Main menu

আমার কথা – বিনোদিনী দাসী। (৫)

।। ।। ।। ।।

——————

বিনোদিনী দাসী প্রেম, বিয়া বা অন্যান্য সোশ্যাল রিলেশনের চাইতে উনার প্রফেশন’রে প্রায়োরিটি দিতে চাইছিলেন; অ্যাকট্রেস হওয়াতেই থাইমা থাকতে চান নাই, থিয়েটারের মালিকানা চাইছিলেন। প্রেমের প্রতারণাগুলিরে ইগনোর করতে পারলেও সোশ্যাল রিলেশনের প্যাঁচগুলি পার হইতে পারেন নাই। উনারে নিয়া বানানো নাটক-সিনেমাগুলিতে উনারে এতো বড় অ্যাকট্রেস বানানো হয় যে মনে হইতে পারে – এইগুলি উনি চান নাই! বা পরে হয়তো একভাবে নেগোশিয়েনও করতে চাইছেন এইভাবে যে, এইগুলি চাওয়া উনার ঠিক হয় নাই। কিন্তু সারভাইভ করা সম্ভব হয় নাই আর। গিরিশবাবুরে গুরু মানলেও গুরু লালন-ভক্ত না হইলেও মেবি জানতেন সাধন-সিদ্ধির মতো মাইয়াদের মালিকানাও হইতে নাই। 🙂

ই. হা.।

——————

ষ্টার থিয়েটার সম্বন্ধে নানা কথা

পত্র

মহাশয়!

এই সময় আমায় অতিশয় সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় পড়িতে হইয়াছিল। আমাদের ন্যায় পতিতা ভাগ্যহীনা বারনারীদের টাল বেটাল তো সর্বদাই সহিতে হয় তবুও তাহাদের সীমা আছে; কিন্তু আমার ভাগ্য চিরদিনই বিরূপ ছিল। একে আমি জ্ঞানহীনা অধম স্ত্রী লোক, তাহাতে সুপথ কুপথ অপরিচিতা। আমাদের গন্তব্যপথ সততই দোষণীয়, আমরা ভাল পথ দিয়া যাইতে চাহিলে, মন্দ আসিয়া পড়ে – ইহা যেন আমাদের জীবনের সহিত গাঁথা। লোকে বলেন আত্মরক্ষা সতত উচিত, কিন্তু আমাদের আত্মরক্ষাও নিন্দনীয়! অথচ আমাদের প্রতি স্নেহ চক্ষে দেখিবার বা অসময় সাহায্য করিবার কেহ নাই! যাহা হোক; আমার মর্ম্ম ব্যাথা শুনুন। [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

আমিও এই সময় প্রতাপবাবু মহাশয়ের থিয়েটার ত্যাগ করিব মনে মনে করিয়াছিলাম। ইহার আগে আরেকটি ঘটনার দ্বারা আমায় কত ব্যথিত হইতে হইয়াছিল। আমি যে সম্ভ্রান্ত যুবকের আশ্রয়ে ছিলাম, তিনি তখন অবিবাহিত ছিলেন, ইহার কয়েকমাস আগে তিনি বিবাহ করেন ও ধনবান যুবকবৃন্দের চঞ্চলতা বশতঃ আমার প্রতি কতক অসৎ ব্যবহার করেন। তাহাতে আমাকে অতিশয় মনঃক্ষুন্ন হইতে হয়। সেই কারণে আমি মনে করি যে ঈশ্বর তো আমার জীবিকা নির্বাহের জন্য সামর্থ্য দিয়াছেন, এই রূপ শারিরীক মেহনত দ্বারা নিজের ও পরিবার বর্গের ভরণপোষন নির্বাহ করিতে যদি সক্ষম হই, তবে আর দেহ বিক্রয় দ্বারা পাপ সঞ্চয় করিব না ও নিজেকেও উৎপীড়িত করিব না। আমা হইতে যদি একটি থিয়েটার ঘর প্রস্তুত হয় তাহা হইলে আমি চিরদিন অন্ন সংস্থান করিতে পারিব। আমার মনের যখন এই রকম অবস্থা তখনই ঐ “ষ্টার থিয়েটার” করিবার জন্য গুম্মূর্খ রায় ব্যস্ত। ইহা আমি আমাদের এক্টারদের নিকট শুনিলাম এবং ঘটনা চক্রে এই সময় আমার আশ্রয় দাতা সম্ভ্রান্ত যুবক ও কার্য্যানুরোধে দূরদেষে অবস্থিতি করিতেছিলেন। এই দিকে অভিনেতারা আমাকে অতিশয় জেদের সহিত অনুরোধ করিতে লাগিলেন যে, “তুমি যে প্রকারে পার একটি থিয়েটার করিবার সাহায্য কর!” থিয়েটার করিতে আমার অনিচ্ছা ছিল না, তবে একজনের আশ্রয় ত্যাগ করিয়া অন্যায়রূপে আর একজনের আশ্রয় গ্রহণ করিতে আমার প্রবৃত্তি বাধা দিতে লাগিল। এদিকে থিয়েটারের বন্ধুগণের কাতর অনুরোধ! আমি উভয় সঙ্কটে পড়িলাম। গিরিশবাবু বলিলেন থিয়েটারই  আমার উন্নতির সোপান। তাঁহার শিক্ষা সাফল্য আমার দ্বারাই সম্ভব। থিয়েটার হইতে মান সম্ভ্রম জগদ্বিখ্যাত হয়। এইরূপ উত্তেজনায় আমার কল্পনা স্ফীত হইতে লাগিল। থিয়েটারের বন্ধুবর্গেরাও দিন দিন অনুরোধ করিতেছেন, আমি মনে করিলেই একটি নূতন থিয়েটার সৃষ্টি হয় তাহাও বুঝিলাম। কিন্তু যে যুবকের আশ্রয়ে ছিলাম, তাঁহাকেও স্মরণ হইতে লাগিল! ক্রমে সেই যুবা অনুপস্থিত, উপস্থিত বন্ধুবর্গের কাতরোক্তি, মন থিয়েটারের দিকেই টলিল। তখন ভাবিতে লাগিলাম যিনি আশ্রয় দিয়েছেন, তিনি আমার সহিত যে সত্যে আবদ্ধ ছিলেন, তাহা ভঙ্গ করিয়াছেন, অপর পুরুষে যেরূপ প্রতারণার বাক্য প্রয়োগ করে, তাঁহারও সেইরূপ। তিনি পুনঃ পুনঃ ধর্ম্ম সাক্ষ্য করিয়া বলিয়া ছিলেন যে আমিই তাঁহার কেবল একমাত্র ভালবাসার বস্তু, আজীবন সে ভালবাসা থাকিবে। কিন্তু কই তাহা তো নয়! তিনি বিষয় কার্য্যরে ছল করিয়া দেশে গিয়াছেন, কিন্তু সে বিষয় কার্য্য নয়, তিনি বিবাহ করিতে গিয়াছেন। তবে তাঁহার ভালবাসা কোথায়?  এতো প্রতারণা! আমি কি নিমিত্তে বাধ্য থাকিব? এরূপ নানা যুক্তি হৃদয়ে উঠিতে লাগিল! কিন্তু মধ্যে মধ্যে আবার মনে হইতে লাগিল, যে সেই যুবার দোষ নাই, আত্মীয় স্বজনের অনুরোধে বিবাহ করিতে বাধ্য হইয়াছেন। আমি তাঁহার একমাত্র ভালবাসার পাত্রী তবে একি করিতেছি। রাত্রে এ ভাব উদয় হইলে অনিদ্রায় যাইত, কিন্তু প্রাতে বন্ধুবর্গ আসিলে অনুরোধ তরঙ্গ ছুটিত ও রাত্রের মনোভাব একেবারে ঠেলিয়া ফেলিত! থিয়েটার করিব সংকল্প করিলাম! কিন্তু এখন দেখিতেছি আমার মন আমার সহিত প্রতারণা করে নাই। ইহা যতদূর প্রমাণ পাওয়া সম্ভব তাহা পাইয়াছিলাম। কিন্তু দিন ফিরিবার নয়, দিন ফিরিল না। এ প্রমাণের কথা মহাশয়কে সংক্ষেপে পশ্চাৎ জানাইব! Continue reading

ব্রিটিশ-ভারতে মুসলমান-আইন: আবুল হুসেন

১৯৩০ সালে এই লেখা ছাপা হইছিল ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’র মুখপত্র ‘শিখা’ পত্রিকায়। ‘শিখা’ পত্রিকার ৫টা সংখ্যা ছাপা হইছিল, ১৯২৭ থিকা ১৯৩১ সাল পর্যন্ত; বছরে একবার কইরা। ২০০২ সালে ঢাকার একুশে পাবলিকেশন্স লিমিটেড ‘নির্বাচিত শিখা’ নামে আবদুল মান্নান সৈয়দের সম্পাদনায় একটা বই ছাপান। এই লেখাটা ওই বইয়ে (২৭৬ – ২৭৯) রিপ্রিণ্ট করা হয়।

রাইটার আবুল হুসেন (১৮৯৭ – ১৯৩৮) কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি করতেন। ১৯২৬ থিকা ১৯৩০ পর্যন্ত তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’-এর সাথে জড়িত আছিলেন।

এইখানে ব্রিটিশ ন্যাশনালিস্টদের উনি ক্রিটিক করতেছেন উনারা এনাফ ন্যাশনালিস্ট না বইলা: আরবদেশের আইন তো বাংলাদেশে (এই শব্দটাই লিখছেন উনি) চলতে পারে না! মে বি ‘শিখা’ পত্রিকাটাই একটা এক্সপোজার, যেইটা স্পষ্ট করে যে বাংলাদেশের মুসলমানরাও ইউরোপিয়ান র‌্যাশনালিটির বেসিসেই আলাপ করতে রাজি আছেন। এই র‌্যাশনালিটির কারণেই হয়তো মালিকানার ব্যাপারটারে লিনিয়ার হিসাবে ভাবতে পারছেন, ওই সময়ের কনটেক্সটে যেই কয়েকটা এক্সাম্পাল উনি দিছেন, সেই জায়গাগুলিতে।

এমনিতে, আইন নিয়া পাবলিক স্পেইসে কথা-বার্তা দেখা যায় না তেমন। কি কি আইন আছে আর সোসাইটিতে এর ইমপ্লিকেশনগুলি কি রকম – সেইটার বাইরেও আইনের বেসিসগুলি নিয়া কথা-বার্তা তো হইতেই পারে।

– ই.হা.

__________________________

মানুষ আপনার শক্তি বিকাশ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আইন গঠন করে। তাই আইন ও মানুষে অবিচ্ছেদ্য সম্বন্ধ। একে অপরকে এড়িয়ে যেতে পারে না বরং একে অপরের হাত ধরাধরি করে চলে। তাই বলে যে আইন ও মানুষ সনাতন অপরিবর্তনীয় হয়ে থাকে তা নয়। মানুষ তার আপনার প্রয়োজনে আইন গড়ে, ভাঙ্গে, পরিবর্তন করে ও ছেড়ে দেয়-সঙ্গে সঙ্গে আইন মানুষকে ক্রমেই বিকাশের পথে এগিয়ে নিয়ে চলে। মানুষের এগিয়ে চলা যেমন স্বাভাবিক আইনের পরিবর্তন করবার শক্তিও তার তেমনি অনিবার্য। কিন্তু যে মানুষ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে চায় ও আইনকেও ধরে রাখতে চেষ্টা করে সে মানুষ তার জীবনস্রোত হারাতে বাধ্য।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

যুগেযুগে মানুষ তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার তাড়নায় আপনার স্বত্বার প্রয়োজনে আইন গড়েছে। সেই অবস্থা বিশেষই আইনের জন্ম দিয়েছে। কাজেই অবস্থার পরিবর্তন হলে আইনের পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী।

হজরত মুহম্মদের যুগে আরব দেশের প্রয়োজন অনুসারে যে আইন রচিত হয়েছিল সে আইন জগতের সর্বত্র সর্ব অবস্থাতেই প্রযোজ্য বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। কিন্তু সে বিশ্বাস মানুষের সমাজ ও রাষ্ট্রের ইতিহাস সমর্থন করতে পারে না। সেই ভ্রান্ত বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে এদেশের মুসলমানদের জন্য ব্রিটিশ-প্রভু যে মুসলমান আইনের প্রচলন করেছেন তার জন্মভূমি ছিল আরব-মরু, বোখারা, খোরাসান ও সমরকন্দ-যার পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে আধুনিক ভারতীয় মুসলমানের পরিপার্শ্বের আদৌ মিল নাই। এই জীবন্ত পরিপার্শ্বকে তুচ্ছ করে জোরজবরদস্তি খোরাসান-বোখারার আইন হুবহু প্রবর্তন করবার চেষ্টা করা হয়েছে।

ফলে ভারতীয় মুসলমান-মানুষ ও মুসলমান-আইনের মধ্যে যে বিরোধ দিন দিন প্রবল হয়ে উঠেছে এবং তাতে ভারতীয় মুসলমান সমাজের যে অবস্থা হয়েছে তা চক্ষুষ্মান ব্যক্তি মাত্রই ইচ্ছা করলে দেখতে পারেন। আজ আমি ব্রিটিশ ভারতের মুসলমান-মানুষ ও মুসলমান-আইনের মধ্যে পরস্পরের সম্বন্ধ কি ও তার তার ফলাফল কি হয়েছে ও হচ্ছে সে সম্পর্কে সামান্য কিছু ইঙ্গিত করেই ক্ষান্ত হব। এ সম্বন্ধে যোগ্যতম ব্যক্তি বিস্তৃতভাবে আলোচনা করলে ভারতীয় মুসলমান সমাজের বহু ব্যাধি দূরীকরণের পথ উন্মুক্ত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

গোড়াতেই স্মরণ রাখা কর্তব্য যে, ব্রিটিশ-রাজ ভারতীয় মুসলমানের মাত্র ওয়ারিসী স্বত্ব, দান, বিবাহ, তালাক, ওয়াকফ ও হকশোফা সম্পর্কিত আইনের প্রচলনে সম্মতি দিয়েছেন, কিন্তু অপরাপর আইনের প্রচলন বন্ধ করেছেন। তারপর ঐ সমস্ত প্রচলিত আইন পরিচালনার জন্য মুসলমান আইন সঙ্গত যে বিধি বিধান প্রচলিত ছিল, যেমন ইজমা, কেয়াস, ইজতিদাহ, তাও বন্ধ করেছেন। তাতেও পক্ষান্তরে ব্রিটিশ-অনুমোদিত মুসলমান আইনের ব্যবহার (practice) অনেকখানি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাতে মুসলমান সমাজে মুসলমান-আইনের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা ও ভয় অনেকখানি কমে গেছে এবং সে জন্যই মুসলমান সমাজের শ্রী ফুটতে পারছে না। আর একদিক থেকে ভারতীয় মুসলমানদের জীবন বিকশিত হতে পারছে না। আরবি না জানার দরুণ অনেক ক্ষেত্রেই মুসলমান আইনের প্রকৃত মর্ম বিচারকগণ উপলব্ধি করতে না পেরে ভুল অর্থে আইনের প্রয়োগ করায় মুসলমান সমাজের বর্তমান অবস্থার সাথে মুসলমান আইনের সামঞ্জস্য হারিয়ে গেছে ও প্রতিনিয়ত যাচ্ছে। কথাটি বেশি বিস্তৃত করে বলবার ইচ্ছা প্রবল হলেও এ প্রবন্ধে বলতে পারলাম না বলে দুঃখিত। এ কটি কথা কেবল বন্ধুদের পুনঃ পুনঃ তাকিদের জন্য লিখতে বাধ্য হয়েছি। Continue reading

ইমরুল হাসান-এর ‘মকারি’

মকারি জিনিসটা হিউমারাস হইলেও, ঠিক হিউমার না; একটু ইনফিরিয়র, ভোঁতা টাইপের জিনিস; একটা সেন্স অফ অরিজিনালিটি থাকতে হয় আগে তা নাইলে মকারি হয় না। একটা জিনিস আছে অরিজিনাল, সুন্দর, আপনি তারে ভেঙ্গাইলেন। তো, ওইটা না থাকলে তো হইলো না, অরিজিনাল’টারে মেনশন করার ভিতর দিয়া তারে বাতিল করার একটা ব্যাপার থাকে। আছে তো, কিন্তু পাত্তা দিলাম না, বদলাইয়া ফেললাম, হাসলাম ওইটারে নিয়া। বা বদলাইতে যে পারলাম, হাসিটা ওইখানেই। এমনিতে কমন হিউমারে একটা ‘সেন্স অফ অরিজিনালিটি’ বরং মিসিং থাকে; আছে, সবাই জানে, কিন্তু না বইলাই বেশি বুঝানো যায়, এইরকম। সত্যিটা সবাই জানে; যেহেতু জানে, যে জানে না বা জাইনাও বুঝে না, তার লগে হিউমার করলেন। ঠারে ঠারে বুঝাইলেন। না-বলা সত্যিটারে না বইলাই আরো জোরদার কইরা দিলেন। মকারি’র এই টেনশনটা কম। কোনকিছু প্রমাণ করার। নিজের কোন গ্রাউন্ড নাই, ভেঙ্গানিটাই আছে। যদি অরিজিনালের ঘটনাটা আপনার জানা না থাকে তাইলে মকারির ব্যাপারটা আপনি ঠিকমতো টের পাইবেন না। তখন সেইটা অবশ্য মকারি না আর, হয়তো নতুন কোন ম্যাক্সিম। 🙂  [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

———————————-

।। বোদলেয়ার ।। লালন ।। রবীন্দ্রনাথ ।। জীবনানন্দ দাশ ।। সুমনের গান ।। লতা মুঙ্কেশকর ।। ফিউশন উইথ সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ।। সক্রেটিস ।। জুলিয়াস সিজার ।। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ।। ভাস্কর চক্রবর্তী ।। সুকান্ত ভট্টাচার্য ।। মান্না দে ।। হেমন্ত মুখার্জী ।। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ।। পবন দাস বাউল ।। অর্ণব ।। অমিয় চক্রবর্তী ।। মানিক বন্দোপাধ্যায় ।। সিগমুন্ড ফ্রয়েড ।। অনন্ত জলিল ।।  শহীদ কাদরী ।। তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায় ।। ভ্যান গগঁ ।।

 ———————————-
 

বোদলেয়ার
আমি ভালোবাসি অ্যাভারেজ পিপল… থমকে থাকা অ্যাভারেজ পিপল… ঐ নিচাতে… ঐ নিচাতে… আমি ভালোবাসি আশ্চর্য অ্যাভারেজ পিপলদের!

 

1. Charles-baudelaire

 

 

লালন
আমার নেইবার যে আছে, সে তো খালি আমারেই দেখে!

 

রবীন্দ্রনাথ
তুমি চঞ্চল হে,
তুমি বাংলাদেশি প্রবাসী

 

জীবনানন্দ দাশ
যে হৃদয় বাঘেদের, সিংহদের, হরিণীদের সাথে তাদের হইতেছে দেখা

 

সুমনের গান
পুলিশ  তুমি কেঁদো না, আমারও কান্না আছে

Continue reading

আনোয়ার পাশার পিরিতের চাবুকে বাংলার জখম

মাদ্রাসার মাস্টার আনোয়ার পাশার নভেল ‘রাইফেল, রোটি, আওরাত’ পড়ছেন? এইটা মুক্তিযুদ্ধ লইয়া পয়লা নভেল, যুদ্ধের টাইমেই লেখা, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে উনি খুন হন পাকিস্তানপন্থিদের হাতে, এ কারণে বাংলাদেশ এই মাদ্রাসার মাস্টারকে শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসাবে মনে রাখে। বাংলাদেশে ১৪ ডিসেম্বর যাগো কারণে মনে আসে তাগো মাঝে আনোয়ার পাশা একজন।

তো, অনলাইনে পড়তেছিলাম রাইফেল, রোটি, আওরাত। না, এইটার ভিত্রে বাংলা একাডেমীতে বই বেচার যে বড় বাজার বসে সেইটার লগে দুশমনি নাই কোন :)! পুরাটা পড়তেও চাইতেছি না, দুই-চার পাতা পইড়া স্রেফ দুইটা কথা পাড়ার পায়তারা করতেছি আর কি![pullquote][AWD_comments][/pullquote]

এই নভেলের নায়ক মনে হইতেছে সুদীপ্ত শাহিন, ইনি ইংরাজির মাস্টার ঢাকা ভার্সিটিতে। কোলকাতা থিকা পাকিস্তানে মাইগ্রেট করছিল, এই নাম লইয়া ভেজালে পড়ে পাকিস্তানে–মোসলমান কিনা সন্দেহ করে, তাই নাম পাল্টাইয়া ফেলেন এই মাস্টার সাব।

আগে এক লেখায় কইতেছিলাম, আইউব খান পাকিস্তানে রঠার গান গাইতে মানা করায় রঠার গান দিয়া ছায়ানট বা উদীচী সারা পূব পাকিস্তানে মুভমেন্ট শুরু করে, বাংলাদেশের কালচার্ড মিডল ক্লাসের মন রঠার গানের দখলে যাবার গোড়ায় আছেন আইউব খান, ছায়ানট হইলো ঐ খান সাহেবের আনওয়ান্টেড চাইল্ড। আমার এই কথারে কিছু ভ্যালিডিটি দিতেছে আমাদের এই মাদ্রাসামাস্টার, নায়কের নাম ‘সুদীপ্ত’ রাইখা। এই নাম একটা অর্থ দেবার লোভে রাখা হইতেছে, কিন্তু বাঙালিরা এইটার অর্থ জানে না, অশিক্ষিত তো দূর, শিক্ষিতরাও জানে না!

সুদীপ্ত শাহিন কলেজে মাস্টারির চাকরিতে ইন্টারভিউ দিতে গেলে বোর্ডের লোকেরা ঐটার অর্থ না জানাটা জানায়, জিগায়–”সুদীপ্ত কথাডার মানেডা কি?”।সুদীপ্ত তখন অর্থটা জানায়, “উত্তমরূপে দীপ্যমান যাহা”। পাশা সাহেব নায়কের এমন নাম কেন রাখলেন? এমন নাম যা গড় বাঙালি বোঝে না, একবার শুইনা কইতেও পারবে না! এইটা আসলে রেজিস্ট্যান্স, পাকিস্তানপন্থিদের ভাবনার রিঅ্যাকশন! কোন ভাবনা? বোর্ডের জবাবে সেইটা পাইবেন– “এ তো তবে বাংলা নাম হইলো সাব। আপনে তবে হিন্দু হইতে চান?”। Continue reading

বদ্রিয়াঁ’রে ভুইলা যান

বদ্রিয়াঁরে ভুইলা যা

সিলভের্ লোত্রাঁজেজঁ বদ্রিয়াঁ

. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

 

বদ্রিয়াঁ ১৯৭৭ সালে “ফরগেট ফুকো” নামে একটা লেখা ‘ক্রিটিক’ পত্রিকাতে ছাপানোর লাইগা পাঠান, মিশেল ফুকো তখন ওই পত্রিকার এডিটিং প্যানেলে আছিলেন। সেই লেখা ক্রিটিক-এ ছাপা হয় নাই আর ফুকো লেখাটার কোন রেসপন্সও করেন নাই। পরে বদ্রিয়াঁ ছোট বই বানাইয়া লেখাটা ছাপান। ১৯৮৩ সালে ‘ফরেন এজেন্টস’ সিরিজের আন্ডারে সেমিওটেক্সট পাবলিকেশন এইটা ইংলিশে ট্রান্সলেট কইরা ছাপানোর প্ল্যান করে, কিন্তু ১৯৮৪-তে ফুকো মারা যাওয়ার কারণে একটু লেইট কইরা ১৯৮৭ সালে একটা বই ছাপানো হয়; ‘ফরগেট ফুকো/ফরগেট বদ্রিয়াঁ নামে। বইয়ের একদিক দিয়া বদ্রিয়াঁ’র লেখা আরেকদিক দিয়া  কয়েকটা পার্টে বদ্রিয়াঁ’র একটা বড়সড় ইন্টারভিউ। ওই ইন্টারভিউ’টার লাস্ট পার্ট এইটা। ২০০৭ অনুবাদটা করছিলাম, এইখানে এডিট করলাম আবার।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

বদ্রিয়াঁ’র পজিশনটা ফুকো’র বেসিক প্রিমাইজগুলিরেই বাতিল কইরা দেয়। ফুকো যেইখানে এক একটা টাইমে এক একটা নরমালিটি’রে আইডেন্টিফাই করেন, সেইখানে বদ্রিয়াঁ’র পয়েন্টটা হইতেছে যে, নরমালিটি বইলা অ্যাজ সাচ কিছু নাই। যেইখানে একটা থিওরি’র সম্ভাবনার কথা ফুকো বলেন, বদ্রিয়াঁ’র কথা হইতেছে, থিওরি’র কোন দরকারই নাই; কারণ কোন একটা রিয়ালিটির কল্পনা ছাড়া থিওরি এগজিস্ট করতে পারে না, রিয়ালিটি বইলা তো কিছু নাই। রিয়ালিটি হইতেছে থিওরি’রই একটা সিমুলেশন। একটা রিয়ালাটির কল্পনা ছাড়া কোন থিওরি এগজিস্ট করতে পারে না।

যে কোন থিওরি’রেই তার একস্ট্রিম লেভেল পর্যন্ত নিয়া গেলে দেখা যায়, ওইটার কিছু থাকে না আর। থিওরিরে নিয়া  বদ্রিয়াঁ এই কাজটাই করেন, দেখান যে, থিঙ্ক অফ ইটস অউন বইলা কিছু নাই। আপনি বা আমি এর ক্ষেত্রে ফুকোর ইনকোয়ারিটা হইতেছে কোন কোন ডিসকোর্সের ভিতরে কিভাবে এইটা কনস্ট্রাক্ট হইতেছে; দেল্যুজ এই কনসেপ্টগুলির ফ্লোটিংনেসটারে তাদের মুভমেন্টগুলিতে লোকেট করতেছেন আর  বদ্রিয়াঁ তাদেরকে শেষ পর্যন্ত টাইনা নিয়া দেখাইতে চান এইখানে কোন আপনি বা আমি নাই।

মুশকিল হইতেছে, এই ‘না-থাকাটারে’ নিয়া কি করবো আমরা? তেমন কিছুই করার নাই আসলে। আছে বইলা যা ভাবি সেইটা যে কেমনে নাই হইতেছে সেইটা বুঝতে পারলে হয়তো ঘটনা কেমনে ঘটতেছে সেই জায়গাটার একটা আন্দাজ পাইতে পারি। আর বদ্রিয়াঁ’র রিডিং থিকা আমার আন্দাজটা এইরকম যে, ট্রুথ বলার ট্রাই করার চাইতে কি কি ইল্যুশনের ভিতরে আমরা আছি সেইটা বলাটা মোর এফেক্টিভ হইতে পারে।

————————————————

 

সিলভের্ লোত্রাঁজে: নিটশের মতে, ফিলোসফারের কাজ হইলো অ্যাকশনের অর্থ বাইর করা। তার কাজ হইলো সমাজের ভিতরের শক্তিগুলি একটা আরেকটার সাথে যে মোকাবিলা করতেছে সেইটারে অ্যাক্টিভলি ইভালোয়েট করা। অন্যদিকে, আপনি, কইলেন যে, “সামাজিকতা শেষ হইছে।” একটা জটিল রিয়ালিটিরে আপনি একটা অ্যাবস্ট্রাকশনের ভিতর হাইপোথাইজ করলেন, অ্যাবস্ট্রাকশনটারে সাথে সাথে একটা আনরিয়ালিটি’তে ফেরত পাঠানোর লাইগা। কিন্তু আপনি সামাজিকতারে যদি একটা এম্পটি ফর্মের শেষ বইলা ভাবেন, তাইলে, থিওরি’র কি দরকার আর থাকে?

জঁ বদ্রিয়াঁ: সামাজিকতা যদি কখনো থাইকাও থাকে, এইটা সমাজের একটা রিপ্রেজেন্টেশন হিসাবে না, বা কোন পজিটিভ সেন্সেও না; বরং থাকে বিষয়গুলির রিয়ালিটির প্রতি একটা চ্যালেঞ্জ হিসাবে, একটা বিষাক্ত মিথ হিসাবে। জর্জ বাতাই এইভাবেই সোসিওলজি’রে দেখেছিলেন: সামাজিকতা আর সমাজের খাঁটি প্রকৃতির প্রতি একটা চ্যালেঞ্জ হিসাবে।

এল.: কিন্তু সামাজিক যদি এইরকম ওজনহীনই হইয়া থাকে, তাহলে মিথ কি আক্রমণ করে? আর কি কারণে করে?

বি.: আমি স্বীকার করি যে, থিওরি’র প্রশ্ন আমারে বিরক্ত করে। আজকে থিওরি কই? এইটা কি পুরাপুরি সেটেল হইছে? থিওরি কি ওই এলাকাগুলিতে ঘুরপাক খাইতেছে যেইখানে তার ফ্যাক্টগুলি নিয়া কিছুই করার নাই?  অ্যানালাইসিস কি জিনিস?

যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি ধইরা নিতেছেন যে, রিয়েল দুনিয়া বইলা একটা ব্যাপার আছে, ততক্ষণ থিওরি’র একটা জায়গা আছে, তর্কের খাতিরে বলা যাক একটা ডায়ালেকটিক্যাল পজিশন আছে। তাইলে একটা পয়েন্টে আইসা থিওরি আর রিয়ালিটি’রে অদল-বদল করা করা সম্ভব – আর এইটা হইতেছে আইডিয়াল ব্যাপার। এইক্ষেত্রে, এই দুইটার মাঝখানে তারপরও একটা কন্টাক পয়েন্ট থাকে: দুনিয়াটারে আপনি বদলাইতে পারেন, আর থিওরি দুনিয়ারে বদলাইতে পারে…

এইটা কোনভাবেই আমার পজিশন না আর। আরো কথা হইলো, এইটা কোনসময়ই আমার পজিশন আছিলো না। কিন্তু আমি এইটারে কোনসময়ই ফর্মুলেট করতে পারি নাই। আমার মতে, থিওরি হইতেছে রিয়ালের প্রতি সিম্পলি একটা চ্যালেঞ্জ; একটা চ্যালেঞ্জ দুনিয়ার থাকার লাইগা; অনেক সময়, এর অতিরিক্ত, গড-এর থাকার প্রতি একটা চ্যালেঞ্জ। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →