১.
বুকোউস্কি’র কবিতা’তে একটা প্লেজার আছে এই স্টেটম্যান্ট দিতে পারার ভিতর যে, আমি তো খারাপ! মানে, উনার এই গিল্টি ফিলিংসটা যে নাই, সেইটা না; খুব ভালোভাবেই আছে, কিন্তু উনি যে ‘খারাপ’ এইটা বলার ভিতর দিয়া উনার খারাপ-হওয়াটা মাইনা নেয়ার স্পেইসটা ক্রিয়েট করতে পারতেছেন উনি; যে, আমি তো খারাপ! এই খারাপ হওয়াটা এতোটা খারাপও না আসলে, কারণ একটা ‘ভালো’ হওয়ারে অ্যাজিউম করে এই খারাপ-হওয়াটা যেই ‘ভালো’ এতোটা ভালো কিনা শিওর না, হয়তো যে ভালো সে খারাপ-ই, কিন্তু নিজেরে শে/সে বলতে পারে না; অথচ যে খারাপ, খারাপ হইলেও বুক ফুলায়া বলতে পারেন খারাপ, তখন মনে হইতে পারে এতোটা খারাপ না মেবি! মানে, উনি বলেন না, কিন্তু এইটা ইমপ্লাই করেন তো, বলার ভিতর দিয়া। বলাটা ‘খারাপ’ না অবশ্যই, কিন্তু একটা খারাপ-ভালো’র ভিতর এই যে আটকাইতে পারা – এইটাতে সাবস্ত্রাইব করাটাও টাফ তো আসলে। ‘আধুনিক’ একটা ব্যাপার। তো, বুকোউস্কি শেষমেশ, ‘আধুনিকতা’র ডিলেমার মধ্যেই আটকায়া থাকেন। ওই ডিলেমার একটা এক্সট্রিম এক্সপ্লোরেশন হয়তো।
অথচ প্রেম ভালোবাসা তো এমনেই অনেক প্রেসিয়াস জিনিস, কিন্তু দুনিয়াটা যখন খারাপ বা ভালো তখন ভালোবাসা টাইপ জিনিসগুলি আরো দামি হইয়া উঠতে পারে তো!
২.
শক্ত-পোক্ত প্রেমের কবিতাগুলিই স্ট্রেংথ চার্লস বুকোউস্কির। ব্যাপারটা হইতেছে যে, কোন না কোন কবি’র ওয়ার্ল্ড থিকাই আমরা বাইর হয়া আসি না, বরং নিজেদেরকে আমরা যেইখানে প্লেইস করতে পারি, দেখি যে, আরে, কোন না কোন কবি এইভাবে বইলা রাখছেন তো আগে! বলতে-পারাগুলি’র সাথে আমরা মিলাই আমরা আমাদেরকে। একটু এইদিক-সেইদিক হয় মনেহয়, কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই কবিতার রিয়ালিটির জুতায় সবচে ক্লোজলি আটাইতে পারি আমরা আমাদের ফ্যাণ্টাসিগুলা।
তবে বুকোউস্কির রিয়ালিটির টাইমটা পার হইছে মনেহয়। কবি হিসাবে নিজেরে সেন্টার পয়েন্টে তো রাখতেই হয়, কিন্তু যেই পাগলা, আন-সোশ্যাল, ক্র্যাক লোকটারে উনি রাখেন সেন্টারে, সে তার পাগলামি, রেভিউলেশন, ক্রাংকিনেসের ভিতরে যে নিজেরে সুপিরিয়র ভাবতে পারার এজেন্ডারে আপহোল্ড করতে পারে, সেইটা মেবি টাফ এখন। পসিবল না যে তা না। কিন্তু এই ফ্যাণ্টাসিগুলা তো ফেড-ই হইছে; যেমন সিক্সটিইজের হিপ্পিদের ফটো দেখলে যতোটা না ড্রিমি-বিপ্লবী তার চাইতে বিষন্নতার রোগী-ই লাগে কিছুটা। ওইরকম।
৩.
একটা বাদে (এক্সিলেটরে দেখা মেয়েটা) বাকি সব কবিতার ক্ষেত্রে “অ্যা চালর্স বুকোউস্কি রিডার” (হার্পার কলিন্স ১৯৯৩) বইয়ের টেক্সট ফলো করা হইছে।
—————————————————————
ফায়ার স্টেশন ।। যেই রাতে অরা হুইটনি’রে নিয়া গেলো ।। রেইন ।। হট ।। জেনের লাইগা: আমার যতো প্রেম আছিলো, যা এনাফ আছিলো না: – ।। জেনের লাইগা ।। মিনিস্কার্ট পরা মাইয়াটা আমার জানালার বাইরে বইসা বাইবেল পড়তেছে ।। কোনো ঝামেলা নাই ।। কেউ একজন ।। গোসল করা ।। আমি প্রেমে পড়ছি ।। বৃষ্টিতে ভিজা ফুলের মতোন ।। চুদায়া মুড়ি খাও ।। জাঙ্ক ।। আর্ট ।। রাস্তার বিলবোর্ডে একজন পলিটিক্যাল নেতার চেহারা ।। অলমোস্ট বানানো একটা কবিতা ।। এক্সিলেটরে দেখা মেয়েটা ।। আমার আছে একটা নীল পাখি ।।
————————————————————–
ফায়ার স্টেশন
(জেনি’র লাইগা, ভালোবাসাসহ)
আমরা বার থিকা বাইর হয়া আসলাম
কারণ আমাদের টাকা শেষ হয়া গেছিল
কিন্তু আমাদের রুমে
কয়েকটা ওয়াইনের বোতল আছিলো।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]
বিকাল ৪টা বাজে তখন
আর আমরা একটা ফায়ার স্টেশন পার হইতেছিলাম
আরে শে শুরু করলো
ক্রেজি হওয়া:
“একটা ‘ফায়ার স্টেশন’! ওহ, আমি খুবই পছন্দ করি
ফায়ার ইঞ্জিনগুলি, অরা এতো লাল আর
সবগুলি! আসো ভিতরে যাই!”
আমি ওরে ফলো করলাম
ভিতরে। “’ফায়ার ইঞ্জিন’!” শে চেঁচায়া উঠলো
তার বড় পাছা
নাচায়া।
অলরেডি শে ট্রাই করতেছিল একটাতে
উঠার, তাঁর স্কার্ট ধইরা শে কোমরে তুইলা
কাঞ্চি মাইরা বসার ট্রাই করতেছিল
সিটের উপরে।
‘খাড়াও, খাড়াও, আম্মারে হেল্প করতে দাও’ এক ফায়ারম্যান দৌড়াইয়া
আইলো।
আরেক ফায়ারম্যান হাঁইটা আইলো
আমার কাছে: “আমাদের নাগরিকদের আমরা সবসময় ওয়েলকাম জানাই,”
সে কইলো
আমারে।
অন্য বেটা’টা সিটের উপ্রে বইসা ছিল তাঁর
লগে। “তোমার কাছে কি ওই একটা বড় ‘জিনিস’ আছে?”
শে জিগাইলো তারে। “ওহ, হাহাহা! আমি বুঝাইতেছি ওই
বড় ‘হেলমেটগুলির’ কথা!”
“আমার নিজেরও একটা বড় হেলমেট আছে তো,” সে কইলো
তাঁরে।
“ওহ, হাহাহা!”
“তুমি কার্ড খেলতে পারো?” আমি জিগাইলাম ‘আমার’
ফায়ারম্যানরে। আমার কাছে ৪৩ সেন্ট ছাড়া আর টাইম ছাড়া
কিছুই নাই। Continue reading →