Main menu

[জুলাই রেকর্ডস] ওরা (ছাত্রলিগ) ডাইরেক আমাদের টার্গেট করে মারসে… ওরা আমাদের মেরে ফেলতেই চাইসে

This entry is part 1 of 2 in the series জুলাই রেকর্ডস

[জুলাই রেকর্ডসের পক্ষ থিকা সারাদেশে জুলাই আপ-রাইজিংয়ে আহত ও নিহতদের আত্মীয়-স্বজনদের অডিও ও ভিডিও ইন্টারভিউ নিতেছেন কয়েকজন; উনাদের ইন্টারভিউ’র কয়েকটা আমরা বাছবিচারে ছাপাবো… এইখানে জানুয়ারি মাসে নেয়া শেফায়েত কাদের সাজ্জাদের ইন্টারভিউ’র ট্রান্সক্রিপ্ট পাবলিশ করা হইলো, যিনি চিটাগাংয়ের বা‍ঁশখালি’তে ছাত্রলিগরে গুলিতে আহত হইছিলেন…]

আমরা জুলাই রেকর্ডস থেকে জুলাইয়ের শহিদ পরিবার আর আহতদের ইন্টারভিউ নেওয়ার প্ল্যান নিয়ে মাঠে নামি ডিসেম্বরের শেষের দিকে। জানুয়ারির শুরুর দিকে সাজ্জাদ ভাইয়ের ইন্টারভিউটা নিই আমরা। সাজ্জাদ ভাই একদম ১ম দিকের ইন্টারভিউই হওয়াতে উনার ঘটনাটা আমাদেরকে টাচ করছিল অনেক। দেশের আনাচে কানাচে জুলাইয়ে মানুষের ত্যাগ আর স্ট্রাগলের কথা কাছ থেকে জানতে শুরু করছি তখন মাত্র।

ওইদিন জুমার নামাজের পর এলাকার এক চায়ের দোকানে আমি, সুলাইম মাহমুদ আর খোবাইব হামদান, সাজ্জাদ ভাইকে নিয়ে বসি ৩ জানুয়ারি, ২০২৫; কল্পলোক আবাসিক, বাকলিয়া, চট্টগ্রামে। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে উনি উনার এবং উনার এলাকার জুলাইয়ের জার্নির বর্ণনা আমাদেরকে দেন।

কাজী ওয়ালী উল্লাহ

কাজী ওয়ালী উল্লাহ: আপনি আন্দোলনে কিভাবে জড়াইলেন? ইন্সপিরেশন কোথা থেকে পাইলেন?

শেফায়েতুল কাদের সাজ্জাদ: প্রথম প্রথম যখন কোটা আন্দোলন শুরু হলো তখন আমরা ফেসবুকে লেখালেখি করতেসি কিন্তু আন্দোলনে যাবার সাহস পাচ্ছি না কারণ কার মাধ্যমে যাব এটার লিংক পাচ্ছিলাম না ৷ মুগ্ধ শহিদ হওয়ার অনেক দিন পর আমরা বন্ধুরা মিলে প্ল্যান করলাম, শহরে চলে যাব ৷ আন্দোলন করব ৷ আমাদের বাড়ি হলো পশ্চিম বড়গুনায় ৷ আন্দোলনের সময় আমরা গ্রামে ছিলাম ৷ আমাদের ওখান থেকে অনেক পোলাপান না বলে শহরে চলে গেসে আন্দোলনে যোগ দেবার জন্য ৷ পনের জনের বেশি হবে ৷ আমি একদিন কোচিংয়ে যাচ্ছিলাম দিদার স্যারের ৷ তখন আমি গুনাগরী কলেজের একটা গ্রুপে মেসেজ পেলাম, বাঁশখালি থেকে একটা মিছিল বের করার।

ওয়ালী: তখন কত তারিখ ছিল?

সাজ্জাদ: এক্সেক্ট তারিখটা ত মনে নাই ৷ তবে আগস্টের চার তারিখের তিন চার দিন আগে হবে৷ বা তখন সময়টা জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরু৷

ওয়ালী: আপনাদের ওখানের ছাত্ররা কি তখন শহরে চলে গেছিল?

সাজ্জাদ: হ্যা, তখনই চলে গেসে ৷

ওয়ালী: ক্র্যাকডাউনের আগে কি অবস্থা ছিল?

সাজ্জাদ: তখনও আমরা তেমন সজাগ ছিলাম না ৷

ওয়ালী: বাইতুশ শরফের (দেওয়ানহাট, চট্টগ্রাম) কথা বলছেন যে সেটা কখন?

সাজ্জাদ: তখন আসলে আমরা আন্দোলনের ব্যাপারে তেমন কিছু জানতাম না ৷ বাঁশখালিতে তখন আন্দোলন বিষয়ে কোনো কথা ওঠে নাই ৷ এমনিতে সেই সময়টাতে আমি শহরে গেছিলাম একবার ৷

ওয়ালী: তখন শহরে থাকা অবস্থায় কি আন্দোলনে গেছিলেন?

সাজ্জাদ: না, তখন আন্দোলনে যাই নাই কোথাও ৷ বাইতুশ শরফে একজন বন্ধুর বাসায় ছিলাম ৷ কিন্তু পুলিশের ভয় কাজ করার কারণে আমি গ্রামে চলে যাই ৷

ওয়ালী: তারপরে আগষ্টের শুরুতে কি হলো?

সাজ্জাদ: আগষ্টের শুরুতে গুনাগরী কলেজের একটা পেইজ থেকে আমাদেরকে ডাক দিসিল ৷ উনারা বলল, আমরা বাশখালি থেকে একটা আন্দোলন বের করব ৷ আমি তথ্য যতটুকু শুনসি, বাশখালিতে একজন ভাইস চেয়ারম্যান ছিল হোসাইন নামে সে ছাত্রদের সরাসরি হুমকি দিসিল যে, তোরা যদি আন্দোলনে বের হস তাইলে ডাইরেক তোদের গুলি করে খাই ফেলায়ুম ৷ তখন ছাত্ররা আর সাহস পায় নাই৷ দুই থেকে তিনদিন চলে গেসে ৷

ওয়ালী: আপনারা আপনাদের বাজারে নামতে চাইসিলেন মিছিল নিয়ে?

সাজ্জাদ: হ্যা ৷ আগস্টের তিন তারিখ রাতে একটা মেসেজ আসলো, আমরা সবাই আন্দোলনে যাব চাম্বলবাজার থেকে, যারা বরগুনার আছে, বাশখালির আছে তারা চাম্বল ক্লাব থেকে শুরু করবে ৷ শেখেরখিলের যারা আছে তারা শুরু করবে রাস্তার মাথা থেকে আর জলদি বা গুনাগরী বাজার থেকে যারা যাবে তারা টাইমবাজার থেকে শুরু করবে ৷

ওয়ালী: এই জায়গাগুলার দূরত্ব কি বেশি, নাকি কাছে?

সাজ্জাদ: তিনটা জায়গার দূরত্ব হবে এখান থেকে (কল্পলোক আবাসিক) নতুন ব্রিজ পর্যন্ত। মানে তিন রাস্তার মোড়ে আসব আমরা, চকরিয়া আর কক্সবাজার ৷ (আমরা আন্দোলন নিয়ে চকরিয়া, কক্সবাজার তিন রাস্তার মোড়ে আসব৷) আমরা সবাই একত্রিত হব চাম্বলবাজারে৷ আমরা সবাই এসে ফাহিম-ক্লাবে অবস্থান নিসি, তখন দুইটা বা আড়াইটা হবে ৷ আমাদের অংশে ছিলাম তিনশ জনের বেশি ৷ তখন শেখেরখিলের একজনের সাথে আমাদের লীড দিচ্ছিলো যেই ভাই উনার সাথে যোগাযোগ হইলো, শেখেরখিলের ভাইটা বলতেসিল, আমরা সবাই জড়ো হইসি, রেডি আছি এখন মিছিল নিয়ে আসব ৷ Continue reading

তাগুদি শাশন

ভাশা এবং অর্থের ইতিহাশ দিয়া ভাবলে মাফিল মানে জে কোন মশলিশই হইতে পারতো, একটা জমায়েতে জে কোন ব্যাপারে বয়ান করতেছেন কেউ, তারেই আমরা মাফিল কইতে পারতাম। কিন্তু বাংলাদেশে মাফিলের অর্থ এখন খাড়াইছে– ছেরেফ ইছলামি বয়ানের জমায়েত! শব্দের ভাব বা অর্থ বাংলায় এমনই ছোট হইয়া গেছে গজলের। গজল ব্যাপারটা জেই লিটারারি টেডিশন থিকা আশছে, তাতে গজল মানে বেক্তির একান্ত মনের ভাবের পোয়েটিক বিস্তার, একটু উদাশ, বিরহ-পিরিতের পেরায়ই, কখনো বা জিন্দেগির গভির মারেফতি আছান; কিন্তু বাংলায় এখন গজল মানে ছেরেফ ইছলামি গান।

কি আর করা, ভাশা তো এমনই; তো, ঐ মাফিলে আমার অতি পছন্দের একটা জিনিশ হইলো, বয়াতি/ওয়াজিন জখন কোন একটা ব্যাপারে তার বয়ান পেশ করার পরে হাজেরানে মশলিশকে জিগায়, ‘ঠিক কিনা? কথা কন না কেন!’। হাজেরানে মজলিশ চিল্লাইয়া ওঠে, ‘ঠিক ঠিক’!

চোখা নজরে একটু খেয়াল করলেই আমরা বুঝবো জে, ঐ ঘটনার ভিতর দিয়া আশলে কন্ঠভোটের একটা ইলেকশন হইয়া গেল, একটা জেনারেল ডেমোক্রেটিক পার্লামেন্টে জেমন হয়! এমন একটা ইলেকশনে জয়েন কইরা ঐ বয়াতি আশলে পেরায় ২৫০০ বছরের একটা বাহাছে নিজের পক্ষ বাইছা নিলেন। বাহাছটা এখনো চলতেছে এবং বাহাছটা এমন: এলেম বা টুরুথ বনাম পপুলার ভোটের পছিবল ঝগড়া-ফ্যাছাদ কেমনে ফয়ছালা করবো আমরা? ঐ মাফিলে বয়াতি শাহেব কি তাইলে পপুলার ভোটের পক্ষে চইলা গেলেন? হাজেরানে মজলিশ জদি ‘ভুল, ভুল’ কইয়া চিৎকার কইরা উঠতো, তাতে কি টুরুথ বা এলেম মিছা হইয়া জাইতো? এই মুশকিলে শবচে বেশি পড়বেন ধার্মিক লোকেরা; কেননা, তাদের কাছে টুরুথ/এলেম একটা খোদায়ি ব্যাপার, তাতে মানুশ ভোট দিলো কি দিলো না, শেইটা কোন ব্যাপার না; কেননা, খোদা মানুশ বা মানুশের ভোটের আগেই হইয়া থাকা টুরুথ, দুনিয়া ফানা হইয়া জাবে, কেবল খোদা এবং তার এলেম খোদ টাইমের শুরুর আগে থিকা টাইম খতম হবার পর তক শাচ/টুরু/শত্ত! তিনি হইয়া আছেন আগেই–আগেই মানে খোদ টাইম শুরু হবার আগে, বাকি শব তার হুকুমে/মারফতে হয়, থাকে বা নাই হইয়া জায়; কুন ফায়া কুন।

তাইলে ঐ বয়াতি কি করলেন, উনি কি এলেম/টুরুথ/খোদাকে রিলেটিভ বানাইয়া দিলেন?

আশলে না। বরং উনি নিজেরে মানুশ হিশাবে মাইনা নিলেন, এলেম বা টুরুথকে এমনই এক খোদায়ি ব্যাপার হিশাবে মাইনা নিলেন, জেইখানে মানুশের ১০০% পৌছাইতে পারার কথা না, তেমন দাবি করলে নিজেরে খোদার বরাবর বানাইয়া তোলা হয়, উনি শেই শেরেকি থিকা বাইচা রইলেন!

টুরুথ বা এলেম রিলেটিভ না, কিন্তু মানুশের জানার দৌড় রিলেটিভ, তাই মানুশ জারে টুরুথ/এলেম বইলা শাব্যস্ত করে, শেইটা রিলেটিভ হইয়া ওঠে; ফলে কোন একটা হিস্ট্রিকেল মোমেন্টে মানুশ কোন টুরুথ/এলেমকে মাইনা নিয়া কাজকাম করবে, শেইটাও রিলেটিভ। তাইলে কোন একটা শমাজ বা রাশ্টো কোন টুরুথ/এলেমকে টুরুথ/এলেম হিশাবে মাইনা নেবে, শেইটা কেমনে বাছাই করবে, উপায় কি?

কোনটাই জখন চুড়ান্ত/এবছলুট না, অন্তত দাবি করা জাইতেছে না, আমরা জানি না, কিন্তু একটারে বাইছা নিতে হবে, নাইলে আমাদের জিন্দেগি চলবে না–তখন আমাদের একটা পোছেছ, একটা মেথডোলজি লাগবে, বাইছা নেবার। এবং শেইখানে এলেমদারির পরিচয় হইতে পারে এইটা জে, জেইটারে বাইছা নিলে শবচে কম মানুশ নেগেটিভলি এফেক্টেড হবে, শেইটা বাইছা নিবো আমরা–শেইটাই তখন আমাদের কাজকামের পলিছি হবে। আবার জেইটারে বাইছা নিলাম, শেইটারে পলিছি মাইনা জখন কাজকাম শুরু করলাম, তখন দেখা জাইতে পারে জে, হিশাব ভুল ছিলো আমাদের, আশলে বেশিরভাগ মানুশ নেগেটিভলি এফেক্টেড হইতেছে! ভুলের এই শম্ভাবনার কারনেই, আমরা শবজান্তা খোদা না বইলাই, শেরেকি করবো না বইলাই, পলিছি জিনিশটা শর্টটাইম/মেয়াদি হওয়া দরকার!

তাইলে মানুশের এলেম লিমিটেড হবার কারনে এবছলুট পলিছি (শেরেকি) বানাবার বদলে একটা মেয়াদি পলিছি বানাবার পোছেছের নামই ইলেকশন; ইলেকশন–কেননা, ইলেকশনের ভিতর দিয়াই আমরা হিশাব করতে পারবো জে, কোন পলিছিতে শবচে কম মানুশ নেগেটিভলি এফেক্টেড হবার শম্ভাবনা! এই কারনেই ৫০%’র চাইতে কম ভোট পাইলেও শেই পলিছি ইলেকটেড হইতে পারে, কেননা, বাকি পলিছিগুলাতে আরো বেশি মানুশ নেগেটিভলি এফেক্টেড হবার শম্ভাবনা। ইলেকটেড লোকের ব্যাপারে পেরায়ই একটা অবজেকশন দেখি আমরা জে, বেশির ভাগ লোকই তারে চায় না, অথচ শে হইতেছে শাশক! হইতেছে, কারন, আর জারা আছে, তাদেরকে আরো বেশি মানুশ চায় না! তাই ইলেকটেড হওয়া মানে বেশিরভাগ লোকের চাওয়া না, বরং শবচে কম লোকের না চাওয়া! Continue reading

বাংলাদেশে এন্টি-ইনডিয়ান পলিটিক্স

This entry is part 2 of 3 in the series রকম শাহের নছিহত

জেনারেল অর্থে বাংলাদেশে ‘এন্টি-ইনডিয়ান’ পলিটিক্স একটা পুচকে রিয়েকশনারি পলিটিকেল ইশকুল হবার কথা ছিলো, অথচ দেশে এইটা বেশ পপুলার বইলা মালুম হয়! এতোই পপুলার জে, হাসিনা পালাবার পরে দেশের শকল পলিটিকেল পক্ষকেই এন্টি-ইনডিয়ান হিশাবে অন্তত পাবলিক পজিশন লইতে হইতেছে। কোন একটা পলিটিকেল ইশকুলের ছোট বা বড়ো হবার একটা খুব না বোঝা গুরুত্ত আছে, শেইটা হইলো, ক্যাটেগরি ঠিক করার মামলা।

কিন্তু এতো বড়ো একটা পলিটিকেল ডিছকোর্ছের ব্যাপারে দেশে থিয়োরেটিকেল বোঝাপড়া অতি গরহাজির লাগে আমার!

অথচ, আমাদের কিলিয়ার-কাট বোঝা দরকার, ‘এন্টি-ইনডিয়ান’ বলতে কি বুঝবো আমরা এবং এইটার আদৌ কোন হিস্ট্রিকেল জরুরত আছে কিনা–ছেরেফ রিয়েকশনারি বাকোয়াজির (রেটোরিক) বাইরে এবং এইটার আখেরি মনজিলই বা কি?

শুরুতেই আমাদের বোঝা দরকার জে, বাংলাদেশে‘এন্টি-ইনডিয়ান’ পলিটিক্স জতো না ইনডিয়ার বিপক্ষে, তারচে বেশি দেশের ভিতরেই মস্ত একটা ইতিহাশ-পলিটিকেল ভাবনা/ইশকুল/ইডিওলজির বিপক্ষে! শেই কারনেই এইটা ছেরেফ রিয়েকশনারি পুচকে গুরুপের মামলা হইয়া থাকতে পারে নাই, দেশের বেশিরভাগ নাগরিক এই পলিটিক্সে শরিক আছেন এবং তাই হাসিনা পালাবার পরে শকল পলিটিকেল পক্ষেরই এন্টি-ইনডিয়ান একটা ঢঙ দরকার হইতেছে।

আমার পয়েন্টটা আরেকটু দুর থিকা বুঝাবার টেরাই করি; ধরেন, মেক্সিকো হয়তো আমেরিকারে পছন্দ করে না, কিন্তু ঐখানে এন্টি-আমেরিকান পলিটিক্স ততো দরকার হয় না; কেননা, মেক্সিকোর ভিতর আমেরিকায় জাইতে চাওয়া লোক আছে বেশুমার, কিন্তু ইতিহাশ-পলিটিকেল ইডিওলজিতে আমেরিকার তাবেদারি করার ব্যাপারটা মেক্সিকোর ভিতরে ততো নাই। ওদিকে, মেক্সিকো-আমেরিকা জুদ্ধও হইছে, টেক্সাছ-ক্যালিফোর্নিয়া দখল করছে আমেরিকা, কিন্তু আমেরিকায় একটিভ এমন ইতিহাশ-পলিটিকেল ইশকুল নাই জেইটাতে এখনকার মেক্সিকোরে আমেরিকারই একটা খন্ড হিশাবে ভাবা হইতেছে।

এখন ইনডিয়া আর বাংলাদেশের দিকে নজর দিলে আমরা দেখবো, মেক্সিকো-আমেরিকায় না থাকা ঐ দুইটা ব্যাপারই এইখানে খুবই একটিভ! আবার, পাকিস্তানে এন্টি-ইনডিয়ান মন তুমুলভাবে বহাল থাকলেও তাদের পলিটিক্সে ঐটার ততো গুরুত্ত নাই; কেননা, পাকিস্তানের ভিতরে ইতিহাশ-পলিটিকেল ইশকুল হিশাবে ইনডিয়া-পিরিতি নাই, জদিও বাংলাদেশকে ইনডিয়া জেমন নিজের অংশ হিশাবে দ্যাখে, পাকিস্তানরেও ঠিক তেমনি দ্যাখে! Continue reading

ব্রিটিশ বাংলায় গরু জবাইয়ের রাজনীতি (পার্ট ১)

ব্রিটিশ আমলে মুসলমানদের গরু কোরবানি এবং হিন্দু জমিদারদের প্রতিক্রিয়া

ব্রিটিশ ভারতে গরু নিয়ে হিন্দু-মুসলিম বিতর্কের সূত্রপাত উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে। সূত্রপাতের সূচনা হিন্দু জমিদারদের মাধ্যমে। জমিদারি ব্যবস্থায় প্রজা জমিদারের হুকুম মানতে একপ্রকার বাধ্য‌ই ছিল। যদি জমিদারের হুকুম বে-আইনি হয় তাহলে প্রজা আইনের আশ্রয় নিতে পারতো। কিন্তু আইন কি আইনের গতিতেই চলে? ঔপনিবেশিক শাসনামলে ইংরেজের তৈরি আইনের সুশাসন/সুফল ভোগ করা কি অর্থবিত্ত আর ক্ষমতা ছাড়া সম্ভব ছিল? স্বাভাবিকভাবেই ইংরেজ সরকার ও তার কর্মচারী প্রাধান্য দিবে জমিদারকে। এবং তাই হয়েছিল। একজন প্রজার পক্ষে জমিদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা রীতিমতো অকল্পনীয় ব্যাপার ছিল। কারণ, একজন স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের এই বোধটুকু ছিল যে, জমিদারের অর্থবিত্ত আর ক্ষমতার কাছে আইন মামুলি ব্যাপার। মাঝখান দিয়ে টাকা-পয়সা আর শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমের বেহুদা খরচ!

জমিদার আর প্রজার দুয়েকটা কেস যে ইংরেজের দরবারে হাজির হয় নাই, তা না। তার রায়/মীমাংসা হয়েছিল কিভাবে তা দেখাতে, নজির হিসেবে দুয়েকটা কেস পরবর্তীতে পেশ করবো আমরা।

১৮৮৭ সালে মোম্বাইতে অনুষ্ঠিত হয় কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশন। সদস্য হিসেবে অধিবেশনে যোগ দেন রাজশাহীর তাহিরপুরের জমিদার শশিশেখর রায়। সেখানে তিনি গরু জবাইয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব নাকচ হয়। বলা হয়, এই মুহূর্তে এই প্রস্তাব পাশ করলে তা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যাবে এবং তখন কংগ্রেসের মুসলিম স্বার্থবিরোধী একটি ভাবমূর্তি দাঁড়াবে যা কংগ্রেসের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ক্ষতিকর। প্রস্তাব নাকচ হলেও,মুসলমানদের গরু-জবাই ইস্যুতে জমিদারের মনোভাব পরিষ্কার হয়েছিল সেই অধিবেশনে। যে জমিদার এমন প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারে তার জমিদারির ত্রিসীমানায় যে মুসলমানরা নিরাপদে গরু জবাইয়ের স্বাধীনতা পাবে না তা হলফ করেই বলা যায়।

রাজশাহীর কেবল শশিশেখর নয়, অন্যান্য জমিদারদের অঞ্চলেও ছিল এক‌ই চিত্র। The Moslem Chronicle পত্রিকায় ১৭ মার্চ ১৮৯৫ সালের সংখ্যায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, রাজশাহীর খোকসার অন্তর্ভুক্ত পানানগর ও অন্যান্য গ্রামের মুসলমানদের সাথে গরু জবাইয়ের কারণে দুর্ব্যবহার করা হয়। এবং কমিশনারের রিপোর্টের রেফারেন্স উল্লেখ করে বলা হয়, মুসলমান প্রজাদের গরু জবাই এবং গোশত খাওয়ার ব্যাপারে জমিদাররা সরাসরি হস্তক্ষেপ করে।

The Moslem Chronicle পত্রিকার ২০ মে ১৮৯৫ সংখ্যায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ময়মনসিংহের অম্বরিয়া, মুক্তাগাছা ও সন্তোষের জমিদারগণ কয়েকজন গ্রামবাসীকে গরু জবাইয়ের জন্য জরিমানা করেছিলেন। ময়মনসিংহে জমিদারের হস্তক্ষেপের ফলে গরু জবাইয়ের অলিখিত নিষেধাজ্ঞার কথা জানা যায় আবুল মনসুর আহমদের জবানেও। তিনি লিখেছেন: “বক্‌রা ঈদে গরু কোরবানি কেউ করিত না। কারণ জমিদারের তরফ হ‌ইতে উহা কড়াকড়িভাবে নিষিদ্ধ ছিল। খাশি-বকরি কোরবানি করা চলিত। লোকেরা করিত‌ও তা প্রচুর।” আবুল মনসুর আহমদের জন্ম ১৮৯৮ সালে। শৈশব থেকে সাবালক হ‌ওয়া অবধি— ১৯১০-২০ সালের দিকেও— ময়মনসিংহের এক‌ই চিত্র ছিল। অর্থাৎ, ১৮৯৫ সালে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের হেরফের পরবর্তী বিশ-ত্রিশ বছরেও হয়নি। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ এবং আবুল মনসুর আহমদের সাক্ষ্য থেকে বলা যায়, ময়মনসিংহে মুসলমানদের গরু জবাই এবং গোশত খাওয়ার উপর জমিদারদের নিষেধাজ্ঞা উনিশ শতকের শেষদিক থেকেই বলবৎ ছিল।
Continue reading

কিভাবে লেখতে হবে জুলাইয়ের ইশতেহার?

[বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম]

এক.

১. আমি মনে করি, জুলাই প্রক্লেমেশনের বেইজ হওয়া উচিত ৪টা ডকুমেন্ট –

৬২২ সালের মদিনা সনদ
১৭৮৯ সালের ফ্রেঞ্চ রেভুলেশনের ডিক্লারেশন অফ হিউম্যান এন্ড সিভিক রাইটস

১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব
১৯৭১ সালের বাংলাদেশের ডিক্লারেশন অফ ইন্ডিপেন্ডেস

২. অই ডকুমেন্টগুলার যেই স্পিরিট সেই জায়গাগুলারে নেয়ার কথা বলতে চাইতেছি আমি –

মদিনা সনদের সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভিন্ন দল ও মতের মানুশের ইউনিটির যেই জায়গা, সেইটারে নেয়া

ফ্রেঞ্চ রেভিউলেশনের ব্যক্তির যেই স্বাধিনতা

লাহোর প্রস্তাবের যেই রিজিওনাল ও কনফেডারেশনাল স্টেটসের ধারনা

এবং ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের সভ্রেনটির যেই শুরু

– এই চাইরটা জিনিসরেই নিতে পারতে হবে আমাদেরকে

৩. ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের পিপল আপ-রাইজিং রাষ্ট্রের সেকেন্ড গড হয়া উঠার জায়গাটার এগেনেস্টেই রিভোল্ট, ব্যক্তির অধিকারের জায়গাটারে রিক্লেইম করার রিভোল্ট, যেই রিজিওনাল কো-হেরিয়েন্সের জায়গাটারে ইনডিয়ান হেজিমনি দখল করতে চায় তার বিরুদ্ধে রিভোল্ট, এবং সবচে জরুরিভাবে বাংলাদেশের স্বাধিনতা ও সভ্রেনটি ধইরা রাখার জন্য ছিল এই রিভোল্ট – এইটা মাইনা নিয়া, ব্যাকগ্রাউন্ডে রাইখা লেখার কাজটা করতে হবে বইলা আমি মনে করি

দুই.

এই বেইজটারে যদি আমরা রিকগনাইজ করতে রাজি থাকি, তাইলে ফিল করতে পারবো যে, এইখানে –

১. বাংলাদেশের মানুশের কথা থাকতে হবে, বাংলাদেশের মানুশের ওনারশিপের কথা থাকতে হবে, সুখ-শান্তি ও সভ্রেনটির কথা থাকতে হবে, অতীত, বর্তমান ও ফিউচারের কথা থাকতে হবে, কোন বেইজ থিকা এই বর্তমানে আসছি আমরা, আর কোন দিকে যাইতে চাইতেছি – তার একটা জার্নির কথা থাকতে হবে

আর এই যাওয়ার পথের দিশা যেন হইতে পারে এই ডকুমেন্ট’টা! খালি মঞ্জিল বা ডেস্টিনেশন না, বরং প্রসেসটাও জরুরি এইখানে! Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →