মায়া এঞ্জেলোর কবিতা
দুর্দান্ত রমণী
~
সুন্দরী রমণীরা আমার গোপন রহস্য জানতে চায় মুগ্ধ হয়ে।
আমি তো কিউট পুতুল না কোন বা দেখতে ফ্যাশন মডেলদের মতও না।
অথচ আমি যখন তাদেরকে বলতে যাই,
তারা মনে করে, আমি বুঝি আজাইরা বাহাদুরি করতেছি।
আমি বলি,
এটা আমার হাতের নাগালেই থাকে,
আমার চওড়া পাছায়
আমার হাঁটার ভঙ্গিমায়
আমার ঠোঁটের কোণেই—
অবিশ্বাস্যরকমে
আমি একজন নারী।
দারুণ রমণী,
আর এটাই আমি।
আমি যখন কোন রুমে ঢুকি
সবাই এমনভাবে তাকায়ে থাকে যেভাবে তারা আশা করে।
আর পুরুষের ক্ষেত্রে হয় কি
দেখামাত্র বন্ধুরা দাঁড়ায়ে যায় বা
নিচু হয়ে বসে ওয়েলকাম জানায় (আমারে)।
তারপর তারা আমারে ঘিরে ধরে
যেন মৌচাকে উড়তে থাকা মৌমাছির দল।
আমি বলি,
এটা আমার চোখের আগুনে
আমার দাঁতের ঝিলিকে
আমার কোমরের দোলায়
আমার পায়ের তালেই—
অকল্পনীয়ভাবে
আমি একজন নারী।
দারুণ রমণী,
আর এটাই আমি।
পুরুষেরা নিজেরাই অবাক হয়ে ভাবে
তারা আমার মধ্যে কী এমন দেখে!
তারা বোঝার চেষ্টা করে
কিন্তু তারা আমার ভিতরগত রহস্যটি ছুঁইতে পারে না।
যখন আমি তাদের বুঝানোর ট্রাই করি
তারা তখনও বলে যে, সব মাথার উপ্রে দিয়ে যায়।
আমি বলি,
এটা আমার শরীরের বাঁকে
আমার হাসির ঝলকে
আমার মাইয়ের ঢেউয়ে
আমার স্টাইলের সৌন্দর্যেই—
অবিশ্বাস্যরকমে
আমি একজন নারী।
দারুণ রমণী
আর এটাই আমি।
এখন তুমি বুঝবা
কেন আমার মাথা নত হয় না,
কেন আমি চিল্লাফাল্লা করতে হয় না বা লাফাই না
অথবা কারো নজরে পড়ার চেষ্টাও করতে হয় না।
যখন তুমি আমারে দেখো হেঁটে যাইতে
এটা তোমারে প্রাউড ফিল করানোর কথা।
আমি বলি,
এটা আমার হাঁটার ঢঙে
আমার চুলের ভাঁজে
আমার হাতের উমে
আমার দরদের তাগিদেই—
অকল্পনীয়ভাবে
আমি একজন নারী।
দারুণ রমণী
আর এটাই আমি।
লাইফ ডাজ নট ফ্রাইটেন্ড মি
~
দেয়ালভরা ছায়া
আর দালান জুড়ে হৈচৈ
তবু জীবনরে আমি ডরাই না মোটেও।
নেড়িকুত্তার অহেতুক ঘেউ ঘেউ
কিংবা মেঘে মেঘ হয়ে থাকা অশরীরী কেউ
এমন জীবনরেও আমি ডরাই না একদম।
জালিম বুড়ি শাকচুন্নি
বা কোন সিংহ, হোক বন্য
কোনটারেই ডরাই না আমি।
হোক আগুনজ্বলা ড্রাগন
অন মাই কাউন্টারপেন
সেটাও ডরাই না আমি একদম।
আমি “ভেউ” দিই উল্টা
আমি খিলখিলায়ে উঠি
আর ওরা দৌড়ায়,
আমি কান্দি না
তাই তারা পালায়,
আমি জাস্ট হাসি
আর তারা আউলায়ে যায়।
জীবনরে আমি ডরাই না মোটেও।
তাগড়া ব্যাটারা মারামারি করে, করুক
রাতের অন্ধকারে নিজেরা একা একা।
জীবনরে আমি ডরাই না মোটেও।
পার্কে প্যান্থার
অচেনালোকভরা অন্ধকার’
না, কোনটারেই আমি ডরাই না।
ঐ নতুন ক্লাসরুম যেখানে
ছেলেরা আমার চুল টানে
কিংবা (কিসি বেবি গার্লস
উইথ দেয়ার হেয়ার ইন কার্লস)
কোনটারেই আমি ডরাই না মোটেও।
আমারে ব্যাঙ আর সাপও দেখাইতে আইসো না
আর যদি শুনেও থাকো আমার চিৎকার
যদি আমি ভীত হয়েও থাকি
সেটা শুধুমাত্র আমার স্বপ্নেই।
আমার কাছে এক জাদুমন্ত্র আছে
গুজায়ে রাখছি হাতার ভিতরে।
আমি দরিয়ার তলদেশেও হাঁটতে পারি,
আর শ্বাস না নিয়েও বাঁচতে পারি।
জীবনরে আমি ডরাই না মোটেও।
একটুও না।
একটুও না।
আমি জীবনরে ডরাই না মোটেও। Continue reading