Main menu

ভায়োলেন্সের রাজনীতিতে সিনেমার আছর

সিনেমা আমাদের আদি হরফে নিয়া যায় প্রায়ই, বা ফটোগ্রাফিরেই সেই আদি হরফের চর্চা ধরা যাইতে পারি অনেকখানি; সেই আদি হরফ, মানে ছবিই বেশি সিনেমার কারিগরিতে; এখনকার টেক্সুয়াল হরফও তো ছবি, বাট সেকেন্ডারি ছবি কইতে পারি। ওদিকে আমাদের আটারেন্স বা বুলির ফোনিমগুলিরেও কি হরফ কওয়া যায়? কি জানি, এগুলি নিয়া ভাবাভাবি আছে জরুর।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

তো, জীবনানন্দ হইলেন এখনকার হরফ সিস্টেম দিয়া পোয়েটিক কারিগরি করছেন; কেমন হইতে পারে জীবনানন্দের পোয়েটিক কারিগরিরে ছবির হরফে ট্রান্সলেট করলে?

“এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা
সত্য; তবু শেষ সত্য নয়।”/সুচেতনা, জীবনানন্দ

এইটারে ছবি/সিনেমায় ট্রান্সলেট করা যায় নাকি? সিনেমার অবশ্য আরো সুবিধা হইলো–এতে এখনকার হরফ/বুলিও রাখা যায়। জীবনানন্দের লাইন দুইটার পয়লা পার্টটা আপনি পাইবেন কিল বিল সিনেমায়; মানুষের ক্রুয়েল্টি আর প্লেজারের এক ধরনের রিলেশনের পোয়েটিক ডেসক্রিপশন আছে জীবনানন্দে, কিল বিল সিনেমার ব্ল্যাক মাম্বা সিনটা ভাবেন এইটা ভিজ্যুয়ালি ফিল করতে।

 

[youtube id=”QsaG8rJGlyQ”]

 

জীবনানন্দ টেক্সুয়াল হরফ ইউজ করছেন বইলা তার খুন, ভায়োলেন্স বা রক্তের লাল ব্যাপারগুলি ততো টের পাই না আমরা; টারান্টিনো জীবননান্দের এই ব্যাপারগুলিরে ভিজ্যুয়ালে ট্রান্সলেট করেন।

ভায়োলেন্স আর ব্লাড রেড আরো বহু ডিরেক্টরই ইউজ করছেন, বাট জীবনানন্দের লগে টারান্টিনোর কথা কইলাম আরো কিছু কারণে; জীবনানন্দে তো একটা ‘তবু’ আছে–এই লাইন দুইটাতেও যেমন; ‘শেষ সত্য’ তাইলে কোনটা? জীবনানন্দের ‘শেষ সত্য’ হইলো মানুষের পীরিতি; এতো এতো ক্রুয়েল্টি আর ভায়োলেন্স আর ব্লাডের পরেও মানুষের গ্রোথরেট পজিটিভ, মানুষের হাতে খুন হওয়া মানুষের চাইতে বেশি জন্ম দিছে মানুষ, বাচ্চাগুলিরে রেইজ করছে–এইটা খেয়াল করছেন জীবনানন্দ, খেয়াল কইরা পীরিতি নামের ‘শেষ সত্য’-এ বিলিভ করছেন। Continue reading

রুমি’র কাহিনি

চিটাগাং গেছিলাম ঘুরতে, ফয়েস লেকের রিসোর্টে থাকছিলাম দুইদিন। সেকেন্ড দিনে ওইখান থিকা জিইসি মোড়ে আইসা ব্যাংকের পুরান অ্যাকাউন্ট ক্লোজ কইরা জামালখানে বইয়ের দোকানে গিয়া বই কিনছিলাম কয়েকটা। রুমির কবিতা এর মধ্যে একটা, পেঙ্গুইন থিকা ছাপানো। কক্সবাজার যাওয়ার পথে পড়লাম, ঢাকায় ফিরার পথে আর ঢাকায় ফিরার পরে। পড়তে পড়তে মনে হইলো, কাহিনিগুলি বাংলায় লিখি। [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

অনেকগুলি লিখলাম। অনেকগুলি পরে লিখবো বইলা দাগাইয়া রাইখা দিলাম।

কাহিনিগুলি খুব নতুন কিছু না। অন্য কোথাও হয়তো শুনছি বা পড়ছি। তবে কাহিনির ফ্যাক্টগুলি উইকিপিডিয়ার মতো অথেনটিক না। নিজের মতো কইরাই বলছেন। একটাকিছু বলতে চাইছেন উনি কাহিনি দিয়া, ঠিক যুক্তি দিয়া না। যে, দেখেন এইরকম কিন্তু ঘটে আর এইটার মানে কিন্তু এইটা। আমাদের এখনকার সিচুয়েশনটারে যখন যুক্তি দিয়া ব্যাখ্যা করতে পারতেছি না আমরা তখন এইভাবে কেউ যখন একটা কাহিনি দিয়া ডিফাইনড কইরা দিতেছেন, সেইটা তো ভালো লাগে। মনেহয় দুনিয়াটা খালি ইউরোপিয়ান এনলাইটমেন্টের কলোনি না, আরো আরো টেরিটরি আছে। যারা যারা এইরকম ভাবেন না উনারাও এইরকম কেউ কেউ ভাবে বইলা আনন্দ পান মে বি। এইসবকিছু নিয়া এখন কথা আর না বলি।

‘অন্ধকারের হাতি’ নামে একটা কাহিনি উনি লিখছেন (মানে, কাহিনিটা আরো অন্যান্য সোর্স থিকাও আমরা জানি), এইরকম: কিছু হিন্দু লোক একটা হাতি দেখানোর লাইগা নিয়া আসলো একটা জায়গায় যেইখানে কেউ কোনদিন হাতি দেখে নাই। অন্ধকার একটা ঘরে যখন হাতিটারে দেখতে গেলো এক একজন, শুঁড় ধইরা কয়, এইটা তো পানির পাইপের মতোন; ঠ্যাং ধইরা কয়, এইটা তো মন্দিরের থামের মতোন, দাঁত ধইরা কয়, এইটা তো পোরসালিন দিয়া বানানো তলোয়ার (সে আবার খুশি হয়, এইরকম সুন্দর কথা কইতে পাইরা)… মানে, আমরা যট্টুক দেখি সেইটা দিয়াই পুরাটারে বুঝতে পারতেছি তো! যদি সবার হাতে একটা কইরা মোমবাতি থাকতো, যদি সবাই একসাথে অন্ধকার ঘরটাতে ঢুকতো, তাইলে আসল হাতিটারে দেখতে পাইতো।

তো, রুমি হইতেছেন একটা মোমবাতি। আশা করি তার হাতিটারে দেখতে পারবো আমরা একদিন।

———————————————————————————-

রাতের বাতাস ।। সহবত ।। লম্বা দড়ি ।। বন্ধুর পিরীতি ।। ইমরাউল কায়েস ।। চাইনিজ আর্ট আর গ্রীক আর্ট ।। ঋণী দরবেশ।। দৌড়ানোর দু্‌ইটা পথ ।। জমি বানানি’র ইর্ম্পটেন্স ।। তিনটা মাছ ।। বাগদাদে থাইকা কায়রো’র স্বপ্ন দেখি, কায়রো’তে থাইকা বাগদাদের ।। শেখ খুররানি আর তার ঝগড়াইট্টা ওয়াইফ ।। সাপুড়ে আর জইমা-থাকা সাপ ।। আয়না পলিশ করা ।। তিন ভাই আর চাইনিজ রাজকুমার ।। গাধারে নিয়া একটা গান ।। ভালো-বিচার ।।

————————————————————————————

 

রাতের বাতাস

একজন মানুষ মরার টাইমে তার ধন-সম্পত্তি তার তিন পোলার মধ্যে ভাগ করার ইন্সট্রাকশন দিয়া গেছিলেন। উনি তার পোলাদের খুবই আপন আছিলেন। অরা তার সাইডে দেবদারু’র গাছের মতো দাঁড়ায়া ছিল, শান্ত আর শক্ত। উনি শহরের হাকিমরে কইলেন, “আমার পোলাদের মধ্যে যে সবচে আইলসা তারে আমার সব সম্পত্তি দিবেন।” তারপর তিনি মারা গেলেন।

হাকিম তখন তিন পোলার দিকে ঘুইরা কইলো, “তোমরা তিনজনেই আমারে তোমরার আইলসামির কথা কও যাতে কইরা আমি বুঝতে পারি তোমরা কি রকমের আইলসা।” সুফিরা আইলসামির ওস্তাদ। উনারা এইটার উপর ভরসা করেন, কারণ উনারা সবসময় দেখেন খোদা সারাক্ষণ উনাদের চারপাশে কাজ করতেছেন। ফসল উনাদের কাছে আসতেই থাকে, যদিও উনারা কোন সময় লাঙলটাও ধরেন না!

“আসো, আমারে কও কেমনে তুমি আইলসামি করো।”

প্রতিটা বলা কথা হইলো আমাদের ভিতরের আত্মা’র একটা ঢাকনা। একটা ছোট পর্দার কাপড় যা একটা রোস্টের মাংসের স্লাইসের চাইতেও পাতলা, শত শত জ্বইলা যাওয়া সূর্যরে দেখাইতে পারে। যা কিছু বলা হইতেছে সেইটা যতোই মামুলি আর ভুল হোক যে শুনে সে ঠিকই বুঝে কই থিকা আসছে এইটা। একটা বাতাস আসে বাগানের দিক থিকা। আরেকটা বাতাস আসে ছাইয়ের গাদা থিকা। চিন্তা করেন একটা শিয়াল আর সিংহের আওয়াজ কি রকম ডিফরেন্ট, আর কি কথা অরা কয় আপনারে!

কেউ একজন রান্নার ডেকচির ঢাকনা খুলতেছে শুইনা আপনি বুঝতে পারেন রাতের খাবারের লাইগা কি রান্ধা হইতেছে। যদিও অনেক মানুষ খালি গন্ধ শুঁইকাই বুঝতে পারে ভিনেগার দিয়া একটা টক স্যুপ থিকা একটা মিষ্টি স্টু রান্ধা হইতেছে। একজন মানুষ একটা মাটির পট কিনার আগে টুকা দিয়া সাউন্ড শুইনা দেখে কোন ফাটা আছে কিনা।

সবচে বড়ভাইটা হাকিমরে কইলো, “আমি কোন মানুষরে তার গলার স্বর শুইনাই বুইঝা ফেলতে পারি। আর সে যদি কথা না কয়, আমি তিনদিন ওয়েট করি, আর তখন ইনটিউশন দিয়া তারে বুঝতে পারি।

সেকেন্ড ভাইটা কইলো, “কেউ কথা কইলেই আমি তারে বুঝতে পারি, আর যদি সে কথা না কয়, তাইলে আমি জানি কেমনে আলাপটা শুরু করা লাগবো।” তখন হাকিম কইলেন, “সেও যদি ট্রিকটা জানে তাইলে কি হইবো?” এই কথা শুইনা আমার সেই মা’র কথা মনে হইলো যে তার বাচ্চারে কইছিল, “যখন রাতে গোরস্তানের ভিতর দিয়া হাঁইটা যাস আর যদি ভূত দেখিস, তাইলে ওইটার দিকে দৌড় লাগাইবি। ওইটা তখন পালাইয়া যাইবো।” বাচ্চাটা কইলো, “ভূতের আম্মা যদি ভূতরে এই কথাটা কইয়া দেয় তাইলে কি হইবো? ভূতেরও তো মা আছে।” সেকেন্ড ভাইটা কোন উত্তর দিতে পারলো না।

হাকিম তখন সবচে ছোটভাইটারে জিগাইলো। “যদি কোন মানুষরে দিয়া কোন কথা না কওয়ানো যায়, তুমি কেমনে তার গোপন আত্মারে বুঝতে পারবা?” “আমি তার সামনে নিরব হইয়া বইসা থাকবো, আর একটা ধৈর্য্যের মই রাখবো সাইডে, আর যদি তার থাকাতে এমন একটা ল্যাঙ্গুয়েজ আসে আমার মনে যেইটা আনন্দের বাইরে, দুঃখেরও বাইরে আমি তখন বুঝতে পারবো যে অর আত্মা হইতেছে ইয়েমেনের আকাশে ক্যানোপাস তারা’র মতোন গভীর আর উজ্জ্বল। আর এইজন্য আমি যখন কথা কইতে শুরু করবো শব্দগুলির শক্তিশালী একটা ডানহাত নিচের দিকে ঝুঁইকা পড়বে, আমি যা বলতেছি আর যেমনে বলতেছি তা থিকা আমি অরে জানতে থাকবো, কারণ আমাদের মাঝখানে তখন একটা জানালা খুইলা যাবে, আমাদের অস্তিত্বের রাতের বাতাস তাতে মিইশা থাকবে।”

ছোট পোলাটাই আছিলো আসলে সবচে আইলসা। সে জিতছিলো।

  Continue reading

সেন্ট্রাল (জাতীয়) রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট

কয়দিন আগে মার্ক্সিজমের হালচাল লইয়া একটা মাহফিলে বা সেমিনারে গেছিলাম, এম এম আকাশ, বিণায়ক সেন – এনারা ওয়াজ করলেন; একদম শেষে হাজির হইছি বলে কেবল বিণায়ক সেনের ওয়াজের আখেরি পাট শুনতে পারছিলাম। নানা কথার মাঝে জন স্টুয়ার্ট মিলের ব্যাপারেও কইলেন উনি; কইলেন, মিল আছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পলিসি মেকারদের একজন। তো, বিণায়ক সেন হিসাবটা মিলাইতে পারেন না–উনি এইটারে মিলের একটা প্যারাডক্স/কন্ট্রাডিকশন হিসাবে প্রস্তাব করলেন।

আমি এইটা জানতাম না, ইন্সট্যান্টলি মনে মনে শুকরিয়া আদায় করলাম তাই – কিছু সওয়ালের জবাব পাইতে সুবিধা হইলো বিণায়ক সেনের দেওয়া ঐ খবরে।

নেটিভদের এডুকেশনের ব্যাপারে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মনোযোগ আছিল কেন? নেটিভ মেয়েদের এডুকেশন লইয়া বাড়তি চেষ্টার গোড়া কোথায়? হিন্দু বিধবাদের বিয়া বা পোলাদের একের বেশি বউ থাকা লইয়া কোম্পানির পেরেশানি কেন? আমার মনের এইসব সওয়ালের জবাবের ভিতর মিসিং লিঙ্ক আছিল, জন স্টুয়ার্ট মিলের খবরটা জবাবগুলিরে মিলাইয়া দিল। কন্ট্রাডিকশন তো নাই-ই, বরং কোম্পানি এবং মিল কমপ্লিমেন্টারি, কোম্পানি হইলো, ‘অ্যাপ্লাইড মিল’। বিণায়ক সেন তাইলে হিসাব মিলাইতে পারলেন না কেন–কোম্পানি বা মিলের ব্যাপারে এত এতো ঘটনা/কথা জানার পরেও? কারণ, উনি থিয়োরাইজেশনের লোক নন, ওনার কামটারে তাই কেমনে রিকগনাইজ করবো আমরা?

আমি বুঝলাম, ভারতে নেটিভদের সিভিলাইজিং প্রজেক্ট মিলের চিন্তা/ইন্টারভেনশনের কারণেই অমন হইছিল; এই কারণেই বঙ্কিমচন্দ্র (বঙ্কিমের সাম্য জেন্ডার ইস্যু লইয়া লেখাগুলি মিলের মন দিয়া বোঝাবুঝি) মিলের ফ্যান আছিলেন কতক, স্বদেশী আন্দোলনের মাঝেও বেগম রোকেয়ারে ইংরাজের ডোনেশন/হেল্পিং-এর কারণ রোকেয়া ইংরাজেরই বাচ্চা, মিলেরই প্রজেক্টের ফল। ইভেন ভারত/পাকিস্তানের লিবারেশন আসলে মিলের সিভিলাইজিং প্রজেক্টের এন্ডিং-এর ঘোষণা, দরকারি ট্রেইন্ড নেটিভ এজেন্ট হইছে ততদিনে, যারা প্রজেক্টটা রান করতে পারবে; রেগুলেট করার দরকারে পরে ইন্টারন্যাশনাল এনজিও, ইউনিসেফ, ডোনেশন, কমনওয়েলথ–মোট কথায় ডেভলাপমেন্ট ডিসকোর্স পয়দা হইছে – এখনো তো বাংলাদেশ সরকার উন্নয়নই করতাছে! (In On LibertyA Few Words on Non-Intervention, and other works, Mill defended British imperialism by arguing that a fundamental distinction existed between civilized and barbarous peoples.[16] Mill viewed countries such as India and China as having once been progressive, but that were now stagnant and barbarous, thus legitimizing British rule as benevolent despotism, “provided the end is [the barbarians’] improvement.”/Harris, Abram L. (1964-01-01). “John Stuart Mill: Servant of the East India Company”The Canadian Journal of Economics and Political Science / Revue canadienne d’Economique et de Science politique 30 (2): 185–202. doi:10.2307/139555 । আরেকটু ডিফরেন্ট পয়েন্ট অব ভিউ থেকে মিলের সিভিলাইজিং প্রজেক্ট বুঝতে পড়েন এই লেখাটা।)
Continue reading

আফ্রিদা তানজিম-এর পেইণ্টিংস

রেখাপা: একটি স্কেচ

This entry is part 15 of 20 in the series বাংলাদেশি ফিকশন

বান্না’র গল্পের যে রিয়ালিটি এমন না যে এইটা আমরা জানি না; কিন্তু আমাদের কাছে যিনি গরিব এবং মাইয়া, তার ডিগনিটি নাই কোন। এইরকম একজন রেখাপা’র কথা বান্না বলতে চাইছেন তবু আমাদের কাছেই, আমাদের ভাষাতে, আমরা যারা আরবান মিডল ক্লাশ, ইউনির্ভাসিটিতে পড়ছি, এখন চাকরি করি। রেখাপা’রে আমরা যতোটা না দেখি নাই, তার চাইতে বেশি দেখতে চাই নাই আসলে। কিন্তু আমরা ট্রাই করতে পারি, বান্নার মতো, দেখার; আমাদের ভাষার ভিতর রেখাপা’রে কট্টুক দেখা যায়।

————————————–

 

জানালার পাশে ভিক্ষুকের টোকায় সম্বিত ফিরলে তাকিয়ে দেখি লোকটা আমার চেনা। একই লাইনের লোক। মাঝে মাঝে আড্ডায় দেখা হয়েছে তবে পরিচয় হয় নাই বলে নাম জানিনা। লোকটাও গর্তে বসে যাওয়া চোখে আমাকে চিনতে পেরে কিছুটা যেন অপ্রস্তুত হয়ে যায়। আমি পকেট থেকে একটা দশ টাকার নোট বের করতে যেয়ে-মায়া লাগছিল একই লাইনের বলে ─ বের না করে, (মায়ার মোহ ততক্ষণে কেটে গেছে) কিছু একটা ভেবে একটা ১ টাকার কয়েন লোকটার হাতে গুঁজে দিতে দিতে ও ডানচোখের ঈশারায় বিদায় নিতে নিতে, সিগন্যাল ছেড়ে বাস চলতে শুরু করে। দেয়ার জন্য ১ টাকার কয়েন সিলেক্ট করার সময় ভাবছিলাম, ‘কে বেশী পাগল? হৃদয় না বুদ্ধি?’ তখনকার মত একটা সন্তোষজনক জবাব খুঁজে পেলেও অপ্রাসঙ্গিক হওয়ায় পাঠককে বিরক্ত করব না।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

শ্যামলী নেমে রিকশায় সোজা চলে আসি বিয়েনপি বাজারের পেছনে ও পাশে, উচ্ছেদকৃত বিয়েনপি বস্তির বিস্তীর্ণ উঁচু-নীচু পতিত জমি/মাঠের, শেষপ্রান্তে অবস্থিত আড্ডায়। বিচিত্র এ জগত। সমাজছুটদের। সমাজের সব পেশা-শ্রেণী-ধর্মের মানুষের মিলনমেলা এই আসল সাম্যবাদী আড্ডা। ‘আমারাতো ভাই সবাই এ্যাডিক্ট,’ এখানকার প্রায়োচ্চারিত বাক্যগুলার একটা, গোটা পঁচিশেক বাঁশ/লাঠির চারকোনার খুঁটির উপর ঠেকে ও চারপাশ পেঁচিয়ে পলিথিন বা পরিত্যক্ত ব্যানারের কাপড় দিয়ে তৈরী, মোটামুটি ৩০/৪০ বর্গফুটের আড্ডাগুলা। ভেতরের তিন হাত উচ্চতার জন্য, ঢুকলে পরে, সোজা হয়ে দাঁড়ানোর উপায় নাই। সোজা যেয়ে মান্নান ভাইয়ের আড্ডায় ঢুকে যাই। আড্ডায় প্রবেশ পথে ঝুলন্ত চটের পর্দার পাশে বসে খালা (মান্নান ভাইয়ের মা) যথারীতি তিল্লি কাঁটছে নিখুঁত শৈল্পিক দক্ষতায়। অন্যদিনের চেয়ে ভীড় কম, ফলত: দমবন্ধ করা বিড়ির কড়া গন্ধও কম। উত্তর-পশ্চিম কোনে এক আপা ও এক মধ্যবয়সী ভদ্রলোক মাল খাচ্ছে, আরকপাশে আড্ডার কর্মচারী ভুলু বসে বসে ঝিমাচ্ছে। ওকে জাগিয়ে মান্নান ভাইকে বলে (যাতে ভুলু টাকা নিয়ে ভাগলেও পরে দায়িত্ব মান্নান ভাইয়ের ঘাড়ে যায়-) ১২০ টাকা দিয়ে দুটা মাল আনতে দেই। এমনিতে দাম ৫০ টাকা করে, কিন্তু কিছুক্সণ আগে আবগারী রেইড পড়ায় মূল সেলস বন্ধ। কোন কোন আড্ডাঅলা মাল কিনে স্টক করে রাখে, এরকম ক্রাইসিসে কিছু লাভ করার আশায়। চটের পর্দা উঠিয়ে ভুলু বের হতে যাবে, এমন সময় উত্তর-পশ্চিম কোনার ভদ্রলোক ডেকে উঠে, ‘ঐ ভুলু মাল আনতে যাস, আমার লেইগাও একটা আনিস।’ আমি লক্ষ্য করলাম মান্নান ভাই ভদ্রলোককে চোখের কোনা দিয়ে কিছু একটা ঈশারা করছে, কিন্তু ভুলুর দিকে তাকিয়ে পকেট থেকে টাকা বের করতে থাকায় ভদ্রলোক তা খেয়াল করেনা, ভুলু মাল আনতে চলে গেলে মান্নান ভাই ভদ্রলোককে ধমকে উঠে, ‘ঐ মিয়া কী খান মনে আছে? হিরোইন। হিরনচীর বিশ্বাস নাই। যারে আনতে দিলেন সেও হিরনচী। এই ভাই, আমারে দেখাইয়া, ২টা আনতে দিছে, ২টার দায় নেওয়া যায়, কিন্তু ৩টার দায় নেয়া যায়? যদি টাকা নিয়া ভাগে, বলা তো যায় না, হিরনচী জাত। যত পুরান কর্মচারী হোক না কেন।

‘আরে নাহ্’, কন্ঠে কিছুটা বিরক্তি নিয়ে এতক্ষণ চুপ করে থাকা কোনার আপা বলে ওঠে, ‘যাবে না, ঠিকই ফেরত আসবে।’ মেয়েটার কন্ঠের দৃঢ়তায়, বিশ্বাসের গভীর ছাপ লক্ষ্য করে, আমি চমকে উঠি। এতক্ষণে চোখ তুলে ভালভাবে চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখি রেখা আপা।

‘আরে আপনে! আমি তো এতক্ষণ খেয়ালেই করি নাই, সরি,’ কন্ঠে বিনয় আর ভঙ্গিতে লজ্জা মিশিয়ে বলি। ‘ঠিক আছে, অসুবিদা নাই’ স্বভাবসুলভ হেসে বলে রেখাপা।

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →