Main menu

আমার কথা – বিনোদিনী দাসী। (৪)

।। ।। ।।

 

বেঙ্গল থিয়েটারে

কৈশোরে পদার্পণ করিয়া বেঙ্গল থিয়েটারের অধ্যক্ষ পূজনীয় শরৎচন্দ্র ঘোষ মহাশয়ের অধীনে কার্য্যে নিযুক্ত হই। ঠিক মনে পড়ে না, কি কারণ বশতঃ আমি “গ্রেট ন্যাশনাল” থিয়েটার ত্যাগ করি। এই বেঙ্গল থিয়েটারই আমার কার্য্যরে উন্নতির মূল; এই স্থানে শরৎচন্দ্র ঘোষ মহাশয়ের কর্তৃত্বাধীন অতি অল্প দিনের মধ্যে প্রধান প্রধান ভূমিকা অভিনয় করিতে আরম্ভ করি। মাননীয় শরৎবাবু আমায় কন্যার ন্যায় স্নেহ করিতেন, তাঁহার অসীম স্নেহ ও গুণের কথা আমি এক মুখে বলিতে পারি না। প্রসিদ্ধা গায়িকা বর্ণবিহারীনি (ভুনি), শুকুমারী দত্ত (গোলাপী) ও এলোকেশী সেই সময় “বেঙ্গল”-এ অভিনেত্রী ছিলেন। তখন মাইকেল মধুসুদন দত্তের “মেঘনাধ বধ” কাব্য নাটকাকারে পরিবর্তিত হইয়া অভিনয়ার্থে প্রস্তুত হইতে ছিল। আমি উক্ত “মেঘনাথবধ” কাব্য সাতটি পার্ট এক সঙ্গে অভিনয় করিয়া ছিলাম। প্রথম চিত্রাঙ্গদা, ২য় প্রমিলা, ৩য় বারুনী, ৪র্থ রতি, ৫ম মায়া ৬ষ্ঠ মহামায়া, ৭ম সীতা।১ বঙ্কিম বাবুর “মৃনালীনি” তে মনোরমা অভিনয়ই করিতাম এবং “দূর্গেশনন্দিনী”তে আয়েষা ও তিলোত্তমা এই দুইটী ভূমিকা প্রয়োজন হইলে দুইটীই এক রাত্রি একসঙ্গে অভিনয় করিয়াছি। কারাগারের ভিতর ব্যতিত আয়েষা ও তিলোত্তমার দেখা নাই! কারাগারে তিলোত্তমার কথা ও ছিল না অন্য একজন তিলোত্তমার কাপড় পরিয়া কারাগারে গিয়া “কে-ও-  বীরেন্দ্র সিংহের কন্যা?” জগৎ সিংহের মুখে এই মাত্র কথা শুনিয়া মুর্চ্ছিত হইয়া পড়িত। আর সেই সময়েই আয়েষার ভূমিকার শ্রেষ্ঠ অংশ ওসমানের সহিত অভিনয়! [pullquote][AWD_comments][/pullquote] এই অতি সঙ্কুচিতা ভীরু-স্বভাবা রাজকন্যা তিলোত্তমা, তখন ই আবার উন্নত-হৃদয়া-গর্ব্বিণী অপরিসিম হৃদয়-বলশালীনি প্রেম পরিপূর্ণা নবাব পুত্রী আয়েষা! এই রূপ দুই ভাগে নিজেকে বিভক্ত করিতে কত যে উদ্দ্যম প্রয়োজন তাহা বরিবার নহে। ইহা যে প্রত্যহ গঠিত তাহা নহে, কার্য্য কালিন আকস্মিক অভাবে এই রূপে কয়েকবার অভিনয় করিতে হইয়াছিল। একদিন অভিনয় রাত্রিতে আয়েষা সাজিবার জন্য গৃহ হইতে সুন্দর পোষাক – পরিচ্ছদ পরিয়া অভিনয় স্থানে উপস্থিত হইয়া শুনিলাম, যিনি ‘আসমানি’-র ভ’মিকা অভিনয় করিবেন তিনি উপস্থিত নাই। রঙ্গালয় জনপূর্ণ! কর্ত্তৃপক্ষগণের ভিতর চুপি চুপি কথা হইতেছে – “কে বিনোদনকে ‘আসমানি’ -র পার্ট অভিনয় করিতে বলিবে? উপস্থিত বিনোদ ব্যতিত অন্য কেহই পারিবে না!” আমি বাটী হইতে একেবারে আয়েষার পোশাকে সজ্জিত হইয়া আসিয়াছি বলিয়া ভরসা করিয়া কেহই বলিতেছেন না। এমন সময় বাবু অমৃতলাল বসু আসিয়া অতি আদর করিয়া বলিলেন, “বিনোদ! লক্ষী ভগ্নিটী আমার! আসমানী যে সাজিবে তাহার অসুখ করিয়াছে, তোমায় আজ চালাইয়া দিতে হইবে, নতুবা বড়ই মুশকিল দেখিতেছি।” যদিও মুখে অনেকবার “না – পারিব না” বলিয়া ছিলাম বটে, আর বাস্তবিক সেই নবাব পুত্রীর সাজ ছাড়িয়া তখন দাসীর পোশাক পড়িতে হইবে, আবার “আয়েষা”  সাজিতে অনেক খুঁত হইবে বলিয়া মনে মনে বড় রাগ ও হইয়াছিল, কিন্তু বিশেষ প্রয়োজন বুঝিয়া তাঁহাদের কথা মত কার্য্য করিতে বাধ্য হইলাম। বেঙ্গল থিয়েটারে অভিনয় করিবার সময় “ইংলিস ম্যান”, “ষ্টেটসম্যান” ইত্যাদি কাগজে আমায় কেহ “সাইনোরা” কেহ কেহ বা “ফ্লাওয়ার অফ দি নেটিভ ষ্টেজ” বলিয়া উল্লেখ করিতেন। এখনও আমার পূর্ব্ব বন্ধুদের সহিত সাক্ষাৎ হইলে তাঁহারা বলেন যে, “সাইনোরা” ভাল আছ তো!

পূর্ব্বেই বলিয়াছি এই থিয়েটারে বঙ্কিম বাবুর “মৃণালীনি” অভিনীত হইত। তাহার অভিনয় যেরূপ হইয়াছিল তাহা বর্ণনাতীত। তখনকার বা এখনকার কোন রঙ্গালয়ে এ পুস্তকের এরূপ অভিনয় বোধ হয় কোথাও হয় নাই। এই মৃণালীনিতে হরি বৈষ্ণব – হেমচন্দ্র, কিরণ বাঁডুয্যে -পশুপতি, গোলাপ (সুকুমারী দত্ত)- গিরিজায়া, ভূনি – মৃণালীনি এবং আমি – মনোরমা! Continue reading

সিলেক্টেড টেক্সট: আত্মস্মৃতি – আবু জাফর শামসুদ্দীন (৩)

১।। ২ ।।

এইখানের টেক্সটগুলি পাকিস্তান আমলের কথা (টাইমটা ১৯৪৬ – ১৯৬৪ এইরকম হবে)। ফার্স্ট পার্টে ছিল ব্রিটিশ আমলের কাহিনি, গ্রামে ছিলেন উনি, তারপরে ঢাকায় আসছিলেন; আর সেকেন্ড পার্টে ঢাকা থিকা কলকাতায় যখন হিজরত করলেন, তখনকার কথা। আর এই থার্ড পার্টে যখন পাকিস্তান হইতেছে এবং ঢাকা গ্রো করতেছে – ওই টাইমের কাহিনি। মাইনর কারেক্টার’রা আছেন। মেজর কারেক্টারদের মাইনর ঘটনাগুলিও আছে।

——————————————-

মওলানা শামসুল হুদা

১৯৪৬ সালের নির্বাচনের পুর্বে তৃতীয় এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলাম গফরগাঁয়ে। গফরগাঁয়ের পাশের গ্রাম পাঁচভাগে মওলানা শামসুল হুদার বাড়ি। তিনি দেওবন্দ মাদ্রাসার আলেম। কৃষক প্রজা আন্দোলন করতেন। জীবনে কখনও মুসলীম লীগ করেন নি। তাঁর দলের নাম ছিল ইমারত পার্টি। পার্টির কাজকর্ম গফরগাঁ অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল। মওলানা শামসুল হুদাও ছিলেন মওলানা ভাসানীর মতো গফরগাঁ, হোসেনপুর প্রভৃতি অঞ্চলের অপ্রতিদ্বন্দ্বী পীর শুধু নয় একচ্ছত্রাধিপতি। তাঁর বহু মাজেজার কথা সে অঞ্চলে প্রচলিত ছিল।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

গফরগাঁ নির্বাচনী এলাকা হতে মওলানা শামসুল হুদা বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভায় নির্বাচন প্রার্থী। ধর্ম সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্বের ভোট। মুসলিম লীগকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসন ছেড়ে দেয়া যায় না। মওলানা শামসুল হুদা তাঁর নিজ দল ইমারত পার্টির টিকেটে প্রতিদ্বন্দিতা করছিলেন।

মুসলিম লীগ ঐ নির্বাচনী এলাকাটিকে ওয়াটারলুর যুদ্ধক্ষেত্রের গুরুত্ব দেয়। সেখানে তারা দলের সর্বশক্তি নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। জনসভার তারিখ ঠিক হলো। বক্তা নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী খান, স্যার নাজিমুদ্দীন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ নেতা। ব্যাপক প্রচার আবশ্যক। নির্দিষ্ট তারিখের দু’দিন পুর্বে টাঙ্গাইলের শামসুল হকের (পরবর্তীকালে আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক) নেতৃত্বে ঢাকা হতে ৭০/৮০ জনের একটি ছাত্রদল গফরগাঁ গেল। আজাদ কর্তৃপক্ষ জনসভার রিপোর্ট নেয়ার জন্য আমাকে কলকাতা হতে টেলিফোন করে। পরদিন মিটিং। আমি আগের দিন সকালের ট্রেনে গফরগাঁ রওয়ানা হই। কাওরাইদ স্টেশনে কিছু যাত্রী উঠলেন। তাঁদের মুখে শুনলাম মওলানা শামসুল হুদা সাহেবের কেরামতির কাহিনী। একজন বললেন, এক ব্যক্তি মওলানা সাহেবের নিন্দা করছিল। সেদিনই তার প্রায় পায়খানা বন্ধ হলো এবং পেট ফুলে মারা গেল। গফরগাঁয়ে গিয়ে দেখি রাত্রিযাপনের জায়গা নেই। ডাকবাংলো গিয়াসুদ্দীন পাঠান, আবুল মনসুর আহমদ প্রমুখ ময়মনসিংহের মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের দখলে। আমার ন্যায় একজন সাধারণ সাংবাদিকের স্থান সেখানে হলো না। ঢাকা হতে আগত ছাত্রদের জন্য মাঠে খড়ের ডেরা উঠেছিল। ছাত্র নেতারা তাঁদের সঙ্গে আমার থাকার ব্যবস্থা করলেন। গফরগাঁ হতে হোসেনপুর সাত মাইলের কাঁচা সড়ক পথ। সেদিন বিকেলে হোসেনপুরের হাট। ঢাকার ছাত্র বাহিনী প্রচারের জন্য হোসেনপুর রওয়ানা হলো। শামসুল হক বললেন আপনিও চলুন। আমি বললাম, আমি এতটা রাস্তা হেঁটে যেতে পারবো না, সাইকেল হলে যেতে পারি। ওঁরা একটি সাইকেল জোগাড় করে দিলেন। আমার অনেক আগেই ছাত্রদল মিছিল করে নানা ধ্বনি করতে করতে রওয়ানা হয়ে গেল। পরে আমি একা সাইকেলে রওয়ানা হলাম। পথে হাঁটুরেদের অতিক্রম করছি। কেউ কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করলেন না। হোসেনপুর পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের ওপারে। খেয়া নৌকোটি বেশ বড়। সাইকেলটি খেয়া নৌকোর মাঝির হাওলায় রেখে হোসেনপুরে গিয়ে দেখি হাট জমজমাট কিন্তু একটা থমথমে ভাব। আমি কাউকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ না করে ধীরে-সুস্থে হাঁটতে হাঁটতে হাটের এক প্রান্তে উপস্থিত হলাম। সেটা মেছো হাট। পাশে একটি কাঁঠাল গাছ। কমলালেবুর দোকান থেকে এক জোড়া কমলালেবু কিনে কাঁঠাল গাছের নিচে দাঁড়িয়ে কমলা খাচ্ছি। এমন সময় ঘটনাটা ঘটলো। এক জায়গায় একটা খালি গরুর গাড়ি পড়েছিল। সেটার ওপরে দাঁড়িয়ে শামসুল হক বক্তৃতা শুরু করেছেন। পাঁচ মিনিট যেতে না যেতেই দেখলাম আক্রমণকারীরা তাঁকে ঘিরে ফেলেছে। এক যুবক গরু জবাইর ছুরি নিয়ে গরুর গাড়ির ওপরে চরলো। শামসুল হকের বুকে ছুরি বসিয়ে দেয়ার পূর্ব মুহূর্তেস্থানীয় প্রধানিয়া গোছের বৃদ্ধ “আরে কি করস কি করস” বলতে আততায়ীর হাত ধরে ফেললো। শামসুল হক প্রাণে বেঁচে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হলো ছাত্রদলের ওপরে হাঁটুরেদের এলোপাতাড়ি মার। কে কোথায় ছিটকে পড়লো ঠিক-ঠিকানা নেই। যে পথে ওঁরা এসেছিল সে পথে ওরা পালাতে পারলো না। হোসেনপুর নদী দুটি শাখায় বিভক্ত। একটি শাখায় পানি খুব কম। কাপড়-চোপড় ভিজিয়ে সেটি পার হয়ে ওরা গফরগাঁ হতে আগত শাখার অপর পার দিয়ে প্রাণপণে ছুটলো। আমি ছাত্রদলে যোগ না দিয়ে একা ধীরেসুস্থে সিগারেট টানতে টানতে খেয়াঘাটের দিকে চললাম। বয়স বেশি, তাই আমাকে হাটুরেরা ছাত্র মনে করে নি। তখনও হাট ভাঙ্গে নি। ময়মনসিংহ জেলার ঐ অঞ্চলের হাট অনেক রাত পর্যন্ত চলে। আমি যখন খেয়া নৌকোয় চড়ে আমার সাইকেলটি হাতে নিয়েছি তখন ওপারে যাওয়ার লোক মাত্র দু’চারজন। এরি মধ্যে একটি ষোল সতের বছরের ছেলে নৌকোয় চড়লো। তাঁর চোখে-মুখে ভীতির ছাপ। সে আমাকে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পরিচিতের মতো কথা বলতে চাইলো। আমি তাঁকে নিচু গলায় বারন করলাম। নদী পার হওয়ার পর অন্যেরা যাঁর যাঁর গন্তব্যস্থলের দিকে চলে গেল। ছেলেটি তখন বললো, সে ঢাকা ইন্টার কলেজের ছাত্র। দলের সঙ্গে এসেছিল। কিন্তু দলছুট হয়ে পড়েছে। এখন ফিরবে কেমন করে? বেলা তখন ডোবে ডোবে। সাত মাইল পথ একা চলতে ভয় পাচ্ছে। বললাম, আমার সাইকেলের পেছনে পা-দানিতে দাঁড়াও, কিন্তু খবরদার পথে কেউ কিছু প্রশ্ন করলে তুমি জবাব দেবে না, যা বলার আমি বলবো। অর্ধেকের বেশি পথ অতিক্রম করতে পথে পড়লো একটি ছোট হাট। সেদিন হাটবার নয়। খালি জায়গায় বসে পাঁচ-সাতজন লোক বাঁশের চাটাই বুনছে। ওদের প্রত্যেকের কাছে বড় বড় ধারালো দা। ওরা নির্দেশের সুরে সাইকেল থামাতে বললেন। থামালাম। ওরা প্রশ্ন করলেন কোথায় গিয়েছিলাম। বললাম। তারপর আরো প্রশ্ন, বাড়ি কোথায়? হাটে কেন গিয়েছিলাম। কোনো দলের লোক? শান্তভাবে বললাম, ঢাকার লোক, কোন দল করি না, আমি সাংবাদিক লোক, এখানে সভা হচ্ছে, দেখতে এসেছি, রিপোর্ট পাঠাতে হবে কলকাতায়। ওরা কি বুঝলেন বা ভাব্লেন জানি না, বললেন-দলের বাইরে থাকবেন না, হয় ইমারত পার্টি করবেন নয়তো মুসলিম লীগ, মওলানা সাবের পক্ষে রিপোর্ট যায় যেন। ওরা দয়া করে আমাদের ছেড়ে দিলেন। পুনরায় সাইকেলে চড়েছি, এমন সময় শুনলাম ওরা বলাবলি করছেন, মিছিল করে যাওয়ার সময় ওদের কল্লা রেখে দিতে পারতাম, কিন্তু মওলানা সাহেব মানা করলেন। বাকী পথে আর কোনো বাধা পাই নি। গফরগাঁ পৌছে প্রথমেই গেলাম ডাকবাংলোয়। সেখানে গিয়ে দেখি গিয়াসুদ্দীন পাঠান সিথানে একটি বন্দুক এবং পৈথানে আর একটি বন্দুক নিয়ে তার তক্তপোশে। আবুল মনসুর আহমদ আন্য তক্তপোশে। ওঁদের কাছে ঘটনার রিপোর্ট করে বললাম, ছাত্রদল নদীর ওপার দিয়ে ফেরত আসছে। পথ নিরাপদ নয়। এখান থেকে কিছু উদ্ধারকারী পাঠান। আবুল মনসুর আহমদ গোসার গলায় বললেন, আপনি কাওয়ার্ড (ভীরু), ওদের ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন। আমি ক্রোধ দমন করতে পারি নি। কণ্ঠ চড়িয়ে বললাম, আমি কাওয়ার্ড হলেও তো ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, রিপোর্ট দিচ্ছি; কিন্তু আপনাদের মতো দুঃসাহসীরা সিথানে-পৈথানে বন্দুক নিয়ে ডাকবাংলোর নিরাপত্তায় আছেন। আপনারা নেতা। এতই যদি সাহস তাহলে নদী পার হয়ে ওদের উদ্ধার করতে যান না কেন? আমার এ জবাব শুনে ওরা নড়লেন না। মনে হলো সংবাদ শুনে ওদের হৃৎকম্প উপস্থিত হয়েছে। উদ্ধারকারী পাঠাবার চেষ্টাও করলেন না কোনো নেতা।

রাত দশটা এগারোটার দিকে ছাত্রদল ফিরে এলো। সুখের বিষয় পথে কারো প্রাণ যায় নি। কিন্তু পথে কারো বাড়িতে তৃষ্ণা নিবারণের পানিও পায় নি ওরা। শুনলাম, মা একটু পানি খাওয়াবেন আবেদন শুনে ক্রুদ্ধ গৃহিণীরা নাকি জবাব দিয়েছিলেন, হারামজাদা আমি তোর মা হলাম কোন্‌ সুবাদে। তোর বাপের সঙ্গে কি আমার সাঙা হইছিল? Continue reading

গল্প: নুংশিতোম্বী এবং আমি – সুধীর নাউরোইবম

[মনিপুরি ভাষার গল্প। বাংলায় অনুবাদ করছেন চিংখৈ অঙোম।]

————-

শৈশবে ইচ্ছেমতোন ছেলেমানুষি করে কাটিয়েছি নুংশিতোম্বী এবং আমি। ন্যাংটো হয়ে সাঁতরেছি নদীর সমস্ত স্রোত; ডুব দিয়েছি, ঝাঁপ দিয়েছি।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

সে খুব দ্রুত দৌঁড়ায়। হালকা পাতলা গড়ন ওর। আমি পারি এমন সব কিছু সেও পারে। কখনও কখনও বেশ লেগে যায় আমাদের। আমি ওর চুল ধরে টানি। চুল ছিঁড়ি। সে কামড় বসায়। বাড়াবাড়ি হয় না কখনই। কিন্তু কেউ কাউকে ছাড়ও দিই না। একসাথেই আমাদের আশৈশব বনেবাদাড়ে ঘুরে বেড়ানো; কখনও আমি সামনে, কখনও সে।

অন্যের গাছের ফল চুরি করতে যেতাম আমরা। ফল ওর খুব প্রিয়। একবার খুব তাড়া খেয়েছিলাম দুজনে। দৌঁড়ে পালিয়েছিলাম। কিন্তু ঐদিন সে একদমই দৌঁড়াতে পারছিলো না। ঐদিন সে ফনেক পরেছিলো। সে প্রায়ই বলতো, ফনেক পরলে নাকি দ্রুত দৌঁড়ানো যায় না।

আমি বললাম, ‘নুংশিতোম্বী, ফনেকটা হাতে ধরে দৌঁড়া। আজ বোধহয় তুই ধরা খেয়েই ফেললি রে!’

সে তা-ই করলো। তারপর আমরা বাতাসের বেগে ছুটে পালিয়ে এলাম। মালিক রয়ে গেলো অনেক পেছনে। নাগাল না পেয়ে। খুব দ্রুত শ্বাস ফেলছিলাম আমরা। প্রচণ্ড হাঁপিয়ে উঠেছি। হাসছিলামও খুব।

আমি বললাম, ‘আরেকটু হলেই তো ধরা খেতি। কেন ফনেক পরলি?’

‘ইমা পরতে বলেছে। ফনেক না পরলে খুব বকা খাই।’

‘কেন?’

‘জানি না!’ Continue reading

গল্প: শা’নযর – শাহেদ আলী

This entry is part 11 of 20 in the series বাংলাদেশি ফিকশন

বাংলা ছোটগল্প রাইটার হিসাবে শাহেদ আলী’র নাম যে খুবএকটা শুনবেন না আপনি, এর একটা কারণ হইলো যে উনি ‘ইসলামী সাহিত্য’ করছেন; বাংলা একাডেমিতে না কইরা, চাকরি করছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনে। আর এইটা করতে গিয়া বাংলাভাষাতে ‘জোর কইরা’ অন্য ভাষার শব্দ ঢুকানোর ট্রাই করছেন। এই ঘটনাটা দুয়েকবার ‘ছোটলোকের ভাষা’ বইলা পিঠ-চাপড়ানি পাইলেও মোস্টলি ‘পাকিস্তানের দালালি’ বইলাই আইডেন্টিফাইড। তবে একটা সময়ে বা এখনো সংস্কৃত-অরিজিনের বাইরে যে ভাষা-রুচি সেইটারে, হোক সেইটা ‘ছোটলোকের ভাষা’ বা ‘ইসলামি সাহিত্য’ – একটা বাজে জিনিস বা ‘জোর-জবরদস্তি’ হিসাবে দেখার ব্যাপার তো আছেই।  

এক তো হইলো ‘ইসলামিক’, তার উপর আবার ‘ইরোটিক’! উনি খালি ইরোটিক হইয়াই থামেন নাই, উনার মাইয়ারা বেশিরভাগ সময়ই অ্যাক্টিভ রোল প্লে করতে থাকেন।  উনার ‘ঐ যে নীল আকাশ’ গল্পটাও ছাপাইছিলাম আমরা। উনার এই গল্প দুইটাতে ফিমেইল কারেক্টারগুলি অনেক স্ট্রং; মানে, উনারা মশকরা (হিউমার) করেন না খালি, এমনভাবে অ্যাক্ট করেন যে, উল্টা উনাদের মেইল পার্টনারদেরকে উনাদের চাইতে ইনফিরিয়র মনেহয়।

তারপরও উই রিকেমন্ড যে, শাহেদ আলী’র গল্প আপনারা পড়তে পারেন।

————————————————————————–

 

জোছনা ঝলোমলো রাত।

মিরাদ একটা জল-চৌকির উপর বসে আছে, বারান্দায়, খুঁটিতে হেলান দিয়ে সে নিজের মধ্যে ডুবে আছে।

বাড়ির পেছনে কড়ুই গাছের আগায় করুয়ার বাসা। সেই করুয়া ডেকেছে কিছুক্ষণ আগে। রাতের ঘুম-ভাঙানো, ধ্বনি-প্রতিধ্বনি জাগানো সেই ডাক শুনে সে আন্দাজ করতে পারলো, রাত কত হয়েছে। দু’ব্যাটারির একটা ট্রাঞ্জিস্টার মিরাদ কোলে কোলে রাখতো। মাসখানেক হলো ব্যাটারি পাওয়া যাচ্ছে না। সাথে সাথে উজ্জ্বল দুনিয়া মুছে গেছে তার জন্যে। সুর হয়ে, কথা হয়ে বাইরের দুনিয়া প্রবাহিত হতো তার চেতনায়। সেই দুনিয়া তার কাছ থেকে হঠাৎ দূরে সরে দাঁড়িয়েছে-কারণ ট্রাঞ্জিস্টার আর কথা বলে না, গান শোনায় না।

অথচ কী মশগুল হয়েই না সে দেশ-বিদেশের গান শুনতো, খবরের জন্যে কান খাড়া করে রাখতো। কেউ কাছে না থাকলেও সাড়া দুনিয়ার সাথে চলতো তার হৃদয়ের আলাপ। বিদেশী গানের ভাষা সে বোঝে না, কিন্তু কী এক রহস্যময় উপায়ে সেই সুরই চুপি চুপি নিঃশব্দে ছড়িয়ে পড়তো তার চেতনার ভাঁজে ভাঁজে – মিরাদ অবাক হয়ে যেতো!

স্তব্ধ হয়ে বসেছিলো! আশায় আশংকায় মিরাদ একেবারেই বিপর্যস্ত!

এরি মধ্যে হাঁফাতে হাঁফাতে ছুটে এলেন তার মাঃ হোনছোস্‌, জয়নাবের একটা ছাইলা অইছে!

ছেলে হয়েছে – জয়নাবের ছেলে হয়েছে! সুখের খবর না দুঃখের সংবাদ মিরাদ বুঝতে পারলো না। কেবল একটা অন্ধকার রহস্যের স্রোত যেন তার চেতনার উপকূলে ধাক্কা দিয়ে যায়!

যেদিন সে শুনতে পেলো জয়নাবের পেটে বাচ্চা এসেছে, প্রথমটা সে বুঝতেই পারেনি, এ কথার তাৎপর্য কী, মানে কী। তারপর, তাকে জয়নাব অনেক করে বুঝাবার চেষ্টা করেছে। শেষ পর্যন্ত জয়নাবের সাথে সাথে সে-ও স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। জয়নাব তার কাছে কিছুই গোপন করেনি। মুহূর্তে মুহূর্তে মিরাদ তার শরীরী সত্বা দিয়ে অনুভব করেছে জয়নাবের দেহের রূপান্তর, মনের রঙ-বদল, আর তার সাথে মিরাদের চেতনায়ও জেগেছে রক্তিম উচ্ছ্বাস!

শেষের দিকে কিন্তু মিরাদ ভীষণ ঘাবড়ে গিয়েছিল। অতো বড় একটা মানব-শিশুকে নারী কেমন করে পেটে ধরে, তারপর সেই অন্ধকার কুঠরী থেকে কেমন করে নিয়ে আসে আলোর জগতে-এ তার কাছে এক দুর্জ্ঞেয় রহস্য! কী জানি, যদি সন্তানকে পৃথিবীতে আনতে গিয়ে জয়নাবের পেত ফেটে যায় আর তার ফলে জয়নাব মরে যায়! মিরাদ তার দু’দু’টি বোনকে হারিয়েছে। এই রকম, ষোলো-সতেরোই তো হয়েছিল ওদেরও বয়স। জয়নাবের মতোই ওরাও তো বিভোর ছিল সন্তানের স্বপ্নে। কিন্তু সন্তান মাটিতে পরতে না-পরতেই মারা গেল একজন, আরেকজন একটি কন্যা জন্ম দেবার পর বেঁচেছিল মাত্র মাসখানেক।

আল্লাহ্‌র অশেষ মেহেরবাণী যে সন্তান জন্ম দিয়েও জয়নাব বেঁচে আছে।

-মা, মা গো, হঠাৎ একবার চিৎকার করে ওঠে মিরাদ।

-কী রে? কী অইছে? মিরাদের গলার স্বরে আতংকিত হন মা।

-আমারে ধৈরা একটু উডানে লৈয়া যাও মা।

-কেনরে? কই যাবি? মা’র গলায় উদ্বেগ সীমাহীন।

মিরাদের শিরা-উপশিরাগুলি রক্তের চাপে টন্‌টন্‌ করতে থাকে। উত্তেজনায় বুকের ভিতর ওর তোলপাড় শুরু হয়। অপূর্ব, অনিবার্য এক উল্লাসে মিরাদ এলোমেলো হয়ে পড়ে। জলচৌকি থেকে হঠাৎ সে দাঁড়িয়ে যায়, আর হাত দু’টি প্রসারিত করে দেয় মা’র দিকে। সারা শরীর তার শিউরে শিউরে উঠছে, চোখের পাতা বারবার উঠছে আর নামছে। ঠোঁট দু’টি থেকে একটা করুণ, বিষন্ন অজাগতিক হাসি তার গালের উপর দিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে চোখে, মুখে, কপালে।

-মা, আমারে ধরো, প্রায় আর্তনাদ করে ওঠে মিরাদ, আমারে উডানে লৈয়া যাও। Continue reading

নাউ প্লেয়িং: প্রোটোজে

This entry is part 4 of 7 in the series নাউ প্লেয়িং

প্রোটোজে। জ্যমেইকান সিংগার, সং রাইটার। মিউজিক জঁরা রেগে, ডাব, রক। স্টুডিও অ্যালবাম দ্য সেভেন ইয়ার ইচ্ [The Seven Year Itch] (২০১১), দ্য এইট ইয়ার আফেয়ার [The 8 Year Affair] (২০১৩), এনশিয়েন্ট ফিউচার [Ancient Future] (২০১৫), রয়ালটি ফ্রি [Royalty Free] (২০১৬)।

প্রোটোজে রেগে-র জেনারেশন নেক্সট-এর অংশ, “রেগে রিভাইভাল”-এর অংশ। যারা রেগেকে রিইনভেন্ট করতে চায়, যারা রেগের সাথে যোগ করে অন্য কিছু, কিন্তু মূলটা ঠিকঠাক রাখে – সেইম “রিডিম”, ডিফ্রেন্ট ট্রিটমেন্টস্।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

প্রোটোজে স্ট্রেইট ফরওয়ার্ড, যা-হচ্ছে-তাই বলে – বলে  ‘ফ্রম দ্য স্ট্রিট্‌স্‌ অভ জ্যমেইকা কামিং লাইভ অ্যান্ড ডিরেক্ট’। প্রোটোজে হালকা, খানিকটা মিসচিভাসও। কিন্তু তার জ্যমেইকান ইংলিশ বা জ্যমেইকান পাতোয়া আর আইয়ারিক-এ সে যা বলে অধিকাংশ সময়ই তা হালকা না। প্রোটোজে ভারি কথা হালকাচালে বলে ফেলে। এবং তাতে ভারি কথা ভারিই থাকে, চালটাই হালকা হয়।

রেগে-র রাস্টাফারাই রেফারেন্স প্রোটোজের গানে বারবার আসে। সেই রেড-গোল্ড-গ্রিন, ম্যারিহুয়ানা, জাহ্ আর আই অ্যান্ড আই। সেই ট্রিক্‌স্‌, হিপক্রিসি আর অপ্রেশনের ব্যাবিলন দেখা, বোঝা, আর বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা; সেই জায়নের কথা ভাবা। অর্থাৎ কিনা নতুন প্রেক্ষাপটে ফান্ডামেন্টালি পুরান। এবং ফান্ডামেন্টালি পুরান তো থাকবেই; কেননা ফান্ডামেন্টালি নতুন কিছু তো ঘটতেছে না, আর পুরান নিয়েও নতুন নতুন হইতে পারে, বিপরীত যেহেতু না, মিউচুয়ালি এক্সক্লুসিভ যেহেতু না।

উল্লেখ্য, প্রোটোজের সবগুলা অ্যালবামের গান শোনা যাবে ওর সাউন্ডক্লাউডে। আর র‌য়ালটি ফ্রি-র বি-সাইড ডাউনলোড করা যাবে ওর ওয়েবসাইট থেকে, [রয়ালটি] ফ্রি। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →