Main menu

তর্ক: চমস্কি এবং ফুকো (পার্ট ওয়ান)

This entry is part 1 of 5 in the series তর্ক: চমস্কি এবং ফুকো

মিশেল ফুকো এবং নোম চমস্কি’র মধ্যে এক ঘণ্টা দশ মিনিটের এই আলাপটা ডাচ টেলিভিশন চ্যানেলে দেখানো হয় ইংরেজী ১৯৭১ সনে। বাংলায় এই টেক্সটটা অনূদিত হওয়ার পর বই আকারে প্রকাশিত হয় ফেব্রুয়ারি ২০০৬ সালে। ছাপাইছিল রোদ প্রকাশনী, রাজশাহী থিকা। অনুবাদকের অনুমতি নিয়া সেই তর্কের বাংলা-অনুবাদ বাছবিচারে কয়েকটা পর্বে আপলোডিত হবে।

১৯৭১ নাগাদ ভাষাতত্ত্বে চমস্কি’র গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলা প্রকাশিত হইছে এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের এগেনেইস্টে অ্যাক্টিভিজমের কারণে উনি আম্রিকার বুদ্ধিজীবিতার জগতে পরিচিত ফিগার তখন আর ফুকো’র ক্ষমতা-কেন্দ্রিক বিশ্লেষণগুলা উনারে তত্ত্বজগতে প্রায় আন-কোশ্চেনেবল একটা অবস্থানে নিয়া গেছে এবং ১৯৬৮’র মুভমেন্টে পাবলিক প্রেজেন্স উনারে এক ধরণের রাজনৈতিক মর্যাদাও দিছিলো। মানে, যখন তর্ক করতে বসছিলেন, তখন উনারা উনাদের ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত দশায় ছিলেন। এইটা ছাড়া উনাদের মধ্যে আর কোন কনর্ভাসেশনও প্রচারিত হয় নাই; যার ফলে, একমাত্র।

মূল টেক্সটের ব্যাকগ্রাউন্ড হিসাবে নোম চমস্কি এবং মিশেল ফুকো’র কাজ সম্পর্কে একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছেন বাংলা অনুবাদক; সেইখান থেকে চমস্কি’র অংশটা এই পোস্টে দেয়া হইলো।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

তো, এই চমস্কি-পরিচয় এর সাথে চমস্কি-বিচার নিয়াও কয়েকটা কথা প্রচার করা যাইতে পারে।

জনসমাজে নোম চমস্কি মেইনলি দুইটা কারণেই পরিচিত – ভাষা-বিজ্ঞানী এবং পলিটিক্যাল অ্যাক্টিভিস্ট। ভাষার গঠনের একটা পদ্ধতি হিসাবে সিক্সটিইজে জেনারেটিভ গ্রামারের ধারণা উনার অন্যতম আবিষ্কার; যদিও উনি কইছেন যে এইটা নতুন কিছু না, আধুনিক সেন্সে পাণিনি’র (খ্রীষ্টপূর্ব চতুর্থ শতক) সংস্কৃত ব্যাকরণেই এইটা প্রথম দেখা যায়। (পাণিনি আস্তিতদায়া’তে ৩৯৫৯টা সূত্র দিয়া ভাষার গঠনরে ব্যাখ্যা করেন।) এই জেনারেটিভ গ্রামার’রে নাইনটিসে উনি এক্সটেন্ড করছেন মিনিমালিস্ট প্রোগ্রামে, যেইটা একটা ধারণাগত কাঠামো, ব্যাকরণ তত্ত্বরে আরো গাণিতিকভাবে ব্যাখ্যা করার। সকল ভাষার পাটাতন এক – এইকথারে তিনি তাত্ত্বিকভাবে মোর বিশ্বাসযোগ্য কইরা তোলছেন। ভাষারে এইভাবে কয়েকটা সূত্র দিয়া ব্যাখ্যা করতে পারার সক্ষমতা একদিয়া ভাষারে অল্টারনেটিভগুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ করার সম্ভাবনার মধ্যেও থাকার কথা এবং একস্ট্রিম পর্যায়ে একটামাত্র বৈশ্বিক ভাষা’র কল্পনাতে গিয়া ঠেকতে পারে। কারণ ব্যাপারটা কখনোই একতরফা না; যে, নিয়ম আবিষ্কৃত হইতেছে; বরং ঘটনাগুলা নিয়মের লিমিটগুলা দিয়া কনফাইন্ড হওয়ার মধ্যেও থাকে। এনলাইটমেন্টের ধারণা যেইভাবে ইউরোপরে দায়িত্ব দিছিলো দুনিয়ার অনান্য মানুষদেরকে মানুষ বানানোর, একটা জাস্টিফিকেশন দিছিলো উপনিবেশের; বৈশ্বিক ব্যাকরণের অনুমানও একইভাবে ভাষা-সক্ষমতারেই মানুষ ভাবার পারমিশন দেয়, এক্সক্লুশনরেই জারি রাখে একভাবে।   Continue reading

সাহিত্যে রিয়ালিজম নিয়া রবীন্দ্রনাথ ও জগদীশ গুপ্ত

বাংলাসন ১৩৩৪-এ শ্রীজগদীশচন্দ্র গুপ্তের গল্পের বই  ‘বিনোদিনী’ ছাপা হইলে শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রংশসা করছিলেন  “ছোটগল্পের বিশেষ রূপ ও রস তোমার লেখায় পরিস্ফুট দেখিয়া সুখী হইলাম” বইলা। এর পরে জগদীশ গুপ্ত ১৩৩৮-এ ছাপা হওয়া তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘লঘু-গুরু’র এক কপি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুররে পাঠান। বই পইড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এইটা নিয়া পরিচয় পত্রিকায় লিখেন। জগদীশ গুপ্তের উপন্যাসরে ভিত্তি কইরা তিনি সাহিত্যে অতি-রোমাণ্টিসজমের বিপরীতে অতি-রিয়ালিজমের সমালোচনা করেন। বাস্তবতা কী এবং কতোটা সাহিত্যে অ্যাকোমোডেড করা উচিত, এই বিষয়ে উনার মতামত দেন। জগদীশ গুপ্তও এই সমালোচনার একটা উত্তর করেন এর পরের বছর, তাঁর ‘উদয়-লেখা’ গল্প-সংকলনের (বাংলা ১৩৩৯) ভূমিকায়। উনারা দুইজনেই রিয়ালিজম/রিয়ালিস্টিক শব্দটাই লেখেন, কারণ সম্ভবত তখনো ইংরেজী ১৯৫২ সন আইসা হাজির হইতে পারে নাই।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

রবীন্দ্রনাথের মূল জিজ্ঞাসা, যা সমাজে নাই, তা কেন সাহিত্যে থাকবে? জগদীশ গুপ্তের কাল্পনিক সমাজরে (যথা, পিটাইয়া বউ মারা, বেশ্যারে বিয়া করা এবং তারে  সোশ্যাল-উইমেন  হিসাবে হাজির করা, ইত্যাদি) তিনি বাস্তবতা মানতে রাজি না। এইটারে ‘বিদেশ’ বইলা তিনি সন্দেহ করছেন। সাহিত্য-বিচার বাদ দিলেও অর্থনৈতিক দিক দিয়া রবীন্দ্রনাথের এবং জগদীশ গুপ্তের শ্রেণী-বাস্তবতা একই হওয়ার কথা না; কিন্তু এই গ্যাপটারে ‘বিদেশ’ পর্যন্ত এক্সটেন্ড করতে পারাটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যিক কৃতিত্ব-ই না, সামাজিক অপমানের  জিনিস বইলা পড়াটাই  মোর রিলিভেন্ট আসলে।

বিষয় সেইটা না। সাহিত্যে লেখকের ব্যক্তি-অভিজ্ঞতা জড়িতই থাকার কথা, কিন্তু এইক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাবি আসলে এনজিও-সাহিত্যের; যে, সমাজে (লেখকের ব্যক্তি-অভিজ্ঞতার বাউন্ডারিতে) যা যা ঘটতেছে তার বর্ণনা-সম্ভাব্যতার ট্রুথের ভিতরেই সাহিত্যরে অপারেট করতে হবে। এইটারে সাহিত্যের রিয়ালিজম হিসাবে নিলে যেকোন নতুন সাহিত্যিক বাস্তবতারেই অতি-রিয়ালিজম হিসাবে দেখাটা সম্ভব।

সমাজ-বাস্তবতা দিয়া সাহিত্য হয় না, বরং সাহিত্যিক কল্পনা দিয়াই সমাজে এক ধরণের বাস্তবতা উৎপাদিত হইতে থাকে। এইভাবে দেখলে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রিয়ালিজমের দাবি আসলে সাহিত্যিক পুনরুৎপাদনের; সমাজ-বাস্তবতা হইলো তা-ই, সাহিত্য তারে যতোটা নিতে পারে! এই কারণে দেখবেন রবীন্দ্র-উপজাত বাংলাসাহিত্যে পশ্চাতদেশে বায়ুনির্গমনেই রিয়ালিটি পয়দা হয়; পাদ দেয়া এখনো পর্যন্ত অতি-রিয়ালিজমই হইয়া আছে।

অন্যদিকে জগদীশ গুপ্ত, যেহেতু রিয়েলি রিয়ালিজম নিয়া তটস্থ; মিনতি করলেন – সাহিত্যের রিয়ালিটি দিয়া সমালোচক রবীন্দ্রনাথ  যাতে জীবনের রিয়ালিটিরে উৎখাত না করেন!

– ই.. হা.। Continue reading

বাঙ্গালা ভাষা ।। লিখিবার ভাষা* – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় [১৮৬৪]

This entry is part 1 of 22 in the series লেখার ভাষা

[pullquote][AWD_comments][/pullquote] বাংলায় ইন্টেলেকচুয়াল লেখালেখি করাটা আপনি শুরু করতে পারেন বঙ্কিমকে গালাগালি দিয়া; খুবই নিরাপদ এইটা। এই ব্যাপারে একমত মানুষ আপনি মোসলমান বাঙালিদের মধ্যে পাইবেন প্রচুর, সেক্যুলার হিন্দু বাঙালির মধ্যে পাইবেন, সেক্যুলার মোসলমান বাঙালির মধ্যে পাইবেন, খ্রীস্টান বাঙালির মধ্যে পাইবেন; এমনকি কট্টর হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের মাঝেও পাইবেন—বঙ্গের (পশ্চিমবঙ্গরে খালি ‘বঙ্গ’ বললাম, পূবদিকের এইটা তো এখন ‘বাংলা’) মোসলমানদের কাছে বিজেপি ভোট চাইতে যাইয়া বঙ্কিমনিন্দা দিয়া নিজের হিন্দুত্ব কিছুটা ঢাকতে পারবেন আশা করা যায়। সাম্প্রদায়িক, কট্টর হিন্দু হিসাবে বঙ্কিমনিন্দা অলরেডি জাস্টিফাইড। এর প্রধান সুবিধা হইলো বঙ্কিম পড়ার প্রয়োজন কমে; বাংলা, বঙ্গ, অবাংলা ও অবঙ্গ—সব মিলে বাকি যে হিউজ সংখ্যায় সাহিত্য ডোবা আছে তার সবগুলিতে সারা জীবনে নাইয়া উঠতে পারার সম্ভাবনা বাড়ে।

যেমন ধরেন, কয়দিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক মদ্দা মোসলমান বাঙালি মাস্টারের একটা ফেসবুক কমেন্ট দেখলাম, তিনি কইছেন—আলালের ঘরের দুলাল বঙ্কিম লাইক করেন নাই। তাঁর লগে তর্ক করছিলেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এক মদ্দা খ্রীস্টান বাঙালি কবি এবং উত্তর আমেরিকায় একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাতত্ত্বের মাস্টার আরেক মদ্দা মোসলমান বাঙালি; এঁনারা ডিসকাস করছিলেন আরেক বাংলার মাস্টারের সাথে, ইনিও মদ্দা মোসলমান বাঙালি—বিসিএস দিয়া সরকারি কলেজের মাস্টার হইছেন। আরো কয়জন কবি-লেখক আছিলেন আলোচনায়। ঢাবি’র মাস্টারের ক্লেইমে কোন আপত্তি উঠলো না। গুড।

কিন্তু আমার মতো যে কয়জন আছেন, কয়টা সাহিত্য ডোবায় নাইতে পারলাম সেইটা নিয়া অত স্যাড নই, ইভেন পানিতেও কম কম নাইয়া থাকি এবং সিগারেট টানতে টানতে নিজেদের দীর্ঘ আয়ু কেমনে স্পেন্ড করবো সেইটা নিয়া বাজেট করতে হিমশিম খাইতেছি, আয়ু খরচ করার ভালো ভালো মার্কেট সার্চেও প্লেজার পাইয়া থাকি, চলেন আমরা আকাম হিসাবে আলালের ঘরের দুলাল নিয়া বঙ্কিমের কয়টা বাক্য পড়ি:

“এইরূপ সংস্কৃতপ্রিয়তা এবং সংস্কৃতানুকারিতা হেতু বাঙ্গালা সাহিত্য অত্যন্ত নীরস, শ্রীহীন, দুর্ব্বল, এবং বাঙ্গালা সমাজে অপরিচিত হইয়া রহিল। টেকচাঁদ ঠাকুর প্রথমে এই বিষবৃক্ষের মূলে কুঠারাঘাত করিলেন। তিনি ইংরেজিতে সুশিক্ষিত। ইংরেজিতে প্রচলিত ভাষার মহিমা দেখিয়াছিলেন এবং বুঝিয়াছিলেন। তিনি ভাবিলেন, বাঙ্গালার প্রচলিত ভাষাতেই বা কেন গদ্যগ্রন্থ রচিত হইবে না? যে ভাষায় সকলে কথোপকথন করে, তিনি সেই ভাষায় “আলালের ঘরের দুলাল” প্রণয়ন করিলেন। সেই দিন হইতে বাঙ্গালা ভাষার শ্রীবৃদ্ধি। সেই দিন হইতে শুষ্ক তরুর মূলে জীবনবারি নিষিক্ত হইল।”/বঙ্কিমচন্দ্র

পড়লেন, ঠিক আছে; কিন্তু চলেন আমরা ওই মাস্টারদের সাথে একমত হই; ফ্যাসাদ কইরা কী লাভ? ওনাদের আয়ুর বাজেটিং-এ কোন নড়চড়ে বাধ্য করাটা নিষ্ঠুরতা হবে। ওই কয়টা বাক্যে বঙ্কিমের কয়েকটা অবজার্ভেশন দিয়া কতগুলি এক্সিস্টিং ক্লেইমকে সমস্যায় ফেলা ঠিক হবে না। যেমন ধরেন,

  • ‘সংস্কৃতপ্রিয়তা এবং সংস্কৃতানুকারিতা’র প্রতি বঙ্কিম ডিনায়্যালের ঘোষণা,
  • আলালের ঘরের দুলালকে বাংলা সাহিত্যের মাইলস্টোন হিসাবে বঙ্কিমের আইডেন্টিফাই করাটা,
  • মানুষের কথোপকথনের ভাষায় প্রথম লেখা হিসাবে আলালের ঘরের দুলালকে দেখা এবং সেইটাকে প্রেইজ করা,
  • বাংলা সাহিত্য লাইভ করে তুলতে কথোপকথনের ভাষায় লেখার দরকারটা দেখানো।

এইসব দাবি তোলা নিশ্চই ঠিক হবে না; কেননা তরুণ, মাঝবয়সী, বৃদ্ধ অনেকেই কৃতিত্বগুলি বাটোয়ারা করে নিয়া করে খাচ্ছে; এই বাটোয়ারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করাটা আরেকটা নিষ্ঠুরতা হবে আসলে।

বাংলা থেকে আরবি-ফার্সি শব্দের উচ্ছেদের প্রধান নেতা হিসাবে বঙ্কিমকে চিহ্নিত করে আরেক দল ভাষা এবং সাম্প্রদায়িকতার ইতিহাস লিখে বড়ো বড়ো কুতুব হইয়া আছেন। বঙ্কিমের কয়েকটা বাক্য পড়ে ওনাদের সেই ইতিহাসের বঙ্কিমনিন্দা আরেকবার সত্যায়িত করে দেওয়া উচিত হবে আমাদের:

“বলিবার কথাগুলি পরিস্ফুট করিয়া বলিতে হইবে—যতটুকু বলিবার আছে, সবটুকু বলিবে—তজ্জন্য ইংরেজি ফার্সি, আর্‌বি, সংস্কৃত, গ্রাম্য, বন্য, যে ভাষার শব্দ প্রয়োজন, তাহা গ্রহণ করিবে, অশ্লীল ভিন্ন কাহাকেও ছাড়িবে না।”/বঙ্কিমচন্দ্র

কিন্তু তবু, আপনারা চাইলে বঙ্কিমচন্দ্রের একটা লেখার পুরাটাও পড়তে পারেন।।–রক মনু  Continue reading

‘চিরদিন পুষলাম এক অচিন পাখি’

সাগুফতা শারমীন তানিয়া আর আমি অনেকদিন ধইরা ভাবতেছি একসাথে একটা বই লিখবো। কিন্তু আমার আইলসামির চোটে লেখা হইতেছিল না। এখনো যে খুব কর্মঠ হইয়া গেছি হঠাৎ, তা অবশ্য না। তবু শেষ পর্যন্ত বইটা জন্মগ্রহণ করতেছে। বইয়ের নাম ‘আনবাড়ি’। নামটা তানিয়ার দেয়া। শুনলেই ওই গানটা মনে আসে – ‘আমার বধুয়া আনবাড়ি যায় আমারি আঙ্গিনা দিয়া…’। 

অবশ্য নামকরণের পিছনে বধুয়া সংক্রান্ত দুঃখবোধ তেমন জরুরি বিষয় না। আনবাড়িই বিষয় – মানে অন্য বাড়ি, অথবা যা নিজের বাড়ি না। আমি আর তানিয়া দুইজনেই বিদেশ থাকি আর প্রথম প্রজন্মের প্রবাসীদের মধ্যে একরকম ঝুলন্ত ভাব থাকে। কোথাও ঠিক মতন মিশ খাওয়া যায় না। আমরা আসলে যেইখানে থাকি সেইখানে কখনোই পুরাপুরি থাকতে পারি না। এই বইয়ের চরিত্রেরাও আমাদের মতনই পরবাসী, তাই প্রাথমিকভাবে এই বইয়ের নামকরণের সার্থকতা এইখানেও খুঁইজা পাওয়া যাইতে পারে। তবে মূলত একটা বিচ্ছিন্নতাবোধের কথাই বলতে চাইছি এই গল্পে। হয়তো সবারই এইরকম লাগে কোন না কোন সময়ে, স্বদেশ বা বিদেশ ব্যপার না।

বইটায় আমার লেখা একটা অংশ দিলাম এইখানে। আশা করা যাইতেছে ‘শুদ্ধস্বর’ থেকে ২০১৪ এর বইমেলাতে প্রকাশিত হবে।

– লুনা রুশদী। মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া।

_____________________________________________

 

চোখ পর্যন্ত পৌঁছায় না তোমার হাসি…

আর কি যেন বলছিল? একটুখানি চোখ খুলেই বন্ধ করে ফেললাম। আমি তো ঘুমাচ্ছি। নাকি? স্বপ্ন, হ্যাঁ তাই হবে। বাকি কথাটা শোনা হলোনাতো। এরকমই আমি, অর্ধেক মানুষ। আজকাল একটা বইও পড়ে শেষ করি না…আধাআধি গল্পগুলো ঘুরপাক খায় মাথার ভেতর, মেঘের মতোন। নাকি গাভী? কি যেন কবিতাটা ছিল না? ‘কোথায় যেন বাজছে বেনু, মেঘের মতন চড়ছে ধেনু…’  ধুত্তোরি! এটা তো আমি বানালাম। ওইটা মনে হয় শক্তির কবিতা, কেমন দুঃখী দুঃখী, শান্ত কুয়াশা মোড়ানো… ‘যেখানে মেঘ…যেখানে মেঘ…’।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

এদের কি কোনদিন চিল্লাচিল্লি থামবে না? কি হয়েছে মানুষের আজকাল? প্রচন্ড শব্দে ফেটে না পড়লে বুঝি নিজের অস্তিত্ব জানান দেয়া যায় না? যত জোরে তুমি চিৎকার করবে, ততটাই বেঁচে আছ! ল্যাপটপটা অন করেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। এখন অন্ধকার ঘরে মনিটরের নীল আলো  কেমন অতিপ্রাকৃত মনে হয়। এখানে সেখানে জমাট বাঁধা অন্ধকার। ওই কোনার দিকে বড় চারকোনা অন্ধকারটা আমার স্যুটকেস। ডালা খুলে পড়ে আছে দুইদিন ধরে। ভিতরে কাপড়-চোপড়, বই, চিরুণী, ক্যামেরা, ভাংতি পয়সা সব মিলেমিশে সরগরম অবস্থা। আমার কিছুই গোছাতে ইচ্ছা করে না, খালি ঘুমাই আমি, আর মাঝে মাঝে জাগি।

বাথরুমের ট্যাপটা থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ছে। শুনতে পাই। বাইরে কেউ একজন কন্ঠনালীর সীমার বাইরে গিয়ে চিৎকার করলো মনে হয়। কিম্ভুত এক শব্দে বাতাস ভারী হয়ে গেল – কে বলবে এই শব্দ মানুষের কন্ঠ নিঃসৃত? কেউ কোথাও কোন আলাপ করছে না, হাসছে না, এমনকি গানও শুনছে না। শুধু ওই প্রাচীন কোন প্রাণীর আর্তনাদের মতন চিৎকারের সাথে মিশে যাচ্ছে রাস্তায় গাড়ি চলাচলের হুশ হুশ শব্দ। শনিবার রাতে বেড়িয়েছে মানুষ। কেউ না কেউ সবসময়েই কোথাও না কোথাও যাচ্ছে। Continue reading

Kachhimgala by Kajal Shaahnewaz

The Bengali short-story Kachhimgala written in 1989 AD has become a myth before even completing a quarter century. Such myths are available in Bengali literature – this book of short-stories/poems is exceptionally ‘Good’, but not available in the bookstores!  For this creative success of the publishers of Bengali Literature, we got the extended possibility to identify any rare work as ‘Good’. If we see the things in this way, circulating both English and Bangla versions of Kachhimgala is a mere try to put the myth into some challenges. But myths don’t die; we can only change the meaning. Pushing the myth of Kachhimgala, we can only create some different kind of possibilities of meaning. We welcome you to enter the myth of Kachhimgala and reinvent it.

___________________________________

Translated by: Ehsan Kabir Shoybal

___________________________________

Someday I came to know the tortoise, very familiar to me, lives for three centuries. It just stole my dream away and I lost my taste in food. I keep on thinking all day long – about what I don’t know. The only thing I know is that I’ve to contemplate more and more. [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

My wife always says, I’m aloof, which makes me laugh. My laughter is very humble in its way since my childhood. This type of people become very submissive to their wife. However, my wife doesn’t know much of this. She dreams of me while lying by me at night. She sometimes wails in fear, as she sees me being stabbed in her dream. She has a nightmare that I’m chopped into pieces and thrown into the water being stuffed in a bag. Sometimes she dreams of my swollen up body entangled with someone after a launch capsize. Then suddenly jumping up on the bed she asks, “who’s she you were dying with?” She assumes I always peep inside her. My eyes devour my wife, her naked arms out of the sleeveless blouse. She never feels exhausted. Always keeps on hurling questions without seeking for answer.

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →