আমার মেয়ের পেটের ভিতর একটা বাচ্চা; সেই বাচ্চার বাপের ঠিক নাই, মানে জারজ; তাঁর বন্ধু-বান্ধব-পরিচিতের মাঝে তাঁর আর ইজ্জত থাকবে না, সমাজে আমাদের থাকবে না– যদি জানে সবাই!
আমি বল্লাম, মা, আই লাভ ইউ; এবং তোমার অনার আর আমাদের সবার ইজ্জত বাঁচাইতে তুমি বিষ খাইয়া মর; আমার মাইয়া মরে গেল বিষ খাইয়া।
খুনী কে? লিগ্যাল ইত্যাদি ডেফিনিশন অনুযায়ী এইটা সুইসাইড; আমি সুইসাইডে প্ররোচণাদাতা; কিছু আবেগী কবি/বুদ্ধিজীবী/সমাজবিজ্ঞানী আর এনজিও এইটারে সামাজিক কিলিং বলবে, সুইসাইড হিসাবে মাইনা নিয়াও এবং নিয়াই।
খেয়াল করা দরকার যে, বিষরে খুনী বলবেন না কেউ; কেন? খুন করা তো বিষের কাম; এইটা এতই কন্সট্যান্ট যে এরে দোষ দিয়া লাভ নাই কোন; বরং যেই যেইভাবে এইটা শরীরে ঢোকে সেইগুলিরে ঠেকাবার চেষ্টাই কামের।
সুইসাইডের প্ররোচণা অনেক রকমে হয়:
ক. আমি যেইভাবে দিলাম।
খ. আমাদের বীরশ্রেষ্ঠদের খেয়াল করলে দেখবেন, তাঁরা নিজেদের মরণ বেশ জানত; এইটারে আমরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া বলি; মুক্তিযুদ্ধের গান, বা চরমপত্র টাইপ রেডিও অনুষ্ঠান, জাতীয়তাবাদ, বঙ্গবন্ধুর আগুনে ওয়াজ, ইতিহাসের কতগুলি মরণরে গ্লোরিফাই করা ইত্যাদি তাদেরকে সুসিসাইডে প্ররোচিত করছিলো। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যারা মরলো তাদের মরণরে গ্লোরিফাই করছি আমরা; এতে কইরা ইতিহাসে অনারেবল পজিশনের লোভে দেশ বা জাতির জন্য মরার আগ্রহ হয়। এইটা সুইসাইডে কালচারাল প্ররোচণা। আমি যেই প্ররোচণা দিছিলাম তার লগে এইটার ফারাক বেশি নাই; দুইটাই কালচারাল প্ররোচণা। আমারটায় জাতীয় লাভ কম, বা ক্ষতিই বেশি; কেননা, ওতে একজন লেবার কমাইতে উৎসাহ দিলাম আমি, আরো আরো লেবারের (মানুষের বাছুর) একটা কারখানা আমার প্ররোচণায় মইরা গেল; এডাম স্মিথ এইটারে বলতে পারেন লেবারের মজুরি বাড়াবার ষড়যন্ত্র।
গ. কালচারবাদী সেক্যুলার জাতীয়তাবাদীরা নিন্দা করে আরেক প্ররোচণার–ধর্মীয় প্ররোচণা; শহীদের ধারনা আছে বিভিন্ন ধর্মে, শহীদের মর্যাদাও আছে বিশেষ। এইটাও আসলে কালচারাল প্ররোচণা; এই শহীদের আইডিয়াই আপাত অধর্মীয় ভাবনায় ইউজ করা হইছে; মজার ব্যাপার হইলো, দেশীয় স্বঘোষিত নাস্তিক আর বিজ্ঞানবাদীরা ওই শহীদ আইডিয়া’র বেশ ভক্ত; এই ভক্তি তাঁরা প্রায়ই সুইসাইডের কালচারাল প্ররোচণা দিতে ব্যয় করেন।
ওকে, এদের কামরে কেন বললাম কালচারাল প্ররোচণা? হুমায়ুন আজাদ বা রাজীব হায়দার বা অভিজিত রায়ের অনুমিত খুনীদের ধর্মান্ধ, জানোয়ার, অমানুষ হিসাবেই দেখছেন এ পক্ষ; বলা হচ্ছে, এরা তো খুন করবেই; হিস্ট্রিক্যালি দেখলে বোঝ যায়, সুইসাইড করতে এদের যেই কালচারাল প্ররোচণা দেওয়া হয় সেইটাও বেশ কার্যকর, মুক্তিযুদ্ধের গান বা জাবি’র সংশপ্তক ভাস্কর্যের মতো আর্ট ততো ঘন প্ররোচণা দিতে পারে কিনা সন্দেহ। এর অর্থ দাঁড়ায়, এই খুনীরা মইরা হইলেও মারবে। এতে করে এরা বিষের মতো একটা কন্সট্যান্ট, খুন করাই তাদের কাম।
তাইলে এই বিষের দিকে কাউকে যারা পাঠায় তারা কি আমার ক্যাটেগরির? মানে, আমার মাইয়ারে যেমন বিষ খাইতে প্ররোচণা দিলাম, সেই একই ক্যাটেগরির প্ররোচণা হবে নাকি ওই খুনী বিষের লক্ষ্য হইয়া ওঠার প্ররোচণা দিলে? আমার প্ররোচণার চাইতে মুক্তিযুদ্ধে সুইসাইড করার প্ররোচণা নিশ্চই বেশি একসেপ্টেবল এই দেশ/জাতির কাছে; কারণ, মুক্তিযুদ্ধে সেইসব সুইসাইড জাতীয় মুক্তির জন্য দরকারি ছিলো; তেমনি ভালো কিছু কারণ পাওয়া যাইতে পারে যাতে করে বলা যাবে যে, ওই খুনী বিষের দিকে অভিজিত রায় বা এমনসব বিজ্ঞানবাদীরে যাইতে প্ররোচণা দেওয়া আমার প্ররোচণার চাইতে ভালো একটা ব্যাপার।
পাওয়া যায় নাকি? হুমায়ুন আজাদ বা অভিজিত রায়ের কাম দেশ বা জাতির উপকার কতটা করলো সেইটা বোঝার ট্রাই করে আমরা এই প্ররোচণা আমার মাইয়ারে বিষ খাবার প্ররোচণার চাইতে ভালো হিসাবে ভাবার চেষ্টা করি।
একটা প্রশ্ন দিয়াই শুরু করি; বিজ্ঞানমনস্কতা বিজ্ঞানের দোস্ত নাকি দুশমন? কিছু উদাহরণ দিয়া বুঝতে চাই এইটা; ড. জাফর ইকবাল একজন বিজ্ঞানমনস্ক লোক; বিজ্ঞানের এক বিশেষ ব্রাঞ্চে ওনার ডক্টরেট আছে; বাট ওনার বিশেষ কোন বিজ্ঞানকাম পাই না আমরা, উনি বিজ্ঞানমনস্ক হইতে এবং বিজ্ঞানমনস্কতা ছড়াইতে থাকেন, বিজ্ঞানের কোন ইনভেনশনে মন না দিয়া; উনি ফিকশন লেখেন, কলাম লেখেন, গণিত অলিম্পিয়াড জাতীয় উৎসব করেন, মানে বিজ্ঞানমনস্কতা করেন, বিজ্ঞান ততো করেন না। ওনার ভাই হুমায়ুন আহমেদও বিজ্ঞানে ডক্টরেট আছিলেন, তিনিও ফিকশনে গেছেন, বিজ্ঞানের কাম নাই কোন তাঁরও, যদিও ভাইর মতো অতো বিজ্ঞানমনস্কও আছিলেন না। ড. জাফর ইকবালের বিজ্ঞানমনস্কতাও অবশ্য বোঝা শক্ত হবে যখন আমরা যুক্তি পাবার চেষ্টা করবো যে, বিজ্ঞানের ঠিক কোন শাখার মনস্কতা দিয়া উনি হুমায়ুনরে ত্যাজ্যভাই করছিলেন যখন হুমায়ুন গুলতেকিনরে তালাক দিয়া শাওনরে বিয়া করে। Continue reading →