এই আলাপটা বেশ পুরানই, ফরাসী পত্রিকা লার্ক-এ ছাপা হইছিল ১৯৭২ সালে। তখনো সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙে নাই। ভিয়েতনামও যুদ্ধ জিতে নাই। ইন্টারনেট নাই। এক জায়গা থিকা আরেকটা জায়গার ইস্যুগুলিরে কেমনে কাভার করবেন, এইসব নিয়া কথা কইতেছিলেন উনারা।… এমনিতে এই আলাপের ইংরেজী অনুবাদটা অনলাইনে অ্যাভেইলবেল। ২০০৬ সালের দিকে এইটা পড়ছিলাম। তো, পড়তে গিয়া মনে হইতেছিল এই জিনিসগুলি বাংলায় বলতে পারলে নিজের পড়াটা বেটার হইতে পারে। আর অনেকেই ফুকো, দেরিদা, লাঁকা, ব্রদিয়াঁ’র নাম নেন, উনাদের চিন্তা নিয়া আলাপ করেন, গালি-গালাজও করেন; কিন্তু উনাদের টেক্সটগুলি বাংলাভাষাতে অ্যাভেইলেবল না। ট্রান্সলেট করতে গেলে টেক্সট’টা পড়ার বাইরেও একটা বিচার যেমন করা হয়, আবার চিন্তাটারে ভাষার ভিতর ইনসার্টও করা যায় – এইরকমের অনুমান তো ছিলই।
আলাপটাতে কনফ্লিক্টের চাইতে সাপ্লিমেন্টই করছেন বেশি উনারা একজন আরেকজনরে, নিজেদের চিন্তার জায়গা থিকা। থিওরি তো আসলে নিজেই আরেকটা রিয়ালিটি; একটা টুল, যেইটা প্রাকটিক্যালি ইউজ না করতে পারলে সেইটা কোন থিওরি-ই হইতে পারে না। তো, একজন ইন্টেলকচুয়ালের কাজ কাউরে রিপ্রেজেন্ট করা না, মাইনষে তো বুঝে না, সো আমি বুঝাইয়া দিলাম – এইটা খুবই অপমানের একটা ব্যাপার, দুইদিক থিকাই। বরং ইন্টেলেকচুয়ালের কাজ হইলো ক্ষমতা যেই অবস্টেকলগুলা ক্রিয়েট করে, ইন্টেলেকচুয়ালিটি’টারে [বা ক্রিয়েটিভ অ্যাক্টগুলারেও] যে খাইয়া ফেলে [ব্ল্যাক মিরর-এর সিজন ওয়ান এর সেকেন্ড এপিসোড’টা দেখা যাইতে পারে, এইখানে; আরো এক্সাম্পাল আছে আসলে] সেই জায়গাগুলিরে মার্ক করা, এক্সপ্লোর করা, ডিফিউজ করা। বিপ্লব একটা ভালো ব্যবসা; রিফর্ম করাটাও, যখনই সেইটা একটা রিপ্রেজেন্টেশনের জায়গা থিকা করা হয়। ওইটা লিবারাল ইগোর কাজ। এমনিতে ফুকোর কি-ওয়ার্ড হইতেছে পাওয়ার বা ক্ষমতা আর দেল্যুজের কি-ওয়ার্ড হইতেছে ডিজায়ার। এখন ইন্টেলেকচুয়ালিটির ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এইরকম না যে, একটা আরেকটা এগেনেস্টে দাঁড়ায়; বরং একটা আইডিয়া আরেকটা আইডিয়ার চাইতে বেশি দূর পর্যন্ত এবং বেশি ভিতর পর্যন্ত ব্যাখ্যা করতে পারে। ক্ষমতা যেই ঘটনার মামলা, ডিজায়ার হইতেছে সেইটারে অ্যাক্টিভ রাখার মেশিন – এইভাবে হয়তো উনাদের বলার জায়গাটারে রাফলি লোকেট করা যাইতে পারে।
বাংলা অনুবাদটা ২০০৬ সালে ‘কবিসভা নামে একটা ইয়াহু ওয়েব গ্রপে সার্কুলেট করা হইছিল, আর দৈনিক সমকালের ‘কালের খেয়া’তে ছাপা হইছিল ২০০৭ সালে। এইখানে ওই ভার্সনটারে এডিট করা হইছে। তারপরও অনুবাদে ভুল থাকেই; যতোটা না ভাষারে বুঝতে না-পারার রণে, তার চাইতে বেশি যেই মিনিংগুলির ভিতর দিয়া ভাষাটারে রিড হয় সেই ধারণাটাই একটা অবস্টেকলের ঘটনা হিসাবে থাকে। আর নিজের লেখা নিজে এডিট করতে পারাটা বেশ কঠিন কাজই। কিছু টার্ম পুরানই রইয়া গেলো বা মন-মতো হইলো না আর। হয়তো আবারও এডিট করা লাগবে। টিল দ্যান, এইটাই থাকলো।
———————————————————————————–
ফুকো : একবার একজন মাওবাদী আমারে কইছিল যে, “সার্ত্রের মতলবটা আমি সহজেই বুঝতে পারি – কেন উনি আমাদের লগে থাকেন; উনার উদ্দেশ্য আর রাজনীতিতে যুক্ত হওয়াটা আমি বুঝতে পারি; আমি আপনার অবস্থানটাও কিছুটা বুঝতে পারি, যেহেতু আপনি জেলখানার সমস্যা নিয়া সবসময় চিন্তা করতেছেন। কিন্তু দেল্যুজ আমার কাছে পুরা একটা ধাঁধাঁ।’ তার এই কথা শুইনা আমি খুবই শকড হইছি, কারণ আপনার পজিশন আমার কাছে সবসময় খুবই স্পষ্ট মনে হইছে।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]
দেল্যুজ : সম্ভবত থিওরি এবং প্রাকটিসের একটা নতুন সম্পর্কের অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়া আমরা যাইতেছি। একটা সময়ে তো মনে করা হইতো যে, প্রাকটিস হইতেছে থিওরি’র একটা প্রয়োগ, একটা ফলাফল; আবার আরেকটা সময়ে, উল্টা একটা মানে আছিলো, ভাবা হইতো এইটা থিওরি’রে ইন্সপায়ার করে, ফিউচারের থিওরির ফর্মটা এইটা ছাড়া তৈরি হইতে পারে না। যে কোনো ঘটনায়, এদের রিলেশনটা বুঝা হইতো একটা টোটালাইজেশনের প্রসেসের দিক থিকা। কিন্তু, আমরা তো, এই প্রশ্নটারে অন্যভাবে দেখছি। থিওরি আর প্রাকটিসের সম্পর্কটা অনেক বেশি আংশিক আর টুকরা টুকরা টাইপের ব্যাপার। এক দিক দিয়া, থিওরি সবসময় লোকাল একটা ব্যাপার আর একটা লিমিটেড ফিল্ড নিয়া থাকে, আর এইটা এপ্লাই করা হয় অন্য আরেকটা জায়গার উপর, যেইটা কম বেশি এর থিকা আলাদা। একটা তত্ত্বের তার ব্যবহারের সাথে যে সম্পর্ক তা কখনোই একইরকমের না। এইটা ছাড়াও, যখন একটা থিওরি তার প্রপার ডোমেইনে ঢুকে, তখন সে সামনাসামনি হয় বাধাগুলির, দেয়ালগুলির আর আটকাইয়া-যাওয়াগুলির তখন এইটার নিজেরে রিলে করার দরকার হয় অন্য ধরনের ডিসকোর্সগুলিতে (আর এইরকম অন্য একটা ডিসকোর্সে যাওয়ার ভিতর দিয়া ধীরে ধীরে অন্য আরেকটা ডোমেইনের ভিতর ঢুকে)।। প্রাকটিস হইতেছে একটা রিলে-করার সেট, একটা থিওরেটিক্যাল পয়েন্ট থিকা আরেকটা পয়েন্টে যাওয়ার; আর থিওরি হইতেছে একটা প্রাকটিস থিকা আরেকটাতে যাওয়ার রিলের ঘটনা। কোনো একটা দেয়ালের মোকাবেলা করা ছাড়া কোনো থিওরি তৈরি হতে পারে না, আর প্রাকটিসটা জরুরি সেই দেয়ালটাকে ছিদ্র করার লাইগা। উদাহারণ হিসাবে, আপনার কাজ শুরু হইছিল বন্দিত্ব নিয়া থিওরেটিক্যাল অ্যানালাইসিসে ভিতর দিয়া, বিশেষ কইরা উনিশ শতকের একটা পুঁজিবাদী সমাজে মানসিক হাসপাতালের কাজ-কর্ম নিয়া। তারপর আপনি সচেতন হইয়া উঠলেন যে, আটকানো মানুষজনের তাদের নিজেদের নিয়ে কথা বলাটা দরকার, একটা রিলে’র জায়গা তৈরি করা (আবার বিপরীতভাবে, এইটাও সম্ভব যে, আপনার কাজ প্রথম থিকাই তাদের সম্পর্কের একটা রিলে হয়া ছিল); আর সেই দলটারে পাওয়া গেলো হাজতে – সেই মানুষগুলি ছিল কয়েদে। আর এইটারে বেসিসে আপনি সংগঠিত করলেন ইনফরমেশন গ্রুপ অফ প্রিজনস (জি.আই.পি.), যেইটার উদ্দেশ্য আছিলো এমন শর্তগুলি তৈরি করা যাতে কয়েদীরা নিজেদেরকে কথা বলার অনুমতি দিতে পারে। এইটা বলা সম্পূর্ণ মিথ্যা হবে, যেমনটা মাওবাদী লোকটি যেইটা বুঝাইতে চাইতেছিলেন যে, এই প্রাকটিসটা শুরু করতে গিয়া আপনি আপনার থিওরিটারে অ্যাপ্লাই করছেন। এইটা না আছিলো কোন প্রাকটিস, না ছিল রিফর্ম শুরু করার কোন প্রজেক্ট বা ট্রাডিশন্যাল সেন্সে কোন একটা ইনকোয়ারি। এর জোরটা ছিল পুরাপুরি আলাদা একটা একটা জিনিস: একটা বড় বলয়ের মধ্যে রিলেগুলির একটা সিস্টেম, একটা মাল্টিপ্লিসিটির অংশগুলির মধ্যে যেইটা একইসাথে থিওরেটিক্যাল এবং প্রাকটিক্যাল। আমাদের কাছে, একজন থিওরাইজিং ইন্টেলেকচুয়াল একটা সাবজেক্ট না আর, কনশাসনেসের রিপ্রেজেন্টেটিভ বা যে রিপ্রেজেন্ট করতেছে। যারা অ্যাক্ট করে আর লড়াই করে তাদেরকে একটা গ্রুপ বা একটা ইউনিয়ন, যারা নিজেদের বিবেকের কারণে অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোটারে জায়েজ মনে করে, তারা কেউ রিপ্রেজেন্ট করে না। কে কইতে পারে আর অ্যাক্ট করতে পারে? এইটা সবসময় একটা মাল্টিপ্লিসিটির ব্যাপার, এমনকি যেইটা মানুষটা কইতেছে আর অ্যাক্ট করতেছে, তার ভিতরেও। আমরা সবাই হইতেছি “গ্রুপোসকোলস” [groupuscules]। রিপ্রেজেন্টশনটা এগজিস্ট করে না; এইখানে খালি অ্যাকশন আছে – থিওরেটিক্যাল অ্যাকশন আর প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন যেইটা রিলের কাজটা করে আর নেটওয়ার্কগুলি বানায়। Continue reading →