আর্টিস্ট হিসাবে ক্রিটিক (১) – অস্কার ওয়াইল্ড
তর্জমাকারের ইন্ট্রো
তখন ইংল্যান্ডে আছিলো ভিক্টোরিয়ার আমল। আর ভিক্টোরিয়ার আমলের বৈশিষ্ট্য হইলো নৈতিক জোশ আর উইটিলিটারিয়ানিজম বা উপযোগবাদ। ভিক্টোরিয়ান আমলের “নৈতিক জোশে”র একটা ব্যাপার হইলো তারা বিশ্বাস করতো আর্ট, সাহিত্য, আর বাদ বাকি মানুষের করার যা কিছু আছে সব একটা পাকাপাকি নৈতিক আখলাকরে, — সততা, পরহেযগারী, মেহনত আর সংযমরে — কায়েমের কাজে মশগুল থাকবো, থাকা লাগবো। এই জোশের দোসর উপযোগবাদ সবকিছুরে মাপতো জিনিসগুলা হাতেনাতে কতটুক কামে আসে বা সমাজের উপকারে আসে এই হিসাবে। এই দুই মাপকাঠি মিল্যা যেই একটা সামাজিক পরিবেশ কায়েম করছিলো সেইখানে আর্টরে মাপা হইতো আর্টের মোরাল মেসেজ আর সমাজের উপকারের বিচারে। এই ধরনের চিন্তা-ধারা যদিও সংস্কার বা নিয়ম-কানুন জারি রাখার লাগি উপযুক্ত কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আর্টের খেয়ালী, আয়েসী, সাফ এস্থেটিক গুণগুলার জন্য এই চিন্তা-ধারার মধ্যে কোনো জায়গা থাকে না।
এই দুইটা বৈশিষ্ট্যর এন্টিতে রিয়েকশন হিসাবে উনিশ শতকের শেষ দিকে উদয় হইলো এস্থেটিক মুভমেন্টের। এই আন্দোলনের মেইন “কলমা”-টারে প্রায় সময় এমনে কওয়া হয়, “আর্টের ওয়াস্তে আর্ট।” মানে আর্টেরে দাম দিতে হইবো তার সৌন্দর্য আর চামড়া-চক্ষেরে দেওয়া মজার হিসাবে, কোনো নৈতিক, পলিটিকাল, বা প্র্যাক্টিকাল উপকারের বিচারে না। পুরানা ক্লাসিক আর ডেকোরেটিভ আর্ট থিকা ইন্সাপায়ার হইয়া এই আন্দোলন পাক-সাফ করা স্টাইল, দেহাতি রূপ, আর আর্টিস্টিক এক্সপ্রেশনের আজাদীর জয় গায়া গেছে। এস্থেটিসিজমের সাথে জড়িত লেখক, পেইন্টার, ডিজাইনাররা আর্টরে আনন্দ, আবেগ আর কল্পনার মধ্যে দিয়া বাস্তবতা থেকে পলায়া যাওয়ার পথ হিসাবে তুইলা ধইরা শিক্ষামূলক হওয়ার পাবন্দি থেকে ছাড়া পাওয়ানের চেষ্টা করছেন।
সৌন্দর্যের কোনো জাস্টিফিকেশনের পাবন্দি নাই এমন ভাবঅলা কালচারাল পরিবেশের মধ্যে অস্কার ওয়াইল্ড আইলেন এস্থেটিসিজমের সবচেয়ে জ্বলজ্বলা নায়ক হিসাবে। এস্থেটিক মুভমেন্টের পাব্লিক ভয়েসের সবচেয়ে পরিষ্কার আহ্লাদী গলা হইলো অস্কারের। তার চাল-চলন, লেখালেখিত এই মতবাদেরই সব ডিটেইলরে এলান করে গেছে, সৌন্দর্যই হইলো সবচেয়ে উঁচা মঞ্জিল আর আর্টিস্টের কাম কাউরে উপদেশ দেওয়া না, বরং মোহিত করা। অস্কারের প্রবন্ধ, নাটক, আর উপন্যাস The Picture of Dorian Gray এই মুভমেন্টের আকিদাগুলারেই বার বার ফুটায়ে তুলে, স্টাইলের সুপ্রিমেসি, কারুকাজের মশক, আর নৈতিক শিক্ষামূলক আর্টের রিজেকশন। তার চাতুরি, ধাঁধা, আর চুটকি এস্থেটিসিজমরে হাতে গোনা কিছু আর্টিস্টের আকিদা থেকে বাইর করে আইনা সাধারণ মানুষের পছন্দ আর তর্ক-বিতর্কের বিষয় বানায়া দিছে, যেই কারণে “আর্টের ওয়াস্তে আর্ট” কথাটা তার নামের সাথে আজীবনের লাগি জুড়ে গেছে।
১৮৯১-এ বাইরইলো অস্কারের প্রবন্ধ সংগ্রহ Intentions আর এর একটা অংশ হইলো এই বই, The Critic as Artist বা আর্টিস্ট হিসাবে ক্রিটিক। আর্নেস্ট আর গিলবার্টের মধ্যে আলাপের ধাঁচে লেখা। আলাপে আলাপে দুই বন্ধু তখনকার চলতি ধ্যানধারণাতে আর্টের মধ্যে ক্রিটিসিজমের অবস্থানরে নীচা করে দেখারে চেলেঞ্জ করতেছে। আর্টরে কোনো চরিত্র ঠিক করার নছিহত হিসাবে ট্রিট করতে অস্বীকার কইরা মোরাল আর্ট মানে ভালা আর্ট হইবোই কিনা এমন খোলাখুলি প্রশ্ন তুইলা অস্কারের আর্গুমেন্ট ওই আমলের নৈতিক নিষ্ঠার মুখের উপ্রে চড় মারতেছে। তার আর্গুমেন্টগুলা ইউটিলিটারিয়ানিজমের আর্টরে সামাজিক উপকারের পাল্লায় মাপার দাবির উল্টা দাবি করে যে, সবচেয়ে উঁচা দরজার আর্ট পুরাই আকাইম্মাও হইতে পারে, যার অস্তিত্বের একমাত্র উপকার হইলো মনের আনন্দ আর কল্পনার উদ্দীপনা।
তার ওপর অস্কারের দাবি হইলো, ক্রিটিসিজম আর্টের উপ্রে বাঁইচা থাকা কোনো পরগাছা না, বা ধান ভানলে চালের সাথে বাইর হওয়া কুঁড়া না। ক্রিটিসিজম নতুন কোনো কিছু সৃষ্টি করার সমান মাপেরই কাজ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যেই আর্টওয়ার্কের ক্রিটিসিমজ করে লেখা তার চেয়েও বেশি ইমেজিনিটিভ। অস্কারের কাছে, ক্রিটিক তার আপনা বিচারেই একজন আর্টিস্ট যে অর্থরে নতুন আলোতে দেখায়, না দেখা গভীরতাগুলারে তলায়ে দেখায়, সৃষ্টি হইয়া যাওয়ার পরেও আর্টওয়ার্কগুলার মধ্যে নতুন রুহু ফুঁকে দেয়। তখনকার চলতি ভিক্টোরিয়ান চিন্তা-ধারায় ক্রিটিকরে মামুলি বিচারক বা দাড়োয়ানের মত করে দেখা জায়গা থেকে এমনে সরে আসাটা আছিলো প্রায় উস্কানিমূলক। ভক্তরা এই আইডিয়ারে দেখছিলো আজাদী হিসাবে, আর্টের ফর্মের বদলে আর্টের সাথে ইন্টেলেকচুয়ালভাবে সাক্ষাত করারে উঁচা দরজা দেওয়া হিসাবে। হেটার্সরা, কিন্ত অস্কাররে ঠিকই অসংযমী আর আর্টিস্টের গুরুত্বরে ছোট করে দেখাইতে চাওয়ার দোষে দোষী কইছে। তার থিওরিরে অধপাতে যাইতে থাকা এস্থেটিসিজমের আরেকটা লক্ষণ কইয়া তুচ্ছ করছে।
এই প্রবন্ধ এস্থেটিক মুভমেন্টের সৈনিকরার উৎসাহের উৎস হওয়ার পাশাপাশি মুভমেন্টের আদর্শগুলার প্রতি সন্দেহবাদীরার মুখের উপ্রে কড়া জবাব। Continue reading