Main menu

এইটা একটা পাইপ না – মিশেল ফুকো (১)


পাইপ দুইজন

পয়লা ভার্সনটা, আমার যত দূর মনে পড়ে: একটা যত্ন নিয়া আঁকা পাইপ, নিচে (মক্তব থেকে নেওয়া লেখার ধাঁচে, ইশকুলের ছাত্রর নোটবুকের মলাটে যেম্নে লেখা থাকে, নাইলে জিনিসপত্র চিনানের ক্লাসের শেষে ব্ল্যাকবোর্ডে যেমন ধাঁচে লেখা হয়, এমন বানোয়াট একটা ধাঁচে, কষ্ট করে, মজবুত হাতে) একটা নোট লেখা: “এইটা পাইপ না”।

অন্য ভার্সনটা — মনে হয় একেবারে শেষেরটা — Aube à l’Antipodes-এ গেলে দেখা যাবে। একই পাইপ, একই এজহার, একই হাতের লেখা। কিন্তু বেতরফা [নিরপেক্ষ], সীমাছাড়া, অনির্দিষ্ট জায়গায় পাশাপাশি বসার বদলে লেখা আর তছবির দুইটাই একটা ফ্রেমের ভিত্রে রাখা। ফ্রেমটা নিজে আবার একটা ইজেলের উপ্রে রাখা, ইজেল আবার গিয়া ঘরের মেঝের তক্তাগুলার উপ্রে বসা, তক্তাগুলাও পষ্ট দেখা যাইতেছে। সব কিছুর উপ্রে, ছবির মতই হুবহু একটা পাইপ, কিন্তু বহুত বড়।

পয়লা সংস্করণটা নিজেরই কটকটা সহজামি দিয়া আমরারে অসোয়াস্তিতে ফালায়। দুই নম্বরটা আমরার চোক্ষের সামনে ইচ্ছা করে বানানো আবছালিরে [Ambiguity] বহু গুণ করতে থাকে। ইজেলের গায়ে ঠেস দিয়া কাঠের পায়াগুলার উপ্রে দাঁড়ায়া ফ্রেমটা বুঝাইতেছে যে এইটা একজন পেইন্টারের পেইন্টিং: একটা কামেল কাম, কোনো এক দর্শকের লেইগা লেখাটা-সহ খাড়া কইরা রাখা, লেখাটা ওই পেন্টিংয়ের উপ্রে কমেন্ট করবে বা দর্শকেরে বুঝায়া দিবে। তার পরও এই মাসুম হাতের লেখা যেইটা না ঠিক পেন্টিংটার টাইটেল না আবার এর ছবির কোনো অংশ; শিল্পী হাজির থাকার অন্য কোনো হদিসের গরহাজিরি; গোটা আয়োজনটার খসখসা অবস্থা; মেঝের পাশ পাশ [wide] তক্তা — সব কিছু কইতে চাইতাছে এইটা কোনো ক্লাসরুমের একটা ব্ল্যাকবোর্ড। হয়তো এক্ষনই মুছনির এক মোছা চিত্র আর লেখা দুইটারেই মিটায়ে দিবে। হয়তো “ভুল”টারে (আসলেই পাইপ বাদে অন্য কিছু কিছু একটা এঁকে, নায়লে এইটা আসলেই একটা পাইপ কইয়া এলান করে এমন কোনো বাক্য লেখে) সোধরানের লেইগা কোনো একটা বা অন্যটারে মিটায়ে দিবে। একটা সাময়িক প্যাঁচাল— (“ভুল-লেখালেখি” যেইটা থেকে ভুল-বোঝাবুঝি হইসে বোঝা যায়)-রে ওই এক পোছেই সাদা ধুলা বানায় উড়ায়া দিবে?

কিন্তু এরপরেও এইগুলা সবচেয়ে পাতলা কিসিমের আবছালি; এগুলা বাদে আর কয়েকটা দেখা যাক। পাইপ এখানে দুইটা। নাকি কওয়া উচিত হবে, একই পাইপের দুইটা ড্রয়িং? নাকি আবার একটা পাইপ আর ওই পাইপের ড্রয়িং, আবার নায়লে দুইটা আলাদা পাইপরে রিপ্রেজেন্ট করে এমন আলাদা দুইটা ড্রয়িং? কিংবা দুইটা ড্রয়িং একটা কোনো পাইপরে রিপ্রেজেন্ট করে আরেকটা করে না, নাকি আবার দুইটা ড্রয়িং যার এইটা বা ওইটা কোনোটাই পাইপ বা পাইপরে রিপ্রেজেন্ট করে না? নাকি আবার, কোনো পাইপরে রিপ্রেজেন্ট করার বদলে অন্য একটা ড্রয়িংরে রিপ্রেজেন্ট করে যেই ড্রয়িংটা আবার একটা পাইপরে এত ভালো রিপ্রেজেন্ট করে যে আমি নিজেরে না জিগায়া পারি না: পেন্টিংয়ের মধ্যে লেখাটার সম্পর্ক কিসের সাথে? “ব্ল্যাকবোর্ডে সাজানো লাইনগুলা দেখো — এগুলার উপ্রে যেইটা দেখানো হইতেছে ওইটারে এরা নূন্যতম পাও না হড়কায়ে বা নাফরমানি না করে নকল করতেছে। ভুল কইরো না য্যান; পাইপটা হইলো উপ্রে, এই ছেলেমানুষি হিজিবিজির ভিত্রে না।”

আর নায়লে হয়তো বাক্যটা সোজা ওই বে-সাইজ, ভাসমান, পরম পাইপখানের — মানে পাইপের সহজ খেয়াল বা খোয়াবের দিকে আঙুল দেখায়তেছে। তায়লে আমরার পড়া উচিৎ, “সত্যিকার পাইপ দেখনের লেইগা উপ্রে চাইও না। ওইটা একটা পাইপ স্বপন। পেন্টিংয়ের ভিত্রের পোক্ত এবং পইপই করে আদল দেওয়া চিত্রটারেই সাক্ষাত সত্য কয়া মেনে নিতে হইব।”

এর পরেও ব্যাপারটা আমার চোখে লাগে যে, চিত্রের মধ্যে — ব্ল্যাকবোর্ডে না ক্যানভাসে যে ছাইয়েই হোক গিয়া — যেই পাইপরে রিপ্রেজেন্ট করা হইসে, এই “নিচা” পাইপটারে প্রস্থ (লেখা বাক্যটা, ফ্রেমের উপর আর নিচের বর্ডার দুইটা), লম্বাই (ফ্রেমেরে দুই সাইড, ইজেলের পায়া), আর গভীরতা (মেঝের তক্তার মাঝে মাঝে ফাঁকগুলা) দিয়া দেখার লায়েক একটা স্থানাঙ্কের ভিত্রে শক্ত করে আটকায় দেওয়া আছে। একটা পোক্ত জেল। উল্টা দিকে উঁচা পাইপটার কোনো স্থানাঙ্ক নাই। এর বিশাল সাইজ এর অবস্থানরে অনিশ্চিত করে দেয় (Tombeau des lutteurs-এ দানবীয় আকার সবচেয়ে ভালো সীমানা-বান্ধা জায়গার মধ্যে আটকায়ে যাওয়া থেকে যেই ভাবটা বাইরয়া আসে, এইখানে তার উল্টা ভাবটা পাওয়া যায়)। এই বে-সাইজা পাইপটা কি পেন্টিংটার সামনে আঁকা, যার মানে পেন্টিংটা আরো পেছনে বইসা আছে? নাকি আসলেই এইটা একেবারে ইজেলের বরাবর উপরে লট্কায় আছে, একটা ভাপ বা কুয়াশার মতন, পেন্টিংটা থেকে এই মাত্র আল্গা হইতাছে — পাইপের ধোঁয়ায় (La Bataille de l’Argonne-এ ধোঁয়াসা আর কঠিনের মধ্যে যেমন উপমা আর তফাতের খেল দেখা যায় ওই খেলার নিয়মে) পাইপের আকার, গোলগাল ভাব নিয়া পাইপের বিরোধিতা করতেছে আবার পাইপরে রিপ্রেজেন্টও করে যায়তেছে? অথবা শেষমেষ আমরার ধরে নেওয়া কি উচিত না যে, ওই পাইপটা ইজেল আর পেন্টিংটার থেকে পেছনের দিকে ভাসতেছে, যেমন দেখায়তেছে আসলে তার চেয়ে আরো বিরাট? সেই ক্ষেত্রে ত এর উপড়ায় আসা গভীরতাটা, ক্যানভাস (বা প্যানেল)- ফাটায়া দিতে থাকা ইনার ডাইমেনশনটা আস্তে আস্তে, কোনো রেফারেন্স পয়েন্ট পাওয়া যায় না এমন এক জায়গায়, উইঠা আইসা অসীমতক ফেপে উঠতেছে? Continue reading

শেষ খুতবা (১৯৭৬) – আবদুল হামিদ খান ভাসানী

[১৯৭৬ সালের ২৮শে নভেম্বরে মক্কায় হজ্জ্বে মওলানা ভাসানী’র এই খুতবা পড়ার কথা ছিল। ১৮ই নভেম্বর হজ্জ্বের জন্য ঢাকা ছাড়ার কথা ছিল উনার। কিন্তু ১৭ই নভেম্বর সন্ধ্যায় মওলানা ভাসানী মারা যান। পরে উনার এই লেখা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রজেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান বজলুস সাত্তার ও অন্যতম সদস্য মওলানা মুহিউদ্দিন খান আরবী ভাষায় অনুবাদ কইরা লিফলেট হিসাবে হাজীদের কাছে বিতরণ করেন। ১৯৭৭ সালের ৭ই মে, হক-কথা পত্রিকায় এই লেখা ছাপানো হয়।]

॥ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ৷৷

প্রিয় ভাই ও বোনেরা,

আজকের এই মহান দিনে পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকা হইতে একই মহান উদ্দেশ্যে, একই পোষাকে একই তৌহিদের তারানা মুখে, আল্লাহর একত্ববাদের মহিমা প্রচারার্থে তাঁরই ডাকে সাড়া দিতে আজ আমরা এখানে সমবেত হইয়াছি। আজ সর্বত্র সবারই মুখে একই ধ্বনি উচ্চারিত হইতেছে, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।” অর্থাৎ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নাই। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং যাবতীয় প্রশংসা তাঁহারই।

আজ আর আমাদের মধ্যে আরবী, আজমী, সাদা কাল, প্রাচ্য প্রতীচ্যের কোন ভেদাভেদ নাই। আজকের এই মহান দিনে সব রকমের ভেদাভেদ ও বৈষম্যের অবসান ঘটিয়াছে। আমরা সবাই এক রব্বুল আলামীনের বান্দা আর তিনিই আমাদর সকলের কর্তব্য ও দায়িত্ব পবিত্র কোরআনে নিরূপণ করিয়াছেন : ইন্নামাল মুমেনুনা ইখওয়াতুন ফাসলেহু বায়না আখাওয়াইকুম ।

ভাইসব,
গত দুই শতাব্দীর শোষণ, নির্যাতন, অত্যাচার ও উৎপীড়নের কালোরাত্রি পাড়ি দিয়া আজ আমরা এক নূতন দিনের সুবেহ সাদেক প্রত্যক্ষ করিতেছি। এখন আমরা আর ইহুদী, হুনুদী ও নাসারাদের শাসিত পরমুখাপেক্ষী সম্প্রদায় নই ।

মুসলিম জাতীয়তাবাদের ভিত্তি যদিও তওহীদ, তথাপি ইসলামের শত্রুদের ষড়যন্ত্রে ১৯১৭ সনে খেলাফতের বিলুপ্তির পর খেলাফতের ভৌগোলিক ভিত্তিতে বিশ্বে যে ৪৬টি স্বাধীন সার্বভৌম মুসলিম রাষ্ট্রের উদ্ভব হইয়াছে তাহাদের সীমারেখার ভিতর অবস্থিত আল্লাহ প্রদত্ত তেল ও খনিজ সম্পদের বদৌলতে বর্তমান দুনিয়ার সম্পদের সিংহ ভাগ আজ মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে। এই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রবুবিয়াত প্রতিষ্ঠা করার জন্য তৃতীয় বিশ্বের নেতৃত্ব মুসলমানদিগকেই নিতে হইবে। তাই মুসলিম জাহানকে নতুন দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হইয়া মানুষে মানুষে সবরকম অসাম্য ও অনৈক্যের দুর্লঙ্ঘ্য প্রাচীর চূর্ণ বিচুর্ণ করিয়া সকল রকম শোষণ শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটাইয়া সারা দুনিয়াতে শান্তি স্থাপনের জন্য রাব্বুল রবুবিয়াতের আদর্শে প্রকৃত সাম্যবাদ কায়েম করিতে হইবে। Continue reading

আমরা কি ক্ষমতার নতুন সিনেমাটিক রিয়েলিটিতে প্রবেশ করতেছি কিনা?

ফিকশন হ্যাজ দা স্ট্রাকচার অফ ট্রুথ- লাঁকা

পর্তুগিজ রাইটার হোসে সারামাগোর বিখ্যাত ডিস্টোপিয়ান উপন্যাস ‘ব্লাইন্ডনেস’। ব্লাইন্ডনেসের প্লট হইতেছে এমন যে, হঠাৎ কোন কারণে কোন এক শহরের লোকজন অন্ধ হইতে থাকে। ধীরে ধীরে সংক্রামক রোগের মত ছড়ায়া পড়ে। কোন কারণ ঠিক বোঝা যায় না। কাইন্ড অফ মহামারীর মত। তবে অন্ধ লোকেরা অন্ধকার দেখে না, বরং সব কিছু সাদা দেখে।

সরকার প্যানিকড হয়ে এইসব লোকজনের কোয়ারিন্টিনের ব্যবস্থা করে। ধীরে ধীরে সোসাইটির যে সাইকি, তা এংজাইটি ইত্যাদিতে ভেঙে পড়তে থাকে। অর্থাৎ না দেখলে, আমরা কোন ট্রাস্টেড রিয়েলিটি তৈরি করতে পারি না।

‘ব্ল্যাক ব্যাগ’ (২০২৫) স্টিফেন সদারবার্গের স্পাই থ্রিলার। পিওর থ্রিলার।

কয়েকজন স্পাই বা সিক্রেট এজেন্টদের মধ্যকার বিট্রেয়ালের ঘটনা। তারা একই এজেন্সিতে কাজ করে। তাদের চাকরির একটা শর্ত হইতেছে, তারা ওই এজেন্সির বাইরে ডেট বা বিয়ে করতে পারবে না। মাইকেল ফেসবেন্ডার এবং কেট ব্লাঞ্চেট ওইরকম দুইজন বিবাহিত স্পাই।

এই রকম পাঁচজন স্পাই বা এজেন্টদের নিয়েই সিনেমা। তারা ডেট বা বিয়ে করলেও একে অপরের কাজকর্ম সবকিছু শেয়ার করতে পারে না। যেইটা শেয়ার করবে না বা করা যাবে না-সেই জায়গায় পার্টনার প্রশ্ন করলে, তারা উত্তর দেয় ‘ব্ল্যাক ব্যাগ’। অর্থাৎ ওই বিষয়ে আর আলাপ নাই।

অর্থাৎ এমন একটা পরিবেশ, যেইখানে আপনি আপনার পার্টনারকে কমপ্লিটলি জানতে পারবেন না। কোনটা আসলে ব্ল্যাক ব্যাগ আর কোনটা তার পার্টনার সুবিধা অনুযায়ী ব্যবহার করতেছে, তা বোঝা মুশকিল। ফলে, ফিলোসোফিকালি এই পরিবেশকে এক রকম রিকগনাইজড ব্লাইন্ডনেস বলতে পারেন। সিনেমা কোন দার্শনিকতার মধ্যে হাঁটে নাই। টিপিক্যাল ভালো থ্রিলার।

যাই হোক, এই পরিবেশ হইতেছে এমন একটা ব্যবস্থা, যেইখানে আপনার পার্টনার সম্পর্কে আপনি আপনার কৌতূহল মেটাইতে পারবেন না।

জানতে পারবেন না। এইরকম পরিস্থিতিতে, আপনি কেমনে সারভাইভ করবেন? Continue reading

মুশকিলের নাম পিনাকি ইলিয়াস

This entry is part 18 of 18 in the series রকম শাহ'র বয়ান

জুলাই রেভলুশনের একটা এস্কেচ বানাবার খায়েশ আছিলো মনে, তা আর হইলো কই 🙁 ! এইখানে বেশ মাঝখান থিকা আতকা কতোগুলা কথা লেইখা রাখতে চাইতেছি, পরে কখনো ঐ খোয়াব পুরন করতে পারলে এই লেখাটা কামে লাগবে খুব শম্ভব!

রেভলুশনের এস্কেচ করার বেলায় একটা ছেন্ট্রাল রিছার্চ কোশ্চেন আছে আমার–আমি রেভলুশনের শহিদদের ‘ওয়াচলিস্ট’ জানতে চাই, মানে পেরাইভেছির উপর হামলা করতে চাইতেছি না, জাস্ট তাদের পলিটিকেল কনশাছনেছ বুঝতে চাইবো আমি এবং শেই কনশাছনেছের লগে তাদের ওয়াচ-লিস্টির একটা রিশতা আছে বইলা আন্দাজ করতেছি আমি! এই রিছার্চটা আর কেউও করতে পারেন, মুভমেন্টের গাজিদের ইন্টারভিউ এই ব্যাপারে কামে লাগতে পারে; মানে গাজিদের ওয়াচ-লিস্টি দিয়া শহিদদের ব্যাপারে আরেকটু মজবুত আন্দাজ করা জাইতে পারে!

এনিওয়ে, আবু সাইদ শহিদ হবার পরে, জুলাইতে হাসিনার কার্ফু শুরুর ঠিক আগে আমি বাড়িতে আইশা আটকা পড়ছিলাম, বরিশালে কাদানে গ্যাশও খাইয়া আশতে হইছে।

কার্ফু শুরুর পরে ঢাকা থিকা এক দোস্ত ফোন দিলো, মোহাম্মদপুরে ঐ দোস্ত রাস্তায় আছিলো মুভমেন্টে; বেশ আপছেট শে, এমন কইলো–ভাই, পারলাম না তো, শয়তানটা তো টিকা গেলো! আমি কইলাম, আমরা জানি না ওস্তাদ, এখনো ডিছিশন নেবার টাইম হয় নাই; এই কার্ফুর ব্যাপারে দেশের আমজনতা কেমনে রিয়েক্ট করে, তার উপর ডিপেন্ড করে বাকিটা!

ইন্টারনেট ফেরার পরে আরেক দোস্ত ফোন কইরা কইলো–ভাই, তুহিনেরে থামান, মাইনা নিতে কন জে, আমরা হাইরা গেছি 🙁 ! তারে কইলাম এমন: আমি আপনে জাই না, নামি না, ডরাই হয়তো, কিন্তু জারা ময়দানে গেলো, নামলো, এখনো আছে, তাদের এই থাকার অর্থ আছে ইতিহাশে; কেউ না কেউ মরবে, হাসিনা মারবেই, আমাদের চেনা লোকগুলারে বাচাবার বাড়তি ইচ্ছাও হবে আমাদের, কিন্তু নিজেদের না নামা জাস্টিফাই করতে ময়দানের লোকজন ডাইকা ঘরে তুলবো না! ওদের এই নামার কি অর্থ ইতিহাশে, আমরা এখনো জানি না, হয়তো হাইরা গেছি আমরা, কিন্তু থামাবার চেশ্টা করবো না আমি।

তো, ঢাকা ভার্ছিটির হল থিকা ছাত্রলিগ খেদাইলো ‘বৈশম্ম বিরোধি’ ইস্টুডেন্টরা; তারপর হাসিনা ঢাবি দখল করলো আবার, ইস্টুডেন্টদের বাইর কইরা দিলো হল থিকা। ঢাবি থিকা ছাত্রলিগ খেদাইয়া দেওয়া তক ইতিহাশ কিন্তু আগেই আগাইছে, শেই ২০১৮ শালেই নুরুরা ঐটা করতে পারছিলো, অতোটা শামাল দিতে পারে হাসিনা, ২০১৮ শালেই শেইটা পারার নজির আছেও তার। ফলে এইবার ইতিহাশ আরো আগাবার দরকার হবেই, নাইলে হাসিনার কিছু হবে না, নামাইতে পারবো না আমরা, হিশাব এইখানে বেশ শোজাই।

২০১৮ থিকা এইবারের তফাত হইলো, এইবার, এই ২০২৪ শালে ইস্টুডেন্টদের হাত থিকা ডিউটি নিজেদের হাতে নিয়া নিছে দেশের আমজনতা! এতোটাই নিছে জে, কার্ফু দিতে হইছে হাসিনার।

কিন্তু হাসিনার কার্ফু মানে নাই আমজনতা; ঢাকার জাত্রাবাড়ি, উত্তরা, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর এবং চিটাগাঙের কথা এস্পেশালি কইতে হইলো আমার, ঠিকঠাক রিছার্চ আমার নাই বইলা দেশের বাকি এলাকার কথা আমার মাথায় নাই ততো, আপনারা আরো অনেক এলাকা/শহরের কথা জানেন আলবত। কিন্তু ঐ ৫টা এস্পটই কাফি, ছাত্রজনতার উপর পাইকারি গুলি চালাইছে হাসিনা, কিন্তু কার্ফু মানাইতে পারে নাই। আমার আগ্রহ হইলো, এরা কারা? কার্ফু ভাংগার এই হিম্মত, বেশুমার শহিদি জোশের জেই পলিটিকেল কনশাছনেছ, এইটা কেমনে পয়দা হইলো!? Continue reading

আমার জীবন দর্শন – আমাদের শক্তির উৎসঃ কোরান ও রসূল (মাহবুব-উল আলম)

[মাহবুব-উল আলম এর ‘রঙবেরঙ’ বই থিকা লেখাটা নেয়া হইছে]

ইতিমধ্যে আমাকে অনুরোধ করা হয়েছে আমার জীবন দর্শন ব্যক্ত কর্তে।

সত্য দৃষ্টি

কোরানে তিন রকমের দৃষ্টির কথা বলা হয়েছে: জড়-দৃষ্টি, বৈজ্ঞানিক-দৃষ্টি ও সত্য-দৃষ্টি (আয়নুল এক্কিন, এলমুল এক্কিন ও হক্কুল এক্কিন)। এর মধ্যে জড়-দৃষ্টি ও বৈজ্ঞানিক, দৃষ্টি বিষয়টিকে অংশতঃ প্রকাশ করে, একমাত্র সত্য দৃষ্টিই উহাকে সর্বতোভাবে প্রকাশ করে।

জড়-দৃষ্টি দেহের জন্ম-কালেই প্রকৃতির দান স্বরূপ উহার সাথে যুক্ত থাকে, বৈজ্ঞানিক-দৃষ্টি দেহী লেখা-পড়া ও গবেষণা দ্বারা লাভ করে। সত্য-দৃষ্টি লাভ হয় আত্মিক সাধনা দ্বারা এবং আল্লাহতা’লার রহমতের ফলে। সত্য-দৃষ্টি দ্বারা শুধু যে সত্য দর্শন হয় তাহা নহে, চিত্তও স্থিরতা লাভ করে।

কোরানের ডাইমেনশন ফিলজফি

এই ফিলজফি মতে আল্লাহতা’লা মানুষকে সব সময় ডেকে জিগ্যেস কচ্ছেন। ১. কোথায় আছ? ২. কোন সময়ে আছ? ৩. কার সাথে আছ? ৪. কোন উদ্দেশ্য নিয়ে আছ? আমরা এটাকে সহজে ‘স্থান-কাল-পাত্র ও উদ্দেশ্যের ফিলজফি’ বলে বর্ণনা করতে পারি। এগুলোকে একটু বিশদ ভাবে আলোচনা কচ্ছি।

স্থানের ডাইমেনশন

কেয়ামতের প্রথমেই স্থান ধ্বংস হবে। এর অর্থ স্থানই মনুষ্য-জীবনের প্রথম ও প্রধান নিয়ামক।

দুইটি ভিন্ন দেশকে এক ভাবার চেষ্টা ইতিহাসে সব সময়েই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তার সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত পাকিস্তান।

পাকিস্তানে দুইটা অংশের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার মাইল ব্যবধান ছিল। আয়ুব খাঁ ‘প্যারিটী’ বা সংখ্যা-সাম্যের সাহায্যে এই ব্যবধান মুছে দিয়ে দুই দেশকে এক কর্তে চেষ্টা করেন। কিন্তু, অসাম্য দিন দিন আরও বাড়তে থাকে।

আমি তাঁকে বলি: আপনি বরং এক কাজ করুন ছয় মাস পূর্ব পাকিস্তানে রাজধানী করুন, ছয় মাস পশ্চিম পাকিস্তানে রাজধানী করুন। আর ঢাকাকে ২য় রাজধানী বা ‘সাবসিডিয়ারী’ রাজধানী না বলে উভয় রাজধানীর নাম দেন: পূর্বের রাজধানী ও পশ্চিমের রাজধানী অথবা শীতকালীন রাজধানী ও গ্রীষ্মকালীন রাজধানী।

পরে স্থান-অনৈক্যের দরুণই পাকিস্তান ভেঙ্গে যায়।

স্থানের ডাইমেনশন জন্মভূমির মাটির প্রতি মানুষকে অনুগত থাকতে বলে। এরই নাম দেশপ্রেম।

অন্নদাশঙ্কর রায় আমাকে সাহিত্যিক হিসেবে কলিকাতার মঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে চান এবং ব্যবস্থা করে দিতে চান যে আমি হুমায়ূন কবিরের ‘চতুরঙ্গ’ পত্রিকায় লিখি।

আমি তাঁর প্রস্তাব গ্রহণ করিনি। আমার মাটি-মাকে আমি সেবা করে যাব, আমার দেশ তাকে মূল্য দিতে পারুক, আর না-ই পারুক।

১৯৭১ সালের এপ্রিলে পাঞ্জাবীদের আক্রমণ থেকে বাঁচবার জন্যে আমার পরিবারের লোকেরা চট্টগ্রাম শহরের বাড়ী ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র সরে যায়।

কিন্তু, আমি আমার মাটিকে ছাড়তে অস্বীকার করি, একা পড়ে থাকি।

দেশের প্রতি ভালবাসার জন্যে যে মূল্যই চাওয়া যাক, সেটা আমাদের দিতে হবে। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →