Main menu

না কান্দে বুবু (১৯৫৪)- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

This entry is part 9 of 20 in the series বাংলাদেশি ফিকশন

সোনাকান্দি হতে মাঝের হাট দূর নয়। কিন্তু বর্ষায় নৌকা ছাড়া গতি নেই। তখন এ-পথটা অতিক্রম করতে গোটা একদিন লেগে যায়। এ-নদী সে-নদী; এ-খাল সে-নালা। স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ পানির আর মাছের, কচুরিপানার আর ধানের; নৌকায় ভরাট গন্ধ ভেজা কাঠের, ডহরের পানির আর খাম্বুরি তামাকের। আকাশের বর্ষাশেষের শ্রান্ত মেঘ নিস্তেজভাবে ঘোরে। হাওয়া নেই। পালশূন্য শ্লথগতি পানসি-ঘাসী-গয়না ও ডিঙির আর তেজের গরম নেই। এত পানি আর দিগন্তপ্রসারী খোলামেলা প্রসারতার মধ্যেও দমবন্ধ-করা ভাব। হঠাৎ কখনো-সখনো একটু হাওয়া যদি আসে চুড়ির মতো মিহিন ঢেউ তুলে পানিতে, বড় ভালো লাগে। দেহ শীতল হয়।

নৌকা আর নদী আর প্রসারতা আর মেঘ কেউ দেখে না। পথটা বাড়ির: এ-বাড়ির পথ বদলায় না। এ-বাড়ির পথ জীবন। কেবল কখনো শ্লথগতি, হাওয়া নেই বলে পাল ওড়ে না; আবার কখনো ঢেউ-ভাঙানো তেজময় গতি, পাল ফুলে থাকে হাওয়া আছে বলে। কখনো ঘুম পায়। কখনো খড়ের বিছানায় শুয়ে ছইয়ের ভেতরে দুলতে-থাকা থলে হুঁকার পানে তাকিয়েই থাকতে হয়। মাঝি ভাবে না, মাঝির ছেলেটা ভাবে না। যে-মেঘ নিস্তেজ সে-মেঘ দেখে না; যে-পানিতে সে-নিস্তেজ মেঘের ছায়া সে-পানি দেখে না। কখনো-সখনো নড়ে বসে কেবল খাম্বুরি তামাক খায় আর তার কড়া গন্ধ ভেসে আসে ছইয়ের ভেতর।

এ-পথ বাড়ির।

আফতাব ভাবে, চার বছর। চার বছর পরে বাড়ি যাচ্ছে। কলাপাতা-ঘেরা আম-জাম-গাছের ধারে, খাল-বিল নালা-ডোবার পাশে শতসহস্র ঘনবসতির মধ্যে বসবাস-করা লোকদের জন্য চার বছর পরে বাড়ি যাওয়াটা বড় কথা। সে-কথা পুঁথির কাহিনীর মতো দেশময় ছড়িয়ে পড়বার মতো অসাধারণ, নাড়ি ছেঁড়ার মতো গায়র-মামুলি।

– আফতাব মিঞা দ্যাশে থাকে না, দ্যাশে আসে না। আফতাব মিঞা চাইর বচ্ছর দ্যাশে থাকে না, দ্যাশে আসে না। শহরে থাকে। হেই বড় শহরে। আফতাব মিঞা গাড়ি-ঘোড়ায় চলে। আফতাব মিঞা সিদ্ধভাত খায়, বরফের মাছ খায়। আফতাব মিঞা রঙে আছে।

খেদু মিঞা দাঁতের মাজন বিক্রি করে ঢং করে বক্তৃতা দিয়ে, হাত সাফাইয়ের ম্যাজিক দেখিয়ে। খেদু মিঞা সে-শহরের খবর রাখে। আফতাব মিঞা হেই শহরে থাকে। চার বচ্ছর আফতাব মিঞা দ্যাশে থাকে না, দ্যাশে আসে না।

– শহরে থাইকা আফতাব মিঞা বাড়িৎ কেবল টেকা পাঠায়। বাড়িৎ আছে নুনা মিঞা, তার বুড়া বাপ। বুড়া জমিজমা দ্যাখে আর বাতের ব্যথায় কঁকায়। চোখে ছানি পড়ছে; কিন্তুক বুড়া মানে না সে-কথা, স্বীকার করে না সে-কথা। মায়ের কবর পুকুরের পাড়ে গাবগাছটার তলে।

– আফতাব মিঞা শহরে থাকে; কিন্তু নুনা মিঞা দ্যাশে থাকে। পোস্টকার্ডে চিঠি ল্যাখে ছেলের কাছে আর ছেলের গল্প করে। আর নুনা মিঞা আফসোস করে। ছেলেডা আসে-আসে বলে, কিন্তু আসে না।

– আফতাব মিঞা কিন্তু কাবেল ছেলে। চাকরি করে আর বই বাঁধানোর দোকান চালায়। তাই আফতাব মিঞা দ্যাশে আসে না। আফতাব মিঞার সময় নাই, ছুটি নাই। আফতাব মিঞা চাকরিও করে ব্যবসাও করে।

দেশের বাড়িতে আর আছে বুবু। মানুষের জীবনে কী হয় বোঝা যায় না। বুবুর বিয়ে হল, বুবু নাইওর এল, বুবু শ্বশুরবাড়ি গেল। বুবুর ঘোমটা খুলল, বুবু সংসার গড়ল আরেক মানুষের ঘরে, বুবুর ছেলে-মেয়ে হল। বুবু মাছ ছাড়াল পুকুরে, আমগাছে আম গুনল। সন্ধ্যার পরেও বুবু কুপি হাতে খড়ম পরে গোয়ালে গরু দেখল, মুরগির খোঁয়াড়ে ঝাপ আছে কি না দেখল। তারপর বুবুর দাড়িওয়ালা স্বামীটা মারা গেল।

– জোতজমি আছিল। সেয়ানা লোকডা। ধড়াস্ কইরা মারা গ্যাল। মস্ত বড় মদ্দ মানুষ, হেই জোয়ান। কাতলার মতো মুখ হা কইরা ধড়াস করি মারা গ্যাল চক্ষের সামনে।

বুবু আর মাছ ছাড়ায় না, আমগাছে আম গোনে না।

-নুনা মিঞার মাইয়া সাদা শাড়ি পরে হিন্দুগো মতো। চোখে ছানিপড়া বুড়া বাপের সংসারডা দ্যাখে। নুনা মিঞার মাইয়ার নাকফুলের গর্তে বাঁশের ছিলার ঢিপি। নুনা মিঞার মাইয়ার চলনে-বলনে আর জান নাই। ছয়ডা পোলা-মাইয়া রাইখা তার স্বামীডা ধড়াস কইরা মারা গ্যাল চক্ষের সামনে।

ছইয়ের তলে কলকি দোলে হুঁকা দোলে আর টোপা দোলে।

আফতাব ভাবে, অনেকদিন সে বুবুকে দেখে নি। বরাবর বুবু তাকে দেখে কাঁদে। ভাবে, চার বছর পরে তাকে দেখে বুবু এবারো কাঁদবে কি? Continue reading

কবিতা – ২০২৫

ভালোবাসার কথা

[ট্রিবিউট টু জীবনানন্দ দাশ ও ফররুখ আহমদ]

ভালোবাসার কথাগুলাই মনে রাখি,
অপমানের কথা, ঘৃনার কথাগুলা মনে থাকে না
শীতের বাতাসে গাছের পাতাদের মতো তারা
মাটিতে পইড়া থাকে, সময়ের গরুর গাড়িটা
তাদেরকে মাড়ায়া চলে যাইতেছে

সন্ধ্যার কুয়াশায় ভালোবাসার কথাগুলা
ভাসতে ভাসতে কাশতে কাশতে কাছে আসে,
বলে, “রোগা হয়ে গেছো এতো, চাপা পড়ে গেছো যে হারিয়ে,
পৃথিবীর ভিড়ে তুমি…”

অন্যসব নিরবতার ভিতর ভালোবাসার নিরবতাই
ফিরা আসে, সন্ধ্যার তিমি-মাছ যেমন, দূরে
ডুব দিল, রাত্রির সাগরে
ভেসে যাইতেছে তো সে-ও…

গরুর গাড়িটার ক্যাঁচ ক্যাঁচ আওয়াজের ভিতরে

২৪/০১/২০২৫


বারামখানা

অনেকক্ষন ধইরা ডিসট্রাক্ট হইতে পারতেছি না,
খারাপই লাগতেছে!
কিসের উপর ফোকাস করবো?
কি নিয়া ভাববো? বুঝতেছি না…

একটা ডিসট্রাকশন আসুক,
হঠাৎ বাতাসের মতো
যেন আমি কিছু ভাবতেছিলাম,
অনেক ইম্পর্টেন্ট একটা কিছু, আর
সেইখান থিকা সরায়া নিয়া যাইতেছে আমারে
আমি একটা পলিথিনের ব্যাগের মতো উড়ে যাইতেছি

কোন কিছু ভাবার আগে,
এইরকম একটা ডিসট্রাকশনের জন্য বইসা আছি
তারপরে বলবো, দুনিয়া কতো যে মায়ায় ভরা গো!

সরে সরে যাইতে চাইতেছি আমি চারপাশ থিকা
কোন একটা ডিসটরশন আইসা বলুক,
এই নাও, এইটাই তোমার বারামখানা!

আমি পিছলায়া পিছলায়া যাইতে থাকবো ভাবি,
কিনতু একটা রিয়ালিটির ধারনা, আমার পিছন ছাড়ে না

সিদরাতুল মুনতাহা’র দিকে যেন আমি তাকায়া আছি

আর কোন ডিসটরশন তো সেইখানে যাইতে পারে না
আলো বাঁইকা যায় না, দৃশ্যের জন্ম হয় না, কল্পনাও থাকে না

এমন একটা জায়গায় আমি বইসা আছি
কোন ডিসটরশন-ই আর সেটিসফাই করে না
সাপে ছোবল দেয়, বিষ ছড়ায় না…

তারপরেও বইসা আছি এই বারামখানায়
ডিসটরশনগুলার গান শুনি,
সকালের আলো আসে, জীবিতের হায়-হুতাশ নিয়া
এমনই এক মায়া চারপাশে
চলে যাইতেছে যে যার মতো, যে যার পথে গো
যে যার-ই পথে

১০/০৪/২৫
Continue reading

এসেনশিয়ালিস্ট রাষ্ট্রকল্পে খেলাফত ও ইসলামপন্থা বনাম ঐতিহাসিক কন্টিঞ্জেন্সি

নবীজীর ওফাতের পরপর মুসলমানদের শাসক কে হবে, কিভাবে সেই শাসক নির্ধারণ করা হবে তা নিয়ে বিরাট হাঙ্গামা বেঁধে যায়।

এসময় আনসাররা নেতৃত্বের দাবী জানালেও আবু বকর (রা) বলে দেন যে কুরাইশরা ছাড়া কেউ নেতা হতে পারবে না।

নেতৃত্বের নাম খেলাফত নবীজী দিয়ে যান নাই। কোরানেও নাই। পরবর্তীতে মুসলমানরা নিজেরাই নেতার নাম খলিফা দেয়। আর এই ব্যবস্থার নাম যে খেলাফত সেটা আসে আরও পরে।

খলিফা কিভাবে নির্বাচিত হবে সেটা নিয়েও কোন নির্দিষ্ট রুপরেখা ইসলামে কোন কালেই ছিল না। প্রথম চার খলিফা চারভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। কেউ নির্বাচিত হয়েছেন শূরার মাধ্যমে, সেই শূরা আবার নির্বাচিত হয়েছে প্রভাব বিবেচনায়। অর্থাত, গণতান্ত্রিকভাবেও খলিফা নির্বাচিত হয়েছে। আবার কেউ নির্বাচিত হয়েছেন পূর্বতন খলিফার ইচ্ছানুসারে।

আবু বকরের (রা) খেলাফতও প্রশ্নাতীত ছিল না। নবীজীর সম্পত্তির ভাগবটোয়ারা কিভাবে হবে সেটা নিয়েও ছিল তীব্র দ্বিমত। ফাতেমা (রা) আমৃত্যু আবু বকরের সাথে (রা) মুখ দেখাদেখি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আলী (রা) আবু বকরের (রা) হাতে বায়াত দিতেও দেরি করেন এই কারণে (যদিও কোন কোন রেওয়াতে আছে যে আগেই একবার বায়াত উনি দিয়েছিলেন পরে সম্পর্ক খারাপ হয়)।

শুধু তাই না, ফাতেমার (রা) ইন্তেকালের পর আবু বকর (রা) আলীর (রা) কাছে যেতে চান মীমাংসা করে বায়াত আনার জন্য। সেসময় ওমর (রা) আবু বকরের (রা) জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শংকা করছিলেন- এতটাই তিক্ততা ছিল।

খেলাফত নিয়ে সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে উসমানের (রা) আমলে। উনি ছিলেন উমাইয়া গোত্রের। সেসময় উমাইয়ারা বড় বড় পদ পেতে থাকে এবং দুর্নীতির অভিযোগ আসতে থাকে চারদিক থেকে।

এরকম অচলাবস্থায় উসমানকে (রা) শহীদ করা হয়। ক্ষমতায় আসেন আলী (রা)। ক্ষমতায় আসার পর আলীর (রা) বিরুদ্ধে আয়েশা (রা) এবং মুয়াবিয়া (রা) ফুঁসে ওঠেন। একাধিক যুদ্ধ হয়, উভয়পক্ষে প্রচুর সাহাবী শহীদ হন।

আলীর (রা) এর পর খেলাফত উমাইয়াদের হাতে চলে যায় পাকাপাকিভাবে। শুরু হয় ইসলামের ইতিহাসের প্রথম বংশীয় খেলাফত। Continue reading

আর্টিস্ট হিসাবে ক্রিটিক (২) – অস্কার ওয়াইল্ড

এক

আর্নেস্ট। এইটাই সত্য। আসলেই: এমন বিরক্তি নিয়া ঘাড় উল্টাইলে কোনো লাভ নাই। কথাটা আসলেই সত্য। আর্টের সোনালী দিনে কোনো আর্ট-ক্রিটিক আছিলো না। ভাস্কর তখন মার্বেল পাথরের ভিত্রে ঘুমায়ে থাকা বিশাল সাদা-গায়ের হার্মিসরে চেঁছে বের করে আনতো। মোম আর সোনার পরত দেওয়ার কারিগররা মূর্তিটারে রং আর টেক্সচার দিতো, আর যখন দুনিয়া তারে দেখতো, পূজা করতো, সরল মনে। বালুর ছাঁচের মধ্যে জ্বলজ্বল করতে থাকা কাঁসা ঢেলে দিতো, আর লাল ধাতুর নদীটা ঠান্ডা হইতে হইতে ছাঁচের বাঁকগুলায় জমে দেবতার গায়ের গড়ন নিতো। এনামেল বা পলিশ করা মণিমুক্তা দিয়া দৃষ্টিহীনরে দৃষ্টি দিতো। বাটালির নিচে কাঠের তুষগুলা হাইসিন্থ ফুলের পাপড়ির মত কোঁকড়ায়ে পড়তো। আর যখন, কোনো মাটির কারুকাজ করা দেওয়ালঅলা মন্দিরের ঢিমা আলোয়, অথবা সূর্যের আলোতে ফর্সা, চারদিকে পিলার দেওয়া নাটমন্দিরে, লেটো দেবীর পোলা তার পদস্থলের উপ্রে দাঁড়ায়তো, পাশদিয়া ἁβρῶς βαίνοντες δια λαμπροτάτον αἰθέρος৩ {আসমানি জাঁকজমকের ভিত্রে খোলা-খুলি হেঁটে যাওয়া (ইউরিপিদেসের মিডিয়া:৮২৫-৩০)} মানুষগুলা তাদের জীবনে নতুন একটা ইন্ফ্লুয়েন্সের সামনাসামনি হওয়ার অনুভূতি পাইতো, আর একটা খোয়াবি ভাব নিয়া, বা অদ্ভুত তাড়াহুড়া করে ওঠা আনন্দের ভাব নিয়া, বাড়ি যাইতো বা রোজকার কাজে, অথবা ঘুরতে ঘুরতে শহরের ফটক দিয়া পরীর-আছর-পড়া মাঠে বাইরাইয়া পড়তো যেইখানে ফেড্রাস তার পাও ধুইতো, আর, হাওয়ায় ফিসফিসায়ে ওঠা লম্বা চিনার আর ফুলফুটা নিশিন্দার তলে ওইখানে ওই নমর ঘাসের উপ্রে শুইয়া, সৌন্দর্যের আশ্চর্য নিয়া ভাবতে শুরু করতো, আর অনভ্যাসের মুগ্ধতায় নিরব হইয়া পড়তো। ওই দিনগুলাতে আর্টিস্ট স্বাধীন আছিলো। নদীর বাঁক থেকে আঙ্গুলে করে চিনা মাটি তুলে নিতো, আর কাঠ বা হাড্ডির ছুট্টু যন্ত্র দিয়া, মাটিটারে এত মনকাড়া সুন্দর সব রূপে গড়ন দিতো যে, মানুষ ওইগুলা মুর্দারারে খেলার জন্য সাথে করে দিয়া দিতো, টানাগ্রার পাশের ওই হলদিয়া টিলার উপ্রের ধুলা ভরা মাজারগুলাতে এখনও আমরা পুতুলগুলা খুঁজে পাই, চুল, ঠোঁট আর লেবাসে হালকা সোনালী আর ফিকা হইয়া পড়া কড়া লালটা এখনও লেগে আছে। নতুন চুনকাম করা দেওয়ালে, উজ্জ্বল সিন্দুর বা দুধ আর জাফ্রান মেশানো রঙ দিয়া, বেগুনী-সাদা ফুলে ফুটফুটা আস্ফদেল মাঠের ভিত্রে দিয়া মেহনতে হয়রান পাও দুইটা টাইনা যাওয়া মানুষটার ছবি আঁকতো, ‘যার চোখের পাতায় পুরাটা ট্রোজান ওয়ার ভর করে আসছে,’ পলিক্সেনা, প্রিয়মের মেয়ে; অথবা আঁকতো অডিসিয়াসরে, বুদ্ধিমান আর চালুমাল অডিসিয়াস, শক্ত দড়ি দিয়া মাস্তুলের সাথে আঁট করে বান্ধা, যাতে কোনো খেসারত ছাড়া মৎসকন্যারার গান শুনতে পারে, অথবা তারে আঁকতো পরিষ্কার পানির নদী আখেরনের পাড় ধরে ঘুরাফেরা করতেছে, যেইখানে মাছের ভুত নুড়ি পাথরের বিছানার উপ্রে ছটফটায়; অথবা আঁকতো ম্যারাথন মাঠে তহবন্দ পরে মিট্রে মাথায় গ্রিকরার সামনে দিয়া পার্সিয়ানরার ছুটে যাওয়া, বা ছোট সাগর সালামানিয়ানে গ্যালি-নৌকায় গ্যালি-নৌকায় পিতলের গুলুইগুলার টক্কর লাগা। রুপার খড়ি বা কয়লা দিয়া চামড়া বা দেবদারু কাঠের উপ্রে আঁকতো। হালকা সাদা আর গোলাপি রঙের টেরাকোটার উপ্রে মোম দিয়া আঁকতো, জলপাইয়ের রস দিয়া মোমরে গলায়ে আর গরম লোহার সেঁকা দিয়া মোমটারে আবার জমায়ে আঁকতো। তার তুলির পোচগুলা পেনেল, মার্বেল ‍আর লিলেন ক্যানভাসের উপ্রে দিয়া চইলা যাইতে যাইতে সেগুলারে মনকাড়া করে তুলতো; আর জীবন নিজের আপন ছবি দেখে, থমকায়ে যাইতো, রা করার সাহস করতো না। সমস্ত জিন্দেগী, সত্যিই, তার আছিলো, বাজারে বসে থাকা ব্যাপারী থেকে ধরে টিলার উপ্রে চাদ্দর মুড়ি দিয়া শুইয়া থাকা রাখালটা; তেজপাতা গাছের ঝোপে লুকায়ে থাকা নিম্ফ আর দুপুরে বাঁশি বাজানো ফন থেকে নিয়া, দাসরা তাদের তেল চকচকা কাঁধের উপ্রে লম্বা লম্বা সবুজ পর্দাঘেরা পালকিতে করে ময়ুরের পালকের পাংখার বাও দিতে দিতে বয়া নেওয়া রাজা পর্যন্ত সব তার আছিলো। বেটা মানুষ আর বেটি মানুষ, মুখের উপ্রে খুশি বা কষ্ট নিয়া তার সামনে দিয়া চলে যাইতো। সে তাদের দেখতো, আর তাদের গোপন কথাগুলা তার হইয়া যাইতো। ছুরত আর রং দিয়া সে আবার একটা দুনিয়া বানাইতো।

সব রকমের হাতের আর্টেও তার মালিকানা আছিলো। সে ঘুরতে থাকা শানপাত্থরের উপ্রে জওহরটা ধরতো, আর পদ্মনীলাটা এডনিসের বেগুনী পালঙ্ক হইয়া উঠতো, আর গোমেদ পাথরের সাদা আর লালের পরতগুলার ভিত্রে দিয়া আর্টেমিস তার কুত্তার পাল নিয়া দৌড়ায়ে যাইতো। সে স্বর্ণরে পিটায়ে গোলাপ বানাইতো, তারপর গোলাপগুলারে গেঁথে গেঁথে হার বা বাজুবন্ধ। সে স্বর্ণরে পিটায়ে পিটায়ে দিগ্বীজয়ীর মুকুটের জন্য মালা বানাইতো, টিরিয়ান রোবের পামেট বানাইতো, বা রাজবাড়ির মড়ার জন্য মুখোস বানাইতো। রুপার আয়নাটার পিছনে সে নেরেডদের উপ্রে চড়া থেটিসরে খোদাই করতো, অথবা প্রেমে জরজর ফেড্রা আর তার দাসীরে, অথবা পার্সিফোনরে, স্মৃতির জ্বালায় ত্যক্ত, চুলের খোপায় আফিং ফুল গুঁজতেছে। কুমার তার ছাউনির তলে বইতো, আর, নিরব চাকাটা থেইক্যা ফুলের মত করে, গামলাটা তার হাতের নিচে গড়ে উঠতো। গামলার তলাটারে, গলা আর হাতল দুইটারে, সাজাইতো মিষ্টি জলপাইয়ের অথবা কচি অ্যাকান্থাসের পাতা অথবা চোখা চোখা ঢেউ দিয়া। তারপর কালা বা লাল কালিতে পোলাপানের কুস্তি খেলা আঁকতো, অথবা দৌড় খেলা; আজিব সব হেরাল্ডিক ঢাল আর রোদ আটকানের ভিজর-অলা মাথা থেকে পাও পর্যন্ত যুদ্ধের আবরণ পরা নাইট আঁকতো, ঝিনুকের মত রথ থেকে দুই পা উঠানো ঘোড়াগুলার উপর ঝাপায়ে পড়তেছে: আঁকতো বিরাট আয়োজনে খাইতে বসা বা কেরামতি দেখায়তে থাকা দেবতা: আর বিজয় বা বেদনায় কাতরাইতে থাকা নায়ক। মাঝে মাঝে সাদা জমিনে সিন্দুরের দাগ দিয়া দিয়া আঁকতো কাহিল হইয়া আসা জামাই আর তার বৌ, দুই জনরে ঘিরা কামদেব ঘুরঘুর করতেছে— আর আঁকতো কামদেবরে, দোনাতেলোর দেবদূতের মত করে, সোনা দিয়া গিল্টি করা বা আকাশের মত নীল পাখনাঅলা, হাসি মুখে। গামলার বাঁকা জায়গাটাতে তার বন্ধুর নাম লেখতো। ΚΑΛΟΣ ΑΛΚΙΒΙΑΔΗΣ৪ {সুন্দর আলকিবিয়াদেস} বা ΚΑΛΟΣ ΧΑΡΜΙΔΗΣ৫ {সুন্দর খার্মিদিস} তার আমলের গল্পগুলা আমরারে বাখানে। তারপর আবার, চ্যাপটা কাপের ছড়ানো কান্ধার উপ্রে সে ঘুরাফিরা করতে থাকা মাদা হরিণ আঁকতো, অথবা ঘুমায়তে থাকা সিংহ, তার কল্পনা যেমনটা চাইতো। পিচ্চি আতরের বোতলটার গায়ে আফ্রোদিতি তার সাজার ঘরে বসে হাসতো, আর, উদাম গায়ের মেনাডদের সারি নিয়া আঙ্গুরের রসে ভেজা পাওয়ে ডায়নিসাস ওয়াইন-বোতল ঘিরা নাচতো, আরেক দিকে, মশকরার ঢঙে, ফোলা ফোলা মশকের উপ্রে বুড়া সিলেনাস শরীর এলায়ে পড়ে থাকতো, অথবা জাদুর বল্লমটা নাড়াইতো যেইটার আগাটা দেওদার আর আইভি লতার নকশায় পেচানো ছিলো। আর আর্টিস্টরে কাজের মধ্যে রান্দা করার মত কেউ আছিলো না। কোনো দায়সারা বাজে বকা তারে ডিস্টার্ব করে নাই। মতামতের ভয় তার আছিলো না। ইলিসাসের৬ {এথেন্সের একটা ছোট্ট নদী, প্লাতোর ডায়ালগের শান্ত সেটিংয়ে এই নদীর পারের কথা আছে। নদীটার সাথে ফিলোসফিকাল আলাপের একটা যোগাযোগ আছে।} কসম, আর্নল্ড কোনো এক জায়গায় কইছিলো, তখন হিগিনবথাম বলতে কিছু আছিলো না। ইলিসাসেস কসম, গিলবার্ট দোস্ত আমার, তখন কোনো আজাইরা আর্ট-কংগ্রেস আছিলো না, যেইটা প্রদেশে প্রদেশে প্রাদেশিকতা ছড়াইতো আর সস্তামিরে কথা কওয়া শিখাইতো। ইলিসাসের কসম আর্ট বিষয়ে কোনো মাথা খায়া ফালানো মেগাজিন আছিলো না, যেইটার মধ্যে মেহনতিরা, তারা যা বুঝে নাই তা নিয়া বকবক করতো। ওই ছোট্ট গড়ানটার নল-খাগড়ার ঝোপে ছাওয়া দুই পাড়ে কোনো হাইস্যকর জার্নালিজম দেমাগ দেখায়ে এক চেটিয়া জাজের আসন দখল করে নাই, যাদের কাঠগড়ায় দাঁড়ায়ে মাফ চাওয়া উচিত আছলো। গ্রিকরার কোনো আর্ট-ক্রিটিক আছিলো না। Continue reading

(বই থেকে) স্বাধীনতার ঘোষণা – বদরুদ্দীন উমর

[বদরুদ্দীন উমরের এই লেখাটা উনার “”বাংলাদেশের অভ্যুদয় (পূর্ব পাকিস্কানের ইতিহাস): দ্বিতীয় খন্ড (১৯৫৮-১৯৭১)” বইয়ের লাস্ট চ্যাপ্টার। মূল লেখা ইংরেজিতে, সেইটা বাংলায় ট্রান্সলেট করছেন মুঈদ্দীন আহমদ, সামিউল আলম রিচি। বইটা ছাপাইছেন বাতিঘর, ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সালে। বইয়ের ৪১১- ৪২৪ পেইজে এই লেখাটা আছে।]

স্বাধীনতার ঘোষণা

পূর্ব পাকিস্তানের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন আদায়ের সাংবিধানিক আন্দোলনকে শেখ মুজিবুর রহমান একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ যে ভাবে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের স্বপ্ন দেখেছিল এবং সে অনুযায়ী দাবী তুলেছিল, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে থেকে তা প্রকৃতপক্ষে অর্জন করা যেত না। আন্দোলন মার্চ মাস নাগাদ এমন একটা পর্যায়ে পৌছায় যে সাংবিধানিক পথে থেকে তা আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কোনো ক্রমেই সম্ভব ছিল না। কিংবা অন্য ভাবে বললে, আওয়ামী লীগের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বায়ত্তশাসনের সাংবিধানিক আন্দোলন অকার্যকর হয়ে ভেঙে পড়েছিল।

কিন্তু আন্দোলন আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণের বাইরে সমস্ত বাধা ভেঙে প্রবলভাবে এগিয়ে চলছিল। এই ঝোঁক আরও জোরালো হয়ে ওঠে যখন ইয়াহিয়া খান ১৯৭১-এর পয়লা মার্চ এক ঘোষণায় ৩ তারিখে অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন পিছিয়ে দিলেন।

৭ মার্চের পর আওয়ামী লীগ নিয়ম মাফিক প্রাদেশিক পরিষদের কোনো অধিবেশন আহ্বান করা ছাড়াই, পুলিশ, জেল প্রশাসনসহ, সমগ্র প্রাদেশিক প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। এ কাজ করা হয় গণতান্ত্রিক অধিকারের নামে এবং এমন ভাবে যে এর আর কোনো সাংবিধানিক চরিত্র থাকেনি। এই পদক্ষেপের ফলে সাংবিধানিক পথের এই আন্দোলন সাংবিধানিকতার সীমানার বাইরে সম্প্রসারিত হয় পড়ে। একটি সাংবিধানিক রাজনৈতিক দলের জন্য এ ছিল এক ব্যতিক্রমী অর্জন।

আওয়ামী লীগ কোনো সাংবিধানিক রাজনৈতিক দল না হলে এবং যার কর্মসূচি পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় স্বায়ত্তশাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকলে বিপুল জনসমর্থনের ন্যায্যতার ওপর দাঁড়িয়ে ৭ মার্চ তারা স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারত। সেই সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে সেনাবাহিনীতে বাঙালীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল এবং বাঙালি অফিসার আর জওয়ানরা পাকিস্তান রাষ্ট্র আর পশ্চিম পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে প্রস্তুত ছিল। তাদের শুধু প্রয়োজন ছিল আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবের কাছ থেকে একটি আহ্বান।

আওয়ামী লীগ সেই পথে যায়নি, কেননা সে রকম কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল না। বরং তারা অসহযোগ আন্দোলনের সাংবিধানিক পথেই চলছিল এমন একটা সময়ে, যখন পুরো দেশ পাকিস্তানী শাসকদের বিরুদ্ধে চরম ক্রোধে ফুঁসছিল এবং আওয়ামী লীগ স্বাধীন বাঙলাদেশ সরকার গঠনের ঘোষণা দিলে তাকে রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে উঠে দাঁড়াত। তবে আওয়ামী লীগ, বিশেষত শেখ মুজিবুর রহমান, হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছিলেন, সমস্ত বুলি ও বাগাড়ম্বর সত্ত্বেও একই জায়গায় আটকে ছিলেন এবং চূড়ান্ত পদক্ষেপটি গ্রহণে অসমর্থ ছিলেন।

পুরো পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক প্রশাসনের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকার পরও দৃঢ়তার এই সংকটের কারণে আওয়ামী লীগের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। জনগণের মধ্যে প্রবল অস্থিরতা, যার মধ্যে ছাত্ররাও ছিল, যারা খোলাখুলিভাবে স্বাধীনতার আওয়াজ তুলছিল, যা লক্ষ্য করছিল পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষ, রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান এবং ভুট্টোও। ফলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে আলোচনার ফাঁদে আটকে রেখে সময়ক্ষেপণ করা তাদের জন্য কঠিন হয়নি, যার সুযোগে তারা যত দ্রুত সম্ভব পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক শক্তি জোরদার করতে থাকে।

আলোচনার গতিপ্রকৃতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যতই দিন যাচ্ছিল আওয়ামী লীগের দর-কষাকষির ক্ষমতা কমে আসছিল এবং আলোচনায় সরকার পক্ষ আওয়ামী লীগকে ক্রমেই এঁটে ধরছিল। ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় আলোচনা ভেঙে পড়ে।

২৫ মার্চ রাতে সামরিক হামলা শুরু হয় যার জন্য কোনো রকম প্রস্তুতিই আওয়ামী লীগের ছিল না এবং সে কারণে, এর জন্য কোনো নতুন পরিকল্পনা তৈরি করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

পূর্ব বাঙলার জনগণের উপর যে যুদ্ধ পাকিস্তানী সরকার চাপিয়ে দিয়েছিল জনগণের দিক থেকে তার প্রতিরোধ শুরু হল। বস্তুত সেই অবস্থায় কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা বা স্বাধীনতার ঘোষণার প্রয়োজন ছিল না। ২৫ মার্চ রাতের আক্রমণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ও অনিবার্যভাবে জনগণকে এমন এক যুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে গেল যা স্বাধীনতা যুদ্ধের চেয়ে কম কিছু ছিল না।

যুদ্ধের শুরুতেই আওয়ামী লীগের প্রধান নেতা শেখ মুজিবর রহমান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁর দলের লোক ও অনুসারীদের এক অংশ ‘পড়িমড়ি করে’ ভারতে পালিয়ে যায়।

আওয়ামী লীগ নেতাদের এই কাপুরুষোচিত ভূমিকা স্পষ্টতই দেখায় যে আলোচনা ব্যর্থ হলে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধের ঘোষণা প্রদান বা তা সংগঠিত করার কোনো পরিকল্পনাই তাদের ছিল না। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →