Main menu

আমার জবাব – আবদুল হামিদ খান ভাসানী

স্বাধীনতার পরে ১৯৭২ সালে মাওলানা ভাসানী যখন আবার “সাপ্তাহিক হক-কথা” পত্রিকা ছাপাইতে শুরু করেন, তখন অই পত্রিকাতে একটা কলাম ছাপা হইতো, “আমার জবাব” নামে। পাঠকের প্রশ্নের উত্তর উনি দিতেন। খুব বেশি প্রশ্ন-উত্তর যে ছাপা হইছিল তা না, ছয়টা প্রশ্নের উত্তর আমরা খুঁইজা পাইছি। সংখ্যায় কম হইলেও, অই সময়ের কনটেক্সটেই না খালি, ভাসানীর পলিটিক্যাল পজিশন বুঝার ব্যাপারেও এই ছোট প্রশ্ন-উত্তরগুলা ইম্পর্টেন্ট বইলা আমরা মনে করতেছি। 

এডিটর, বাছবিচার

 

…………………….

[১০ই মার্চ, ১৯৭২]

আবু তাহের, ঘাটাইল: আপনি পাকিস্তান আন্দোলন করিয়াছিলেন ইহা যতদূর সত্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করিয়াছেন ইহাও ততদূর সত্য। কিন্তু আজ যে সত্য উপলব্ধি করিয়াছেন ২৫ বৎসর আগে তাহা অনুধাবন করিতে পারিলে এত রক্তপাত হইত না। আপনি তজ্জন্য অনুতপ্ত নন কি ?

উত্তর: আমি মোটেই অনুতপ্ত নই। কারণ ২৫ বৎসর পূর্বে যে রাজনীতিতে পাকিস্তান আন্দোলন করিয়াছিলাম আজও তাহাই করিতেছি৷ সেই রাজনীতির ভিত্তি ছিল অর্থনীতি, ক্ষমতার টোপ নহে। হিন্দু জমিদার, মহাজন, জোতদরি, প্রভৃতি শ্রেণী গরীব মুসলমান কৃষক-মজুরদের উপর যে শোষণ ও নির্যাতন চালাইয়াছিল ইহারই প্রতিক্রিয়ায় শোষণমুক্তি আন্দোলনের প্রতীক স্বরূপ আমরা পাকিস্তান আন্দোলন করি। কিন্তু দেখা গেল শোষকের কোন ধর্ম নাই। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর শোষণ তো গেলই না বরং শোষকের চেহারা বদলিল মাত্র। গরীব আরও গরীব হইল। ধনী আরও ধনী হইল। তাই আবার অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য স্বাধীনতা কায়েম করিয়াছি। রাজনৈতিক চেতনা ও উপলব্ধি নিঃসন্দেহে সমসাময়িক পরিবেশের আলোকে গৃহীত হয় এবং যদি তাহাতে অন্ততঃ তখনকার জন্য হইলেও সত্য ও ন্যায়ের পথে মানুষের কল্যানের সম্ভাবনা নিহিত থাকে তবে সেই আন্দোলন ও জাগরন কোন না কোন অর্থে স্বার্থক ।

[১৭ই মার্চ, ১৯৭২]

শেখ আবদুল আজিজ, ঢাকা: আপনার হক কথায় পরস্পর বিরোধী বিষয় পেশ করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি। আপনি প্রগতিশীল রাজনীতিকে বিপ্লবী ছাঁচে ঢালাই করে বাংলাদেশকে বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে আলোচ্য বিষয় করছেন। আপনার পত্রিকায়ও সেই আলোকে লেখা বের হচ্ছে ঠিকই কিন্তু তৎসঙ্গে ধর্ম সংক্রান্ত  বিষয়াদি নিয়ে আলোচনার অবতারণা না করলেই ভাল হত। কারণ আগেই বলেছি, তা পরস্পর বিরোধী। আপনি কেন এতে ইন্টারেস্ট দেখাচ্ছেন?

উত্তর: কোন্‌টা প্রগতিশীল, কোন্‌টা বিপ্লবী এসব যাচাই করে আমি কোন দিন রাজনীতি করিনি । বরং আমি যা করেছি তা বিশ্লেষণ করে আপনারা যা খুশী আখ্যা দিয়েছেন! আমার কিছু আসে যায় না। কারণ আমার আসল দ্রষ্টব্য বিষয় হচ্ছে কিসে মানুষের কল্যাণ নিহিত আর আমি ন্যায় ও সত্য পথে আছি কিনা।

ধর্মের আনুষ্ঠানিকতা ও এর প্রতি মানুষের অন্ধ আকর্ষণকে একসপ্লয়েট করে রাজনীতি করা আমি কোন দিন পছন্দ করি নি। যতদূর জনি, আমি তা করিও নি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি নিরেট বস্তুবাদকে ভিত্তি করে কোন রাজনীতি-অর্থনীতিই মানুষের চূড়ান্ত স্থায়ী কলাণ সাধন করতে পারে না। মানুষকে যতদুর বাস্তববাদী হওয়া দরকার ততটুকু তাকে হতেই হবে । এর মানে এই নয় যে তার আত্মার অনন্ত খোরাককে অস্বীকার করবে। সাহিত্য ও ললিতকলা যেমন বস্তুভিত্তিক চেতনার উন্মেষ ঘটাতে পারে ঠিক তেমনি মূল্যবোধ মানুষকে শক্তি এবং সমৃদ্ধি দিতে পারে বলে প্রমাণিত হয়েছে। সেই প্রমাণের অসব্যাখ্যায় ও অপপ্রযোগে যারা রাজনীতি খাড়া করে তারা মানবতার এক নম্বরের দুশমন।

ইতিহাসে দুটি দিকই রয়েছে। একদিকে স্বার্থপর শ্রেণী লোকজনকে ধোঁকা দিয়ে শোষণের কৌশল শক্তিশালী করেছে। সঙ্গে সঙ্গে সত্যিকার ধর্ম মানুষকে সরল ও সোজা পথে রেখে বিশ্ব শন্তি ও বিশ্ব কল্যাণে অনস্বীকার্য অবদান প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই প্রমানিত হয়েছে, মাছ যেইরূপ পানি ছাড়া জীবিত থাকতে পারেনা ঠিক তেমনি মানুষের আত্মা যে কোন ধর্মের মর্মবাণী অস্বীকার করতে পারে না। ভন্ডদের ধর্মকে ঝেটিয়ে দূর করতে পারলে সত্যিকার ধর্ম মানব জাতির শুধু আত্মিক উন্নতি সাধন করবে না, বিশ্ব শান্তি ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের ভাব কায়েন করতে যথেষ্ট সাহায্য করবে। তবে হ্যাঁ, ধর্মে মর্ম বাস্তবানুগ ও বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টি ভঙ্গীতে গবেষণা, যাচাই ও উপস্থাপন করতে হবে।
Continue reading

দেরিদা অন শোয়াহ

This entry is part 9 of 29 in the series ইন্টারভিউ সিরিজ

যে ইন্টারভিউখান আপনেরা পড়বেন বইলা ঠিক করছেন(!) সেইটা জেরুজালেমের ইয়াদ ভাশেমে বইসা গ্রহণ করা হয় ১৯৯৮ সালে। ড মিশাল বেন-নাফতালি এই ইন্টারভিউটা নেন। জ্যাক দেরিদা তখন ইসরায়েল ট্যুরে ছিলেন।

ইয়াদ ভাশেম হইল জেরুজালেমের একটা মিউজিয়াম, যেইটা শোয়াহ বা হলোকস্টের ভিকটিমদের জন্য একটা মেমোরিয়াল এবং আর্কাইভ হিসাবে সার্ভ করতেছে। হিব্রুতে হলোকস্টরে শোয়াহ কওয়া হয়। ইসরায়েলে এর ইউজ আছে। তবে ইউজ শুরু হয় এইটা ১৯৪০ হইতেই। দেরিদার এই ইন্টারভিউও মূলত শোয়াহ-র উপরেই।

– ইব্রাকর ঝিল্লী

……………………………….

(ইন্টারভিউ’র দুইটা অংশ এইখানে ছাপা হইলো।)

হাইডেগার, স্পিরিট ও ইউরোপীয় কালচার

বেন-নাফতালি: আপনে যখন হলোকস্ট পরবর্তীকালে ফরাসী প্রেক্ষাপটের সাথে জার্মান প্রেক্ষাপটের তুলনা করেন, তখন আপনে কি কোন বলার মতন ফারাক দেখতে পান দুই সিনারিওর মইধ্যে? হাইডেগারের ফিলোসফির ব্যাপারে যে রেসপন্স তা নিয়া যেনবা জার্মানদের তুলনায় ফরাসী চিন্তকেরা অধিক বিচলিত হইয়া গেছিলেন, এইটা কেন? নাকি এইটা একটা দেখার ভ্রম? মানে উভয়পক্ষই কি বিচলিত ছিলেন, ভিন্নভিন্নভাবে? হইলে, কী ভাবে? আপনে কি মানেন যে আপনার নিজের চিন্তার ভিতরেই এইরকম একটা প্রকাশ লক্ষ্য করা যাইতেছে, যেইটা হাইডেগারের সাথে একদম ঘনিষ্ঠভাবে জড়ায়ে গেছে, পষ্ট কইরা বললে, যেইটা হাইডেগারের রাজনৈতিক-দার্শনিক বিন্যাসের সাথে জড়ায়ে আছে? ‘De l’esprit’ এই ধরণের কোন পরিস্থিতির বাইরে লেখা সম্ভব ছিল আদৌ? আপনে কি এইটা আবার লেখতেন, হাইডেগারের যে ভুলটা আপনে ধরতেছেন “স্পিরিচুয়ালাইজিং নাৎসিজম”, সেইটারে কারেক্ট কইরা? এই যে বিচার আপনের এইটা কি কোনভাবে ক্ষমাশীলতার কথা প্রমোট করতে চায়?

দেরিদা: আপনের শেষ প্রশ্নটার জওয়াবে আমি কইতে চাই যে, হাইডেগারের যে এটিচ্যুড সেইটা ক্ষমার যোগ্যও না, আবার অযোগ্যও না। আমি বুঝতেছি না, আমি বা, যে কেউই, এইরকম একটা প্রশ্ন এই টার্মে ঠিক কেমনে করতে পারতাম। কারুর আদৌ হাইডেগাররে ক্ষমা করার দরকারটা কী? আসেন এইরকমের একটা আন্দাজা হইতে শুরু করি যে হাইডেগারের এটিচ্যুড সীমা-পরিসীমা ছাড়ায়া গিল্টি। এই রকম ধইরা নিলেও, কার আসলে সেই অধিকারটা আছে যে বলবেঃ “আমি ক্ষমা কইরা দিলাম,” বাঃ “আমি ক্ষমা করলাম না”? আমি জানি না। ইন এনি কেইস, আমার কথা কইতে পারি যে আমার সেই রাইট নাই। এই পুরা বিষয়টার সাথে আমার সম্পর্ক কখনোই কোন বিচারকের জায়গা থেকে ছিলো না, এমন কোন জায়গা থেকে ছিলো না যে কিনা একটা বই বা বক্তিমাঃ “হাইডেগার দোষী এবং আমি উনারে ক্ষমা করি না” এইরকম একটা লাইন দিয়া শেষ করার তাড়াহুড়ার ভিতরে আছে। এই রকম কিছু একটা করা আমার জন্য খুবই কঠিন।

এখন আপনের সওয়ালের গোড়াতে ফিরা যাইতে চাই, অফ কোর্স, শোয়াহ-র প্রতি ফরাসীদের, বিশেষ কইরা ফরাসী দার্শনিকদের যে এটিচ্যুড আর জার্মান ও জার্মান দার্শনিকদের যে এটিচ্যুড এ দুয়ের মইধ্যে মেলা ফারাক আছে। প্রথমত, এই অবভিয়াস কারণে যে, ফরাসীরা ফরাসী আর জার্মানরা জার্মান। জার্মানদের যে গিল্ট যুদ্ধের পরে, জার্মান নাগরিকরা বা জার্মান দার্শনিকেরা যখন সেইটা ফিল করছে –অনেক ক্ষেত্রেই কোন গিল্টি ফিলিং ছিলো না, কিন্তু যখন সেইটা এগজিস্ট করছে- তখন সেইটা এত ব্যাপক ও ভায়োলেন্ট ছিলো যে তারা নিৎসে ও হাইডেগারের কিছু টেক্সট কার্যত নিষিদ্ধই কইরা ফেলে, বিশেষ কইরা, যুদ্ধের পরপর যেগুলি ব্যানড করা হইছিল। দেখা যায় যে হাইডেগাররে বিচারের আওতায় আনা হইতেছে, হাইডেগাররে – এইটারে কীভাবে বলা যায়? – কারিকুলাম হইতে ছাইটা ফেলা হয়, এইরকম একটা রায়ও ছিলো। এই ব্যাপারে জার্মান দার্শনিকদের অফিসিয়াল এটিচ্যুড ছিলো, পাবলিকলি, নিৎসে আর হাইডেগারের কাজকামরে গণহারে বাতিল হিসাবে সাব্যস্ত করা, এবং এইটা বহুদিন ধইরা চলে। এই কিছুদিন হইলো এই সেন্সরশীপ, বা এই বাতিল করা, বা উহ্য রাখার টেন্ডেন্সি কতক কমতে শুরু হইছে।

এর বিপরীতে ফ্রান্সে বিষয়গুলি আরেকটু জটিল ছিল এবং যেকোনভাবেই হউক আরেকটু সহজও। হাইডেগারের প্রভাব যুদ্ধের আগে আগে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে; এবং যুদ্ধের পরে সার্ত্রে ও মার্লো-পন্টির (Maurice Merleau-Ponty) মত দার্শনিকেরা সহ আরও অনেকে, যেমন লেভিনা, যাদের হাইডেগারের ব্যাপারে ইন্টারেস্ট ছিলো, তারা তাদের ইন্টারেস্টটা ধইরা রাখতে থাকে। যুদ্ধের সময়, যুদ্ধের আগে, নাৎসিজমের আন্ডারে হাইডেগারের এটিচ্যুড লইয়া একটা রাজনৈতিক তর্কাতর্কি শুরু থেকেই জারি আছে। একদম শুরুতে, “Temps Modernes” এ হাইডেগাররে লইয়া কামের প্রথম ওয়েভটা আসে, তারপর এইটা কিছু ঝিমায়ে আসে, পরে আবার পঞ্চাশ, ষাইট ও সত্তুরের দশকে হাইডেগাররে লইয়া প্রচুর দার্শনিক লেখালেখি হয়, তারে নিয়া যে রাজনৈতিক কোশ্চেন আছে সেই কোশ্চেন এইসব আলাপরে তেমন হ্যাম্পার করতে পারেনাই। এবং তারপরে সেই সময়ের প্রশ্নটা আবার সামনে আসে, জেনারেশনের প্রশ্ন, শোষণরে ব্যর্থ কইরা দেওয়ার প্রশ্ন ইত্যাদি ইত্যাদি (যেগুলার প্রত্যেকটাই গভীরভাবে বিশ্লেষণের দাবি রাখে) – সামনে আসতে থেকে, এবং আপনে জানেন, এইভাবে আশির দশকের মাঝামাঝিতে হাইডেগাররে নিয়া আবার বিতর্কের শুরু হয়। Continue reading

ফিল্ম হইলো সত্যের জন্য সেকেন্ডে চব্বিশবার মিথ্যা বলা – মিশাইল হানেকে

মিখাইল হানেকে জন্মাইছিলেন ১৯৪২ সালে, জার্মান বাপ আর অস্ট্রিয়ান মায়ের ঘরে। ভিয়েনায় সাইকোলজি, ফিলসফি আর ড্রামা নিয়া পড়তে যাওয়ার আগে উনি তার কৈশোর কাটাইছিলেন উইনার নয়স্টাটে, তার খালা আর নানীর কাছে। এর কয়েকবছর পরেই হানেকে নিজের ফার্স্ট ফিচার ফিল্ম বানাইছিলেন। ডের সিয়েবেনতে কন্টিনেন্টের কাহিনী (দ্যা সেভেনথ কন্টিনেন্ট) একটা জুয়ান আর সচ্ছল ফ্যামিলির অস্ট্রেলিয়াতে ইমিগ্রেশন করার স্বপ্ন নিয়া। এটা বুঝায়ই যায় শেষপর্যন্ত এই স্বপ্ন যে পূরণ হয় না (হানেকের কাজের লগে পরিচিতমাত্রই বুঝবেন)। ওরা ওদের টাকাগুলা টয়লেটে ফ্লাশ কইরা দেয়, গোল্ডফিশগুলারে মাইরা ফেলে, শেষে নিজেরাও মইরা যায়।

এরপর থেকেই হানেকে উনার ফিল্মে টপিক চয়েজ আর সিনেমার দুর্দান্ত ভাষা নির্মান, দুইদিক দিয়াই সমানতালে মুন্সিয়ানা দেখায়া যাইতেছেন ৷ এইটা উনার জন্য সমালোচনা আর হাততালি দুইটাই আইনা দিছে। কারো কাছে উনি ভয়-ডরের মন্ত্রী, কারো কাছে হররের মাস্টার, ইউরোপের সেরা আর্টিস্ট বা কারো কাছে স্রেফ একজন স্যাডিস্ট। হানেকের ফিল্মগুলারে যদিও ভায়োলেন্ট কওয়া হয়, কিন্তু উনার ফিল্মের বেশিরভাগ ভায়োলেন্সই হয় অফস্ক্রিনে। হানেকের ক্যামেরা উইন্ডশিল্ডে থ্যাতলানো মগজের মতো ক্লিশে বা হলিউডের টর্চার পর্নরে ফলো করে না ৷ এগুলা বরং হালকা চালের, ডেইলি লাইফের নানা জিনিসের মধ্যে যে নিষ্ঠুরতা থাকে সেগুলা নিয়াই, যেগুলার প্রতি দর্শকরা এখনো নাম্ব না। এরমধ্যে আছে ছোটখাটো বুলিং, কারো কথা কেউ না শুনা, ক্লাস আর প্রিভিলিজের ডিল্যুসনগুলা।

হানেকের প্রথমদিকের মুভিগুলা, যেমন বেন্নি’স ভিডিও (১৯৯২) আর ৭১ ফ্যাগমান্তে আইনার ক্রনোলগি ডেস জুফালস (৭১ ফ্র‍্যাগমেন্টস অফ আ ক্রনোলজি অফ চান্স) (১৯৯৪) –  ইন্টারন্যাশনাল দর্শকদের কাছে তেমনভাবে পৌছায়ই নাই। এরপর ২০০১ সালে হানেকে যখন এলফ্রিডে জেলিনেকের নোভেলের এডাপ্টেশন লা পিয়ানিস্তে বা ‘দ্যা পিয়ানো টিচার’ বানায়, সেটা  কানে গ্র‍্যান্ড প্রিক্স জিইতা নেয়। এটাই হানেকেরে তাবৎ দুনিয়ার কাছে পরিচয় করায়ে দেয়। এরপরের বছরগুলাতে ক্যাসে (২০০৫), আর ফানি গেমসের (২০০৭) আমেরিকান রিমেক বাইর হয়। ফানি গেইমস হানেকের সবচেয় বেশি সিনিকাল কাজ, যেটার আগের অস্ট্রিয়ান ভার্সনটা বাইর হইছিল ১৯৯৭ সালে। ডাস উইবে ব্যান্ড (দ্যা হোয়াইট রিবন) (২০০৯) আর আমর (২০১২) – এই দুইটার জন্য হানেকে কানে পাম ডি’অর পাইছিলেন। আমর পরে সেরা বিদেশি সিনেমার জন্য একাডেমি এওয়ার্ডও জিতে। সিনেমা বানানোর পাশাপাশি হানেকে অপেরায় ডিরেকশন দেন আর ফিল্মেকাডেমি উইনে মাস্টরি করান।

………………………

ইন্টারভিউয়ার: আপনি যখন জুয়ান ছিলেন, মানে টিনএজার- কখনো ভাবছিলেন একদিন বড় হয়া ফিল্মমেকার হইবেন? নাকি আপনের ফোকাস অন্যান্য আর্টের দিকে ছিল?

হানেকে: বেশিরভাগ মানুষের মতোই টিনএজের জ্বালাযন্ত্রণার মধ্যে থাইকা, আমি কবিতা লেখতে শুরু করছিলাম। কিন্তু সত্যিকার অর্থে আমার এক্টর হিসেব ট্রেইনিং নেওয়ার জন্য  স্কুল থেকে ড্রপ আউট হওয়ার ধান্দা ছিল। আমি আসলে এক্টিং করে এমন মানুষে ভর্তি একটা ফ্যামিলি থেকে আসছি, আমার আম্মা অভিনয় করতেন, আমার আব্বাও এক্টর আর ডিরেক্টর ছিলেন। একদিন তো আমি স্কুল পালায়া মাক্স রাইনহার্ড সেমিনারে অডিশন দেওয়ার জন্য ভিয়েনার উইনার নয়স্টাটে যাওয়ার ডিসিশন নিছিলাম। ওইখানে সবাই আমার আম্মারে চিনতো, আমার নিজেরে খুবই লাকি মনে হইত। কিন্তু ওরা সেইসময় আমারে অভিনয়ে নেয় নাই, খুবই প্যারা খায়া গেছিলাম আমি। শেষপর্যন্ত হাইস্কুলের ডিপ্লোমা নিতে হইছিল আমারে। তো এইসময় স্টুডেন্ট হিসেবে আমি লেখালেখি নিয়া বেশি সিরিয়াস হইয়া উঠছিলাম। আমি রেডিও আর কয়েকটা ম্যাগাজিনে ক্রিটিক হিসাবেও কাজ নিছিলাম। সেইসময় আমি সাহিত্য আর ফিল্মের রিভিউ লেখার কাজগুলা করতাম, যদিও এগুলা নিয়া আমি নিজেই খুব বেশি জানতাম না।

এই একই সময়েই, আমি ছোটগল্প লেখা শুরু করছিলাম। যেইসময় আমার ছেলে হইলো, আমার আব্বা-আম্মা সিদ্ধান্ত নিছিল আমার থেকে আলাদা হয়া যাবে, তো আমার জন্য ইনকাম করা জরুরী হয়া গেছিল। আমি কোন প্রকাশনীতে চাকরি খুজতেছিলাম, কিন্তু শেষে  এক নামকরা পাব্লিকেশন  হাউজে নিজের কয়েকটা গল্প পাঠায়ে দিছিলাম। ওরা সাথে সাথেই আমারে আরো গল্প দিতে বলছিল। কিন্তু আমি তো আসলে চাইছিলাম এডিটরের চাকরি। কিন্তু ওইখানে কোন চাকরি ছিল না। ওইসময়ে আমি খুবই আপসেট ছিলাম, কিন্তু সিম্পলি আমার লেখালেখিও চালায়ে যাইতেছিলাম।

…………….

 

ইন্টারভিউয়ার: …ছেচল্লিশ বছর বয়সে আপনার ফার্স্ট ফিচার ফিল্ম যখন বাইর হয়, এই লেখালেখির ব্যাপারটা ছিল তারও অনেক আগে। আপনে কেমনে এই লেখালেখির জিনিসগুলা শিখছিলেন?

হানেকে: আমি যখন জুয়ান ছিলাম, প্রতি সপ্তাহে তিনবার সিনেমা দেখতে যাইতাম। আমি এখনকার তুলনায় তখন ভালোই সিনেমাপাগল ছিলাম। সিনেমা নিয়া আমি যা যা জানি সবই সেইসময়গুলাতে কেয়ারফুল্লি দেইখা দেইখা শিখছি। আমি প্রায়ই আমার স্টুডেন্টদেরকে বলি যে তারা কত সুবিধা পাইতেছে। এখন তো আপনি একটা ডিভিডি কিনে প্রত্যেকটা শট আলাদা কইরা দেখতে পারবেন। আমাদের জুয়ানকালে তো এগুলা সম্ভব ছিল না। যদি এমন কিছু হয় – ধরেন আপনে সিনেমার কিছু একটা ধরতে পারলেন না, বা কোন সিকোয়েন্স ক্লিয়ার হইলো না, আপনেরে হয়তো দশবার আবার সিনেমাটায় ফিইরা যাইতে হবে। এখনকার দিনে তো আপনে ঘরের মধ্যে আরামে বইসা সবকিছু ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতে পারেন। যাই হোক, আমি যখন জুয়ান ছিলাম, সত্যিকারের সিনেমাখোর ছিলাম একটা। 

পাব্লিকেশন হাউজটা আমারে রিজেক্ট করার পর আমি ব্যাডেন-ব্যাডেনের (Baden-Baden) একটা টিভি স্টেশনে ইন্টার্নি করছিলাম। ওরা নতুন একজন নাটকের ডিরেক্টর  খুজতেছিল, আর শেষপর্যন্ত আমারেই ওই কাজ দিছিল, কারণ আমার আগে এখানে খালি বেক্কলরাই কাজ করছে। আমি হইয়া গেলাম জার্মানির সবচেয়ে কমবয়সী টিভি নাট্যকার, আর সাথে সাথে ফিল্মের উপর আরো আমার বেশি প্রফেশনাল ইন্টারেস্ট জন্মাইতে থাকলো। ওই তিনবছরের সময়টাতে আমার স্ক্রিপ্টরাইটিং নিয়া যা যা শিখার ছিল সব শিখা হইয়া গেছিল। আর সবকিছুর মধ্যে আমার যেটা বেশি কাজে লাগছিল সেটা হইলো বিরক্তিকর স্ক্রিপ্টগুলা পড়া। ওই তিনছরের মধ্যে দুইবছরই আমার জন্য প্রতিদিন ওইসব স্ক্রিপ্টগুলা (যেগুলারে বলা যায় অদরকারী ম্যানুস্ক্রিপ্ট) ওয়েট করতো । খারাপগুলাই ছিল বেশি উপকারী। ধরেন প্রথমে আপনে ভাবলেন এই লেখায় কিছু একটা কাজ করতাছে না। আপনে নিজেরে জিগাবেন, কেন কাজ করতেছে না। টেরিবল স্ক্রিপ্ট পড়া আপনারে অনেককিছু শিখাইতে পারে। আর ভালো একটা দুইটা এতোই আনন্দ দিত যে আপনে ওইটা খুজতে ভুইলা যাবেন যে কেন এটারে ভাল্লাগতাছে। যদি এইসময়ে কেউ আমারে নিয়া বলে, যে আমার স্ক্রিপ্টগুলা খুবই প্রফেশনাল, এইটা হইছে মেইনলি ওইসময়ের কাজগুলার জন্যই। আমারে অনেক হেল্প করছে এটা , যদিও একটুও মজা পাই নাই কাজগুলা কইরা। আসলেই এগুলা খুব বিরক্তিকর ছিল – সারদিন গুয়ের মধ্য দিয়া হালচাষের মতো। Continue reading

অলঙ্কার না Badge of slavery? – রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ( ডিসেম্বর ৯, ১৮৮০ – ডিসেম্বর ৯, ১৯৩২), যিনি বেগম রোকেয়া নামে বেশি পরিচিত, উনার লেখাপত্র অনেক পাবলিশারই বই হিসাবে ছাপাইছেন, অনলাইনেও উনার লেখা এভেইলেবল, খুঁজলে পাওয়া যায়। গল্প-কবিতা-উপন্যাস লেখলেও ‘সুলতানা’স ড্রিম’র বাইরে উনার নন-ফিকশন লেখাগুলাই এখনো পপুলার। সুলতানা’র স্বপ্ন একটা ওয়ার্ল্ড ক্ল্যাসিক আসলে।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসনের বাপ জহীরউদ্দিন মোহাম্মদ আলী হায়দার সাবের ছিলেন রংপুরের মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ গ্রামের জমিদার। রোকেয়া উনার আম্মা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরাণী’র লগে কলকাতায় থাকার সময় একজন ইংরেজ মহিলার কাছে কিছুদিন পড়াশোনা করছিলেন। উনার বাপ উনারে ফরমাল পড়াশোনা করতে দেন নাই। ভাই-বইনের কাছ থিকা এবং নিজের আগ্রহে উনি বাংলা, উর্দু, ফারসি, আরবি এবং ইংরেজি ভাষা শিখছিলেন। উনার লেখাতেও অইসব ভাষার টেক্সটের রেফারেন্স পাইবেন।

১৮৯৮ সালে বিহারের ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখওয়াৎ হোসেনের সাথে উনার বিয়া হয়। বিয়ার পরে সাখওয়াৎ হোসেন রোকেয়ারে উনার পড়াশোনার ব্যাপারে হেল্প করেন। ১৯০২ সালে রোকেয়া’র ফার্স্ট লেখা ছাপা হয়। উনাদের দুইটা বাচ্চা হইলেও অল্প বয়সে দুইজনই মারা যায়। ১৯০৯ সালে সাখায়াৎ হোসেন মারা যাওয়ার পরে উনার রাইখা যাওয়া টাকা দিয়া ভাগলপুরে “‘সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল” বানাইছিলেন রোকেয়া। কিন্তু ফ্যামিলির চাপে উনারে কলকাতাতে চইলা আসতে হইলে ১৯১১ সালে কলকাতাতে একই নামে একটা স্কুল চালু করেন। মেইনলি এই এক্টিভিজমের কারণেই উনি সমাজে পরিচিত ছিলেন। ১৯৩২ সালে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত উনি উনার এই সোশ্যাল এক্টিভিজম চালু রাখছিলেন।

উনার চিন্তার একটা ঘটনা হইতেছে, চিন্তা ও কাজের মিল। উনি যেই কাজ করছেন, সেইটার লগে মিলায়া চিন্তা করছেন বা যেই চিন্তা করছেন, সেইটা নিয়া কাজ করছেন। (কোন আইডিওলজির কাছে নিজেরে প্রাকটিক্যালিটিরে বন্ধক রাখেন নাই।)  উনার চিন্তা ও কাজ একটা সময়ে অনেক মানুশরে ইনফ্লুয়েন্স করছে, নতুনভাবে ভাবাইতে পারছে।

এখন যখন ‘নারী-শিক্ষা’ ব্যাপার’টা সমাজে আর ‘অশ্লীল’ বা ‘নাজায়েজ’ কোন জিনিস না, মনে হইতে পারে যে, উনার চিন্তার রিলিভেন্স মেবি কমে আসছে। কিন্তু উনার লেখাগুলা পড়লে সেইটা ভুল মনে হইতে পারবে বইলা আমরা মনে করি। ‘নারী-শিক্ষা’ জিনিসটারে উনি একটা টুল হিসাবে ভাবছেন, অইটারেই মঞ্জিলে মাকসুদ ভাবেন নাই।

২.
উনার এই লেখাটা বাংলা ১৩১০ সনে (ইংরেজি ১৯০৩ সালে) গিরিশচন্দ্র সেন সম্পাদিত “মহিলা” পত্রিকার বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ আষাঢ় সংখ্যায় ছাপা হইছিল। ১৩১১-তে নবনূর পত্রিকায় ‘আমাদের অবনতি’ নামে এবং মতিচূর বইয়ে লেখাটা ‘স্ত্রীজাতির অবনতি’ নামে ছাপা হইছিল। “স্ত্রীজাতির অবনতি” নামে এডিটেড ভার্সনটাই অনেক জায়গায় পাইবেন।

“মহিলা” পত্রিকা শুরু হয় বাংলা ১৩০২ সনে, কেশবচন্দ্র সেনের ব্রাহ্মসমাজ এর স্পন্সর ছিল, আর এডিটর ছিলেন গিরিশচন্দ্র সেন। ১৩১৭ সনে গিরিশচন্দ্র সেন মারা গেলে বজ্রগোপাল নিয়োগী এর এডিটর হইছিলেন, কিন্তু এরপরে বেশিদিন আর চালু থাকে নাই।

এই লেখা ছাপা হওয়ার পরে রোকেয়ার এই লেখা নিয়া অনেক তর্ক হয়, অনেকেই লেখাটার “প্রতিবাদ” করেন, সম্পাদক গিরিশচন্দ্র সেনও মোটামুটি ব্যালেন্স কইরা একটা “সম্পাদকীয়” লেখেন। “মহিলা” এবং “নবনূর” পত্রিকা’তে ছাপা হওয়া অই লেখাগুলা আমরা খুঁইজা বাইর করতে পারি নাই। (কেউ যদি খুঁইজা দিতে পারেন, তাইলে তো আমাদের উপকারই হয়।) কিন্তু অল্প কিছু অংশ বাংলা একাডেমি’র ছাপা-হওয়া “রোকেয়া রচনাবলী”তে আছে, অংশগুলা লেখার শেষে রাখা হইলো। খেয়াল করলে দেখবেন, রোকেয়াও উনার টাইমে কোন “সেলিব্রেটেট” রাইটার ছিলেন না, বরং একজন “কন্ট্রোভার্সিয়াল” রাইটারই আছিলেন।

৩.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের চিন্তা ও কাজকাম’রে দুইটা জায়গা থিকা দেখার ধরণ এখন সমাজে চালু আছে। এক হইতেছে, উনি সমাজে “নারী-শিক্ষার” পসার ঘটাইছিলেন, “পিছিয়ে পড়া সমাজে” “নারী-স্বাধীনতার প্রতীক” ছিলেন। এর বিপরীত ঘরানা হইতেছে, “উনি তো ইংরেজ কলোনিয়ালদের খাতিরের লোক ছিলেন”, “কলকাতায় যখন স্বদেশী আন্দোলন চলতেছে তখন ইংরেজদের ডোনেশন নিয়া স্কুল চালাইছেন”। এমনকি এই “বির্তক” মোকাবেলা করতে গিয়া উনারে “পোস্ট-কলোনিয়াল” হিসাবে আইডেন্টিফাই করার আলাপও চালু আছে, স্পেশালি উনার “সুলতানা’র ড্রিম”রে বেইজ কইরা। (এইটা এক ধরণের গ্লোরিফিকেশনের জায়গা থিকাই আসে, যেইটা নিয়া সাবধান থাকাটা দরকার।)

কিন্তু আমরা বলবো, এইরকম “হিরো ভার্সেস ভিলেন” এর ক্যাটাগরি থিকা উনার কাজকামরে বিচার কইরেন না। ভুল হবে সেইটা। বরং একটা নেগোশিয়েশনের জায়গা থিকা দেখেন। দুইটা পক্ষের লগে নেগোশিয়েট করতেছেন উনি। রোকেয়া ইংরেজদের পক্ষের লোক যেমন ছিলেন না, একইরকমভাবে ইংরেজ-বিরোধী ন্যাশনাল-মুভমেন্টে নারীদের রিকগনিশনের কোন জায়গাও যে নাই, এই জিনিস ইন্ডিকেট করার ভিতর দিয়া “স্বরাজ” বা ইনকিলাব-বিরোধী হয়া যান নাই। উনি বরং “নারী-প্রশ্ন”টারে সেন্টার করতে চাইছেন: “পুরুষদিগকেও বলি,—ভ্রাতৃগণ ! আমরা স্বাধীন না হইলে তোমরাও স্বাধীন হইবে না। নিশ্চয় জানিও, আমরা যত দিন নরাধীনা থাকিব তোমরাও তত দিন পরাধীন থাকিবে। তোমরা আমাদের উপর প্রভুত্ব কর বলিয়া তোমাদের উপর আর এক জাতি আধিপত্য করিতেছে।”

আমরা কোন অতীতে ফিরা যাইতে পারি না, কখনোই। যেইটা করতে পারি, আমাদের ফিউচার’রে তৈরি করতে পারি, বা সেইটাই করতেছি আসলে আমাদের বর্তমানের কাজকামের ভিতর দিয়া। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনও এই কাজটা করছেন, একটা ফিউচার তৈরি করতে চাইছেন, কোন অতীতে ফিরা না গিয়া। এইটা করতে গিয়া ইউরোপিয়ান-চিন্তার লগে এক ধরণের মোকাবেলা করতে চাইছেন। উনার এই মোকাবেলার জায়গাগুলারে রিকগনাইজ করতে পারাটা জরুরি, গ্লোরিফাই বা ভিলিফাই করার চাইতে।…

এই কারণে উনার ইম্পর্টেন্ট টেক্সটগুলারে আমরা এভেইলেবল রাখতে চাই যাতে নতুন কাউরে নতুন চিন্তা করতে এই লেখাগুলা হেল্প করতে পারে।

তো, আসেন, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসনের লগে দেখা হোক, কিছু বাতচিত হোক আমাদের, আবার!

এডিটর, বাছবিচার
…………………………

ভগিনীগণ!

তোমরা কি কোনদিন আপনার দুর্দশার বিষয় চিন্তা করিয়া দেখিয়াছ? এই বিংশ শতাব্দীর সভ্যসমাজে আমরা কি, দাসী!! পৃথিবী হইতে দাস ব্যবসায় উঠিয়া গিয়াছে শুনিতে পাই, কিন্তু আমাদের দাসত্ব গিয়াছে কি? আমরা যে নরাধীন সেই নরাধীন! দিদীমাদের মুখে শুনি যে, নারী নরের অধীন থাকিবে, ইহা ঈশ্বরেরই অভিপ্রেত— তিনি প্রথমে পুরুষ সৃষ্টি করিয়াছেন, পরে তাহার সেবা শুশ্রুষার নিমিত্ত রমণীর সৃষ্টি হয়। কিন্তু একথার আমার সন্দেহ আছে। কারণ দিদীমাদের এ জ্ঞান পুরুষের নিকট হইতে গৃহীত। তাহারা ত বলিবেনই যে, রমণী কেবল পুরুষের সুখ শাস্তিদাত্রিরূপে জন্মগ্রহণ করে।

২ আমি আদিম কালের ইতিহাস জানি না বটে, তবু বিশ্বাস করি যে, পুরাকালে যখন সভ্যতা ছিল না, সমাজবন্ধন ছিল না, তখন আমরা এরূপ দাসী ছিলাম না। মানুষ যেমন ক্রমে সভ্য হইয়াছে— গায়ে রঙ মাখা ছাড়িয়া কাপড় পরিতে শিখিয়াছে, তেমনই ক্রমে বাহুবলে ও বুদ্ধিকৌশলে নারীজাতির উপর আধিপত্য করিতে আরম্ভ করিয়াছে। ঈশ্বর এমন পক্ষপাতী নহেন যে, এক জাতিকে অন্য জাতির অধীন করিবেন। যদি তাই হইত তবে সৃষ্টিকৰ্ত্তা পুরুষের যেমন দুই হস্ত দুই চক্ষু সৃষ্টি করিয়াছেন, রমণীরও সেই প্রকার অবয়ব সৃজন করিলেন কেন? কই দ্বিমস্তক পুরুষ বা নাসাহীনা রমণী কোন্ দেশে আছে? এরূপ ত সৃষ্টিবৈচিত্র্য কোথাও দেখা যায় না। তবে কেমন করিয়া বলিব ঈশ্বর পক্ষপাতী? যে সমাজ রাজা ও প্রজার সৃষ্টি করিয়াছে, পুলিশ প্রভু ও বড়লাট প্রভুর মধ্যে প্রভেদ সৃষ্টি করিয়াছে, সেই সমাজ নারীকে নরের অধীন করিয়াছে। যে ভূজবলে ও চাতুরী কৌশলে সুচতুর মানুষ বন্য পশুকে করায়ত্ত করিয়াছে- অশ্বের দ্বারা শকট টানাইতেছে, হস্তীকে দাসত্ব শৃঙ্খলে বাধিয়াছে, পশুরাজকেশরীকে লৌহপিঞ্জরে আবদ্ধ করিয়াছে, সেই বাহুবলে ও বুদ্ধিবলে নারীকে তাহারা অধীনতাপাশে বাঁধিয়াছে।

৩ আমরা বহুকাল হইতে দাসীপনা করিতে করিতে দাসীত্বে অভ্যস্ত হইয়া পড়িয়াছি। ক্রমে পুরুষেরা আমাদের মনকে পর্য্যন্ত enslaved করিয়া ফেলিয়াছে। স্বাধীনতা ও অধীনতার যে প্রভেদ তাহা বুঝিবার সামর্থটুকুও আমাদের নাই। কি ভীষণ অধঃপাত। তাঁহারা ভূস্বামী গৃহস্বামী প্রভৃতি হইতে হইতে ক্রমে আমাদের “স্বামী” হইয়া উঠিয়াছেন। আর আমরা ক্রমশঃ তাঁহাদের গৃহপালিত পশু পক্ষীর ন্যায় আদুরে হইয়া পড়িয়াছি ! এখন আমরা সমাজের বন্দিনী।

৪ আর এই যে, আমাদের অতি প্রিয় অলঙ্কারগুলি— এগুলি badges of slavery! ঐ দেখ কারাগারে বন্দিগণ লৌনিৰ্ম্মিত বেড়ী পায়ে পরিয়াছে, আমরা (আদরের জিনিষ বলিয়া) স্বর্ণ রৌপ্যের বেড়ী পরিয়া বলি “মল পরিয়াছি!” উহাদের হাতকড়ী লৌহনিৰ্ম্মিত, আমাদের হাতকড়ী স্বর্ণ বা রৌপ্যনিৰ্ম্মিত “চুড়ি!” বলা বাহুল্য অনেকে এক হাতে লোহার ‘বালা’ও পরেন ! কুকুরের গলে যে dogcollar দেখি, উহারই অনুকরণে আমাদের জড়োয়া চিক নিৰ্ম্মিত হইয়াছে। অশ্ব হস্তী প্রভৃতি পশু লৌহশৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকে, সেইরূপ আমরা স্বর্ণশৃঙ্খলে কণ্ঠ শোভিত করিয়া বলি “হার পরিয়াছি!” গোস্বামী বলদের নাসিকা বিদ্ধ করিয়া “নাকা দড়ী” পরার, আমাদের স্বামী আমাদের নাকে “নোলক” পরাইয়াছেন !! অতএব দেখিলে ভগিনি, আমাদের ঐ বহুমূল্য অলঙ্কারগুলি badges of slavery ব্যতীত আর কিছুই নহে ! আবার মজা দেখ, যাহার শরীরে badges of slavery যত অধিক, তিনি সমাজে ততোধিক মান্যা গণ্যা।

৫ এই অলঙ্কারের জন্য আমাদের কত আগ্রহ— যেন জীবনের সুখসমৃদ্ধি উহারই উপর নির্ভর করে! তাই দরিদ্রা কামিনীগণ স্বর্ণরৌপ্যের হাতকড়ী না পাইয়া কাচের চুড়ি পরিয়া দাসীজীবন সার্থক করে। যে বিধবা চুড়ি পরিতে অধিকারিণী নহে, তাহার মত হতভাগিনী এ জগতে নাই !! অভ্যাসের কি অপার মহিমা! দাসত্বে অভ্যাস হইয়াছে বলিয়া দাসত্বসূক গহনা ভাল লাগে। অহিফেন তিক্ত হইলেও আফিংচির অতি প্রিয় সামগ্রী। মাদকদ্রব্যে যতই সর্ব্বনাশ হউক না কেন, মাতাল তাহা ছাড়িতে চাহে না। সেই রূপ আমরা অঙ্গে badges of slavery ধারণ করিয়া আপনাকে গৌরবান্বিতা মনে করি— গর্ব্বে স্ফীতা হই! হায়! আমাদের অধঃপাতের একশেষ হইয়াছে। হিন্দুমতে সধবা স্ত্রীলোকের কেশকর্ত্তন নিষিদ্ধ কেন? তাহা কি একটু চিন্তা করিয়া দেখিয়াছ? সধবানারীর স্বামী ক্রুদ্ধ হইলে স্ত্রীর সুদীর্ঘ কুম্ভলদাম হস্তে জড়াইয়া ধরিয়া তাহাকে সহজে উত্তম মধ্যম দিতে পারিবে ভল্লুকের নৃত্য দেখিয়াছ? সময়ে সময়ে ভল্লুকের সহিত “কুস্তি” করিয়া ভল্লুকস্বামী পরাজিত হইলে তাহার “নাকাদড়ী” ধরিয়া টান দেয়। তখন ভল্লুকবীর অসহ্য যাতনায় অধীর হইয়া জোর কম করে! সেইরূপ সধবা প্রহার তাড়নায় পলায়নতত্পর হইলে স্বামী তাহার কেশপাশ ধরিয়া সবলে আকর্ষণ করে। প্রত্যেক রমণীরই সুদীর্ঘ অলকগুচ্ছ যে ঐরূপে ব্যবহৃত হয়, আমি তাহা বলিতেছি না। তবে কেশবৃদ্ধি দ্বারা সকল স্বামীর জন্য অন্ততঃ ঐ সুবিধাটা প্রস্তুত রাখা হয় !! ধিক্ আমাদিগকে ! আমরা আশৈশব এই চুলের কত যত্ন করি! কি চমৎকার সৌন্দর্য্য্যজ্ঞান ! Continue reading

বাংলাদেশের মিউজিক (১)

আজম খান নামের ঘটনা

১.
বাংলাদেশ মানে যে ঢাকা শহর – এই কালচারাল পরিচয় উৎপাদনই আজম খানের মেইন সিগনিফিকেন্স। আজম খানের আগে (তার সময় এবং এখনো প্রায়) আসলে বাংলা-সংস্কৃতি ছিল (বা আছে) কলকাতা-কেন্দ্রিক হয়া। বাংলাভাষার ‘জনপ্রিয়’ গানগুলি উৎপাদিত হইছে অইখানেই। শচীন, হেমন্ত, মান্নাদে ইত্যাদি। এর বাইরে যদি কাজী নজরুল ইসলাম বা আব্বাসউদ্দীন এর কথাও বলেন, উনাদের স্বীকৃতিটা অই কলকাতা থিকাই আসছে। আজম খানের গানই প্রথম ব্যতিক্রম, যা কলকাতার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানায় নাই বা অইখানের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিটারে গুরুত্বপূর্ণ কইরা তোলে নাই।

২.
ত, এইটার প্রতিক্রিয়া বা এফেক্টটাই বা কেমন হইলো? আমার ধারণা, অনেকেরই তথ্য আকারে জানা আছে যে, উনার গানরে একসেপ্ট করা হয় নাই, প্রথমে; কিন্তু সময় যত পার হইছে, ‘বাংলাদেশ’ ধারণাটা যতটা প্রতিষ্ঠিত হইছে, আজম খানের গানও তার স্পেস কইরা নিতে পারছে।

তখন (এবং এখনো) তার গানের বিরোধিতাটা ছিল দুইটা জায়গা থিকা: কলকাতা-কেন্দ্রিকতা এবং গ্রাম-বাংলার অনুসারীরা, এই দুইটা ধারণার লোকজনই তার গানরে নিতে পারে নাই। আসলে গ্রাম-বাংলা বইলা ত কিছু নাই; যা আছে সেইটা পুরানা একটা মিথ, যেইখানে ধারণা করা হইতো যে আছে, সহজ-সরল-স্বাভাবিকতা। আজম খান ‘নগর’ নিয়াই চিন্তিত হইছেন, ঢাকা শহরের গানই তিনি গাইছেন মেইনলি। এইভাবে গ্রাম-বাংলার বাংলাদেশরে যেন তিনি ঢাকা শহর দিয়া রিপ্লেস কইরা ফেলছেন। এইটা একটা ঘটনা, যেইটাতে গ্রাম-বাংলার অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হইছেন। কিন্তু তাদের ক্ষিপ্ততাতে আসলে কিছু নাই, কারণ গ্রাম-বাংলা’র কোন সংস্কৃতি তারা নিজেরাও তৈরি করতে পারেন নাই, আসলে গ্রাম-বাংলার নাম দিয়া তারা কলকাতার সফিশটিকেশনরেই সার্পোট করছেন এবং করতেছেন। এর বাইরে এক ধরণের বোকা বোকা গ্রামও উৎপাদিত হইছে কিছুদিন, টিভি নাটকে।

আর যেই নগররে আজম খান রিপ্রেজেন্ট করছেন, তারাই আসলে উনার মূল বিরোধীপক্ষ। এই ঢাকা শহর একটা সময় ছিল মধ্যবিত্তের দখলে (অর্থনৈতিক এবং সামাজিক দিক দিয়া), এখন এইটা মনে হইতেছে যেন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চইলা যাইতেছে। অনেক মধ্যবিত্তই অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের ভিতর দিয়া নিজেদের কনজামশন পাওয়ার বাড়াইয়া তুলছেন। কিন্তু কালচারাল দখলদারিত্ব মধ্যবিত্তের হাতেই আছে, থাকবেও মনেহয়। কিন্তু মধ্যবিত্তের কালচার দুইদিক দিয়া ধাক্কা খাইলো আজম খানের গান শুইনা: একদিকে সে ঢাকা শহরের বাদাইম্মা লোকজন নিয়া কথা বলে, আবার যেইভাবে বলে, সেইটাতে কলকাতা-কেন্দ্রিক মধ্যবিত্তসুলভ সফিশটিকেশন তার নাই। তাই ঢাকা শহরের মধ্যবিত্ত শ্রেনীর সংস্কৃতির দিক থিকা তার বিরোধিতা আছে এবং উনারে একসেপ্ট করলেও একটা এক্সটেন্ড পর্যন্ত থাইকাই যাইবো বইলাই মনে হয়।

তাইলে উনার একসেপ্টেনস এর জায়গাটা আসলে কই? প্রথমত, মধ্যবিত্তের রুচিবোধ নিয়া ক্লান্ত তরুণ-সমাজের কাছে তিনি নতুন সম্ভাবনা দেখাইছেন। যে, গান এইভাবেও গাওয়া যাইতে পারে। হারমোনিয়াম ছাড়া গিটার বাজায়া (ইংলিশ গান না খালি) বাংলা-গানও গাওয়া যায়! উনার এই জায়গাটা থিকাই নতুন একটা ধারা তৈরি হইছে। ইন্সট্রুমেন্টের ব্যাপারে ট্যাবু জিনিসটা এবং একই সাথে গায়কি’তে ঢিমে-তালের মেজাজ’টারে এভেয়ড করার জায়গা তৈরি হইছে। সেকেন্ড হইতেছে,উনি ‘পূব’ এর আধ্যাত্মের কথা কইছেন, কিন্তু ‘পাশ্চাত্য’-এর প্রেজেন্টশনটারে নিছেন। ’৬০-’৭০ এর দিকে আমাদের কমিউনিস্ট-শাসিত চিন্তা-ভাবনায় ‘পাশ্চাত্য’ মানেই ছিল বাজে জিনিস, পরিতাজ্য। কিন্তু মধ্যবিত্ত যখন তার অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়া ‘পাশ্চাত্য’রে এক্সপ্লোর করছে, তখন তারা এই ধারণা থিকা বাইর হয়া আইসা ঢাকায় আইকন হিসাবে আজম খানরে পিক করতে পারছে।

থার্ড হইতেছে, ‘লালন-সংস্কৃতি’র পূজা! বর্তমানে অনেকেরই চেষ্টা আছে বলার যে ‘নদীয়াই হইতেছে বাংলাদেশ’; কিন্তু এই নদীয়া’র ভরা জোয়ারে যেইটা হইছে, বাদাইম্মা লোকজনের একটা কালচারাল ভ্যালু তৈরি হইতেছে, সমাজের ভিতরে। আজম খান যেহেতু তাদের নিয়া গান গাইছেন, সেই জায়গাতে উনারে একসেপ্ট করা যাইতে পারে! ওই নিন্মবর্গ, নিন্মবর্গ আর কি!!

কিন্তু আরেকটা বিষয় আছে, আজম খান তার গানে যেইখানে নগরের বাদাইম্মা গোষ্ঠীরে নগরের ভিতর স্বীকার কইরা নিছেন, সেইটার অস্বীকার ত নগর-চিন্তার একদম মর্মমূলে। তাই এই স্বীকার বা অস্বীকারের খেলাটা আসলে অনেকদূর পর্যন্তই যাইতে পারে। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →