চিটাগাং গেছিলাম ঘুরতে, ফয়েস লেকের রিসোর্টে থাকছিলাম দুইদিন। সেকেন্ড দিনে ওইখান থিকা জিইসি মোড়ে আইসা ব্যাংকের পুরান অ্যাকাউন্ট ক্লোজ কইরা জামালখানে বইয়ের দোকানে গিয়া বই কিনছিলাম কয়েকটা। রুমির কবিতা এর মধ্যে একটা, পেঙ্গুইন থিকা ছাপানো। কক্সবাজার যাওয়ার পথে পড়লাম, ঢাকায় ফিরার পথে আর ঢাকায় ফিরার পরে। পড়তে পড়তে মনে হইলো, কাহিনিগুলি বাংলায় লিখি। [pullquote][AWD_comments][/pullquote]
অনেকগুলি লিখলাম। অনেকগুলি পরে লিখবো বইলা দাগাইয়া রাইখা দিলাম।
কাহিনিগুলি খুব নতুন কিছু না। অন্য কোথাও হয়তো শুনছি বা পড়ছি। তবে কাহিনির ফ্যাক্টগুলি উইকিপিডিয়ার মতো অথেনটিক না। নিজের মতো কইরাই বলছেন। একটাকিছু বলতে চাইছেন উনি কাহিনি দিয়া, ঠিক যুক্তি দিয়া না। যে, দেখেন এইরকম কিন্তু ঘটে আর এইটার মানে কিন্তু এইটা। আমাদের এখনকার সিচুয়েশনটারে যখন যুক্তি দিয়া ব্যাখ্যা করতে পারতেছি না আমরা তখন এইভাবে কেউ যখন একটা কাহিনি দিয়া ডিফাইনড কইরা দিতেছেন, সেইটা তো ভালো লাগে। মনেহয় দুনিয়াটা খালি ইউরোপিয়ান এনলাইটমেন্টের কলোনি না, আরো আরো টেরিটরি আছে। যারা যারা এইরকম ভাবেন না উনারাও এইরকম কেউ কেউ ভাবে বইলা আনন্দ পান মে বি। এইসবকিছু নিয়া এখন কথা আর না বলি।
‘অন্ধকারের হাতি’ নামে একটা কাহিনি উনি লিখছেন (মানে, কাহিনিটা আরো অন্যান্য সোর্স থিকাও আমরা জানি), এইরকম: কিছু হিন্দু লোক একটা হাতি দেখানোর লাইগা নিয়া আসলো একটা জায়গায় যেইখানে কেউ কোনদিন হাতি দেখে নাই। অন্ধকার একটা ঘরে যখন হাতিটারে দেখতে গেলো এক একজন, শুঁড় ধইরা কয়, এইটা তো পানির পাইপের মতোন; ঠ্যাং ধইরা কয়, এইটা তো মন্দিরের থামের মতোন, দাঁত ধইরা কয়, এইটা তো পোরসালিন দিয়া বানানো তলোয়ার (সে আবার খুশি হয়, এইরকম সুন্দর কথা কইতে পাইরা)… মানে, আমরা যট্টুক দেখি সেইটা দিয়াই পুরাটারে বুঝতে পারতেছি তো! যদি সবার হাতে একটা কইরা মোমবাতি থাকতো, যদি সবাই একসাথে অন্ধকার ঘরটাতে ঢুকতো, তাইলে আসল হাতিটারে দেখতে পাইতো।
তো, রুমি হইতেছেন একটা মোমবাতি। আশা করি তার হাতিটারে দেখতে পারবো আমরা একদিন।
———————————————————————————-
রাতের বাতাস ।। সহবত ।। লম্বা দড়ি ।। বন্ধুর পিরীতি ।। ইমরাউল কায়েস ।। চাইনিজ আর্ট আর গ্রীক আর্ট ।। ঋণী দরবেশ।। দৌড়ানোর দু্ইটা পথ ।। জমি বানানি’র ইর্ম্পটেন্স ।। তিনটা মাছ ।। বাগদাদে থাইকা কায়রো’র স্বপ্ন দেখি, কায়রো’তে থাইকা বাগদাদের ।। শেখ খুররানি আর তার ঝগড়াইট্টা ওয়াইফ ।। সাপুড়ে আর জইমা-থাকা সাপ ।। আয়না পলিশ করা ।। তিন ভাই আর চাইনিজ রাজকুমার ।। গাধারে নিয়া একটা গান ।। ভালো-বিচার ।।
————————————————————————————
রাতের বাতাস
একজন মানুষ মরার টাইমে তার ধন-সম্পত্তি তার তিন পোলার মধ্যে ভাগ করার ইন্সট্রাকশন দিয়া গেছিলেন। উনি তার পোলাদের খুবই আপন আছিলেন। অরা তার সাইডে দেবদারু’র গাছের মতো দাঁড়ায়া ছিল, শান্ত আর শক্ত। উনি শহরের হাকিমরে কইলেন, “আমার পোলাদের মধ্যে যে সবচে আইলসা তারে আমার সব সম্পত্তি দিবেন।” তারপর তিনি মারা গেলেন।
হাকিম তখন তিন পোলার দিকে ঘুইরা কইলো, “তোমরা তিনজনেই আমারে তোমরার আইলসামির কথা কও যাতে কইরা আমি বুঝতে পারি তোমরা কি রকমের আইলসা।” সুফিরা আইলসামির ওস্তাদ। উনারা এইটার উপর ভরসা করেন, কারণ উনারা সবসময় দেখেন খোদা সারাক্ষণ উনাদের চারপাশে কাজ করতেছেন। ফসল উনাদের কাছে আসতেই থাকে, যদিও উনারা কোন সময় লাঙলটাও ধরেন না!
“আসো, আমারে কও কেমনে তুমি আইলসামি করো।”
প্রতিটা বলা কথা হইলো আমাদের ভিতরের আত্মা’র একটা ঢাকনা। একটা ছোট পর্দার কাপড় যা একটা রোস্টের মাংসের স্লাইসের চাইতেও পাতলা, শত শত জ্বইলা যাওয়া সূর্যরে দেখাইতে পারে। যা কিছু বলা হইতেছে সেইটা যতোই মামুলি আর ভুল হোক যে শুনে সে ঠিকই বুঝে কই থিকা আসছে এইটা। একটা বাতাস আসে বাগানের দিক থিকা। আরেকটা বাতাস আসে ছাইয়ের গাদা থিকা। চিন্তা করেন একটা শিয়াল আর সিংহের আওয়াজ কি রকম ডিফরেন্ট, আর কি কথা অরা কয় আপনারে!
কেউ একজন রান্নার ডেকচির ঢাকনা খুলতেছে শুইনা আপনি বুঝতে পারেন রাতের খাবারের লাইগা কি রান্ধা হইতেছে। যদিও অনেক মানুষ খালি গন্ধ শুঁইকাই বুঝতে পারে ভিনেগার দিয়া একটা টক স্যুপ থিকা একটা মিষ্টি স্টু রান্ধা হইতেছে। একজন মানুষ একটা মাটির পট কিনার আগে টুকা দিয়া সাউন্ড শুইনা দেখে কোন ফাটা আছে কিনা।
সবচে বড়ভাইটা হাকিমরে কইলো, “আমি কোন মানুষরে তার গলার স্বর শুইনাই বুইঝা ফেলতে পারি। আর সে যদি কথা না কয়, আমি তিনদিন ওয়েট করি, আর তখন ইনটিউশন দিয়া তারে বুঝতে পারি।
সেকেন্ড ভাইটা কইলো, “কেউ কথা কইলেই আমি তারে বুঝতে পারি, আর যদি সে কথা না কয়, তাইলে আমি জানি কেমনে আলাপটা শুরু করা লাগবো।” তখন হাকিম কইলেন, “সেও যদি ট্রিকটা জানে তাইলে কি হইবো?” এই কথা শুইনা আমার সেই মা’র কথা মনে হইলো যে তার বাচ্চারে কইছিল, “যখন রাতে গোরস্তানের ভিতর দিয়া হাঁইটা যাস আর যদি ভূত দেখিস, তাইলে ওইটার দিকে দৌড় লাগাইবি। ওইটা তখন পালাইয়া যাইবো।” বাচ্চাটা কইলো, “ভূতের আম্মা যদি ভূতরে এই কথাটা কইয়া দেয় তাইলে কি হইবো? ভূতেরও তো মা আছে।” সেকেন্ড ভাইটা কোন উত্তর দিতে পারলো না।
হাকিম তখন সবচে ছোটভাইটারে জিগাইলো। “যদি কোন মানুষরে দিয়া কোন কথা না কওয়ানো যায়, তুমি কেমনে তার গোপন আত্মারে বুঝতে পারবা?” “আমি তার সামনে নিরব হইয়া বইসা থাকবো, আর একটা ধৈর্য্যের মই রাখবো সাইডে, আর যদি তার থাকাতে এমন একটা ল্যাঙ্গুয়েজ আসে আমার মনে যেইটা আনন্দের বাইরে, দুঃখেরও বাইরে আমি তখন বুঝতে পারবো যে অর আত্মা হইতেছে ইয়েমেনের আকাশে ক্যানোপাস তারা’র মতোন গভীর আর উজ্জ্বল। আর এইজন্য আমি যখন কথা কইতে শুরু করবো শব্দগুলির শক্তিশালী একটা ডানহাত নিচের দিকে ঝুঁইকা পড়বে, আমি যা বলতেছি আর যেমনে বলতেছি তা থিকা আমি অরে জানতে থাকবো, কারণ আমাদের মাঝখানে তখন একটা জানালা খুইলা যাবে, আমাদের অস্তিত্বের রাতের বাতাস তাতে মিইশা থাকবে।”
ছোট পোলাটাই আছিলো আসলে সবচে আইলসা। সে জিতছিলো।
Continue reading →