Main menu

সিলেক্টেড টেক্সট: আত্মস্মৃতি – আবু জাফর শামসুদ্দীন (২)

পার্ট ১ ।।

—————————————————-

এই টেক্সটগুলি আবুল জাফর শামসুদ্দীনের কলকাতা থাকার টাইমের, বিফোর পাকিস্তান পিরিয়ড। নিউ স্কীম মাদ্রাসা থিকা পাশ কইরা কলেজে ভর্তি হওয়ার পরে পড়াশোনা কনটিনিউ করেন নাই উনি।  চিটাগাংয়ে গিয়া রেলওয়েতে চাকরি নেয়ার ট্রাই করছিলেন, পারেন নাই। কলকাতা গিয়া কয়েকটা পত্রিকায় কাজ করছিলেন। মাঝখানে একটা সরকারি চাকরি নিয়া খুলনায় আসছিলেন বছরখানেকের লাইগা। পরে পাকিস্তান হওয়ার আগে পারমানেন্টলি কলকাতাতেই ছিলেন। এই ব্যাকগ্রাউন্ডটা জানা থাকলে উনার কথাগুলি রিলেট করতে সুবিধা হইতে পারে। এমনিতেও মনেহয় বোঝা-ই যায়।

ই.হা.

———————————————————-

 

কাজী নজরুল ইসলাম

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের দিনটির কথা এখনও মনে পড়ে। তখন পত্র পত্রিকায় আমার কয়েকটি গল্প ছাপা হয়েছে। কাঁচা হাতের প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যাক্ত স্বামী’ সম্ভবত লিখছি, কবি তখন সঙ্গীতের জগতে। রেকর্ড কোম্পানির জন্য সঙ্গীত রচনা করেন, সুর দেন। [pullquote][AWD_comments][/pullquote]উত্তর কলকাতার একটা গলিতে তাঁর বাসা। কবি আবদুল কাদির সাহেব একদিন সকালে তাঁর নিজ কাজেই নজরুলের কাছে যাচ্ছিলেন। কেমন করে যেন তাঁর সঙ্গী হয়ে গেলাম। আমাকে বসার ঘরে রেখে তিনি চলে গেলেন কবির স্ত্রী ও শাশুড়ির সঙ্গে দেখা করতে। কবির স্ত্রীকে তিনি বৌদি ডাকতেন। বিদ্রোহী কবি তখন রেকর্ড কোম্পানির অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। কবি তখন একটি গাড়ি কিনেছিলেন, গাড়িটি সম্ভবত লাল রঙের ছিল। নিচে সেটি অপেক্ষা করছিল।

আবদুল কাদির সাহেবের সঙ্গে কবির সেদিন কি কথাবার্তা হয়েছিল আজ আর তার কিছুই মনে নেই।

কবি আবদুল কাদির। ছবি: বাংলাপিডিয়া থিকা নেয়া।

কবি আবদুল কাদির। ছবি: বাংলাপিডিয়া থিকা নেয়া।

শুধু এটুকু মনে আছে, আমার পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছিলেন, এই নাম, গল্প-উপন্যাস লিখছে। কবি স্নেহমাখা দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়েছিলেন। উৎসাহ দিয়ে দু’চার কথা বলেছিলেনও। আমাদের দু’জনের সন্দেশ-রসগোল্লা এলো, রেকাবিতে এলো কাচের গেলাস ভরা জল। আমরা খেলাম। কবি তাঁর ঘরে গেলেন, একটু পরে সেজেগুজে বেরিয়ে এলেন। যতোদূর মনে পড়ছে, তাঁর পরনে ছিল ফকফকে সাদা খদ্দরের ধুতির ওপরে সিল্কের পাঞ্জাবি এবং গলায় ঝুলানো সাদা উড়ানি, মাথায় খদ্দরের টুপি। পায়ে বোধ করি ছিল নাগরা জাতের জুতো। তিনি গায়ে দামি সেন্ট এবং পাউডার মাখতেন। তার সুগন্ধ ঘরময় ছড়িয়ে পড়লো। আমার মনে হলো, সত্য সত্যই সাধারণ মানুষের সমাজ হতে আগত একজন অসাধারণ মানুষ দেখছি। অসাধারণতা তাঁর চোখেমুখে পোশাকে-পরিচ্ছদে দেহের প্রতিটি অঙ্গে এবং বাচনভঙ্গিতে। নজরুলের মতো এমন সুপুরুষ সিংহপুরুষ আমি কখনও দেখি নি। আমাদের বললেন, চলো। গাড়িতে চড়ার সময় বললেন, তোমরাও ওঠো। আমরা খুশি হলাম। রেকর্ড কোম্পানির অফিসের কাছাকাছি একটা জায়গায় নামিয়ে দিয়ে বললেন, তোমাদের অসুবিধে হবে না তো? আমরা হেসে বললাম, না। আমরা কিছুটা হেঁটে এবং বাকি পথটা ট্রাম ধরে যার যার বাসায় চলে এলাম। তারপর কবিকে বহু জায়গায় দেখেছি, তাঁর সঙ্গীতের জলসায় উপস্থিত হয়েছি, কিন্তু কবির সঙ্গে এক গাড়িতে আর কখনও ভ্রমণ করি নি। নজরুল চরিত্রের একটি বৈশিষ্ট্য ছিল, তিনি উঠতি লেখকদের উৎসাহ দিতেন। ছোট-বড় কোনো লেখককে নজরুল ঈর্ষার চোখে দেখতেন না। উচ্চমন্যতা প্রকৃতপক্ষে হীনম্মন্যতারই নামান্তর। নজরুলের মধ্যে কোনোরকম কমপ্লেক্সবোধ ছিল না। ধনী দরিদ্র উঁচু নিচু নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে তিনি স্বাভাবিকভাবে মিশতেন, সমান আচরণ করতেন। তিনি যখন খ্যাতির শিখরে তখনও খ্যাতির আলাদা পরিমণ্ডল তাঁকে ঘিরে গড়ে ওঠে নি; হতে দেন নি সে সুযোগ। তাঁকে খোঁচালে অবশ্য তিনি তার জবাব দিতেন।

(প. ১৩১ – ১৩২) Continue reading

সিলেক্টেড টেক্সট: ‘আত্মস্মৃতি’ – আবু জাফর শামসুদ্দীন (১)

আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১ – ১৯৮৯) উনার জীবনকাহিনি লিখছেন ‘আত্মস্মৃতি’ নামে বইয়ে। প্রথম খন্ড ছাপা হইছিল ১৯৮৯–তে আর দ্বিতীয় খন্ড ১৯৯০-এ। পরে দুইটা বই একসাথে কইরা ‘সাহিত্য প্রকাশ’ ২০০৫–এ ‘অখন্ড সংস্করণ’ নামে একটা বই ছাপাইছে। এই পোস্টের টেক্সটগুলি ওই বই থিকা নেয়া।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

বইয়ের শুরুতেই উনি বলতেছিলেন, যেই সময়ের কথা না, বরং যেই সময়ে বলা হইতেছে সেইটা বেশি ইর্ম্পটেন্ট ; ১৯৮৬ সালে ১৯২০-৪০ এর যেই কথা উনি বলতেছেল, সেইটা আসলে ১৯২০-৪০ এর ভাবনা না, ১৯৮৬ সালের ভাবনাই বেশি। উনার নৈতিক, সেক্যুলার পারসপেক্টিভ থিকাই উনি ঘটনার কথা বলতেছেন। কিন্তু ঘটনাগুলি আর সেইটাই থাকে নাই আসলে; ভাষা ইটসেলফ কিছু জিনিস ইনসার্ট করতে পারে যেইটা রাইটারের লেখার বাইরের একটা ব্যাপার। দুইটা মিলাইয়াই এই ঘটনাগুলি আছে এইখানে।

এর বাইরেও, এই টেক্সটটা অথনেটিক হিস্ট্রিক্যাল কোন ডকুমেন্ট না, বরং একটা পারসোনাল পারসপেক্টিভ। উনি যা যা ইর্ম্পটেন্ট ভাবছেন, সেইগুলি বলছেন। সেইখান থিকা যা যা ইন্টারেস্টিং মনে হইছে, সেইগুলি আলাদা কইরা রাখতে চাইছি এইখানে। পেইজ নাম্বার ফলো কইরা রাখা হইছে; মানে, যেইটা উনি আগে বলছেন সেইটা আগেই রাখা হইছে। শিরোনামগুলি টেক্সটের ভিতর থিকা বাছাই করা রাখা হইছে, উনি আলাদা কোন শিরোনাম ইউজ করেন নাই। এমনিতে তিনটা পর্ব আছে প্রথম খন্ডে – আমার পাঠশালার দিনগুলি (প. ১১ – ১১২), বৃহত্তর ভারতে (প. ১১৩ – ২০১), পাকিস্তানে (প. ২০২ – ৩৪২) আর দ্বিতীয় খন্ডের নাম সংগ্রাম ও জয় (প. ৩৪৩ – ৬২৪)।

এখন এই টেক্সটগুলির অনেক রকমের রিডিং হইতে পারে। রিডিংয়ের সময় ঘটনা ঘটার টাইমটা মনে রাখতে পারলে সুবিধা হওয়ার কথা। হ্যাপি রিডিং!

ই.হা.

______________________

 

নাসিরউদ্দিন আহমদ

গ্রামের মুসলমানদের মধ্যে দু’জন যুবক ১৯২০ বা ১৯২১ সালে মেট্রিক পাস করেন। ওরাই ছিলেন মুসলমান পাড়ার প্রথম মেট্রিকুলেট। ওদের একজনের বিদ্যাশিক্ষার কাহিনী এখনও মনে পড়ে। তাঁর নাম নাসিরউদ্দিন আহমদ। তিনি তখন চার মাইল দূরে অবস্থিত কালীগঞ্জ হাই স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র। একদিন বেলা দশটা এগারোটা দিকে তিনি বাবার কাছে উপস্থিত হন। তাঁর ডান কি বা ঠিক মনে নেই, হাতের বাজুতে কামড়ের দাগ। দাঁত চামড়া ভেদ করে মাংসে প্রবেশ করেছে। নাসিরউদ্দিন জানালেন, বড় ভাই জহরউদ্দিন তাঁকে কামড়েছে। একটু দূরে অন্য পাড়ায় বাড়ি। বাবার কাছে এসেছেন বিচারের দাবিতে। চাষী পরিবার। পিতা নেই। বড় ভাই এবং ছোট ভাই মাঠে হালচাষের কাজ করেন। মেজো ভাই হালচাষ ছেড়ে লেখাপড়া করছে কেন বড় ভাইয়ের বিচারে এটা তার অপরাধ। দেবরের জন্য স্কুলের ভাত রেঁধে দেয় কেন এ অপরাধেবড় ভাই তার বউকেও প্রায়ই মারধর করতেন। বাবা বড় ভাই জহরউদ্দীন এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের ডাকিয়েছিলেন। বিচারের রায় কি হয়েছিল আজ আর মনে নেই। কিন্তু এটা মনে আছে যে বাবা নাসিরউদ্দীনকে বলেছিলেন, ও বাড়িতে তোমার লেখাপড়া হবে না; তুমি আমার বাড়িতে থাকো এবং ওদের দু’জনকে (আমি এবং আমার ছোট ভাই) কিছু কিছু দেখাও-শোনাও (পড়াও)। নাসিরউদ্দীন সাহেবের কাছেই আমার ইংরেজি শিক্ষা শুরু হয়। আমাদের বাড়ি হতেই তিনি ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন এবং ম্যাট্রিক পাশ করার পর তিনি চাকরির খোঁজে কলকাতা চলে যান। সেখানে তিনি ক্যালকাটা সোসাইটি ফর দ্য প্রটেকশন অব ক্রয়েলটি টু এ্যানিমেলস সংক্ষেপে সি.এস.পি.সি.এ. তে সাব-ইন্সপেক্টরের চাকরি পান। শুনেছি ঐ চাকরিতে বিস্তর উপরি রোজগার ছিল। তিরিশের দশকে তিনি চাকরি হারান বা ছেড়ে দেন। দেশে ফিরে তিনি বলদা স্টেটে নায়েবির চাকরি নেন। যুদ্ধের সময় তিনি হোম গার্ডের ক্যাপ্টেন হন। তাঁর সঙ্গে থানার গভীর যোগসূত্র ছিল। ইউনিয়ন বোর্ডের সদস্যও তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৫২ সালে আমাদের গ্রামেও সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামের একজন গরিব গোয়ালা রাত্রিকালে নিহত হয়। সে দই বেচতো। ধুতির কোঁচড়ে নাকি তার মূলধন তিনশ’ টাকা ছিল। আমি তখন ঢাকায় সাংবাদিকতা করি। দাঙ্গার সংবাদ পেয়ে বাড়িতে গিয়ে শুনেছিলাম নায়েব নাসিরউদ্দীন সাহেব নাকি স্ব-গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামের নিরক্ষর সাধারণ মুসলমানদের লুটপাটের কাজে উৎসাহিত করেছিলেন। নাসিরউদ্দীন আহমেদ ১৯৫২ সালের এক রাত্রিতে স্বগৃহে আহাররত অবস্থায় আততায়ীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন। তিনি ছিলেন আমার ছেলেবেলার শিক্ষক। রাত্রি প্রভাতের প্রথম আলো তাঁর কাছেই প্রথম পেয়েছিলাম। তিনি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে পড়াতেন। কর্মজীবনে জনস্বার্থের ক্ষেত্রে প্রবল মতভেদ সত্ত্বেও আমি তাঁর প্রতি কখনও অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করি নি। তাঁর কথা যখনই স্মরণ করি তখনই মনে প্রশ্ন জাগে, তিনি তো ছিলেন সাধারণ খেটে-খাওয়া পরিবারের সন্তান। নিপীড়িত জনগণের বন্ধু হওয়াই তাঁর পক্ষে স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তা না হয়ে হলেন বিপরীত চরিত্রের লোক। কেন এমন হলো? তা হলে কি প্রচলিত অর্থে সামাজিক-রাজনৈতিক পদ্ধতি এবং তার সঙ্গে সঙ্গতিপুর্ন শিক্ষা ব্যবস্থাই মানব চরিত্র গঠন করে? প্রচলিত ধর্মও প্রকৃতপক্ষে প্রচলিত পদ্ধতির সহযোগী? প্রচলিত পদ্ধতির বিরুদ্ধে সামাজিক বিদ্রোহ এবং নতুন ধর্ম বা দার্শনিক পদ্ধতির যুগপৎ উদ্ভব একটি ঐতিহাসিক সত্য। বলাবাহুল্য, অন্যদের মতো তিনিও নামাজ-রোজা করতেন।

(প. ২০ – ২১)

Continue reading

এডিটোরিয়াল: কোন একটা ইস্যু লইয়া কয়েকভাবেই ভাবতে পারেন আপনে

কোন একটা ইস্যু লইয়া কয়েকভাবেই ভাবতে পারেন আপনে। প্রায়ই দেখবেন, কোন একটা ইস্যুতে দুই দল মানুষ যখন কাইজা/ফ্যাসাদ করে তারা আসলে ভাবনার একই ডিসকোর্সে বা প্যারাডাইমে থাকতেছে।

ধরেন, হিন্দু মোসলমান ইস্যু লইয়া ফ্যাসাদ করতেছে দুই দল। উপরের দিকের কিছু হিন্দুর হাতে দেশের সব টাকাপয়সা, উপরের কিছু মোসলমান তখন ভাগ চাইলো–এই লইয়া ফ্যাসাদ। দুই দলই কিন্তু তাইলে ভাবতেছেন প্রোপার্টির মালিক অভিজাতরা…উচাবর্ণ বনাম আশরাফ ফ্যাসাদ এইটা। ঔনারশিপের একটা ডিসকোর্সেই আছেন দুই দল। হিন্দু বা মোসলমান যেই হন, আপনে তখন মার্ক্সের হেল্প লইয়া ‘বিয়ন্ড দ্যাট ডিসকোর্স’ ভাবতে পারেন–আপনে ক্লাসের আইডিয়া দিয়া একই লগে কম্যুনাল ডিসকোর্সের বাইরে যাইতে পারেন।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

কিছু ব্যাপার আছে যেইটারে সহজে চেনা যায় না অত; ধরেন, বাংলা হইলো সংস্কৃতের মাইয়া–এমন একটা ভাবনা আছে; এইটা যারা ভাবছেন তারা খুবই কনজার্ভেটিভ কাম করছেন–বাংলায় কথা কওয়া সমাজে চালু থাকা ফার্সি, আরবী শব্দগুলি ওনারা ডিনাই করছেন, ইংরাজি শব্দের খুবই অচল সংস্কৃত শব্দে তরজমা করছেন, যেইগুলি খোদ ঐ ইংরাজি শব্দের চাইতেও কম লোকে বোঝে, বা বোঝেই না কেউ–ব্রাকেটে ইংরাজিটা দিতে হয়! নজির? ইন্টারনেটের বাংলা করলেন একদল অন্তর্জাল!

এখন, সংস্কৃত যেহেতু হিন্দু ধর্মের কোর বুলি, হিন্দু বামুনরা ঐটারে পালে, মোসলমানরা তখন ঐ এটিচ্যুডের নাম দিল ‘হিন্দুয়ানী’, তারা তখন বাংলা কওয়া সমাজে যেইসব ফার্সি শব্দ চালু নাই তেমন শব্দও ঢুকাইতে চাইলেন, চালু সংস্কৃত শব্দগুলি পুরা বাদ দেবার চেষ্টা করলেন; দেখেন, ব্যাপারটা কেমন কম্যুনাল হইয়া উঠলো! তাইলে, দুই দলই মানুষের বুলিকে ধর্মের বাইরে থেকে বুঝলোই না! হিন্দুদের কাউন্টার দিতে মোসলমানদের মাঝে বেশি ফার্সি জানা একদল অভিজাত গজাইলো হিন্দুদের বামুনের মতোই! হিন্দুদের ভিতর মানী জিনিসের প্যারালাল জিনিস বানাইতে চেষ্টা করলো! নজির? মধুসূদন বা নবীনচন্দ্রের এপিকের কাউন্টার দিল মোসলমান কায়কোবাদ, মোসলমানের গীতাঞ্জলি লেখার আর্জ পয়দা করলো গীতাঞ্জলিরই ফার্সি তরজমা যেন–এবাদতনামা! Continue reading

পাখির নাম কী হবে? ইউ ডিসাইড। শুধু পাখিই থাকুক?

[show_avatar email=1013 align=left user_link=website show_name=true] [show_avatar email=1017 align=right user_link=website show_name=true]

___________________________

আনিকা শাহ অ্যান্ড চিংখৈ অঙোম
____________________________

 

আমাদের দুইটা পাখি ছিল। আমার আর আনিকার। দাম মনে নাই। সালও না।

চিংখৈ বিয়ে করলা কোন সালে? ২০১৪? সেই সাল।

আমরা অইদিন বইমেলায় একসাথে যাই। অনেক্ষণ হাঁটাহাঁটি করি। চারুকলার মোল্লা দিয়ে ঢুকি মনে হয় প্রথমে। তারপর হাঁটতে হাঁটতে কই কই।

বইমেলায় যাইতে একটা কালি মন্দির। কিছু একটা হইতেছিল তখন যখন আমরা মন্দিরটার সামনে দিয়ে হেঁটে যাই। মিউজিক শুনে আগ্রহী হই আমরা। কির্তন হইতেছিল।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

ভিতরে ঢুকে আমরা মন্দিরের পাশে গিয়ে দাঁড়াই। কির্তন শুনি কিছুক্ষণ। ঝাপসা ঝাপসা মনে আছে আমার। আনিকার মনে থাকতে পারে স্পষ্ট। কিংবা তারও ঝাপসা ঝাপসা। কিংবা সে পুরোটাই ভুলে গিয়ে থাকতেও পারে।

আমরা যখন সেই ঝাপসা ঝাপসা মন্দির থেকে বের হই হই, এক ভক্ত আমাদের কপালে তীলক আঁইকা দিতে আগায়া আসে।

তিলকসংক্রান্ত কিছুই আমার মনে নাই। ইন ফ্যাক্ট আমার ধারণা এইটা চিংখৈ-এর কন্সট্রাক্টেড মেমোরি। কিংবা এই মেমোরির সাথে ওভারল্যাপ করা অন্য কোনো মেমোরি।

মন্দির থেকে বের হয়ে বইমেলায় গিয়ে দেখি বিরাট ভীড়। বইমেলার বাইরে আরেক মেলা বৈকি। পিঠা, চটপটি, ফুচকা, চানাচুর, পপকর্ন, পাখি, খেলনা, বেলুন, ধুলা, বালি, নয়েজ, ইত্যাদি।

আমরা কিছু খাইছিলামও বোধহয়।

সন্ধ্যা নাইমা গেছে তখন। অন্ধকার আকাশ। রেন্ডমলি হাঁটতেছিলাম আমরা। উদ্দেশ্যবিহীন। একটা মেলানকলিরে সাথে নিয়া।

মেলানকলিটাও কন্সট্রাক্টেড। ওভারল্যাপিং। Continue reading

গল্প: শাহীন আপার সাথে আমার সম্পর্ক

This entry is part 16 of 20 in the series বাংলাদেশি ফিকশন

গল্প তো অনেক রকমের হয়। কিন্তু যে কোন গল্পই একটা টাইম আর একটা স্পেইসরে ক্রিয়েট করতে থাকে। আমাদের মনে হইতে পারে যে, গুলশান শহর, মতিঝিল শহর, ধানমন্ডি শহর বা মিরপুর শহর হওয়ার আগে একটা ঢাকা শহর ছিল মনেহয়; ইন বিটুইন টাইমে ম্যাসেজ পার্লার বিউটি পার্লারের চাইতে বেশি না হইলেও ছিল এনাফ ভিজিবল; এমন  ফিমেইল কারেক্টাররা ছিল, যাঁরা সুন্দরী বা ধনী না হইয়াও মেন্টালি স্ট্রং! বান্নার গল্পটা পড়লে মনেহয়, হইতেই পারে এইরকম, পসিবল।

ই..হা.।

—————————————————-

দোয়েল চত্বর থেকে শাহীন আপার কাছে বিদায় নেবার পর বিচিত্র ধরনের স্বরমিশ্রিত অনুভূতি মগজে নিয়ে সরাসরি চলে এসেছিলাম কমলাপুর এজিবি কলোনিতে আমাদের কৃষ্ণচূড়া চত্বরে।

গ্রীষ্মের পড়ন্ত বিকেলে জিন্সের ২ পকেটে দুহাত গুঁজে আজকে বিকালে যখন চারুকলার গেটের বিপরীত দিকের ফুটপাতে ধীর পায়ে হাঁটছিলাম – চারপাশটা টানা দুদিন বৃষ্টির পর এবং আজ সারাদিন বৃষ্টিহীন কড়া রোদের পর ঝকঝকে আসল সবুজে ভরা। ঢাকার অদূরে অন্য এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার স্মৃতি কম।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

৩ বছর আগে ছাত্রজীবন শেষ করলেও এখনও কোন একটা নির্দিষ্ট গতি করতে না পারার দৈনন্দিন অর্থহীন উদ্বেগ, দুঃচিন্তার নিয়মিত সেশন তখন আমার ধারে-কাছে নাই। আমার মাথায় তখন মাত্র দুপুরে পাওয়া মুদ্রার ক্ষমতার প্রয়োগের নকশা বিস্তার লাভ করছে মাকড়সার জালের দ্রুততায় বা সদ্য জেলের হাত থেকে ছুটে যাওয়া জালের মতো দ্রুত বর্ধনশীল; টাকাটা পাওয়ার পর থেকেই যে ইচ্ছাটা মনের গভীরে নড়াচড়া করছিল, দৃঢ় সংকল্পের গলিপথ থেকে বেড়িয়ে তা এখন বাস্তবায়নে উদ্যোগী রাজপথে। এদিকে এ কাজে আগেও এসেছি। আজ বন্ধু বাদলকে ধন্যবাদ জানাই আসল জিনিসের খোঁজ পাইয়ে দেয়ার জন্য, অথচ এতদিন কিনা হোটেলগুলাতে গিয়ে ‘সুন্দর’ মেয়েদের খুঁজতাম। বিকাল ৪টার পর থেকে ওরা আসতে শুরু করে। বাংলা একাডেমির গেটের বিপরীত থেকে শুরু করে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত ফুটপাতের ও সরোয়ার্দী উদ্যানের কোণার গেটটার ভেতরে-বাইরে দাঁড়িয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হাঁটতে থাকে। অবশ্য আমি পার্কের ভেতর কিছু করি না। মগবাজারের এক পরিচিত হোটেলে নিয়ে যাই।

এছাড়া কিছু করার নাই। স্বভাবত অলস হওয়ায় পাশ করে বেরোবার পর থেকেই বাঁধা-ধরা সময়ের কোন চাকরির বদলে পত্রিকার লাইনে ঘোরাফেরা করছি বছর দুয়েক ধরে। ২ বছর ধরে কন্ট্রিবিউটর হিসাবে একটা সাপ্তাহিক পত্রিকায় কাজ করছি। আর শিক্ষানবীশ পর্যায়ের একটা পদে নিয়োগের জন্য ধর্ণা দিয়ে চলছি। সম্পাদক শালাও দারুণ পিচ্ছিল, গত দেড় বছর ধরে কী দক্ষতায়ই না ঝোলাচ্ছে আশার মূলাটা, সার্কাসে ছাড়া কোথাও পাওয়া যাবে না এমন নিখুঁত, ভুবনমোহিনী পেশাদারিত্ব। তবে বিলটা অবশ্য খারাপ দেয় না। চূড়ান্ত আলসেমির পর মাসশেষে যে কয়টা লেখা জমে তাতে বিলটা তেমন খারাপ হয় না। মেস জীবনের রুটিন খরচের পরও ২/১ হাজার টাকা থাকে। এতে গলা ভাসিয়ে ভেসে থাকা যায় শুধু, একজন নিম্নমধ্যবিত্ত যুবকের আবশ্যকীয় যাবতীয় নিয়ম ভণ্ডামির থুতু গিলে ফেলার মত মেনে নেওয়ার পরও। তবে, ভেসে থাকাই সার, তীরে পৌঁছনো যায় না তাতে; বলাবহুল্য, মহাসাগর না হোক অন্তত নদীর। অন্যান্য হিসাব মিটিয়ে, এমন অর্থনৈতিক ভিত্তির প্রেক্ষাপটে না পারি; দেশের বাড়িতে ফিরে চাচাত বোনের সাথে শোয়ার একটা সামাজিক বন্দোবস্ত করতে না পারি, টাকা না থাকার হীনমন্ম্য সাহসে নিয়ম-কানুন মেনে দায়হীন যৌন সম্পর্কের কোন বান্ধবী গোছের যোগাতে। আর গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার মত রয়েছে নিষ্ঠার অভাব বা আলস্য। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে হয়ত চালু আছে এই বৃত্তি, আমাদের মত মানুষ এত বছর ছিল বলেই এই বৃত্তিও এতকাল টিকে আছে। সবাই জানে, আমরাই প্রথম না! Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →