মুখরা জগৎকুমারীর সনে এক প্রেমিকের ঝগড়াঝাটি
[pullquote][AWD_comments][/pullquote]বাংলা-কবিতা মোর অর লেস নগর-বিরোধী একটা ব্যাপার; যেইসব নাগরিক-কবিতা দেখবেন, ওইখানে এইরকমের ব্যঙ্গ, বিদ্রূপ এবং রিজেকশন যে আপনি বুঝতে পারবেন, বাংলা-ভাষার কবিরা এখনো গ্রামেই থাকেন, গঞ্জে বা মফস্বলেও; আর যাঁরা থাকেন শহরে, শহর জিনিসটা মাইনা নেয়ার মধ্যে নাই তারা; বাংলা কবিদের গাড়িরা গাড়লের মতো কাশে এখনো, অত তাড়াতাড়ি কোথাও যাইতে চান না এই কবিরা। এঁনাদের বিশেষ কোন প্রস্তাব নাই এক্সিস্টিং লাইফস্টাইলের বিপরীতে, খোদ স্পেসটারে ডিনাই করেই বিদ্রোহের তুরীয় মজা পাইতে থাকেন।
সুমন রহমানের কবিতায় এই রিজেকশনের জায়গাটা নাই বা কম; মে বি উনি শহরের থাইকা যাওয়াটারে মাইনা নিয়া মোর অ্যাকোমোডেড করতে পারছেন, ব্রিদিং স্পেইস দিছেন; খালি গ্রাম-বাংলা’র থাকা বা না-থাকা দিয়াই ওনার কবিতারে ভরাট কইরা ফেলেন নাই।
সুমন রহমানের কবিতা নিয়া জাহেদ আহমদ এই আলাপটা করছিলেন দুইহাজার তেরো সালে।ছাপা হইছিল সৈয়দ আফসার সম্পাদিত অর্কিড পত্রিকার সাতনাম্বার সংখ্যায়। লেখকের অনুমতি নিয়া এইখানে আপলোড করা হইলো।
ই.হা., রক মনু
_____________________
‘বন্ধুরা ছাড়া আর কেউ যেন এ গান না শোনে / প্রেমিক-প্রেমিকা ছাড়া কেউ যেন এ গান না শোনে’ — সুমনের গান
শুরুতেই পোস্টস্ক্রিপ্ট। অবশ্য এই জিনিশ রচনার শেষে দেয়াই দস্তুর। তবে যিনি কিনা আদ্যন্ত এ-রচনা পাঠে উদ্যত হয়েছেন, তার পাঠস্পৃহার তারিফ না-করে উপায় নেই, তিনি নিশ্চয় এটুকু ভায়োলেশন মার্জনাসুন্দর দৃষ্টিতেই দেখছেন। স্বীকার করা শুভ হবে যে, এক্ষণে এই পাঠপ্রতিক্রিয়া-প্রণয়নে-রত অল্পবিদ্যাধর পাঠকশর্মাটি কবিতার কখগঘ সম্পর্কে তেমন জানে না কিচ্ছুটি, কিন্তু কবিতা ভালোবাসে এবং নাগাল পেলে পড়ে। কে বলেছে জ্ঞানগরিমা দিয়ে কবিতা ছোঁয়া যায়? কবিতা বিষয়ে কানাকড়ি জ্ঞানগম্যি নাই কিন্তু জগৎ সম্পর্কে নিজস্ব একটা আন্ডার্স্ট্যান্ডিং রয়েছে এমন লোকেরাই কেবল হতে পারত কবিতার সবচে ভালো পাঠক। কবি কোথায় পাবেন তারে, এই জ্ঞানপগারের পারে? মুখ খুললেই ধরা পড়ে লোকগুলো কী বুকিশ! থাক সেসব, পোস্টস্ক্রিপ্ট প্রকাশ করি এবে : এই রচনা পড়ার আগে, এটি পড়ে সময় নষ্ট না-করে বরং, পড়ে ফেলুন সুমন রহমানের কবিতাবই সিরামিকের নিজস্ব ঝগড়া ; বা তার পূর্বজন্মের ঝিঁঝিট, সুলভ নয় যদিও, পড়ে ফেলুন অনতিবিলম্বে। কেননা আপনি জানেন, কবিতা পড়ার জিনিশ, আলোচনায় কবিতার বিশেষ রসবৃদ্ধি হয় না বরং উল্টোটি। প্রেম যেমন করার জিনিশ, পর্যালোচনার নয়, কবিতা তেমনি পড়ার। হা হতোস্মি! এই দেশে লোকে প্রেমে পড়ে এবং কবিতা করে !! স্মর্তব্য মহীনের ঘোড়াগুলি সম্পাদিত জনপ্রিয় বাংলা গানটি, ওই যে, ‘আমি বড় রাস্তায় দাঁড়ায়ে কবিতা করি, আঁকিবুকি করি…’। Continue reading