আইডিয়ালিজমের লিলাখেলা
১.
ফেছবুকে ইমরুল হাসান তার এক পোস্টে ‘একাডেমিক শিট’ বইলা দুইটা টার্ম ইউজ করছেন, তাতে ফাহমিদুল কইতেছেন, এইটা ‘স্ট্রং ওয়ার্ড’, জিগাইতেছেন, এইভাবে কওয়ার মানে কি?
এই কাহিনি আমার নজরে আইলো হিমেলের পোস্ট দেইখা। ইমরুলের পোস্টে কমেন্ট দিছিলেন হিমেল, পরে ওনাদের ঝামেলা হয়, নিজের কমেন্ট শুদ্ধা ঘটনাটা জানাইছেন হিমেল; আমার এই আলাপটার গোদা বা মেইন কারন হিমেলের কমেন্ট।
হিমেলের আর্গুমেন্টের গোড়ার কথা হইলো, বাংলাদেশে একাডেমি নাই। তাই একাডেমিতে ভালো কাম না থাকাটা নরমাল।
ফাহমিদুল হক মনে হইতেছে হিমেলের লগে একমত না, নিজে একাডেমির লোক বইলা একটু বাড়তি গায়ে লাগলো ওনার, তাই ‘একাডেমিক শিটে’ আপত্তি জানাইলেন উনি; এমনকি ইমরুল জে ওনার নামও লইলেন, তাতেও উনি জানাইলেন না জে, ‘আমি তো একাডেমির লোকই না, ভুল হইছে আপনের।’!
হিমেলের জুক্তির ঐ গোড়াটা মোহাম্মদ আজমে, এই লোকও ঢাকা ভার্ছিটি নামে এক একাডেমির মাইনা খাওয়া মাশটার; এবং ইনিই কইতেছেন বাংলাদেশে ভার্ছিটি নাই আদৌ।
এই বেপারে পুরানা একটা ফেছবুক পোস্ট দিতেছি নিচে। তাতে কইতেছিলাম, এগুলা আইডিয়ালিস্ট কথা।
এগুলা কইবার শুবিধা হইলো, খারাপের দায় এড়ানো জায়; একাডেমি জদি না থাকে, তাইলে তো আপনে একাডেমির কাম তার কাছে চাইতে পারেন না, একাডেমির কাম হিশাবে কারো কাম জে খারাপ শেইটাও কইতে পারতেছেন না; জে একাডেমি না, শে কেন একাডেমির কাম করবে!?
হিমেল এই দায়মুক্তির কামটাই কইরা দিছেন, ফাহমিদুল বা আজমদের পোটেকশন দিলেন এইভাবে! লগে হিমেল আরো কইতেছেন, একাডেমি নাই বইলা কামের কোন চেশ্টাও নাই, জারা কাম করেন তারা নিজের বাশনা মোতাবেক নিজের খাইয়া কাম করতেছেন, তার কাছে ভালোর আশা করা জায় না!
বাস্তবে বেপারটা কি হিমেলের দাবির মতো? একদমই না! ঘটনা মোটামুটি উল্টা, অন্তত ফাহমিদুল বা আজমের মতো একাডেমির লোকদের জন্য! কেমন?
লেখাজোখা, চিন্তা বা রিছার্চের জন্য ফাহমিদুলরা পয়শা পান, একাডেমিই দেয়, অনেকগুলা ফর্মে দেয়; ডাইরেক রিছার্চ ডোনেশন তো আছেই, আরো আছে পোরমোশন, ইনক্রিমেন্ট; এনারা রিটায়ার করলে কোটি টাকা পাইবেন; একাডেমির এই পরিচয় দিয়া মিডিয়ায় লেইখা, টকশো কইরা পয়শা পান; পেরাইভেট ভার্ছিটিতে কামাই করেন।
এই জে এতো এতো পয়শা/মজুরি পাইলেন, তারপরও জদি কাম/চিন্তা খারাপ করেন, শেই দায় কি বেক্তি লইবেন না? লইতে হয় না জদি মানি/কই জে, দেশে একাডেমিই নাই!
ইমরুলের পরিচয় হিশাবে হিমেল একটা বাড়তি কথা লিখছেন জে, ইমরুল একজন ব্যাংকার। কথা শত্য। কিন্তু এইটা বাড়তি, কিন্তু কইবার পিছে আবার একটা ধান্দা আছে! মাশরুর জে ব্যাংকার, তাতে তার কবি-লেখক হবার ঘটনায় একটা টিটকারি পেরায়ই দেখা জায় দেশের আর্ট-কালচারের লোকজনের ভিতর, হইতে জেন পারবেন না, তার শেই হক তো নাই-ই, এখতিয়ারও তো থাকার কথা না! ইমরুলের ঐ পরিচয় দিয়া হিমেল আশলে ঘটনাটারে ঐ কালেকটিভ মেমোরিতে কানেক্ট করছেন, মাশরুরের দুশমনদের লেলাইয়া দেবার একটা ধান্দা!
কিন্তু এই পরিচয়ের আরেকটা অর্থ আছে শত্যই! বাস্তবে ইমরুল বা মাশরুরই বরং নিজের খাইয়া চিন্তা/লেখা/রিছার্চ করতেছেন, মজুরি ছাড়াই, নট ফাহমিদুলস্! এতে বরং ব্যাংক বা আর শব পেশার লোকের লোকশান উল্টা, এই টাইমটা নিজেদের পেশায় দিলে আরো দুই পয়শা কামাই করতে পারতেন! একই কাম এই আমিও করতেছি, লাখ লাখ শব্দ লেইখাও এই বছর নিজের বা বাচ্চাদের জন্য লিচুও কিনতে পারি নাই ১/২ দিনের বেশি। অন্য জেই কাম পারি টুকটাক তাতেও এক্সপার্ট লেভেলে জাইতে পারি নাই। আমার মতো এমন হাজারো লোক কোরবানি দিতেছে হরদম, নট ফাহমিদুলস্!
দায় এড়াবার দাবি আমরা করতে পারি হিমেলের চিন্তা মোতাবেক; কিন্তু আমার মতে পারি না; কেননা, আমরা একটা দায়িত্ব নিছি শমাজে, মজুরি ছাড়া হইলেও দায়িত্বটা নিছি, এমনকি নিজের মনে হইলেও, খারাপের দায় আমরা এড়াইতে পারি না; দেশে ভাবার পরিবেশ নাই কইয়াও দায় এড়াইতে পারি না, হিমেল আমারে রাস্তা বাতলাইয়া দিলেও এড়াবার খায়েশ নাই কোন!
ওদিকে, ফাহমিদুলদের পয়শা দিয়া পোশে জনতা, তারা কেমনে পারবে? একাডেমি নাই কইয়া আকাইমা হইয়া থাকা ফৌজদারি মামলা একদম, আজম বা হিমেলের কথা মানার উপায় নাই।
Continue reading