Main menu

এডিটোরিয়াল: পার্সোনালিটি, মান-ইজ্জত আর গ্লানির গান

ক. অমন রিলেশনে গুলতেকিনের যদি এতোই আপত্তি, উনি কেন আগেই বাইর হইলেন না?

উড়াইয়া দিতে চাইলাম গুলতেকিনরে, তখনই কিছু জিনিস মনে পইড়া গেল! ২০০৬ সালের জুলাই মাসে একটা বিয়া করছিলাম, নাকি বিয়া বইছিলাম? আখেরি বিচারে করছিলামই কারেক্ট, আমার বউ বিয়া বইছিলো আসলে! আমরা দুইজনে আসলে বিয়া নামের সেই ঘটনাটা ঘটাইতেই চাইছিলাম, সমান শেয়ারের প্রোমিজেই; কিন্তু দেশের আইন আমারে বিয়া করাইলো, ওরে বিয়া বসাইলো![pullquote][AWD_comments][/pullquote]

কাবিননামার সেই ধারাটার কথা মনে পড়তেছে, সেই ধারায় আমারে তালাক দেবার পাওয়ার দেওয়া হইছে, সেই পাওয়ার আমার বউরে দিবো বা দিবো না–আমার খুশি! আমার যা নাই তাই দিলাম তখন আমার বউরে, আইন আমারে সমান হইতে দেবে না, আইন আমারে কইলো–পাওয়ার আমার হাতে, আমি তালাক দিতে পারবো বাই ডিফল্ট, আমার বউ দিতে পারবে যদি সেই পাওয়ার আমি তারে দেই! সো, আইন আমারে বিয়া করতে বাধ্য করলো, আমার বউরে বিয়া বইতে।

হুমায়ূন-গুলতেকিনের বিয়ার সময়ে এই ধারাটা আছিল না, মানে গুলতেকিনের তালাক দেবার পাওয়ারই আছিল না, উনি আসলে তালাক দিতেই পারেন না, তালাকের ব্যাপারে আপোষ হইলেও সেইটা হুমায়ূনকেই দিতে হবে; হুমায়ূন যদি রাজি না হন তাইলে মামলা করতে পারে গুলতেকিন, উপযুক্ত কারণ দেখাইতে পারলে আদালত তালাক দিতে বাধ্য করতে পারে হুমায়ূনরে, যদ্দূর বুঝি, তখনো তালাকটা হুমায়ূনকেই দিতে হবে, আদালত দিতে পারবে না; কারণ, গুলতেকিন তো আদালতের বউ না! (আইনের লোকেরা, কারেকশন প্লিজ, ইফ এনি…)

খ. তো, গুলতেকিন মামলা করলো না কেন?

মনে হইলো, তাই তো! হুমায়ূনের এতো টাকা হইছে, হূমায়ূনের তালাক চাইয়া মামলা করলে গুলতেকিনরে তো হুমায়ূনই টাকা দিতো! হুমায়ূনের টাকায়ই তো মামলার খরচ চলে গুলতেকিনের, নাকি না!

ওদিকে, আরেকটা ব্যাপার আইলো মাথায়; সচিবের চাইতে উপসচিব, জাতির চাইতে উপজাতি, প্রেসিডেন্টের চাইতে উপপ্রেসিডেন্ট সব হিসাবেই মাইনর, বাট বউ আর উপবউদের হিসাব উল্টা! বউ’র চাইতে উপবউ’র দাম বেশি, হাতখরচ বেশি, ড্রেসের দাম বেশি, অর্নামেন্টস/মেকআপের পাওনা বেশি, ইচ্ছার দাম বেশি, ফোরপ্লে বেশি, ওরাল সেক্সের পাওনা বেশি, ট্যুর বেশি, হাসির পাওনা বেশি, খুনসুটিও বেশি!

বউ ঘরের বাইরে থেকে কামাই করলেই কেবল তার কিছু টাকা থাকতে পারে, নাইলে সংসারের প্রোপার্টি ভাতারের, বড়জোর ‘আমাদের’! উপবউ’র চাইতে কিছু কম বেতনও যদি মাসিক পাইতো বউ, কিছু টাকা থাকতো নিজের, মামলা করার কথা ভাবা যাইতো, বাট সংসারে বউ’র কামাই নাই!

গ. ফাউ আলাপ, গয়না বেইচাও মামলা করা যাইতো না!

বাংলাদেশের আইন-আদালতের খরচ-সময় কেমন সেইটা শাজনীনের বাপ, ট্রান্সকমের মালিক লতিফুর রহমানরে দিয়া বুঝতে পারেন; টাকা আছে, মিডিয়া আছে, হাই প্রোফাইল কানেকশন আছে তবু কত বছর, কত টাকা, কতবার যাওয়া আদালতে, মামলার সিরিয়াল পাইতে পেশকারকে কত দিতে হয়? পিপিরে হাত করার উপায় কি? মামলার তারিখ পিছায় কতবার, কেমনে?

কিন্তু টাকা থাকলেই হইলো? রুমানা মঞ্জুরকে মনে পড়ে? ঢাকা ভার্সিটির মাস্টার, ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনের, ঐ যে যার চোখ তুইলা ফেলছিল ভাতার? উনি কেন আগেই তালাক দিলেন না, মামলা করলেন না? টাকা-কড়ির অভাবের লজিক নাই তো এইখানে!

সেই ভাতার কি বিছানায় এক্সট্রা অর্ডিনারি আছিল? রুমানার পার্সোনালিটির ঘাটতি? প্রাইড কম?

এমন কিছু ভাবতেই আরাম লাগার কথা আমাদের; নাইলে তো ধান্ধা লাগবে, যেই সিস্টেমে এত টর্চার-ম্যানিপুলেশনের পরেও মানুষ থাকে যুগ যুগ, সেই মানুষদেরই গালি দেওয়া উচিত আমাদের; নাইলে তো সেই সিস্টেমকে মনস্টারাস ভাবতে হয়! তা কেমনে ভাবি, আমরাই যে সেই সিস্টেমের কারিগর!

Continue reading

ফিশ লাভ ।। আন্তন চেখভ ।।

“আনিকা শাহ কইছেন, ‘কিন্তু এমনও তো হইতে পারে যে লিটেরারি জঁরাগুলার এভল্যুশনের মধ্যে ফ্যাবিউলিজম হয়ে সাররিয়ালিজম ছাড়ায়ে ম্যাজিক রিয়ালিজমের দিকে যাওয়ার মাঝের কোনো একটা সময়ের গল্প এইটা। নিশ্চিত না, অসম্ভবও না।’ আমি ভাবছি, এমন কি হইতে পারে না যে, হিস্ট্রিক্যলি পিছের একটা টাইমে বইসা বইসা ঘুঘু চেখভ বা গোগল (নাক) ফিউচারে পিপিং করছেন, আটলান্টিক পার হইয়া, তারপর নকল করছেন ‘ম্যাজিক রিয়ালিজম’, দুনিয়ার আর আর মানুষের (যেমন, রাজু আলাউদ্দিন বা রফিক-উম-মুনীর) তখনো ঐ পরের ম্যা.রি.র লগে চিন-পরিচয় হয় নাই বইলা ওনাদের ঘুগলামী ধরতেই পারি নাই আমরা…🙂!”

রক মনু

——————————-

“ফিশ লাভ” (প্রথম প্রকাশ ফ্র্যাগমেন্টস্‌  ম্যাগাজিনে, ১৩ জুন ১৮৯২) পড়ার আর অনুবাদ করার মধ্যে গ্যাপ এত বেশি হয়ে গেছে যে পড়ার সময় কী মনে হইছিল সেইটা মনে নাই।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

তবে এইটা মনে আছে যে পড়ার সাথে সাথেই অনুবাদ করার নিয়ত করছিলাম। খুব সম্ভব একটা এই কারণে যে গল্পটা ছোট, এবং আরেকটা এই কারণে যে গল্পের নায়ক একটা মাছ।

চেখভ আমার পড়া সবচেয়ে কমপ্যাশনেট লেখকদের মধ্যে একজন। তাঁর চরিত্ররা মানুষ হোক বা মাছ, এবং যেমনই মানুষ হোক বা যেমনই মাছ, আই হ্যাভ অলওয়েজ ফাউন্ড হিম টু হ্যান্ডল দেম উইদ আটমোস্ট কেয়ার। “ফিশলাভ”-এ হিউমার প্রমিনেন্ট, সারকাজম তস্য প্রমিনেন্ট। এতটা সারকাস্টিক চেখভকে হইতে দেখছি বলে মনে পড়ে না। তবে সারকাস্টিক হইতে হইতেও চেখভ কমপ্যাশনেট হইতে পারেন, সেইটা আরাম লাগে।

এমন হালকা ম্যাজিক রিয়ালিস্ট ধাঁচেরও চেখভকে হইতে দেখছি বলে মনে পড়ে না। কিন্তু হয়তো তিনি তখন হচ্ছিলেন। এবং হয়তো তিনি একা না। আমরা ধরে নেই যে ম্যাজিক রিয়ালিজমের উৎপত্তি ল্যাটিন আমেরিকায়। তার আগে সাররিয়ালিজম ছিল ইউরোপে, তারও আগে ফ্যাবিউলিজম ছিল নানান জায়গায়। এবং নিশ্চয়ই তাই-ই। কিন্তু এমনও তো হইতে পারে যে লিটেরারি জঁরাগুলার এভল্যুশনের মধ্যে ফ্যাবিউলিজম হয়ে সাররিয়ালিজম ছাড়ায়ে ম্যাজিক রিয়ালিজমের দিকে যাওয়ার মাঝের কোনো একটা সময়ের গল্প এইটা। নিশ্চিত না, অসম্ভবও না। হয়তো কোনো কিছুরই উৎপত্তিস্থল কেবলমাত্র সেই একটা জায়গা না।

দ্য মেটামরফসিস পড়ে মনে হইত যে মানুষ মূলত তেলাপোকা। “ফিশ লাভ” পড়ে মনে হইছিল মানুষ মাঝে মাঝে মাছও। কিন্তু পরে আবার মনে হইল যে মাছই আসলে মাছ। এবং মাছ মাছই। এবং দ্যাট্‌স্‌ ওকে। দ্যাট্‌স্‌ বেটার দ্যান ওকে। এত মনুষ্যকেন্দ্রিক হয়ে আর কতকাল।

আনিকা শাহ Continue reading

আমার কথা – বিনোদিনী দাসী। (৩)

১ ।।  ২ ।।

 

দ্বিতীয় পর্ব

রঙ্গালয়ে

মহাশয়!

আপনার যে এখনও আমার জীবনের  দু:খময়  কাহিনী শুনিতে ধৈর্য্য আছে, ইহা কেবল আমার উপর মহাশয়ের অপরিমিত স্নেহের পরিচয়।

আপনি পত্রে বলিতেছেন যে, প্রতি  চরিত্র অভিনয়ে আমি মানুষের মনে দেবভাব অঙ্কিত করিয়াছি। দর্শক অভিনয় দর্শনে আনন্দ করিয়াছেন ও মনঃসংযোগে দেখিয়াছেন বটে, কিন্তু কিরূপে  তাঁহাদের  হৃদয়ে দেব-ছবি অঙ্কিত করিয়াছি, তাহা বুঝিতে পারিতেছি না। যদি অবকাশ হয় হয় তবে বুঝাইয়া দিবেন। এক্ষণে যদি ধৈর্য্য থাকে তবে আমার নাটকীয় জীবন শুনুন![pullquote][AWD_comments][/pullquote]

আমি যখন প্রথম থিয়েটারে যাই, তখন রসিক নিয়োগীর গঙ্গার ঘাটের উপর যে বাড়ী ছিল, তাঁহাতে থিয়েটারের রিহার্সাল হইত। সে স্থান  যদিও  আমার বিশেষ  স্বরণ নাই, তবুও অল্প অল্প মনে পড়ে।  বড়ই রমণীয় স্থান ছিল, একেবারে গঙ্গার উপরে বাড়ী ও বারান্দা, নীচে গঙ্গার বড় বাঁধান ঘাট;  দুই ধারে অন্তিমপথযাত্রীদিগের বিশ্রাম ঘর।  সেই বালিকা কালের  সেই রমণীয় ছবি দূর স্মৃতির ন্যায় এখনও  আমার মনোমধ্যে জাগিয়া আছে, কেমন গঙ্গা কুল কুল করিয়া বহিয়া যাইত। আমি সেই টানা-বারান্দায় ছুটাছুটি করিয়া খেলিয়া বেড়াইতাম । আমার মনে কত আনন্দ, কত সুখ-স্বপ্ন ফুটিয়া উঠিত। বালিকা বলিয়াই হউক, কিম্বা শিক্ষাকার্য্যে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়াই হউক, সকলে আমাকে বিশেষ  স্নেহ ও যত্ন করিতেন। আমরা যে তখন বড় গরীব ছিলাম,  তাহা পূর্ব্বেই বলিয়াছি;  ঐ নিজের  একটী বসত বাটী ছাড়া  ভাল কাপড়-জামা বা অন্য দ্রব্যাদি কিছুই ছিল না। সেই সময়ে “রাজা”  বলিয়া যে প্রধানা অভিনেত্রী ছিলেন, তিনি আমায় ছোট হাত-কাটা দুটি ছিটের জামা তৈয়ারী করাইয়া দেন। তাহা পাইয়া আমার কত যে আনন্দ সকলে হইয়াছিল,  তাহা বলিতে পারি না। সেই জামা দুইটীই আমার শীতের  সম্বল ছিল। সকলে বলিত যে এই মেয়েটীকে ভাল করিয়া শিক্ষা দিলে বোধ হয় খুব কাজের লোক হইবে। তখন ধর্ম্মদাস সুর মহাশয় ম্যানেজার ছিলেন, অবিনাশচন্দ্র কর মহাশয় আসিস্ট্যাণ্ট ম্যানেজার ছিলেন। আর বোধ হয় বাবু মহেন্দ্রনাথ বসু শিক্ষা দিতেন। আমার সব মনে পড়ে না। তবে তখন বেলবাবু , মহেন্দ্রবাবু, অর্দ্ধেন্দুবাবু ও গোপালবাবু,  ইহারাই  বুঝি  সব শিক্ষা দিতেন। তখন বাবু রাধামাধব করও  উক্ত থিয়েটারে  অভিনয় কার্য্য  করিতেন এবং বর্ত্তমান সময়ে সম্মানিত  সুপ্রসিদ্ধ ডাক্তার শ্রীযুক্ত রাধাগোবিন্দ কর মহাশয়ও উক্ত ন্যাশনাল থিয়েটারে   অবৈতনিক অভিনেতা ছিলেন। ইঁহারা সকলে পরামর্শ করিয়া আমার “বেণী-সংহার”  পুস্তকে  একটি  ছোট পার্ট দিলেন, সেটি দ্রৌপদীর একটি সখীর পার্ট,  অতি অল্প কথা। তখনই বই প্রস্তুত হইলে, নাট্যমন্দিরে গিয়া ড্রেস-রিহার্সাল দিতে হইত। যে দিন উক্ত বই-এর ড্রেস-রিহার্সাল হয়, সেদিন  আমার তত ভয় হয় নাই, কেননা – রিহার্সাল বাড়ীতেও যাহারা দেখিত, সেখানেও প্রায় তাহারাই সকলে এবং দুই-চারিজন অন্য লোকও থাকিত। কিন্তু যে দিন পার্ট লইয়া জনসাধারণের সম্মুখে  ষ্টেজে বাহির হইতে হইল, যে দিন হৃদয়ভাব ও মনের ব্যাকুলতা কেমন করিয়া বলিব। সেই সকল উজ্জ্বল আলোকমালা, সহস্র সহস্র লোকের উৎসাহপূর্ণ দৃষ্টি,  এই সব দেখিয়া শুনিয়া আমার সমস্ত শরীর ঘর্মাক্ত হইয়া উঠিল, বুকের ভিতর গুর্ গুর্  করিতে লাগিল, পা দুটিও থর্ থর্ করিয়া কাঁপিয়া উঠিল, আর চক্ষের উপর সেই সকল উজ্জ্বল দৃশ্য যেন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হইয়া গেল বলিয়া মনে হইতে লাগিল।  ভিতর হইতে অধ্যক্ষেরা আমায় আশ্বাস দিতে লাগিলেন। ভয়, ভাবনা ও মনের চঞ্চলতার সহিত কেমন একটা কিসের আগ্রহও যেন মনের মনের ভেতর উথলিয়া উঠিতে লাগিল। তাহা কেমন করিয়া বলিব?  একে আমি অতিশয় বালিকা,  তাহাতে গরীবের কন্যা,  কখন এরূপ সমারোহ স্থানে যাইতে বা কার্য্য করিতে পারি নাই।  Continue reading

আহমেদ মুজিবের কবিতা

১৯৯১ সালে আহমেদ মুজিবের প্রেসের কবিতা বইটা ছাপা হইছিল, লেটার-হেড প্রেসে। ততদিনে কম্পিউটারে কম্পোজ কইরা ছাপানোর মেশিন চইলা আসছে; আজকে যেমন মাওবাদী গেরিলাদের জায়গায় ইসলামিস্ট জঙ্গী’রা চইলা আসছে। কিন্তু আহমেদ মুজিব স্টিল একজন ওল্ড-ফ্যাশনড মাওবাদী। জঙ্গীদের এগজিসটেন্সটারে ইগনোর করেন না, কিন্তু নিজেরে মানাইতে পারেন না এই চেইঞ্জড রিয়ালিটিতে, আবার একটু একটু কইরা নিজেরে ইনসার্ট করার ট্রাই করেন।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

যার ফলে একটা সাপ্রেশন চইলা আসে উনার কবিতায়; তেমন কোন কমপ্লেইন নাই, যা ঘটার সেইটা ঘটতেছে, উনি দেইখা যাইতেছেন খালি, দেখাটারেও এড়াইয়া যাইতেছেন। এইরকম একটা সিচুয়েশন এইটিইসে যে আমরা পার করি নাই তা না; মেশিনের রিয়ালিটিতে অনেকেই সাবস্ক্রাইব করছেন, আহমেদ মুজিবই মে বি একমাত্র যিনি মেশিনরে মানুষ বা মানুষরেই মেশিন ভাবতে পারার মতোন ভুল করার কাছাকাছি যাইতে পারছেন।

এই কবিতাগুলি উনার বেস্ট কবিতা না, বরং অ্যাভেইলেবল কবিতাগুলি’র একটা সিলেকশন।

/ই.হা.

——————————————————————

না-চালু মেশিনের ছায়া ।। কানচাবি চাঁদ ।। কালো কালি ।। ছাপাখানার ভূত ।। ২৩.৩.৯১ ।। পরিত্যক্ত বস্তুদের না যেতে চাওয়া ।। প্রেসের কবিতা ।। প্রেমের কবিতা ।। দিনলিপি ১ ।।  ক্ষমা ।। বুড়িগঙ্গার তীরে ।। খুব মনে পড়ে ।। সব জীবিতদের মনে পড়ে ।। আবার আরেকটি শীতকাল ।।

———————————————————————

 

নাচালু মেশিনের ছায়া

ওরা দুজন, লাল কিশোর-কিশোরি, না-চালু মেশিনের ছায়ায় বসে

হায়, রোজই দেখি, যা আছে ফাঁকা সব পৃথিবীর নয়,
দিনের পর দিন সূর্যের খরচ ছাড়া
এই নগরে এই মুর্হূতে পার্ক নেই কোনো
কোনো বিশাল অথবা কোনো কালো একফালি মৃত্যুর গান ঘিরে।
কি জানি আমারও না
ফ্লাট মেশিনে ওঠার আগে একটি হ্যান্ডকম্পোজ পাখি কাঁপতে-
কাঁপতে পাখনা মেললে
বৃষ্টির খোসারা তার ডানা কেড়ে নিলো বনের ঢালুতে
ভরা পৃথিবীটায়, পুরোনো সারির নিচে অথবা
চিরকালের মতো আস্ত পাতার সরসর শব্দে।

ওরা তখনও, লাল কিশোর-কিশোরি, কথা বলছিলো,
না হেঁটে মনের শিরাগুলি খুব কাছে থেকে বেয়ে।

সাতটি কালির রামধনু উঠছে আকাশে,
নগরের তলায় দোকানিরা সব হারায়া গেলে
এই কথা স্পষ্ট হয়
আর কাটা কাগজের গাদায় এইসব জ্বলা কথাগুলো জেঁকে বসলে
ওরা না শুনে দেখলো নতুন চাকার কোরাস
ঢুলছিলো তার ব্যথা গোলাপি কথায়।

মেয়েটি বললো – গভীর মেশিন, শুধু তার ছায়া,
তোমার রঙিন চোখ ও দুটো রোদ, পার্কের পাকা পাতা
ছেলেটি বললো – এই তো গভীর মেশিন, কলকব্জার কাকলি
খেয়ে আছে
মনে হয়, অনেক দিন অনেক মাস গরম তারার মতো।

তারই একটু পর, নিজেদের মধ্যে কয়েক হাত পাগলা হাওয়া
নামহীনভাবে ধাওয়া করে এলো
মরচেরা পোশাক ছাড়লো খোলা প্রান্তে,
যার আনমনা কুয়াশার স্বাদ
বারবার মরে গেলো নিঃস্ব ধোঁয়ার কাছে
আত্মার ক্ষয়ে যাওয়ার মতো রোদের করুণা আর দেশি চালাকিতে।

ফুলের ঝরা গন্ধ চলে গেলো,
চলে গেছে নগরের দুটি ছোটোমানুষ
টানা হাত-পায়, শব্দ ও সন্ধ্যার মধ্য দিয়ে
একটা ফুলের পিছনে আরো কিছু পরে বিছুটা ফুলে।

(প্রেসের কবিতা; ১৯৯১)

 

কানচাবি চাঁদ

আপার-সিলিন্ডারে একফালি কানচাবি চাঁদ
মনে হয় ধুলো ও জং-এ-ধরা
জেগে আছে শহরে, এইখানে, এই দামহারা প্রেসের আকাশে।

শাদা বালুর মধ্যে দিয়ে যখন সূর্য গেল, একাকী একবার।
আর আচমকা বিদ্যুতের তারগুলো কালো
বীণা সেজে
এক থাম থেকে আরেক থামে, সরু ও থমথমে।

তখন পাড়ার ছোট্টো ছেলেরা গেঞ্জি বদল করে,
চাঁদ খুঁড়লো নিজেদের চোখ দিয়ে
যেখানে ছাদে এক কিশোরি-কন্যার
ভিনদেশের দূরবীনে, ছানি-পড়া দাদার হাসি ও কালো রঙ
শেষ চিল, কিছু জ্বলা মেঘ ও হাওয়া ধরে থাকে।
আর দূরে চাঁদ মিথ্যে নয় – বাঁকা হয়ে আছ ফাঁকায়
কোনো এক নারীর চোখের মতো ভেজা, দীর্ঘ ও পাপড়ির।
কিন্তু কোনো চাঁদই উঠলো না, কাঁচের কিংবা তামার এবং আমার।

এইখানে, একফালি কানচাবি চাঁদ।
ধুলো ঝেড়ে বল্টুর সাথে, জং-এ ও পাথুরে রঙিন।

(প্রেসের কবিতা; ১৯৯১) Continue reading

নাউ প্লেয়িং: লানা ডেল রেই

This entry is part 3 of 7 in the series নাউ প্লেয়িং

লানা ডেল রেই। আমেরিকান সিংগার, সংরাইটার, মডেল। মিউজিক জঁরা বারোক পপ, ড্রিম পপ, ইন্ডি পপ, রক, ট্রিপ হপ। স্টুডিও অ্যালবাম লানা ডেল রেই [Lana Del Rey] (২০১০), বর্ন টু ডাই [Born to Die] (২০১২), আল্ট্রাভায়োলেন্স [Ultraviolence] (২০১৪), হানিমুন [Honeymoon] (২০১৫)।

জ্যাজের সাথে ইলেক্ট্রো মিশলে যেইটা হয় ডেল রেই-এর গান সেইটা। কিন্তু ট্রিপি। কিন্তু সিনেম্যাটিক। ড্রিম যেইটা যেকোনো মুহূর্তে নাইটমেয়ার হয়ে যাইতে পারে। কতটুকু ইনডাল্‌জ্‌ করা নিরাপদ নিশ্চিত হওয়া যায় না। সিডাকটিভ টু দ্য পয়েন্ট অভ গথিক। হ্যাপি হইলেও স্যাড। স্যাড হইলেও স্যাড উইদ আ টুইস্ট।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

ডেল রেইকে হিপস্টার জেনারেশনের নমুনা হিসাবে দেখা হইলেও ওর হিপস্টার-হালের পুরাটুক দুইহাজার অনওয়ার্ডসের না, বরং অর্ধেকটা। বাকি অর্ধেক ফর্টিজ-এর জ্যাজ এইজ আর ফিফটিজ-এর বিট জেনারেশন ইন্সপায়ার্ড। সেইটা মিউজিকে জ্যাজ-ইলেক্ট্রো মিক্সের ধরনে আর ঘন ঘন সেইসব সময়ের পপ কালচারের রেফারেন্সে আন্দাজ করা যায়। ডেল রেই তাদের অংশ যারা কাজের মধ্য দিয়ে আইডেন্টিটি তৈরি করে না, আইডেন্টিটি তৈরি করে আগে। যারা কনফিডেন্ট, কেয়ারফ্রি, এমনকি কেয়ারলেসও, কিন্তু একই সাথে ইনসিকিওর এবং ভালনারেবলও হইতে পারে। যারা বলে অল আই ওয়ানা ডু ইজ গেট হাই বাই দ্য বীচ। যারা ডেলিবারেটলি অধরা, কিন্তু এইটাও বোঝে যে লোকে তাদের ছবির বইয়ের মতো দেখবে, পড়বে না। যারা বলে যে আমার বয়ফ্রেন্ড কুল ঠিক আছে, কিন্তু আমার মতো কুল না, কিন্তু এইটাও ভাবে, যখন আমার আর বয়স কম থাকবে না, যখন আমি আর সুন্দর থাকব না, তখনও কি তুমি আমারে ভালোবাসবা? যারা আনডিফাইন্ড্ থাকতে গিয়ে কালেক্টিভলি ডিফাইন্ড্ হয়ে যায়, কিন্তু আবার দেখতে ডিফাইন্ড্ মনে হইলেও ডিফাইন করতে গেলে দেখা যায় যে ভেইগ।

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →