Main menu

মুখরা জগৎকুমারীর সনে এক প্রেমিকের ঝগড়াঝাটি

[pullquote][AWD_comments][/pullquote]বাংলা-কবিতা মোর অর লেস নগর-বিরোধী একটা ব্যাপার; যেইসব নাগরিক-কবিতা দেখবেন, ওইখানে এইরকমের ব্যঙ্গ, বিদ্রূপ এবং রিজেকশন যে আপনি বুঝতে পারবেন, বাংলা-ভাষার কবিরা এখনো গ্রামেই থাকেন, গঞ্জে বা মফস্বলেও; আর যাঁরা থাকেন শহরে, শহর জিনিসটা মাইনা নেয়ার মধ্যে নাই তারা; বাংলা কবিদের গাড়িরা গাড়লের মতো কাশে এখনো, অত তাড়াতাড়ি কোথাও যাইতে চান না এই কবিরা। এঁনাদের বিশেষ কোন প্রস্তাব নাই এক্সিস্টিং লাইফস্টাইলের বিপরীতে, খোদ স্পেসটারে ডিনাই করেই বিদ্রোহের তুরীয় মজা পাইতে থাকেন।

সুমন রহমানের কবিতায় এই রিজেকশনের জায়গাটা নাই বা কম; মে বি উনি শহরের থাইকা যাওয়াটারে মাইনা নিয়া মোর অ্যাকোমোডেড করতে পারছেন, ব্রিদিং স্পেইস দিছেন; খালি গ্রাম-বাংলা’র থাকা বা না-থাকা দিয়াই ওনার কবিতারে ভরাট কইরা ফেলেন নাই।

সুমন রহমানের কবিতা নিয়া জাহেদ আহমদ এই আলাপটা করছিলেন দুইহাজার তেরো সালে।ছাপা হইছিল সৈয়দ আফসার সম্পাদিত অর্কিড পত্রিকার সাতনাম্বার সংখ্যায়। লেখকের অনুমতি নিয়া এইখানে আপলোড করা হইলো।

ই.হা., রক মনু

_____________________

‘বন্ধুরা ছাড়া আর কেউ যেন এ গান না শোনে / প্রেমিক-প্রেমিকা ছাড়া কেউ যেন এ গান না শোনে’ — সুমনের গান

শুরুতেই পোস্টস্ক্রিপ্ট। অবশ্য এই জিনিশ রচনার শেষে দেয়াই দস্তুর। তবে যিনি কিনা আদ্যন্ত এ-রচনা পাঠে উদ্যত হয়েছেন, তার পাঠস্পৃহার তারিফ না-করে উপায় নেই, তিনি নিশ্চয় এটুকু ভায়োলেশন মার্জনাসুন্দর দৃষ্টিতেই দেখছেন। স্বীকার করা শুভ হবে যে, এক্ষণে এই পাঠপ্রতিক্রিয়া-প্রণয়নে-রত অল্পবিদ্যাধর পাঠকশর্মাটি কবিতার কখগঘ সম্পর্কে তেমন জানে না কিচ্ছুটি, কিন্তু কবিতা ভালোবাসে এবং নাগাল পেলে পড়ে। কে বলেছে জ্ঞানগরিমা দিয়ে কবিতা ছোঁয়া যায়? কবিতা বিষয়ে কানাকড়ি জ্ঞানগম্যি নাই কিন্তু জগৎ সম্পর্কে নিজস্ব একটা আন্ডার্স্ট্যান্ডিং রয়েছে এমন লোকেরাই কেবল হতে পারত কবিতার সবচে ভালো পাঠক। কবি কোথায় পাবেন তারে, এই জ্ঞানপগারের পারে? মুখ খুললেই ধরা পড়ে লোকগুলো কী বুকিশ! থাক সেসব, পোস্টস্ক্রিপ্ট প্রকাশ করি এবে : এই রচনা পড়ার আগে, এটি পড়ে সময় নষ্ট না-করে বরং, পড়ে ফেলুন সুমন রহমানের কবিতাবই সিরামিকের নিজস্ব ঝগড়া ; বা তার পূর্বজন্মের ঝিঁঝিট, সুলভ নয় যদিও, পড়ে ফেলুন অনতিবিলম্বে। কেননা আপনি জানেন, কবিতা পড়ার জিনিশ, আলোচনায় কবিতার বিশেষ রসবৃদ্ধি হয় না বরং উল্টোটি। প্রেম যেমন করার জিনিশ, পর্যালোচনার নয়, কবিতা তেমনি পড়ার। হা হতোস্মি! এই দেশে লোকে প্রেমে পড়ে এবং কবিতা করে !! স্মর্তব্য মহীনের ঘোড়াগুলি সম্পাদিত জনপ্রিয় বাংলা গানটি, ওই যে, ‘আমি বড় রাস্তায় দাঁড়ায়ে কবিতা করি, আঁকিবুকি করি…’। Continue reading

হারুকি মুরাকামি’র গল্প: ইয়েসটারডে

হারুকি মুরাকামি বাংলাভাষায় পরিচিত হইতে শুরু করছেন। নরমালি এইরকমের ঘটনাটা ঘটে কোন লেখকের বুকার বা নোবেল পাওয়ার পরে; যখন সাহিত্য-সম্পাদকরা অনুবাদকদের তাগদা দিতে থাকেন আপডেটেড হওয়ার লাইগা বা লেখক-অনুবাদকরা আপডেটেড হওয়া তাগিদটা জোরেশোরে ফিল করতে থাকেন! মুরাকামি কোন পুরস্কার ছাড়া তার জনপ্রিয়তা দিয়াই এই চাপটা দিতে পারতেছেন মনেহয়।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

মুরাকামির সবচে রিসেন্ট গল্প ইয়েসটারডে’র ইংরেজি অনুবাদ ছাপা হইছিলো দ্য নিউইয়র্কারে জুন ৯, ২০১৪ তে। বাংলায় অনুবাদ হইতে তাও দুইমাস সময় লাইগা গেলো! তারপরও যে হইলো, এর কৃতিত্ব পুরাটাই বাংলা অনুবাদকের।

___________________________________

হারুকি মুরাকামি’র গল্প:

ইয়েসটারডে

 

বিটলস এর গান “ইয়েসটারডে”র অনুরূপ, যদ্দুর জানি, কিটারু নামের লোকটিই জাপানের আলাদা বৈশিষ্টের কানসাই আঞ্চলিক ভাষায় নিজস্ব একটা সংস্করণ বানিয়ে বাথরুমে গোসল করার সময় গাইতো। তার গাওয়া গানটির কথা-

‘গতকাল
আগামীকালের দুইদিন আগের দিন
এই দিন দুই দিন আগের পরের দিন।’

আমার মনে পড়ে এভাবেই শুরু কিটারু সংস্করণ গানটি। বহুদিন হল, গানটি শুনি নাই এবং পুরো গানের কথাগুলোও নিশ্চিত মনে নেই। তবে মনে আছে, কিটারুর গান পুরোটাই অর্থহীন আর বিটলস এর গানের অর্থের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নাই। সেই চেনাজানা সুন্দর বিষাদময় মধুর স্বর সহযোগে প্রাণবন্ত কানসাই ভাষায় মিলিয়ে, কিন্তু যেটি আবার করুণ রসের বিপরীত- তবু এক ধরণের অদ্ভুত মিল দিয়ে গায় সে। মূলত তা আমার কাছে মনে হয়েছে গঠনমূলক কোনো কিছু প্রত্যাখ্যানেরই স্বরধ্বনি। সে-সময় আমি শুধু শুনছিলাম আর মাথা নাড়ছিলাম। আমি সেটা হেসে উড়িয়ে দিতে পারতাম, কিন্তু আমি টের পাই এতে এক ধরনের গুপ্ত মর্ম আছে।

কিটারুর সাথে আমার প্রথম দেখা ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটা কফিশপে। সেখানে আমরা পার্টটাইম কাজ করতাম, আমি কিচেনে আর কিটারু ওয়েটার। দোকানটিতে আমরা অবসরে অনেক কথা বলতাম। আমরা দু’জনের বয়স কুড়ি ছিল। জন্মদিনও ছিল মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে। Continue reading

আপনার চাইতে আর্ট বেশি বোঝে ওরা

আর্ট কি জিনিস? কেমনে আর্টরে বুঝবেন আপনি; আর্টিকুলেট করবেন আপনার সাহিত্যে, নাটকে, লাইফে – এই বিষয়ে মনু’র অ্যাডভাইস।–ই.হা.

পাখি জামা কিনে দেয়নি স্বামী, বউ তালাক দিলো সেই স্বামীরে। বাপ কিনে দেয় নাই পাখি জামা, মেয়ের অভিমান, মায়ের বকা, মেয়ের আত্মহত্যা। বুঝতে পারছেন কি ঘটনা দুইটারে? নাহ্।

যেভাবে এবং যতটা বুঝছেন তার একটা স্কেচ দেখাই আগে। পাখি এক ভারতীয় সিরিয়ালের চরিত্র, বাংলাদেশের মেয়েরা ওই সিরিয়ালে ডুবে গেছে; পাখি’র ফ্যাশন ছাড়া, ভারতীয় ফ্যাশন ছাড়া ঈদ করতে পারে না বাংলাদেশের মেয়েরা; এবং এইটা পুরা ছবির একটা টুকরা মাত্র; অসংখ্য ভারতীয় সিরিয়াল আর চ্যানেল আছে—হিন্দি আর বাংলা। বাংলাদেশের সংস্কৃতি দখল হইয়া গেছে; ভারতীয় চ্যানেল আর সিরিয়াল খারাপ, ঘেন্না হয় আপনার, ওগুলি নিষিদ্ধ করা দরকার একদম। [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

ফলে সমাজে মেয়ে শাসনের আরেকটা সুযোগ পাইলেন আপনি; ভারতীয় চ্যানেল আর সিরিয়ালগুলি নতুন এই সুযোগ করে দিলো আপনাকে; সেজন্য ভারতীয় কোন সিরিয়াল বা একতা কাপুরকে অবশ্য ধন্যবাদ দেন নাই আপনি।

মেয়ে শাসনের এই সুযোগের এস্তেমাল করার ফাঁকে উপরের ঘটনা দুইটায় কিছু না দেখা জিনিস দেখাই আপনারে। Continue reading

ভার্জিনিয়া উলফ-এর সুইসাইড নোট

প্রায় সারারাত জাগলাম লেনর্ড উলফের কাছে লেখা ভার্জিনিয়া উলফের সুইসাইড নোটের কথা ভাবতে ভাবতে। ইউটিউবে দেখলাম ‘দ্যা আওয়ারস’ মুভির দৃশ্য। দেখলাম চিঠি লেখার সময় কলম ধরা হাত ইতস্তত করতেছে, একই সাথে গাছগাছালি, পাখির ডাকের মধ্যে ভার্জিনিয়া (নিকোল কিডম্যান) অস্থির হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছালেন উস নদীর কিনারে। নদীর ঘোলা পানি নির্বিকার বইতেছে। দরজা খুইলা ঘরে ঢুকতেছেন লেনর্ড উলফ। নিকোল কিডম্যানের কণ্ঠে চিঠির কথাগুলা শুনতে শুনতেই দর্শক দেখতেছে একটা ভারি পাথর কোটের পকেটে ঢুকাইয়া আস্তে আস্তে ভার্জিনিয়া নাইমা যাইতেছেন নদীর একদম মধ্যে…

সেদিন অফিসে রওনা দিলাম যখন, তখনও অন্ধকার। আগের রাতে গাড়ি রাস্তায় পার্ক করার কারণে কাচে হিম জমতে জমতে প্রায় বরফ। সেই জমাট কুয়াশা তরল করতেছিলাম ওয়াইপার চালাইয়া। প্রিন্সেস হাইওয়েতে ওঠার মুখে দেখি কুয়াশায় দুনিয়া চেনা যাইতেছে না। রাস্তার আলোগুলা তখনও জ্বলতেছে। মনে হইতেছিল কুয়াশার ওইপাশে কয়েক শতাব্দী ভেদ কইরা আলোগুলা পৌঁছাইতেছে আমার কাছে। গাড়িগুলার জ্বলন্ত হেডলাইট ছাড়া কিছুই দেখা যায় না, আর হুশ-হাশ শব্দ। পায়ে হাঁটা যে ওভারব্রীজটা আছে রাস্তার উপরে তার অর্ধেক উধাও, এই ব্রীজ পার হইয়া ছোটবেলায় আমরা স্কুলে যাইতাম। ব্রীজের ঠিক মাঝ বরাবরে মাঝেমাঝেই দাঁড়াইয়া দেখতাম নিচের রাস্তা। অবিরাম চলতেছে সবাই, কোনদিকে দেখে না কেউ। এক একটা গাড়ির মধ্যে আলাদা আলাদা জগৎ, সার বাইন্ধা একই রাস্তায়, একই দিকে যাইতেছে কিন্তু কেউ কারো সাথে নাই। তখন হঠাৎ ব্রীজ থিকা ঝাঁপ দিতে ইচ্ছা হইতো, দুঃখ টুঃখ ছাড়াই। ভাবতাম এই যে আমি এখন ব্রীজের উপরে দাঁড়ানো, না থাকলে কী হবে? আমি নিচে পড়লে চলতে থাকা গাড়িগুলার রুটিন কী ভাবে বদলাবে? সেই দিনটা আমার কারণে কতজন মানুষের জন্য অন্যরকম হবে? এইগুলা কী সুইসাইডাল চিন্তা? মনে হয় না।

আমি সাধারণভাবে মনে করি আত্মহত্যা এক ধরনের পরাজয়। একটা রাস্তা চলতে চলতে আর চলতে না পারা। সাহিত্যে বা প্রচার মাধ্যমগুলায় প্রায়ই খুব কাব্যিক ভঙ্গিতে উপস্থাপিত হয় বিষয়টা। এতে কবি কবি ভাবের লোকেরা আগ্রহী হয়। মৃত্যু তো আছেই, সেইটারে আগাইয়া আনার মধ্যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানসিক অপরিপক্কতা, সহনশীলতার অভাব আর স্বার্থপরতাও থাকে।

তারপরেও কারও কারও আত্মহত্যা আলাদা। মনের মধ্যে গভীর ছায়া ফেলে। এদেরকে সাধারণের সাথে ফেলা যায় না। ভার্জিনিয়া উলফের আত্মহত্যা যেমন, আমি তাঁর নিদারুণ যন্ত্রণা টের পাই। তাঁর সুইসাইড নোটে নিজের কোন অতৃপ্তি, না পাওয়ার কথা নাই। যেন কয়েদখানা থিকা মুক্ত হইতেছেন তিনি এবং সাথে মুক্ত করতেছেন লেনর্ডরেও। অসহ্য সময়গুলাতে আমারো যেমন পানির তলায় গিয়া শুইয়া থাকতে ইচ্ছা হয়… Continue reading →

সিনেমা রেপ্রিজেন্টেশন: বোমা-জঙ্গি-মাদ্রাসা-ইসলাম এবং বাংলাদেশ

যোগাযোগ পত্রিকার ১১ নম্বর সংখ্যায় (ডিসেম্বর, ২০১৩) এই লেখাটা প্রথম ছাপা হইছিল। লেখকের অনুমতি নিয়া বাছবিচার-এ আপলোড করা হইলো। 

_______________________

For millennia, man remained what he was for Aristotle: a living animal with the additional capacity for a political existence; modern man is an animal whose politics places his existence as a living being in question. (Foucault 1980: 143)

১.

মহাশয় কার্ল মার্কসের জবানে একটা প্রবাদ জগতময় চালু আছে: ‘ধর্ম মানুষের জন্য আফিমের মতো।’ আর এ অপমানে ধর্মবিশ্বাসীগণ, লড়াইয়ের ইতিহাসজুড়ে, এই প্রবাদ জাবর কাটিয়া, মার্কসকে নরকবাসী করেছেন এবং মার্কসপন্থী সকলকে ‘ঘৃণ্য’ নাস্তিকের কাতারে সামিল করেছেন। অন্যদিকে, মার্কসবাদীগণ – আহা! মহামতি কার্ল মার্কস নিজেকে যদিও মার্কসবাদী ভাবেন নাই কোনো কালে, তবু – তাকে নাস্তিক্যবাদের দেবতা বানাইয়াছেন। অথচ, আলাদাভাবে কোনোদিন কোথাও ঘুণাক্ষরেও তিনি বলেন নাই যে ‘ধর্ম মানুষের জন্য আফিমের মতো।’ জগতে ধর্মের ভূমিকা পর্যালোচনাকলে তিনি বলেছিলেন এই কথাগুলো: ‘ধর্ম হলো নিপীড়িতের দীর্ঘশ্বাস, এই নির্দয় দুনিয়ার হৃদয়, আত্মাহীন পরিস্থিতির আত্মা- ধর্ম মানুষের জন্য আফিমের মতো।’ (মার্কস, ১৮৪৪)[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

সুতরাং, ধর্ম ও আধুনিক রাজনীতির অন্তরঙ্গতা নিয়ে আলাপ তুলবার বিপদ আছে। মার্কস ধর্মকে ‘নিপীড়িতের দীর্ঘশ্বাস’, ‘নির্দয় দুনিয়ার হৃদয়,’ ‘আত্মাহীন পরিস্থিতির আত্মা’ রূপে দেখে যে কাব্যিকতা করেছিলেন, কদর করে তা বুঝবার চেষ্টা কেউ করলো না, বরং খন্ডিতভাবে উদ্ধৃত করে তাকে অনন্ত কলঙ্কের ভাগিদার করে চলেছে। এ লেখার উদ্দেশ্য বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী, ধার্মিক, অধার্মিক, বিধর্মী, কিংবা নাস্তিকের পক্ষে অবস্থান গ্রহণের জন্য নয়; সেকুলারপন্থা বা ধর্মপন্থাকে জগত ও জীবন পরিচালনার সহি রাস্তা হিসেবে সিদ্ধান্ত জারি করতেও এ লেখা নিয়োজিত নয়। বলবো, বহু পন্থা ও -পন্থীদের বৈচিত্র ধারণে সক্ষম সহনশীল সমাজ কায়েমের জন্য মার্জিনে চলতে থাকা লড়াই কেন্দ্রে নিয়ে আসার তৎপরতায় এ লেখা সামিল হতে চায়। তবে, এ লেখায় বিষয়বস্ত্ত অতি নাজুক, স্পর্শকাতর। ফিল্মি-রেপ্রিজেন্টেশনের নিশানা ধরে জঙ্গিপনার রাজনৈতিকতা, জনপরিসরে ধর্ম/ইসলামের উপস্থিতি ও তান্ডবনৃত্য, এবং সর্বোপরি আধুনিকতাগামী রাষ্ট্র ও তার সেকুলারপন্থার সঙ্কট এখানে আলোচনায় আসবে। পারমানবিক বোমাধারী প্রবলের দুনিয়ায় আত্মঘাতী হামলাকারীর লড়াইকৌশল অবশ্যই ন্যায্য- তালাল আসাদের এরূপ আচানক দাবি ও যুক্তিবিন্যাসও এ লেখায় থাকবে। বলপ্রয়োগে রাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠবে- ওয়াল্টার বেঞ্জামিনের যুক্তি ধরে আইনের শাসন জারি রাখবার উপায় হিসেবে রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগের বৈধ্যতা এবং তার বিপরীতে জুলুমবাজ রাষ্ট্রের আইনী কাঠামো বদলে দেবার বা নতুন আইন নির্মাণের উপায় হিসেবে দল বা গোষ্ঠীর বলপ্রয়োগ নীতির ন্যায্যতার বিচার এখানে উঠবে। ফলে, বাংলাদেশের আজকের পরিস্থিতিতে এধরনের আলাপ তুলে লেখক হিসেবে নিজেকে নাজুক টার্গেটে পরিণত করার সমূহ ঝুঁকি রয়েছে। তবু, রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সঙ্কটের স্বরূপ সন্ধান এবং সমাজে সহনশীলতার চর্চা চাইলে স্পর্শকাতর আলাপ তোলাটাও জরুরি কাজ বটে।

  Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →