Main menu

দ্য ফিলসফি অফ অ্যান্ডি ওয়ারহল (১)

অ্যান্ডি ওয়ারহল-এর পেইন্টিং দেখার পরেই আপনি ধারণা করতে পারবেন যে আমরা উনার পেইন্টিংয়ের লাইফ লিড করতেছি। মানে, উনার আর্টের ব্যাপারটা যদি আপনারে নিতে হয়, কোন না কোনভাবে। মানে, আর্ট যে কইলেন এইটারে ত ডিফেন্ড করা লাগবো বা ডিফাইন করা লাগবো এখন। তবে এইটা ছাড়াই বরং বেটার, অ্যান্ডি ওয়ারহল। ইন ফ্যাক্ট, এইটাই উনার আর্ট যে, এইখানে ডিফেন্ড করার কিছু নাই।

এখন এই ধারণা করতে পারা আর জানতে পারা ব্যাপার দুইটার মধ্যে তিল বা তাল-এর যে ফাঁক আছে, সেইটা উনার বইটা পড়লে মিনিমাইজ হয়। এইটা এমনিতে উনার বইও না। উনি নিজে লেখেন নাই, কথা-বার্তা কইছিলেন মনেহয়, ওইগুলা জোড়াতালি দেয়া। অন্যরা লেইখা দিছিলো, এডিট করছিলো। অবশ্য এতে কইরা মালিকানা খারিজ হয়া যায় না। এইটা উনারই বই। ১৯৭৫ সনে ছাপা হইছিল।

এইটা মনে করার কোন কারণ নাই যে উনি চাতুরি করতেছেন বা ওই যে আছে না ভাষায় এখনো, ‘বিদ্রুপ’ এবং ‘করিতেছেন’। এইগুলা না। হি ইজ সিরিয়াস। উনি যেইটা বলতেছেন সেইটা উনি মিন করতেছেন। নাথিংনেস ইজ নাথিংনেস, এইখানে সামথিং-এর কোন ইনসারশন নাই।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

ব্রদিয়াঁ উনার কন্সপারেসি অফ আর্ট-এ এইটা কওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু উনি আর্ট-এর ধারণাটারে এড়াইতেই চান নাই। এইটা হয়তো এইকারণে যে, একটা ধারণারে অস্বীকার না কইরা উনার ধারণা এগজিস্ট করতে পারে না; ফরগেট ফুকো, ফরগেট আর্টাড, ফরগেট ব্রদিয়াঁও – মানে, অস্বীকার করার লাইগা একটাকিছু লাগবো আপনার। কিন্তু ওয়ারহল-এর এইরকমকিছু নাই। অস্বীকার করার কি দরকার! এইটা ত নাই-ই, তাই না? এইটা মানে, আর্ট, এসথেটিক্স। ব্রদিয়াঁ কইছেন অবশ্য। এইটা বাঁইচা থাকাই। যতক্ষণ পর্যন্ত টিভি স্ক্রীণ আপনারে দেখাইলো বা আপনি ভাবতে পারলেন যে আপনি যা করতেছেন সেইটা টিভি স্ক্রীণে আছে, আপনি ততক্ষণই বাঁইচা আছেন। যখন আপনি মারা গেলেন, তখন ত আর থাকা নাই।

আর্ট ইজ দ্য ডেথ অফ আর্ট ইটসেলফ।

প্লেটো থিকা শুরু কইরা এখন পর্যন্ত আর্টের যত ধারণা আছে সেইটা হইলো, আর্ট মিনিংফুল একটা কিছু – মিনিমাম থিকা ম্যাক্সিমাম, খারাপ থিকা ভালো বা মিনিং যে নাই এইটাও একটা মিনিং-ই। আর্ট সমাজের স্ট্যাবিলিটিরে ঝাক্কি মারে, আউলাইয়া দেয়, খালি ঝামেলা পাকায় বা এইটাই এর কাজ, সিরিয়াসলি; আবার, না, না এইটার দরকার আছে, কাউরে না কাউরে ত কিছু কওয়া লাগবো, সমাজ, কণ্ঠস্বর – এইসবকিছুর বাইরে আর্ট কিছুই না; অথচ এইসবকিছু বাদ না দিতে পারলে আর্ট-ই হইতে পারে না; মকারি করা খালি। সিরিয়াসলি মকারি করা, আবার মকারি কইরা সিরিয়াস হওয়া। বোথ ওয়ে, টুয়েন্টিফোর/সেভেন, থ্রিহান্ডেডসিক্সটিফাইভ। এইটা ডিপিক্ট করাটা আর্টের মধ্যে নাই, বিফোর অ্যান্ডি ওয়ারহল। মর্ডানিজম, মার্ক্সসিজম, সুরিয়ালিজম সবাই আর্ট করে সমাজের লাইগা অথবা ফর আর্ট সেইক! মানে, আর্ট আছেন, এগজিস্ট করেন, কোন না কোনভাবে।

কিন্তু আর্ট থিকা আর্টরে বাদ না দিলে আর্ট হইতে পারে না। এইটা অ্যান্ডি ওয়ারহল-ই করছেন।

Continue reading

ডিলিং উইথ সোসাইটি: কোলকাতা, মুম্বাই আর ঢাকা

সমাজকে ডিল করায় কোলকাতার ক্লাসিক মডেল হইলো আক্রমণ করা; এইটা শুরু হইছে ইয়ং বেঙ্গলের হাতে। শাসক ইংরাজের কালচারাল রিপ্রেজেন্টিটিভ ডিরোজিও’র শিষ্যরা এই মডেলের পাইওনিয়ার।

এই মডেলের গোড়ার কথা হইলো সমাজকে চাবুকপেটা করতে হবে। ইয়ং বেঙ্গলের কয়েকটা চাবুক আছিলো: মদের চাবুক, গরুর গোস্তের চাবুক, আর ছোট জাতের চাবুক। সমাজরে চাবকাইয়া সোজা কইরা ফেলা হবে এই মডেলে। এর ভিতর একটা মজার আয়রনি আছে; যেই সমাজরে চাবকাইয়া সোজা করা হবে মাইরের এসথেটিক্সও সেই সমাজেই পয়দা হইছে। মাইরের উপর ওষুধ নাই–এই এসথেটিক্স চর্চাকারী সমাজকে মাইর দিয়াই, মানে চাবকাইয়া সোজা করা হবে। এই মডেল তাইলে সমাজরে কতটা পাল্টাইতে পারে? আক্রমণের এসথেটিক্সকে হামলা করার দরকার দেখলো না এই মডেল; অথচ এই সমাজে ব্যক্তির বন্দিদশার শুরু এবং শেষ এই আক্রমণের এসথেটিক্স! [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

এই সমাজ ব্যক্তিরে আক্রমণ করে–ব্যক্তির যাবতীয় চয়েস-এ নাক গলায় সমাজ; তাইলে আক্রমণের এসথেটিক্স চর্চা কইরা কতটা সোজা করা যাবে এই সমাজ? সেই সওয়াল-জবাব দেখা যায় নাই ইয়ং বেঙ্গলের মাঝে। ইয়ং বেঙ্গলের এই ১৫০/২০০ বছর পরেও কোলকাতা সেই ক্লাসিক মডেলই অ্যাপ্লাই করতাছে দেখা যায়। সেইটা ক্লিয়ার হইলো চুমাচুমির আন্দোলনে। Continue reading

বিশৃঙ্খল দৃশ্য: পৌরুষ, পাবলিক স্মৃতি ও সেন্সরশিপ

র‌্যাবের সাথে ক্রসফায়ারে মারা-যাওয়া কোন লাশের ছবি কি ছাপা হইতে দেখছেন মিডিয়ায়, গত দুই-তিন বছরে? বা ধরেন, বিশ্বজিৎ-এর খুন কেন হন্টিং একটা ব্যাপার? কারণ আমাদের মিডিয়া-রিয়ালিটিতে ঘটনা হইলো ইমেজ-ডিপেনডেন্ট একটা বিষয়। ইমেজ নাই বইলাই ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটলেও সেইটা নাই-ই হয়া আছে এবং বিশ্বজিৎ-রে রিপিটেডলি মরতে হইছে। ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে একটা অর্গানাইজড ক্যু’র পরে দেশের মিডিয়াগুলা নিজেদের উপ্রে যে সেন্সরশীপ ইম্পোজ করে সেইটার কনটিনিউশনই এখনো চালু আছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এই কন্ট্রোলের ঘটনাটা ঘটছে মিডিয়ারে মিলিটারি অ্যাকশনের ভিতরে অ্যাকোমোডেট কইরা, আরো আগেই। আর বাংলাদেশের মিডিয়াগুলা ক্যু-এর পরের সময় থিকা সরকারি কন্ট্রোলের সাথে নিজেদেরকে কম্প্যাটিবেল কইরা তুলতে পারতেছে। এইটা যখন ইনিশিয়েটেড হইতেছে তখন রেহনুমা আহমেদ লিখছিলেন এই লেখাটা, ছাপাইতে দিছিলেন বিডিনিউজটুয়োন্টিফোরডটকম-এ; রিস্কি হবে মনে কইরা উনারা লেখাটা ছাপাইতে রাজি হইতে পারেন নাই। পরে দৃক ও যোগাযোগ পত্রিকা মিইলা লেখাটা ছাপায়। লেখকের অনুমতি নিয়া বাছবিচার-এ আপলোড করা হইলো।

– ই.হা.

১. লগনের কথা

এই লেখার বিষয় ভিশুয়াল রেপ্রিজেন্টেশন ও সেন্সরশিপ। এটা কোনো পূর্ণাঙ্গ লেখা না, চলমান ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু খসড়া ভাবনাচিন্তা হাজির করছি মাত্র। মোটা দাগে সেন্সরশিপ বোঝা হয় নিষেধাজ্ঞা হিসেবে, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে শাস্তি পেতে হবে, এ হিসেবে। এটা ছাপা যাবে না, ওটা নিয়ে কিছু বলা যাবে না ইত্যাদি, ইত্যাদি। সেন্সরশিপ আগে এবং পরে, উভয় দিক থেকে কাজ করে। আগে থেকে সতর্ক থাকা, আর পরে অর্থাৎ ঘটে গেলে, শাস্তি পাওয়া। কিন্তু বিষয়টা আরেকটু জটিল। সে প্রসঙ্গে পরে আসছি।

এই লেখার অন্য বিষয় ভিশুয়াল রেপ্রিজেন্টেশন। অর্থাৎ, আমার আলোচনার বিষয় রক্ত-মাংসের মানুষ না, রক্ত-মাংসের মানুষের রেপ্রিজেন্টেশন। খোলাসা করি : আপনার ছবি যেমন আপনারই ছবি, ‘আপনি’ আর ‘ছবি’, এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। স্টিল ছবি হচ্ছে ব্রোমাইড কাগজে ছাপা একটি বস্তু, আর আপনি হচ্ছেন রক্ত-মাংসের মানুষ। আর ঠিক একইভাবে, আমার আলোচনার বিষয় হচ্ছে ছবি – বেশ কটি ছবি, তার মধ্যে দুটো ছবি সমকালীন বাংলাদেশের, একটি প্রকাশিত হয়েছিল, পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়। অপরটি বহুলপ্রচারিত, কখনোই নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়নি। দুটোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাকালীন ছবি – রক্ত-মাংসের মানুষ না। Continue reading

পিয়াস করিমের ইন্টারভিউ: পার্ট ২

 পিয়াস করিমের সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট কইরা দিছিলেন মৃদুল শাওন। ভারবাল এগ্রিমেন্টটা এইরকম ছিল যে, আমরা উনার সাথে কথা বলবো এবং পরে ইন্টারভিউটার ভিডিও বা ট্রান্সক্রিপ্ট করা টেক্সটটা আমাদের ওয়েবসাইটে রাখবো। ভিডিওটার একটা পার্ট কিছুদিন পরেই আপলোড করতে পারছিলাম আমরা। এইখানে সেকেন্ড পার্ট’টা রাখা হইলো; কিছু বাছাই করা জায়গার ট্রান্সক্রিপ্টসহ।

ইন্টারভিউ’টা নেয়া হইছিল এপ্রিল ১৫, ২০১৩-তে, পিয়াস করিমের ধানমন্ডির বাসায়, সন্ধ্যা আটটা থেকে দশটা পর্যন্ত। ভিডিওটা করা হইছিল স্যামসং ব্রান্ডের নোট-ওয়ান মোবাইলফোনের ক্যামেরা দিয়া।

– ই.হা.

————–

পার্ট ১ ।।

————–


হেজিমনি, কালচারাল রেভিউলেশন এবং শাহবাগ-হেফাজত

 

পিয়াস: …মার্কসের মধ্যে এক অর্থে কিন্তু ওই হেগেলের এক ধরণের লেফট ইন্টারপ্রিটেশনের জায়গা আছে যে নেগেশন অফ নেগেশন চলতে থাকবে; ইতিহাসকে এক ধরণের ওপেন-এন্ডেড প্রক্রিয়া হিসেবে দেখার একটা ব্যাপার আছে। অপরদিকে মার্কসবাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত একটা রক্ষণশীল ব্যাপারও আছে, যেইখানে কোথাও একটা ভারসাম্যের জায়গায় পৌঁছাতে হবে। ট্রটস্কি যেমন রেভিউলেশন অফ পারমানেন্সের কথা বলছেন, স্তালিন আবার একদেশের সমাজতন্ত্রের কথা বলে একটা ভারসাম্যের জায়গা তৈরি করতে চেয়েছেন। আজকের বাংলাদেশে আমার মনেহয় আমরা যারা একটু পোস্ট-মার্ক্সসিস্ট জায়গা থেকে (দেখি), এই ভারসাম্যের ধরণটা আমাদের ভাবা দরকার বলে মনে করি। ভারসাম্যের যে এক ধরণের চিরন্তন, অ্যাবসুলেটিজম না, পারমানেন্সের জায়গা থেকে না, আগামী দশবছরের জন্য, পনের বছরের জন্য… এইটা না হলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হবো বলে আমার ধারণা।

ইমরুল: এই ভারসাম্যটা আপনার কি ধারণা, কিসের ভিত্তিতে হতে পারে?

রেজাউল: সাজেশন আকারে যদি চাই, আমাদের কর্মপন্থা।

পিয়াস: একটা হতে পারে, যেটা আমি একটু আগে বলছিলাম। আমি একটু এলোমেলো বলছি… একটা হতে পারে যে, গ্রামশি’র টার্মে একটা হেজিমনিক ফোর্স তৈরি করা। শাহবাগ যেমন একটা হেজিমনিক শক্তি… যে তার মতাদর্শগত আধিপত্য বাকি সমাজের ওপর আরোপ করতে চায়। আসলে কি শাহবাগ তা পারছে? তা তো পারছে না। প্রথমদিকে যে বিস্ফোরণটা দেখা গেছিল, শাহবাগে তারপর ভাটা পড়ে গেছে, প্লাস ঢাকার নাগরিক মধ্যবিত্তের বাইরের যে বাস্তবতা, সেখানে তো শাহবাগের হেজিমনিক অবস্থান (কাজ করে না)… অপরদিকে হেফাজতে ইসলাম কি সেইটা পারবে? তাও ত পারবে না। হেফাজতে ইসলাম ত নাগরিক মধ্যবিত্তের বিরাট অংশকে ধারণ করতে পারবে না। জামাত পারবে না। প্রচলিত দুইদল পারবে না।… আমাদের বামপন্থীরাও… ওই হেজিমনির জায়গাতে পৌঁছতে পারে নাই। ফলে একটা উত্তর হতে পারে একটা হেজিমনিক শক্তি তৈরি করা। এটাকে আমি ওয়ার্কিং-ক্লাস রেভিউলেশনারি পার্টি বলি, ন্যাশনালিস্টিক পার্টি বলি, ন্যাশনাল কালচারাল ব্লক বলি…

 

Continue reading

আধুনিকতার ‘বিপন্ন বিস্ময়’: একটি মার্কসবাদী-পোস্টমর্ডান আলাপচারিতা

পিয়াস করিম এই লেখাটায় মার্কসবাদের জায়গা থিকা পোস্টমর্ডানিজমরে কতোটা নেয়া যায় এবং কিভাবে নেয়া এই বিষয়ে আলাপ করছেন এইটা ধইরা নিয়া যে মার্কসবাদ হইতেছে আধুনিকতার পেরিফিরি’র ভিতর থিকাই আধুনিকতার ক্রিটিসিজম আর পোস্টমর্ডানিজমের কাজই হইলো আধুনিকতার বেসিসগুলারেই আউলাইয়া দেয়া; যেহেতু পোস্টমর্ডানিস্টদের প্রশ্নগুলা ভ্যালিড এই কারণে মার্কসবাদেরও বেইসগুলারে রিডিফাইন করা লাগে, আপডেটেড হওয়ার দরকার পড়ে এবং এই জায়গাতে পিয়াস করিম অ্যাজ আ্যা মার্কসিস্ট অ্যাকোমোডেটিভ হইতে চান; মার্ক্সসিজম এবং পোস্টমর্ডানিজমের ইন্টার-অ্যাকশনের স্পেসগুলারে ওপেন করতে চান।

এই লেখাটা এর আগে ছাপা হইছিল ‘প্রতিপাঠ: উত্তরআধুনিকতা’ (পৃষ্টা ১০৯ – ১৩০) নামের একটা সংকলনে। আর স্ক্যানকপিটা মৃদুল শাওনের মারফতে উনার কাছ থিকা নিছিলাম আমরা আপলোড করার জন্য।

– ই.হা.

 

এক.

পোস্টমর্ডানিজমের বিস্তৃত ব্যাখ্যান এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য নয়। এর পরিসর আরো সীমিত, আরো সুনির্দিষ্টভাবে রাজনীতিমনস্ক। আমি একজন মার্কসবাদী। মার্কসবাদের কাছে আমার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা। একজন মার্কসবাদী হিসেবে আমি পোস্টমর্ডানিজমের টেক্সট পাঠ করি, তাড়িত হই, আমার রাজনৈতিক বিশ্বাসের কাছে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো বুঝে নেয়ার চেষ্টা করি। পোস্টমর্ডানিজমের সাথে আমি আমার মার্কসবাদের আলাপচারিতার একটি স্পেস তৈরি করি। পোস্টমর্ডানিজমকে কখনো ধারণ করি আমি আমার ডিসকোর্সে, কখনো সংশয়ী হই, কখনো অবিশ্বাসে, দ্বিমতে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠি। কিন্তু শেষ অব্দি এই কথোপকথন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আমার উপায় থাকে না।

একজন মার্কসবাদী হিসেবে, একই সাথে বৈশ্বিক ধনতন্ত্রের ক্ষেত্রে ও প্রান্তে অবস্থিত একজন মানুষ হিসেবে আমাকে আধুনিকতার মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়। আধুনিকতাকে আমি উপলদ্ধি করি কখনো স্পষ্টাস্পষ্টি, কখনো ধূসর, কিছুটা আলোআঁধারি অবয়বে। মার্কসে আমি অর্জন করি আধুনিকতার অন্তর্নিহিত বিপন্ন সংকটটির এ অব্দি সবচেয়ে ঋজু তীক্ষ্ণ পাঠ। য়ুরোপীয় বিংশ শতাব্দীর শেষে এসে আমি যখন লেট ক্যাপিটালিজমকে দেখি, ধনতন্ত্রের অদৃষ্টপূর্ব বৈশ্বিক সংহতকরণ দেখি, আমাদের চেতনার অভ্যন্তরে, আরো ভেতরে আমাদের অবচেতনায় ধনতন্ত্রের শক্ত হয়ে ওঠা, দীর্ঘ হয়ে ওঠা অনুপ্রবেশ টের পাই, আমার অস্তিত্বের খুব কাছাকাছি পুরুষতান্ত্রিক ধর্ষণের চিৎকার শুনি, আমার বাদামি চামড়া যখন শ্বেতবর্ণ ঘৃণার আগুনে ঝলসে ওঠে, আমার বাদামি/কৃষ্ণ শরীরের বিপরীতে- আধুনিকতা সম্পর্কে আমার তখন ক্রগাগত, ক্লান্তিহীন, রক্তাপ্লুত বোধের জন্ম হতে থাকে। এই মানুষ আমি, রাজনীতির কাছে দায়বদ্ধ, এই মার্কসবাদী-আধুনিকতা থেকে উত্তরণের প্রাক্সিস/ন্যারেটিভ এ আমাকে অংশ নিতেই হয়। পোস্টমডার্নিজম সম্পর্কে আমার আগ্রহের এই হচ্ছে জেনেসিস।

এই আগ্রহের কারণেই আমাকে কতগুলো প্রশ্ন দাঁড় করাতে হয়। আধুনিকতার এবং উত্তরআধুনিকতার সংকট পোস্টমর্ডানিস্টরা যেভাবে চিহ্নিত করেছেন তা আমার রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে তৃপ্ত করছে কী? আমার রাজনীতি জীবনকে যেমন আমূল পাল্টে দিতে চায়, এই পাল্টে দেবার পদ্ধতিতে পোস্টমর্ডানিজমের শক্তিটি কোথায়? এর দুর্বলতাগুলোই বা কী? মার্কসবাদের সাথে পোষ্টমডার্নিজমের কথোপকথনের একটি ভঙ্গি বা পদ্ধতি আমি কী করে তৈরি করে নিতে পারি? Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →