Main menu

মনুর এক গোছা কবিতা

———————————

।। তুষারের দড়ি ।। টিভি ।।  ফোরপ্লে ।। সাবান ।। চলো প্রেমিক, বিয়া করি ।।  দিনদুনিয়া ।। বাছুরেরা ।। স্মার্টফোন ।। গোস্বা ।। খাড়াইয়া থাকা নদী… গরম ।।

———————————

তুষারের দড়ি

সোনাবন্ধু, তুষার চেনো নাকি? আমি তো চিনি না!
শুনছি কুয়াশার চাইতেও ঘন,
তুলার মতো নরম–
গুড়া গুড়া বরফ,
সাদা সাদা
একলগে অযুত কোটি।
গায়ে গা লাগাইয়া শুইয়া থাকতে চায় তারা
শীতের দুনিয়ায়!
আসমান থিকা কাতারে কাতারে নামে তাই
গাছের পাতায়,
ছাদে,
পুকুরের ঘাটে,
মাঠে মাঠে,
গাড়িচাপায়
মরা কুত্তাটারে বিছানা বানায়!
তোমারে বান্ধিবো বন্ধু
সেই তুষারের দড়ি দিয়া!
বিদেশি দড়ি সোনাবন্ধু
তোমার আলতো বেখেয়াল টানেও
ছিড়া যাইতে চায়…!
হইতে কি পারবা বন্ধু অইটুক বেখেয়াল,
তোমারে যে বান্ধিলাম তুষারের দড়িতে!
তুমি কি পারবা বন্ধু ছিড়া যাইতে
আমার পিরিতের তুষারদড়ি!

১৭ ডিসেম্বর ২০১৬[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

 

টিভি

টিভির লগে খাপে খাপ তুমি–
১০ মিনিট পর পর
একই কথা
১ মাস…
না শুনলে মগজে ঢোকে না তোমার,
কানের পাশ দিয়া যায়।
যে তোমারে যতই হক কথা কইতেছে–
একবার যদি কয়
দুইবার যদি কয়…
পরশ পায় না তোমার–
তুমি তো টিভির লগে খাপে খাপ,
তুমি তো
ক্রিকেটের ওভারের মাঝে
একই অ্যাড দেখা লোক–
সাড়ে ৩ ঘন্টায় ৫০ বার।
ভাবছো ইগোতে লাগবে আমার,
গোস্বা কইরা চুপ মারবো?
তোমার দশা দেইখা মন খারাপ করবো?
ভাইঙ্গা ফেলবো তোমার টিভি?
কর্পোরেট হেডকোয়ার্টারে ঘুষি মারবো দুইটা?
মনের দুঃখে দড়ি লইয়া
জাফর ইকবাল হইয়া যাবো?
না, নো, নেহি।
মিনিটে মিনিটে কইতে থাকবো আমি,
আমার ভলিউমের রিমোট নাই তোমার হাতে,
তোমার কানের কাছে আমার মুখ যায়,
তুমি ঘুমাইয়া পড়লেও
গুতা দিবো আমি,
কইতে থাকবো–
১ মাস, বছর, জিন্দেগি।
আরো বড়ো টিভি হবো আমি
কার্ভি স্ক্রিন
এইচডি
থ্রিডি–
কারেন্ট যায় না আমার,
আইসি পোড়ে না।
জগতের কয়লাগুলা যদি হীরা হইয়া যায়,
ইন্ডিয়ান কনফেডারেশন যদি ভাইঙ্গাও যায়,
রাশিয়া যদি ইউক্রেনের দখলে চইলা যায়,
না হয় যদি রূপপুর-রামপাল…
মিনিটে মিনিটে
এই টিভি তবু চলবে।

২২জুন ২০১৭

Continue reading

মাস্টারবেশন, সাইকোলজিক্যালি আনহেলদি সোসাইটি, সেক্সপার্টনার ইত্যাদি

শাহাদুজ্জামান :… আপনার লেখায় কিন্তু নারী পুরুষের সেক্সের চেয়ে মাস্টারবেশনের ব্যাপারটা রিপিটেডলি এসেছে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস : হ্যাঁ, মাস্টারবেশনকে আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। কারণ, এর ভেতর দিয়ে আমি সোসাইটিকেই দেখি। যে লোকটা মাস্টারবেট করছে সে একজন লোনলি ম্যান এবং আনহেলদি ম্যান এবং হি ইজ দি প্রোডাক্ট অব এন আনহেলদি সোসাইটি।

শাহাদুজ্জামান : কী রকম?

ইলিয়াস : আমি বলছি, সে লোকটা সাইকোলজিক্যালি আনহেলদি, কারণ সেক্স তোমার এমন একটা ব্যাপার, যেখানে ইউ নিড এ পার্টনার। যে লোকটা মাস্টারবেট করছে, মানে তার পার্টনার নাই। অথবা হি ইজ ইনকেপাবল অব হ্যাভিং এ পার্টনার, অন্তত পার্টনার নেয়ার ক্ষমতা তার আছে তা নিয়েও সে দ্বিধান্বিত। সে টোটালি একজন লোনলি মানুষ। সোসাইটিতে তার ইউজুয়েল সেক্সের সুযোগ নাই।

শাহাদুজ্জামান : কিন্তু সব সোসাইটিই তো আর সেক্স ফ্রি নয় যে চাইলেই পার্টনার পাবে।

ইলিয়াস : সোসাইটি ইজ নট ফ্রি, দি সোসাইটি ইজ নট হেলদি ইভেন। একটা সিক সোসাইটিতে প্রাপ্তবয়স্ক লোকে মাস্টারবেট করে। তবে এটা কিন্তু ঠিক ফ্রি সেক্সের ব্যাপার না। বহু ম্যারিড লোকেও মাস্টারবেট করে। মানে, ঐ কাজটা করে হয় তার কোনো পার্টনার নাই কিম্বা যে পার্টনার আছে তার সঙ্গে কোনো ইনভল্বমেন্ট নাই। ইন হিজ ডিপ ইনসাইড নিঃসঙ্গতা আছে। সে সব অর্থেই একজন পার্টনারলেস ম্যান। একটা সিক সোসাইটিতে মানুষের এ অবস্থা হয়। আমেরিকার মানুষেরা মাস্টারবেট করে। আমার তো মনে হয়, কিছু মনে করো না, গরভাচেভও এখন মাস্টারবেট করে, কারণ এখন সে একটা সিক সোসাইটি তৈরি করার হোতা।

================================

 

তো ইলিয়াসের মত লইলাম আমরা, আপাতত আমরা মানলাম যে, মাস্টারবেশন হইলো ‘ইউজুয়াল (আইডিয়াল/সহি) সেক্সের’ অল্টারনেটিভ। শরিক জোগাড় করতে পারে না বইলা লোকে মাস্টারবেট করে এবং মাস্টারবেশন হইলো সাইকোলজিক্যালি আনহেলদি।

আমরা তাইলে দুয়েকজন ‘সাইকোলজিক্যালি’ হেলদি মানুষ তালাশ করি। মানুষ, নাকি পোলা মানুষ! ইলিয়াস বারবার ‘ম্যান’ কইতেছেন, মাইয়াদের মাস্টারবেশনের কোন আইডিয়া আছিল না তার! নাকি ‘ম্যান’ দিয়াই উনি পোলা-মাইয়া-হিজড়া সব বুঝাইয়া ফেলছেন! জানি না; ওকে, আগাই।

নিউজ২৪ চ্যানেলের সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার (আওয়াজ কারিগর) আরমান হোসেন সুমন ইলিয়াসের হিসাবে সাইকোলজিক্যালি হেলদি একজন পোলা হবার সম্ভাবনা। এক মহিলারে উনি বিয়ার জন্য (পার্টনার) জোগাড় করতে পারছিলেন ১০ বছর আগে। পরে এই এক পার্টনারে তার হইতো না মনে হয়, বা ভালো লাগতো না হয়তো। কিন্তু উনি ইলিয়াসের হিসাবে হেলদি থাকার দরকারে ঐ মহিলার আগের ঘরের মাইয়ারে রেপ করেন, এবং পরের ৮ বছর ‘হেলদি’ রেপ চালাইয়া যান। এই মাইয়ার সাইকোলজিক্যালি হেলদি মা তার স্বামীকে হেলদি রাখার দরকারে নিজের মাইয়ারে স্বামীর রেপে মদদ দিছেন। ৮ বছর ধইরা এমন দুইজন পার্টনার পাওয়ায় সুমন মনে হয় মাস্টারবেট না কইরা সাইকোলজিক্যালি হেলদি থাকতে পারলেন। মানে, ইলিয়াসের হিসাবে পার্টনার জোগাড় করতে পারায় তার তো আর মাস্টারবেট করার কথা না।

এমন হেলদি প্রায় ৫০ কোটি পোলা আছে ভারতে, যারা সাইকোলজিক্যালি হেলদি থাকার দরকারে বউকে রেপ করেন। মানে ভারতে এক জরিপে দেখা গেছে, ৭০{855ff4e32ca5c8db0719e8f837cd158afce0d103a8821dfb7d995472b79aa6d7} স্বামী নিজের বউকে রেপ করেন। তাইলে ভারতে দেখা যাইতেছে, পার্টনার জোগাড় করতে পারলেই হইতেছে না, পার্টনারদের মেজাজ-মর্জির টাইমিং হইতেছে না, স্বামীরা তখন আনহেলদি মাস্টারবেট না কইরা হেলদি রেপ করে। বাংলাদেশে জরিপ হইলে ভারতের মতোই কয়েক কোটি হেলদি স্বামী পাওয়া যাইতে পারে।

Continue reading

চার্লস বুকোউস্কি’র কবিতা

১.
বুকোউস্কি’র কবিতা’তে একটা প্লেজার আছে এই স্টেটম্যান্ট দিতে পারার ভিতর যে, আমি তো খারাপ! মানে, উনার এই গিল্টি ফিলিংসটা যে নাই, সেইটা না; খুব ভালোভাবেই আছে, কিন্তু উনি যে ‘খারাপ’ এইটা বলার ভিতর দিয়া উনার খারাপ-হওয়াটা মাইনা নেয়ার স্পেইসটা ক্রিয়েট করতে পারতেছেন উনি; যে, আমি তো খারাপ! এই খারাপ হওয়াটা এতোটা খারাপও না আসলে, কারণ একটা ‘ভালো’ হওয়ারে অ্যাজিউম করে এই খারাপ-হওয়াটা যেই ‘ভালো’ এতোটা ভালো কিনা শিওর না, হয়তো যে ভালো সে খারাপ-ই, কিন্তু নিজেরে শে/সে বলতে পারে না; অথচ যে খারাপ, খারাপ হইলেও বুক ফুলায়া বলতে পারেন খারাপ, তখন মনে হইতে পারে এতোটা খারাপ না মেবি! মানে, উনি বলেন না, কিন্তু এইটা ইমপ্লাই করেন তো, বলার ভিতর দিয়া। বলাটা ‘খারাপ’ না অবশ্যই, কিন্তু একটা খারাপ-ভালো’র ভিতর এই যে আটকাইতে পারা – এইটাতে সাবস্ত্রাইব করাটাও টাফ তো আসলে। ‘আধুনিক’ একটা ব্যাপার। তো, বুকোউস্কি শেষমেশ, ‘আধুনিকতা’র ডিলেমার মধ্যেই আটকায়া থাকেন। ওই ডিলেমার একটা এক্সট্রিম এক্সপ্লোরেশন হয়তো।

অথচ প্রেম ভালোবাসা তো এমনেই অনেক প্রেসিয়াস জিনিস, কিন্তু দুনিয়াটা যখন খারাপ বা ভালো তখন ভালোবাসা টাইপ জিনিসগুলি আরো দামি হইয়া উঠতে পারে তো!

২.
শক্ত-পোক্ত প্রেমের কবিতাগুলিই স্ট্রেংথ চার্লস বুকোউস্কির। ব্যাপারটা হইতেছে যে, কোন না কোন কবি’র ওয়ার্ল্ড থিকাই আমরা বাইর হয়া আসি না, বরং নিজেদেরকে আমরা যেইখানে প্লেইস করতে পারি, দেখি যে, আরে, কোন না কোন কবি এইভাবে বইলা রাখছেন তো আগে! বলতে-পারাগুলি’র সাথে আমরা মিলাই আমরা আমাদেরকে। একটু এইদিক-সেইদিক হয় মনেহয়, কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই কবিতার রিয়ালিটির জুতায় সবচে ক্লোজলি আটাইতে পারি আমরা আমাদের ফ্যাণ্টাসিগুলা।

তবে বুকোউস্কির রিয়ালিটির টাইমটা পার হইছে মনেহয়। কবি হিসাবে নিজেরে সেন্টার পয়েন্টে তো রাখতেই হয়, কিন্তু যেই পাগলা, আন-সোশ্যাল, ক্র্যাক লোকটারে উনি রাখেন সেন্টারে, সে তার পাগলামি, রেভিউলেশন, ক্রাংকিনেসের ভিতরে যে নিজেরে সুপিরিয়র ভাবতে পারার এজেন্ডারে আপহোল্ড করতে পারে, সেইটা মেবি টাফ এখন। পসিবল না যে তা না। কিন্তু এই ফ্যাণ্টাসিগুলা তো ফেড-ই হইছে; যেমন সিক্সটিইজের হিপ্পিদের ফটো দেখলে যতোটা না ড্রিমি-বিপ্লবী তার চাইতে বিষন্নতার রোগী-ই লাগে কিছুটা। ওইরকম।

৩.
একটা বাদে (এক্সিলেটরে দেখা মেয়েটা) বাকি সব কবিতার ক্ষেত্রে “অ্যা চালর্স বুকোউস্কি রিডার” (হার্পার কলিন্স ১৯৯৩) বইয়ের টেক্সট ফলো করা হইছে।
—————————————————————

ফায়ার স্টেশন ।। যেই রাতে অরা হুইটনি’রে নিয়া গেলো ।। রেইন ।। হট ।। জেনের লাইগা: আমার যতো প্রেম আছিলো, যা এনাফ আছিলো না: – ।। জেনের লাইগা ।। মিনিস্কার্ট পরা মাইয়াটা আমার জানালার বাইরে বইসা বাইবেল পড়তেছে ।। কোনো ঝামেলা নাই ।। কেউ একজন ।। গোসল করা ।। আমি প্রেমে পড়ছি ।। বৃষ্টিতে ভিজা ফুলের মতোন ।। চুদায়া মুড়ি খাও ।। জাঙ্ক ।। আর্ট ।। রাস্তার বিলবোর্ডে একজন পলিটিক্যাল নেতার চেহারা ।। অলমোস্ট বানানো একটা কবিতা ।।  এক্সিলেটরে দেখা মেয়েটা ।। আমার আছে একটা নীল পাখি ।।

————————————————————–

 

ফায়ার স্টেশন

(জেনি’র লাইগা, ভালোবাসাসহ)

আমরা বার থিকা বাইর হয়া আসলাম
কারণ আমাদের টাকা শেষ হয়া গেছিল
কিন্তু আমাদের রুমে
কয়েকটা ওয়াইনের বোতল আছিলো।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

বিকাল ৪টা বাজে তখন
আর আমরা একটা ফায়ার স্টেশন পার হইতেছিলাম
আরে শে শুরু করলো
ক্রেজি হওয়া:

“একটা ‘ফায়ার স্টেশন’! ওহ, আমি খুবই পছন্দ করি
ফায়ার ইঞ্জিনগুলি, অরা এতো লাল আর
সবগুলি! আসো ভিতরে যাই!”

আমি ওরে ফলো করলাম
ভিতরে। “’ফায়ার ইঞ্জিন’!” শে চেঁচায়া উঠলো
তার বড় পাছা
নাচায়া।

অলরেডি শে ট্রাই করতেছিল একটাতে
উঠার, তাঁর স্কার্ট ধইরা শে কোমরে তুইলা
কাঞ্চি মাইরা বসার ট্রাই করতেছিল
সিটের উপরে।

‘খাড়াও, খাড়াও, আম্‌মারে হেল্প করতে দাও’ এক ফায়ারম্যান দৌড়াইয়া
আইলো।

আরেক ফায়ারম্যান হাঁইটা আইলো
আমার কাছে: “আমাদের নাগরিকদের আমরা সবসময় ওয়েলকাম জানাই,”
সে কইলো
আমারে।

অন্য বেটা’টা সিটের উপ্রে বইসা ছিল তাঁর
লগে। “তোমার কাছে কি ওই একটা বড় ‘জিনিস’ আছে?”
শে জিগাইলো তারে। “ওহ, হাহাহা! আমি বুঝাইতেছি ওই
বড় ‘হেলমেটগুলির’ কথা!”

“আমার নিজেরও একটা বড় হেলমেট আছে তো,” সে কইলো
তাঁরে।

“ওহ, হাহাহা!”

“তুমি কার্ড খেলতে পারো?” আমি জিগাইলাম ‘আমার’
ফায়ারম্যানরে। আমার কাছে ৪৩ সেন্ট ছাড়া আর টাইম ছাড়া
কিছুই নাই। Continue reading

এরশাদের প্রোপাগান্ডা মেশিনের এসথেটিক সেন্টার হইয়া ওঠা

পেশা আর জাতের খুব খাতির আছিল আগে; মেথর লোকটা পেশায় মেথর না যেন, জাতে মেথর। ইংরাজের কলোনিয়াল মডার্নিটির একটা ফায়দা আছিল– পেশা আর জাতের এই খাতির নয়া সুরতে হাজির হওয়া। নয়া সুরতের একটা নজির হইলো–জেনারেলদের রাজনীতি করাটা অপছন্দ করা; জেনারেলরা হইলেন একটা জাত যেন, রাজনীতি এই জাতের আওতার বাইরে থাকার কথা![pullquote][AWD_comments][/pullquote]

বিজনেসম্যান আনিসুল হক মরলেন রাজনীতি করতে করতে, তারে রাজনীতির লোক হিসাবেই দেখতেছে সিভিল সোসাইটি। পেশা আর জাতের ঐ খাতির এইখানে মনেই আসতেছে না। জাতপাতের বাইরে দেখাদেখির ঘটনা একটা। ভালো। আমরা হয়তো এতোদিনে জাতের হিসাবের বাইরে থাইকা বিচার করতে পারতেছি, সেইটা বিজনেসপার্সন বা জেনারেল যাই হৌক! ভালো।

রাজনীতি করতে করতে আনিসুল হকের মরণে এই একটাই ফায়দা পাইতেছি আমি!

গার্মেন্টস বা বিজিএমইএ লইয়া আলাপে না যাই; এই আলাপটা আছে কিছু। একটা কথাই কই এই ব্যাপারে, মজা পাই ভাইবা– হাতির ঝিল দখল কইরা এখনো খাড়াইয়া থাকা বিজিএমইএ দালানটা দেইখা যাগো গা জ্বলে, সেই লোকগুলাই আনিসুল হকের মরণে সবচে বেশি কাতর দেখতেছি!

যাই হৌক, আগাই। আনিসুল হক জেনারেল এরশাদের কারখানার মাল। বিটিভির। খেয়াল কইরেন, হকের মরণে কাতর এইসব লোক এরশাদ বা বিটিভি নামের সরকারি প্রোপাগান্ডা মেশিনটারে কিন্তু পছন্দ করে না! তবু এই ইস্যুটা তারা টানতে নারাজ জনাব হকের ব্যাপারে! আবারো কই, জনাব হক বা এরশাদ, দুইজনকেই তাগো পেশা বা জাতের হিসাবের বাইরে থাইকা বিচার করতে চাইতেছি আমরা।

জনতার ম্যান্ডেটে গদিতে বসেন নাই এরশাদ, বইবার পরেও ম্যান্ডেট পান নাই। কিন্তু শাসন করতে হইলে জনতার মাঝে এজেন্ট লাগে। কেমনে ওভারকাম করলেন এরশাদ? এইটার জবাব হিসাবে আনিসুল হকদের ভাবেন।

[youtube id=”1vRi1rszvak”]

কলিকাতা থিকা ঢাকায় আইসা রাজ্জাকের আশা পুরা হইছে

১৯৮০-৯০ দশের মিডল ক্লাস মাইয়ারা আনিসুল হকে ভিজতেছেন, আনিসুল হক নায়ক; এই মাইয়াদের মন থিকা আনিসুল হক খেদাইয়া দিতেছেন রাজ্জাক বা ওয়াসিম বা আলমগীর বা ফারুক বা ইলিয়াস কাঞ্চনদের। বুলবুল বা জাফর ইকবাল কোনমতে মনের কোণায় থাকতে পারতেছেন! সুবর্ণা বা শম্পা রেজারা খেদাইতেছেন ববিতা-কবরী-শবনমদের। পোলারা ভেজে সুবর্ণা-শম্পায়! এরশাদের প্রোপাগান্ডা চালাইয়া বিটিভি যেই পাপ করতেছে সেইটা ধুইয়া ফেলতেছেন যেন আনিসুল-আফজাল-সুবর্ণা-আলী যাকের! Continue reading

বই: বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের কবিতা সংগ্রহ

বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের প্রথম কবিতার বই পাবলিশড হইছে উনার ৫৭ বছর বয়সে। কবিতা লিখতেছেন মনেহয় এর আগে থিকাই। এই পর্যন্ত ছয়টা কবিতার বই ছাপাইছেন, ওই সবগুলি বই মিলায়া ‘কবিতা সংগ্রহ’ নামে বই ছাপানো হইছে ২০১৭-তে। ওই বইটা থিকা কয়েকটা কবিতা রাইখা বইটারে প্রমোট করতে চাইতেছি আমরা।

‘থাড-ওয়ার্ল্ড’ কান্ট্রি’র অ্যাফ্লুয়েন্ট পিপলদের যেই মাইগ্রেটেট ক্লাস ক্রিয়েট হইছে এখন, সেইটার প্রথমদিককার লোক মনেহয় উনি। ধর্মে সেক্যুলার, পিরিতে দেহবাদী। পলিটিক্যালি যেই কারণে সৈয়দ  আলী আহসান’রে কখনো কবি হিসাবে একসেপ্ট করা যায় নাই, একই বিচারে বি.কে.জি.’রেও নিতে পারা’র কথা না। কিন্তু উনার টাইমের ইন্টেলেকচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং উনারে কিছু বেনিফিট দিছে কবি হিসাবে, দেখার আর বলার জায়গাটাতেও। মোর ফ্লুইড হইতে পারছেন। খারাপ হয় নাই ব্যাপারটা।       

ই. হা.।

—————————————————————-

কবিতা সংগ্রহ। বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। অরিত্র প্রকাশনী। জুন, ২০১৭। কাভার: শুভ্রা আচার্য বন্দ্যোপাধ্যায়। দাম: ৪০০ টাকা।

—————————————————————–

।। সর্বনাশের শেষটা ।। হাজার হাজার ইতিহাসের ।। তোমার হাত ।। বাতাসের মধ্যে দীর্ঘশ্বাস ।। লাস্ট ট্রেন চলে গেলে ।। এই কারবালায় ।। একটি পাখি তার গান নিয়ে ।। আমরা ঠিক করেছি ।। ভাষার কোলাহল ।।

——————————————————————-

 

সর্বনাশের শেষটা

তোমার ট্রেন সকাল দশটায়
তুমি যাবে
তোমার বন্ধুর ভাইকে দেখতে
ইসরাইলী বোমায় তার এক পা
উড়ে গেছে

তোমার স্তন আমার মুখের দিকে
তোমার চুল আমার মুখের পাশে

আমি ঠেকিয়ে রাখি
সর্বনাশের শেষটা[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

(আমাদের মুখ, ১৯৯৩)

 

হাজার হাজার ইতিহাসের

বার্চগুলি মাঠের মধ্যে স্বাভাবিক
সে-স্বাভাবিকতায়
তুমি এলে,
কিছু বাতাস এলো
পাখির ডানা থেকে,

তুমি স্বাভাবিক
বার্চগুলির মতো পাখিটার মতো।

বার্চগুলি শিকড় ছড়িয়ে দিলো
তোমার দুপায়ে,
পাখিটা ডানা উড়িয়ে দিলো
তোমার দু’হাতের গঠনে,

তুমি উড়ে গিয়েও
স্থির হয়ে গেলে,
অদ্ভুত পৃথিবীটায় তুমি ভালোবাসার
পাথর কুড়িয়ে এনেছ,

তুমি পাথর গড়িয়ে দিলে
গুঁড়িয়ে গেলো
বার্চগাছ পাখি আমার হৃদয়,
স্বাভাবিকতাকে তুমি এভাবে
সম্পূর্ণ করে দিলে।

যেন হাজার হাজার ইতিহাসের
যন্ত্রণা
শান্তভাবে কেউ বলে গেলো।

(পুরানো বৃক্ষের ডালপালা, ১৯৯৪)

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →