Main menu

ফারুকীর টেলিভিশন, দূর-দর্শনের মিডিয়া এবং ‘ইমাজিনড কমিউনিটি’

এই লেখাটা ‘যোগাযোগ’ পত্রিকার জুলাই ১২, ২০১৬’তেও ছাপা হইছে।
——————–

“…every people in whose soul an inferiority complex has been created by the death and burial of its local cultural originality—finds itself face to face with the language of the civilizing nation”. ফ্রান্স ফানো (১৯৬৭: ৯)

 

[১]

এ লেখার উসকানি এসেছে মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীটেলিভিশন সিনেমা থেকে, এবং এসেছে গুরুতর এক প্রশ্নের আকারে। টেলিভিশন সিনেমা যে দুইভাবে সপ্রশ্ন কৌতুহল জাগিয়ে তুলেছে সতর্ক পাঠক শিরোনাম দেখে নিশ্চয়তা আন্দাজ করতে পারবেন। সেই কৌতুহল মেটাতেই, ফারুকীর টেলিভিশন সিনেমার বিচার এ লেখায় থাকবে, তবে লেখাটি পল্লবিত হয়ে উঠবে অন্য এক লক্ষ্য পূরণের তাগিদে। ফিল্ম রিভিউ বা চলচ্চিত্র সমালোচনা বলে যে বর্গকে আমরা সাধারণভাবে চিনি এ লেখা তার অন্তর্ভুক্ত হবার নয়, সেরকম কোনো উদ্দেশ্যে লিখছিও না আমি।

 

[২]

পরিপ্রেক্ষিত

টেলিভিশন নিয়ে লেখার একটা গুরুতর তাগিদ আছে বটে। ৯/১১ পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইসলাম ও মুসলমান, ‘ধর্মীয়’ সন্ত্রাস ও রক্ষণশীলতা নিয়ে জগৎ জুড়ে এমনই এক প্রতাপশালী‘ ডিসকার্সিভ ফর্মেশান’ ঘটেছে যে তার অভিঘাতে, আবশ্যিকভাবেই, টেলিভিস্যুয়াল জগৎও সরব হয়ে উঠেছে। এরকম সময় আগে কখনো দেখা যায়নি। বাংলাদেশের মুসলমান সম্প্রদায়ের ভিতরে ‘ধর্মীয়’ জঙ্গিপনা, ‘ধর্মীয়’ কুসংস্কার ও ‘ধর্মীয়’ রক্ষণশীলতার প্রসঙ্গ ধরে মাত্র দুই-আড়াই বছরের মধ্যেই (২০১০-২০১২) বাংলা ভাষায় চারটি ফিচার ফিল্ম এবং দুইটি টেলিভিশন নাটক তৈরি হয়েছে। কতগুলো ডক্যুমেন্টারি তৈরি হয়েছে তা অবশ্য আমি জানি না,তবে অডিও-ভিস্যুয়াল-মূদ্রণ মাধ্যমগুলোতে নিউজ-রিপোর্ট ও বিশ্লেষণধর্মী লেখা এবং একাডেমিক গবেষণা, নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, বেশুমার। যা হোক, ফিচার ফিল্মগুলো হলো: অপেক্ষা (আবু সাইয়ীদ ২০১০), রানওয়ে (তারেক মাসুদ ২০১০), জ্বী হুজুর (জাকির হোসেন রাজু ২০১২) টেলিভিশন (মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী ২০১২)। দুইটা টেলিভিশন নাটক: মায়া ম্যাডাম (সৈয়দ আওলাদ ২০১০), ফেরার পথ নাই, থাকে না কোনো কালে (মেজবাউর রহমান সুমন ২০১০)।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

বাংলাদেশের বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পরিসরে সেকুলারবাদ ও ধর্মীয়চর্চার রাজনীতি বুঝতে বিশেষভাবে আগ্রহী বিধায় আমি তিনটা সিনেমা – অপেক্ষা, রানওয়ে এবং জী হুজুরের একটা বিচার হাজির করেছিলাম ‘বোমা-জঙ্গি-মাদ্রাসা-ইসলাম এবং বাংলাদেশ’ (যোগাযোগ, ২০১৩) প্রবন্ধে। তখন দেখতে পেয়েছিলাম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে‘ইসলামী’ জঙ্গিপনার যে ন্যারেটিভ সর্বজনমান্য হয়ে উঠেছে, এবং আমাদের দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থাও যে ন্যারেটিভের উৎসাহী গ্রহক হয়ে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অনন্ত যুদ্ধে’ সামিল, সেই একই ন্যারেটিভ এই সিনেমাগুলোর পাটাতন হিসেবে কাজ করেছে। এনলাইটেনমেন্টের ‘মহান’ সকল অঙ্গীকার নিয়ে গড়ে-ওঠা বর্তমানের রাষ্ট্রব্যবস্থা, আধুনিকতা এবং যুক্তিবাদিতা চর্চায় কোনো সমস্যা আছে কিনা; কিংবা বর্তমান উদারবাদী অর্থনৈতিক বিশ্বব্যবস্থায় ক্ষমতাবিস্তার এবং অস্ত্র ও অন্যান্য ব্যবসার স্বার্থ এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী কিনা তা সিনেমাগুলোতে পুরোপুরিই অনুপস্থিত। প্রতিটি সিনেমাতেই সমস্যা খোঁজা হয়েছে ধর্মের ভিতরেই – যেন স্থান-কাল-পাত্র নিরপেক্ষ শাশ্বত কোনো বিধানমাত্র হলো ধর্ম; এবং দায়ীও করা হয়েছে কেবলই এই ধর্মাচারী মানুষগুলোকেই – এই মানুষগুলোও যেন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটশূন্য চিন্তাশূন্য অন্ধ অনুসরণকারী এবং জন্মগতভাবেই উন্মত্ত সন্ত্রাসপ্রবণ। আর আবশ্যিকভাবেই এই মানুষগুলো রাজনৈতিক সত্ত্বাশূন্যও বটে – ‘অপরাধ’ গল্পের আড়ালে হারিয়ে যায় তাদের সকল রাজনৈতিকতা। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো, যে কোনো মনোযোগী দর্শক এই তিনটা সিনেমায়, বিশেষভাবে, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি, এবং মৃত্যুদন্ডে নিহত এর প্রধান দুই সিপাহসালার শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলা ভায়ের স্পষ্ট ছায়া দেখতে পাবেন। তবে, আমি দেখতে পেয়েছিলাম আরও ইন্টারেস্টিং একটা ডাইমেনশান: তিনটি ভিন্ন ভিন্ন গল্প, তিনটি ভিন্ন কাহিনী নিয়ে স্বতন্ত্র তিনজন পরিচালক কাছাকাছি সময়ে সিনেমা বানিয়েছেন। অথচ, নাড়ি বুঝে সময়ের ক্রমানুসারে এই তিনটি কাহিনীর মূলকথা বা মাস্টার ন্যারেটিভ একই সুতায় গাঁথলে একটা অতি-কাহিনী, একটা মিথ বা পুরানকথা দাঁড়িয়ে যায় – যাকে আধুনিক রাষ্ট্রীয় মিথ বলাই শ্রেয়।

আধিপত্যকারী ডিসকোর্সের অধীনে থাকার করণেই মূলত,স্বাতন্ত্র্য সত্ত্বেও, অন্তর্নিহিত বিধানগুলোর সুবাদে এই তিনটি গল্প একসাথে যুক্ত হয়ে একটা মহা-গল্প তৈরি করে ফেলে। মহাগল্পের অবয়ব সবসময়ই মিথিক্যাল। আর এও বোধহয় বলাই বাহুল্য যে পুঁজিবাদের নিষ্ঠুর সর্ববিনাশী অভিযাত্রায় রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগের (ভায়োলেন্স) ন্যায্যতা তৈরি করতেই অহরহ এরকম মিথের উৎপাদন ও পুনরুৎপাদন একান্ত আবশ্যক হয়ে পড়ে। Continue reading

তবু ইতিহাস যেন রিভেঞ্জ শিখাইতে না পারে আমাদের

“কার্য কার্য, সরাসরি কার্য”–এইটা হইলো ‘মাতৃভাষা’য় আন্দোলন করার শ্লোগান, “অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”-এর তরজমা করলাম।

বাংলাদেশে মায়ের ভাষায় লেখাপড়া, বিজ্ঞান, আর্ট-কালচার করার মতলব/মানে এইটাই। ১৯ সেঞ্চুরির কোলকাতার তরজমা চিন্তার ভিতর এমন মায়ের ভাষার গোড়া। সেই আবার আসছে বাংলা ভাষার রেসিস্ট ডেফিনিশন থেকে।

অনুমানটা হইলো, বাংলা সংস্কৃতের মাইয়া, তাই বনেদি। রেসিস্ট চিন্তা বাংলার মাঝে মুন্ডা বা সাওতালের বদলে সংস্কৃতের জিন পাইতে চাইছে, বাঙালিরে তাইলে আর্য জাতি (এরিয়ান) হিসাবে দাবি করা যায়।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

আর্য হিসাবে ইংরাজ খালাতো ভাই, কলোনাইজেশন আসলে তো আত্মীয়ের শাসন। আত্মীয়ের শাসনে থাইকা বিদ্যাবুদ্ধি বানাই, বাট আমরাও যেহেতু আর্য, বাংলা চর্চা করা দরকার তাই, আমাদের এরিয়ান ভাষা। তাই ইংরাজির তরজমা করতে হবে বাংলায়।

প্রোবলেম হইলো, ইংরাজির চিন্তা, ফিলোজফি, লিটারেচার, আর্ট, সায়েন্সের ডিসকোর্স তো বাংলায় নাই, বাংলায় না থাকা ভাবের ইংরাজি টার্মের তরজমা কেমনে করবেন? এই সওয়ালের জবাবেই সংস্কৃতের মাইয়া হিসাবে বাংলারে আবার হাজির করা হইছে। রেসিয়াল ইভোল্যুশনের ভাবনা দিয়া সাজানো হইছে বাংলার তরজমা।

এই এসেন্স থেকেই ‘কালচার’ ভাবনাটা বাংলায় ততো না থাকায় তরজমা করা হইছে ‘সংস্কৃতি’, ইভোল্যুশনের বাংলা বিবর্তন, এমন বেশুমার। তাই তরজমা বাংলায় কথা কওয়া সমাজ থেকে দূরে নিয়া গেছে বাংলা ভাষারে।

ওদিকে, কলোনাইজেশন যেহেতু আত্মীয়ের শাসন, তাইলে জাস্ট আগের তুর্কি-পারসিয়ান-মোঘল শাসনটা কি? বিদেশি শাসন, বিধর্মীও। কিন্তু বাংলা ভাষাটাই তো পয়দা হইছে ঐ বিদেশি শাসনের মাঝে! ফার্সি তাই বাংলার কোর একটা। কিন্তু এরিয়ান রেসিস্ট দেমাগ যেমন মুন্ডা শাওতালদের বহু শব্দ, লোয়ার ক্লাসে পয়দা হওয়া সংস্কৃত থেকে ট্রান্সফর্মড বহু শব্দ অনার্য/অসভ্য ভাইবা ফালাইয়া দিছে (নাইতে, কইতে, মুত, ধোন) ফার্সিরে ফালাইয়া দিতে চাইছে বিদেশি-বিধর্মী হিসাবে। এইখান থেকে কোলকাতার রেসিয়াল কারখানায় সংস্কৃত কলে শব্দ বানানো হইছে–বেশুমারের বদলে অজস্র–এমন চিন্তার লাইনে; সংস্কৃত গ্রামারের সন্ধি-সমাস প্লান্ট করা হইছে বাংলায়, নয়া শব্দ বানানো হইছে, সংস্কৃত থেকে আমদানি করা হইছে। এই দলের শব্দ হইলো, বীতশ্রদ্ধ, মাতৃভাষা, আঞ্চলিক, প্রশিক্ষণ, প্রশাসন, কেন্দ্র…এমন বেশুমার।

রেসিয়াল ভাবনা না থাকলে মুন্ডা-শাওতাল-ফার্সি ফেলার দরকার হইতো না, ইংরাজির সংস্কৃত তরজমাও লাগতো না, লোয়ার ক্লাসের মতোই সিধা ড্রাইভার, লেবার, হেল্পার, হেডলাইট, ডাইরেক্ট নেওয়া যাইতো…

এইসব ইস্যুরে মনে হইতে পারে ছোটখাট ব্যাপার; কিন্তু এই ব্যাপারের লগে ডাইরেক্ট রিলেশন আছে ২০ সেঞ্চুরির কম্যুনাল রায়টের; এইখানে আরেকটা মজার ব্যাপার আছে; ভারত ভাগ/দেশ ভাগ বইলা কোলকাতায় যেই আহাজারিটা শোনেন সেই ভারতরে ওনারা ধরেন আর্য ভারত হিসাবে যদিও ম্যাপটা আসলে মোঘল–আকবরের ভারত আসলে :), ইতিহাসের কিছু লোক এইটা ক্লিয়ার করছেন! Continue reading

এডিটোরিয়াল: ইতিহাস মেরামতে সৈয়দ হকের জিন্দেগি

সরকারের লগে আর্ট-কালচারের লোকদের/ইন্টেলেকচুয়ালদের রিলেশন খুবই কমন হিন্দু/মোসলমান বাঙালিদের ভিতর। বিদ্যাসাগর বা বেগম রোকেয়া ইংরাজের কোলে কোলে থাকতেন, সৈয়দ হকও তেমনই থাকতেন।

রঠা বৃটেনের রাণীর স্যার হইছেন, ফালাইয়া দিছিলেন বইলা মিছা কথা আছে বাজারে, আসলে কিন্তু ফালাবার ঘোষণার ১০ বছর পরে নিজের পেইন্টিং এক্সিবিশনের পোস্টার ছাপাইছেন স্যার রঠা হিসাবেই; পরে মহাত্মা গান্ধির/কংগ্রেসের চান্দা লইয়া বিশ্বভারতী বানাইছেন। অবাংলায় যদি নজর দেন, মীর্জা গালিব মোঘল আর ইংরাজ দুয়ের পয়সায়ই আর্ট করতেন বা খাইতেন। আরো আগে, শাহনামার ফেরদৌসিরে লইয়া ভাবতে পারেন।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

মে বি পোস্ট-রেনেসা মডার্ন এইজে পিপলের কাছে বই বেচাই যখন রাইটার/ইন্টেলেকচুয়ালদের কামাইয়ের রাস্তা হইয়া উঠলো, আমরা তখন কিছু এন্টি-গভর্নমেন্ট রাইটার/থিংকার পাইলাম; গ্রীক সক্রেটিসের কথা ভাবতে পারি, বাট ওনারো কামাইয়ের রাস্তা আছিল আম-জনতার কাছে বুদ্ধি বেচা।

১৯৬৬ সালে পাবলিশড সৈয়দ হক-মুনীর চৌধুরীদের ‘রণাঙ্গনে’ বই লইয়া জোর একটা আলাপ দেখতেছি এখন;

ওনারা পাকিস্তানবাদী আছিলেন তখন, তাতে কি? এইটা আসলে সরকারের লগে খাতির করা বা রাখা; পরে তারা আওয়ামী লীগ ক্যাম্পে যাইতেই পারেন, তাতে কোন কন্ট্রাডিকশনও নাই আসলে! কারণ, তারা তো ঠিকই অনুমান করছিলেন নতুন পাওয়ারের ব্যাপারে; ১৯৭০ নির্বাচনে লীগই তো জিতলো, তারই তো গদিতে বইবার কথা, মানে ওনারা নেক্সট সরকারের লগে খাতির জমাইছিলেন।

এই দলবদল খুব স্মুথও আছিল না; মনে রাখা দরকার, পরে ঐ আইউবই কিন্তু মুনীর চৌধুরীরে জেলে ভরছে, উনি জেলে কবর নাটক লিখছেন। এই নাটক কিন্তু এন্টি-আইউব! Continue reading

জোসেফ কুদেলকার লগে মোলাকাত

জোসেফ কুদেলকার নাম শুইনা গোল গোল চোখ বড় বড় কইরা ফেলতে আমার বান্ধবিদের আমি নিজের চোখে দেখছি। জ্ঞানত: আরো কয়েকজন যেমন জেমস্ ন্যাক্টভে বা সেবাসতিয়াও সালগাদোরে লয়াও এইরাম চক্ষু ভঙিগমার শো-অফ তারা করছেন। ফটোগ্রাফির দুনিয়ায় কুদেলকা মশহুর হয়া আছেন (অন্তত: আমার কাছে) তার সিম্পলিসিটি আর কম্পোজিশনের জোরে। কুদেলকা জোস্। জোস্ যেহেতু তাই আর কথা বাড়াইলাম না। ১৯৬১ থিকা মেলা এক্সিবিশন করছেন উনি। নভেম্বর ২০১৪তে “জোসেফ কুদেলকা : ন্যাশনালিটি ডাউটফুল” নাম নিয়া গেটি সেন্টারে এইতক্ শেষ এক্সিবিশন করেন। উনার নানান কিছিমের কাজ-কাম সেখানে শোভা পায়। গেটির পক্ষ থিকা এক্সিবিশন শুরুর গোছগাছের আখেরি টাইমে একটা ইন্টারভিউ লওয়া হয়। ঐ আলাপের তর্জমাই এইটা।

—————————–

 

লরা উবের: এসাইনমেন্টরে  থোরাই কেয়ার করো বলে তো ফটোগ্রাফির দুনিয়ায় তোমার নামধাম ব্যাপক মশহুর। তুমি তোমার সাবজেক্ট পছন ক্যামনে করো?
কি যে করতে চাই তা-তো আমি ভালোই জানি ফলে আমি তা-ই করি। আর, ঐ সব কাজ করার জন্য যেই যেই কন্ডিশন তইয়ার করার জরুরত তা আলবৎ তইয়ার রাখি যাতে করে আমি সেই কামে কামিয়াব হইতে পারি। এরম করেই ৪৫টা দীর্ঘ বছর আমি কাজে কামে ব্যপ্ত আছি। লোকজন তো পয়সার ধান্ধায় ক্ষ্যাপ মারে, এসাইনমেন্ট করে। এইসব আজাইরা কামে জড়ায় থাইকা আমি আমার কাজের স্বাধীনতার স্পেইস নষ্ট করবার চাই না। এমন স্বাধীনতা চাই যা দিয়া সমস্ত কিছু বদলায় দেয়া পসিবল।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

লরা উবের: একটা সাবজেক্ট ঠিক করতে তোমার মূল প্রেরণাটা ঠিক কি থাকে? কোন্ জিনিসটা তোমারে উশকায়, পাগলা কইরা তোলে?
এমন একজন মানুষ আমি, বললে বুঝবা তুমি,যে কিনা নিজে নিজে অনেক কিছু বুঝতে পারে, বুঝার তাকদ রাখে। আমার মধ্যে একটা ব্যাপার আছে, যে টের পায়া যায়। যার অনুভব করার ক্ষমতা পাহাড় সমান।

লরা উবের: কিন্তু এমন কইরা বললে মনে হয় যে তুমি পলায় বাঁচো, পিছলায়া পার পায়া যাইতে চাও।
তুমি তো বোঝোই যে, লোকজন সারাক্ষন কানের সামনে ভ্যানর ভ্যানর করতে থাকে যে কি কামে আমি জিপসি গো ফটো তুলি? আসলে, আমি এইটার কোনো জবাব জানি না। আর আমি জানতেও চাই না। এইটা জানোনটা আমার কাম না।

phote-296

 

লরা উবের: এমন কি হইতে পারে না যে জিপসি গো এই দশা থিকা আজাদ হইবার দিশা দেওনের বাসনায় তুমি কাম করতেছো?
না না, তা না আসলে। জানা ভালো যে, বেশির ভাগ ফটোগ্রাফার যেইরাম আম্রিকান সিনেমা দেখতে দেখতে ফটোগ্রাফার হয়া উঠছেন আমি সেইরামভাবে ফটোগ্রাফার হই নাই। এক্কেবারেই ছোট্ট একটা গ্রাম থিকা আসছি আমি। আম্রিকা নামের দেশটা আমারে তব্দা খাওয়ায় দিতে পারে নাই। মানে মুগ্ধ কইরা মারতে পারে নাই। তয় ফার্ম সিকুরিটি এডমিনিস্ট্রেশনের ছবিগুলা যে আমারে লাড়ায় দিছিলো তা আমার ভালোই ইয়াদে আছে। ফটোগ্রাফির স্টাইলের খাতিরে না, আসলে সাবজেক্টের জোরেই সেইগুলা আমারে মুগ্ধ করে ফেলছিলো। তুমি জিপসিতেও সেইরাম কিছু খুঁজে পাইতে পারো।

আনেলিসা স্টেফান: ‘চক্ষুষ্মান হয়া উঠা’, “বুইজ্জা ফেলালয়া তুমি কি কি জানি কইতেছিলাএইটার মানেটা কি আসলে?
কোনোকিছুর দিকে তাকায় যখন তুমি ফিল্ করো যে, হুমম, এইটাই সেইটা- সেই অনুভব – এই আর কি।

আনেলিসা স্টেফান: ওহ্, একটা ফিলিং তাইলে?
আলবৎ! ফিলিংস্‌ই তো… Continue reading

সিলেক্টেড টেক্সট: আত্মস্মৃতি – আবু জাফর শামসুদ্দীন (লাস্ট পার্ট)

১।। ২ ।। ৩ ।।

১৯৬৫-এর পর থিকা মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত – এই পার্ট। এই টাইমটাতে আইসাই বইটা শেষ হইছে। ঢাকায় আইসা বেশ কিছুদিন দৈনিক আজাদ-এর চাকরিটা করছিলেন, আবু জাফর শামসুদ্দীন। পরে ইব্রাহীম খাঁ’র সাথে ঝামেলা হওয়ায় চাকরি বাদ দিতে হয় উনার। কিছুদিন বইয়ের ব্যবসা করার ট্রাই করছিলেন, পারেন নাই। শেষে বাংলা একাডেমিতে অনুবাদ বিভাগে কাজ করছেন অনেকদিন। উনি যখন জয়েন করেন তখন বাংলা একাডেমী’র পরিচালক আছিলেন সৈয়দ আলী আহসান, পরে কবির চৌধুরী। চাকরির পাশাপাশি লেখালেখিও করছেন বিভিন্ন পত্রিকায়।

—————————————————————-

 

অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের পলিটিক্যাল আলাপ

১১.৮.৬৫ তারিখে অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বাংলা একাডেমীতে এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সরদার ফজলুল করিম। বেলা ১০ থেকে ১২.৫২ পর্যন্ত রাজ্জাক সাহবের সঙ্গে নানা বিষয়ে আলাপ-আলোচনায় কাটলো। রোজনামচায় আলাপ-আলোচনার সারবস্তুরূপে লেখা আছে,

১. তাঁর (রাজ্জাক সাহেবের) মতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির এ প্রতিযোগিতা বিগত ১৭ বছর ধরে চলছে, পাকিস্তান এজন্য কখনও দায়ী নয়। পাকিস্তান বহুবার joint-defence of the sub continent-এর প্রস্তাব দিয়েছে, ভারত তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের বর্তমান সামরিক ব্যয় ১২০০ কোটি টাকা, পক্ষান্তরে পাকিস্তানের সামরিক ব্যয় ১৫০ থেকে ২০০ কোটির বেশি নয়। ভারতের ২০/২১ ডিভিশন সৈন্য। পাকিস্তানের সাড়ে সাত ডিভিশন।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

২.P.L. 480 সাহায্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া Price support scheme, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপন্ন কৃষিজাত দ্রব্য সরকারকে ক্রয় করতে হবে। ক্রয়ের পর হয় সেগুলো পুড়িয়ে দিতে হবে অথবা সাগরে ফেলে দিতে হবে। ঐ খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দৈনিক গুদাম ভাড়া দিতে হয় ১০ মিলিয়ন ডলার। এ গম খাদ্য ঘাটতি দেশে পাঠানো হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, P.L. 480 সাহায্য শুধু আমাদের অনুরোধে দেয়া হয় না, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গরজেও দেয়া হয়। যে গম ফেলে দিতে হতো তার দাম, জাহাজ ভাড়া, বিদেশে অবস্থিত মার্কিন উপদেষ্টাদের বেতন ভাতা, rupee counterpart fund দিয়ে গোয়েন্দা পোষণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহু অফিস চালিয়ে যাওয়া প্রভৃতি বাবদে শতকরা ৬০ ভাগ আদায় করে নেয়া হয়, বেকি চল্লিশ ভাগ গচ্চা দিতে হলেও-এতদ্বারা যে রাজনৈতিক চাপ বিদেশের ওপর দেওয়া হয় তার মূল্য ঐ চল্লিশ ভাগের চেয়ে বেশি।

৩. চীনের সঙ্গে অন্য কোনো দেশের তুলনা হয় না। রুশ বিপ্লবসহ প্রতিটি দেশের বিপ্লবের নেতারা পারস্পরিক দ্বন্দ-কলহে লিপ্ত হয়েছেন, খুনও হয়েছেন। চীনে তা ঘটে নি, নেতাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। তাছাড়া কর্মী হিসেবে চীনাদের সঙ্গে পৃথিবীর কোনো জাতের লোকের তুলনা হয় না। পৃথিবীর বহু স্থানে তাদের settlement (উপনিবেশ) আছে। শিল্প ও বাণিজ্যে নিযুক্ত এসব লোক স্থানীয় অধিবাসীদেরও হারিয়ে দেয়। সুতরাং চীন যেভাবে তাদের খাদ্য ও অন্যান্য সমস্যার সমাধান করেছে সেটা পাকিস্তান পারবে কিনা সন্দেহ।

পাকিস্তানের মূল সমস্যা হলো অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপন্ন করা-সেটা খাদ্যদ্রব্য বাঁ অন্য যে-কোনো জিনিস হোক। এই উদ্বৃত্ত এতো বেশি হতে হবে যাতে এটা বহির্বিশ্বে বিক্রয় করা তদ্বারা দেশের সকল প্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানি করা যায়। এতে সাফল্য লাভের একমাত্র উপায় ২৫ জনের কাজ একজনে করার মতো যন্ত্রপাতি স্থাপন করা – যন্ত্রপাতির অর্থ হচ্ছে accumulated labour. উদ্ধৃত লোক অন্য কাজে নিযুক্ত হবে।

অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সৃষ্ট বাগদাদ (পরবর্তীকালে সেন্টো প্যাক্ট) এবং সিয়াটো প্যাক্টে পাকিস্তানের যোগদান করার বিষয়টা আলোচনায় আনেন নি।

(প. ৩৩৪ – ৩৩৫) Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →