Main menu

ব্রিটিশ বাংলায় গরু জবাইয়ের রাজনীতি – লেখকের কথা ও পাবলিশার’স নোট

লেখকের কথা

প্রাক-ব্রিটিশ আমল এবং ব্রিটিশ আমলে বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস পরস্পর বিপরীতমুখী। সুলতানী ও মুঘল আমলে মুসলমান সমাজ যতটা অগ্রগতি সাধন করতে পেরেছিলো, ব্রিটিশ আমলে তা থমকে যায়। ব্রিটিশ শাসনের প্রথমার্ধে ব্রিটিশ শাসকদের শাসননীতি সম্পূর্ণভাবে হিন্দু জনগোষ্ঠীর পক্ষে গিয়েছিলো এবং তারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করেছিলো। এর ফলে অটোমেটিক বাংলার মুসলমান সমাজের অবস্থান রাষ্ট্রীয় জায়গায় তো বটেই, সামাজিকভাবেও ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েছিলো।

রাষ্ট্রে নিজেদের হিস্যা বুঝে নিতে এবং সামাজিকভাবে নিজেদের পুনর্গঠন করতে বাংলার মুসলমানের জন্য জাগরণ / পুনর্জাগরণ ছিল একপ্রকার অনিবার্য। এই অনিবার্য জাগরণের সূচনা হয় ১৮৫৭ সালের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম সশস্ত্র সংগ্রাম সিপাহী বিদ্রোহের পর। সশস্ত্র সংগ্রাম সাময়িকভাবে ব্যর্থ হবার পর মুসলমানদের প্রায় সকল পক্ষ একমত হয় যে, সামাজিকভাবে নিজেদের পুনর্গঠন করে রাষ্ট্রীয় হিস্যা নিশ্চিত না করতে পারলে মুসলমানদের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নেই। ভাষা, সাহিত্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সংগঠন— সর্বোপরি সকল উপায়েই চেষ্টা শুরু হলো। স্যার সৈয়দ আহমদ লিখে, বক্তৃতা দিয়ে মুসলমানদের বোঝানোর চেষ্টা করলেন, ইংরেজদের ভাষা, রাষ্ট্রনীতি কবুল করে নিয়েই মুসলমানদের এগিয়ে যেতে হবে। মুসলমান সমাজে যতজন‌ই ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন ও সরকারের সাথে যুক্ত ছিলেন প্রায় সবাই এই নীতি কবুল করে নিয়েছিলেন। বাংলায় এই নীতির বাস্তবায়নে সিরিয়াসলি কাজ শুরু করেছিলেন নবাব আবদুল লতিফ।

এভাবেই বাংলার মুসলমানদের সামাজিক পুনর্গঠন ও রাষ্ট্রে নিজেদের হিস্যা বুঝে নেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়, উনিশ শতকের শেষদিকে। ঠিক তখনই হিন্দু সমাজের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয় গো-রক্ষিণী সভা, গো-রক্ষা আন্দোলন—  গরু রক্ষার কর্মসূচি। হিন্দু সমাজের যে কাস্ট সিস্টেম তাতে তাদের যে কোনো দাবি-দাওয়া সাধারণত উচ্চবর্ণের বাবুদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। গরু রক্ষা কর্মসূচিতেও এর কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। এই কর্মসূচি প্রায় পুরোটাই কুক্ষিগত ছিল জমিদারদের মধ্যে, উচ্চবর্ণের বাবুদের সহায়তায়। গরু রক্ষা আন্দোলন মূলত হিন্দুদের ধর্মরক্ষার অংশ হিসেবেই শুরু হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে ধর্মরক্ষার চেয়ে জমিদারদের স্বার্থরক্ষা ও ব্রাহ্মণ্য আধিপত্যবাদের ঢাল হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছে। Continue reading

আসকর আলী পন্ডিত

আসকর আলী পন্ডিতের (১৮৪৬/৫৫ – ১৯২৭) নাম অনেকে না জানলেও উনার গান অনেকেই শোনার কথা; আর যেইভাবে উনারে পরিচয় করায়া দেয়া হয় – লোক-কবি, চিটাগাংয়ের আঞ্চলিক কবি, বা বাউল, পু‍থি-রচয়িতা… এইসব পরিচয়ের ভিতর দিয়া ‘আদার’ কইরা রাখার ঘটনা’টাই বেশি ঘটে, যার ফলে উনি এবং উনাদের (কানু শাহ > আসকর আলী পন্ডিত > গফুর হালি…) ট্রেডিশন যেন ‘বিস্মৃত’ একটা ঘটনা – এইভাবে আরো ধামাচাপা দেয়ার কাজটাই বেশি করা হয়

মানে, আসকর আলী পন্ডিত যখন সাহিত্য করতেছেন তখন মীর মোশাররফ হোসেন’রা সাহিত্য করতেছেন, কিনতু আসকর আলী পন্ডিত যেহেতু ওরাল ফরম্যাটে আছেন, এবং রিটেন ফরম্যাটে এভেইলেবল না – উনার আর্ট-ওয়ার্কগুলা যেন ‘সাহিত্য’ না! এমনকি বব ডিলানও নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পরে উনার লেকচারের হেডলাইন দিছিলেন, “আমার গান কি সাহিত্য?” এবং একভাবে বলার চেষ্টা করছেন যে, উপন্যাস-কবিতার যেই সাহিত্য সেইটার লগে উনার গানের লিরিকসের হয়তো একটা রিলেশন থাকতে পারে কোন না কোনভাবে; তো, একইভাবে, প্রি-কলোনিয়াল পিরিয়ডের সাহিত্য-উপাদানগুলারে আমরা যেইভাবে আধুনিকতার নামে ভূতের মতো তাড়াইছি, এইটা একটা সমস্যার জিনিস তো!

তো, আসকর আলী পন্ডিতের গানগুলার বেশিরভাগই ইউটিউবের নানান গান থিকা নেয়া হইছে (আমাদের জন্য কাজটা করে দিছেন হুসাইন হানিফ), এবং একেক জন তো একেকভাবে গাইছেন উনার গানগুলা, যার ফলে খুব বেশি অথেনটিক না লিরিকসগুলা, এমনকি কিছু জায়গায়, শব্দে ভুলও থাকতে পারে কিছু, কেউ জানাইলে, অই ভুলগুলা আমরা ঠিক কইরা নিবো…

আর উনার দুই-একশ গান এখনো কোথাও থাকার কথা, অইগুলা একসাথে কইরা গানগুলা ছাপাইলে একটা ভালো কাজ হবে বইলা আমরা মনে করি

এইখানে উনার ১০-১২টা গান পড়তে পারেন!

এডিটর, বাছবিচার

কি জ্বালা দি গেলা মোরে ।। ডালেতে লড়ি চরি বইও চাতকী ময়নারে ।। মাধব বৈরাগীর ভাবে প্রাণ জ্বলে ।। বাড়ির পিছে শঙ্খ নদী ।। গনার দিন তো যারগোই ফুরায় ।। সন্ধ্যাকালে আইলাম বাজারে ।। একসের পাবি দেড়সের খাবি ।। নিত্য দেখি কুস্বপন ।। মধু আছে কন ফুলে ।। বসে রইলিরে মন কার আশে ।। কেউওরে ন বুঝাইম রে পরান বন্ধু কালা ।। রসের যৌবন আমার শেষ করি ।। রসের মালিনী ।।


কি জ্বালা দি গেলা মোরে

কি জ্বালা দি গেলা মোরে
নয়নের কাজল পরানের বন্ধুরে,
ন দেখিলে পরান পুড়ে।

না রাখি মাটিতে, না রাখি পাটিতে,
না রাখি পালঙ্কর উপরে
শিরেরও উপরে রাখিব বন্ধুরে,
বেড়িয়া রেশম ডোরে।

বন্ধু পরবাসী, পরের ঘরে আসি,
এত ঘুমে কেনে ধরে
কোয়েলা হর ধ্বনি, পোহাইল রজনী,
না ডাকি ননদিনীর ডরে।

চন্দন গাছের কাষ্ঠ
বেকতুন করিলাম নষ্ট
কলসি ঘামি ঘামি পড়ে
কলসি ঘামিয়া চুলা গেইল ভিজিয়া
ফু দিলে আগুন নাহি ধরে

মুরালি দিপ দিয়া যারগই শাম বন্ধুয়া
আমি রইলাম রান্ধন ঘরে
কিসেরও রান্ধনও কিসেরও বাড়নও
পরানে ধড়ফড় ধড়ফড় করে

নারীর প্রেম গাছে, কি টোনা কইরাছে,
বস্ত্র খসি খসি পড়ে
কহে আসকর আলী, সাধু শত জনে,
বৈরাগী বানালি আমারে।

Continue reading

জুলাই-আশুরা

১.
ঢাবি যেদিন বন্ধ কইরা দেয়া হয় (২০২৪ সালের জুলাই মাসে) ঐদিন ছিল আশুরা। অর্ক ভাই, আমি, মানজুর আর জাওয়াদ আমরা দাড়ায়ে আছি নীলক্ষেত তোরনের সামনে, ভেতরে ঢুকার ট্রাই করতেছি। কিন্তু পুলিশ এর কারনে ভেতরে ঢোকা যাইতেছে না।

তুহিন খান আর নিয়ামুল করিম নিলয়রে রিচ করতে চাইতেছিলাম আমরা। দুইজনই টুথপেস্ট চাইতেছিল আমাদের কাছে। ভেতরে পুলিশের টিয়ার গ্যাসে সবার নাকি দম বন্ধ অবস্থা।

পোলাপান পিপড়ার মত হল ছাড়তেছে। পুলিশের এত এত টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড আর মারমুখীতার একপর্যায়ে হাসনাত আর সালমানরে দেখলাম দৌড়ায়ে গিয়ে পুলিশরে থামতে বলল। অবস্থা আমাদের অনুকূলে ভাইবা আমরা গেট দিয়া ভুয়া ভুয়া বলতে বলতে ভেতরে ঢুইকা গেলাম। এইবার নীলক্ষেত আর ভিসি চত্বর দুই দিক থিকাই পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ারশেল মারা শুরু করল। সাথে সাথে সবাই যে যার মত দৌড়াইতে শুরু করলো।

ওই পরিস্থিতিতে রাস্তা খোলা দুইটা। একটা পলাশীর গলি, আরেকটা কাটাবনের গলি। আমি সঙ্গে থাকা সবাইরে চোখের পলকে হারায় ফেললাম। কাটাবনের দিকে দৌড় দিলাম। ২-৩ সেকেন্ডের ভিতর কাটাবন সাইড থিকা যুবলীগ আর ছাত্রলীগের গুন্ডারা এটাক করলো। আমি হঠাৎ জাওয়াদরে খুইজা পাইলাম। রিকশায় বসা, তার কনুই থিকা ফিনকি দিয়া রক্ত পড়তেছে।

ঐ অবস্থায়ও জাওয়াদরে নিয়া মজা নিতেছিলাম আমি। জাওয়াদ যেহেতু হাসতেছিলো আমি তার কাটা হাতরে সিরিয়াসলি নেই নাই। অরেও দেখলাম ভাই ব্রাদারদের গ্রুপে কাটা হাতের রক্ত লাগা ছবি শেয়ার দিছে। কিন্তু ঘটনা হঠাৎ অন্যদিকে টার্ন করে। অইদিন ফার্স্ট হাফ রোজা ছিলো সে। একটু পরই হাসিখুশি কাউসার মিয়া প্রায় অজ্ঞান হইয়া মাটিতে বইসা পড়ে। চোখ উল্টায় আসতেছিল ওর। আমি মারাত্মক ভয় পায়া যাই। দুইটা কারনে ভয় পাইতেছিলাম। ১) যদি আমাদের উপর কেউ এটাক করে, ২) জাওয়াদের যদি সিরিয়াস কিছু হইয়া যায়। অরে তো আমিই বাসা থিকা বাইর হইতে কইছিলাম।

Continue reading

নেভার ফরগেট, নেভার ফরগিভ! (১)

১।

আবু সাইদ

উইথ-আউট এনি ডাউট, ২০২৪ সালের, বাংলাদেশের, পারসন অফ দা ইয়ার হইতেছেন – আবু সাইদ!

অনেকে সারাজীবন ধইরা অনেক কিছু করতে পারেন, কিনতু এমন অনেক মানুশ আছেন যারা একটা মোমেন্টে যা করতে পারেন হাজার হাজার মানুশ হাজার হাজার জীবন পার কইরা দিতে পারে শুধু এইরকম একটা মোমেন্টের সামনাসামনি হইতে পারার জন্য! এই নসিব সবার হয় না!

সাহিত্যে নোবেল প্রাইজ দেখবেন অনেকেই পাইছেন, কিনতু ১৫-২০ বছর পরে এইরকম অনেকের নাম আমরা মনে রাখতে পারি না, মানে, তেমন দরকার পড়ে না, আবার অনেকে দেখবেন নোবেল প্রাইজ পাইছেন কি পান নাই – এইগুলা কোন ঘটনাই না! বব ডিলান নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পরে লেনার্ড কোহেন কইছিলেন, এইটা হইতেছে এভারেস্টের চূড়ায় সাইন লাগায়া দেয়ার মতো যে, এইটা হইতেছে দুনিয়ার সবচে উঁচা পাহাড়, এইরকম

তো, আবু সাইদ’রে বাংলাদেশের, ২০২৪ সালের পারসন অফ দা ইয়ার বলাটা হইতেছে এইরকমের একটা ঘটনা…

আবু সাইদের যেই সাহস, সেই সাহসের উপর ভর দিয়া আমরা বহু বছরের জালিমরে সরাইতে পারছি, ফিউচারেও উনার এই সাহস আমাদের ইন্সপারেশনের ঘটনা হয়া থাকবে

এই সৎ-সাহস’টাই আমাদের নতুন বাংলাদেশের আশা, একমাত্র ভরসা! আমরা আশা করি, ভালো’রে ভালো খারাপ’রে খারাপ বলার সাহস’টা আমরা দেখাইতে পারবো, ইভেন এর জন্য যদি মরতে হয়, তারপরও!

আর এইটা যে করা যায়, এর উদাহারন আমাদের সামনে রাইখা গেছেন আবু সাইদ!

যখনই জালিমের জুলুম সীমা ছাড়ায়া যায়, আমরা যেন আপনার মতো সৎ-সাহস নিয়া দুই হাত ছড়ায়া দিয়া বুক পাইতা দিতে পারি তারে ঠেকানোর জন্য!

স্যালুট, আবু সাইদ! সালাম আপনারে, হাজারবার!

৩১.১২.২০২৪
Continue reading

[জুলাই রেকর্ডস] ওরা (ছাত্রলিগ) ডাইরেক আমাদের টার্গেট করে মারসে… ওরা আমাদের মেরে ফেলতেই চাইসে

This entry is part 1 of 2 in the series জুলাই রেকর্ডস

[জুলাই রেকর্ডসের পক্ষ থিকা সারাদেশে জুলাই আপ-রাইজিংয়ে আহত ও নিহতদের আত্মীয়-স্বজনদের অডিও ও ভিডিও ইন্টারভিউ নিতেছেন কয়েকজন; উনাদের ইন্টারভিউ’র কয়েকটা আমরা বাছবিচারে ছাপাবো… এইখানে জানুয়ারি মাসে নেয়া শেফায়েত কাদের সাজ্জাদের ইন্টারভিউ’র ট্রান্সক্রিপ্ট পাবলিশ করা হইলো, যিনি চিটাগাংয়ের বা‍ঁশখালি’তে ছাত্রলিগরে গুলিতে আহত হইছিলেন…]

আমরা জুলাই রেকর্ডস থেকে জুলাইয়ের শহিদ পরিবার আর আহতদের ইন্টারভিউ নেওয়ার প্ল্যান নিয়ে মাঠে নামি ডিসেম্বরের শেষের দিকে। জানুয়ারির শুরুর দিকে সাজ্জাদ ভাইয়ের ইন্টারভিউটা নিই আমরা। সাজ্জাদ ভাই একদম ১ম দিকের ইন্টারভিউই হওয়াতে উনার ঘটনাটা আমাদেরকে টাচ করছিল অনেক। দেশের আনাচে কানাচে জুলাইয়ে মানুষের ত্যাগ আর স্ট্রাগলের কথা কাছ থেকে জানতে শুরু করছি তখন মাত্র।

ওইদিন জুমার নামাজের পর এলাকার এক চায়ের দোকানে আমি, সুলাইম মাহমুদ আর খোবাইব হামদান, সাজ্জাদ ভাইকে নিয়ে বসি ৩ জানুয়ারি, ২০২৫; কল্পলোক আবাসিক, বাকলিয়া, চট্টগ্রামে। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে উনি উনার এবং উনার এলাকার জুলাইয়ের জার্নির বর্ণনা আমাদেরকে দেন।

কাজী ওয়ালী উল্লাহ

কাজী ওয়ালী উল্লাহ: আপনি আন্দোলনে কিভাবে জড়াইলেন? ইন্সপিরেশন কোথা থেকে পাইলেন?

শেফায়েতুল কাদের সাজ্জাদ: প্রথম প্রথম যখন কোটা আন্দোলন শুরু হলো তখন আমরা ফেসবুকে লেখালেখি করতেসি কিন্তু আন্দোলনে যাবার সাহস পাচ্ছি না কারণ কার মাধ্যমে যাব এটার লিংক পাচ্ছিলাম না ৷ মুগ্ধ শহিদ হওয়ার অনেক দিন পর আমরা বন্ধুরা মিলে প্ল্যান করলাম, শহরে চলে যাব ৷ আন্দোলন করব ৷ আমাদের বাড়ি হলো পশ্চিম বড়গুনায় ৷ আন্দোলনের সময় আমরা গ্রামে ছিলাম ৷ আমাদের ওখান থেকে অনেক পোলাপান না বলে শহরে চলে গেসে আন্দোলনে যোগ দেবার জন্য ৷ পনের জনের বেশি হবে ৷ আমি একদিন কোচিংয়ে যাচ্ছিলাম দিদার স্যারের ৷ তখন আমি গুনাগরী কলেজের একটা গ্রুপে মেসেজ পেলাম, বাঁশখালি থেকে একটা মিছিল বের করার।

ওয়ালী: তখন কত তারিখ ছিল?

সাজ্জাদ: এক্সেক্ট তারিখটা ত মনে নাই ৷ তবে আগস্টের চার তারিখের তিন চার দিন আগে হবে৷ বা তখন সময়টা জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরু৷

ওয়ালী: আপনাদের ওখানের ছাত্ররা কি তখন শহরে চলে গেছিল?

সাজ্জাদ: হ্যা, তখনই চলে গেসে ৷

ওয়ালী: ক্র্যাকডাউনের আগে কি অবস্থা ছিল?

সাজ্জাদ: তখনও আমরা তেমন সজাগ ছিলাম না ৷

ওয়ালী: বাইতুশ শরফের (দেওয়ানহাট, চট্টগ্রাম) কথা বলছেন যে সেটা কখন?

সাজ্জাদ: তখন আসলে আমরা আন্দোলনের ব্যাপারে তেমন কিছু জানতাম না ৷ বাঁশখালিতে তখন আন্দোলন বিষয়ে কোনো কথা ওঠে নাই ৷ এমনিতে সেই সময়টাতে আমি শহরে গেছিলাম একবার ৷

ওয়ালী: তখন শহরে থাকা অবস্থায় কি আন্দোলনে গেছিলেন?

সাজ্জাদ: না, তখন আন্দোলনে যাই নাই কোথাও ৷ বাইতুশ শরফে একজন বন্ধুর বাসায় ছিলাম ৷ কিন্তু পুলিশের ভয় কাজ করার কারণে আমি গ্রামে চলে যাই ৷

ওয়ালী: তারপরে আগষ্টের শুরুতে কি হলো?

সাজ্জাদ: আগষ্টের শুরুতে গুনাগরী কলেজের একটা পেইজ থেকে আমাদেরকে ডাক দিসিল ৷ উনারা বলল, আমরা বাশখালি থেকে একটা আন্দোলন বের করব ৷ আমি তথ্য যতটুকু শুনসি, বাশখালিতে একজন ভাইস চেয়ারম্যান ছিল হোসাইন নামে সে ছাত্রদের সরাসরি হুমকি দিসিল যে, তোরা যদি আন্দোলনে বের হস তাইলে ডাইরেক তোদের গুলি করে খাই ফেলায়ুম ৷ তখন ছাত্ররা আর সাহস পায় নাই৷ দুই থেকে তিনদিন চলে গেসে ৷

ওয়ালী: আপনারা আপনাদের বাজারে নামতে চাইসিলেন মিছিল নিয়ে?

সাজ্জাদ: হ্যা ৷ আগস্টের তিন তারিখ রাতে একটা মেসেজ আসলো, আমরা সবাই আন্দোলনে যাব চাম্বলবাজার থেকে, যারা বরগুনার আছে, বাশখালির আছে তারা চাম্বল ক্লাব থেকে শুরু করবে ৷ শেখেরখিলের যারা আছে তারা শুরু করবে রাস্তার মাথা থেকে আর জলদি বা গুনাগরী বাজার থেকে যারা যাবে তারা টাইমবাজার থেকে শুরু করবে ৷

ওয়ালী: এই জায়গাগুলার দূরত্ব কি বেশি, নাকি কাছে?

সাজ্জাদ: তিনটা জায়গার দূরত্ব হবে এখান থেকে (কল্পলোক আবাসিক) নতুন ব্রিজ পর্যন্ত। মানে তিন রাস্তার মোড়ে আসব আমরা, চকরিয়া আর কক্সবাজার ৷ (আমরা আন্দোলন নিয়ে চকরিয়া, কক্সবাজার তিন রাস্তার মোড়ে আসব৷) আমরা সবাই একত্রিত হব চাম্বলবাজারে৷ আমরা সবাই এসে ফাহিম-ক্লাবে অবস্থান নিসি, তখন দুইটা বা আড়াইটা হবে ৷ আমাদের অংশে ছিলাম তিনশ জনের বেশি ৷ তখন শেখেরখিলের একজনের সাথে আমাদের লীড দিচ্ছিলো যেই ভাই উনার সাথে যোগাযোগ হইলো, শেখেরখিলের ভাইটা বলতেসিল, আমরা সবাই জড়ো হইসি, রেডি আছি এখন মিছিল নিয়ে আসব ৷ Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →