Main menu

হুমায়ুন আজাদ এবং কুম্ভীলকবৃত্তির অভিযোগ

সাহিত্যে অথবা একাডেমিয়ায় কুম্ভীলকবৃত্তির অভিযোগ নতুন কোন ঘটনা নয়। খ্যাতির মোহে যেমন অনেক বড় বড় কুতুব কুম্ভীলকবৃত্তিতে হাত মকশো করেন, তেমনি কুম্ভীলকবৃত্তির অভিযোগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে দেখে নেয়ারও একটি প্রবণতা রয়েছে। অর্থাৎ কুম্ভীলকবৃত্তির অভিযোগেরও অনেক সময় রাজনৈতিক মাত্রা বিদ্যমান থাকে।

হুমায়ুন আজাদের বিরুদ্ধে আনা কুম্ভীলকবৃত্তির অভিযোগ অনেকগুলো হলেও আমি মূলত আমার পাঠ অভিজ্ঞতার মধ্যে যেই লেখাগুলো রয়েছে সেগুলোর দিকেই দৃষ্টি দিব। এই কারনে বাংলা একাডেমী এককালে প্রকাশিত তার বইটি সম্পর্কে আমি বিশেষ মন্তব্য করছি না। কারন সেই বইটি এবং যে বই থেকে চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে, তার কোনটিই আমি পড়িনি। পশ্চিমবঙ্গের যে অধ্যাপক অভিযোগ এনে প্রবন্ধ লিখেছিলেন সেই অধ্যাপকের কোন লেখার সাথেও আমি পরিচিত নই।

তার সেই প্রবন্ধটিও আমি পড়ি নাই। কিন্তু দুইটি যাচাইযোগ্য কথা এই সম্পর্কে বলা হয়েছে। প্রথমত বলা হয়েছে বাংলা একাডেমী বইটি বাজার থেকে প্রত্যাহার করেছিল। দ্বিতীয়ত পশ্চিমবঙ্গের অধ্যাপকের প্রকাশিত প্রবন্ধটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল সেটিও বলা হয়েছে। এই দুইটি বিষয় যাচাই করা সম্ভব। সুতরাং কোন সিদ্ধান্তে আসতে হলে এই দুটি তথ্য যাচাই করাই যথেষ্ট। আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে এই অভিযোগটি মিথ্যা হবার সম্ভাবনা কম। একটি প্রকাশনীর বাজার থেকে বই তুলে নেওয়া খুবই দৃশ্যমান একটি ঘটনা। কেউ যদি মিথ্যা অভিযোগ করার চেষ্টা করে থাকে তাহলে এইভাবে গল্প ফাদার সম্ভাবনা কম।

আমার কথাবার্তা প্রধানত “নারী” এবং “আমার অবিশ্বাস” এ সীমাবদ্ধ থাকবে। এর কারন এই বইদুইটি এবং যে বইগুলো থেকে এগুলোকে চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয় সেই বইগুলো আমার পড়া আছে।

নারী দিয়েই শুরু করা যাক।

আহমদ ছফার একটি বক্তব্য আছে যেখানে তিনি বোঝাতে চাইছেন “নারী” বোভেয়ারের “সেকেণ্ড সেক্স” এর নকল। এর চেয়ে ভুল কথা আসলে কিছুই হতে পারে না। বোভোয়ার ছিলেন সার্ত্রের যুগের মানুষ। অস্তিত্ববাদ দ্বারা প্রভাবিত। তিনি সেকেণ্ড সেক্স লিখেছেনও ঐ যুগে। তিনি প্রধানত প্রথম যুগের নারীবাদী তাত্ত্বিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। প্রথমযুগের নারীবাদী তাত্ত্বিকদের সাথে ফ্রয়েডিয়ান মনোবিশ্লেষকদের দা-কুমড়া সম্পর্ক ছিল না। সেকেণ্ড সেক্সও এই লাইনে লেখা। এই কারণে সেকেণ্ড সেক্স মূলত দার্শনিক। সমাজতন্ত্র দ্বারা বেশ খানিকটা প্রভাবিত। নারীর যৌনস্বাধীনতা সম্পর্কিত বয়ান সেকারণেই তুলনামূলকভাবে কম।

অন্যদিকে সেকেণ্ড ওয়েভ নারীবাদের মূল জায়গাটাই ছিল নারীর যৌন স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। তারা মনে করতেন এর মাধ্যমেই পুরুষতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফাটল ধরবে এবং নারীর স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।

তাদের ডিসকোর্সে তাই “ক্লিটোরিস” এর অত্যাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। তারা অবশ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে মাস্টারস এবং জনসন এর মত অন্যান্য সেক্সোলজিস্ট এর গবেষণা থেকে তথ্য আহরণ করে দেখিয়ে দেন নারীর যৌনতার কেন্দ্র হচ্ছে ক্লিটোরিস। যেহেতু ক্লিটোরিস এর মাধ্যমে পুলক পাওয়ার জন্যে ইন্টারকোর্স বাধ্যতামূলক নয়, সেই কারনে তারা নারীকে যৌনতার ক্ষেত্রে স্বাধীন দাবী করেন।

যারা “নারী” পড়েছেন, তারা অবশ্যই খেয়াল করেছেন, হুমায়ুন আজাদও একই লাইনেই কথাবার্তা বলেছেন।

হুমায়ুন আজাদ মূলত সেকেণ্ড ওয়েভ ফেমিনিস্টদের লেখালিখি থেকেই তার মুল রসদ জোগাড় করেছেন। এদের মধ্যে অবশ্যই মিলেট অন্যতম প্রধান। কিন্তু “নারী” বইটি এদের কারও কোন বইয়েরই হুবুহু নকল নয়। তবে এখানে নতুন তেমন কিছু নেই। বিশেষত তিনি সেকেণ্ড ওয়েভ ফেমিনিস্টদের ঠিকঠাক সাইট করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি যদিও বইশেষে একটা গ্রন্থতালিকা দিয়েছেন, কিন্তু মূল লেখায় বিশেষ সাইটেশন নেই। কিছু সাইটেশন আছে রবীন্দ্রনাথ-বঙ্কিমের লেখা থেকে। কিন্তু তার বই যে মূল অংশ অর্থাৎ সেকেণ্ড ওয়েভ ফেমিনিস্টদের কাজকর্মের কমেন্টারি, সেখানে তার সাইটেশনের ব্যর্থতা আসলেই দুঃখজনক। পশ্চিমা স্কলারশীপের স্ট্যাণ্ডার্ডে তার বিরুদ্ধে প্লেগারিজমের অভিযোগ আসত। কারণ ভূমিকা এবং গ্রন্থতালিকায় বইয়ের নাম উল্লেখ করা স্কলারলি বইপত্র-আর্টিকেলের জন্যে যথেষ্ট নয়। কোন মতামতগুলো লেখকের নিজের আর কোনগুলো তিনি অন্যদের থেকে নিয়েছেন, এর মধ্যে পার্থক্য তৈরি করার দায় লেখকের আছে। Continue reading

ম্যাসোকিস্ট ফরহাদে ক্যাথারসিস পাইবেন, রাস্তা তত না

আশুরার তাজিয়া মিছিল বা চড়ক পূজা খেয়াল করে দেখেন, পেইনের লগে মানুষের রিলেশনের একটা ভার্সন পাইবেন। সাইকিয়াট্রি এগুলিরে বলবে ‘পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার’; কেননা, সাইকিয়াট্রি খুবই ইউরোসেন্ট্রিক, ফলে বোঝে কম। বাট ‘ডিজায়্যারিং পেইন’-এর একটা ভার্সনকে আমেরিকার সাইকিয়াট্রি নর্মাল হিসাবে রিকগনাইজ করলো ১৯৮০’র দশকে; আগে ফ্রয়েড যেইটারে ‘প্যাথলজিক্যাল’, মানে পারভার্সন বলে মত দিছিলেন।

আমেরিকার সাইকিয়াট্রি রিকগনাইজড ঐ ‘ডিজায়্যারিং পেইন’ সেক্সুয়াল ডিজায়্যারের একটা ধরন; নাম হিসাবে বলা যাইতে পারে বিডিএসএম [BDSM: An overlapping abbrevation of Bondage and Discipline (BD), Dominance and Submission (DS), Sadism and Masochism (SM). ] বা স্যাডো-ম্যাসোকিজম [sadomasochism: The obtaining of sexual pleasure from sadism (= hurting other people) and from masochism (= being hurt)]।

দেখা যাইতাছে, একটা নর্মাল সেক্সুয়াল প্রাকটিস হিসাবে স্যাডো-ম্যাসোকিজম বুঝতে পারলো সাইকিয়াট্রি, বাট তাজিয়া মিছিল বা চড়ক পূজারে বলবে ‘পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার’/পারভার্সন–কিছু একটা মিস করলো কি সাইকিয়াট্রি? হ, আধ্যাত্মিকতা মিস করছে; তাজিয়া মিছিলে নিজের পিঠে চাবুক মারার পেইন আর রক্ত রিলিজিয়াস, শোককে আধ্যাত্মিক করে তোলা; বা চড়ক পূজায় নিজের পিঠের চামড়ায়  লোহার হুক ঢুকাইয়া নিজেরে ঝুলাইয়া রাখার পেইনের ভিতর দিয়া শিবের কাছে নিজেরে নিবেদন করতাছে ভক্ত; বছরের একটা দিনের ঐ পেইন খুবই আধ্যাত্মিক দরকার তাগো। মে বি, এইগুলি রিলিজিয়াস বলেই ‘পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার’।

ওদিকে, স্যাডো-ম্যাসোকিস্টিক সেক্সের বেলায় সারা বছর নিজের বডিতে নিউমারাস আঘাতের পেইন হতে প্লেজার ডিরাইভ করাটা নর্মাল, পার্টনারকে পেইন দেবার মিউচুয়াল স্যাডিজমও; কেননা, সেটি সেক্স, আধ্যাত্মিক নয়। অথচ ইউরোপে ‘ডিজায়্যারিং পেইন’ মে বি আধ্যাত্মিকতা থেকেই শুরু; বলছি, ক্রুশে পেরেক দিয়া আটকানো জেসাসের কথা; খ্রিস্টান থিওলজি মোতাবেক, ক্রুশের ওই পেইন জেসাসের ডিজায়্যার, এর ভিতর দিয়া নিজের উম্মতের পেইন নিয়া নিতাছে জেসাস। পসিবলি, ইউরোপের মডার্নিটি ‘ডিজায়্যারিং পেইন’-এর লগে জেসাস সেন্ট্রিক ঐ আধ্যাত্মিকতার বিচ্ছেদ ঘটাইয়া দিছে; ফলে, আধ্যাত্মিকতা বুঝতে পারতাছে না সাইকিয়াট্রি।

আধ্যাত্মিকতার এই অভাব যে ইউরোপ-আমেরিকায় কেউ টের পাইতাছে না বলা ঠিক হবে না; হলিউডের ম্যাট্রিক্স সিনামার কথা মনে করতে পারি আমরা; এই সিনামায় ‘বিলিভিং’-কে সবচে দরকারি জিনিস হিসাবে দেখায়, ‘বিলিভিং’-কে বানাইয়া তোলে ফ্রিডমের প্রি-রিক্যুইজিট; হলিউডের বহু সিনামায় গত কয় বছর ধরে দেখতাছি, ‘ল্যাক অব বিলিভ’-কে ওরা দেখাচ্ছে ওদের ক্রাইসিস এবং পরাজয়ের কারণ হিসাবে।

তো, ঐ সাইকিয়াট্রির বোঝাবুঝি দিয়াই যদি বোঝার ডিসিশন নেই তাইলে তাজিয়া মিছিল বা চড়ক পূজারে আমাদের মনে হবে স্রেফ মর্ষকাম; এপিস্টেমোলজিক্যাল এমন অনুবাদ করেই থাকি আমরা, কলোনিয়াল এডুকেশনে থাকি বা আছি বলে; এমন অনুবাদের ভিতর দিয়া আমরা আধ্যাত্মিকতা খোয়াইয়া ফেলি; এমন অনুবাদে হ্যাবিচুয়েটেড বলেই দায়িত্ব বলতে ‘জব রেস্পন্সিবিলিটি’র বাইরে কিছু বোঝা কঠিন হইয়া ওঠে, ‘হক’-এর মিনিং বড়োজোর ইংরাজি ‘right’, তাও কম্যুনাল চুজিং-এর ফলে হক কইতে পারি না, অধিকার কওয়া লাগে; এমন অনুবাদ করতে থাকি বলেই ট্রাক্টরের জমানায় গরু পালা ইর‍্যেশনাল লাগে, গোবর হইয়া পড়ে গরুর গু; ইন্টারেস্টিংলি, জবরদখলদার এরশাদ লাঙল মার্কার পলিটিক্যাল পার্টি বানাইতে বানাইতে ট্রাক্টরের ডেভলাপমেন্ট দিয়া লাঙল বানাবার বিদ্যা অদরকারি কইরা তোলে, রাস্তাঘাটে খেজুরগাছ সহ্য হয় না আমাদের, কাইটা ফেলি–মেহগনি গাছের খাটে শুইয়া কেবল খোয়াবের ভিতর খেজুরের রস খাই।

ঐ কলোনাইজড মনের এখন শেখা দরকার–হাউ টু আনলার্ন, আধ্যাত্মিকতার পিছায় সাফসুতরো হওয়া দরকার আমাদের, র‍্যেশনালিটি আইডিয়াটার ভিতর একটু পীরিত ইনজেক্ট করা দরকার; এইখান থেকেই শুরু হৌক পোস্ট কলোনিয়াল থিঙ্কিং।

বাট কেমনে করবো আমরা, বাছবিচারে ক্যাপাবল একটা সেলফ্ কেমনে বানাবো নিজের ভিতর? সেই কলোনিয়াল মাস্টারমাইন্ড তো সেই একই প্রজেক্টের নতুন ধাপে এখন ডি-কলোনাইজিং শিখাইতাছে! সাবধান থাকা দরকার আমাদের।

সাবধান না হইলে কি হইতে পারে সেইটা বোঝার জন্য কেসস্টাডি হিসাবে ফরহাদ মজহারকে ইউজ করতে পারেন। পোস্ট-কলোনিয়াল থিঙ্কিং-এ আগ্রহ আছে ওনার, উনি ভাবেন–আই অ্যাডমিট।

কয়দিন আগে সিলেটে রাজনরে পিটাইয়া মারলো কয়েকজন ফেলো বাঙালি, ফরহাদ মজহার রিঅ্যাক্ট করলেন ঈদ নাগাদ–কবিতা লিখলেন একটা। কবিতাটা পড়লে ওনার পোস্ট-কলোনিয়াল থিঙ্কিং কসরত বুঝবেন এমনেই। উনি লিবারাল মানবতাবাদী সেক্যুলার রিঅ্যাকশন এড়াইছেন, এই ব্যাপারটাই মে বি বহু রিডার সেলিব্রেট করছেন ফেসবুকে; মোসলমানদের পদ ও রব দিয়াই ওয়াজ করছেন উনি, বানাইছেন ওনার পোয়েট্রির ভাব জাল।

কবিতায় উনি লোহার খুঁটিতে নিজেরে বাইন্ধা শক্ত রড দিয়া পিটাইয়া নিজের হাড় গুঁড়া কইরা ফেলতে চাইছেন, নিজের হার্ট ঝুলাইয়া রাখতে চাইছেন ঈদগাহের ময়দানে, পানি না খাইয়া পিপাসার পেইন পাইতে চাইছেন–রাজন হত্যার রিঅ্যাকশন ওনার এগুলি। পড়েন একটু (পুরা কবিতা: https://web.facebook.com/notes/farhad-mazhar/10153499299120742 ):

Continue reading

মধুরোড / তানিম কবির

 

গল্প হইতাছে বলে টের পাওয়া যায়, পোলা গল্পেরা হইতাছে। পোলা গল্পদের পড়তে মাইয়াদের আরাম লাগে না প্রায়ই।

এইগুলারে পোলা গল্প বলার কারণ, পড়তে আরাম না লাগার জন্য ফেমিনিস্ট হওয়া লাগে না, খারাপ মাইয়াও হওয়া লাগে না–মাইয়া হওয়াই এনাফ।

একটা সময় আছিল যখন ধলা গল্প লেখা হইতো, লেখা হইতো খ্রিস্টান বা হিন্দু বা মোসলমান গল্প; কালা মাত্রই ধলা মানুষের লেখায় আরামের উপায় পাইতো না, মোসলমানের গল্পে হিন্দুর আরাম আছিল না। সেই দিন আর নাই; অন্য রেস বা রিলিজিয়নের প্রতি ঘেন্না থাকলেও লেখকেরা এখন কনসাসলি লুকাইয়া ফেলার ট্রাই করেন। রেসিজম বা কমিউনালিজমে ডিনায়্যাল এমনি ইউনিভার্সাল হইয়া উঠছে লেখকদের মাঝে। চিন্তাজগতে মার্ক্সিজমও এমনি মোড়ল হইয়া উঠছে যে কট্টর ক্যাপিটালিস্টরেও লেবারফ্রেন্ডলি ডিজগাইজের ভিতর থাকতে হয়।

এইগুলি প্যাট্রিয়াকিরে ততো শত্রুজ্ঞান করে নাই বলে টাইম লাগে নাই বেশি, ১০০/২০০ বছরেই অমন ডমিন্যেন্স পাওয়া গেছে; ফেমিনিজমের একটু বেশি টাইম লাগবে মে বি, গল্পদের সেক্সিস্ট না হওয়াটা লেখক সমাজের একটা কমনসেন্স হইয়া উঠতে বাকি এখনো। পোলাবাদের বাংলায় সেক্সিস্ট হওয়াটাই সেক্সি এখনো।

– র.ক.

—————————————–

শিখার সঙ্গে আর কোনওদিন দেখা হয়নি। ওকে হারিয়ে ফেলেছিলাম একপ্রকার খামখেয়ালি থেকে। খুঁজে পেয়েছিলাম কিভাবে সেটা বলি। তাহলেই হারিয়ে ফেলার গল্পটাও বলা হয়ে যাবে: [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

স্থান কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন। সময়টা এই শতাব্দীর শুরুর দিক। চট্টগ্রামগামী একটা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি। এর আগে, সকালবেলা চট্টগ্রাম থেকে বাল্যবন্ধু শম্ভুকে বিদায় দিতে স্টেশনে এসে আবেগে এমনই অভিভূত হয়েছিলাম যে, ট্রেন ছেড়ে দিলেও আর নামতে পারি নি। বন্ধু বড় চাকরি পেয়ে ঢাকা চলে যাচ্ছে। একবাক্যে ব্যাপারটা মেনে নেওয়া যায় না। কেননা, ওর অনুপস্থিতিতে চট্টগ্রাম শহরটা আমার কাছে কেবলই একটা বড় থাকার জায়গা ছাড়া আর কিছুই না। বন্ধুকে বিদায় দিতে দিতে কুমিল্লা পর্যন্ত চলে আসি। এবার ফেরার পালা। কুমিল্লা স্টেশনের প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আমি চট্টগ্রাম ফেরার একটা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি। মাইকে ঘোষণা আসে, কাঙ্ক্ষিত ট্রেন অন্তত দুইঘণ্টা বিলম্বে কুমিল্লা পৌঁছুবে। ভাবি কোনওভাবে এই দুইঘণ্টা সময় পার করে দিতে হবে।

তখন এদিক ওদিক তাকাতেই, খুব সহজেই আমি শিখাকে পেয়ে ফেলি। লিকলিকে লম্বা একটা ব্যাপার। দুই পাশে বোচকা বোচকা দুটো ব্যাগ। ভালো করে তাকিয়ে দেখি, দুটো ব্যাগের নিচে ওর দুটো পা গুঁজে রাখা। অর্থাৎ ভাবছে, বাতাসে উড়ে যেতে পারে, তাই ব্যাগের সঙ্গে আটকে রাখছে নিজেকে। ওর কাছে গিয়ে সত্যতা যাচাই করতে চাই। তার আগে নিশ্চিৎ হয়ে নেওয়া দরকার, কাছেপিঠেই হঠাৎ আবির্ভূত হবার মতো কোনো গার্জেন থাকতে পারে কিনা ওর। পর্যবেক্ষণ করে মনে হলো, নেই। ও একা। হাসিমুখে ওর সামনে পৌঁছাই। বলি, “আপনি কি ব্যাগের সঙ্গে নিজেকে আটকে রেখেছেন? যাতে উড়ে না যান?” শিখা ভ্রু কুঁচকায়, ঠোঁট দুটো গোল করে বিরক্তি আর তার থেকে উৎপন্ন প্রতিক্রিয়া ঝাড়ার পূর্ব মুহূর্তেই আমি হাল ধরে ফেলি, বলি, “আমাকে চিনতে পারছেন? আপনি বড়ুয়ার বোন না?”

আর তাতে, পূর্ব পরিচিত ভেবে করে ফেলা রসিকতার দোষটা মুহূর্তেই অর্ধেকে নেমে আসে। শিথিল হয়ে আসে কপালের ভাঁজ, ভ্রুগুলো ফিরে পায় পুরনো অবস্থান। শিখা বলে, “ওহ, আপনি বোধয় ভুল করছেন। আমি বড়ুয়ার বোন না।” আর তখনই মুখ ফস্কে বেড়িয়ে আসে, “তাহলে আপনি কার বোন? আপনার ভাই ডেঞ্জারাস কেউ নয় তো?” প্রথমে বুঝতে না পারার চাহনি এবং পরপরই বুঝতে পেরে, গিলে ফেলা বিস্ফোরণটাকে উগড়ে দেয় শিখা, “আপনি আমার সঙ্গে ফাজলামো করছেন!” আমি বলি, “কই! না তো! মাফ করবেন। ট্রেন দুই ঘণ্টা লেট। নানা ধরনের নাটক করেই এখন সময় পার করতে হবে।” বলেই ওকে কিছু বলবার সুযোগ না দিয়ে, যেখানে আগে দাঁড়িয়ে ছিলাম, সেখানে ফিরে আসি। Continue reading

মুস্তফা আনোয়ারের কবিতা

[pullquote][AWD_comments][/pullquote] বাংলা-কবিতাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জীবনানন্দ দাশ যে কাছাকাছি রকমের ঘটনা সেইটা মুস্তফা আনোয়ারের কবিতার প্রেজেন্সটারে মনে রাখলে মোর ক্লিয়ারলি ভিজিবল হইতে পারে। রবীন্দ্রনাথে মানুষ-ই প্রকৃতি, এই মানুষ অবশ্যই পুরুষ, নারীও আছেন লগে; আর জীবনানন্দেরও কনসার্ন এই মানুষের না-পারাটাতে, কারণ মানুষ-ই উনার সেন্টার; মুস্তফা আনোয়ারের কাছে এই সেন্টার’টা অস্পষ্ট অনেক। সেন্টার এবং পেরিফেরি’র জায়গাটাতেই অনেক বেশি কনসার্ন।

কবিতাগুলা নেয়া হইছে দুইহাজার দশ সালে ঐতিহ্য’র ছাপানো ‘মুস্তফা আনোয়ার রচনাসমগ্র’ বই থিকা। উনাদের স্টকে বইটা নাই। রিপ্রিন্টও করেন না আর। বইটা আমাদেরকে দিছিলেন হাসান জাফরুল। এমনিতে কবিতাগুলার স্বত্ব উনার মে নিশবাত আনোয়ার আর তাঁর আত্মীয়দের; উনার সাথে যোগাযোগ করতে পারি নাই আমরা, আশা করি যেহেতু আর্কাইভাল পারসপাসেই আমরা আপলোড করতেছি কবিতাগুলা, উনাদের আপত্তি থাকবে না, এই প্রচার নিয়া। যদি কখনো কোন আপত্তি পাই, আমরা পোস্টটা সরায়ে ফেলতে রাজি আছি।

————————————————–

 

বিদায়

আলকাৎরার রাতে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকব কবে, এমনি-দিনে,
বৃষ্টিতে, আ! সে ঘর-কাতর সিঁড়িপথ, অজগর লম্বা।
রাতের ময়লা গাছের ছায়া দিয়ে তৈরি করব গাদ্‌। কথা
দিচ্ছি, এক-দাগে ভুলে ভুলে যাবে চিরকাল, এক খাটে
শোওয়ার বোকামী, পাপ।
এতোদিন রসায়ন লেখাপড়া শিখলাম খামাখা, চল্লাম,
বিদায়। এখন কি করব আমি অভিশপ্ত পাপী আত্মা দিয়ে?
তুচ্ছ ছলাৎ ছলাৎ শব্দটাকে টিক-টিক করে কাটব, কাটা –
মাথার লকেট পরিয়ে দেব তোমার লিকলিকে সাপের ফণাতোলা
গলার মালায়। কাটামাথা নিয়ে তোমার জানলায় উঁকি
দেব রোজ চাঁদনি রাতে, চিনতে পারবে তো? হা-ভুলে
যাবে, ভুলে যাচ্ছো, ভুলে গেছ তুমি অনন্তকালের জন্য।
হা-হা, পৃথিবীর মাগীদের ভালোবাসাতে কী এতই মধুর
গাঢ়তা ছিল।

Continue reading

সামান্যের লগে সহবত হবে নাকি জোনায়েদ সাকির?

[pullquote][AWD_comments][/pullquote] যেন ছাগল বা পাখি বা টিকটিকির বলাবলিরে বুলি বলা যাইতে পারে, বাট মানুষ এক হামবড়া স্পেসিস, তার বলাবলিরে কইতে হবে ভাষা; সুপিরিয়টির এই কনসাসনেস লইয়া আমজনতার সামান্যের রাজনীতি কতটা করা যায়? অন্তত এই সময়ে, যখন আর আর স্পেসিসরে মানুষ মজলুম বানাইয়া রাখছে, এবং তাতে সামান্য মানুষ আর গাছ বা জমির লগে তার পীরিত মেসমার হইয়া যাইতাছে; কেবল বড়ো বড়ো মানুষেরে সামান্যে নামাইয়া আনলেই বাঁচা যাইবে না আর, হামবড়া মানুষেরেই করে তোলা দরকার সামান্য স্পেসিস।

আর আর স্পেসিসের তুলনায় গরিব মানুষের ওই হামবড়া ভাব কম, তারা কইতে পারে, “এক দেশের বুলি, আরেক দেশের গালি।”; পোলামাইয়ার কথা বলা শুরুরে তারা বলতে পারে “বুলি ফোটা”, তাতে পোলামাইয়া ছাগলের বাচ্চা হইয়া যায় না। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →