Main menu

ক্রিয়েটিভ

নাগরিক মানে এখনো মধ্যবিত্ত, ঢাকা শহরে; লাইফস্টাইল-ই হইলো তার ধর্ম; রিলিজিওন তার কালচার না, কালচার হইলো রিলিজিওন, এইরকম মিনিংয়ের ডুয়ালিটি-ই তারে মোর ফিট কইরা তুলতে পারে, সারভাইভালের লাইগা। এইখানে ট্রুথ সেইটা না যা আমরা বইলা ফেলতে পারি, ট্রুথ হইলো যেইটা আমরা বুঝাইতে পারি, না বইলাই!
__________________________________________________

ক্লাস শেষ হওয়া মাত্র ইন্ট্রোভার্ট, শাই, জেদি ও সদাবিষন্ন রাইভি চলে যায় নীলক্ষেতে। নীলক্ষেতের বিভিন্ন দোকান ঘুরে ঘুরে সে কুকুর দেখে, কুকুরের দাম জিজ্ঞাসা করে, জাত জিজ্ঞাসা করে। তারপর সন্ধ্যার আগে আগে বাসায় ফিরে আসে। ঢাকার একটা লো ক্যাটাগরির প্রাইভেট য়্যুনিভার্সিটিতে পড়ে রাইভি। এই দুনিয়াতে তার আছে বড় ভাই- রায়হান ও তার স্কুল শিক্ষিকা মা। তার পাঁচ বছর বয়সে বাবা মারা যায়। বড় ভাই রায়হান একটা ছোটখাটো চাকরি করে। অনার্স কমপ্লিট করতে পারে নাই বলে সে ভালো চাকরি পায় নাই। যাই হোক। রাইভি কুকুরের দোকানে ঘুরে কুকুর চুস করে। সে জার্মান শেফার্ড কিনবে বলে ঠিক করে।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

বাসায় গিয়ে সে মা’কে বলে তাকে একটা জার্মান শেফার্ড কিনে দিতে। মা শুনে বলে- ‘খবরদার, কুত্তার কথা মুখে ও আনা যাবে না। কোন কুত্তা পালা যাবে না। কুত্তা ঘরে থাকলে ঘরে ফেরেশতা ঢুকে না।’ মা-কে রাইভির জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছা করে- ফেরেশতারা কি ভীতু নাকি যে কুত্তা কে ভয় পায়। কিন্তু জিজ্ঞাসা করে না। মায়ের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে সে বড় ভাইকে গিয়ে ধরে। সে কোন দিন বড় ভাইয়ের কাছে কিছু আবদার করে নাই। বড় ভাই রায়হানের কলিজার টুকরা রাইভি। ছোট ভাইয়ের আবদার পূরণ করতে না পারলে সে কিসের বড় ভাই। সে রাইভিকে কথা দেয়- সে অবশ্যই কিনে দিবে। কিন্তু তাদের মা কোন মতেই কুকুর কিনাতে সাঁয় দেয় না। তখন রাইভি মা-কে থ্রেট করে জার্মান শেফার্ড কিনে না দিলে সে পড়াশুনা ছেড়ে দিবে। রাইভির জেদ দেখে মা শেষবেশ রাজি হয়। সাথে সাথে বড় ভাই রায়হান চলে যায় নীলক্ষেত। কিন্তু কুকুরের দাম শুনে মাথা নষ্ট হয়ে যায় রায়হানের। তারা কুকুর না কিনেই ফিরে আসে। কারণ জার্মান শেফার্ড কিনার মতো ইনাফ পয়সা নাই রায়হানের পকেটে। রায়হান রাইভিকে ওয়েইট করতে বলে। নেক্সট মান্থের বেতন পেলেই সে রাইভিকে একটা জার্মান শেফার্ড কিনে দিবে।

Continue reading

বিজ্ঞানমনস্কতা নামের দুশমনের লগে ঝগড়া

আমার মেয়ের পেটের ভিতর একটা বাচ্চা; সেই বাচ্চার বাপের ঠিক নাই, মানে জারজ; তাঁর বন্ধু-বান্ধব-পরিচিতের মাঝে তাঁর আর ইজ্জত থাকবে না, সমাজে আমাদের থাকবে না– যদি জানে সবাই!

আমি বল্লাম, মা, আই লাভ ইউ; এবং তোমার অনার আর আমাদের সবার ইজ্জত বাঁচাইতে তুমি বিষ খাইয়া মর; আমার মাইয়া মরে গেল বিষ খাইয়া। 

খুনী কে? লিগ্যাল ইত্যাদি ডেফিনিশন অনুযায়ী এইটা সুইসাইড; আমি সুইসাইডে প্ররোচণাদাতা; কিছু আবেগী কবি/বুদ্ধিজীবী/সমাজবিজ্ঞানী আর এনজিও এইটারে সামাজিক কিলিং বলবে, সুইসাইড হিসাবে মাইনা নিয়াও এবং নিয়াই।

খেয়াল করা দরকার যে, বিষরে খুনী বলবেন না কেউ; কেন? খুন করা তো বিষের কাম; এইটা এতই কন্সট্যান্ট যে এরে দোষ দিয়া লাভ নাই কোন; বরং যেই যেইভাবে এইটা শরীরে ঢোকে সেইগুলিরে ঠেকাবার চেষ্টাই কামের।

সুইসাইডের প্ররোচণা অনেক রকমে হয়:

ক. আমি যেইভাবে দিলাম।

খ. আমাদের বীরশ্রেষ্ঠদের খেয়াল করলে দেখবেন, তাঁরা নিজেদের মরণ বেশ জানত; এইটারে আমরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া বলি; মুক্তিযুদ্ধের গান, বা চরমপত্র টাইপ রেডিও অনুষ্ঠান, জাতীয়তাবাদ, বঙ্গবন্ধুর আগুনে ওয়াজ, ইতিহাসের কতগুলি মরণরে গ্লোরিফাই করা ইত্যাদি তাদেরকে সুসিসাইডে প্ররোচিত করছিলো। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যারা মরলো তাদের মরণরে গ্লোরিফাই করছি আমরা; এতে কইরা ইতিহাসে অনারেবল পজিশনের লোভে দেশ বা জাতির জন্য মরার আগ্রহ হয়। এইটা সুইসাইডে কালচারাল প্ররোচণা। আমি যেই প্ররোচণা দিছিলাম তার লগে এইটার ফারাক বেশি নাই; দুইটাই কালচারাল প্ররোচণা। আমারটায় জাতীয় লাভ কম, বা ক্ষতিই বেশি; কেননা, ওতে একজন লেবার কমাইতে উৎসাহ দিলাম আমি, আরো আরো লেবারের (মানুষের বাছুর) একটা কারখানা আমার প্ররোচণায় মইরা গেল; এডাম স্মিথ এইটারে বলতে পারেন লেবারের মজুরি বাড়াবার ষড়যন্ত্র।

গ. কালচারবাদী সেক্যুলার জাতীয়তাবাদীরা নিন্দা করে আরেক প্ররোচণার–ধর্মীয় প্ররোচণা; শহীদের ধারনা আছে বিভিন্ন ধর্মে, শহীদের মর্যাদাও আছে বিশেষ। এইটাও আসলে কালচারাল প্ররোচণা; এই শহীদের আইডিয়াই আপাত অধর্মীয় ভাবনায় ইউজ করা হইছে; মজার ব্যাপার হইলো, দেশীয় স্বঘোষিত নাস্তিক আর বিজ্ঞানবাদীরা ওই শহীদ আইডিয়া’র বেশ ভক্ত; এই ভক্তি তাঁরা প্রায়ই সুইসাইডের কালচারাল প্ররোচণা দিতে ব্যয় করেন।

ওকে, এদের কামরে কেন বললাম কালচারাল প্ররোচণা? হুমায়ুন আজাদ বা রাজীব হায়দার বা অভিজিত রায়ের অনুমিত খুনীদের ধর্মান্ধ, জানোয়ার, অমানুষ হিসাবেই দেখছেন এ পক্ষ; বলা হচ্ছে, এরা তো খুন করবেই; হিস্ট্রিক্যালি দেখলে বোঝ যায়, সুইসাইড করতে এদের যেই কালচারাল প্ররোচণা দেওয়া হয় সেইটাও বেশ কার্যকর, মুক্তিযুদ্ধের গান বা জাবি’র সংশপ্তক ভাস্কর্যের মতো আর্ট ততো ঘন প্ররোচণা দিতে পারে কিনা সন্দেহ। এর অর্থ দাঁড়ায়, এই খুনীরা মইরা হইলেও মারবে। এতে করে এরা বিষের মতো একটা কন্সট্যান্ট, খুন করাই তাদের কাম।

তাইলে এই বিষের দিকে কাউকে যারা পাঠায় তারা কি আমার ক্যাটেগরির? মানে, আমার মাইয়ারে যেমন বিষ খাইতে প্ররোচণা দিলাম, সেই একই ক্যাটেগরির প্ররোচণা হবে নাকি ওই খুনী বিষের লক্ষ্য হইয়া ওঠার প্ররোচণা দিলে? আমার প্ররোচণার চাইতে মুক্তিযুদ্ধে সুইসাইড করার প্ররোচণা নিশ্চই বেশি একসেপ্টেবল এই দেশ/জাতির কাছে; কারণ, মুক্তিযুদ্ধে সেইসব সুইসাইড জাতীয় মুক্তির জন্য দরকারি ছিলো; তেমনি ভালো কিছু কারণ পাওয়া যাইতে পারে যাতে করে বলা যাবে যে, ওই খুনী বিষের দিকে অভিজিত রায় বা এমনসব বিজ্ঞানবাদীরে যাইতে প্ররোচণা দেওয়া আমার প্ররোচণার চাইতে ভালো একটা ব্যাপার।

পাওয়া যায় নাকি? হুমায়ুন আজাদ বা অভিজিত রায়ের কাম দেশ বা জাতির উপকার কতটা করলো সেইটা বোঝার ট্রাই করে আমরা এই প্ররোচণা আমার মাইয়ারে বিষ খাবার প্ররোচণার চাইতে ভালো হিসাবে ভাবার চেষ্টা করি।

একটা প্রশ্ন দিয়াই শুরু করি; বিজ্ঞানমনস্কতা বিজ্ঞানের দোস্ত নাকি দুশমন? কিছু উদাহরণ দিয়া বুঝতে চাই এইটা; ড. জাফর ইকবাল একজন বিজ্ঞানমনস্ক লোক; বিজ্ঞানের এক বিশেষ ব্রাঞ্চে ওনার ডক্টরেট আছে; বাট ওনার বিশেষ কোন বিজ্ঞানকাম পাই না আমরা, উনি বিজ্ঞানমনস্ক হইতে এবং বিজ্ঞানমনস্কতা ছড়াইতে থাকেন, বিজ্ঞানের কোন ইনভেনশনে মন না দিয়া; উনি ফিকশন লেখেন, কলাম লেখেন, গণিত অলিম্পিয়াড জাতীয় উৎসব করেন, মানে বিজ্ঞানমনস্কতা করেন, বিজ্ঞান ততো করেন না। ওনার ভাই হুমায়ুন আহমেদও বিজ্ঞানে ডক্টরেট আছিলেন, তিনিও ফিকশনে গেছেন, বিজ্ঞানের কাম নাই কোন তাঁরও, যদিও ভাইর মতো অতো বিজ্ঞানমনস্কও আছিলেন না। ড. জাফর ইকবালের বিজ্ঞানমনস্কতাও অবশ্য বোঝা শক্ত হবে যখন আমরা যুক্তি পাবার চেষ্টা করবো যে, বিজ্ঞানের ঠিক কোন শাখার মনস্কতা দিয়া উনি হুমায়ুনরে ত্যাজ্যভাই করছিলেন যখন হুমায়ুন গুলতেকিনরে তালাক দিয়া শাওনরে বিয়া করে। Continue reading

বইমেলা ২০১৫ এর বই: সকলই সকল – তানিম কবির।

[pullquote][AWD_comments][/pullquote] বাংলা একাডেমি’র ২০১৫-এর বইমেলায় শুদ্ধস্বর তানিম কবিরের সেকেন্ড কবিতার বই – ‘সকলই সকল’ পাবলিশ করার কথা। এর আগে গত বছর একই প্রকাশনা পাবলিশ করছিল তাঁর কবিতার বই ‘ওই অর্থে’।

‘সকলই সকল’-এর প্রচ্ছদ করছেন শিল্পী খেয়া মেজবা।

কবিতার বই থিকা কবি’র বাছাই করা দশটা কবিতা।

________________________________________________________

 

 

তেহারি দোকান

 

যেন কারও রূপ রস গন্ধ নেহারি

ভুবনও কিনারে বসে খেয়েছি তেহারি

 

নাড়িয়া চামচ মম লঙ্ঘিত প্রাণ

যে হারান, তাকে ফের ফিরে পেতে চান

 

এ চাওয়া মাতৃহীন – এতিম শ্মশান

দেয়ালের উচ্চতা দেয়ালে খসান

 

উচ্চতাভীতি নিয়ে তেহারি দোকান

টায়ার ও টিউবসহ ঘূর্ণায়মান

Continue reading

কবিতার শশীকলাদ্যুতি, জল আগুনের সিঁড়িতে মাসুদ খান

[pullquote][AWD_comments][/pullquote] 

কবিতা কী জিনিস? বাংলা-ভাষায় এইটা ডিফাইন করাটা একটা পাপ; এটলিস্ট কোন দোনামোনা না-থাকাটা একটা মারাত্মক রকমের ক্রাইম। রবীন্দ্রনাথ কি কারণে বিহারিলাল’রে কবি কইছিলেন এইটাও আমরা ভুইলাই গেছি; এইকারণে আপনারে কইতে হবে কবিতা কি জিনিস সেইটা আপনি জানেন না, এরপরে কেমনে যে কবিতা হইলো এইটাও আপনি জানেন না; কিন্তু কি না কি জানি হয়া গেলো, এইটা অবশ্য ফিল করতে পারেন এবং ফিল যে করতে পারেন, এইটা খালি কবিতা না, কবিতার আলোচনাও। এইরকম একটা ব্যাপারের সাথে মাসুদ খান-এর কবিতা ভালোভাবেই রিলেট করা যায়। মাসুদ খান-এর হোমাপাখি’রে যদি উনার কবিতা-ভাবনার জিস্ট হিসাবে নেন তাইলে দেখতে পারবেন, কবিতা হইলো সেই জিনিস যা আকাশে পয়দা হয়, আর মাটিতে পড়তে পড়তে আবার আকাশেই উইঠা যায়; এই যে পড়তে পারে, কিন্তু পড়ে না, এবং আবার উইঠা যায় আর ওড়তে থাকে, এইটা হইলো বাংলা-কবিতা।

বাংলা-কবিতা এবং কবিতার আলোচনা শুরু করার লাইগা, এই প্যার্টানটারে দেখা এবং পড়াটারে দরকারি কাজ বইলাই ভাবতে পারতেছি আমরা।

– ই.হা.।

________________________________________

 

গভীর রাতে বহুতল আবাসিক দালানের দশ তলার বেলকনিতে বসে সামুদ্রিক আলো অন্ধকারেরমিতালি পর্যবেক্ষণ করতে ভাল লাগে আমার। কখনো এই সুযোগে সমুদ্রের উপর গুচ্ছগুচ্ছ আলো অন্ধকারের সিনক্রনাইজড ড্যান্স দেখে ফেলতে পারি। কারা নাচে? কখনোমনে হয় বর্ণমালার সবগুলো অক্ষরের দ্বারা নির্মিত মানব মানবী আদলে সুন্দরউদ্ভাসিত লাল নীল উজ্জ্বল বায়োলুমিসেন্ট ক্রিয়েচারস – যারা আমাকেও দেখতেথাকে বিস্ময়ভরে – এমন মনে হয়। কখনো দালানের বাইরে গিয়ে সাগর পারের বাগিচারঅস্পষ্ট তমিস্রার মাঝে নিশ্চুপ ইউক্যলিপটাসের সাথে কথা বলি।

থোকা-থোকা বা এলোমেলো ছড়নো অচিরপ্রভা কোন চেনাজানা ছন্দে না সেজেও যেন প্রাণোচ্ছলরাখে পরিবেশ- আমার চারপাশের উত্তর দক্ষিণ পূবর্ পশ্চিম।

সেদিনের রাতে যেন চাঁদের রওশন বেশিই ছিল। আশ্বিনের চাঁদ ছিল কি-না নিশ্চিত নই।চাঁদ আর ইউক্যালিপটাসের সাথে আমার বিশেষ একটা প্রাতিস্বিক সম্পর্ক পুরানা।চাঁদের ভেতরই যেন আমি কেইপটাউনের এক ম্যাগনোলিয়ার চোখে মায়া ঝরতেদেখেছিলাম। তাকে বুঝাতে পারি নি হয়তো এইটুকু যে, আমি শরীর ও মনের পরিস্কারপৃথক সন্তরণ দেখেছি। ইনডিভিডুয়েল নর নারীর শরীর মনের সম্মিলিত বিভার চাইতেশুধু পরিশীল মনের দ্যূতি অধিক পরিব্যাপ্ত। শরীর ছাড়া মন বুঝবার উপায় নাথাকা সত্ত্বেও শরীরের ভেতরে মন অন্যতর অনবদ্য, আলাদা ভাস্বর। ফুলের শরীরস্পর্শ না করেও ঘ্রাণ টের পাওয়া যায়, গুণ বুঝে নেয়া যায়। থাক সেই ডিটেইল।তবু সে মেঘলা থেকেছে, আমাকে বলেছে। মেঘলা থাকবারও ফজিলত আছে, আমি বলেছি।ঝরা বনগোলাপের বিলাপ শুনে নার্গিস বনে বুলবুলির নিরবতা আসে, শিল্পের পাঠআসে, উন্মোচিত হয় মনোহর দুয়েন্দে। Continue reading

চলচ্চিত্রে ‘অশ্লীলতা’ প্রসঙ্গ এবং শ্যামলালের গল্প

 মতিকন্ঠ থিকা মতিকণ্ঠের ল্যাঙ্গুয়েজটারে বাদ দেন, তারপরে বাংলা-একাডেমি’র প্রেস্ক্রাইভড বাংলায় পড়েন। দেখবেন আপনি আর পছন্দ করতে পারবেন না। কারণ এর যে মেইন পারপাস – হিউমিলেশন, সেইটা যতোটা না ঘটনার, তারচে বেশি ভাষা থিকাই আসতেছে। একই জিনিস আপনি লোকেট করতে পারেন পিপঁড়াবিদ্যার-তেও, ভাষারে বাদ দেন ফারুকী’র; তারপরে দেখেন, ওইটা যে আর্ট প্রডিউস করে সেইটা একটা ক্লাস সুপিয়রিটিরই ঘটনা! এইদিক দিয়া, পিঁপড়াবিদ্যা মেঘমল্লার-এরই ভায়রা ভাই।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

তারপরও মেঘমল্লার পিঁপড়াবিদ্যা’র রিপ্রেজেন্টেশনের লেসন’রে নিতে রাজি না। কারণ মেঘমল্লার  বাংলা সিনেমার এস্টাবলিশ আর্টের যে ধারণা তার পিওরেস্ট ফর্মরেই প্রজেক্ট করে; যেইখানে গাছ-পালা-নদ-নদী-বর্ষাকাল-পুরানাদালান এইরকম রাবীন্দ্রিক ইমেজ দিয়াই শ্রেণীসংগ্রামরে বুঝাইয়া ফেলা যায় (আখতারুজ্জামান ইলিয়াসও পারছিলেন মনেহয়)।  যেই কারণে মাথাটারে টেবিলে ফালাইয়া ঢুসা দিলেই মারাত্মক টর্চার বইলা মনে হইতে পারে আর তখন যেই রক্ত বাইর হয় ঠোঁট দিয়া সেইটা দেইখা সাত বছরের একটা মেয়ে বাচ্চাও কনফিউজড হইতে পারে, লিপস্টিক না ত ওইটা! ই সফিসটিকেটেড আর্ট-ই হইলো বাংলা-সিনেমার অশ্লীলতা বিরোধী আন্দোলনের প্রেজেন্ট আউটকাম।

বাংলা-সিনেমায় অশ্লীলতা আসছিলো ’৯০ দশকের শেষদিকে। তখন আর্ট-ফিল্মওলাদের কাছে এফডিসি মানেই হইলো অশ্লীল, খালি এই কারণে না যে ওরা মাইয়াদের শরীর’রে দেখায়, বরং আর্ট কি জিনিস সেইটা এফডিসি-ওলারা জানে না। আর্ট হইলো এমন একটা  জিনিস, যার কোন সেক্স নাই। থাকলেও আপেলে আছে (পেয়ারাতে নাই), কাদায় ছটফট করা কইমাছে আছে বা গাছের পাতায় বাতাসের শিরশিরানিতেও থাকতে পারে; কিন্তু আমাদের শরীরে, কাভি নেহি!

মাইয়াদের শরীররে পণ্য বানায় যেই রিপ্রেজেন্টেশন সেইটা আর্ট হইতে পারে না না; মাইয়াদের আসলে শরীর নাই, ছে খালি মন! বাংলা-গল্পে জগদীশগুপ্তরে ডিলিট কইরা যেই মন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় খুঁজতেছিলেন কুসুমের শরীরে, সেইটাতে উনারা রিচ করতে পারছেন আসলে। কারণ নানান ধরণের এক্সচেইঞ্জ ত আছেই, আর্টের ডিফরেন্ট মিডিয়াগুলাতে।

মানস চৌধুরী ২০০১-এ মাইয়াদের এই শরীর’রে মাফ কইরা দেয়ার দাবি জানাইছিলেন অশ্লীলতা প্রমোটকারী এবং অশ্লীলতা-বিরোধীদের কাছে; রেইপ হওয়া মেয়ের শরীর’রে ডাক্তাররা যাতে আর রেইপ না করেন। এখন শরীরটা ত আছে, বাদ দেয়া যাইতেছে না; তারে নিয়া আপনি কি করবেন!

 

– ই.হা.।

_________________________________________________________

 

শ্যামলাল

শ্যামলালকে নিয়ে সুকুমার রায়ের গল্পটা বড়ই চমকপ্রদ। তেমন কিছু নয়। স্কুলে নতুন ছাত্র শ্যামলাল আসবার পরই ঘোষণা দিল যে তার ‘পোয়েট্রি’ লিখবার অভ্যেস আছে। বলাই বাহুল্য যে, তার এই সাহিত্য প্রতিভার আত্মোপলব্ধি তাকে তার সহপাঠীদের থেকে বেশ দূরের এবং একটা উঁচু জায়গা পাইয়ে দিল। সেটা আরও বেড়ে গেল যখন পণ্ডিত মশাই জানান দিলেন তাঁর ছোটবেলায় একবার এক ছাত্র কবিতা লিখে স্কুল ইন্সপেক্টরকে এমন মুগ্ধ করে দিয়েছিল যে স্কুলের জন্য সেবার অর্থ বরাদ্দ বেশি হয়ে গেছিল। ‘পোয়েট্রি’র এহেন কার্যকরিতা জানবার পরও – যা হয় আর কি – শ্যামলালের সহপাঠীকুল খুব একটা যে বিনয়াবনত হয়েছিল তা বলা যাবে না। হ্যাঁ, বিস্ময় ছিল। তবে ঢের ঢের হিংসাও ছিল। ফলে যে দুর্ঘটনাটি ঘটল তা হচ্ছে স্কুলে শ্যামলালের সহপাঠীসমেত গোপনে কবিতা চর্চাকারীদের সংখ্যা কিছু বেশিই হয়ে দাঁড়াল। এই নিভৃত কবিদের লক্ষ্যও স্কুল ইন্সপেক্টর। ফলে হল ঘরে অভিবাদন জানাতে অপেক্ষমান শিক্ষার্থীরা যেই না স্কুল ইন্সপেক্টরকে দেখতে পেল, অমনি আড়চোখে শ্যামলালকে দেখে নিল পকেট থেকে সে ‘পোয়েট্রি’ বের করে কিনা। আর যেই না শ্যামলাল পকেটে হাত দিয়েছে, অমনি যে যার পকেটে রাখা স্বরচিত কবিতাখানি পড়ে শোনাতে শুরু করল। একসাথে এত বড় কবিকুলের কাব্যপাঠ পরিদর্শক সাহেবের হজম হয়নি, তিনি মুর্চ্ছা গেলেন। মহামান্য অতিথির এই পরিণতিতে হেডমাস্টার মশাই বেশ ক্ষেপে গেলেন। তিনি হুংকার ছেড়ে জিজ্ঞেস করলেন ‘কে গোলমাল করেছে?’ অমনি সবাই একসাথে বলে বসল ‘শ্যামলাল মাস্টার মশাই।’ সুকুমারের এর পরের মন্তব্যটিও শোনার মত। ‘শ্যামলাল একাই যে এত বড় গোলমাল করতে পারে হেডমাস্টার মশাইয়ের কিছুতেই তা বিশ্বাস হ’ল না’ বা এই গোছের একটা কিছু।

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →