখন সে গাইত, তখন সবকিছু নিরব হইয়া যাইত। অবশ্য, এই গানের কর্তা কে, তখন জানতাম না। Continue reading

মায়া এঞ্জেলোর কবিতা

দুর্দান্ত রমণী
~
সুন্দরী রমণীরা আমার গোপন রহস্য জানতে চায় মুগ্ধ হয়ে।
আমি তো কিউট পুতুল না কোন বা দেখতে ফ্যাশন মডেলদের মতও না।
অথচ আমি যখন তাদেরকে বলতে যাই,
তারা মনে করে, আমি বুঝি আজাইরা বাহাদুরি করতেছি।
আমি বলি,
এটা আমার হাতের নাগালেই থাকে,
আমার চওড়া পাছায়
আমার হাঁটার ভঙ্গিমায়
আমার ঠোঁটের কোণেই—
অবিশ্বাস্যরকমে
আমি একজন নারী।
দারুণ রমণী,
আর এটাই আমি।

আমি যখন কোন রুমে ঢুকি
সবাই এমনভাবে তাকায়ে থাকে যেভাবে তারা আশা করে।
আর পুরুষের ক্ষেত্রে হয় কি
দেখামাত্র বন্ধুরা দাঁড়ায়ে যায় বা
নিচু হয়ে বসে ওয়েলকাম জানায় (আমারে)।
তারপর তারা আমারে ঘিরে ধরে
যেন মৌচাকে উড়তে থাকা মৌমাছির দল।
আমি বলি,
এটা আমার চোখের আগুনে
আমার দাঁতের ঝিলিকে
আমার কোমরের দোলায়
আমার পায়ের তালেই—
অকল্পনীয়ভাবে
আমি একজন নারী।
দারুণ রমণী,
আর এটাই আমি।

পুরুষেরা নিজেরাই অবাক হয়ে ভাবে
তারা আমার মধ্যে কী এমন দেখে!
তারা বোঝার চেষ্টা করে
কিন্তু তারা আমার ভিতরগত রহস্যটি ছুঁইতে পারে না।
যখন আমি তাদের বুঝানোর ট্রাই করি
তারা তখনও বলে যে, সব মাথার উপ্রে দিয়ে যায়।
আমি বলি,
এটা আমার শরীরের বাঁকে
আমার হাসির ঝলকে
আমার মাইয়ের ঢেউয়ে
আমার স্টাইলের সৌন্দর্যেই—
অবিশ্বাস্যরকমে
আমি একজন নারী।
দারুণ রমণী
আর এটাই আমি।

এখন তুমি বুঝবা
কেন আমার মাথা নত হয় না,
কেন আমি চিল্লাফাল্লা করতে হয় না বা লাফাই না
অথবা কারো নজরে পড়ার চেষ্টাও করতে হয় না।
যখন তুমি আমারে দেখো হেঁটে যাইতে
এটা তোমারে প্রাউড ফিল করানোর কথা।
আমি বলি,
এটা আমার হাঁটার ঢঙে
আমার চুলের ভাঁজে
আমার হাতের উমে
আমার দরদের তাগিদেই—
অকল্পনীয়ভাবে
আমি একজন নারী।
দারুণ রমণী
আর এটাই আমি।

লাইফ ডাজ নট ফ্রাইটেন্ড মি
~
দেয়ালভরা ছায়া
আর দালান জুড়ে হৈচৈ
তবু জীবনরে আমি ডরাই না মোটেও।

নেড়িকুত্তার অহেতুক ঘেউ ঘেউ
কিংবা মেঘে মেঘ হয়ে থাকা অশরীরী কেউ
এমন জীবনরেও আমি ডরাই না একদম।

জালিম বুড়ি শাকচুন্নি
বা কোন সিংহ, হোক বন্য
কোনটারেই ডরাই না আমি।

হোক আগুনজ্বলা ড্রাগন
অন মাই কাউন্টারপেন
সেটাও ডরাই না আমি একদম।

আমি “ভেউ” দিই উল্টা
আমি খিলখিলায়ে উঠি
আর ওরা দৌড়ায়,
আমি কান্দি না
তাই তারা পালায়,
আমি জাস্ট হাসি
আর তারা আউলায়ে যায়।

জীবনরে আমি ডরাই না মোটেও।

তাগড়া ব্যাটারা মারামারি করে, করুক
রাতের অন্ধকারে নিজেরা একা একা।

জীবনরে আমি ডরাই না মোটেও।

পার্কে প্যান্থার
অচেনালোকভরা অন্ধকার’
না, কোনটারেই আমি ডরাই না।

ঐ নতুন ক্লাসরুম যেখানে
ছেলেরা আমার চুল টানে
কিংবা (কিসি বেবি গার্লস
উইথ দেয়ার হেয়ার ইন কার্লস)
কোনটারেই আমি ডরাই না মোটেও।

আমারে ব্যাঙ আর সাপও দেখাইতে আইসো না
আর যদি শুনেও থাকো আমার চিৎকার
যদি আমি ভীত হয়েও থাকি
সেটা শুধুমাত্র আমার স্বপ্নেই।

আমার কাছে এক জাদুমন্ত্র আছে
গুজায়ে রাখছি হাতার ভিতরে।
আমি দরিয়ার তলদেশেও হাঁটতে পারি,
আর শ্বাস না নিয়েও বাঁচতে পারি।

জীবনরে আমি ডরাই না মোটেও।
একটুও না।
একটুও না।
আমি জীবনরে ডরাই না মোটেও। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →