Main menu

বাংলাদেশের হাসপাতালগুলায় কি সমস্যা বা কি করলে লোকজন দেশের বাইরে/ইন্ডিয়া যাবে না?

বাংলাদেশের হাসপাতালগুলায় কি সমস্যা বা কি করলে লোকজন দেশের বাইরে/ইন্ডিয়া যাবে না?

যারা যায়, তারা কেন যায়- এই প্রশ্নের উত্তর আগে লাগবে। কিছু পেশেন্টের যাইতে হয়, কারণ বাংলাদেশে সম্ভবত মেডিকাল রিসার্চ/এডভান্স লেভেলের ট্রিটমেন্ট যথেষ্ট হয় না। তবে, সেই ধরনের পেশেন্ট খুব বেশি থাকেও না, যে পরিমাণ পেশেন্ট বাইরে যায় তার তুলনায়। ডাক্তারদের বিভিন্ন গবেষণা এবং সারা দুনিয়ায় যেগুলা হইতেছে, সেই বিষয়ে এডভান্সড নলেজ এবং টেকনোলজির সাপোর্ট দেয়া লাগবে। সরকারি আর্থিক সাপোর্ট দেয়া লাগবে।

এখন, সব লোক সিরিয়াস সমস্যা নিয়ে যায় না। সাধারণ সমস্যায়ও যায়। কেন? ফার্স্ট অফ অল, ব্যাড ইম্প্রেশন এবং ইনকনফিডেন্স।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলায় কি সমস্যা হয়? সব ধরনের টেস্ট করা যায় না অথবা রোগীর প্রেশারে দ্রুত করানো যায় না। অর্থাৎ ইনভেস্টমেন্টের ইস্যু আছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার জিনিসপত্র/মেশিন সাপ্লাই দিতে হবে। সেই পরিমাণ লোকবল থাকতে হবে। চারশো রোগীর সাপ্লাই দিতে আটশো লোক হ্যান্ডেল করা সম্ভব না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই যত বেশি সম্ভব সার্জারি বা এডভান্সড ট্রিটমেন্ট লাগবে,যাতে ঢাকায় যাইতে না হয়। ঢাকার চার পাঁচটা হাসপাতালে বাকি তেষট্টি জেলার পেশেন্ট সামলানো সম্ভব না। মেডিকেল কলেজ হসপিটালগুলারও ক্যাপাসিটি বাড়াইতে হবে।

ডাক্তারের রোটেশন প্রয়োজনে বাড়ানো যাইতে পারে। দরকার হলে বেশি ডাক্তার নিয়োগ দেয়া যাইতে পারে।

হাসপাতালের বড় সমস্যা স্টাফ/নার্স এবং দালাল সমস্যা। লোকজনের ধারণা আছে যে, হাসপাতাল ডাক্তারেরা চালায়। এইটা বেশ ভুল ধারণা। দেখবেন, ডাক্তারেরা মেডিকেলে সবচেয়ে কোণঠাসা৷ আমি মেডিকেল প্রশাসনের স্ট্রাকচার জানি না। এইসব স্টাফের এসিআর/সার্ভিসবুক ইত্যাদি যারা নির্ধারণ করে, তাদের চেঞ্জ হইতে হবে। রোগীর লোকজন ডাক্তারের কাছে খারাপ ব্যবহার পায়, এমন ঘটনা কম। দেখবেন, ম্যাক্সিমাম এগুলা দারোয়ান/পিয়ন/নার্স ইত্যাদি সেক্টর থেকে আসে। এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিকভাবে দূর্বল। কেন? সেই কারণে হাত দিতে হবে।
Continue reading

ভীতু মধ্যবিত্তের ৫ আগস্ট

এই লেখাটা আমি ২৪ এর আগস্টের ৬ তারিখ থেকে লিখতে চাইতেছিলাম। কিন্তু সেই সময়ে চারদিকে যে ঝড়তুফান চলতেছিল আর একই সাথে নিজের ভিতরে যে অস্থিরতা এবং বিজয়ের আনন্দ পাশাপাশি বিরাজমান ছিল তাতে সেই মেমোরি লেখা হয়ে উঠে নাই। আর এমন লেখার মাঝে আবেগের যেই উথালপাথাল, তাতে এইটা দ্রুত লেখার ক্ষেত্রে আতিশয্যের কিছু রিস্ক থাকে। সেইটা বাদ দিতে কিছু সময় পেরোতে দেওয়া সেইফ। তাতে অবশ্য কিছু স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকিও থাকে। কিন্তু মাত্র চার মাসের মাথায় এই মুহূর্তে যে কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে চারদিকে, প্রতিদিন নতুন নতুন যেসব বয়ান, ন্যারেটিভ পড়ছি, দেখতেছি, শুনতেছি, নায়ক, খলনায়ক বানানোর প্রবণতা দেখতেছি তাতে কিছুদিন পরে মনে হবে আমি মনে হয় ৫ আগস্টে কল্পনায় ছিলাম। বা ছিলামই না। ফলে লেখাটা জরুরি। অন্য কারও জন্য না হলে নিজের জন্যই জরুরি।

ইন্টারনেট শাট ডাউনের সময়ে বা কারফিউ চলাকালে কাগজে কলমে প্রচুর লিখেছি। সেগুলো এই আলোচনার মুখ্য বিষয় না। প্রাসঙ্গিকভাবে আগের পরের কিছু ঘটনা আসতে পারে। মূলত ৫ তারিখ নিয়েই লিখব। তখনকার জ্ঞানের আন্দাজে লিখব। তখনো যা জানিনা, পরে জেনেছি, সেই তথ্য সেইভাবেই আনব।

এটা একেবারেই ব্যক্তিগত লেন্সের একটা নির্দিষ্ট সময়ের লেখা। ফলে বৃহৎ প্রেক্ষাপটের বিশ্লেষণ আশা করলে হতাশ হবেন।

আমি ১ তারিখ থেকে মাঠে, রাস্তায়, শহীদ মিনারে ঘুরতেছি। কখনো একা, কখনো পরিচিত ছোটভাইদের বা অন্য কোনো সার্কেলের সাথে। আমার কাছের দোস্ত বা সমসাময়িকরা কেউ ঢাকার বাইরে, কেউই দেশের বাইরে কিংবা পরিস্থিতি মেনে নিয়ে খুনী হাসিনাকে তীব্র ঘৃণা করে নিজের বাস্তবতা মেনে বাসায়। আমার পরিচিত সেকেন্ডারি সার্কেলের (পরিচিতের পরিচিত) অন্তত ১৫/২০ জনের নিহত হওয়ার খবর আছে। সবচেয়ে প্যাথেটিক খবরটা ছিল এক পরিচিত ছোটবোনের বান্ধবীর যার জানালা দিয়ে ঢোকা টিয়ারশেলের ধোঁয়ায় বাসার সবাই প্রাণে বেঁচে গেলেও সপ্তাহখানেক বয়সের নবজাত সন্তান মারা গেছে। জাস্ট ইমাজিন! এরই মাঝে মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচী এক দিন এগিয়ে ৬ তারিখের বদলে ৫ তারিখে এগিয়ে আনা হয়েছিল। এমেজিং মুভ। সম্ভবত সরকারকে হতচকিত করতেই এই মুভ।

১৬ তারিখে আবু সাঈদের শহীদ হওয়ার ভিডিও দেখার পর থেকেই আমি মোটামুটি নিশ্চিত যে হাসিনার দিন শেষ। সেই সময়ে কারফিউয়ের মাঝে যাদের সাথে মোবাইলে কথা বলে মাথা ঠিক রাখার চেষ্টা করেছি তাঁদের মাঝে জনাকয়েক লেখক, প্রকাশক, বন্ধু ও আত্মীয়স্বজন আছেন। (তাঁদের কয়েকজনকে ট্যাগ করলাম) ১৭ তারিখ থেকে আমি যা বলেছি সেইটাই ৪ তারিখে পোস্ট করেছিলাম ফেসবুকে। আমার ওয়ালে এখনো আছে। পোস্ট টা কপি করি এখানে –

“রোগীর আত্মীয়স্বজনকে ডাক্তার বলে দিছে, হাসপাতালে রাইখা লাভ নাই। বাড়িতে নিয়া যান। যা খাইতে চায় দেন।
এই মুহূর্তে এই সরকারের অবস্থা সেই রোগীর মতো।
প্রশ্ন শুধু এইটা, কখন?
৩ ঘন্টা, ৩ দিন, নাকি ৩ সপ্তাহ নাকি ৩ মাস…
ইটস অন দ্য কার্ড। আল্লাহ্‌ ভরসা।”
Continue reading

নেচারাল হ্যাবিট্যাট, হিস্ট্রিওগ্রাফি এবং রেডিকালাইজেশন

This entry is part 13 of 18 in the series রকম শাহ'র বয়ান

পোজেক্টটা বুঝতে হবে আপনাদের।

ইজরাইল রাশ্টো পয়দা হবার আগে জায়নিজম কি, শেইটা ভালো বোঝা জায় নাই; ফিলিস্তিনে আগেই কতোগুলা রায়ট ঘটার পরেও অনেকেই খুব শম্ভব জায়নিজমের ব্যাপারে মায়া করতেন। ইসকনকে আপনার বুঝতে হবে জায়নিজমের প্যারালাল হিশাবে উইথ এ পোস্ট-কলোনিয়াল ফ্লেভার।

ইসকনের পোজেক্টটা কেমন তাইলে? ছেরেফ ইসকনে নজর দিয়া এইটা বুঝবেন না, বরং এইটারে পলিটিকেল এবং কালচার-ছিভিলাইজেশনাল হিস্ট্রিওগেরাফির কনটেক্সটে বশাইয়া বুঝতে হবে।

পোস্ট-কলোনিয়াল এবং ছিভিলাইজেশনাল ইশুটা বুঝতে মাথায় রাখতে হবে বিবেকানন্দকে। বিবেকানন্দ ‘ছিভিলাইজেশনাল প্রাইড’-এর ছবক দিয়া গেছেন, কলোনিয়াল ইনডিয়ায় বড়ো হইয়াও। এই গর্বের গোড়ায় আছে ইউরোপিয়ানদের বরাবর এরিয়ান হিশাবে নিজেদের ইংরাজের ‘রেশিয়াল কাজিন’ মনে করা। এনশিয়েন্ট ইনডিয়া হইলো এরিয়ান কির্তি, তাই শেই এরিয়ানদের বাছুর হিশাবে বামুন-খত্রিয়েরা গর্ব করতে পারে এবং ইংরাজের কলোনিয়াল শাশনের ভিতরেও ঐখান থিকাই বিবেকানন্দের দেমাগ এবং গর্ব পয়দা হইছে।

এই ভাবনার ভিতর রেছিজম থাকলেও এইটা ততো ঝামেলার হইতো না; ঝামেলা হইতেছে তখন, জখন এই নজরে পুরা হিন্দু-শনাতন ধর্মরে বোঝাবুঝি শুরু হইলো এবং কওম/কম্যুনিটি উতরাইয়া ঐ জায়নিজমের মতোই হিন্দু-শনাতনিদের ‘নেচারাল হ্যাবিট্যাট’ হিশাবে ইনডিয়ারে দেখা শুরু করলো কংগেরেছি-আরএছএছ-বিজেপির হিস্ট্রিওগেরাফি।

‘নেচারাল হ্যাবিট্যাট’ আইডিয়াটা একটু বোঝা দরকার আমাদের: জেমন ধরেন, ইলিশ মাছের নেচারাল হ্যাবিট্যাট আছে বা কাদা-কাকড়া বা শুন্দরবনের হরিনের বা ঘুঘুর বা পেংগুইনের; এই ছেইম আইডিয়া মানুশের বেলায় খাটে না, মানুশের কালচারাল এচিভমেন্ট তার ছার্ভাইভাল খমতা এতোই বাড়াইয়া দিতে পারছে জে, এমনকি পুরা এই পিথিবি তো বটেই, মংগলকেও তার হ্যাবিট্যাট ভাবতে শুরু করছে! মানুশের বেশুমার খমতা থাকবার পরেও এমনকি মানুশের একটা ধর্ম বা রেছ বা জাতি নিজের ‘নেচারাল হ্যাবিট্যাট’ হিশাবে জখন কোন একটা জমিনকে শাব্যস্ত করে তখন হাজার হাজার বছর ধইরা মানুশের মাইগ্রেশনকে অ্যাবনর্মাল হিশাবে ধরা হইতেছে! দুরে দুরে চইলা গেলেও ঐ ভাবনা ঐ ধর্ম বা রেছ বা জাতিকে শেই ইমাজিন্ড/কল্পনার নেচারাল হ্যাবিট্যাটে ফিরতে ডাকতে থাকে! জায়নিজম ঠিক এই কামটাই করে এবং তার ফলাফল হিশাবেই আমরা প্যালেস্টাইনে জেনোছাইড দেখতেছি! পিছনের মোরালটা এমন জে, ফিলিস্তিনিরা, ইহুদি বাদে জে কেউ প্যালেস্টাইনে আশলে দখলদার, মাইগ্রেশন জেইখানে অ্যাবনর্মাল! তাই ইতিহাশের শকল নড়চড় আনডু করতে চায় ইজরায়েল, জেইখানে কিনা খোদ তাদের ক্লেইমটাই খুবই মিথিক্যাল, অন্তত জায়নিস্ট একিন মাত্র, জায়নিজমের বাইরের মানুশের তেমন একিন থাকার পক্ষে হিস্ট্রিকেল এভিডেন্স পেরায় গরহাজির! Continue reading

দা স্মা‍র্টনেস অফ রিকশা

অনেকেই মনে করেন মেগা-সিটিতে রিকশা (বা অটোরিকশা) একটা উপদ্রব, “আনস্মার্ট”একটা জিনিস। রিকশার পক্ষে ওকালতি করতে গেলে শুনতে হয়, এইসব নাকি গরিব-বান্ধব রোমান্টিসিজম (রিকশার পার কিলোমিটার যা ভাড়া, রিকশা নিম্নবিত্তের বাহন না তো)। রিকশা আমরা বানাই নাই, জাপানিজরা বানাইসে, কিন্তু দুনিয়ার মধ্যে শুধু বাংলাদেশেই যে রিকশা টিকে আছে, তার কারণ আমাদের গরিবি না, তার কারণ আমাদের অসামান্য সমতল টেরেইন, বাংলাদেশ ইজ দা ফ্ল্যাটেস্ট কান্ট্রি অন আর্থ।

নন-মোটরাইজড ট্রান্সপোর্ট ইউরোপিয়ানরা খুব চায়, শহরে শহরে বাইসাইকেল র‍্যুট ডিজাইন করার জন্য তাঁরা কম্পিটিশন ডাকে। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের মত কেউ পেরে উঠে না। কারণটা আমাদের মতই, নেদারল্যান্ডসের লো-লায়িং টেরেইন। ফান ফ্যাক্ট: নেদারল্যান্ডসের বাইসাইকেল সংখ্যা ওদের জনসংখ্যার থেকে বেশি (ইভেন ফানিয়ার ফ্যাক্ট: ওদের সাইকেল আমাদের মসজিদের জুতার মতো, একজনেরটা খোয়া গেলে সে আরেকজনেরটা নিয়ে যায়। The saying goes: you’re not Dutch if you never stole a bicycle)। সমতল জমিনের আরো এডভান্টেজ নেয়া যায়।

আপনি বার্লিনে যান (গুগল ম্যাপেই যান), যে কোন একটা লোকেশন থেকে আরেকটা লোকেশনে যাবার ডিরেকশন চান। আপনার বাসা থেকে হাঁটা দূরত্বে একটা ট্রাম (Strassen-bahn) বা বাস পাবেন, সেখান থেকে S Bahn – U bahn (র‍্যাপিড রেইল, মেট্রো) – Stassen-bahn এর কোন নেটওয়ার্ক ধরে আপনাকে গন্তব্যের হাঁটা দূরত্বে পৌঁছে দিবে। এবার স্টুটগার্ট চলেন। একই দেশের ভিন্ন একটা শহর, একই বাস-ট্রাম-মেট্রো কম্পানি, কিন্তু স্টুটগার্টে আপনার স্টেশন পর্যন্ত যেতে একটু বেশিই হাঁটতে হবে।

কারণটা এই যে, বার্লিন ছিলো একটা লো-লাইয়িং মার্শল্যান্ড, আর স্টুটগার্ট একটা ভ্যালি, নেকার রিভার ভ্যালি। ওই অসমতল জমিনে ইচ্ছামতো ট্রাম টানা যায় না।

আমরা আমাদের অসামান্য সমতল হবার এডভান্টেজটা নেই না (ট্রামও তো গরিব!), আবার আমরাই দেখি যে রাস্তায় বাসের এলোমেলো চলাচল যানজটের অন্যতম কারণ। তো ট্রাম তো বেইসিকালি বাস-অন-ট্র‍্যাক, তার লাইনচ্যুত হবার সুযোগই নাই। ট্রাম অবশ্য স্লো। কিন্তু এই ঘনবসতির শহরে কোনটা আমার প্রায়োরিটি, স্পিড নাকি ফ্লো? বাসের তৈরি বটল-নেক কি সেই ফ্লো ব্যাহত করে না? এলিভেইটেড এক্সপ্রেস-ওয়ে দিয়ে ৮০ মাইল গতিতে চলে বাকি রাস্তা আপনাকে জ্যাম ঠেলেই আগানো লাগে তো।

মিজারেবল ফ্যাক্ট: সমতল জমিনে ট্রামের কথা তো ভাবিই না, আমরা BRT তুলে দিসি ফ্লাইওভারে!

Continue reading

পলিটিকাল ডাইরি – ২০২৪ (তিন)

This entry is part 3 of 4 in the series পলিটিকাল ডাইরি

অগাস্ট ০৫, ২০২৪

১.
বসুন্ধরা গেইট থিকা পুলিশ পালাইছে! দেশ স্বাধীন! বুক ভরে শ্বাস নেন!

২.
স্বাধিনতা তুমি আবরারের হাসি-মাখা মুখ
স্বাধিনতা তুমি আবু সাইদের চওড়া বিশাল বুক
স্বাধিনতা তুমি মুগ্ধ’র কপাল বাইয়া পড়া ঘামের ফোটা

স্বাধিনতা তুমি আবার আশায় বুক বাঁধা,
আবার হাঁটতে শুরু করা,
পথে পথে দেখা ফুটতেছে কতো ফুল

স্বাধিনতা তুমি নরোম-সরোম প্রেমের কবিতা
চুপচাপ বইসা থাকা, নিরবতার আওয়াজ শোনা
গাছের পাতাগুলা যেন বাতাসে গাইতেছে বাংলাদেশের গান, আবার…

/আ লং ওয়াক টু ফ্রিডম

৩.
যেই মিল-মিশের ভিতর দিয়া এই মুভমেন্ট হইছে, সেইটা নেকস্ট ইলেকশন পর্যন্ত কনটিনিউ করতে হবে; ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশে নানা মত নানা পথ থাকবে, কিনতু কেউ কারো শত্রু না।

মনে রাখবেন, বিপ্লবের চাইতেও সবচে ইম্পর্টেন্ট দিন হইতেছে বিপ্লবের পরের দিন!

আমাদের সেলিব্রেশন চলবে। তবে অনেকে নানান ধরনের সুযোগ নিতে চাইবে, অনেকে অতি-বিপ্লবী হয়া উঠতে চাইবে, কিনতু যে কোন কিছুর চাইতে ডেমোক্রেটিক থাকাটার দিকে আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে। ইনক্লুসিভ হইতে হবে যে কোন এক্টে, অ্যাকশনের জায়গাটাতে।

তবে অবশ্যই গনহত্যাকারী, তাদের সহযোগি ও এনেবেলারদের কোন মাফ হইতে পারে না, যত দ্রুত সম্ভব এদের বিচার করতে হবে; তা নাইলে ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশের দিকে আমরা আগায়া যাইতে পারবো না, কোনদিনই।

৪.
দেশে যেহেতু এখন কথা বলার সুযোগ তৈরি হইছে, অনেকে কথা বলবেন, সকলেই কথা বলবেন; তো, আপাতত আমার পয়েন্ট এই কয়টা –

১. অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ কোন অবস্থাতেই, আই রিপিট কোন অবস্থাতেই ১৮০ দিনের বেশি হইতে পারবে না।

কারন নন-ইলেকটেড গর্ভমেন্টে ফেরেশতা বসাইলেও সে আরেকটা অটোক্রেট হয়া উঠবে।

২. এই সরকারের প্রধান একজন নন-মিলিটারি ও নন-পলিটিকাল পারসন হওয়াটা বেটার।

৩. এই সরকারের এটলিস্ট ৩০%, মানে ৯ জন মেম্বার থাকলে তার মধ্যে ৩ জন ছাত্র-প্রতিনিধি হইতে হবে।

৪. সেকুলার-লিবারাল ফ্রন্টের মেম্বার যেমন থাকা লাগবে ইসলামিস্ট-ঘরানার লোকজনরেও রাখা লাগবে; ইনক্লুসিভ হইতে হবে

৫. সরকারের প্রধান কাজ হবে দুইটা – ফ্রি-ফেয়ার ইলেকশনের বেবস্থা করা এবং এর জন্য যা করার দরকার সেইগুলা করা; এবং শেখ হাসিনা ও তার সহযোগিদের গনহত্যার বিচার করা

৬. এর বাইরে আরেকটা জিনিস নিয়া আমি সর্তক থাকার জন্য বলবো, যারা আওমি-লিগের সরাসরি সাার্পোটার ও বেনিফিশিয়ারি তাদের সবাইরেই আমরা মোটামুটি চিনি ও জানি; কিনতু যারা দুইদিন আগেও হাসিনার নাম মুখে নিতে গেলে ডরের চোটে পাদ মাইর দিতো, তারা অনেক ‘ভুল’ ধরতে আসবে, এমনকি ‘অতি-বিপ্লবি’ কাজ-কাম করার জন্য ‘জরুরি পরামর্শ’ দেয়া শুরু করবে – তাদের থিকা সাবধান থাকাটা বেটার

৭. কারন, এই ফ্যাসিস্ট নয়া বাকশালের পতন মানে সবকিছু বেহেশত হয়া উঠা না, বরং একটা নরমালিটির দিকে, ডেমোক্রেটিক অবস্থার দিকে যাওয়ার শুরু মাত্র, এর বেশি কিছু না

৮. এই আন্ডারস্ট্যান্ডিং’টা, যারা অনেক কিছু স্যাক্রিফাইস করছেন, তাদেরও থাকলে ভালো… হঠাৎ কইরা সবকিছু ভালো হয়া উঠবে না, কিনতু ভালো-মন্দ বিচারগুলা করাটা যেন আমরা শুরু করতে পারি, সেইটার দিকে যাওয়া

৯. প্রতিশোধ, রিভেঞ্জ কখনোই সমাধান না; বিচারের জায়গাটা তৈরি করতে পারতে হবে আমাদের, ন্যায়বিচার বা জাস্টিসের সমাজ তৈরি করার দিকে যাইতে হবে
Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →