Main menu

চমস্কির না-পারা এবং জিজেকের ব্যাখ্যা

নোম চমস্কি ডিসেম্বর, ২০১২ তে একটা ইন্টারভিউ দিছিলেন, যেইটা ২০১৩ এর জুন মাসে ইউটিউবে ছাড়া হয়; সেইখানে উনারে জিজেক সর্ম্পকে জিজ্ঞাসা করা হইলে বলেন যে, এরা (লগে লাঁকাঁ ও দেরিদা এবং অন্যান্য পোস্ট-মর্ডানিস্টরা) খালি ভাব লয়; এদের কথা-বার্তা কোন কামে লাগে না। এই কথার প্রেক্ষিতে জিজেকের কী বক্তব্য? একজন প্রশ্নকারী লন্ডনে, একটা আলাপের শেষে, জুলাই ১৬, ২০১৩ তে জানতে চান; তখন জিজেক কন, চমস্কি যে এইরকম বাস্তববাদী লোক, উনারে ত জিন্দেগীতে একটা ইম্পেরিক্যাল ট্রুথের ধার-কাছ দিয়াও যাইতে দেখলাম না!

চমস্কি’র সহজিয়া তত্ত্বের আকাংখা এবং জিজেকের জটিল বাস্তবতা’র কথা বাংলাভাষায় অনূদিত হইলো।

____________________

নোম চমস্কি

নোম চমস্কি

 

নোম চমস্কি: আপনি যেইটা কইতেছেন যে, “থিওরি” কারে বলে। আর যখন আমি কই যে, আমি থিওরিতে আগ্রহী না, আমি বুঝাই যে আমি ভাব নিতে আগ্রহী না – বিশাল বিশাল শব্দ দিয়া ফেন্সি টার্মগুলা ব্যবহার কইরা; আর ভান করা যেন আপনার একটা থিওরি আছে, যখন আপনার কোন থিওরি বাএইজাতীয় কিছু নাই। সুতরাং এইগুলাতে কোন থিওরী নাই, থিওরি এই অর্থে যে, বিজ্ঞান বা এইরকমের সিরিয়াস জায়গায় যা পরিচিত। যেইসব কাজগুলার কথা আপনি বললেন, সেইখান থিকা কিছু মূলকথা বাইর করার চেষ্টা করেন, যেইখান থিকা আপনি উপসংহার টানতে পারবেন; বাস্তবে পরীক্ষা করার মতো প্রস্তাব রাখতে পারবেন আর যার পুরাটাই একজন বারো-বছর-বয়সীরে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ব্যাখ্যা করার মতো না। যখন এই ফেন্সি শব্দগুলারে ডিকোড করেন, দেখেন আপনি পারেন কিনা। আমি পারি না। [pullquote][AWD_comments][/pullquote] সুতরাং এই রকমের ভাবে’র মধ্যে আমি নাই। জিজেক হইলো এর একটা চূড়ান্ত উদাহারণ। সে যা বলতেছে, তার মধ্যে আমি কিছুই দেখি না। আমি আসলে জাঁক লাঁকাঁরে চিনতাম। অনেকটা পছন্দও করতাম। কয়েকবার দেখাও হইছে আমরার। কিন্তু খোলাখুলিভাবে কইতে গেলে, আমি মনে করি সে ছিল একটা পুরা হাতুড়ে ডাক্তার। সে খালি টেলিভিশন ক্যামেরার লাইগা পোজ দিতো, প্যারিসের অনেক বুদ্ধিজীবীরা যা করে। আমার বিন্দুমাত্র ধারণা নাই, এইটা কেন  প্রভাবশালী। আমি এইখানে এমন কিছু দেখি না যা প্রভাবশালী হইতে পারে। …

Continue reading

জেলিফিশের জগত/হারুকি মুরাকামি

জাপানী রাইটার হারুকি মুরাকামির দ্য ওয়াইন্ড আপ বার্ড ক্রনিকল উপন্যাসের অংশ এইটা।

এই গল্পটা উপন্যাসের বুক টু (বার্ড এজ প্রফেট; জুলাই টু অক্টোবর ১৯৮৪) এর ১১ নাম্বার অধ্যায়- হাঙ্গার এজ পেইন; কুমিকো’স লং লেটার; বার্ড এজ প্রফেট এর কিছু অংশ। জে রুবীনের ইংরেজী অনুবাদ থিকা এইটা আমি করছি। ওয়াইন্ড আপ বার্ড ক্রনিকল তিন খন্ডে প্রথম প্রকাশিত হইছিল টোকিওতে ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালে। বইটার ইংরেজী সংস্করণ প্রকাশ করছে ভিনটেজ।

#

ইউ ওয়্যার রাইট, আই অ্যাম লিটল বিট সাইকো এন্ড আই লাভ টু ইট এন্ড আই লাভ টু ইট এলোন এন্ড…

মৃদুল শাওন

_____________________________

 

হঠাৎ কইরা চিঠি আসছে কিনা চেক করার কথা মনে হইল আমার। আমি যখন ডুব মাইরা ছিলাম কেউ হয়ত তখন আমারে লিখছে। আমি হলরুমে যাইয়া দেখলাম একটা চিঠিই আসছে। খামের পিছনে কোনো ঠিকানা ছিলনা চিঠিতে, কিন্তু খামের উপরের হাতের লেখা কুমিকো’র ছিল নিশ্চিত। প্রতিটা ছোট ছোট অক্ষর- আঁকানোর মত- একদম নির্ভুল, একটা ডিজাইনের মত। এইভাবে লিখতে অনেক সময় লাগে, কিন্তু ও শুধু এই স্টাইলেই লিখতে পারত। আমার চোখ সোজা পোস্টমার্কের দিকে গেল। এইটা এত অস্পষ্ট ছিল যে ঠিকভাবে পড়া যায়না, আমি শুধু দুইটা শব্দ আন্দাজ করতে পারলাম, ‘তাকা’ এবং সম্ভবত ‘মাতসু’; কাগাওয়া জেলার তাকামাতসু? আমি যতদূর জানি, কুমিকো তাকামাতসুতে কাউকে চিনেনা। আমরা দুইজন কখনোই ওখানে যাই নাই। আর সেও কখনো ফেরীতে শিকোকু যাওয়া বা নতুন ব্রীজটা পার হওয়ার ব্যাপারে কিছু বলে নাই। আমাদের দুইজনের কোনো কথায়ও কখনো তাকামাতসু নামটা আসে নাই। হয়ত এইটা তাকামাতসু না।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

যাই হোক, আমি চিঠিটা নিয়া রান্নাঘরে যাইয়া টেবিলের উপর বসলাম। কাঁচি দিয়া সাবধানে খামটা খুললাম যাতে ভিতরের কিছু আবার কাইটা না যায়। নিজেরে শান্ত রাখতে রাইখা যাওয়া বিয়ারটা এক চুমুকে শেষ করলাম।

Continue reading

মাই ফিয়াঁসে’স ওয়াইফ

This entry is part 17 of 20 in the series বাংলাদেশি ফিকশন

 

বর্তমান (ইংরেজী ২০০০সন পরবর্তী) সময়ে  বাংলাভাষায় ছোটগল্প লিখা হয়; শামীমা বিনতে রহমানের একটা নমুনা।

____________________________

 

ই.

প্রায় ৪ ইঞ্চি পুরু কমলাটে-লাল সেঞ্চুরি পাতার স্তুপ জমে আছে পুরা রাস্তা জুড়ে। আমি হাঁটছি।  সেই স্তুপ ঠেলে। পায়ের অ্যাংকলেট ছুঁয়ে ঝরা পাতারা সরে সরে গিয়ে একটা অস্পষ্ট রেখা তৈরি করসে। পাতা বিদ্ধ করে সূর্যের আলো, ঝরা পাতায় কমলা রঙের ওপর এমন ভাবে পড়েছে যে ওটার কমলা ছিঁড়ে ছিটকে পড়সে লাল। এইটা বনভূমি না, রাস্তা; অবশ্য ভেতরটা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা বলে একটা বন-জঙ্গল ফ্লেবার আছে। আমার লং ওভারকোটের দুই পাশে কেউই নাই অর্থাৎ আমি একলাই হাটছি। হাঁটছি এবং খুঁজছি। ইউক্যালিপটাস গাছ। বড় না চারা গাছ। ছোট গাছ। আমার খুব দরকার।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

হাঁটতে হাঁটতে আমার প্রেমিককে মনে পড়সে ভীষণ। স্মৃতিগুলা এত মধুর! আমাদের এত এত গল্প। উম্মাই গড!  ৭ দিন! লাস্ট সেভেন ডেইজ, উই আর নট ইন অ্যা সিঙ্গেল কন্টাক্ট।  আমি তার ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দিসি। টেক্সটের রিপ্লাই দেই না। কিন্তু আমি আসলে সারাটা দিন, সারাটা রাত, প্রতিক্ষণ তার সঙ্গেই থাকি। আয়নার সঙ্গে আগে যেরকম একলা একলা কথা বলতাম, এখন তার সাথে কথা বলি। অনেক কথা। আমাকে যে অযথাই ভুল বোঝে, সন্দেহ করে, পসেসিভ হয়ে ওঠে, এসব আলাদা আলাদা সিটিংয়ে কত গল্প করি! অনেক সময় বোঝানোর ভঙ্গিতে বলি, এত পসেসিভ হওয়ার কিছু নাই। আমি তোমার ভিত্রে একটু একটু করে বড় হৈতেসি। ডু কেয়ার প্লিজ। ডু কেয়ার।

যে কারণে আমরা কথা বলা বন্ধ করে রাখসি, তা আমার মনে বার বার, এখন, এই আজকেও দৃশ্যকল্পের মতো ভেসে উঠে। দৃশ্যকল্পটা এইরকম: একটা লম্বা টানা, সাদা রঙের টেবিল শুয়ে আছে। এইটা আমার কাছে মনে হয়, প্লেনের ওপর থেকে দেখা সাদা রঙের লম্বা-চওড়া ভেসে থাকা মেঘ। টেবিলের আমার একটু দূরে বসে আছে আমার প্রেমিক, আমি ডান দিকে। আর আমার ঠিক উল্টা দিকে, ওই প্রান্তে চোখ-নাক-ঠোঁট-মূখহীন এক নারী বসে আছে। আমি তারে জীবনে দেখি নাই, তার কোন চেহারা ভাসে না মনে, নাকি আমি তার চেহারা ভাসাতেই চাই না, জানি না, কিন্তু ঘটনাটা এরকমই ফুটে থাকে আমার কল্পে। আমার প্রেমিক বলে উঠে, ইটস ইম্পসিবল টু লিভ য়্যু। ট্রাস্ট মি, আই নেভার ওয়ান্টেড টু লুজ য়্যু’; লাইটটা আসলে স্পট লাইট। আমি তার মুখের দিকে চেয়ে থাকি। মিনিটখানেকের নিরবতা ভেঙ্গে আমি চোখ-নাক-ঠোঁট-মুখ বিহীন নারীকে প্রশ্ন করি, হোয়াট য়্যু ওয়ান্ট? সাদা টেবিল আর স্পট লাইটে তাকে জীবন্ত একটা মাংসপিন্ড ছাড়া আমার কিচ্ছু অনুভব হয় না। সে খাঁ খাঁ গলায় বলে উঠল : আই আ্যাম ওয়েটিং ফর য়্যুর লিভিং’।

Continue reading

জগদীশ গুপ্ত’র গল্প – আঠার কলার একটি।

This entry is part 3 of 20 in the series বাংলাদেশি ফিকশন

জগদীশ গুপ্ত’র (১৮৮৬ – ১৯৫৭) প্রথম ছোটগল্পের বই প্রকাশিত হয় ১৯২৭ এ। প্রকাশের সময় বিচার করলে উনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরবর্তী সময়ের এবং ‘আধুনিক ছোটগল্প’ লেখকদের কিছুটা পূর্ববর্তী।

কুষ্টিয়ায় বড় হওয়া জগদীশ গুপ্ত উনার লেখা ছাপানোর ক্ষেত্রে সিনিয়রদের হেল্প তেমন একটা পান নাই। উনার কয়েকজন  জুনিয়র ফ্রেন্ডরাই উনার গল্প ছাপাইতেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উনার স্বভাব-সমালোচকের ভঙ্গিমাতেই জগদীশ গুপ্তের বইয়ের  রিভিউ লিখছেন এবং তারে যথেষ্ঠ আউটকাস্ট একটা অবস্থানে ঠেলে দিতে পারছেন।

পরবর্তী সময়ের বিখ্যাত ছোটগল্প লেখক মানিক বন্দোপাধ্যায়ও উনার নাম কখনো নেন নাই। হইতে পারে, উনি জগদীশ গুপ্ত’র ‘সিরিয়াস’ ভাবটারে ফলো করতেন বইলা, অথবা হইতে পারে মানিক উনার লেখা আসলেই পড়েন নাই। আমরাও, বর্তমান সময়ে জগদীশ গুপ্তের ছোটগল্পের ‘পাঠক’ নহি।

তবে জগদীশ গুপ্তের কয়েকটা ছোটগল্পের কথা শুইনা থাকতে পারি; যেমন ‘দিবসের শেষে’; যেইখানে একটা পিচ্চি পোলা সকালবেলা ঘুম থিকা উইঠা বলে যে, মা আজকে আমারে কুমিরে নিবে! এবং গল্পের শেষে সত্যি সত্যি (মানে গল্পের কাহিনিতে) তারে কুমিরে নিয়া যায়। এই গল্পের বহুল (মানে, যতটুকুই আছে) প্রচারের কারণে জগদীশ গুপ্ত ‘নিয়তিবাদী লেখক’ হিসাবে ভুল অভিধা পাইতে পারছেন এবং ‘নির্মোহ’, ‘মানব-চরিত্রের কুটিল দিকের মুখোশ-উন্মোচনকারী’ ইত্যাদিভাবেও উনারে পরিচয় করানোর রেওয়াজ আছে।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

‘দুষ্পাপ্য জগদীশ’ নামে একটা সংকলন শাহবাগের বইয়ের দোকানে পাওয়া গেলেও, উনার ছোটগল্প সংকলন দুষ্পাপ্যই বলা যায়, ঢাকায়। এইখানে প্রচারের জন্য হিউমারাস এবং নন-গ্ল্যামারাস জগদীশ গুপ্ত’র একটা রোমাণ্টিক গল্প আমরা বাছাই করলাম।

 

ইমরুল হাসান         

___________

 

আঠার কলার একটি

নাচনসাহা গ্রামনিবাসী বেণুকর মন্ডলের কয়েক বিঘা জমি আছে, তা চষবার লাঙল আছে এবং লাঙল টানিবার বলদ আছে; কারো কাছে কিছু পাওনা আছে, কারো কাছে কিছু ঋণ আছে; গৃহসংলগ্ন খানিক পতিত জায়গা আছে – সেখানে বাসি-উনুনের ছাই ঢালা হয়; স্তূপীকৃত ছাই বিছিয়ে দেয় আর মাটি খুঁড়ে শাক জন্মানো হয় – এটুকু শখ বেণুকরের আছে…

এ-সব ছাড়া তার স্ত্রী আছে, জানকী; আর আছে মনে একটা ক্ষোভ। আর কেউ নেই, কিছু নেই!

বেণুকরের রূপও কিছু আছে, তবে জাঁকালো তেমন নয় এবং বুদ্ধিও কিছু আছে, তবে ধারালো তেমন নয় – তবে কৃষি-সংক্রান্ত ব্যাপারে এবং দেনা-পাওনা হিশাবে তার ভুল হয় না।

আবার এও উল্লেখযোগ্য যে, একটা দোষ তার আছে – ভোরে তার ঘুম ভাঙে না, রোদ উঠলে ভাঙে।

বেণুকরের বয়স এই ছাব্বিশ চলছে – স্ত্রী জানকীর বয়স এই উনিশ। চার বছর হল তারা বিবাহিত হয়েছে।

বিবাহিত জীবনের চার বছর বয়সটা কম নয় –

মুর্হূতের পর মুহূর্ত অতীত হয়ে খুব ধীরে ধীরে সময়টা কাটছে।

সুতরাং আশা করা যেতে পারে যে, বেণুকরের সম্ভোগের ধারণায় একটা পরিচ্ছন্নতা আর আকাঙ্ক্ষায় একটা স্থৈর্য্য এসেছে। ভূষণহীন আটপৌরে অবস্থায় এসে জীবনের বহিরবয়বটা নিস্তরঙ্গ হয়ে চার বছর বিবাহিত জীবন যাপন করা হল দেখে এমন একটা ধীরতা আর সন্তোষ মানুষের কাছে মানুষ আশা করে; কিন্তু এটা করে পরের বেলায়, নিজের কথা নিজের মন জানে। পারিবারিক শ্রান্তি ও জড়তাকে সংযম মনে করে মানুষ নিজের বেলায় ঐ ভুলটি করে – করতে বাধ্য হয়…

Continue reading

কেউ একজন গোলাপগুলো এলোমেলো করছে

মূল:: গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ

অনুবাদ আমি করতে চাই না। আমার মত কইরাও অনুবাদ আমি করতে চাই না। অনুবাদ করার কথা চিন্তা করলেও আমার বিলা লাগে। কোনো কোনো গল্প আমি পড়া শুরু কইরা সিন দেখতে থাকি। এইগুলা আমার সাথে ঘটতেছে এই রকম ভাবতে ভালো লাগে। আমার সাথে অলরেডী ঘইটা গেছে এইরকম ব্যাপারও কোনো কোনো গল্পে থাকে। সেই গল্পটা আমার রি-রাইট করার ইচ্ছা জাগলে আমি আর কোন উপায় না পাইয়া অনুবাদই করি। গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের ‘সামওয়ান হ্যাজ বিন ডিসঅ্যারেঞ্জিং দিজ রোজেস’ এইখানে অনুবাদ করছি বা এক ধরনের রি-রাইট। সাইজটাও একটা ব্যাপার। বাছবিচার এর সম্পাদকদ্বয়রে বলছিলাম কাজুও ইশিগুরোর ‘কাম শাইন অর কাম রেইন’ গল্পটা আমি দিব। বেশ অনেকদূর কইরা আর আগাই নাই। বেশ বড়, সাইজ প্রোবলেম করছে। ‘সামওয়ান হ্যাজ বিন ডিসঅ্যারেঞ্জিং দিজ রোজেস’ মার্কেজের ‘আইজ অব এ ব্লু ডগ’ বইয়ের গল্প। মনোলগ ধরনের গল্প এইটা। একজন মৃত ব্যক্তি বলতেছে। অনেক ছোটবেলায় সে মারা গেছে দুর্ঘটনায়। কিন্তু তার ‘বিইং’ পৃথিবীতে আছে এবং তার বয়স বাড়ছে।  [pullquote][AWD_comments][/pullquote] যেহেতু তারে কেউ দেখে না, তাই তার থাকার কোনো গুরুত্ব নাই বাঁইচা থাকাদের কাছে। কিন্তু সে দেখে বাঁইচা থাকাদের। তার কাছে গুরুত্ব একজনেরই। তার শৈশবের খেলার সাথী, যার সাথে সম্পর্কটারে আশেপাশের মানুষ দেখছে ভাই-বোনের সম্পর্ক হিসাবে। এইটা সম্ভবত বয়সের কারণে। কিন্তু সময়ের সাথে সম্পর্কটার ভবিষ্যত হয় প্রেম, দুইদিক থিকাই। কিন্তু যেহেতু একজন মারা গেছে এবং একজন যায় নাই, তাই এই প্রেম আর ফাংশন করে না। বা যেভাবে ফাংশন করে সেইটা দারুণ। বিশ বছর পর মেয়েটার ফিরা আসা এবং তখন গল্পের বর্ণনাকারীর রিঅ্যাকশন থিকা বোঝা যায় দুইজনের জন্য এই পয়েন্টটাই সম্ভাব্য পরিণতি ছিল। দেড় বছর পরে দেখা হইলেও একই রকম হয় আসলে। একজনের চুল ছোট হইয়া গেলে বা দুপুরে লাঞ্চ করার অভ্যাস বাদ দেয়ার কথা দাবি করলেও বা একজন চশমা পরা শুরু করলেও, কিছু না থাকলেও একটা পজেসিভ সেন্স থাকে। ওয়ান সাইডেড প্রেমের অসহায়ত্ব নিয়া তো মার্কেজ লেখছেন, এই গল্পে প্রেম টু সাইডেড হইয়াও যে কত অসহায় হইতে পারে তা আছে। স্প্যানিশ থিকা গ্রেগরি রাবাসা এবং জে এস বার্নস্টেইনের ইংরেজি অনুবাদ থিকা এইটা আমি করছি। অনুবাদ আমি আমার মত কইরাই করছি, যেভাবে ইচ্ছা হইছে। ‘শি’ ওয়ার্ডটা একই ব্যক্তিরে বুঝাইছে, যেইখানে বেশি ইন্টেন্স ফিল করা মনে হইছে সেইখানে ‘ও’ রাখছি, আর যেইখানে একটু ফর্মালভাবে বর্ণনা করতেছে সেইখানে ‘সে’ লেখছি। আমার মনে হইছে ‘সে’ আর ‘ও’ এর এই ব্যবহারে একধরনের মেলোড্রামা তৈরি হয়। আই লাভ মেলোড্রামা। –মৃ.শা. Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →