তর্ক: চমস্কি এবং ফুকো (পার্ট ওয়ান)
মিশেল ফুকো এবং নোম চমস্কি’র মধ্যে এক ঘণ্টা দশ মিনিটের এই আলাপটা ডাচ টেলিভিশন চ্যানেলে দেখানো হয় ইংরেজী ১৯৭১ সনে। বাংলায় এই টেক্সটটা অনূদিত হওয়ার পর বই আকারে প্রকাশিত হয় ফেব্রুয়ারি ২০০৬ সালে। ছাপাইছিল রোদ প্রকাশনী, রাজশাহী থিকা। অনুবাদকের অনুমতি নিয়া সেই তর্কের বাংলা-অনুবাদ বাছবিচারে কয়েকটা পর্বে আপলোডিত হবে।
১৯৭১ নাগাদ ভাষাতত্ত্বে চমস্কি’র গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলা প্রকাশিত হইছে এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের এগেনেইস্টে অ্যাক্টিভিজমের কারণে উনি আম্রিকার বুদ্ধিজীবিতার জগতে পরিচিত ফিগার তখন আর ফুকো’র ক্ষমতা-কেন্দ্রিক বিশ্লেষণগুলা উনারে তত্ত্বজগতে প্রায় আন-কোশ্চেনেবল একটা অবস্থানে নিয়া গেছে এবং ১৯৬৮’র মুভমেন্টে পাবলিক প্রেজেন্স উনারে এক ধরণের রাজনৈতিক মর্যাদাও দিছিলো। মানে, যখন তর্ক করতে বসছিলেন, তখন উনারা উনাদের ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত দশায় ছিলেন। এইটা ছাড়া উনাদের মধ্যে আর কোন কনর্ভাসেশনও প্রচারিত হয় নাই; যার ফলে, একমাত্র।
মূল টেক্সটের ব্যাকগ্রাউন্ড হিসাবে নোম চমস্কি এবং মিশেল ফুকো’র কাজ সম্পর্কে একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছেন বাংলা অনুবাদক; সেইখান থেকে চমস্কি’র অংশটা এই পোস্টে দেয়া হইলো।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]
তো, এই চমস্কি-পরিচয় এর সাথে চমস্কি-বিচার নিয়াও কয়েকটা কথা প্রচার করা যাইতে পারে।
জনসমাজে নোম চমস্কি মেইনলি দুইটা কারণেই পরিচিত – ভাষা-বিজ্ঞানী এবং পলিটিক্যাল অ্যাক্টিভিস্ট। ভাষার গঠনের একটা পদ্ধতি হিসাবে সিক্সটিইজে জেনারেটিভ গ্রামারের ধারণা উনার অন্যতম আবিষ্কার; যদিও উনি কইছেন যে এইটা নতুন কিছু না, আধুনিক সেন্সে পাণিনি’র (খ্রীষ্টপূর্ব চতুর্থ শতক) সংস্কৃত ব্যাকরণেই এইটা প্রথম দেখা যায়। (পাণিনি আস্তিতদায়া’তে ৩৯৫৯টা সূত্র দিয়া ভাষার গঠনরে ব্যাখ্যা করেন।) এই জেনারেটিভ গ্রামার’রে নাইনটিসে উনি এক্সটেন্ড করছেন মিনিমালিস্ট প্রোগ্রামে, যেইটা একটা ধারণাগত কাঠামো, ব্যাকরণ তত্ত্বরে আরো গাণিতিকভাবে ব্যাখ্যা করার। সকল ভাষার পাটাতন এক – এইকথারে তিনি তাত্ত্বিকভাবে মোর বিশ্বাসযোগ্য কইরা তোলছেন। ভাষারে এইভাবে কয়েকটা সূত্র দিয়া ব্যাখ্যা করতে পারার সক্ষমতা একদিয়া ভাষারে অল্টারনেটিভগুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ করার সম্ভাবনার মধ্যেও থাকার কথা এবং একস্ট্রিম পর্যায়ে একটামাত্র বৈশ্বিক ভাষা’র কল্পনাতে গিয়া ঠেকতে পারে। কারণ ব্যাপারটা কখনোই একতরফা না; যে, নিয়ম আবিষ্কৃত হইতেছে; বরং ঘটনাগুলা নিয়মের লিমিটগুলা দিয়া কনফাইন্ড হওয়ার মধ্যেও থাকে। এনলাইটমেন্টের ধারণা যেইভাবে ইউরোপরে দায়িত্ব দিছিলো দুনিয়ার অনান্য মানুষদেরকে মানুষ বানানোর, একটা জাস্টিফিকেশন দিছিলো উপনিবেশের; বৈশ্বিক ব্যাকরণের অনুমানও একইভাবে ভাষা-সক্ষমতারেই মানুষ ভাবার পারমিশন দেয়, এক্সক্লুশনরেই জারি রাখে একভাবে। Continue reading