অন হুমায়ূন নন্যাকাডেমিক
বিষয় যা-ই হোক, জাহেদ আহমদ-এর গদ্যে তাঁর শব্দগুলা একে অন্যের সাথে যেই রকমের ঝগড়া-লিপ্ত অবস্থায় থাকে সেইটা এখন পর্যন্ত সবচে র ফরম্যাটে ভাবনারে হাজির রাখার একটা পদ্ধতি হিসাবে ভাবা যাইতে পারে; একইভাবে শব্দগুলা তাদের সাহিত্যিক উত্তরাধিকারের সাথে প্রণয়-সুলভ বন্ধুত্বের ভিতর দিয়া এক ধরণের ডিপার্চারের দিকে আগুয়ান অবস্থায় আছে বইলাই মনে হয়। মানে, শব্দ-ভাষা-ভাবনার ধাঁধা’রে গ্লোরিফাই করার একটা চেষ্টার চাইতে প্রক্রিয়াটারে মোর স্পষ্ট করার চিহ্ন হিসাবেই তাঁর গদ্যরে পড়ার প্রস্তাব করা যাইতে পারে। – ইমরুল হাসান।
_____________________________________________
তিনি ছিলেন সত্যিকার অর্থেই আমাদের কৈশোরের ম্যাজিশিয়ান। কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ দেহ রাখলেন ১৯ জুলাই ২০১২ খ্রিস্টাব্দে। ষাটোর্ধ্ব বয়সে তাঁর এই প্রস্থানদৃশ্য, কোথাও যেন তবু খুব হাহাকারের মতো, ‘বড় বেদনার মতো’ চোখে ভেসে এল নওল পাঠক হিশেবে সেই দিনগুলোতে একাদিক্রমে হুমায়ূনপ্রণীত কাহিনি পাঠকালীন আমাদের ঝাপসা-প্রায় স্মৃতি। কিংবা ঝাপসাও নয় ঠিক, জ্বলজ্বলে, হীরেদ্যুতিকীর্ণ। ছোট্ট করে বলে রাখি এখানে যে, আর-দশপনেরো জনপ্রিয় পথুয়া সাহিত্যিকের সঙ্গে হুমায়ূনের তফাৎ ও তাৎপর্য স্পষ্ট ছিল সবসময়। সেই স্পষ্ট তফাৎ ও তাৎপর্যটুকু তো অবগুণ্ঠিত, অগোচরে রয়ে গেল আমাদের আজও। কোনো সমালোচক, কোনো আলোচনাশাসক, আজোবধি এই দিকটাতে দৃষ্টি দিলেন না। তারা তা দেবেন বলেও ভরসা পাই না। তাঁর কোনো সমালোচক ছিলও না প্রকৃত প্রস্তাবে, ছিল একঢল স্তাবক ও নিন্দুক শুধু। তিনি নিজেও তো দায়ী ছিলেন এই পরিস্থিতির জন্য, হুমায়ূনের দিনযাপনচিত্র তো আমরা মিডিয়াবাহিত দেখে আসছি ইন-ডিটেইলস গত দুইদশক ধরে, অনুমান করতে বেগ হয় না যে তিনি বিদূষকবেষ্টনী প্রেফার করতেন। হয়তো দরকারও ছিল এসবের, এই বিদূষকবেষ্টিত থাকবার, নইলে এখানে চামচিকে ঠেকাতে যেয়ে স্ট্যামিনা খোয়াতে হতো তাঁরে। যেন অনেকটা আপনা মাঁসে হরিণা বৈরী অবস্থা ছিল হুমায়ূন আহমেদের। তাঁর প্রস্থানোত্তর সর্বত্র হুমায়ূনবন্দনা আর হুমায়ূনশোক প্রমাণ করে যে, এই ক্ষুদ্রঋণজর্জর সজোরে-গরিব-করে-রাখা দেশের সাক্ষর-অনক্ষর নির্বিশেষ মানুষেরা বাংলাসাহিত্য কতটা ভালোবাসে। হুমায়ূনহীন পৃথিবীর প্রথম হপ্তাদশদিন জুড়ে বাংলাদেশের সর্ববিধ গণমাধ্যম ছিল হুমায়ূনময়। এইটা আদৌ অভাবিত ও অস্বাভাবিক ছিল না তাঁর ক্ষেত্রে, একটা জাতিকে একটানা তিরিশ বছরেরও অধিক সময় ধরে নাক্ষত্রিক আনন্দে-বেদনায় ভরিয়ে রেখেছিলেন যিনি। কিন্তু বক্ষ্যমাণ এই নিবন্ধ কোনোভাবেই লিট্যারারি ক্রিটিক নয় হুমায়ূনরচনাশৈলীর, সেই ক্রিটিক নিশ্চয় হবে একদিন। এই রচনার অভিপ্রায় বরং, বলা যায়, সেলিব্রেটিং লাইফ উইথ হুমায়ূন আহমেদ।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]
ঋজুস্কন্ধ হ, হ্রস্বউকার, দীর্ঘউকার, একার ও হুমায়ূন আহমেদ
খুব রেগে যেতেন হুমায়ূন আহমেদ এই নিবন্ধশিরোনাম দেখে। না, তাঁকে নাম ধরে ডেকে যে প্রাচ্যীয় তমিজ ও আদবের খেলাপ করেছি, সেজন্যে নয়। রেগে যেতেন তাঁর নামের ঘাড়-ভেঙে-দেওয়া দশা দেখে। এইটা আজ প্রায় সকলেই জানেন যে, হুমায়ূন আহমেদ তাঁর নামের আদ্যবর্ণে হ্রস্ব-উকার লিখতেন আলগা করে হ বর্ণের নিচে। এ নিয়ে খুব খুঁতখুঁতানি ছিল তাঁর। শুরুর দিককার দিনগুলোতে লেখকের বই যখন মহাপরাক্রমী প্রকাশকরা ছাপছিলেন, এই ব্যাপারটা তারা আমল দিতেন না অত।
উঠতি বয়সী দুই-কলম লিখুয়াদের এত বায়নাক্কা শুনে তো আর সাহিত্যবুজুর্গ প্রকাশকদের চলে না। তারা নিশ্চয় ভাবতেন যে, লেখকের শৌখিন লিখনেচ্ছার আয়ু আর কয়দিন! Continue reading