Main menu

এই সময়ে যে কোন কিছুর চাইতে ভিডিও গেমস ফিকশনের অনেক কাছাকাছি – হারুকি মুরাকামি।

This entry is part 6 of 29 in the series ইন্টারভিউ সিরিজ

দ্য প্যারিস রিভিউ’তে মুরাকামি’র এই ইন্টারভিউ’টা ছাপা হইছিল ২০০৪ সালে। দ্য আর্ট অফ ফিকশন সিরিজের অংশ হিসাবে, যেইটা ১৯৫৩ সাল থিকা উনারা শুরু করছিলেন এবং এখনো চালু আছে। মুরাকামির ইন্টারভিউটা ১৮২ নাম্বার। বাংলা অনুবাদে ইন্টারভিউ’র শিরোনামটা চেইঞ্জ করা হইছে।   [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

মুরাকামি’র লেখাতে খেয়াল করার জায়গা মেইনলি দুইটা। একটা হইলো, সাহিত্য-বাজারে যে এখনো আলাদা কইরা একটা ঐতিহ্য  বানানো (যদিও নিয়ম হইলো তুলে ধরা  লেখা) ভালো  উপন্যাসের শর্ত হিসাবে চালু আছে, মুরাকামি তাঁর উপন্যাসগুলাতে এই জিনিসটারে মোটামুটি আজাইরা প্রমাণ করতে পারছেন। গ্লোবাল কালচারাল উগ্রবাদীরা এই ঐতিহ্য  আবিষ্কারের ভিতর দিয়াই নিজেদের অপারেট করেন। এই ঐতিহ্য-নিয়ম মাইনা, গল্প-উপন্যাসে বার্গার খাইয়া কেউ বাংলা-কবিতা লেখতে পারবো না, ভাপা-পিঠাই খাওয়া লাগবো, ইভেন গরমের দিন আইসা পড়লেও!

মুরাকামি’র ঐতিহ্য-মানা কবি বরিশালে থাইকা বিটেলসের গান নিয়া কবিতা লেখতে পারেন, এই পারমিশন তার আছে।

আরেকটা খেয়াল করার জায়গা হইলো যে, এইটা করার লাইগা তারে ম্যাজিক-রিয়ালিজমের ভিত্রে ঢোকা লাগে না। বুড্ডিজম ছাড়া যেমন (ওয়েষ্টার্ন অ্যান্ড ইন্ডিয়ান) ইন্ডিভিজ্যুয়াল আর নিজ’রে এখন ধইরা রাখতে পারেন না; একই কারিশমায় ম্যাজিক-রিয়ালিজমও ঐতিহ্যবাদী সাহিত্যরে এই ঠেকা দিয়াই খাড়া কইরা রাখছে। সাহিত্যে ম্যাজিক-রিয়ালিজমের প্রিটেন্ডিং প্যার্টান রাজনৈতিকভাবে পুঁজিবাদরে মোর সহনশীল কইরা তোলতে পারে। মুরাকামি তার এগেনেইস্ট বিপ্লব (ইংরেজি রেভিউলেশন অর্থে) করেন না অবশ্যই; কিন্তু ইগনোর করার প্যার্টানের মধ্যেও আটকাইয়া থাকেন না।

এই দুইটা ডিপার্চার মুরাকামি’রে হুমায়ূন আহমেদ  হইতেই দেয় নাই খালি; বরং এমন একটা পাটাতনের ইশারা দেয় যেইখানে স্পষ্টতাগুলি মোর প্রাসঙ্গিক হয়া ওঠতে পারে। অবশ্য মুরাকামি এইসব নিয়া খুব একটা কথা কইতে চান নাই, কারণ সমালোচনার চাইতে অনুবাদই উনার বেশি পছন্দের। এইজন্য উনার ইন্টারভিউ’র অনুবাদই করলাম।

ইন্টারভিউ’টা বেশ ডিটেইল। দুইদিনে নেয়া। সহজ ইংরেজিতেই বলা কথাগুলা। কিন্তু সহজ ইংরেজীরেও ত বাংলায় অনুবাদ করা যায়!

 

ই.. হা.

__________________________________________

ইন্টারভিউ নিছেন জন রে

জন রে

জন রে

ইন্টারভিউয়ার: আমি আপনার নতুন ছোটগল্পের সংগ্রহ আফটার দ্য কোয়েক ’টা মাত্র পড়লাম আর আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং লাগলো  যে কি রকম ফ্রিলি আপনি গল্পগুলারে মিশাইলেন যা রিয়ালাস্টিক ছিল, আপনার নওরোজিয়ান উড-এর স্টাইলের লগে,  আমরা যদি বলি, অন্যান্যগুলার দ্য উইন্ড-আপ বার্ড ক্রনিকল  বাহার্ড-বয়েলড ওয়ান্ডারল্যান্ড অ্যান্ড দ্য এন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ডের  সাথে অনেক বেশি মিল ছিল। আপনি কি এই দুইটা ফর্মের মধ্যে কোন মৌলিক পাথর্ক্য দেখেন?

মুরাকামি: আমার স্টাইল, যা আমি আমার স্টাইল বইলা ভাবি, অনেকটা হার্ড-বয়েলড ওয়ান্ডারল্যান্ডের খুব কাছাকাছি। আমি নিজে রিয়ালাস্টিক স্টাইল পছন্দ করি না। আমি সুরিয়ালাস্টিক স্টাইল একটু বেশি পছন্দ করি। কিন্তু নওরোজিয়ান উড  নিয়া আমি ঠিক করছিলাম যে একটা হান্ড্রেড পারসেন্ট রিয়ালাস্টিক উপন্যাস লিখবো। আমার সেই অভিজ্ঞতাটা দরকার ছিল। Continue reading

তর্ক: বাংলা-কবিতার আধুনিকতা নিয়া সমর সেন ও সরোজকুমার দত্ত

১৯৩৮ সালে নিখিল ভারত প্রগতি সম্মেলনে কবি সমর সেন সাহিত্য (বিশেষ কইরা কবিতা) কেমনে রেভিউলেশনে হেল্প করতে পারে বা কবিতা ও প্রলেতারিয়েত বিপ্লবের সর্ম্পক নিয়া একটা ইংরেজী প্রবন্ধ পড়েন যেইটা পরে নিউ ইন্ডিয়ান লিটারেচারে ছাপা হয়। সেইটা নিয়া অনুবাদক, প্রাবন্ধিক ও ঔপন্যাসিক সরোজকুমার দত্ত ‘অতি আধুনিক বাংলা কবিতা’ শিরোনামে একটা সমালোচনা লিখেন, ‘অগ্রণী’ পত্রিকার দ্বিতীয়বছরের  চার নাম্বার সংখ্যায় (এপ্রিল, ১৯৪০)সমর সেন এর একটা উত্তর করেন একই শিরোনামে, ছাপা হয় একই পত্রিকায় ঐ বছরেরই পাঁচ নাম্বার সংখ্যায় এবং একইসাথে সরোজকুমার দত্তের একটা দীর্ঘ ‘প্রত্যুত্তর’ও। সমর সেন সেই প্রত্যুত্তরের আর কোন জবাব করেন নাই; কিন্তু অনেক পরে, ১৯৭৭ সনে উনার স্মৃতিকথা ‘উড়ো খৈ’-এ এই বির্তক নিয়া উনার একটা সিনথেসিস শেয়ার করেন। পাঁচটা গদ্য-ই পুলক চন্দ সম্পাদিত দে’জ পাবলিশিং প্রকাশিত সমর সেনের “বাবুবৃত্তান্ত ও প্রাসঙ্গিক” বই (১৯৯১-এর সংস্করণ) থিকা টেক্সটগুলা নেয়া হইছে। টেক্সটের  মালিকানা বিষয়ে বইয়ে কিছু বলা নাই। 

সমর সেনের এই টেক্সটে আধুনিক কবিতা (এলিয়েট এবং অন্যান্য) ও মার্কসীয়-বিপ্লবরে মিলানোর একটা চেষ্টা আছে; উনি বলতেছেন যে, যেই আধুনিক কবিতা লেখা হইতেছে ,কবিরা  তাঁদের পেটি-বুর্জোয়া জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়া এট বেস্ট সেইটাই করতে পারেন এখনকার সময়ে (মানে, সেই সময় এবং সেইটা এক্সটেন্ডড হইয়া এই পর্যন্তও অবশ্য) এবং যেহেতু প্রকৃত সাম্যবাদী সমাজ ছাড়া কবিতা লেখা সম্ভব না, এখন এইটা লেখাই কাজ। ইকোনমিক বেসিস এবং কালচারাল সুপারষ্ট্রাকচারের মধ্যে পাথর্ক্য আছে; কবিতার ভিতরে ডাইরেক্ট প্রপাগান্ডা চালানো ত সম্ভব না! কিন্তু এইটা  সর্ম্পকে সচেতন থাকার ফলে কিছু কাজ হইছে; যেমন, বাংলা-কবিতা অন্তঃত রবীন্দ্রনাথের পাতলা সেন্টিমেন্টালিজম থিকা বাইর হয়া আসতে পারছে!কবিতা হইলো একজন ইন্ডিভিজ্যুয়াল কেমনে সমাজের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতেছে, তার একটা মাধ্যম এবং এইখানে সমাজের ডেকাডেন্স-এর উপলদ্ধিও বিপ্লবের জন্য একটা অগ্রগতি।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

সরোজকুমার দত্ত বলেন যে, কবিতা দিয়া বিপ্লবরে হেল্প করবেন ভালো কথা; কিন্তু এই ডেকাডেন্স-প্রকাশ করা মোটেই কোন বিপ্লবী কাজ না, বরং এইটা গোপন বিপ্লব-বিরোধিতা। সাহিত্যরে বোঝা যায় তাঁর উদ্দেশ্যকেন্দ্রিকতা এবং ভাবাদর্শের সাথে তার সংশ্লিষ্টতার ভিতর দিয়া; এইটা মানলে টি.এস.এলিয়ট কখনোই একটা বিপ্লবী সাহিত্যের উদাহারণ হইতে পারেন না। আর এলিয়েট-অনুসারী সমর সেনের কবিতাও ইন্ডিভিজ্যুয়াল অ্যানার্কি মাত্র এবং এইরকম কবিতা-লেখা ব্যাপারটা টেকনিক ফ্যাটিশিজমে গিয়াই শেষ হইবো। Continue reading

জগদীশ গুপ্তের তিনটা গদ্য

গদ্য বা ব্যক্তিগত জার্নাল লেখা রিসেন্ট কোন ঘটনা না। আগে ক্রিয়েটিভ কাজ হিসাবে গল্পের তুলনায় হালে খুব একটা পানি বা জল কোনটাই পায় নাই। কিন্তু লিখছেন ত সাহিত্যিকরা এবং ছাপাইছেনও। জগদীশ গুপ্তের এইরকম তিনটা নমুনা।

____________________

 

গল্প কেন লিখিলাম

 

এত লোক থাকিতে আমারই এই গল্পগুলি লিখিবার কি দরকার পড়িয়াছিল তাহার একটু ইতিহাস আছে।… সেই অনাদি নর ও নারী।

আমার স্ত্রী আলসে মানুষ দু’চক্ষে দেখিতে পারেন না। আমি হাত পা গুটাইয়া নিস্তব্ধ হইয়া বসিয়া আছি দেখিলেই তিনি আমার হাতে একটি পয়সা দিয়া বাজারে পাঠাইয়া দেন; বলেন, ধনে নিয়ে এস; কোনোদিন বলেন, পান; কোনোদিন, কাঁচালঙ্কা; কোনোদিন, সোডা; কোনোদিন, মউরি; কোনোদিন আর কিছু।… কিন্তু ঐ এক পয়সার; কোনোদিন তার বেশী নয়।

হঠাৎ একদিন আপত্তি করিয়া বসিলাম, এবং আমার সে দুর্মতির শাস্তি তিনি হাতে হাতেই দিলেন; তাঁর সেই অননুকরণীয় ভ্রূভঙ্গী সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিল; বলিলেন, – আর কোনো উপকার না হোক, বাতের হাত থেকে বাঁচবে।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

পয়সাটি হাতে করিয়া ধনে আনিতে রওনা হইলাম।… আসা-যাওয়ার বাজার সওয়া ঘণ্টার পথ; এবং পথের সমস্তটাই বাত-নিবারক।

এমনি করিয়া অমূলক বাতের ভয়ে বাজারে হাঁটিতে হাঁটিতে হঠাৎ ফাঁকি দিবার একটি ফন্দি মিলিয়া গেল।…

পরদিনই কাগজ আর পেন্সিল লইয়া উদ্ধনেত্র এবং চিন্তাগ্রস্থ হইয়া বসিলাম, এবং বসিয়াই রহিলাম।… প্রিয়ম্বদা ঘরে ঢুকিয়া লিখিবার সারঞ্জামগুলি লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, – ও-গুলো নিয়ে কি হচ্ছে?

উদ্ধনেত্র তাঁহার দিকে নামাইয়া মনে মনে হাসিয়া বলিলাম, – বাজারে আর যাচ্ছিনে। – প্রকাশ্যে বলিলাম, – একটা গল্পের কথা ভাবছি। Continue reading

তর্ক: চমস্কি এবং ফুকো (পার্ট থ্রি)

This entry is part 3 of 5 in the series তর্ক: চমস্কি এবং ফুকো

প্রথম এবং দ্বিতীয় পার্ট-এ চমস্কি এবং ফুকো’র কাজ সর্ম্পকে বলা হইছিল। এই পার্টে, তর্ক সম্পর্কে অনুবাদকের অবজারভেশন এবং তর্কের প্রথম বারো মিনিটের বাংলা ট্রান্সক্রিপশন রাখা হইলো।

________________

 

[৩]

১৯৭১ সালে নোম চমস্কি এবং মিশেল ফুকো নেদারল্যান্ডের একটা টেলিভিশনে মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা শীর্ষক বিতর্ক অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয়েছিলেন। এই তর্কানুষ্ঠান থেকে দুইজন চিন্তাবিদের মধ্যে কিছু পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। দু’জনাই চলমান সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনামুখর হলেও মানবসত্তার প্রকৃতি সম্পর্কে, ক্ষমতা ও ন্যায্যতা সম্পর্কে তাদের মৌল অনুমান এবং এ-সকল বিষয় অনুধাবনের পদ্ধতির প্রশ্নে তাদের ভাবনা পুরোপুরি আলাদা।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

চমস্কি মনে করেন শাশ্বত মানবপ্রকৃতি বলে অবশ্যই একটা কিছু আছে। তার বিবেচনায় এটাই মূলত ভিত্তি: মোটামুটি সুস্থির একটা মানবপ্রকৃতি যদি না-থাকে তবে সত্যিকারের বৈজ্ঞানিক উপলব্ধিতে পৌঁছানো আদৌ সম্ভব নয়। নিজের গবেষণাধীন বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করে তিনি প্রশ্ন তোলেন: প্রতিটি সংস্কৃতিতেই আংশিক ও গুরুতর রকম খন্ডিত অভিজ্ঞতাগুচ্ছের ওপর নির্ভর করেও মানুষ কীভাবে তাদের মাতৃভাষা কেবল শিখতেই সক্ষম হন না, খুবই সৃজনশীলভাবে সেই ভাষা ব্যবহারও করতে পারেন? চমস্কির মতে এর একটাই মাত্র ব্যাখ্যা হতে পারে: মনের ভিত্তিস্বরূপ একটা জৈব-শারীরিক কাঠামো অবশ্যই বিদ্যমান, যা মানবপ্রজাতির সদস্য হিসেবে এবং সেইসাথে ব্যক্তিসত্তা হিসেবে, আমাদেরকে বহুরূপ ব্যক্তিক অভিজ্ঞতাগুচ্ছ থেকে একটি সুসমন্বিত ভাষায় পৌঁছাতে সক্ষম করে তোলে। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে উচ্চারণ করেন, ‘আমাদের সামাজিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও ব্যক্তিক আচরণ পরিচালনাকারী এই বিপুল অনুপুঙ্খ-পরিকল্পনা বা সহজাত-বিন্যাস-নীতির সমগ্রককেই আমি মানবপ্রকৃতি বলে আখ্যায়িত করি …[অর্থাৎ] জৈবিকসূত্রে প্রাপ্ত অপরিবর্তনীয় একটা কিছু আছে, যেটা আমাদের মানসিক সামর্থ্য দিয়ে যা-কিছু করি না কেন তার ভিত্তিমূল হিসেবে কাজ করে’। চমস্কি তার বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান-চেষ্টা নিয়োজিত করেছেন মূলত মানবমনের এই কাঠামোসমূহ অনুসন্ধানে। বলা যায়, মন ব্যাখ্যার উপযোগী একটা পরীক্ষাযোগ্য গাণিতিক তত্ত্ব নির্মাণই তার লক্ষ্য।

মানবপ্রকৃতি ও মানববিজ্ঞান সম্পর্কে চমস্কির বক্তব্য সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেন মিশেল ফুকো। মানবপ্রকৃতি বলে আদৌ কিছু একটা আছে নাকি নেই- এরূপ বিমূর্ত প্রশ্ন স্বভাবসুলভ কায়দায় ফুকো এড়িয়ে যান এবং এর বদলে প্রশ্ন তোলেন: খোদ মানবপ্রকৃতি ধারণাটি আমাদের সমাজে বিভিন্ন সময়ে কীরূপ ভূমিকা পালন করেছে? আঠারো শতকের প্রাণীবিদ্যাসমূহের উদাহরণ টেনে ফুকো নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক কালে বিশেষ বিশেষ জ্ঞানকান্ডের অভ্যন্তরে ক্রিয়াতৎপর বর্গ-ধারণাসমূহ এবং ‘প্রাণ’ বা ‘মানবপ্রকৃতি’র মতো ইতিহাসোর্ধ ধারণাগত মাইলফলকগুলোর মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করেন। ফুকোর মতে, ইতিহাসোর্ধ ধারণাগুলো বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকান্ডের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন সাধনে খুব সামান্যই ভূমিকা রেখেছে। তার মতে, ‘একজন ভাষাতাত্ত্বিক যা গবেষণার মাধ্যমে বাগধ্বনির রূপান্তরের নীতি আবিষ্কার করেছিলেন, কিংবা একজন ফ্রয়েড স্বপ্ন বিশেস্নষণের নীতি আবিষ্কার করেছিলেন, কিংবা একজন সাংস্কৃতিক নৃবৈজ্ঞানিক মিথ-এর কাঠামো আবিষ্কার করেছিলেন সেটা প্রকৃতপক্ষে মানবপ্রকৃতি ছিল না। … জ্ঞানের ইতিহাসে মানবপ্রকৃতি ধারণাটি বস্তুত ধর্মতত্ত্ব কিংবা প্রাণীবিদ্যা কিংবা ইতিহাসের সাপেক্ষে বা বিপরীতে একটি নির্দিষ্ট ধরনের ডিসকোর্সকে প্রতিষ্ঠিত করতে জ্ঞানকান্ডীয় একটা সূচকের ভূমিকা পালন করেছে’। Continue reading

জোশ পীযূষ, বিন্দু সিন্ধু, অনির্বচনীয়ের বাড়ি

সারওয়ার চৌধুরী’র এই গদ্যের বিষয় অনির্দিষ্টতা, এক দিক দিয়া। এমনিতে, উনার গদ্যের প্যার্টানও এইটা। সম্ভবত পোস্ট-মর্ডান অথবা মিস্টিসিজম অথবা জেন-ধর্ম আমাদেরকে ইনফ্লুয়েন্স কইরা থাকতে পারে যে, এইটাই ভালো (গ্রে’র প্রতি ভালোবাসা এবং বাইনারি’রে ঘৃণা করা)! এখন ভালো বা খারাপ ভাইবা ত কেউ লিখেন না, কিন্তু লেখা লেখকের ভাবনার ভিতরেও বন্দী থাকে না আর। এই যে কিছু না-বলা, এঁরা যে কিছু বলতে চায় না, সেইটা শেষ পর্যন্ত আর না-বলা না; বরং বলা যেহেতু যায় না, তার বিপরীতে এই অনুমানটাই স্পষ্ট হয়া উঠে যে, যা কিছু বলা হইছে, এর বাইরে আর কিছুই নাই, আর এই কারণেই তারা অনির্দিষ্টতা! এইটা সার্টেনলি, অনেককিছু যে বলাও সম্ভব, তার একস্ট্রিম-উল্টা একটা পয়েণ্ট অফ ভিউ। কিন্তু এইটা ত আছে। এই গদ্য যে পাবলিশ করা হইলো সেইটা এইভাবেও পড়া যাইতে পারে।

 

– ইমরুল হাসান

___________________________

 

অনির্বচনীয় ফোটে কেন? কোনো ফুল না, কিন্তু ফোটে। খুব সামান্যতে ফোটে, আবার বিশালকে ধরেও ফোটে। তথাকথিত সুখিদের ঘরেও ফোটে, দুখিদের ঘরেও ফোটে। কোথাও বেশি বেশি পুস্পিত এবং মন মাতানো ঘ্রাণে ভরা। কোথাও এই দেখি এই নাই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাধ্যমে- ‘মাঝে মাঝে তব দেখা পাই/চিরদিন কেন পাই না’। কোথাও সকালে আসে বিকালে যায়, রাতে আসে দিনে খবর নাই। নজরুল ইসলামের মাধ্যমে রুপকে এক ঝলক- ‘মোর ঘুমঘোরে এলে মনোহর নমঃ নমঃ’। [youtube id=”m6UG1f7frS4″]দৃশ্যের ভেতরে বাইরে অনির্বচনীয়তার প্রভাব। প্রার্থনাও করে মানুষ- সে যেন আসে যথাসময়ে যথারীতি। ভাষার দ্বারা কিছুটা পাওয়া যায় কিন্তু ভাষা-শব্দ-বাক্যের অতীত তবু। ধরা যায় কিঞ্চিত আভাস কিন্তু ধরা যায় না। নৈরর্থের গহীন পেরিয়ে কোনো এক অধরা আলোকপুঞ্জের অন্তরে নিহিত থাকে কি এই সহস্র রূপ রসের অনির্বচনীয়? ভাষা সহস্র সম্ভাবনার কুদরতি সেখানে যেন অচল। বচনের দ্বারা ধরা যায় না বলেই অনির্বাচ্য বা অনির্বচনীয়। অথচ ভাষার উত্তাপেই পুস্পিত হয় যেটুকু তাতেই মহাবিস্ময় প্রকাশ পায়। ‘আমার পরাণ যাহা চায়, তুমি তাই গো’ [রবীন্দ্রনাথ] ভাষায় সুরে অনুভূতির স্রোতে সে কি অনুপম দোলা, শব্দ ও সুরে অমৃতধারা! ওখানে, ম্যাগনেটিজমের গহীনে, দিশাহীন অবস্থা! যেনো যুক্তি নয়, মুক্তির নাগাল পেয়ে আত্মহারা! ক্ষণকালের মুক্তি- ভাব নাই-য়ের এলাকায়। ‘হায় গো প্রাণ বন্ধুর পীরিতে আমায় পাগল করেছে’ [শাহ আবদুল করিম]। যেনো এক গাঢ়তর নৈশ স্তব্ধতার পর অনিন্দ্য সুবহে সাদিক। ভালোবাসার পাগলের ফর্সা পবিত্র প্রার্থিত প্রত্যুষ।

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →