Main menu

অনধিকার চর্চা

বৈষম্যমূলক সমাজে কমোডিটিগুলোও সেগ্রেগেটেড থাকলে ভালো হয়। এ নিয়ে বিশ্লেষণে আমি যাবো না, বিশ্লেষণ করার মতো জ্ঞান আমার নেই। তবে রোজ গুলশান-২ আসা-যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে একটা গল্প দিয়ে শুরু করতে পারি।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

একটি প্রাসঙ্গিক বাড়তি গল্পঃ আমার অফিস গুলশান-২ নম্বরে, খুব অভিজাত এলাকা। এখানকার বসবাসরত মূল্যবান প্রাণগুলো বাঁচানোর জন্য নিরাপত্তার নামে এখানে সাধারণ মানুষদের হেনস্থা করা হয়। আমার বাসা শেওড়াপাড়া, মিরপুর। আমি সকালবেলা কুড়িল ফ্লাইওভার দিয়ে অফিসে আসি, পথ দূর হলেও আমার সময় কম লাগে। (অন্যান্য পথের ভোগান্তির বৃত্তান্তে আজকে যাচ্ছি না)। মিরপুর ১০-এ এসে কালশী ফ্লাইওভার দিয়ে কুড়িল, বিশ্বরোড যাবে এমন বাসে আমি চড়ি। নর্দ্দা বাসস্ট্যান্ড নামি, রাস্তা পার হয়ে ‘চেকপোস্ট’ (বারিধারা ডিওএইসএস-এর গেট) পর্যন্ত রিকশাতে আসি। এরপর এই সাধারণ রিকশাগুলো আর ঢুকতে পারে না। অসাধারণ রিকশার অপেক্ষায় সাধারণ, অসাধারণ সবাই এক কাতারে দাঁড়ায়। ধরে নিচ্ছি আগে রিকশা ছিলো ২০০, মানুষ ৫০০। এখন চেকপোস্টের ঐপাশে দেড়শ রিকশা, ৫০০ জনের চাহিদা মেটাচ্ছে। আর এই পাশে ৫০০ জনের চাহিদা মেটাচ্ছে ৫০টা রিকশা। যেহেতু এদের চাহিদা বেশি, তাই সবার বিবেচনায় এরা অসাধারণ রিকশা। ঐ পাশ পর্যন্ত সবাই ২০ টাকার রাস্তা ২০টাকা দিয়ে আসে, এই পাশে আসলে পরে হিসাবটা দাঁড়ায়, আপনি ২০ টাকার রাস্তা ৩০ টাকা দিয়ে যেতে রাজি নাকি না? যাত্রীর পরিস্থিতি বিবেচনা করার সুযোগ রিকশাওয়ালাদের নেই, সে হাতেম তাই না। সে শুধু জানে তার রিকশার জন্য অন্তত ৫ জন অপেক্ষা করে আছে, এবং এর মধ্যে অন্তত ২ জন ৫০ টাকা ভাড়া চাইলেও যাবে। ৫০টাকা দিয়ে যে খুশি খুশি যাবেই যাবে এই কথা বিশ্বাস না হলে কয়েকদিন গুলশান-২ অঞ্চলে আসা-যাওয়া করে যান, দুনিয়াদারি কিছু চিনলেও চিনতে পারেন। দুল হারালে বা কাপড়ে চা পড়লে আর মন খারাপ হবে না। যাইহোক, প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পরে যে ৩ জন, তাদের হাঁটতে হয়। কিছু করার নাই, তাদের মাসের রিকশা ভাড়ার বরাদ্দ সীমিত এবং নির্দিষ্ট। আমাকেও হাঁটতে হয়, কারণ আমার অফিস মাঝামাঝি দূরত্বে (মূল দূরত্বঃ ইউনাটেড হাসপাতাল থেকে গুলশান-২)। মাঝামাঝি কোথাও আপনার গন্তব্য হলে যেকোনো দিকেই আসা বা যাওয়ার চিন্তা বাদ দেন। আপনি রিকশাওয়ালাদের জন্য পুরাই লস প্রজেক্ট। 😀

 

Continue reading

কালা চাড়ালের পাছায় তুর্কি পায়ে আর্য লাত্থি

দেশে সুলতান সুলেমান জনপ্রিয়। জনতার ভালো লাগতেছে, এই কথাটা যতটা বুঝলেন তারচে বেশি না বোঝার কথা! মানে কি?

সিধা বুঝতেছেন যে, বহু মানুষ সুলতান সুলেমান পছন্দ করে, দেখতেছে। কিন্তু বুঝলেন না যে, জনতা একাট্টা জিনিস না তো কোন, জনতার শরীক বহু, ধর্ম-বর্ণ-জাতি-লিঙ্গ-ক্লাস ভাগাভাগি আছে জনতার মাঝে। ‘জনপ্রিয়’ কথাটায় আপনে তাইলে বুঝলেন না যে, জনতার কোন ভাগে কতটা জনপ্রিয় সুলতান সোলেমান, জনপ্রিয়তায় আকাশ-পাতাল ফারাক আছে কিনা জনতার বহু শরীকের ভিতর। ফারাক থাকুক আর না থাকুক, জনতার একেকটা ভাগ কোন একটা জিনিস একেক কারণে নেয়, সবগুলা ভাগ একই কারণে নেয় না বা খায় না। আপনে তাইলে এইটাও বুঝলেন না যে, জনতার কোন ভাগে কেমনে ঢুকলো সুলতান সোলেমান, কোন ভাগ যদি একদমই না দ্যাখে বা না নেয়, তাইলে কেন ঢুকতেই পারলো না, বা নিলোই না! [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

সুলতান সোলেমানে কি কি আছে, জনতার কোন ভাগ কেন নিতেছে, কোন ভাগ নিলোই না–এগুলি বোঝা দরকার আমাদের; এগুলি বোঝার ভিতর দিয়া আমরা জনতার ভাগগুলি বুঝতে পারবো আরো সোজাসাপ্টা, আমাদের আর্ট-কালচারের প্রোডাক্ট কেমন হইতেছে, জনতা কেন কোনটা খাইতেছে বা খাইতেছে না, জনপ্রিয় হইলেও কোনটা আমাদের নেওয়া ঠিক হবে না বা নেওয়া উচিত, এইসব আরো ভালো কইরা বুঝতে পারবো আমরা।

দেশের আদিবাসিদের মাঝে সুলতান সুলেমান কতটা জনপ্রিয়? হিন্দুরা কতটা দ্যাখে? মোসলমানরা? ইংরাজি মিডিয়ামে পড়া জনতা বা আমেরিকান সিরিয়ালের ফ্যান যারা? মাদ্রাসা পড়ুয়ারা? পোলা-মাইয়া ফারাক আছে? অশিক্ষিতরা? ঠিকঠিক হিসাব জানি না আমি, জনতার এই সব ভাগাভাগি হিসাবে রাইখা হইছে তেমন কোন জরিপের কথাও জানি না। ঐ ভাবে আলাপের উপায় নাই; তারচে আমরা কনটেন্ট লইয়া আলাপে যাই, দেখি সুলতান সুলেমানে কি কি আছে, সেই সব মালমশলা কার ভিতরে কতটা ঢুকতে কামে লাগতেছে তার একটা স্কেচ আঁকার চেষ্টা করি।

আমাদের ইতিহাস ভাবনা মোটামুটি কম্যুনাল, তাতেও আবার ভেজাল আছে। বাংলা লিটারেচারে মোসলমানদের অবদান আলোচনা করি, হিন্দুদের অবদান টপিক হিসাবে পাই না, খৃস্টানদের অবদানও টপিক হইয়া ওঠে না, বৌদ্ধরা হয়তো একটু আলাপে আসেন! মোসলমানদের শাসন হিসাবে সুলতানী আমল আর মোঘল আমল এক হইয়া থাকে, ইংরাজ শাসন আবার খৃস্টানের শাসন হিসাবে দেখতেই পাইতেছি না! এমন ইতিহাস ভাবনা মনে লইয়া আমরা কি না দেইখা পারি যে সুলতান সুলেমান একজন মোসলমান!

সুলতান সুলেমান তুর্কি বাদশাহ। ইতিহাসের এমন এক সময়ের বাদশাহ্ যখন মোসলমানদের গৌরবের কাল চলতেছে বইলা মনে করে বহু মোসলমান। দিল্লিতে তখন মোঘল এম্পায়ার তুমুল উঁচায় যাইতেছে, পশ্চিম আফ্রিকায় মোসলমান বাদশার বিরাট এম্পায়ার আছে, ইরানের শাহ্ কয়েক হাজার ঘোড়া আর সেনা দান করতে পারেন মোঘল বাদশা আকবরের বাপ হুমায়ুনকে, হুমায়ুন সেই দানে দিল্লি ফেরত পাইতে পারেন। সুলতান সোলেমান ইউরোপের রোমান এম্পায়ারের দখল কমাইয়া দিতেছে, ইউরোপের অনেক খৃস্টান দেশ সুলতানের দখলে যাইতেছে। গৌরবের সেই কাহিনি টিভির জন্য বানাইছে তুরস্কের নতুন গর্ব, মোসলমানদেরো গর্ব প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের আমল, যেই এরদোয়ান ন্যাটোরে চ্যালেঞ্জ করে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে ধামকি দেয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের লগে টক্কর দেয়। Continue reading

মুর্দার কানে দিতেছি মরণের খবর

আগামী ১৫০ বছরে অন্তত ৬০০ কোটি মানুষ মরবে। এই স্টেটমেন্ট দিতে কয়েকটা জিনিস কনস্ট্যান্ট হিসাবে নিলাম আর কি:

ক. দুনিয়ায় এখন ৬০০ কোটি মানুষ আছে।
খ. এদের কেউ ১৫০ বছরের বেশি বাঁচবে না।
গ. মানুষের আর কোন বাচ্চা হবে না।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

কী হবে তাইলে? দুনিয়ায় মানুষ থাকবে না আর। মানুষের যদি বাচ্চা হইতে থাকে তাইলে মরণের এই নাম্বার আরো বড়ো হবে। সো স্যাড 🙁 । স্যাড? নট এক্সাক্টলি; মরণ ৬০০ কোটি ছাড়াইয়া যাবার আরো অর্থ হইলো, ১৫০ বছরের পরেও মানুষ থাকছে দুনিয়ায় !

তাইলে রিপ্রোডাকশনের গুরুত্ব দেখেন! তো, বাংলা বা তামিল–কোন একটা বুলি বা কালচারের বেলায় রিপ্রোডাকশনের গুরুত্ব কেমন? মনে হচ্ছে আমরা কইতে পারি, একটা কালচারের আয়ু বেশি হইলে ১৫০ বছর – যদি না সেই কালচারের রিপ্রোডাকশন চালু থাকে।

বাট কালচারাল রিপ্রোডাকশন তো অমন একটা ব্যাপার না তো যে, আচমকা একদিন পুরা বন্ধ হইয়া গেল! তবু মরে তো কালচার, বুলি; আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার বহু আদিবাসী কালচার মরছে সাদারা সেইসব কালচারের সবাইরে খুন কইরা ফেলছিল! এমনে সবাইরে খুন না করলেও বুলি বা কালচার মরে কিন্তু! ধরেন, সংস্কৃত বা এনসিয়েন্ট ঈজিপ্ট! এগুলি মরছে পাওয়ার হারাইয়া; সংস্কৃতে হয়তো এখনো কেউ লেখে তবু মরাই তো! কেমনে পাওয়ার হারাইলো?

Continue reading

ইন্টেলেকচুয়ালস আর ক্ষমতা: মিশেল ফুকো এবং জিল দেল্যুজের আলাপ

এই আলাপটা বেশ পুরানই, ফরাসী পত্রিকা লার্ক-এ ছাপা হইছিল ১৯৭২ সালে। তখনো সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙে নাই। ভিয়েতনামও যুদ্ধ জিতে নাই। ইন্টারনেট নাই। এক জায়গা থিকা আরেকটা জায়গার ইস্যুগুলিরে কেমনে কাভার করবেন, এইসব নিয়া কথা কইতেছিলেন উনারা।… এমনিতে এই আলাপের ইংরেজী অনুবাদটা অনলাইনে অ্যাভেইলবেল। ২০০৬ সালের দিকে এইটা পড়ছিলাম। তো, পড়তে গিয়া মনে হইতেছিল এই জিনিসগুলি বাংলায় বলতে পারলে নিজের পড়াটা বেটার হইতে পারে। আর অনেকেই ফুকো, দেরিদা, লাঁকা, ব্রদিয়াঁ’র নাম নেন, উনাদের চিন্তা নিয়া আলাপ করেন, গালি-গালাজও করেন; কিন্তু উনাদের টেক্সটগুলি বাংলাভাষাতে অ্যাভেইলেবল না। ট্রান্সলেট করতে গেলে টেক্সট’টা পড়ার বাইরেও একটা বিচার যেমন করা হয়, আবার চিন্তাটারে ভাষার ভিতর ইনসার্টও করা যায় – এইরকমের অনুমান তো ছিলই।

আলাপটাতে কনফ্লিক্টের চাইতে সাপ্লিমেন্টই করছেন বেশি উনারা একজন আরেকজনরে, নিজেদের চিন্তার জায়গা থিকা। থিওরি তো আসলে নিজেই আরেকটা রিয়ালিটি; একটা টুল, যেইটা প্রাকটিক্যালি ইউজ না করতে পারলে সেইটা কোন থিওরি-ই হইতে পারে না। তো, একজন ইন্টেলকচুয়ালের কাজ কাউরে রিপ্রেজেন্ট করা না, মাইনষে তো বুঝে না, সো আমি বুঝাইয়া দিলাম – এইটা খুবই অপমানের একটা ব্যাপার, দুইদিক থিকাই। বরং ইন্টেলেকচুয়ালের কাজ হইলো ক্ষমতা যেই অবস্টেকলগুলা ক্রিয়েট করে, ইন্টেলেকচুয়ালিটি’টারে [বা ক্রিয়েটিভ অ্যাক্টগুলারেও] যে খাইয়া ফেলে [ব্ল্যাক মিরর-এর সিজন ওয়ান এর সেকেন্ড এপিসোড’টা দেখা যাইতে পারে, এইখানে; আরো এক্সাম্পাল আছে আসলে] সেই জায়গাগুলিরে মার্ক করা, এক্সপ্লোর করা, ডিফিউজ করা। বিপ্লব একটা ভালো ব্যবসা; রিফর্ম করাটাও, যখনই সেইটা একটা রিপ্রেজেন্টেশনের জায়গা থিকা করা হয়। ওইটা লিবারাল ইগোর কাজ। এমনিতে ফুকোর কি-ওয়ার্ড হইতেছে পাওয়ার বা ক্ষমতা আর দেল্যুজের কি-ওয়ার্ড হইতেছে ডিজায়ার। এখন ইন্টেলেকচুয়ালিটির ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এইরকম না যে, একটা আরেকটা এগেনেস্টে দাঁড়ায়; বরং একটা আইডিয়া আরেকটা আইডিয়ার চাইতে বেশি দূর পর্যন্ত এবং বেশি ভিতর পর্যন্ত ব্যাখ্যা করতে পারে। ক্ষমতা যেই ঘটনার মামলা, ডিজায়ার হইতেছে সেইটারে অ্যাক্টিভ রাখার মেশিন – এইভাবে হয়তো উনাদের বলার জায়গাটারে রাফলি লোকেট করা যাইতে পারে।  

বাংলা অনুবাদটা ২০০৬ সালে ‘কবিসভা নামে একটা ইয়াহু ওয়েব গ্রপে সার্কুলেট করা হইছিল, আর দৈনিক সমকালের ‘কালের খেয়া’তে ছাপা হইছিল ২০০৭ সালে। এইখানে ওই ভার্সনটারে এডিট করা হইছে। তারপরও অনুবাদে ভুল থাকেই; যতোটা না ভাষারে বুঝতে না-পারার  রণে, তার চাইতে বেশি যেই মিনিংগুলির ভিতর দিয়া ভাষাটারে রিড হয় সেই ধারণাটাই  একটা অবস্টেকলের ঘটনা হিসাবে থাকে। আর নিজের লেখা নিজে এডিট করতে পারাটা বেশ কঠিন কাজই। কিছু টার্ম পুরানই রইয়া গেলো বা মন-মতো হইলো না আর। হয়তো আবারও এডিট করা লাগবে। টিল দ্যান, এইটাই থাকলো। 

———————————————————————————–

 

ফুকো : একবার একজন মাওবাদী আমারে কইছিল যে, “সার্ত্রের মতলবটা আমি সহজেই বুঝতে পারি – কেন উনি আমাদের লগে থাকেন; উনার উদ্দেশ্য আর রাজনীতিতে যুক্ত হওয়াটা আমি বুঝতে পারি; আমি আপনার অবস্থানটাও কিছুটা বুঝতে পারি, যেহেতু আপনি জেলখানার সমস্যা নিয়া সবসময় চিন্তা করতেছেন। কিন্তু দেল্যুজ আমার কাছে পুরা একটা ধাঁধাঁ।’ তার এই কথা শুইনা আমি খুবই শকড হইছি, কারণ আপনার পজিশন আমার কাছে সবসময় খুবই স্পষ্ট মনে হইছে।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

 

দেল্যুজ : সম্ভবত থিওরি এবং প্রাকটিসের একটা নতুন সম্পর্কের অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়া আমরা যাইতেছি। একটা সময়ে তো মনে করা হইতো যে, প্রাকটিস হইতেছে থিওরি’র একটা প্রয়োগ, একটা ফলাফল; আবার আরেকটা সময়ে, উল্টা একটা মানে আছিলো, ভাবা হইতো এইটা থিওরি’রে ইন্সপায়ার করে, ফিউচারের থিওরির ফর্মটা এইটা ছাড়া তৈরি হইতে পারে না। যে কোনো ঘটনায়, এদের রিলেশনটা বুঝা হইতো একটা টোটালাইজেশনের প্রসেসের দিক থিকা। কিন্তু, আমরা তো, এই প্রশ্নটারে অন্যভাবে দেখছি। থিওরি আর প্রাকটিসের সম্পর্কটা অনেক বেশি আংশিক আর টুকরা টুকরা টাইপের ব্যাপার। এক দিক দিয়া, থিওরি সবসময় লোকাল একটা ব্যাপার আর একটা লিমিটেড ফিল্ড নিয়া থাকে, আর এইটা এপ্লাই করা হয় অন্য আরেকটা জায়গার উপর, যেইটা কম বেশি এর থিকা আলাদা।  একটা তত্ত্বের তার ব্যবহারের সাথে যে সম্পর্ক তা কখনোই একইরকমের না। এইটা ছাড়াও, যখন একটা থিওরি তার প্রপার ডোমেইনে ঢুকে, তখন সে সামনাসামনি হয় বাধাগুলির, দেয়ালগুলির আর আটকাইয়া-যাওয়াগুলির তখন এইটার নিজেরে রিলে করার দরকার হয় অন্য ধরনের ডিসকোর্সগুলিতে (আর এইরকম অন্য একটা ডিসকোর্সে যাওয়ার ভিতর দিয়া ধীরে ধীরে অন্য আরেকটা ডোমেইনের ভিতর ঢুকে)।। প্রাকটিস হইতেছে একটা রিলে-করার সেট, একটা থিওরেটিক্যাল পয়েন্ট থিকা আরেকটা পয়েন্টে যাওয়ার; আর থিওরি হইতেছে একটা প্রাকটিস থিকা আরেকটাতে যাওয়ার রিলের ঘটনা। কোনো একটা দেয়ালের মোকাবেলা করা ছাড়া কোনো থিওরি তৈরি হতে পারে না, আর প্রাকটিসটা জরুরি সেই দেয়ালটাকে ছিদ্র করার লাইগা। উদাহারণ হিসাবে, আপনার কাজ শুরু হইছিল বন্দিত্ব নিয়া থিওরেটিক্যাল অ্যানালাইসিসে ভিতর দিয়া, বিশেষ কইরা উনিশ শতকের একটা পুঁজিবাদী সমাজে মানসিক হাসপাতালের কাজ-কর্ম নিয়া। তারপর আপনি সচেতন হইয়া উঠলেন যে, আটকানো মানুষজনের তাদের নিজেদের নিয়ে কথা বলাটা দরকার, একটা রিলে’র জায়গা তৈরি করা (আবার বিপরীতভাবে, এইটাও সম্ভব যে, আপনার কাজ প্রথম থিকাই তাদের সম্পর্কের একটা রিলে হয়া ছিল); আর সেই দলটারে পাওয়া গেলো হাজতে – সেই মানুষগুলি ছিল কয়েদে। আর এইটারে বেসিসে আপনি সংগঠিত করলেন ইনফরমেশন গ্রুপ অফ প্রিজনস (জি.আই.পি.), যেইটার উদ্দেশ্য আছিলো এমন শর্তগুলি তৈরি করা যাতে কয়েদীরা নিজেদেরকে কথা বলার অনুমতি দিতে পারে। এইটা বলা সম্পূর্ণ মিথ্যা হবে, যেমনটা মাওবাদী লোকটি যেইটা বুঝাইতে চাইতেছিলেন যে, এই প্রাকটিসটা শুরু করতে গিয়া আপনি আপনার থিওরিটারে অ্যাপ্লাই করছেন। এইটা না আছিলো কোন প্রাকটিস, না ছিল রিফর্ম শুরু করার কোন প্রজেক্ট বা ট্রাডিশন্যাল সেন্সে কোন একটা ইনকোয়ারি। এর জোরটা ছিল পুরাপুরি আলাদা একটা একটা জিনিস: একটা বড় বলয়ের মধ্যে রিলেগুলির একটা সিস্টেম, একটা মাল্টিপ্লিসিটির অংশগুলির মধ্যে যেইটা একইসাথে থিওরেটিক্যাল এবং প্রাকটিক্যাল। আমাদের কাছে, একজন থিওরাইজিং ইন্টেলেকচুয়াল একটা সাবজেক্ট না আর, কনশাসনেসের রিপ্রেজেন্টেটিভ বা যে রিপ্রেজেন্ট করতেছে। যারা অ্যাক্ট করে আর লড়াই করে তাদেরকে একটা গ্রুপ বা একটা ইউনিয়ন, যারা নিজেদের বিবেকের কারণে অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোটারে জায়েজ মনে করে, তারা কেউ রিপ্রেজেন্ট করে না। কে কইতে পারে আর অ্যাক্ট করতে পারে? এইটা সবসময় একটা মাল্টিপ্লিসিটির ব্যাপার, এমনকি যেইটা মানুষটা কইতেছে আর অ্যাক্ট করতেছে, তার ভিতরেও। আমরা সবাই হইতেছি “গ্রুপোসকোলস” [groupuscules]। রিপ্রেজেন্টশনটা এগজিস্ট করে না; এইখানে খালি অ্যাকশন আছে – থিওরেটিক্যাল অ্যাকশন আর প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন যেইটা রিলের কাজটা করে আর নেটওয়ার্কগুলি বানায়।   Continue reading

হাইকুঃ বাশো এবং মুরাদুল ইসলাম

হাইকু হচ্ছে এক ধরনের কবিতা। সাইজে ছোট। সাধারনত হাইকুতে দুইটা দৃশ্য থাকে এবং তাদের মিলাইয়া থাকে আরেক লাইন। তবে জাপানি হাইকু এক লাইনে হইত। এবং তার নিয়ম ছিল ৫-৭-৫ মোরাস মিলে ১৭ মোরাসের কবিতা। জাপানি ভাষায় তিন ধরনের অক্ষর বিদ্যমান (হিরাগানা, কাতাকানা ও কানজি); এবং তার প্রয়োগ হইত হাইকুতে। এছাড়া হাইকু আবৃত্তিরও নিয়ম কানুন ঠিক করেছিলেন কোন কোন হাইজিন। হাইজিন হইলেন হাইকুর কবি।

যেহেতু জাপানি ভাষা জানা নাই, তাই এতসব বিচার কইরা হাইকু পড়তে যাই নাই। এর সরলতা দেইখা পড়তে ও বুঝতে গেছি। ভালো লাগছে।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

হাইকু উপভোগ করতে হয় এর টোনের সাথে নিজেরে মিলাইয়া। নিজেরে মানে নিজের অভিজ্ঞতারে। একেকজনের অভিজ্ঞতা যেহেতু আলাদা, যেহেতু অভিজ্ঞতা ভিন্নতা তৈয়ার করে মানুষে মানুষে তাই হাইকু একেকজন একেকভাবে উপভোগ করে থাকেন।

হাইকু বলতেই যেই জাপানিজ কবির নাম আসে তিনি মাতসুও বাশো (১৬৪৪-৯৪)। বাশো ছিলেন একজন সামুরাই। এইটা সম্মানজনক যোদ্ধা র‍্যাংক। কিন্তু কবি তা ত্যাগ করে কবিতা লেখা শুরু করেন। এবং দারুণ কবি খ্যাতি পান তিনি।

তিনি একাকীত্বে ভুগতেন। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াইতেন। অনেকসময় বন্ধুবান্ধব হইতেও দূরে গিয়া থাকতেন। তার কবিতায় দুই জেন শিক্ষা আছে বা তিনি রাখতে চাইতেন। ওয়াবি এবং সাবি। ওয়াবি বলতে একেবারে সহজ, সাধারন, কঠোর সংযমী জীবন যাপন। সাবি হচ্ছে অসম্পূর্নতারে সম্মান ও মর্যাদার সাথে গ্রহণ। এই দুই জিনিস জেন বুদ্ধিজমের গুরুত্বপূর্ন দুই ব্যাপার। জেন বুদ্ধিজমে অসম্পূর্নতারে মর্যাদা দেয়া বিষয়টারে এভাবে বুঝানো হয়, একটা পাত্র সাধারন। কিন্তু হাত থেকে পড়ে ভেঙ্গে টুকরা টুকরা হয়ে গেল। তখন এই টুকরাগুলো জোড়া লাগালে পাত্রটি হবে অসাধারন। কারণ তার ভিতরে তখন অসম্পূর্নতা আসবে। জেন এই শিক্ষার মূলে আছে মানব জীবনের অসম্পূর্নতারে যাতে মানুষ গ্রহণ করতে পারে।

মানুষ সাধারণত এই ভ্রমে থাকে যে তার লাইফ একসময় পারফেক্ট হবে। বাচ্চা পোলা ভাবে সে বড় হবে, খ্যাতি পাবে, বিয়া করবে, তার বাচ্চা কাচ্চা হবে; এবং তার হবে একটা সুখী পারফেক্ট জীবন। কিন্তু তা হয় না। সব ধাপেই কিছু ইম্পারফেকশন বা অসম্পূর্নতা তার জীবনরে জড়াইয়া ধইরা রাখে। জেন শিক্ষা সাবি, এই অসম্পূর্নতার সৌন্দর্যরে দেখার শিক্ষা।

বাশো কবিতায় লাইটনেস তথা হালকাত্বের ধারনায় বিশ্বাস করতেন। তার মতে ভালো কবিতা হচ্ছে সেটা, যার লাইন এবং সংযুক্তকারী লাইন এতো হালকা হবে যেন একটা নদী আলতোভাবে বয়ে যাচ্ছে কোন বালুকাময় স্তরের উপর দিয়ে। সংযুক্তকারী লাইন বলতে তিনি হাইকুর শেষলাইন বুঝিয়েছেন। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →