Main menu

বিবাহিত

‘জাস্ট ম্যারেড’ না লিইখা ‘বিবাহিত’ লিখলা কেন? মোয়ানা হাসি হাসি চোখে কৌতুহলী হয়া জিগায় আমারে। আমি বুঝতে পারি, এইটাই হইতেছে ফার্স্ট ফাইট’টা, বিয়ার আগেই, ম্যারিড লাইফের। আমি এড়াইলাম। কইলাম, ‘এমনেই, পুরান জিনিসের একটা মজা আছে না!’ শি ইজ নট কনভিন্সড। বুঝতে পারে আমি কব্জির মোচড় দিয়া বাইর হইয়া যাইতে চাইতেছি। ‘বলো না প্লিজ!’ মোয়ানা ডিটারমাইন্ড। ও যে জানতেই চায় – এইরকম না ব্যাপারটা। ও একটা ব্যাখ্যা শুনতে চায় যেইটা শোনার পরে মনে মনে একটা গাইল দিতে পারবো আমারে মাদারচোত বইলা! কিন্তু যেহেতু আমি বিয়া করতে রাজি আছি, এইটা মানতে পারতে হইবো আমার। তো, আমার বেস্ট ট্রাইটাই আমি করলাম।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

কইলাম, ‘ধরো দ্বীনের নবী মোস্তফায় রাস্তা দিয়া হাঁইটা যায়’ – এর মধ্যে বিন্দাস একটা ব্যাপার আছে তো, যে যাঁরা এইরকম গান গায়, ওরা ফকির, ভিক্ষা করতে আইছে। তো, ওইরকম আমরা যদি ‘জাস্ট ম্যারেড’ লিইখা উল্টা-পাল্টা গাড়ি চালাই রাস্তায় পুলিশ তো ধরবো না আমরারে, ভাববো নতুন নতুন বিয়া করছে পাগলামি তো করবোই, এই পাগলামি এখন তো করে না আর কেউ। মজাই পাইবো অরা। কিন্তু যদি ‘বিবাহিত’ লেখা দেখে বুঝবো না তো কিছু, ধইরা বসবো, তখন আমরা এক্সপ্লেইন করতে পারবো। থানায় যাওয়া লাগলো। এই অবস্টেকলটা ভাল্লাগবো না আমরা’র, বলো! যে, যা জানি আমরাই জানি খালি… বা ধরো কইলাম, হানিমুন করতে বাইর হইয়া আমরা ‘বাংলা-ভাষা শিক্ষা প্রকল্প’ হাতে নিছি ইউএন’র ফান্ডিং ছাড়াই। বা…’

আর ব্যা ব্যা করা লাগে না আমার। মোয়ানা মুখ ফিরায়া সামনের ক্রিস্টাল ওয়ালে আর্কাইভ প্রজেক্ট কইরা দেখতে থাকে। রিসেন্ট পাস্টের দাম বেশি। চাইল্ডহুড তো অনেক কোম্পানি মাগনাই দেয়, সিডিউস করার লাইগা। লাস্ট দুই বছর কিনা তো লিগ্যালি পসিবল না। পাঁচ বছর আগেরটাও সিলেক্টিভ থাকে। মোয়ানা লাস্ট সাত থিকা পাঁচ বছর পর্যন্ত কিনছে। যেন শে কিছু জিগায়ই নাই আমারে, এমনভাবে কয়, “ছয় বছর আগে রাস্তায় একবার দেখা হইছিলো তোমার লগে আমার, চিনতাম না তখন আমরা নিজেরা’রে…।” আমার হাই উঠে ওর এই কথা শুইনা। ও যেমন আমারে বুইঝা গেছে আমিও বুইঝা গেছি ওরে। এইজন্যই মনেহয় বিয়া করার ডিসিশান নিতে পারছি আমরা। জানা-শোনার তো শেষ নাই, কিন্তু বুইঝা ফেলতে পারাটাই হইতেছে আসল ঘটনা। আমরা বুঝি যে আমরা বুঝি নিজেদেরকে আর তারপরে না বইলাও পারি। এইটা ক্রুশিয়াল, না-বলাটা। বইলা ফেললে বিয়া ব্যাপারটা বিয়া থাকে না আর।

না-বলা’র বিয়া করতে চলতেছি আমরা। অর ফ্রেন্ডরাও হাসছে এইটা শুইনা। কি আজিব! এখনো কেউ বিয়া করে! করতে চায়! দুই-চাইর বছর তো থাকলাই একসাথে। বিয়া কইরা খামাখা রিস্ক নেয়ার কি দরকার! বাচ্চা হেলদি হইলে তো স্টেইট-ই নিয়া নিবে। খরচাও নাই কোন। বিয়া করার কি দরকার! আর আমার ফ্রেন্ড-টেন্ড নাই কোন। বিট কয়েনে মার্কসও কম। এইটার কথা অবশ্য কয় না কেউ অর ফ্রেন্ডরা। আমি ‘গোবেচারা’ ভাব নিয়া আরামেই থাকি। এতো একটা খারাপ লাগে না। কিন্তু মোয়ানা! মোয়ানা কনফিউশনে পইড়া যায়।

আমারে মেমোরি দেখায়। মেমোরি’র ভিতর আমি যে ইনসিগনিফেকন্ট কেউ এইটা শে বুইঝা যায়।

কয়েকদিন আর কোন যোগায়োগ করে না ও। মেসেজ পাঠায়, বিগ-ডাটা’তে; কয়, আমারে কয়টা দিন একলা থাকতে দাও।

Continue reading

দখলের লিস্টে ফেমিনিজমও দরকার না পোলাদের!

‘তোমার স্তন তারা মাপছে ফিতে দিয়ে’

‘color’ এবং ‘colour’ কইলে যদি সিধা বোঝেন যে ‘color’ আমেরিকান ইংরাজি, আর ‘colour’ হইলো বৃটিশ ইংরাজির কেতা, তাইলে সিধাই বোঝার কথা ‘ফিতে’ কোলকাতার বাংলা, আর বাংলাদেশে এইটা ‘ফিতা’! কিন্তু আপনে তো যে কোন একটা লিখতেই পারেন, কইতেও পারেন, সওয়ালটা হইলো–আপনে ডেমোক্রেটিক কিনা। বাংলাদেশের লেখক হিসাবে আপনে যদি দেশের বেশির ভাগ বাঙালির শব্দ লইতে রাজি না হন, বদলে বিদেশী কেতা আর শব্দে লেখেন তাইলে হয় আপনে এই জনতার জন্য লেখেন না, বা আপনে হইলেন বিদেশী ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর। ফিতার ব্যাপারে কেবল কেতার মামলা, আর ‘স্তন’ কইয়া আপনে জনতার আরো দূরে থাকলেন। দেশের বেশিরভাগের কাছে শব্দটা ‘মাই’, এই বাক্যটায় মনে হয় ‘বুক’ কইলেই চলে, কারণ এইটা বুকের মাপই। মাইয়াদের এই অঙ্গটা পাবলিক বলাবলিতে কম দেশে, ইজ্জতে হামলা (ভার্বাল অফেন্স–যেভাবে  ‘হাতটা একটু সরাবেন?’–কওয়া যায়, তেমনি ‘আপনের মাইটা একটু সরাবেন?’ কওয়া যায় না। বুকও কওয়া যায় না আসলে!) হিসাবে দেখার একটা ব্যাপারও আছে, তাই ‘বুক’ দিয়াই কথা চালায় খুব দরকারে। কখনো বা ব্রেস্ট ক্যান্সার কইয়া দুইটাই এড়ায়। কিন্তু আবারো, আপনে গণতান্ত্রিক কিনা, গণতন্ত্রে যাগো মন সেইসব লেখক আপনারে নিতে পারে কিনা, মামলা কিন্তু সেইটাই, আপনে যেইটা খুশি করতেই পারেন।

এ তো গেল শব্দ আর কেতার মামলা, এখন লাইনটা আবার পড়েন। এই লেখকের আপত্তিটা কোনখানে, ‘মাই’ মাপায়, নাকি ‘ফিতা’ দিয়া মাপায়? ঐটার লগে আরেকটা লাইন দিতেছি আমি, এক লগে পড়েন:

“তোমার স্তন তারা মাপছে ফিতে দিয়ে,
অথচ মাপা উচিত ছিল হাতে!”

বাক্য দুইটা যদি মেলে তাইলে বোঝেন, কারো মনে হইতেই পারে, লেখকের আপত্তি আসলে ‘ফিতা’ দিয়া মাপায়!

কিন্তু না, এই ঢঙে আলাপটা চালানো ফোড়ন কাটার বেশি কিছু হয় না, রসের আলাপ করলাম একটু, আপনাদের একটু সিডিউস বা যাদু কইরা পড়াইতে চাইলাম। মুচকি একটা লাজুক হাসি নেন :)!

এই লাইনটা এক কবিতার, নাম ‘কর্তৃত্ব গ্রহণ কর, নারী’, ‘এবাদতনামা’ নামে সেই কবির একটা কবিতার বই আছে, কবির নাম ফরহাদ মজহার; কোলকাতার বইমেলায় রঠার ভক্তদের এবাদতনামার কবিতা পইড়া শুনাইছেন তিনি। রঠার আছে ‘গীতাঞ্জলি’, ইংরাজিতে নাম রাখছিলেন ‘সং অফারিংস’। কিন্তু ফার্সি নামটা কেমন হইতে পারে? আমার হিসাবে ফার্সিতে গীতাঞ্জলির পারফেক্ট তরজমা হইতে পারে ‘এবাদতনামা’।

Continue reading

পোলা-মাইয়া-হিজড়া মানুষেরা

মাঝে মাঝেই দেখি, নারীবাদ আর পুরুষবাদরে এক পাল্লায় মাপতে চান অনেকে, কেউ কেউ ঘেন্না জানান। তারা মানবতাবাদে ফয়সালা দেখেন দুনিয়ার।

এনারা মনে হয় মহাত্মা গান্ধি আর রঠার ফ্যান। শুইনা অনেকের ভালোও লাগে, দামী কথা মনে হইতে পারে।

তো, এখন যদি সিম্পল দুয়েকটা হিস্ট্রিক্যল ঘটনা দেখেন, কেমন হয়?[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

মানবতাবাদের আতুরঘরগুলির খবর লইয়েন প্লিজ। ধরেন, ফ্রান্স একটা; দুই-তিনশো বছর ওনারা মানবতাবাদী হইয়া আছেন, কিন্তু ফ্রান্সের মাইয়ারা ভোট দিতে পারলো ১৯৪৫ সালে আইসা, মহান সেই মানবতাবাদী ফ্রেন্স রেভ্যুলুশনেরও ১৫০ বছর পরে, তাইলে মানবতাবাদ কি করছিল এতদিন? এমনকি এইটা কি মানবতাবাদ দিছে? নো। ইউরোপে গড়পরতা ১৯২০ দশক থেকে মাইয়ারা ভোট দিতে পারে; খেয়াল করেন, ততদিনে ফেমিনিজম ইউরোপে ভালোই তোলপাড় করতেছে! সো, ঐটা আসলে মানবতাবাদের বিরুদ্ধে ফাইট কইরা আদায় করছে ফেমিনিজম। পর্তুগালে এই ফাইটে পুরা জিততে লাগছে ১৯৭৬ সাল তক!

ওদিকে খেয়াল করেন, মডার্ন স্লেভারির ট্রেড শুরুই হইছে ইউরোপে মানবতাবাদ গজাবার পরে! মানবতাবাদ না হইলে কঠিন আছিল; কেননা, তার আগে রিলিজিয়নের শাসনের অনেক মুশকিল থাকলেও আগের খ্রিস্টিয়ানিটি কালাদের মানুষই মনে করতো, মানবতাবাদ যে বিবর্তনবাদ/ইভুল্যুশনের আইডিয়া বানাইছে সেইটাই বরং কালাদের ইতর হিসাবে দেখার লাইসেন্স দিল!

এদিকে, মহাত্মা গান্ধির বর্ণবাদের খবর জানতে পারবেন একটু খবর লইলেই; রঠার নিজের মাইয়া বাল্যবিয়ার শিকার হইয়া মরছে, পড়ায় নাই রঠা তাগো। তার মাইয়া ক্যারেক্টারগুলিরে আমার মনে হইছে অক্সিলারি হিউম্যান বিইং; নন্দিনীরে মনে হইতে পারে বেহেস্তের সুবাস, কিন্তু আখেরে সে ইনোসেন্ট ইগনাইটার মাত্র, অক্সিলারিই তো! মৃম্ময়ী গল্পের ভিতর ধীরে ধীরে অক্সিলারি হইয়া উঠতেছে, হৈমন্তি অক্সিলারি হইতে রাজি হইতে পারলো না, বেশি বয়সে বিয়া হইছে বইলা ফ্লেক্সিবিলিটি হারাইছে, আসল পুরুষের হাতেও পড়ে নাই, তাই মরতে হইলো হৈমন্তিরে। মাইয়াদের জন্য নিয়তির কানুন দেখাইয়া গেছেন রঠা।

কিন্তু ইতিহাসের এই ধাপে আইসা তো মানুষ একমাত্র ভাবনার ইস্যু না! দুনিয়ারে  খাইয়া ফেলছে মানুষ, তারপর বিষ খাওয়াইছে; দুনিয়ার গাছ খাইছে, জমিতে এমনভাবেই বিষ দিছে যে ঘাস হয় না আর, সাগরের পানিতে বিষ দিয়া মাছের ক্যান্সার বানাইয়া দিছে। দুনিয়ায় মানুষের জিন্দা থাকার শর্তগুলিরেই খুন করছে মানুষ। এইসব গত ৫০০ বছর মানবতাবাদেরই শাসনের ফল, আকাম। মাইয়ারা মানবতাবাদের ভিকটিমদের একজন মাত্র, পুরা দুনিয়াই ভিকটিম আসলে! Continue reading

বুক সামারি: গ্রীক লজিকের ক্রিটিক

অ্যাকাডেমিক ঢংয়ে লেখা বইটা। অ্যাকাডেমিক বলতে এইরকম একটা টেক্সটরে আমি বুঝি যেইখানে ডেফিনেশনগুলি বা লিমিটগুলি খুব পারফেক্টলি সেট করা। এইটার দরকার পড়ে আসলে কোনকিছু প্রমাণ করার লাইগা, এই স্পেসিফিক হওয়াটার। কিন্তু চিন্তার কাজ যতোটা না স্পেসিফিক হওয়া তার চাইতে বেশি হইলো এক্সপান্ড করতে পারা। এই কারণে ফর্মের জায়গাটাতে সবসময় চুজ করার একটা ব্যাপার থাকে। এমনিতে ফর্ম যে ইটসেলফ ল্যাঙ্গুয়েজ – এই বিশ্বাস তো আমাদের অনেকেরই নাই। ড. মঈনউদ্দিন আহমদ খান যদি নিজের লেখার জায়গাটাতে নিজের চিন্তাটারেই অনুবাদ করতেন তাইলে উনিও হয়তো এইরকমই ভাবতে পারতেন। মানে, কিছুদূর পর্যন্ত মাইনা নিতে পারতেন হয়তো ফর্মের এই ব্যাপারটারে। কিন্তু শেষমেশ উনি ‘পাশ্চাত্য’ হইতে রাজি করাইতে পারছেন মনেহয় নিজেরে। ডেভিড গ্রেভার তার ‘ডেবট: দ্য ফার্স্ট ৫০০০ ইয়ারস বইটা’র একটা জায়গাতে রেফারেন্স দিয়া কইতেছিলেন যে, ‘রাজ দরবারে গেলে রাজার ভাষায় কথা কইতে হবে…’ এইরকমের কিছু; তো, এই ডিসিশানটা আসলে পয়লাই নিয়া নিতে পারাটা জরুরি যে, রাজার ভাষায় কথা কওয়াটা ইটসেলফ একটা অবস্টেকল।

তো, আমি এইখানে উনার আর্গুমেন্টগুলির কোন ক্রিটিক করার চাইতে বইটার একটা সামারি-ই করতে চাইতেছি। কারণ, চিন্তার যেই সার্কেলে আমরা এখন আছি সেইখানে এই বেসিক জিনিসগুলি নিয়া তেমন কোন আলাপ নাই। তো, জায়গাটারে এক্সপ্লোর করাটা বেশি জরুরি।

পাশ্চাত্য বলতে ড. মঈনউদ্দিন আহমদ খান গ্রীক চিন্তারেই রেফার করছেন আর প্রাচ্য বলতে ‘ইসলামি’ চিন্তা, লগে ভারতীয় চিন্তারেও রাখছেন একটু, চাইনিজ চিন্তার রেফারেন্সও দিছেন একটা জায়গায়। মানে, যখন ‘পাশ্চাত্য’রে সেন্টার করতেছেন তখনই অরিয়েন্টালিজম শুরু হইতে পারতেছে আসলে! পাশ্চাত্য বা প্রাচ্য এই ক্যাটাগরিগুলি নিয়া কোন আলাপে যান নাই। আবার যখন ‘গ্রীক’ চিন্তার কথা আসতেছে তখন একটা জিওগ্রাফিক্যাল লোকেশনের কথাই বলা হইতেছে, ‘হেলেনিক’ বইলা কোন ধর্মের নাম নাই!  কিন্তু আবার ইরাকের আল-কিন্দি বা মিশরের ইবনে খালদুন জিওগ্রাফিক্যাল লোকেশন দিয়া আইডেন্টফাইড হন নাই, ‘ইসলামি’ চিন্তা দিয়া একটা রেফারেন্সের জায়গাতে আসছেন। অথচ এই যে ‘ইসলামি’ টাইমলাইন সেইখানে খলিফা/সম্রাট বিভিন্ন টাইমলাইনে ছিলেন আরবের/স্পেনের/ইরাকের/আফ্রিকার/তুরস্কের, কিন্তু আরবের/স্পেনের/ইরাকের/আফ্রিকার/তুরস্কের বইলা ‘নাম’ দিতে পারি নাই আমরা। পরে এই চিন্তা যখন ‘ইউরোপ’-এ মাইগ্রেটেট হইছে তখন ‘খ্রিষ্টান চিন্তা’ হয় নাই আর, ‘ইউরোপিয়ান চিন্তা’ হইছে, ইভেন ধরেন লাতিন আম্রিকা গিয়া বাচ্চা পয়দা দিলেও। আগে আর পরে জিওগ্রাফিক্যাল লোকেশনরে সেন্টার ধরা আর মাঝখানে জিওগ্রাফিক্যালি লোকেট না করাটাই কোর ডিফরেন্সের জায়গা। আপেল’রে বলা হইলো কমলা বা মাল্টা। এই ‘নাম’ দেয়ার ব্যাপারটা নিয়াই বলছেন উনি ফার্স্টে। কিন্তু ‘নাম’ দিতে হেসিটেটই করছেন মনেহয়।

শব্দ আর তার মিনিং নিয়া কনসার্ন হইছেন উনি, বলছেন যে, ‘নাম’ দিতে পারাটাই হইতেছে নলেজ। যেইখানে গ্রীক বা পাশ্চাত্য ধারার নলেজ হইতেছে ‘ডিফাইন’ করতে পারাটা। এই ‘নাম দেয়া’ আর ‘ডিফাইন করা’ প্রায় একই জিনিস মনে হইলেও যেই জায়গা থিকা শুরু হইছে সেইটা পুরাই আলাদা। ‘ডিফাইন করা’টা বাইরের একটা ব্যাপার, খুবই সাবজেক্টিভ একটা ঘটনা, কেউ একজন আছেন আগে – এই অনুমানটা জরুরি, যিনি ডিফাইন করতেছেন আর ‘নাম দেয়া’টা ঠিক বস্তুর দিক থিকাও দেখা না। উনি বলেতেছেন, ‘গ্রীকদের ধারণা সাবজেক্টিভ ও প্রাচ্যের নামকরণ অবজেক্টিভ।’ (প. ১১) কিন্তু এইরকম ক্যাটাগরিটাতেই আসলে সাসটেইন করা যায় না উনার কথা মানলে। কারণ ‘অবজেক্টিভিটি’ বলতে বস্তুর জায়গা থিকা দেখা না বরং একটা ট্রুথ-এর জায়গা থিকা দেখার কথা বলতেছেন। [‘…বড় জোর বস্তুকে সত্যের সাক্ষ্য বলা যায়। কেননা, বস্তু সত্যের ক্ষণিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রতিচ্ছবি।’ (প. ০৯)]

Continue reading

বঙ্কিম’স এডভাইস

বাংলাদেশের ইউনির্ভাসিটিগুলাতে ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ের উপ্রে কোন কোর্স আছে বইলা জানা নাই। বাংলা-একাডেমি কবি এবং গল্পকার পয়দা করার যে প্রজেক্ট নিছিলো, সেইটা ওয়াইডলি স্প্রেড হয় নাই আর। আবৃত্তি-করা বা শুদ্ধ উচ্চারণের কোর্সও হয় অনেক জায়গায়। বিশ্ব-সাহিত্য কেন্দ্রও মনেহয় বই-ই পড়ায় খালি, লেখালেখিটা শিখাইতে চায় না। এর কারণ হিসাবে মনে হইতে পারে লেখালেখি’তে শিখার মতো কোন জিনিস নাই। কিন্তু যাঁরা লেখালেখি করেন, একটা স্টেইজে আইসা ফিল করতে পারার কথা যে, লেখালেখি নিয়া ডিফরেন্ট পারসপেক্টিভগুলা জানাটা লেখালেখি’তে হেল্পই করে একরকম। এইগুলা খালি বই পইড়া হয় না, এই কারণে যাঁরা লেখালেখি করবেন বইলা ডিসিশান নিছেন, তারা তাদের পরিচিত লেখকদের সাথে দেখা করার, আড্ডা দেয়ার ব্যাপারটার মধ্যে থাকেন; ক্রিয়েটিভ রাইটিং লার্নিংয়ের প্রাকটিস হিসাবে সোসাইটিতে এইটাই চালু আছে। মাসুদ খান মনেহয় একসময় তরুণ কবিদের ইনফরম্যাল ক্লাশ নিতেন, শাহবাগে; অন রিকোয়েস্টে। এইরকম থাকতে পারে আরো।

তো, বাংলায় যেকোন একটা ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ের ফর্মাল কোর্সের শুরুটা বঙ্কিমের অ্যাডভাইস দিয়াই মনেহয় শুরু হইতে পারে। 

এই অ্যাডভাইসগুলি রিড করতে পারাটা একটা ব্যাপার, কিন্তু হুবহু মানতে গেলে, ঝামেলাই হওয়ার কথা! অ্যাডভাইস ব্যাপারটা এইরকমই তো…

ই. হা.

 

—————————————————————————————————————

 

বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন *

১। যশের জন্য লিখিবেন না। তাহা হইলে যশও হইবে না,  লেখাও ভাল হইবে না। লেখা ভাল হইলে যশ আপনি আসিবে।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

২। টাকার জন্য লিখিবেন না। ইউরোপে এখন অনেক লোক টাকার জন্যই লেখে, এবং টাকাও পায়; লেখাও ভাল হয়। কিন্তু আমাদের এখনও সেদিন হয় নাই। এখন অর্থের উদ্দেশ্যে লিখিতে গেলে, লোক-রঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হইয়া পড়ে। এখন আমাদিগের দেশের সাধারণ পাঠকের রুচি ও শিক্ষা বিবেচনা করিয়া লোক-রঞ্জন করিতে গেলে রচনা বিকৃত ও অনিষ্টকর হইয়া উঠে।

৩। যদি মনে এমন বুঝিতে পারেন যে, লিখিয়া দেশের বা মনুষ্য জাতির কিছু মঙ্গল সাধন করিতে পারেন, অথবা সৌন্দর্য্য সৃষ্টি করিতে পারেন, তবে অবশ্য লিখিবেন। যাঁহারা অন্য উদ্দেশ্য লেখেন, তাঁহাদিগকে যাত্রাওয়ালা প্রভৃতি নীচ ব্যবসায়ীদিগের সঙ্গে গণ্য করা যাইতে পারে।

৪। যাহা অসত্য, ধর্ম্মবিরুদ্ধ; পরনিন্দা বা পরপীড়ন বা স্বার্থসাধন যাহার উদ্দেশ্য, সেসকল প্রবন্ধ কখনও হিতকর হইতে পারে না, সুতরাং তাহা একেবারে পরিহার্য্য। সত্য ও ধর্ম্মই সাহিত্যের উদ্দেশ্য। অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী-ধারণ মহাপাপ। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →