আবুল হাসানের কয়েকটা জনপ্রিয় কবিতা
বাংলাদেশের কবিতার ইতিহাসে খ্রিষ্টীয় গত শতকের সেভেনটিইসে যাঁরা কবিতা লিখছেন, অ্যাজ অ্যা টেনডেন্সি তাদের কবিতা সমাজ-রাজনীতির নিচে চাপা পইড়া গেছে বইলা অভিযোগ আছে। অবশ্য সমাজ-রাজনীতি ত প্রায় সবসময়ই আছে কবিতার ভিত্রে, কিন্তু সমাজ-রাজনীতি যেইভাবে চেইঞ্জ হইছে, কবিতাগুলা যেহেতু লেখা হয়া গেছে চেইঞ্জ আর হইতে পারে নাই – এইরকমের একটা ঘটনা ঘটছে। ব্যাড লাক অবশ্যই!
তবে উনাদের মধ্যে মইরা গিয়া অনেকটাই বাঁইচা আছেন কবি আবুল হাসান। উনি লাকি; কম-বয়স উনার কবিতারে অনেকদিক দিয়াই সেভ কইরা গেছে; পঁচিশ বছর বয়সে এইরকম কবিতাই ত লেখার কথা! আনফরচুনেটলি নির্মলেন্দু গুণ’রে ঊনসত্তর বছর বয়সে এখনো একইরকমের কাজ কইরা যাইতে হইতেছে। মানে, মরার আগ পর্যন্ত উনারা পঁচিশেই থাকবেন, অথবা সত্যিকার অর্থে পঁচিশ বছর বয়সেই উনাদের ক্রিয়েটিভ মৃত্যু সম্ভব হইছে।
মিড এইটিইসে আবৃত্তিচর্চার পেশায় কাঁচামাল হিসাবে অন্যান্য কবিদের পাশাপাশি আবুল হাসানের কবিতার ব্যবহারও সম্ভব হয়; যেই কারণে সাহিত্যসমাজের বাইরে কলেজ-ভার্সিটি’তে পড়া শিক্ষিত সমাজে উনার একটা পরিচিতি তৈরি হয়, কিছু কবিতা সেই পারসপেক্টিভে জনপ্রিয় হয়।
এমনিতে উনার কবিতা ইনটেন্স, গভীর আবেগের মামলা; ইথিক্যালি প্রগতিশীল মধ্যবিত্তের কালচারাল মেনিফেস্টো এবং এসথেটিক্যালি ছিল বা আছে এক ধরণের আউটস্পোকেননেস-এর চর্চা হিসাবে, যেইটা রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং তসলিমা নাসরীন হইয়া আর্লি এইটিইস পর্যন্ত কনটিনিউ হইছে। এরপরে বাংলাকবিতা যে কম-কথা-বলা এবং জীবনের-গূঢ়-রহস্য-আবিষ্কারে নামলো সেইটা এই টেনডেন্সির অ্যাবাউট টার্ন হিসাবেও দেখা যাইতে পারে। উনার ইনটেন্সিটির চর্চা এখনো এক ধরণের পুনরাবিষ্কৃত হওয়ার সম্ভাবনার মধ্যেই আছে।
এইরকম জায়গায় দাঁড়াইয়া, বাংলা-কবিতার একটা প্রবণতা হিসাবে আবুল হাসানের কবিতা আবার পড়ার রিকোয়েস্ট ত করা যাইতেই পারে।
ই. হা.
______________________________________________
আবুল হাসান ।। চামেলী হাতে নিম্নমানের মানুষ ।। জন্ম মৃত্যু জীবনযাপন ।। উচ্চারণগুলি শোকের ।। অসভ্য দর্শন ।। মিসট্রেসঃ ফ্রি স্কুল স্ট্রীট ।। উদিত দুঃখের দেশ ।। নিঃসঙ্গতা ।। গোলাপের নীচে নিহত হে কবি কিশোর ।। যুগলসন্ধি ।। বিচ্ছেদ ।। ঝিনুক নীরবে সহো ।। এপিটাফ ।। তোমার মৃত্যুর জন্য ।। জ্যোস্নায় তুমি কথা বলছো না কেন ।। অপরিচিতি ।।
______________________________________________
আবুল হাসান
সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে, উজ্জ্বলতা ধরে আর্দ্র,
মায়াবী করুণ
এটা সেই পাথরের নাম নাকি? এটা তাই?
এটা কি পাথর নাকি কোনো নদী? উপগ্রহ? কোনো রাজা?
পৃথিবীর তিনভাগ জলের সমান কারো কান্না ভেজা চোখ?
মহাকাশে ছড়ানো ছয়টি তারা? তীব্র তীক্ষ্ম তমোহর
কী অর্থ বহন করে এই সব মিলিত অক্ষর?
আমি বহুদিন একা একা প্রশ্ন করে দেখেছি নিজেকে,
যারা খুব হৃদয়ের কাছাকাছি থাকে, যারা এঘরে ওঘরে যায়
সময়ের সাহসী সন্তান যারা সভ্যতার সুন্দর প্রহরী
তারা কেউ কেউ বলেছে আমাকে –
এটা তোর জন্মদাতা জনকের জীবনের রুগ্ন রূপান্তর,
একটি নামের মধ্যে নিজেরি বিস্তার ধরে রাখা,
তুই যার অনিচ্ছুক দাস!
হয়তো যুদ্ধের নাম, জ্যোৎস্নায় দুরন্ত চাঁদে ছুঁয়ে যাওয়া,
নীল দীর্ঘশ্বাস কোনো মানুষের!
সত্যিই কি মানুষের?
তবে কি সে মানুষের সাথে সম্পর্কিত চিল, কোনোদিন
ভালোবেসেছিল সেও যুবতীর বামহাতে পাঁচটি আঙ্গুল?
ভালোবেসেছিল ফুল, মোমবাতি, শিরস্ত্রাণ, আলোর ইশকুল?