Main menu

আমাদের ভাষা ।। আবুল মনসুর আহমেদ ।। ১৯৫৮ ।।

This entry is part 15 of 22 in the series লেখার ভাষা

এই লেখাটা আবুল মনসুর আহমদের বাংলাদেশের কালচার বইটা থিকা নেয়া হইছে। বইটা আহমদ পাবলিশিং হাউস পয়লা ছাপাইছিল ১৯৬৬ সালের অক্টোবর মাসে, এখন বাজারে সপ্তম মুদ্রণের কপি পাওয়া যায়, যেইটা ২০১১ সালে ছাপা হইছে। বইয়ের ১২৮ থিকা ১৩৯ পেইজে এই লেখাটা আছে। 

আগের দিনে পলিটিক্যাল পার্টিগুলাতে খালি অ্যাক্টিভিস্টই না, থিওরিস্টরাও থাকতেন, আবুল মনসুর আহমেদ পাকিস্তান আমলে আওয়ামী মুসলিম পার্টির পলিটিক্যাল থিওরিস্ট ছিলেন। পলিটিক্যাল জায়গা থিকা বাংলা ভাষা কি রকম হওযা দরকার, সেইটার কিছু সাজেশন উনি রাখছেন, এই লেখায়। উনার সাহিত্যিক বিকাশ কলকাতাতেই, এই কারণে কলকাতার ভাষাচিন্তা বা ভাষা ইউজ করার যেই প্যাটার্ন সেইখান থিকা উনি কমই সরতে পারছেন। উনার সাজেশন মেইনলি ৩টা –

১. কলকাতা আগে যেহেতু রাজধানী ছিল, কলকাতার আশেপাশের অঞ্চলের ভাষা আর কলকাতার মধ্যবিত্তের ভাষাই স্ট্যান্ডার্ড বাংলাভাষা ছিল। এখন ঢাকা যেহেতু রাজধানী, ঢাকার আশেপাশের অঞ্চলের ভাষা আর ঢাকাইয়া মধ্যবিত্তের ভাষাই হবে স্ট্যার্ন্ডাড বাংলা ভাষা। যদিও পরে জনগণের ভাষার কথা উনি বলতেছিলেন, সেইটার জন্য কোন গ্রাউন্ড উনি সাজেস্ট করতে পারেন নাই।

২. সেক্যুলার ঝামেলাটাও উনার ছিল, যে শব্দের কোন ধর্ম নাই। বরং শব্দের ব্যবহারে যে ধর্ম প্রকাশ পায়, এই জায়গাটা থিকা উনি দেখছেন। অথচ দুইটা জায়গাই ভাষার ভিতরে আছে। ধর্মঅভ্যাসের কারণেই অনেক শব্দ আসছে ভাষাতে, এইটাও মিথ্যা না। তখনকার পলিটিক্যাল সিচুয়েশনে একইসাথে মুসলমান হওয়ার রাষ্ট্রীয় চাপ আর সেক্যুলার হওয়ার যেই কালচারাল চাপ আছিলো ঢাকা শহরে, উনি পলিটিক্যালি এই জায়গা দুইটারে আপহোল্ড করার ট্রাই করছেন আসলে। কিন্তু  আমাদের জীবনযাপন বা লাইফস্টাইল যে খালি সাহিত্যে রিফ্লেক্টেড হয় – তা তো না, কলকাতার সাহিত্যের যেই এফেক্ট আমাদের লাইফস্টাইলে, রুচিতে, সাহিত্যে রইয়া গেছে আর থাকতেছে, সেইটা খুবই কনশাসলি লোকেট করতে না পারলে সেইটা থিকা বাইর হইতে পারাটা বা নতুন ক্রিয়েশনের জায়গাগুলারে স্পেইস দিতে পারাটা খুবই মুশকিলের হওয়ার কথা। 

৩. যেই জায়গাটাতে উনি অনেক বেশি ওপেন-আপ হইতে পারছেন, সেইটা হইতেছে, যেই বিদেশি শব্দগুলা অলরেডি বাংলাভাষায় চইলা আসছে, সেইগুলার বাংলা করার দরকার নাই। অথচ উনার সাগরেদরা এইটাই মানতে পারেন নাই, যার ফলে মোবাইল ফোনরে মুঠোফোন বলার মিডলক্লাস প্রাইড উনারা রাখতেই চান এখনো, বাংলাভাষায়।

তো, ভাষা এই নিয়া এই লেখা ১৯৫৮ সনের পলিটিক্যাল সিচুয়েশনটারে মাথায় রাইখা পড়ার  একটা সাজেশন থাকলো। আর ভাষা যে পলিটিক্যাল এইকটা ইন্সট্রুমেন্ট এইটা নতুন কইরা বলার তো কোন দরকার আছে বইলা মনেহয় না। 

ই.হা.

…………………………………………………………

 

আমাদের বাংলা

আমাদের নিজস্ব কালচার বিকাশের ও নিজস্ব সাহিত্য সৃষ্টির জন্য চাই আমাদের নিজস্ব ভাষা। আমাদের নিজস্ব ভাষা বাংলা, এ কথা আজ যথেষ্ট নয়। যথেষ্ট নয় দুই কারণে। এক কারণ ঐতিহাসিক। অপর কারণ রাজনৈতিক।

ঐতিহাসিক কারণ বাংলা ভাষার ইতিহাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাংলা ভাষার স্রষ্টা ও বাংলা সাহিত্যের পিতা আসলে বাংলার নবাব-বাদশারাই। সে হিসাবে বাংলা বাংগালী মুসলমানদের নিজস্ব ভাষা। কিন্তু প্রায় দুইশ বছরের ইংরেজি শাসনে বাংলা ভাষার ও সাহিত্যের বিপুল পরিবর্তন ঘটিয়াছে। সে পরিবর্তন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে যেমন উন্নত করিয়াছে, তেমনি মুসলমানদের নিকট হইতে অনেক – অনেক দূরে নিয়াও গিয়াছে। ইতিমধ্যে বাংলা ভাষা একটি আধুনিক উন্নতশীল ভাষাও হইয়াছে। [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

অন্যান্য আধুনিক ভাষার মতো বাংলাও জীবন্ত ও প্রাণবন্ত ভাষা। কাজেই অনবরত তার প্রসার বৃদ্ধি ও পরিবর্তন ঘটিতেছে এবং ঘটিতে থাকিবে।

ঊনিশ শতকের হইতে বিশ শতকের দ্বিতীয় দশক পর্যন্ত বাংলা ভাষা ছিল পণ্ডিতী ভাষা। ঊনিশ শতকের শেষদিক হইতে টেকচাঁদ ঠাকুর দ্বিজেনঠাকুর ও রবিঠাকুরের শক্তিশালী কলমের জোরে ভদ্রলোকের পণ্ডিতী বাংলা জনগনের ভাষায় রূপান্তরিত হয়। হইবার চেষ্টা করে। এমন কি স্বয়ং বংকিমচন্দ্রের লেখাতেও এ চেষ্টা প্রতিফলিত হয়। বংকিমচন্দ্রের প্রথম জীবনের ‘দুর্গেশনন্দিনী’র ভাষা এবং শেষ দিককার ‘দেবী চৌধুরানী’র ভাষার পার্থক্যই এর প্রমাণ।

পশ্চিম বাংলার বাংলা

যা হউক দ্বিজেনঠাকুর রবিঠাকুর ও শরৎচন্দ্রের চেষ্টায় বাংলা ভাষা বড় জোর পশ্চিম–বাংলার মধ্যবিত্তশ্রেণীর ভাষা হইতে পারিয়াছিল। প্রকৃত জনগনের ভাষা হইতে পারে নাই। কারণ বাংলার আসল জনগন যে মুসলমানরাও এবং তাদের ভাষাও যে জনগনের ভাষা, এ সত্য হয়তো ঐ মনীষীদের নিকট ধরাই পড়ে নাই।

তারপর নযরুল ইসলাম তাঁর অসাধারন প্রতিভা নিয়া ধুমকেতুর মতো বাংলা সাহিত্য ও ভাষার আকাশে উদিত হন এবং মুসলিম-বাংলার ভাষাকে বাংলা সাহিত্যের ভাষা করিবার সফল চেষ্টা করেন। নযরুলের এই চেষ্টার যে বিরুদ্ধতা আসে সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা হইতে, তাতে শুধু সাম্প্রদায়িক তিক্ততাই বাড়ে না, হিন্দু-বাংলা ও মুসলিম বাংলার কালচারের পার্থক্যও তাতে সুস্পষ্ট হইয়া উঠে। বাংলা ভাগ হইয়া দুই দেশ না হইলে অতঃপত বাংলা কি রূপ নিত, আজ সে আলোচনা করিয়া লাভ নাই।

কিন্তু তাঁর ইশারা হইতে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।

বিপ্লবী পরিবর্তন

রাজনৈতিক কারণ একেবারে আধুনিক। আজ বাংলা ভাগ হইয়াছে। এক বাংলা দুইটা স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের রূপ নিয়াছে। এতে বাংলা সাহিত্য ও ভাষার কি পরিবর্তন হইয়াছে, এইটাই আমাদের ভাল করিয়া বিচার করিতে হইবে। এ বিচার সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে করিতে গেলে আমাদের আগে বিবেচনা করিতে হইবে দুইটা কথাঃ

এক, বংলা ভাগ হওয়ার আগেও সাহিত্যের ক্ষেত্রে মুসলিম-বাংলার ভাষা ও হিন্দু-বাংলার ভাষার একটা পার্থক্য ছিল। মুসলিম লেখকরা সামাজিক ও সাহিত্যিক খাতিরে প্রচলিত বহুসংখ্যক মুসলমানী শব্দ সাহিত্যে চালু করিয়াছিলেন। হিন্দু লেখকরা তা মানিয়া লন নাই।

দুই, বাটোয়ারার আগে বাংলার রাজধানী সুতরাং সাহিত্যিক কেন্দ্র ছিল কলিকাতা। এখন সে জায়গা দখল করিয়াছে ঢাকা।
Continue reading

আল মাহমুদের ইন্টারভিউ: এটা কবিদেরই গদ্য লেখার যুগ (১৯৯২)

কবি উৎপলকুমার বসু ‘কথায় কথায়’ নামে একটা ইন্টারভিউর বই এডিটর হিসাবে ছাপাইছিলেন, ২০০১ সালে, কলকাতার সৃষ্টি প্রকাশন থিকা। মেইনলি ১৯৫৫ থিকা ১৯৬৫, এই সময়টাতে যারা বাংলাভাষায় ক্রিয়েটিভিটিতে বা আর্টের নানান ফর্মে বিখ্যাত হইছিলেন, তাদের ইন্টারভিউ উনি রাখতে চাইছেন। ২৪টা ইন্টারভিউর মধ্যে ২টা ছিলো বাংলাদেশি আর্টিস্টের, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস আর আল মাহমুদের।

এই ইন্টারভিউটা ওই বই থিকা নেয়া হইছে।

…………………………………………………………………

সাক্ষাৎকার নিছেন : সালাহউদ্দীন আইয়ুব
উপমা : আল মাহমুদ সংখ্যা (১৯৯২, ঢাকা)

…………………………………………………………………

আইয়ুব : আমরা শুনেছি আজ থেকে বহুদিন পূর্বে শহীদ কাদরী একবার কবি আল মাহমুদকে খারিজ করে গল্পকার আল মাহমুদকে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ আসন দিয়েছিলেন। মনে পড়ে সেসব কথা? বলুন তো ভালো করে।

মাহমুদ : আপনারা বোধ হয় অনেক কিছুই শুনেটুনে এসেছেন। একদা শহীদ কাদরী বলে আমার এক কবি বন্ধু ছিলেন। আমরা প্রায় এক-দশক ব্যাপী পরস্পরের প্রতি হৃদ্যতা অনুভব করতাম। কবিদের বন্ধুত্বের পরমায়ু একদশক স্থায়ী হওয়া মানে হলো প্রায় একশতাব্দী স্থায়ী হওয়ার পরিতৃপ্তি উপভোগ করা। পঞ্চাশে শুরু করে ষাটের শেষপ্রান্তে এসে অযাচিতভাবে আমাদের উভয়েরই খ্যাতি-প্রতিপত্তি এত বেড়ে যায়, আমরা পরস্পরের একটু আধটু সমালোচনা ও খোঁচাখুঁচি শুরু করি। সত্তর দশকে আমার একটি ছোট গল্পের বই বেরোয়, নাম ‘পানকৌড়ির রক্ত’। সাধারণত এদেশের পাঠকদের কাছে মননশীল গল্পের কদর তখনও ঠিকভাবে প্রতিষ্ঠা পায়নি। এ সময় একজন কবির লেখা গল্প প্রায় সব ধরনের পাঠকেরই সম্ভবত দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আমার কবিবন্ধু এ সুযোগ কি করে হাতছাড়া করেন? তিনি বিচিত্রায় লেখলেন, আল মাহমুদের কবিতার চেয়ে তার গল্পই আমার কাছে বেশি প্রতিভাদীপ্ত মনে হচ্ছে। আমি মুহূর্তের মধ্যে আমার বন্ধুর প্রকৃত সদিচ্ছাটা আন্দাজ করে বিচিত্রাতেই জবাব দিই, একটিমাত্র গল্পের বই লিখে আমি যদি শহীদ কাদরী মতো বিশ্বসাহিত্যের একজন সমঝদারের কাছে এদেশের সেরা কথাশিল্পীর মর্যাদা পাই- তবে তো কানাকড়ি মূল্যে আমার কবি খেতাব আমি বিকিয়ে দিতে রাজি। এতে আমার বন্ধুবর খুব জব্দ হন।

আইয়ুব : কিভাবে শুরু করলেন গল্প লেখা? কোন প্রণোদনায়?

মাহমুদ : আমি তখন স্কুলের ছাত্র। সপ্তম কিংবা অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি। বেধড়ক কবিতা লিখে খাতা শেষ করে দিচ্ছি। সব কবিতাই কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী ভাবধারায় প্রভাবিত। এসময় সেকালের কম্যুনিস্ট পার্টি দ্বারা পরিচালিত একটি পাঠাগারে পড়াশুনোর সুযোগ পাই। সেখান থেকে ম্যাকসিম র্গোকির অনূদিত কিছু গল্প পড়ে গদ্য লেখার ঝোঁক সৃষ্টির ফলে হঠাৎ একটি দু’টি গল্প লিখে ফেলি। সৌভাগ্যক্রমে এর একটি রচনা তৎকালীন সত্যযুগ পত্রিকায় গৌরকিশার ঘোষ মহাশয় ফলাও করে ছেপে দিলে আমি বুঝতে পারি কবিতার মতো আমার গদ্যশক্তিও প্রবল। এখানে বলে রাখা ভালো, অন্যের দ্বারা খানিকটা প্রভাবিত হলেও আমার কবিতা কিন্তু এর আগেই কলকাতার কয়েকটি পরিচিত পত্রিকায় প্রকাশ পেতে শুরু করেছিল। দুর্ভাগ্যের বিষয় দারিদ্র্য ও নিরাশ্রয় অবস্থায় পড়ে গিয়ে আমি ১৯৫৪ খৃষ্টাব্দে ঢাকায় পাড়ি জমাই এবং পঞ্চাশ দশকের কবিদের পাল্লায় পড়ে গোল্লায় যাওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ অবস্থা থেকে আমাকে উদ্ধার করে একটি ঘটনা। এ সময় হঠাৎ বুদ্ধদেব বসু তাঁর ‘কবিতা’ পত্রিকায় আমার তিনটি কবিতা প্রকাশ করেন এবং আমাকে দু’লাইনের একটি চিঠি লিখে জানান, ‘তোমার কবিতা ছাপা যাবে মনে হচ্ছে।’ ভাবুন, তিরিশের কাব্য আন্দোলনের প্রধান কর্ণধার আমাকে চিঠি লিখে তাঁর মনোনয়ন জানাচ্ছেন। আর আধুনিক বাংলাভাষার সবচেয়ে দুর্ভেদ্য পত্রিকায় চেষ্টাতেই চিচিং ফাঁকের মতো রহস্যের দুয়ার খুলে গেল। এরপর গল্পটল্প অতিশয় তুচ্ছ মনে হল। আবার এ সময়টায় আমার বেশ কিছু ছোটো গল্প ঢাকার পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পেয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল। ‘অগত্যা’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ফজলে লোহানী তখন ‘পূর্ববাংলা’ নামক একটি সাপ্তাহিকে এসে জুটেছিলেন। তিনিই মূলত সম্পাদনা করতেন ‘পূর্ববাংলা’। সাপ্তাহিকটিতেও আমার ‘ধূসর রংয়ের খরগোশ’ ও ‘সূর্য ওঠার আগে’ এই শিরোনামে দু’টি গল্প এবং সাপ্তাহিক কাফেলায় ‘জীবন’ নামে একটি গল্প ছাপা হলে তখনকার কথাশিল্পী নামক পাহারাদাররা ‘কে এই হারামজাদা’ ধরনের মন্তব্যে আমাকে সম্মানিত করতে থাকেন। বিরূপ মন্তব্যে আমারও স্ফীত হওয়ার কারণ ঘটে। আমি বুঝতে পারি আমার খাপে জোড়া কিরিচ আছে। কিন্তু পঞ্চাশ দশকের পাল্লায় পড়ে আমি আমার আসল অস্ত্রটিতেই জং ধরে গেছে ভেবে এতদিন ইস্তেমাল করিনি। এখন ভয়ে ভয়ে খাপ থেকে টেনে বের করতে গিয়ে বুঝছি একটু আঁটসাঁট লাগছে বটে তবে নিজের চোখের ঝিলিকটাও লাগছে। এখন বলতে চাই, এটা কবিদেরই গদ্য লেখার যুগ। আর যুগের প্রণোদনা ছাড়া কে আর গদ্য লেখার পরিশ্রম স্বীকার করে।

আইয়ুব : যাকে আমরা ছোটো অর্থে ‘নিরীক্ষা’ বলি- তা আপনি করেননি কখনো, গল্পেও নয় কবিতায়ও নয়; তবু আপনার লেখা সজীব, সপ্রাণ, নিজস্ব; গল্পের ক্ষেত্রেও আমরা দেখি আপনি ‘পানকৌড়ির রক্ত’ কিংবা ‘সৌরভের কাছে পরাজিত’ পর্যায়ে- ভাষাগত মৌলিক প্রতাপ প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন; তাছাড়া কোথায় যেন আপনি বলেছেনও ‘কবিরা ভাষার শিক্ষক’- গল্প লিখতে গেলেন কি এই শিক্ষকতার অভিপ্রায়ে- এমনকি দিন দিন আপনার কথা সাহিত্যিক অভিলাষ বেড়েই চলেছে লক্ষ্য করছি।

মাহমুদ : এই শব্দটি, অর্থাৎ আপনারা যাকে গালভরা নাম দিয়েছেন নিরীক্ষা, আমি এসবের বিশ্বাস করি না। সাহিত্যে অসার্থকতার নামই হলো নিরীক্ষাধর্মী রচনা। সাহিত্যে নিরীক্ষা জিনিসটা কি তা আজ পর্যন্ত আমাকে স্পষ্টভাবে কেউ বুঝিয়ে পারেনি। কবিতা বা কথা-সাহিত্যে কারো যদি নতুন কোনো উদ্ভাবনা থাকে, আর সেটা যদি হয় পাঠকের কাছে চিন্তনীয় বিষয় এবং পাঠকের অন্তরের সায় পাবার মতো রসযুক্ত, তদুপরি লেখকের রচনার মৌলিকত্ব যদি মুহূর্তের মধ্যেই অন্যের হৃদয়ে সঞ্চারিত হওয়ার মতো উপাদানে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ থাকে তবে সেই লেখাটিকে আমরা সার্থক গল্প কবিতা বলে চিহ্নিত করি। আমি কবিতা, গল্প উভয় ক্ষেত্রেই চেষ্টা করেছি নিজস্ব উদ্ভাবনশক্তির পরিচয় দিতে। হ্যাঁ আমি একবার বলেছিলাম বটে কবিরাই ভাষার শিক্ষক। তবে একথায় এটা বোঝাতে চাইনি যে কবিরা ভাষাটাকে উত্তমরূপে জানেন বলে কবিতা রচনার ক্ষেত্রেও পণ্ডিতি ফলাতে গিয়ে ভাষাটাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবেন। আমি বলতে চেয়েছি কবিরা ভাষার স্বভাবটা অন্যান্য মানুষের চেয়ে অধিক উপলব্ধি করেন। না, গল্প লিখতে গিয়ে আমি মাস্টারি ফলাবার পক্ষপাতী নই। আমার কথাসাহিত্যিক হওয়ার অভিলাষ বাড়ছে কথাটা বোধহয় ঠিক নয়। বরং বলুন আমি গল্প-উপন্যাসও লিখতে চাইছি। আমি তো আগেই বলেছি, এটা কবিদেরই গদ্য লেখার যুগ।

Continue reading

তিনখানা নারীবাদ ।। দুই নম্বরঃ এল বাই পল ভারহোভেন (বেসড অন দা নভেল – ওহ… বাই ফিলিপ জিঞ)

এলে যেটা দেখায়, এইটার যিনি সেন্ট্রাল ক্যারেক্টার তিনি ধর্ষিত হন। একবার না কয়েকবারই ধর্ষিত হন। মানে কোন কেইস ফাইল তিনি করতে চাননাই; ফলে দেখা যাইতেছে মাঝে মাঝেই তিনি ধর্ষিত হইতেছিলেন। কেস ফাইল করার চাইতে যেন তার কৌতহলটাই বেশি এইটা জানা যে কে তারে ধর্ষণ করতেছেন; যিনি ধর্ষক তিনি মুখটুখ ঢাইকা আর কি ধর্ষণ করতেন। এইটা তার কাছে একটা কিউরিয়াস কেইস হইয়া দাঁড়ায়। ধর্ষণটা যেন ধর্ষণ হইয়া উঠতে পারতেছেনা ঠিক। সেইটা একটা আগন্তুকের সাথে সেক্স করা মাত্র; অবশ্যই পার্ভার্স ওয়েতে, যেখানে এপারেন্টলি ধর্ষিতা নিজেই সিমস টু এনজয় দা সেক্স, যেন এক্সিডেন্টালি ধর্ষিতা তার নিজের একটা সেক্সুয়াল ফেটিশ আবিষ্কার কইরা ফেলছে। মানে বুঝাই যাইতেছে এইটারে একটা ফরাসি ছবিই হইতে হবে 😛 ।
.
এখন রেইপের টেরিটরিটা বোঝা লাগে। [pullquote][AWD_comments][/pullquote]
.
এলে ধরেন, ধর্ষক যে রেইপ করতেছে এইটা ধর্ষকের প্রস্তুতিতেই ধরা পড়তেছে। কিন্তু ধর্ষিতা নিজেরে রেইপড মনে করতেছেনা, তখন কি এইটা ধর্ষণ হবে? ভিক্টিম নাই তো! আমি বলবো, ফান্ডামেন্টালি, নারীর ভিক্টিম না হওয়ার স্বাধীনতা আছে কি না সেইটাও নারীর স্বাধীনতা বিষয়ক আলাপের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানে রেইপ ঘটলেই যে রেপিস্টের ফাঁসি চাইয়া ফানা হইয়া যাইতেই হবে তা না। রেইপ যেরকম একটা পুরুষতান্ত্রিক সমস্যা, ভিক্টিমরে অতিক্রম কইরা সমস্ত সামাজিক শক্তি দিয়া রেপিস্টের বিচার চাওয়াটাও একটা পুরুষতান্ত্রিক সমস্যাই। নারীরে অতিক্রম কইরা নারীর সম্ভ্রম যে পরিবার, পিতা, স্বামী/ হবু স্বামীর ব্যাপার হইয়া দাড়াইছে তা এই বিচার চাওয়ার অবসেশনের মধ্য দিয়া প্রকাশিত হয়। এই জিনিসটা আসগার ফারহাদির দা সেলসম্যানেও ভালো দেখা গেছে। ওইখানে বউ যার দ্বারা হ্যারাসড হইসে, তারে শায়েস্তা করার ব্যাপারে তার স্বামী যেমনে অবসেসড হইয়া গেছিল, যেন বউয়ের হ্যারাসড হওয়ার চাইতেও বউয়ের হ্যারাসড হওয়ার মধ্য দিয়া স্বামীর বেইজ্জতি হওয়াটা বড় হইয়া উঠসে। মানে ভিক্টিমরে ছোট কইরাই এইসব বিচার চাওয়ার হিস্টেরিয়াগুলা বড় হয়। রেপ যে কার্যত একটা মেইল ইগোট্রি মাত্র, তা পূর্নরূপে প্রকাশিত হয়, যখন নারীর কাছে যৌন ব্যাপারে যাবতীয় চয়েসগুলি এভেইলেবল হইতে থাকে। তখন ধর্ষিতা যেন আসলেই ধর্ষিত হন সেইটা ধর্ষকরে নিশ্চিত করা লাগে, তারে দিনকে দিন আরও ভায়োলেন্ট হইয়া উঠতে হয়- ধর্ষিতারে খুন করা লাগে। এলেও ধর্ষক শেষমেশ ধরাটা খায় ওই ভায়োলেন্ট হইতে গিয়াই- সে ধর্ষিতার প্রাণ সংহারে উদ্যত হয়।
.
ধর্ষণ সম্পর্কিত যেকোন আলাপ যেন সম্ভ্রমমুখী না হইয়া ওঠে সেইটা খেয়াল রাখা জরুরী। বরং নারীর (বা পুরুষের) পারসোনাল চয়েজ ও সামাজিক স্পেসরে কর্তন বা বাতিল কইরাই ধর্ষণ যে ধর্ষণ হইয়া ওঠে, সেই চয়েজ ও স্পেসের ওপরই স্ট্রেস দিতে হবে। এলেতে হুপেয়ারের যে চরিত্র সে ওই চয়েজের স্বাধীনতাগুলির মইধ্যেই বড় হইছে। হুপেয়ারের যে ক্যারেক্টার(মিশেল) তার চেহারা আন্দাজে বয়স চল্লিশ আপ ধরা যায়। মানে আটষট্টি বা আটষট্টি পরবর্তী ভাইবের মইধ্যে ক্যারেক্টারটা বাইড়া উঠছে।
Continue reading

মিথ্যার লগে কাভি কইরো না বসবাস ।। আলেকজান্দার সলঝেনিৎসিন

[আলেকজান্দার সলঝেনিৎসিন এই এসেখানা লিখিয়াছিলেন ঈসায়ী ’৭৪ সনে। আর অইসময়ের মাঝেই মস্কোর বুদ্ধি ব্যবসায়ীদিগের পাড়ায় উহা রটিত হইয়াছিল। ১২ ফেব্রুয়ারি, অ্যাকচুয়ালি অইদিনই সিক্রেট পুলিশ তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে হান্দাইয়া পড়ে আর তারে তুইলা নিয়া যায়। পরেরদিন রাশিয়া হইতে তাঁরে বিতাড়িত করা হয় আর পশ্চিম জার্মান দ্যাশে নির্বাসনে পাঠানো হয়। মূল লেখাখানা লওয়া হইছে https://archive.org/details/LiveNotByLies হইতে। – মেহেরাব ইফতি।]

…………………………………………..

একটা সময় আছিল যখন আমরা ফিসফিস কইরা বাৎচিত করতেও ডরাইতাম। এখন আমরা হাতে লেখা নিষিদ্ধ চোরাই বই পড়ি ও লেখি, আর কখনো কখনো আমরা যখন সায়েন্স ইন্সটিটিউটের স্মোক-জোনে একলগে জড়ো হই তখন একজন আরেকজনের কাছে দিল খুইলা ক্ষোভের কথা উগরাই : কীরকম ট্রিকস তারা আমাদের উপ্রে খাটাইতেছে, আর আমাগোরে কোথায় টাইনা নিয়া নামাইতেছে। চক্ষের সামনে গরিবি আর ধ্বংসযজ্ঞের আযাব, আর এদিকে মহাকাশ লইয়া আজাইরা লম্ফঝম্ফ। কোনহানের কোন বেতমিয রেজিম, তাগো হাত শক্ত করো। লাগাইয়া দাও গৃহযুদ্ধ। কোনো হিশাব-নিকাশ না কইরাই ওরা আমাগো টেকায় মাও জে দংয়ের পিছে গিয়া খাঁড়াইছে, তারপর আমাগোরেই পাঠাইয়া দিব তাঁর লগে কাইজ্জা করার লাইগ্যা, যাইতেই তো হবে আমাদের! আর কি কোনো উপায় আছে? নিজেগো ইচ্ছা মতো তারা যারে চায় ট্রায়ালে খাঁড়া করাবে, বিবেকওয়ালা সুস্থ মানুষগুলারে অ্যাসাইলামে দিবে- সবসময় তারাই। আমরা তো হইলাম গিয়া ধইঞ্চা। আমাদের আখেরি সময় হইয়া আসছে। একটা বারোয়ারি আত্মিক মরণ এই ফাঁকে আমাগো সবাইরে টাচ কইরা গেছে, খুব জলদিই আমাদের এবং আমাগো পোলা-মাইয়াদের শারীরিক মৃত্যু গ্রাস করবে। এতো কিছুর পরেও আমরা ভোকচোদের মতো হাসতেছি আর মিনমিন কইরা কইতেছি : ‘কিন্তু এইটা থামাইতে আমরা কি করতে পারি? আমাদের তো নাই কোনো হেডম।’ আমরা এইর’ম জাহেল হইছি যে, আজকের দিনের রিজিকের ন্যায্য হিস্যার লাইগ্যা আমরা ত্যাগ করতে পারি আমাগো সব এথিক্স, আমাগো আত্মা, আমাদের পূর্বপুরুষদের সবরকম প্রচেষ্টা, এমনকি আমাগো ওয়ারিশদের জন্য রাখা সকল সুযোগ সুবিধাও- লেকিন আমাগো ভঙ্গুর অস্তিত্বরে বিরক্ত করা যাইব না। আমাগো নিষ্ঠা নাই, নাই কোনো আত্মাভিমান, না আছে প্রবল উদ্যম। এমনকি আমরা দুনিয়াব্যাপী পারমাণবিক যুদ্ধের বিভীষিকারেও ডরাই না, ইভেন আমরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধরেও অতো কেয়ার করি না। ইতিমধ্যে আমরা গর্তের ভিত্রে শেল্টার লইছি। নাগরিক হিম্মতের পথে পা আগাইতেই আমাদের যত ডর। ভেড়ার পালের বাইরে ডরে এক পাও একলা মাড়াই নাই আমরা- আর রাতারাতি আমাগোরে খুঁইজা পাইলাম ধবলা রুটি ছাড়া, হিটিং গ্যাস ছাড়া, এমনকি মস্কোতে থাকনের ছাড়পত্রটাও বেহাত।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

পলিটিক্যাল স্টাডি সার্কেল দিয়া আমাগোরে তালিম দেওয়া হইছে, আর এভাবেই আমাদের বাকি জীবন কাটানো ভালো- আরামে বসবাস করার এইর’ম আইডিয়ায় আমাগোরে উৎসাহিত করা হইছে। তুমি তোমার পরিবেশ এবং সোশ্যাল কন্ডিশন থেকে পলাইতে পারো না। হরহামেশা চেতনা জীবনের অস্তিত্বরে পরিমাপ করে। কিন্তু আমাদের করার আছেটা কী? আমরা কি এই ব্যাপারে কিস্যু করতে পারি না?

সত্যটা হইল, আমরা অবশ্যই কিছু করতে পারি। মিছা কথা কইয়া আমরা নিজেরাই নিজেগোরে ঠকাইতেছি। তাগোরে সবকিছুর লাইগ্যা ব্লেইম কইরা লাভ নাই, এগুলার দায় আমাদেরই লইতে হবে। কেউ হয়ত খুব-তেরেসে কইতে পারে : আমাদের টুঁটি চাইপা ধরা হইছে। না কেউ আমাগো কথা কানে তোলে না কেউ আমাগোরে পুছে। আমরা কিভাবে তাগোরে শুনতে বাধ্য করতে পারি? তাগো চিন্তা পরিবর্তন কইরা ফেলবো আমরা- এইটা তো অসম্ভব।

আমাদের দেশে ইলেকশনের অইরকম পরিস্থিতি নাই- কিন্তু ফিরা নির্বাচন দিয়া তাগোরে খেদাইতে পারলে মেবি বিষয়টা স্বাভাবিক হইত। স্ট্রাইক, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ- এইগুলা পশ্চিমের লোকদের জানা আছে, কিন্তু আমরা নিপীড়িত। এইটা তো আমাদের কাছে ভয়ানক এক্সপেকটেশন যে, হুট কইরা একজন ক্যামনে চাকরী ছাইড়া দিয়া রাস্তায় নাইমা যাইতে পারে? এছাড়াও গত শতাব্দীর রাশান ইতিহাসের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে নমুনা হিশাবে আরো কিছু ডেঞ্জারাস ওয়ে আছে আমাগো সামনে। যাইহোক, এগুলা আমাদের জন্য না। আর সত্যি কইতে কি এগুলার আর দরকার নাই। কুড়াল মারার কামকাইজ শেষ হইয়া যাওনের পর যে বীজগুলা বোনা হইছিল অইগুলা জাইগা উঠতেছে। যেসব পোলাপান আর অহংকারী বেকুব লোকেরা এইটা ভাবছিল যে সন্ত্রাস, রক্তাক্ত ক্যু আর সিবিল ওয়ারের ভিতর দিয়া দেশটারে তারা সুখের নহরে ভাসাইয়া দিবে, তারা যে কি পরিমাণ দিশাহীন আর গলদ ধান্দার ফাঁপরে আছিল এইটা আমরা এখন দেখতে পাইতেছি। নবজাগরণের আব্বারা, আপনাগো পদে পদে সেলাম। আমরা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাইতেছি যে, মন্দ কাম মন্দ ফলেরই জন্ম দেয়। এরপরও আমরা চাই আমাগো হাতগুলা সাফসুতোর থাকুক! এই চক্করের কি এইখানেই শেষ? এইটা থেকে বাইর হওনের আর কি কোনো রাস্তা নাই? কোনো অ্যাকশন না নিয়া আচম্বিত কিছুর লাইগ্যা অপেক্ষা করা – আমাদের হাতে কি সেরেফ এই একটা উপায়ই বাঁইচা আছে? এইটা কখনোই সম্ভব হইব না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা নিজেগোরে মিছা কথার চক্কর থেকে আলাদা করতে পারমু। Continue reading

আবিদ আজাদের কবিতা

‘৭০-এ বাংলাদেশে ‘কবিতা’ হয় নাই, শ্লোগান হইছে – এইরকমের একটা প্রপাগান্ডা চালু আছে বাজারে আর আবিদ আজাদ হইতেছেন এর মেইন ভিক্টিম। আবিদ আজাদের কবিতা পড়লে উনার কবিতারে কেন এক রকমের ‘পাতলা’ হিসাবে ট্যাগ দেয়া হইছে সেইটা এক রকম আন্দাজ করা যাইতে পারে। এক হইলো, সংস্কৃত শব্দ বা জিভ দিয়া দাঁত ছুঁইতে হয়, এইরকম ওয়ার্ড অলমোস্ট মিসিং উনার কবিতায়, যেইটারে ‘কবিতা’ বইলা পারসিভ করতে পারি আমরা। দুসরা হইলো, উনার কবিতার জায়গা’টা। আল মাহমুদ যেইভাবে কলকাতার দেখা বাংলাদেশের ‘গ্রাম-বাংলা’রে আপহোল্ড করতে পারছেন বা শহীদ কাদরি ইউরোপিয়ান একটা শহর-ধারণারে, সেইটা কমবেশি মিসিং আবিদ আজাদের কবিতায়; উনি এমন একটা পারসোনালিটি থিকা কথা কইতেছেন, যে কিনা মফস্বল থিকা আসছে, ঢাকা শহরে থাকতেছে আর কলকাতার কোন ড্রিম ছাড়াই (কেমনে পসিবল!)।

কিন্তু আবিদ আজাদ নিজে খুব কনশাস আছিলেন এই জায়গাগুলি নিয়া, এইটা মনেহয় নাই। ‘কবি’ আইডেন্টিটি’টা স্টিল উনার কাছে ‘ফেইলওর’ একটা ঘটনাই; একটা সোসাইটিতে উনি ‘কবি’ হয়াই বাঁচতে চাইছেন আর মরতেও চাইছেন কবি হওয়ার বেনিফিটগুলি নিয়াই।

কবি আবিদ আজাদের কবিতাগুলি আবার পড়ার সাজেশন হিসাবে কয়েকটা কবিতা রাখা হইলো এইখানে।

ই. হা.

………………………………………………………………………………………

।। তোমার জন্য বহুকষ্টে ।। ভয় ।। চুমু ।।  যে শহরে আমি নেই আমি থাকব না ।। অভিজ্ঞতা ।। ভ্রমণকাহিনী ।।  কোনো মহিলার জন্য এগারোটি প্রেমের কবিতা ।। উড়ে যাবে র্তকে বহুদূর ।। গোলাপ-প্রসঙ্গ ।। ডালিমের নিজস্ব সংবাদ ।। তোমাদের উঠোনে কি বৃষ্টি নামে? রেলগাড়ি থামে?  ।। বৃষ্টির ফোঁটা ও পাতাবাহার গাছ নিয়ে ।। মোরগ ।।  বোতাম ।। কাটপ্রোজ বা চিলতে গদ্য সিরিজের কবিতা ।।  স্পষ্ট হচ্ছে ।।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

………………………………………………………………………………………

 

তোমার জন্যে বহুকষ্টে

তোমার জন্য বহুকষ্টে ফুটেছি লাল টবে
ও ফুল তুমি তুলতে আসবে কবে?

বাতাসে মুখ তুলে কাঁপি রোজ সাময়িক ডালে-
আমার কাঁটা স্বপ্ন দেখে সুন্দর দস্তানাপরা
তোমার দুটি আসন্ন হাত প্রিয়
স্বপ্ন দেখে কীটদষ্ট অযত্নে ডালটিও।

নতুন ভাগ্য লিখে দিয়ো গাছপালাদের একাকী কপালে
দাঁড়িয়ে তুমি তুলবে যখন আমায়
তোমার ভুলোমনের ঝুঁটি ধরে
ঢুকব আমি অসম্ভবের জামায়।

তোমার জন্য বহুকষ্টে ফুটেছি লাল টবে
ও ফুল তুমি তুলতে আসবে কবে?

 

ভয়

ভয় করে…

খালাম্মা, তোমার গন্ধে ঘুম আসে না যে!
এখন ওপাশ ফেরো, অন্যদিকে মুখ করে শোও।
তোমার ভিতরে কী যে হাওয়া কী যে জ্যোৎস্না কী যে নোনা বাদাড়ের ঘ্রাণ!
ভূতের পায়ের মতো শোঁ শোঁ শব্দে বড়-বড় পাতা ঝরে,
তোমার চোখের মধ্যে লণ্ঠনের শিখা নাচে কেন?
তুমি কি খেলার মাঠ? চিলেকোঠা?  খোসাহীন বাদামের ছড়াছড়ি?
উদামবুদাম শরীরে তোমার কী যে তাপ! কী যে জ্বর!
আমাকে এমন করে কেন তুমি জাপটে ধরেছ?
আমি কি শিমুল ফুল? লেপের ভিতর শীত? দলামচা বালিশ?
খালাম্মা, তোমার বুকে সরিষা ফুলের গন্ধ! চড়ুইয়ের পাখার ভিতরকার ওম!
তোমার নাকের কেশরের তাপে আমি পুড়ে যাব… পুড়ে যাব…
আমি পুড়ে ছাই হয়ে গেলে তুমি কি ফুঁ দিয়ে বাতাসে উড়িয়ে দেবে সেই ছাই?
খালাম্মা, আমার ভারী ভয় করে, আমাকে নামিয়ে রাখো পাশে-

মা দেখলে বকবে না?

 

চুমু

চুমুর টিলায় দাঁড়িয়েছিলাম
মনে আছে, মনে?
দুলল আকাশ দুলল পাতাল
পায়ের নিচের পৃথিবী মাতাল
মনে আছে, মনে?
কেবল আমরা টলিনি দুইজনে।

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →