[জুলাই রেকর্ডস] ওরা (ছাত্রলিগ) ডাইরেক আমাদের টার্গেট করে মারসে… ওরা আমাদের মেরে ফেলতেই চাইসে
[জুলাই রেকর্ডসের পক্ষ থিকা সারাদেশে জুলাই আপ-রাইজিংয়ে আহত ও নিহতদের আত্মীয়-স্বজনদের অডিও ও ভিডিও ইন্টারভিউ নিতেছেন কয়েকজন; উনাদের ইন্টারভিউ’র কয়েকটা আমরা বাছবিচারে ছাপাবো… এইখানে জানুয়ারি মাসে নেয়া শেফায়েত কাদের সাজ্জাদের ইন্টারভিউ’র ট্রান্সক্রিপ্ট পাবলিশ করা হইলো, যিনি চিটাগাংয়ের বাঁশখালি’তে ছাত্রলিগরে গুলিতে আহত হইছিলেন…]
আমরা জুলাই রেকর্ডস থেকে জুলাইয়ের শহিদ পরিবার আর আহতদের ইন্টারভিউ নেওয়ার প্ল্যান নিয়ে মাঠে নামি ডিসেম্বরের শেষের দিকে। জানুয়ারির শুরুর দিকে সাজ্জাদ ভাইয়ের ইন্টারভিউটা নিই আমরা। সাজ্জাদ ভাই একদম ১ম দিকের ইন্টারভিউই হওয়াতে উনার ঘটনাটা আমাদেরকে টাচ করছিল অনেক। দেশের আনাচে কানাচে জুলাইয়ে মানুষের ত্যাগ আর স্ট্রাগলের কথা কাছ থেকে জানতে শুরু করছি তখন মাত্র।
ওইদিন জুমার নামাজের পর এলাকার এক চায়ের দোকানে আমি, সুলাইম মাহমুদ আর খোবাইব হামদান, সাজ্জাদ ভাইকে নিয়ে বসি ৩ জানুয়ারি, ২০২৫; কল্পলোক আবাসিক, বাকলিয়া, চট্টগ্রামে। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে উনি উনার এবং উনার এলাকার জুলাইয়ের জার্নির বর্ণনা আমাদেরকে দেন।
কাজী ওয়ালী উল্লাহ
…
কাজী ওয়ালী উল্লাহ: আপনি আন্দোলনে কিভাবে জড়াইলেন? ইন্সপিরেশন কোথা থেকে পাইলেন?
শেফায়েতুল কাদের সাজ্জাদ: প্রথম প্রথম যখন কোটা আন্দোলন শুরু হলো তখন আমরা ফেসবুকে লেখালেখি করতেসি কিন্তু আন্দোলনে যাবার সাহস পাচ্ছি না কারণ কার মাধ্যমে যাব এটার লিংক পাচ্ছিলাম না ৷ মুগ্ধ শহিদ হওয়ার অনেক দিন পর আমরা বন্ধুরা মিলে প্ল্যান করলাম, শহরে চলে যাব ৷ আন্দোলন করব ৷ আমাদের বাড়ি হলো পশ্চিম বড়গুনায় ৷ আন্দোলনের সময় আমরা গ্রামে ছিলাম ৷ আমাদের ওখান থেকে অনেক পোলাপান না বলে শহরে চলে গেসে আন্দোলনে যোগ দেবার জন্য ৷ পনের জনের বেশি হবে ৷ আমি একদিন কোচিংয়ে যাচ্ছিলাম দিদার স্যারের ৷ তখন আমি গুনাগরী কলেজের একটা গ্রুপে মেসেজ পেলাম, বাঁশখালি থেকে একটা মিছিল বের করার।
ওয়ালী: তখন কত তারিখ ছিল?
সাজ্জাদ: এক্সেক্ট তারিখটা ত মনে নাই ৷ তবে আগস্টের চার তারিখের তিন চার দিন আগে হবে৷ বা তখন সময়টা জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরু৷
ওয়ালী: আপনাদের ওখানের ছাত্ররা কি তখন শহরে চলে গেছিল?
সাজ্জাদ: হ্যা, তখনই চলে গেসে ৷
ওয়ালী: ক্র্যাকডাউনের আগে কি অবস্থা ছিল?
সাজ্জাদ: তখনও আমরা তেমন সজাগ ছিলাম না ৷
ওয়ালী: বাইতুশ শরফের (দেওয়ানহাট, চট্টগ্রাম) কথা বলছেন যে সেটা কখন?
সাজ্জাদ: তখন আসলে আমরা আন্দোলনের ব্যাপারে তেমন কিছু জানতাম না ৷ বাঁশখালিতে তখন আন্দোলন বিষয়ে কোনো কথা ওঠে নাই ৷ এমনিতে সেই সময়টাতে আমি শহরে গেছিলাম একবার ৷
ওয়ালী: তখন শহরে থাকা অবস্থায় কি আন্দোলনে গেছিলেন?
সাজ্জাদ: না, তখন আন্দোলনে যাই নাই কোথাও ৷ বাইতুশ শরফে একজন বন্ধুর বাসায় ছিলাম ৷ কিন্তু পুলিশের ভয় কাজ করার কারণে আমি গ্রামে চলে যাই ৷
ওয়ালী: তারপরে আগষ্টের শুরুতে কি হলো?
সাজ্জাদ: আগষ্টের শুরুতে গুনাগরী কলেজের একটা পেইজ থেকে আমাদেরকে ডাক দিসিল ৷ উনারা বলল, আমরা বাশখালি থেকে একটা আন্দোলন বের করব ৷ আমি তথ্য যতটুকু শুনসি, বাশখালিতে একজন ভাইস চেয়ারম্যান ছিল হোসাইন নামে সে ছাত্রদের সরাসরি হুমকি দিসিল যে, তোরা যদি আন্দোলনে বের হস তাইলে ডাইরেক তোদের গুলি করে খাই ফেলায়ুম ৷ তখন ছাত্ররা আর সাহস পায় নাই৷ দুই থেকে তিনদিন চলে গেসে ৷
ওয়ালী: আপনারা আপনাদের বাজারে নামতে চাইসিলেন মিছিল নিয়ে?
সাজ্জাদ: হ্যা ৷ আগস্টের তিন তারিখ রাতে একটা মেসেজ আসলো, আমরা সবাই আন্দোলনে যাব চাম্বলবাজার থেকে, যারা বরগুনার আছে, বাশখালির আছে তারা চাম্বল ক্লাব থেকে শুরু করবে ৷ শেখেরখিলের যারা আছে তারা শুরু করবে রাস্তার মাথা থেকে আর জলদি বা গুনাগরী বাজার থেকে যারা যাবে তারা টাইমবাজার থেকে শুরু করবে ৷
ওয়ালী: এই জায়গাগুলার দূরত্ব কি বেশি, নাকি কাছে?
সাজ্জাদ: তিনটা জায়গার দূরত্ব হবে এখান থেকে (কল্পলোক আবাসিক) নতুন ব্রিজ পর্যন্ত। মানে তিন রাস্তার মোড়ে আসব আমরা, চকরিয়া আর কক্সবাজার ৷ (আমরা আন্দোলন নিয়ে চকরিয়া, কক্সবাজার তিন রাস্তার মোড়ে আসব৷) আমরা সবাই একত্রিত হব চাম্বলবাজারে৷ আমরা সবাই এসে ফাহিম-ক্লাবে অবস্থান নিসি, তখন দুইটা বা আড়াইটা হবে ৷ আমাদের অংশে ছিলাম তিনশ জনের বেশি ৷ তখন শেখেরখিলের একজনের সাথে আমাদের লীড দিচ্ছিলো যেই ভাই উনার সাথে যোগাযোগ হইলো, শেখেরখিলের ভাইটা বলতেসিল, আমরা সবাই জড়ো হইসি, রেডি আছি এখন মিছিল নিয়ে আসব ৷ Continue reading